Category: এক্সক্লুসিভ

  • কাল নতুন বছরে বিশ্বে জনসংখ্যা ৮০০ কোটি ছাড়াবে

    কাল নতুন বছরে বিশ্বে জনসংখ্যা ৮০০ কোটি ছাড়াবে

    কাল নতুন বছর ২০২৪ সালের পহেলা জানুয়ারি। আজ থেকে বিশ্বে নতুন জনসংখ্যার রেকর্ড হবে। মধ্যরাত থেকে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এই সংখ্যার কারণে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, এক বছরে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে সাত কোটির বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা ঘড়ি বা পপুলেশন ক্লক অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে জন্মের হার ৪ দশমিক ৩ এবং মৃত্যুর হার ২ শতাংশ।

    জনসংখ্যার হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে। যদিও গত বছরের তুলনায় জনসংখ্যার হার মাত্র ১ শতাংশ কমেছে। ফোর্বসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ অনুমান করে যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭ বিলিয়ন পৌঁছনোর ১১ বছর পরে ৮ বিলিয়নে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ‘বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য এবং স্যানিটেশনের উন্নতি’কে এর প্রধান কারণ বলে ব্যক্ত করেছেন।

    প্রজনন হার হ্রাস এবং জনসংখ্যার বেশির ভাগই তরুণ হওয়ায় সেনসাস ব্যুরো অনুমান করে যে বিশ্বব্যাপী ৯ বিলিয়ন জনসংখ্যা অর্জন করতে আরও ১৪ বছরেরও বেশি সময় লাগবে। ১০ বিলিয়নে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ১৬ দশমিক ৪ বছর সময় লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে। কোভিড-১৯ মহামারি জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলেছে। ২০২১ সালে মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছরে নেমে এসেছে এবং বিশ্বের প্রতিটা দেশে কোভিডের কারণে মৃত্যুও হয়েছে প্রচুর। ফলে জনসংখ্যাও কমেছে। —হিন্দুস্তান টাইমস

  • ঢাকা দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১ নম্বরে

    ঢাকা দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১ নম্বরে

    বিশ্বজুড়ে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ী রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। এদিন সকাল সাতটা ৫৮ মিনিটে ২৫৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১ নম্বরে আছে ঢাকা।

    একই সময় ২৫০ স্কোর নিয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ২ নম্বরে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। সেই সঙ্গে ২২৯ স্কোর নিয়ে ৩ নম্বরে চীনের সাংহাই ও একই স্কোর নিয়ে ৪ নম্বরে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সেরাজেভো।

    একই সময় ২১৩ স্কোর নিয়ে ভারতের কলকাতা ৫ নম্বরে এবং ২০৮ স্কোর নিয়ে ৬ নম্বরে চীনের চেংড়ু দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় অবস্থান করছে। এদিক থেকে পাকিস্তানের করাচি আছে ৭ নম্বরে, স্কোর: ১৯১। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ১৭৯, পাকিস্তানের লাহোর ১৭৮ ও উত্তর মেসিডোনিয়ার স্কোপজে ১৭৩ স্কোর নিয়ে যথাক্রমে ৮, ৯ ও ১০ নম্বরে অবস্থান করছে।

     

  • ১ জানুয়ারি বিশ্বের জনসংখ্যা ছাড়াবে ৮০০ কোটি

    ১ জানুয়ারি বিশ্বের জনসংখ্যা ছাড়াবে ৮০০ কোটি

    ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বিশ্বের মোট জনসংখ্যা পৌঁছাবে ৮০১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার ১৮৯ জনে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তর ইউএস সেনসাস ব্যুরো শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

    সেনসাস ব্যুরোর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বেড়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৬২ হাজার ৫৪১ জন, এবং বছরজুড়ে বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে জন্ম নিয়েছে ৪ দশমিক ৩ জন শিশু এবং মারা গেছে ২ জন।

    ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বাড়লেও পূর্ববর্তী বছর ২০২২ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার ১ শতাংশ কম বলে জানিয়েছে ইউএস সেনসাস ব্যুরো।

    প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ৭০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছিল বৈশ্বিক জনসংখ্যা। তার ১১ বছর পর ২০২২ সালের নভেম্বরে ৮০০ কোটিতে পৌঁছেছিল জনসংখ্যা। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস সে সময় এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল।

    তবে জনসংখ্যা ৭০০ কোটি থেকে ৮০০ কোটিতে পৌঁছাতে ১১ বছর সময় লাগলেও ৮০০ কোটি থেকে ৯০০ কোটিতে পৌঁছাতে ১৪ বছর সময় লাগবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ মার্কিন পরিসংখ্যান দপ্তর। উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিম্নজন্মহার এবং তরুণ ও সন্তান জন্মদানে সক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমতে থাকাই এর সবচেয়ে বড় কারণ।

    করোনা মহামারি বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিতে বেশ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন মার্কিন সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই মহামারির প্রভাবে বৈশ্বিক গড় আয়ু ৭৫ বছর থেকে ৭১ বছরে নেমে গেছে।

  • চীনের সতর্কবার্তা, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকদের

    চীনের সতর্কবার্তা, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকদের

    চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তার উত্তেজনা। একের পর এক সংঘর্ষ ঘটছে বিভিন্ন শহরে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী জেলার নাগরিকদির জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মিয়ানমারে চীনের দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী জেলার নাগরিকদের যুত দ্রুত সম্ভব সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলো। নিরাপত্তার ঝুঁকি উল্লেখ করে দূতাবাস এ নির্দেশনা দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার কোকাং জেলার লাউক্কাই এলাকার জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ এলাকার সাথে দেশটির সীমান্ত রয়েছে। দেশটিতে ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তার ক্ষমতা দখলের পর থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বর্তমানে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি এ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    চলতি বছরের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান স্টেটে আরাকান আর্মির পর আবার সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মান্দারিন ভাষাভাষী মিয়ানমারের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), থান ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মিও (টিএনএলএ) তাদের সঙ্গে মিলে জান্তার বিরুদ্ধে অপারেশন ১০২৭ পরিচালনা করছে।

    দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এমনকি তারা চীনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রও দখল করেছে। দেশটিতে ইতিহাসে অপারেশন ১০২৭ সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা। এর আগে এমন সহিংসতার সাক্ষী হয়নি দেশটি।

    দূতাবাস উইচ্যাটের এক বার্তায় জানিয়েছে, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল এবং কোকাংয়ের লুক্কাই জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। এর ফলে সেখানকার জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে মিয়ানমারে চীনের দূতাবাস আবারও লুক্কাই জেলার চীনা নাগরিকদের আবারও দ্রুত নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিচ্ছে।

    এমএনডিএ এ শহরটি পুনরুদ্ধারের হুমকি দিয়েছে। এ শহরটি জুয়া, আন্তর্জাতিক মানব পাচার এবং অনলাইন স্ক্যামের জন্য কুখ্যাত।

    দেশটিতে সাম্প্রতিক আন্দোলনে পিডিএফসহ বিদ্রোহীরা ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), দ্য থান ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং দ্য আরাকান আর্মি (এএ) মিলে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। এ জোট গত ২৭ অক্টোবর জান্তার বিরুদ্ধে শান রাজ্যে সমন্বিত হামলা চালায়। এরপর থেকে বেশকিছু রাজ্যসহ সেনাচৌকি দখলে নেয় তারা।

    হামলার ১০ দিনের ব্যবধানে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স মিলে শতাধিক সামরিক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। এ ছাড়া তারা দেশটির বেশ কয়েকটি মহাসড়ক ও সীমান্ত ক্রসিং দখলের দাবি করেছে। বিদ্রোহীদের জোটবন্ধ আন্দোলনে বড় বিপর্যয়ের মুখে দেশটির জান্তা।

    মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন মার অং চলতি নিক্কেই এশিয়াকে বলেছেন, সেনাদের মনোবল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কারণ অনেকেই দলত্যাগ করছে। এমনকি বেশির ভাগ সামরিক ক্যাম্প আত্মসমর্পণ করতেও প্রস্তুত।

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১ হাজার ছাড়ালো

    গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১ হাজার ছাড়ালো

    অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে প্রতিদিনই শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে। রামাল্লাহ এবং পশ্চিম তীরে তীব্র অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। অপরদিকে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিশ্চিত করেছে।

    এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার গাজার মধ্যাঞ্চলে স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে গাজার মধ্যাঞ্চল ও খান ইউনিস থেকে পালাচ্ছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। কিন্তু গাজার কোনো স্থানই এখন নিরাপদ নয়। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাও ইসরায়েলি আগ্রাসনের কবলে পড়ছে।

    গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৫৫ হাজার ২৪৩ জন।

    সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরে দ্য প্যালেস্টিনিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদরদপ্তরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ মনে করা হলেও ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য থেকে বাদ পড়েনি।

    রেড ক্রিসেন্টের মূল ভবনের উপরের ফ্লোরে হামলা চালানো হয়। এতে পুরো ভবন এবং এর আশেপাশে স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার বাস্তূচ্যুত ফিলিস্তিনি ওই ভবনকে নিরাপদ ভেবে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়া সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে পালিয়ে আসা লোকজনও ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন।

    গত কয়েকদিনে সেখানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ বাস্তূচ্যুত ফিলিস্তিনিই খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চল থেকে এসেছে। এদিকে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সংস্থাটির উপরের ফ্লোরে ইসরায়েলি বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

  • কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

    কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

    কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

     ইউক্রেনের হামলায় কৃষ্ণ সাগরের একটি বন্দরে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ার ফিওদোসিয়ায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।  রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী ইউক্রেনীয় বিমানের আঘাতে নোভোচেরকাস্ক বিধ্বস্ত হয়। এর আগে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর প্রধান বলেছিলেন, তাদের যুদ্ধবিমান জাহাজটি ধ্বংস করে দিয়েছে। 
    ক্রিমিয়ার প্রধান সের্গেই আকসিওনভ জানায়, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হামলায় ছয়টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু সংখ্যক লোককে অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকাটিকে নিরাপত্তা কর্মীরা ঘিরে ফেলার এখন পর বন্দরের পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।  
  • ডায়েট করে বা জিমে গিয়েও কেন কমছে না ওজন ?

    ডায়েট করে বা জিমে গিয়েও কেন কমছে না ওজন ?

    যারা মোটা বা যাদের অতিরিক্ত ওজন তাদের অনেকেই একটা অভিযোগ করেন যে, ডায়েট করে আর ব্যায়াম করেও শুকাতে পারছেন না তারা, বা ওজন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। কিন্তু এমনটা হওয়ার কারণ কী?
    ‘মোটা’, ‘ওজন বেড়ে যাওয়া’, বা স্থূলতা এই শব্দগুলো শুনলে ঘুরেফিরে একটা বিষয় মাথায় আসে – আর সেটা হল অস্বাস্থ্যকর আর অপরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং আরাম আয়েশের জীবন যাপন।

    ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে এগুলো বড় কারণ অবশ্যই। তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা ডায়েট করেও ওজন কমাতে পারছেন না তাদের এই ওজন বাড়ার পেছনে রয়েছে ভিন্ন আরেকটি কারণ।

    আর সেটা হল ‘ওবিসোজিনস’। ওবিসোজিনস হল এমন এক ধরণের কেমিকেল যা আপনার পরিপাকতন্ত্রে আঘাত হানে এবং অনেক সময় সেক্স হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলে।
    কারো শরীরে ওবিসোজিনস বেশি পরিমাণে থাকলে তার শরীরে চর্বি জমার জন্য যে কোষগুলো দায়ী সেই কোষের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেয়। আবার যেসব ব্যাকটেরিয়া চর্বি শোষণ করে, সেগুলোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে চামড়ার নীচে চর্বির আবরণের ঘনত্ব বাড়তে থাকে।
    সেইসাথে টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং এই দুটির প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও দেখা দেয়।
    সেইসাথে লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমতে থাকায় হরমোনের কার্যকলাপেও পরিবর্তন আসে, হজমেও সমস্যা দেখা দেয়।
    তবে এই কেমিকেল সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যদি কেউ মাতৃগর্ভে বা ছোটবেলায় এই কেমিকেলের সংস্পর্শে আসেন।
    তখন সেটা ‘ডিএনএ’র গঠনকে পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এতে ওই ব্যক্তির জিনের বৈশিষ্ট্য, কোষের কার্যকলাপ বদলে যায়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করতে পারে।

    সহজ কথায় ওবিসোজিনসের কারণে মানুষের হজম শক্তি, প্রজনন ও বৃদ্ধি এই তিনটিই বেশি প্রভাবিত হয়।

    ওবিসোজিনস কেমিকেল কেন বাড়ে?

    আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি, এমন অনেক পণ্যে এই ওবিসোজেনিক কেমিকেল বা রাসায়নিক উপাদানগুলো রয়েছে।
    যেমন: ডিটারজেন্ট বা যেকোনো পরিষ্কারক উপাদান, প্রসাধনী বা ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বাসন, রান্নার সামগ্রী, পোশাক, খেলনা, চিকিৎসা সামগ্রী ইত্যাদি।
    এসব পণ্য আমাদের জীবনের সাথে এমনভাবে জুড়ে আছে যে চাইলেই এর প্রভাব এড়ানো যাবে না।
    কিন্তু নিয়মিত এসব পণ্য ব্যবহারের ফলে খাবার, পানি ও বাতাস আরো বেশি দূষিত হচ্ছে এবং মানুষের স্থূলতা ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
    মানুষের শরীরে এমন ৫০ ধরণের ওবিসোজেনিক কেমিকেল রয়েছে যার কোনো একটা বেড়ে গেলে ওজন বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে পাঁচ ধরণের ওবিসোজিনসে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে।

    ১.বিপিএ

    ২.প্যাথালেট

    ৩.অ্যাট্রাজিন

    ৪.অর্গানোটিন্স

    ৫.পিএফওএ

    বিপিএ

    বিভিন্ন ফুডক্যান, খাবার ও পানীয় পাত্র, পলিকার্বোনেট প্লাস্টিকের সামগ্রী ও ইপোক্সি রেজিনে বিপিএ থাকে। এটা নারীদের সেক্স হরমোন এস্ট্রোজেন, শরীরের চিনির ভারসাম্য রাখা ইনসুলিনের উৎপাদন এবং চর্বির গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।
    কেউ যদি বিপিএযুক্ত প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করেন বা গরম খাবার সংরক্ষণ করেন তাহলে মানুষ সেই খাবারের মাধ্যমে বিপিএ’র সংস্পর্শে আসে।

    সব বয়সী মানুষ এমনকি নবজাতকের শরীরেও বিপিএ পাওয়া গিয়েছে। সাধারণত রক্ত, প্রস্রাব, বুকের দুধ ও চর্বি পরীক্ষা করে বিপিএ আছে কিনা জানা যায়।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএ’র মতে, খাবারের প্যাকেটে যে পরিমাণ বিপিএ থাকে তা খুবই সামান্য এবং এতে মানবদেহে ক্ষতির ঝুঁকি নেই।

    প্যাথালেটস

    প্লাস্টিককে টেকসই ও নমনীয় করতে প্যাথালেটস ব্যবহৃত হয়। সাধারণত খেলনা, চিকিৎসা সামগ্রী, খাদ্যের প্যাকেজিং, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, নেইল পলিশ, লোশন ও পারফিউমে প্যাথালেটস পাওয়া যায়।
    এই কেমিকেলটি পুরুষদের যৌন হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের ওপর প্রভাব ফেলে, হজমে সমস্যা তৈরি করে; যার কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিসসহ ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    সাধারণত প্যাথালেটযুক্ত পাত্র ও প্যাকেজিং এর খাবার খেলে বা এই কেমিকেলযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে এমনকি ধুলোবালি থেকেও মানুষের শরীরে এই কেমিকেল প্রবেশ করতে পারে।
    তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে যে খাবার প্যাকেটে বা প্রসাধনীতে যে পরিমাণে প্যাথালেট থাকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

    অ্যাট্রাজিন

    অ্যাট্রাজিন কেমিকেলটি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে মাটি ও পানিতে এই কেমিকেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
    এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌন হরমোনের ওপরে প্রভাব ফেলে। সেইসাথে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, জন্মগত ত্রুটি এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

    অর্গানোটিন্স

    এই কেমিকেলটি বেশি পাওয়া গিয়েছে পিভিসি পণ্য যেমন পাইপ, নৌকা বা জাহাজে ব্যবহার করা অ্যান্টিফাঙ্গাল পেইন্ট ও কীটনাশকে।
    এ কারণে পানিতে ও সামুদ্রিক শামুকে এই কেমিকেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
    সেইসাথে প্লাস্টিক র‍্যাপ, প্লাস্টিকের খেলনা, স্টেশনারি, কাপড়েও এই কেমিকেল পাওয়া গিয়েছে। যার প্রভাব সেক্স হরমোনের ওপর পড়ে এবং শরীরে চর্বি বাড়তে থাকে।

    পিএফওএ

    যেকোনো পানিরোধী কাপড় যেমন: রেইনকোট/ছাতা/তাঁবু, ননস্টিক রান্নার সামগ্রী, প্রসাধনী, পরিষ্কারক পণ্য, দাগ প্রতিরোধক, মাইক্রোওয়েভের খাবার এমনকি পানিতেও পিএফওএ পাওয়া গিয়েছে। এর প্রভাবে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

    এই কেমিকেল কিভাবে এড়ানো যায়?

    ওবিসোজিনস কেমিকেলের সংস্পর্শ এড়াতে কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    # সবার আগে ধূমপান ছাড়তে হবে
    # প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় খাওয়া যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে
    # প্লাস্টিকের বাসনপত্রের পরিবর্তে কাঁচ, স্টিল বা মাটির পণ্য ব্যবহার
    # প্লাস্টিকের পাত্র যদি ব্যবহার করতেই হয় সেটা এসব কেমিকেলমুক্ত কিনা পরীক্ষা করা, তবে যে প্লাস্টিকই হোক সেটায় খাবার গরম করা যাবে না বা গরম খাবার পরিবেশন করা যাবে না
    # কীটনাশক দেয়া খাবার খাওয়া কমানো
    ক্ষতিকর কেমিকেলমুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা