Category: এক্সক্লুসিভ

  • কোটা ব্যবস্থা থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত করা হোক: শিরোনামহীনের জিয়া

    কোটা ব্যবস্থা থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত করা হোক: শিরোনামহীনের জিয়া

    কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে দেশের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।তাদের আন্দোলন যৌক্তিক দাবি করে অনেকেই পোস্ট দিচ্ছেন। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা।

     

    কিছুদিন আগে মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা সোহেল রানা পোস্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোটা সংস্কার চান। এবার তালিকায় নাম উঠল শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার।
    আজ ১৩ জুলাই তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা’ মানেই এক্সট্রা বেনেফিট দেবার রাস্তা। মেধার বাইরেও আলাদা করে বিশেষ ক্ষেত্র অফার যাতে বঞ্চিত গোষ্ঠী সুবিধা পায় কিংবা অসাধারণ / বিশেষ অবদানের জন্য, নিজের চূড়ান্ত স্যাক্রিফাইস এর জন্য, পরিবার বেনেফিটেড হয়।

    তিনি দাবি করে বলেন,‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও এই এক্সারসাইজটা করার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কারণেই আমরা স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে আছি এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু লক্ষ্য করুন, নিশ্চয়ই মুক্তিযোদ্ধা বা ওনাদের নিকটাত্মীয় তরুণ নয়। বঞ্চিত গোষ্ঠীর বিবেচনাতেও একই রকম ইক্যুয়েশন আছে। তারমানে, কোটা ব্যবস্থা একটা প্রবল মিসইউজের রাস্তা তৈরি করা ছাড়া এখন আর কোনো ভূমিকা রাখছেনা। মাঝখান থেকে মেধাবী, যোগ্য তরুণ হারাচ্ছে তার সুযোগ। ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে তার দৈনন্দিন জীবন।’

    পোস্ট শেষ করেছেন দাবি জানিয়ে,‘কোটা ব্যবস্থা থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত করা হোক। মেধা এবং যোগ্যতা স্বীকৃতি পাক। এটা অনস্বীকার্য যে, আমাদের দেশে সঠিক জায়গায় যোগ্য মানুষের অভাব আছে। বঞ্চিত কে বেনেফিট দিতে গিয়ে যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করা কোনো সুফল নিয়ে আসেনা।’

     

  • প্রধান বিচারপতি কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে যা বললেন

    প্রধান বিচারপতি কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে যা বললেন

    সরকারি চাকরি নিয়োগের কোটা নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাদেরকে পরামর্শ দিন, তারা কেন নির্বাহী বিভাগের কথা বলে? নির্বাহী বিভাগের যে কোনো সিদ্ধান্ত তো আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কোটা আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের নেতাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

     

    প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো আইনজীবীদের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। আমরা সেটি গুরুত্ব সহকারে শুনব। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জাতীয় সংসদকে ১৬ দফা পরামর্শ দেয়া সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দেশের স্বার্থে হাইকোর্ট দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ১৬ দফা পরামর্শ দিয়েছেন।

    তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা সংসদকে পরামর্শ দিতে যাব কেন? আমরা কি সংসদকে পরামর্শ দিতে পারি? হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশনা দিতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতি চাইলে পরামর্শ দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি চাইলে সেই পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন, নাও পারেন।

    একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের উদ্দেশে ওবায়দুল হাসান বলেন, আপনারা তো সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতা, আপনাদের দেশের প্রতি দায়িত্ব আছে। যারা কোটা নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাদেরকে বোঝান, পরামর্শ দিন। আদালতের দরজা তো তাদের জন্য সবসময় খোলা।

    এর আগে গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের রায়ের ওপর ৪ সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে বলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তখন সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল ৩০ শতাংশ। এছাড়া ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা ছিল।

    সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ। কোটা বাতিল করে সরকারের পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর রুল দেন হাইকোর্ট। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

    পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন চেম্বার আদালতে হয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে ৪ জুলাই। রিট আবেদনকারীপক্ষ সময় চেয়ে আরজি জানালে সেদিন আপিল বিভাগ শুনানি পিছিয়ে দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়।

    এ অবস্থায় কোটা পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গত মঙ্গলবার আবেদন করেন দুই শিক্ষার্থী। হাইকোর্টের রায়ের পর থেকেই কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে নামেন। সকাল সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুধু সড়ক নয়, রেল অবরোধও করেন শিক্ষার্থীরা। হাইকোর্টের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ীভাবে কোটা বাতিল চান তারা।

  • আবারো রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়নে

    আবারো রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়নে

    আকুর বিল পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার কমে ২০ বিলিয়নে নেমেছে। আইএমএফসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার পর গত সপ্তাহে যা ছিল ২১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে নিট রিজার্ভ ১৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন থেকে নেমেছে ১৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়নে।

     

    বুধবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, গতকাল বুধবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ এ পর্যায়ে নামলো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন গ্রস রিজার্ভ ২৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর শর্ত অনুযায়ী বিপিএম-৬ মেথডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন।

    এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেয়। প্রকাশ করে না। তবে জুনের শেষ দিকে আইএমএফের ঋণ সহায়তা পাওয়ার পর দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ওই সময় (৩০ জুন) শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ ছিল ১ হাজার ৬৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। এখন থেকে আকুর বিল পরিশোধের পর এনআইআর থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার কমে যাবে; অর্থাৎ দেশে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ কমে ১৫ বিলিয়নের ঘরে নেমে এসেছে। প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হল বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।

    এদিকে, আকু হলো, একটি অন্তর্দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। তবে এখন আকুর সদস্য পদ নেই শ্রীলঙ্কার। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবত আমদানি ব্যয় পরিশোধের বিভিন্ন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আকু সদস্য পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য আকুর সদস্য পদ উন্মুক্ত।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন বাংলাদেশের জন্য ঋণের তৃতীয় কিস্তি অনুমোদন করে আইএমএফ। আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ মোট ঋণ নিচ্ছে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার এসেছে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে প্রায় ৬৮১ মিলিয়ন ডলার আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। মোট সাত কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ ছাড় করা হবে।

    বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় (রিজার্ভ)। বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ে ক্রমাগত চলতি হিসাবের ঘাটতিও বেড়ে গিয়েছিল। ডলারের বিপরীতে টাকার দরের অবনমন হতে থাকলে প্রভাব পড়ে জ্বালানির দর ও আমদানিতে।

    এই অবস্থায়, দ্রুত ক্ষয় হতে থাকা রিজার্ভ বাড়াতে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার সহায়তা নিতে আইএমএফের কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়ে আবেদন করে ২০২২ সালের জুলাইতে। বিভিন্ন ধাপের আলোচনার পর ওই বছরের নভেম্বরে ঋণ চুক্তির অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। ২০২৩ সা‌লের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট সাতটি কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে।

  • কি কারণে দেশে ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ

    কি কারণে দেশে ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ

    সম্প্রতি সাদেক এগ্রোর বংশ মর্যাদাসম্পন্ন গরুর বিজ্ঞাপনে সবার নজর কাড়ে বিশাল আকারের ব্রাহামা গরু। কয়েক বছর আগে জালিয়াতি করে এ জাতের গরু আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। তারপরই আলোচনায় উঠে আসে কোটি টাকা দামের এসব গরু। ২০১৬ সালের এক নীতিমালায় ব্রাহামা জাতের গরু আমদানি নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে আমদানি নিষিদ্ধ হলেও এ জাতের গরু বাংলাদেশে উৎপাদন ও পালন একেবারেই বৈধ। তবে ঠিক কী কারণে ব্রাহামা গরু বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ তাই উঠে এসেছে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে।

     

    বাংলাদেশে মাংসের চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে ব্রাহামা গরুর চাহিদাও। বলা হয় এ জাতের গরু পালন সহজ ও লাভজনক, আর অন্যান্য জাতের চেয়ে ব্রাহামা গরু রোগ বালাইয়ে কম আক্রান্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ব্রাহামা জাতের গরু রয়েছে তার প্রায় সবই কৃত্রিম পদ্ধতিতে প্রজনন করা।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, ব্রাহামা গরু মূলত মাংসের জাত বলে পরিচিত। এ গরু প্রচুর মাংস উৎপাদন করলেও তারা তার আকৃতি অনুযায়ী অনেক দুধ দেয় না। ফলে খামারিরা যদি ব্যাপক হারে ব্রাহামা উৎপাদন করে তাহলে দেশে গরুর দুধের উৎপাদন একেবারেই কমে যাবে। মূলত সেই জন্যই বেসরকারি পর্যায়ে ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাহামা গরুর মাংসের স্বাদ দেশি গরুর মতো। এর গায়ে চর্বি কম হয়, যে কারণে পুষ্টিগুণ বেশি। সরকারের আশঙ্কা ব্যাপক হারে ব্রাহামা গরু উৎপাদন হলে দুধ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে খামারিরা। মূলত দেশের দুগ্ধ উৎপাদন খাতের সুরক্ষায় ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ডা. ভবতোষ কান্তি জানান, সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাহামা জাতের গরুর শুক্রাণু এনে স্থানীয় খামারিদের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে এই জাতের গরু উৎপাদন শুরু করে। ২০০৮ সালে চালু হওয়া ‘বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৫০টির মতো জেলায় চলছে এ কর্মসূচি।

    ব্রাহমা গরু মূলত এর উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতা, দীর্ঘ জীবন এবং ক্রস-ব্রিডিংয়ে উচ্চফলনের জন্য বেশি জনপ্রিয়। সাধারণত একটি পূর্ণবয়স্ক ব্রাহামা ষাঁড়ের ওজন ৮০০-১০০০ কেজির বেশি হতে পারে, আর একটি পূর্ণবয়স্ক ব্রাহামা গরুর ওজন হবে ৫০০-১০০০ কেজি। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় ব্রাহামা গরু সুস্থ-স্বাভাবিক থাকতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতার কারণে এ গরুর রোগবালাই অনেক কম হয়। সাধারণত একটি ব্রাহামা গরু ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

  • বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের

    বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের

    ঈদ চলে গেলেও এখনো নিয়ন্ত্রণ হয়নি বাজার। ব্যয় সংকুলান করতে না পারায় মধ্য নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে আলু-পেঁয়াজ-মুরগির দাম। এ ছাড়া কাঁচামরিচের দাম বেড়ে ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

     

    শুক্রবার (২১ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অতি ঝড়বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কাঁচামরিচের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচের কেজি ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। আজকের বাজারে দেখা যায় তা বেড়ে হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচে ১০০ টাকার বেশি দাম বেড়েছে।

    পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের বন্ধের মধ্যে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কম। যার কারণে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে বাজারে পণ্য সরবরাহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে জানান তারা।

    এদিকে ঈদের আগে পাইকারিতে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা। আলুর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়।

    এছাড়া বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ টাকা পেলেও ডিমের দাম বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি ডজন ডিম ১৬০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

    এদিকে বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা ও লতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

    আর ধনেপাতা ২০০ টাকা, কহি ৩০ টাকা, আর চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি পিস লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। আর বাজারে লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা, পাটশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, কলমি ১৫ টাকা ও পালংশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

     

  • আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির ঋণ অনুমোদন পেয়েছে

    আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির ঋণ অনুমোদন পেয়েছে

    বাংলাদেশকে দেওয়া ঋণের তৃতীয় কিস্তি অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তৃতীয় কিস্তিতে বাংলাদেশ পাবে ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন বা ১১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

     

    সোমবার (২৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের রিজার্ভে এ অর্থ যোগ হবে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক।

    তিনি বলেন, আইএমএফের নির্বাহী সদস্যদের বৈঠকে ঋণ অনুমোদন হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই ঋণের অর্থ রিজার্ভ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। আজকে পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ আছে ২৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের ঋণ যুক্ত হলে তা বেড়ে প্রায় ২৬ বিলিয়নের কাছাকাছি হবে। বিদেশি ঋণগুলো আসা শুরু হওয়ায় দেশের বিদেশি রিজার্ভে ক্ষয় কমবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ কর্তা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। যদিও এই হিসাবটি গ্রহণ করে না আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিপিএম ৬ অনুযায়ী দেশের গ্রস রিজার্ভ ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। ঋণের কিস্তির শর্ত অনযায়ী, আইএমএফকে দেশের রিজার্ভের নিট হিসাব দিতে হয়। অর্থাৎ বিপিএম-৬ থেকে চলতি দায় বাদ দিলে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ দাঁড়ায় সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও কম। তবে আইএমএফের ঋণের ১১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রিজার্ভে যুক্ত হলে নিট রিজার্ভ সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।

    আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভে লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার রাখার কথা রয়েছে।

     

  • ‘জল্লাদ’ শাহজাহান সম্পর্কে যা বললেন অভিনেতা ফারুক

    ‘জল্লাদ’ শাহজাহান সম্পর্কে যা বললেন অভিনেতা ফারুক

    ৬০ জনের ফাঁসি কার্যকর করা আলোচিত ‘জল্লাদ’ শাহজাহান ভূঁইয়া মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন।

     

    সেখানে তিনি লেখেন, ‘জল্লাদ’ শাহজাহান ভূঁইয়া। এবছর বইমেলায় কিংবদন্তী পাবলিকেশন্স থেকে তার লেখা একটা বই প্রকাশ হয়েছিল। এর নাম ‘কেমন ছিল জল্লাদ জীবন’। মেলার কিংবদন্তী প্রকাশনীতে আমার লেখাও একটি বই ছিল। বইমেলার প্রায় ১৫ দিন আমি কিংবদন্তী স্টলে বসেছি। জল্লাদ শাহজাহানের সঙ্গে আমার কিংবদন্তীর স্টলেই পরিচয়।

    তিনি আরও লেখেন, তার দীর্ঘ জেল জীবন, জল্লাদ হওয়ার গল্প, ফাঁসি দেওয়ার সময় তার মনের অবস্থা, ফাঁসির সময় আসামির ক্রিয়া- এসব বিষয় তার কাছে জানতে চেয়েছি। তিনি খোলামেলাভাবে আমার কথার উত্তর দিয়েছেন। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মুক্ত জীবন কেমন লাগছে? মাথা নিচু করে বললেন, ভালো না। আমার কেউ নাই। কিচ্ছু নাই। ভালো লাগে না। আমি বোকার মতো তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আহারে জীবন! জীবনের ৪০ বছরেরও বেশি সময় জেলের চার দেওয়ালের ভেতর কাটিয়ে মুক্ত জীবন পেয়েও বলে ভালো লাগে না! আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কি করলে আপনার ভালো লাগবে? সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন, মরে গেলে।

    শেষ লাইনে ফারুক আহমেদ লেখেন, ‘জল্লাদ’ শাহজাহান আজ দুপুরে মারা গেছেন। তার চাওয়া পূরণ হয়েছে। ওপারে ভালো থাকবেন জল্লাদ শাহজাহান।

    গত বছরের ১৮ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। অস্ত্র ও হত্যা মামলায় ৪২ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শাহজাহানের সাজা কমে ৩২ বছর হয়। প্রতি ফাঁসির জন্য দুই মাস করে কারা রেয়াত পেয়েছিলেন তিনি।

    তৎকালীন সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, ‘জল্লাদ’ শাহজাহান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি, চারজন যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি নেতা বাংলাভাইসহ দুজন জেএমবি সদস্য এবং আরও ১৪ জন অন্য আলোচিত মামলার আসামির ফাঁসি কার্যকর করেছেন।

     

     

  • রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬ দশক উদযাপন

    রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬ দশক উদযাপন

    জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা। প্রথম গান রেকর্ডিংয়ের হিসাবে গতকাল ২৪ জুন তাঁর সংগীত জীবনের যাট বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ সংগীত জীবনে বরেণ্য এ কণ্ঠশিল্পী দশ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। অর্জন করেছেন উপমহাদেশের কোটি মানুষের ভালোবাসা। বাংলা ছাড়াও রুনা লায়লা উর্দু, হিন্দি আর ইংরেজি ভাষা জানেন। তবে বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, পশতু, বেলুচি, আরবি, পারসিয়ান, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালিয়ান, স্পেনিশ, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি ভাষায় গান করেছেন তিনি।

     

    রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬ দশক উদযাপন করেছে চ্যানেল আই। গতকাল চ্যানেলটির আমন্ত্রণে রুনা লায়লা এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। শুরুতেই তাঁকে দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।

    সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ উপলক্ষে রুনা লায়লা বলেন, ‘আপনাদের সবার দোয়া, আশীর্বাদ ও ভালোবাসায় আজ আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এ ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও শ্রদ্ধা যেন চিরকাল থাকে আমার সাথে।’

    চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের সংগীতপিপাসু সবার জন্যই আনন্দের একটি দিন। রুনা লায়লা উপমহাদেশের সংগীতকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি।’

    বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা ও রুনার জীবনসঙ্গী আলমগীর বলেন, ‘রুনা কাজের ব্যাপারে ভীষণ সিরিয়াস। যেদিন তার শো বা গানের রেকর্ডিং থাকে, সেদিন সে কারও সঙ্গে কথা বলে না। এমনকি আমার সঙ্গেও নয়। গানের প্রতি এ রকম সিরিয়াস না হলে এতগুলো বছর টিকে থাকা সম্ভব হতো না।’

    এ আয়োজনে রুনা লায়লাকে নিয়ে কথা বলেছেন কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, নির্মাতা কাজী হায়াৎ, মতিন রহমান, অভিনেত্রী অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, অভিনেতা ওমর সানী, সংগীতশিল্পী লীনু বিল্লাহ, মানাম আহমেদ, ফোয়াদ নাসের বাবু, শওকত আলী ইমন, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজারসহ অনেকেই।

    ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রুনা লায়লার ভাই, মেয়ে ও স্বজনরা। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের তারকারাও। ভিডিও বার্তায় বলিউডের সনু নিগম বলেন, ‘আপনি গুণী শিল্পী। আপনি এত সুন্দর, আপনার ব্যবহার এত ভালো। আপনার সঙ্গে আমার কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিল। যখন থেকে আমি গান শুনছি, তখন থেকে আপনাকে শুনছি। আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা। সারা পৃথিবী আপনাকে ভালোবাসে, আমি আপনাকে ভালোবাসি।’

    পাকিস্তানের অভিনেতা ইমরান আব্বাস শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনি বাকি জীবন গাইতে থাকুন, পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করুন। পাকিস্তান থেকে ভালোবাসা জানাই।’

    আঁখি আলমগীর বলেন, ‘আমরা অনেক গর্বিত যে আমাদের একজন রুনা লায়লা আছেন।’ অনুষ্ঠানে ইমরান, ইউসুফ, লুইপা, ঝিলিক রুনা লায়লার গাওয়া গান পরিবেশন করেন। সব শেষে ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ গানটি গেয়ে শোনান সোমনুর মনির কোনাল। এ আয়োজন ছাড়াও রুনা লায়লাকে নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে আনন্দ আলো। পুরো আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করে চ্যানেল আই।

    উল্লেখ্য, মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘জুগনু’ সিনেমার ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া কী পেয়ারি’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৬৪ সালের ২৪ জুন সিনেমার গানে পেশাগতভাবে মনোনিবেশ করেন রুনা লায়লা। এরপর পাকিস্তানের আরও অনেক সিনেমায় প্লেব্যাক করেন রুনা লায়লা। মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৭০ সালের ২৯ মে মুক্তিপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘স্বরলিপি’ সিনেমায় ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানটি প্লেব্যাক করেন রুনা লায়লা। এটি ছিল বাংলাদেশের সিনেমায় তাঁর প্রথম প্লেব্যাক। গানটি লিখেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুর করেছিলেন সুবল দাস। গানে লিপসিং করেছিলেন চিত্রনায়িকা ববিতা।

    বাংলা ভাষায় তাঁর বহু আধুনিক জনপ্রিয় গানও রয়েছে। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘পাখি খাঁচা ভেঙে উড়ে গেলে’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর’, ‘পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম’, ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যের আগে’, ‘ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেছে প্রাণ’, ‘শেষ করো না শুরুতে খেলা’ ইত্যাদি।

     

  • মতিউরের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিলেন আদালত

    মতিউরের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিলেন আদালত

    ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমান, স্ত্রী লায়লা কানিজ ও পুত্র আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্নবের বিদেশে গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

     

    সোমবার (২৪ জুন) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    এর আগে, রোববার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়। এনবিআরের সদ্য ওএসডি হওয়া এই সদস্য যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য বিমান, স্থল, সীমান্ত গুলোতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মতিউর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা যেন বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন অবস্থাতেই দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য এই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

  • কেটে ফেলা হয়েছে ‘কথা বলা’ সেই আলোচিত গাছ

    কেটে ফেলা হয়েছে ‘কথা বলা’ সেই আলোচিত গাছ

    গাছে কান পাতলে নারী কণ্ঠে কথা শোনা যায় এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও উৎসুক জনতা গিয়ে ভিড় করেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে। গাছের কথা শুনতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে। পরে বিষয়টিকে গুজব ও ভুয়া দাবি করে আলোচিত সেই গাছটিকে কেটে ফেলা হয়েছে।

     

    স্থানীয়রা বলছেন, গাছে কান পাতলে কথা শোনার বিষয়টি গুজব ছিল। তবে গাছ থেকে কথা শোনার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কেন গাছ থেকে নারীকণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন অনেকেই? এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে মনোবিজ্ঞানে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের গজিনা গ্রামে নিরব নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু গাছটিতে ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে গাছ বলে ওঠে ‘আমাকে মারিস না’। পরে সে এ ঘটনা পাশের একজন মহিলাকে বললে, বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দলে দলে এসে গাছে কান পেতে শোনার চেষ্টা করে সবাই। তাদেরও একই দাবি, গাছে কান পাতলে নারী কণ্ঠে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কেউ সালামের উত্তর শুনছেন, আবার কেউ কান্না বা আর্তনাদের আওয়াজ শুনছেন। আবার অনেকেই বলছেন ভুয়া। কান পাতলে গাছ ও পাতা নড়ার শব্দ শোনা যায়।

    এমন ঘটনা আশপাশের কয়েক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গাছটি দেখতে ও কথা শুনতে ছুটে আসে উৎসুক জনতা। গাছটিকে পবিত্র আখ্যা দিয়ে গাছের চারপাশ ঘিরে বাঁশের বেড়া দেয় এলাকাবাসী। কেউ কেউ আবার মান্নত করে গাছের গোড়ায় ফেলতে থাকে টাকা। পরে কয়েকজন মুসল্লির অনুরোধে টাকা তোলা বন্ধ হয়।

    এমন ঘটনায় মূলধারার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার সকালে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ও স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টুটুলের হস্তক্ষেপে গাছটি কেটে ফেলা হয়। এ সময় গাছ কাঁটা দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী।

    গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক নাহমিনা বেগম জানান, গাছে কান পাতলে কথা শোনা যায় এটার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নাই। তবে গাছের একটি শক্ত নেটওয়ার্ক রুট রয়েছে। যা অনেকদূর নিয়ে বিস্তৃত। এর মাধ্যমে এক গাছ আরেক গাছকে উপকার করে থাকে। তবে গাছে কান পাতলে কথা শোনার বিষয়টি পুরোটাই কুসংস্কার।

    এদিকে মুকসুদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ও রাঘদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুর রহমান টুটুল বলেন, গাছে কথা শোনা যায় বিষয়টি গুজব। আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা ওই এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখি। বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া মনে হয়েছে। এ ছাড়া আমরা কান পেতে দেখেছি। কোনো কথা শোনা যায় না। পরে আমরা গাছটি কেটে ফেলি।