Category: Uncategorized

  • নিজের কিডনি দিয়েও আটকাতে পারলেন না স্বামীর পরকীয়া

    নিজের কিডনি দিয়েও আটকাতে পারলেন না স্বামীর পরকীয়া

    নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন, সেই স্বামী সুস্থ হয়ে জড়িয়ে পড়লেন পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ায়। শুধু তা-ই নয়, স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে কলেজেপড়ুয়া তরুণী উম্মে সাহেদীনা টুনির সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবক তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরই তারেক ও টুনির সংসার আলো করে আসে একটি পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয় আজমাইন দিব্য। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারেক। চিকিৎসকেরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অচল। রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করাতে হবে।

    তবে, স্বামীর ডায়ালাইসিসে রাজি ছিলেন না টুনি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে ভারতে নিয়ে যাবেন। কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। তামিলনাড়ুর বিখ্যাত সিএমসি হাসপাতালে শুরু হয় তারেকের চিকিৎসা।

    পরিকল্পনামাফিক তারেকের চিকিৎসা শুরু হয় ভারতে। কয়েক বছর পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তখন স্ত্রী টুনিই এগিয়ে আসেন। নিজের কিডনি দিয়ে তিনি স্বামীকে প্রাণে বাঁচান। টুনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তার কষ্টের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু তারেকের এমন কর্মকাণ্ড বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করেছে। সুস্থ হয়েই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তারেক । ডিভোর্সি এক নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেশাও পেয়ে বসে তাকে।

    টুনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তার কষ্টের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু তারেকের এমন কর্মকাণ্ড বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করেছে। সুস্থ হয়েই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তারেক । ডিভোর্সি এক নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেশাও পেয়ে বসে তাকে।যেই স্ত্রীর কারণে নতুন জীবন  তিনি ফিরে পেলেন, একসময় তাকেই মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে গিয়ে ওঠেন।

    টুনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় কাজের অজুহাতে ঢাকায় গিয়ে সময় কাটাত তারেক। একসময় জানতে পারি, তাহমিনা নামের একজন ডিভোর্সি নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত সে। তারেকের মোবাইল ঘেঁটে এসবের প্রমাণও পাই। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমাকে পুরো বাড়ি তার নামে লিখে দিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।

    এদিকে, গত ২ ফেব্রুয়ারি স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে সাভার থানায় গিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন টুনি। কিন্তু এরপরই আবারও নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন ধূর্ত তারেক। টুনিকে বুঝিয়ে একদিন পরেই (৪ ফেব্রুয়ারি) থানায় মুচলেকা দিয়ে সেই অভিযোগ তুলে ফেলেন তিনি।

    বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পর এবার নির্যাতনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায় তারেকের। এক পর্যায়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে ওঠেন টুনি। এরপর ২২ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। ২৪ এপ্রিল সেই মামলায় তারেক গ্রেপ্তার হন। গত ৪ জুন এক মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়েই পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তারেক। সেখান থেকেই স্ত্রীকে চাপ দেন ডিভোর্স দিয়ে বাড়িটা তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য।

    এ প্রসঙ্গে টুনি বলেন, আমার স্বামীকে আমি সবসময় ফেরেশতার মতো মনে করতাম। ভাবতাম, তিনি কখনোই মিথ্যা বলেন না। তবে, আমার পরিবারের মানুষ ধাপে ধাপে সতর্ক করেছিল। কারো কথা কানে নিইনি। বরং তারেকের কথায়, অনেক সময় পরিবারের মানুষদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছি। অথচ সেই মানুষটা আজ আমার সব কেড়ে নিল। তাকে কিডনি দেওয়ার পরে আমার শারীরিক অবস্থাও দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরাও নানাভাবে সতর্ক করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমি জানি, সুস্থভাবে হয়তো বেশিদিন আর বাঁচতে পারব না। তবুও যেই মানুষটার কষ্ট কখনো নিজের চোখে দেখতে পারতাম না, যার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছি, সেই কিনা আমাকে এভাবে ঠকালো! আমার পেটে অপারেশনের জায়গাতে লাথি মারলো…! আমি চাই না, আমার মতো পরিণতি আর কোনো মেয়ের হোক। আর কোনো মেয়ে যেন ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে নিজের জীবনকে এমন অন্ধকারে না ঠেলে দেয়।’

    এদিকে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তারেকের খোঁজ নেই। নিজের নম্বরও পরিবর্তন করে ফেলেছেন তিনি । ফলে তার সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তার আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকেও পাওয়া যায়নি।

     

  • নরসিংদীতে ইন্টারনেট ও ডিস ব্যাবসায়ীকে গুলি করে-কুপিয়ে হত্যা

    নরসিংদীতে ইন্টারনেট ও ডিস ব্যাবসায়ীকে গুলি করে-কুপিয়ে হত্যা

    নরসিংদী শহরে মিনহাজুল আবেদীন ওরফে রেজভী (৩৫) নামে ইন্টারনেট ও ডিস ব্যাবসায়ীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার ( ৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রেজভী নরসিংদী সদরের বীরপুর এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ এলাকায় ইন্টারনেট ও ডিসের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দুই বন্ধু রেজভী এবং তৈয়বের বাড়ি রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় খলাপাড়া গ্রামে। ওই এলাকায় ডিশের ব্যবসা একসময় যৌথভাবে করতেন দুজন। একপর্যায়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তৈয়বকে ব্যবসা থেকে বের করে দেন মিনহাজুল। সেখান থেকেই সৃষ্টি হয় শত্রুতা।

    নিহতের স্বজন, বাড়িটির বাসিন্দা জানান, রেজভী গতকাল রাতে তৈয়বের ওই ভাড়া বাসায় যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসাটিতে ঢোকার পরপরই কে বা কারা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। মিনহাজুল দৌড়ে পালাতে গেলে তারাও পিছু নেয় ও উপর্যুপরি কোপায়। একপর্যায়ে তাঁর কোমর ও মাথায় গুলি করা হয়। বাসাটি থেকে ২০ গজ দূরত্বে গলিতে লুটিয়ে পড়ে মিনহাজুলের রক্তাক্ত শরীর। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকায় সন্ত্রাসী তৈয়ব ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালাতে যায় রেজভী ও তার দলবল। এ সময় গলির রাস্তায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি ও কুপিয়ে রেজভীকে হত্যা করে পালিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন।

    নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানায়, সন্ত্রাসী তৈয়ব ও তার পরিবারের ওপর পরিকল্পিত হামলা করতে ব্রাহ্মন্দী এলাকায় আসে রেজভী ও তার দল। এ সময় পাল্টা হামলার শিকার হয়ে নিহত হয় রেজভী। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

  • যুদ্ধ শুরু হলোঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

    যুদ্ধ শুরু হলোঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক উক্তির জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হলো।” বুধবার (১৮ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কথা জানান।

    ইসরায়েল ইরানে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হামলা শুরুর পর থেকে এখনো হামলা- পালটা হামলা চলছে। টানা কয়েক দিনের সংঘাত, হামলা ও পাল্টা হামলায় বিপর্যস্ত ইরান ও ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরানে। সেখানে মদদ দিচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    সংঘাত আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিষয়ে নিজেই বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এরপরই মুখ খুলেছেন খামেনি।

    মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু সেখানে নিরাপদ- আমরা তাকে বের করে আনবো না, অন্তত এখনই নয়।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, কিন্তু আমরা চাই না বেসামরিক নাগরিক বা আমেরিকান সৈন্যদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হোক। আমাদের ধৈর্য ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

    ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান ইসরায়েলের আক্রমণের কঠোর প্রতিশোধ নেবে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক্স (X)-এ ইংরেজিতে লিখেছেন, আমাদের সন্ত্রাসী ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে হবে। আমরা ইহুদিবাদীদের কোনও দয়া দেখাব না।

     

  • ইশরাক সমর্থকদের রাতভর অবস্থান, সকাল বিক্ষোভ অব্যাহত

    ইশরাক সমর্থকদের রাতভর অবস্থান, সকাল বিক্ষোভ অব্যাহত

    বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কাকরাইল মসজিদের সামনের সড়কে অবস্থান অব্যাহত রেখে বিক্ষোভ করছেন দলের নেতাকর্মী ও তার অনুসারীরা।

    বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল ১০টায় কাকরাইল মসজিদের সামনের মোড়ে অবস্থান নিয়ে তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

    এর আগে বুধবার (২১ মে) দিন গড়িয়ে রাতভর সেখানে অবস্থান করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

    এদিকে, ইশরাক সমর্থকদের অবস্থানের কারণে উচ্চ আদালতের সামনে থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    টানা অবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় যাওয়ার রাস্তায়ও যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আবার বিএনপি সমর্থকরা যেন যমুনার সামনে যেতে না পারেন, এজন্য সর্তক অবস্থানে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

    ইশরাক সমর্থকরা জানিয়েছেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৪ মে থেকে তারা লাগাতার আন্দোলন করছেন। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নগরভবন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সেখানে নাগরিক সেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সব বন্ধ রয়েছে।

    এরমধ্যে বুধবার সকাল ১০টার দিকে ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে উচ্চ আদালত তথা মৎস্যভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সমর্থকদের আরেকটি অংশ কাকরাইল মসজিদের সামনের সড়ক তথা যমুনায় যাওয়ার সড়কে অবস্থান নেন। এরপর তারা সারারাত কাকরাইলে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। সকাল ১০টার দিকেও তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।

    এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘অবিলম্বে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দাও, দিতে হবে’, ‘দফা এক দাবি এক, আসিফ-মাহফুজের পদত্যাগ’, ‘আসিফ ভূইয়ার কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবে না চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    বিক্ষোভকারীদের একজন ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এ কর্মসূচিতে অবস্থান নিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে কেউ রাজপথ ছাড়বে না।

    আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সরকারের সাবেক সচিব মশিউর রহমান বুধবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইশরাক হোসেন বিপুল ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন নির্বাচন কমিশন তার পরিবর্তে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এখন সেই নির্বাচন বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে শপথ নিতে দিচ্ছে না। এ কারণেই আমরা সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দাবি আদায়ের চেষ্টা করছি।

     

  • এবার ইন্ডিয়া আউট, বড় বিনিয়োগ চীনের

    এবার ইন্ডিয়া আউট, বড় বিনিয়োগ চীনের

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার উন্নয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে চীন। ভারত একরকম বাদ (আউট) হয়ে যাচ্ছে বন্দর থেকে। হাসিনা সরকারের আমলে মোংলা বন্দর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও পরিচালনায় ভারতের ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডকে (আইপিজিএল) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত প্রকল্প নিয়ে নীরব থাকে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল করতে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। এ ব্যাপারে চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে বর্তমান সরকার।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের আগে ২৫ মার্চ চীনের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন করপোরেশনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় রয়েছে বন্দরের সুবিধা বাড়ানো ও আধুনিকায়ন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ও গ্রিন পোর্টে রূপান্তরিত হবে মোংলা বন্দর। ভবিষ্যতে বন্দরটিকে কোল্ড পোর্টে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    চীনা সহায়তায় এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক বন্দর সুবিধা নিশ্চিত করাসহ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এছাড়া ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ, লোডেড ও আনলোডেড কনটেইনারের জন্য ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জেটি ও কনটেইনার মজুত এবং ইকুইপমেন্ট পরিচালন অটোমেশনসহ অন্য অনেক সুবিধা থাকবে।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

    ২০২৪ সালে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও পরিচালনায় আগ্রহ দেখায় ভারত। এ নিয়ে ভারতের বন্দর শিপিং ও নৌপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ব্যস্ততম মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে দেশটি। এ সময় সোনোওয়াল জানান, মোংলা বন্দর সম্প্রসারণের কাজটি করবে মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাগরমালা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী সংস্থা ইন্ডিয়ান পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)।

    ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে সমঝোতাপত্র সই হয়। হাসিনা সরকার ২০১৮ সালে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ নামে আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় ভারত মোংলা বন্দর ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে ২০২২ সালে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু করে। ভারতীয় একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস করে, পরে স্থলপথে তা উত্তর-পূর্ব ভারতে নেওয়া হয়।

    মোংলা বন্দর সম্প্রসারণে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আমার দেশকে বলেন, বন্দরের উন্নয়নে বিগত সরকারের সময় ভারত আগ্রহ দেখালেও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা তো আমাদের বন্দর উন্নয়নের জন্য অনন্তকাল বসে থাকতে পারি না। ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে আমাদের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। আশা করছি, এ বছর কাজ শুরু হবে।

    প্রধান উপদেষ্টার সফরের মাধ্যমে অর্থছাড় দ্রুত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, এই বন্দর ব্যবহার করে আম, কাঁঠালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক পণ্য চীনে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়া সামগ্রিকভাবে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।

     

  • শান্তিনগরে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে আমাদের প্রত্যাশার ইফতার বিতরণ

    শান্তিনগরে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে আমাদের প্রত্যাশার ইফতার বিতরণ

    রিপোর্ট, শাহাজালাল ভূঁইয়া উজ্জ্বল : মানুষ মানুষের জন্য স্লোগানকে সামনে রেখে আজ শান্তিনগরে সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন আমাদের প্রত্যাশা নামের সামাজিক সংগঠন। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের প্রত্যাশা  সংগঠনের মাধ্যমে আড়াই বছর যাবত দুস্থ  সাধারণ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করে আসছি।

    প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রমজান মাসে দুস্থ ও  সাধারন মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করে আসছি। এ সময় তারা সামর্থ্য অনুযায়ী নাগরিকদের প্রতি  সুবিধা বঞ্চিত  মানুষদেরকে ইফতারের আহ্বান জানান।

    তারা বলেন, আমাদের এই দেশ একটি ক্রান্তি লগ্নে চলছে আমরা মনে করি দেশের একটি মানুষ ও যেন অভুক্ত না থাকে সেজন্য সকল বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান সুবিধা বঞ্চিত  মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

  • এবার জুয়ার প্রচারণায় নাম জড়ালেন পিয়া জান্নাতুল

    এবার জুয়ার প্রচারণায় নাম জড়ালেন পিয়া জান্নাতুল

    অনলাইন জুয়া কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে মাহিয়া মাহি, পরীমণি, অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী, নুসরাত ফারিয়াসহ দেশের কয়েকজন তারকার। এবার নাম উঠল মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুলের। তবে অভিনেত্রী, এই অ্যাপের শুভেচ্ছাদুত নন তিনি।

    বিপিএল উপলক্ষে পিয়া জান্নাতুল একটি ক্রিকেটবিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবে জন্য তৈরি এই অনুষ্ঠানে জান্নাতুল পিয়াকে ম্যাচের আগে বিশ্লেষণ করতে দেখা গেছে। উপস্থাপনার সময় জুয়ার অ্যাপের নামসংবলিত একটি টি–শার্ট পরিহিত ছিলেন তিনি।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পিয়া জান্নাতুল বলেন, ‘আমি একজন ক্রিকেটপ্রেমী। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আমি কথা বলতে ভালোবাসি। আমি শুধু ক্রিকেট নিয়ে পোস্ট করছি, যা ক্রিকেট সম্পর্কে আমার ভালোবাসা প্রকাশ করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করছি। এখানে কে স্পনসর দিল সেটা তো বিষয় না। এর বেশি আর কিছুই বলতে চাই না।’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জান্নাতুল পিয়া যেই জুয়ার অ্যাপের টি–শার্ট পরে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন, তা বাংলাদেশের সেরা জুয়ার এজেন্টদের একটি, যা ১০ বছর আগে চালু হয়।

    মডেল ও অভিনয়শিল্পী পিয়া জান্নাতুল একজন পেশাদার আইনজীবীও। তাই বিনোদন অঙ্গন–সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন আইনজীবী হয়ে তিনি কীভাবে একটি জুয়ার অ্যাপ স্পনসর হয়েছে, এমন একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেন। আইন জানা কেউ যদি এমন করেন, তাহলে আইন না জানা ব্যক্তিরা কী করবেন, তা নিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে একি বললেন ট্রাম্প

    অনেক বছর ধরেই গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সবসময় এই পথে হাঁটেন না তিনি। তবে যখন ব্যবস্থা নেন, তখনই ব্যর্থ হন। কিন্তু সম্প্রতি এবিসি নিউজ ১৫ মিলিয়ন ডলারের বদলে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি মানহানির মামলা মিটমাট করেছে।

    এ ছাড়া আরও অসংখ্য গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি ও তাঁর সহযোগীরা, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে– দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর মুক্ত সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করবেন তিনি।

    এতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারকে নিয়ে গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে হয়তো কাজ করতে পারবে না। ট্রাম্প ইতোমধ্যে বলেছেন, যারা তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবেন।

    গণমাধ্যম সুরক্ষা আইনজীবী ডেভিড কোরজেনিক বলেছেন, এই দেশে আইনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু যা পরিবর্তিত হয়েছে, তা হলো সাংবাদিকতার পরিবেশ ও এটির বিরুদ্ধে বিদ্যমান শত্রুতার তীব্রতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাম্পের দুই সহযোগী ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্প এবং তাঁর মিত্রদের চাপ বাড়ছে, এটির তীব্রতা বাড়তে থাকবে।

    গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও অন্যান্য বক্তৃতায় গণমাধ্যমকে ১০০ বারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিষোদ্গার করেছেন। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্প ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়। এ ছাড়া কমলা হ্যারিসকে নিয়ে সিবিএস নিউজের একটি অনুষ্ঠানে প্রতারণার অভিযোগ আনেন ট্রাম্প।

    সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, এটি করতে আমাদের অনেক অর্থ খরচ হবে। কিন্তু আমাদের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হবে। ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টেভেন চিয়ুং বলেন, প্রেসিডেন্ট মিথ্যা ও অনৈতিক প্রতিবেদনের ওপর নজর দেবেন। যেগুলোতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয় না, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করা হয়।

    এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের প্রতিনিধি সভায় সরকারের অর্থ ব্যয়-সংক্রান্ত একটি বিল আটকে দেন ট্রাম্প। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। ওই ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে, ট্রাম্পকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্টের সব দায়িত্ব মাস্ক পালন করবেন নাকি। তবে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, না সে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিচ্ছে না। আমি তাঁর কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অপর্ণ করেছি– এমন তথ্য বিরোধীদের গুজব। আপনারা জানেন কেন মাস্ক প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না? কারণ তিনি এ দেশে জন্মগ্রহণ করেননি।

    এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার আগেই বিতর্কের সৃষ্টি করছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি পানামা খাল দখলের হুমকি দেন। এবার তিনি হুমকি দিয়েছেন ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং পুরো বিশ্বের স্বাধীনতার জন্য, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    ১৯৭৯ সালে ডেনমার্ক থেকে স্বায়ত্তশাসন পেলেও বৈদেশিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে এখনও তাদের ওপর নির্ভরশীল ডেনমার্ক। ১৯৪৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান গ্রিনল্যান্ডকে কেনার জন্য ডেনমার্ককে ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের স্বর্ণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর পর ২০১৯ সালে ট্রাম্পও এই দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দেন। এতে করে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এর জেরে ট্রাম্প ডেনমার্কে তাঁর আনুষ্ঠানিক সফরও বাতিল করেন।

  • কেরানীগঞ্জে র‌্যাব পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৭১ লাখ টাকা ডাকাতি

    কেরানীগঞ্জে র‌্যাব পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৭১ লাখ টাকা ডাকাতি

    কেরানীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে র‌্যাব পরিচয়ে (র‌্যাবের কটি পরিহিত) স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ ৮ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ডাকাতদের কাছ থেকে লুন্ঠিত ১০ লাখ ৯ হাজার টাকা, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি হাইস মাইক্রো গাড়ি, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি নকল পিস্তল, হ্যান্ডকাপ, ফোল্ডিং ব্যাটন, র‌্যাবের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

    নিজ কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার ডাকাত। এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একাধিক ডাকাতি করেছে। চক্রটি মূলত ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার তাঁতিবাজারে আসা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ডাকাতি করে। ব্যবসায়ীদের স্বর্ণ ও নগদ টাকা ডাকাতি করার জন্য সংঘবদ্ধ এই ডাকাতচক্র তাঁতিবাজার কেন্দ্রিক একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। চক্রটির ৮ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

    কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির জানান, এ ঘটনায় ভিকটিমের চাচাতো ভাই নিসার আহমেদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর তদন্তে নেমে নানা কৌশল ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ডাকাতরা হলো- সুজন (৩৯), আলামিন ওরফে রেহান, কবির (৪৬), কামরুজ্জামান মিল্টন (৪৩), জাবেদ ওরফে সিরাজুল (৪০), নয়ন ওরফে বাবু (২৮), কামাল (৪৫) ও আ. রহমান ওরফে সাজ্জাদ (৪৫)। এদের মধ্যে গ্রেফতার সুজন রাজধানীর কোতোয়ালি থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে।

    কামরুজ্জামান মিল্টন ও জাবেদ ওরফে সিরাজুল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মিল্টনের বিরুদ্ধে দুটি ও জাবেদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। আ. রহমান ওরফে সাজ্জাদ বিমান বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য।

    জানা গেছে, ৩১ জানুয়ারি ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের ‘ফাহাদ অলংকার নিকেতন’ এর মালিক নাহিদ হোসেন ও তার মামা (সিঙ্গাপুর প্রবাসী) আনোয়ার হোসেন খোকন দোহার থেকে পুরান ঢাকার তাঁতিবাজারে স্বর্ণ বিক্রি করেন। স্বর্ণ বিক্রি করে নাহিদ পান ৪০ লাখ টাকা ও খোকন পান ৩১ লাখ টাকা। এ টাকা নিয়ে সন্ধ্যায় তারা তাঁতিবাজার থেকে দোহার যাওয়ার জন্য নবকলি পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। বাসটি কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা পৌঁছলে সেটিকে একটি মাইক্রোবাস থেকে র‌্যাবের পোশাক পরা ৪ ব্যক্তি নেমে যাত্রীবাহী বাসে উঠে নিজেদের র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসে দুজন আসামি আছে বলে জানান। এরপর তারা নাহিদ ও খোকনকে বাস থেকে নামিয়ে বাসে তুলে নিয়ে যান।

    ভিকটিম নাহিদ বলেন, তারা বাস থামিয়ে আমাকে ও খোকন মামাকে জোর করে তাদের গাড়িতে তুলে চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে। তারা আমাদের দুজনকে প্রচণ্ড মারধর করে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে আহত করে। আমাদের টাকা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলায় গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমীনুল ইসলাম, সাজেদুর রহমান, মোবাশশীরা হাবিব, কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

     

  • এবার মাশরাফি ও তার বাবাসহ ২৯৫ জনের নামে মামলা

    এবার মাশরাফি ও তার বাবাসহ ২৯৫ জনের নামে মামলা

    সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা ও তার বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপনসহ ২৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে নড়াইলে মামলা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার মুখ্য সংগঠক কাজি ইয়াজুর রহমান বাবু।

     

    গতকাল সোমবার রাতে লোহাগড়া থানায় তিনি এ মামলা করেন।

    পুলিশ এজাহারভুক্ত দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে পাঠিয়েছে। মামলায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কর্মসূচি চলাকালে উপজেলার লোহাগড়ার সিঅ্যান্ডবি চৌরাস্তা মোড়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় এজাহারভুক্ত আসামিরা। এ সময় নড়াইল জেলার সমন্বয়ক কাজী মো. ইয়াজুর রহমানসহ ১৫-২০ শিক্ষার্থীকে রামদা, বাঁশের লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে মামলা বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা ও তার বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি নাঈম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নীল শিকদার নীল, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ মশিয়ূর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুল হক রোম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আমীর লিটু প্রমুখ। এছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয়ে ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান আজ মঙ্গলবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় উপজেলার চরকরফা গ্রামের জুন্নু মুন্সি ও বয়রা গ্রামের আজাদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।