Category: এক্সক্লুসিভ

  • উপকূলীয় ৯ জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত

    উপকূলীয় ৯ জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত

    পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় ৯ জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব জেলা হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী। সমুদ্র উপকূলবর্তী এসব জায়গার কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

     

     

    ঘূর্ণিঝড় রিমাল নিয়ে রোববার সকালে বিশেষ এ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে হবে।

    এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল রোববার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে এগিয়ে ঘনীভূত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের কাছের এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

    এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ এর প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলোর নিচু এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবের দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।‌

  • জানাগেল আজীম হত্যার বিস্তারিত ঘটনা

    জানাগেল আজীম হত্যার বিস্তারিত ঘটনা

    যে কায়দায় এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যা করা হয়– তা গা শিউরে ওঠার মতো কাহিনি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, কিলার ভাড়া করা হয়েছিল। কিলিং মিশনে ‘কসাইয়ের’ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশি দুই যুবক। তারা হলো– খুলনার দিঘলিয়ার বারাকপুরের বাসিন্দা জিহাদ হাওলাদার ও ভোলার সিয়াম। জিহাদ এখন ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আর সিয়াম নেপালে পালিয়েছে।

    গোয়েন্দারা হত্যা মিশনে জিহাদ ও সায়েমের নানা নৃশংসতার কথা জানতে পেরেছেন। জিহাদ অনেক আগে থেকে পেশায় কসাই। হত্যা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে ভারতে দীর্ঘদিন অবস্থান করা জিহাদকে ভাড়া করা হয়।

    জানা গেছে, জিহাদ কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে যায়। কখনও দিল্লি আবার কখনও মুম্বাইয়ে বসবাস করত। সেখানে ‘দক্ষ কসাই’ হিসেবে তার পরিচিতি আছে। হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর দুই মাস আগে তাকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় আনা হয়।

    হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি আখতারুজ্জামান শাহীনই তাকে নিয়ে আসেন। আজীম হত্যার ঘটনায় জড়িত ভাড়াটে সন্ত্রাসী শিমুল ভূঁইয়ার সহযোগী জিহাদ। হত্যায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গতকাল শুক্রবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    জিহাদ প্রথমে নিজেকে সিয়াম বলে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। অবশ্য পরে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

    জিহাদ জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে, ১৪ মে কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার পরপরই বাইরে থেকে আসা ক্লান্তির ধকল সারতে বেসিনে হাতমুখ পরিষ্কার করেন আজীম। এ সময় ক্লোরোফর্ম দিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আজীমকে বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে সে।

    আজীম মারা যাওয়ার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে সে। চামড়া থেকে মাংস আলাদা করে জিহাদ। এরপর লাগানো হয় হলুদ। হলুদ মেশানো টুকরো টুকরো অংশ ফ্রিজেও রাখা হয়। সবশেষে লাশের টুকরো ব্যাগে ভরা হয়।

    এরপর ব্যাগভর্তি লাশের টুকরো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় একটি খালে ফেলা হয়েছে।
    জানা গেছে, আজীমকে হত্যার জন্য জিহাদকে নিউ টাউন এলাকায় চিনার পার্কের একটি ফ্ল্যাটে রাখা হয়। এরপর তাকে মূল ঘটনাস্থল সঞ্জিভা গার্ডেনে আনা হয়। আজীম ঢোকার আগে থেকেই সে সেখানে অবস্থান করছিল।

    এদিকে পলাতক সিয়ামের ব্যাপারে এখনও খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। সেও অবৈধভাবে ভারতে যাতায়াত এবং অবস্থান করছে। এমনকি তার কাছে ভারতের আধার কার্ডও (নাগরিক পরিচয়পত্র) রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শাহীনের বাসায় পরিকল্পনা বৈঠকে সেও ছিল বলে একটি সূত্রে তথ্য মিলেছে। হত্যার ঘটনায় সে সরাসরি অংশ নেয়। লাশের টুকরো ব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলার ক্ষেত্রেও সে ছিল বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

     

  • ১১ বছর পর এভারেস্টের চূড়া ছুঁলেন বাংলাদেশি বাবর আলী

    ১১ বছর পর এভারেস্টের চূড়া ছুঁলেন বাংলাদেশি বাবর আলী

    ১১ বছর পর পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করলেন বাবর আলী। রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮টা ৪৫মিনিট) এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন তিনি।

     

    বেসক্যাম্প টিমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান। হিমালয়ের শীতিধার চূড়া জয়ের জন্য বাবর আলী রওনা দিয়েছিলেন ১ এপ্রিল। চূড়াটি পর্বতের ১৫ হাজার ৫০০ ফুট ওপরে। সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।

    তবে অভিযান কিন্তু এখনও শেষ নয়, শুধু এভারেস্ট নয়, বাবরের লক্ষ্য সঙ্গে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। রোববার ক্যাম্প-৪ এ নেমে মাঝরাতে আবারও শুরু করবেন দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রা। সব অনুকূলে থাকলে ভোরে পৌঁছতে পারেন এর চূড়ায়।

  • সোনারগাঁওয়ে দুই সহোদর ১০ দিন ধরে নিখোঁজ

    সোনারগাঁওয়ে দুই সহোদর ১০ দিন ধরে নিখোঁজ

     

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্প নগরী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী দুই সহোদর গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ দুই সহোদরের নাম শাহাদাত হোসেন আল রাফি (১৪) ও আরিফ হোসেন রাফাত (১২)। গত ৫ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে তারা নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না পেয়ে নিখোঁজের পরদিন তাদের বাবা মো. ইউসুফ মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরী করেন। গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধান না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা আতংকের মধ্যে দিন যাপন করছেন।

    নিখোঁজ সহোদরের বাবা মো. ইউসুফ মিয়া জানান, তার বাড়ি ফেনী জেলার সদর থানার তুলাবাড়িয়া গ্রামে। তিনি সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত আল মোস্তফা গ্রুপ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরীর সুবাদে মেঘনা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। গত ৫ মে রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে স্কুল ছাত্র রাফি ও রাফাত স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে স্কুল সাড়ে ৪টার দিকে ছুটি হলেও তারা সন্ধ্যা ৭ টার দিকেও বাড়ি ফেরেনি। পরে তাদের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও খোঁজ মেলেনি। পরদিন সোমবার সকালে নিখোঁজ ছাত্রদের বাবা মো. ইউসুফ মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরী করেন।

    নিখোঁজ শাহাদাত হোসেন আল রাফি মেঘনা শিল্প নগরী স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণী ও আরিফ হোসেন রাহাত ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। নিখোঁজ ছাত্রদের গায়ের রং শ্যামলা ও স্কুল ড্রেস পরিহিত ছিলো।

    নিখোঁজদের পরিবার তাদের সন্তানদের না পেয়ে আতংকের মধ্যে রয়েছে। তাদের সন্ধান পেতে পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

    তাদের শোকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্না যেনো থামছেই না।

    সোনারগাঁও থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান পিপিএম বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরে তাদের ছবি ও তথ্য দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেয়া হয়েছে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ১৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ১৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের দায় মেটানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভ কমে ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলারে (২৩.৭৭ বিলিয়ন) নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ১ হাজার ৮৩২ কোটি ডলার (১৮.৩২ বিলিয়ন)। প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারের কিছুটা কম। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    সূত্র জানান, গত সপ্তাহে আকু বিল বাবদ রিজার্ভ থেকে ১৬৩ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়। এরপর রিজার্ভ কমে যায়। আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেয়া নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার। এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আইএমএফ ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলারে নামিয়েছে, যদিও এখন তা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের কম। প্রতি মাসে দেশের আমদানি দায় মেটাতে এখন প্রায় ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত দুই মাসে ১৬৩ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করেছে। ফলে রিজার্ভ কিছুটা কমেছে।

    সামনের মাসে আইএমএফের ঋণের কিস্তি আসবে। এ ছাড়া জুনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থছাড় হবে। প্রবাসী আয় চলতি মাসে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। অর্থাৎ ডলারের প্রবাহ বাড়বে। এতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির চাপও কমে আসবে।
    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে ৯০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ডলারের দাম বাড়িয়ে ১১৭ টাকা করা হয়েছে- এ বাস্তবতায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ডলারের দাম বাড়ায় রপ্তানি আয় আসাও বাড়বে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সরকারি আমদানি দায় মেটানোর জন্য প্রতি ডলার ১১৭ টাকা ৪৪ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে। আবার যেসব ব্যাংক বেশি দামে প্রবাসী আয় কিনছে, তাদের ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক ১১৭ টাকা ৪৪ পয়সা দরে কিনে নিচ্ছে। এরপরও রিজার্ভের ক্ষয় ঠেকানো যাচ্ছে না। যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করা হচ্ছে, কেনা হচ্ছে তার চেয়ে কম।

    অর্থনৈতিক সংকট ঠেকাতে আইএমএফের শর্ত মেনে গত সপ্তাহে ডলারের মধ্যবর্তী দাম ১১৭ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, আগে যা ছিল ১১০ টাকা। এদিকে ঋণের সুদহারও বাজারভিত্তিক করা হয়েছে।

     

  • অবশেষে জানা গেলো মোনালিসা কোথায় আঁকা হয়েছিল ?

    অবশেষে জানা গেলো মোনালিসা কোথায় আঁকা হয়েছিল ?

    লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অনবদ্য সৃষ্টি মোনালিসার পিছনের দৃশ্যপট নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন যে, দৃশ্যটি কাল্পনিক, আবার অন্যরা ওই দৃশ্যপটের সঙ্গে বিভিন্ন ইতালীয় জায়গার সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন। অবশেষে বিতর্কে ইতি টানলেন একজন ভূতত্ত্ববিদ ও রেঁনেসা শিল্পবিদ অ্যান পিজ্জোরুসো। দুটি বিষয়ে নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অ্যান পিজ্জোরুসো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, লিওনার্দো উত্তর ইতালির লম্ব্যার্ডি অঞ্চলের কোমো হ্রদের পাড়ের লেকো শহরের বেশকিছু স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য তার ছবিতে এঁকেছেন।

    মোনালিসার পেছনের সেতু, পর্বতমালা আর হ্রদের সঙ্গে পিজ্জোরুসো লেকোর ১৪ শতকের অ্যাজোন ভিসকন্তি সেতু, দক্ষিণ-পশ্চিম আল্পস ও লেক গার্লেতের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ৫০০ বছর আগে ওই হৃদে লিওনার্দো ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায়। রহস্যের সমাধান করতে পেরে বেশ উত্তেজিত এই ইতিহাসবিদ বলছেন, ‘এ মিল অস্বীকার করার উপায় নেই। মনে হচ্ছে এটা একটা দুর্দান্ত ফলাফল।’

    পূর্ববর্তী তত্ত্বগুলি ২০১১ সালের একটি দাবিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে মোনালিসার একটি সেতু এবং একটি রাস্তা উত্তর ইতালির একটি ছোট শহর ববিওর অন্তর্গত এবং ২০২৩ সালে পাওয়া যায় যে লিওনার্দো আরেজো প্রদেশে বসে একটি সেতু এঁকেছিলেন।তবে পিজ্জোরুসোর মতে, ‘কেবল সেতুর সঙ্গে মিল খুঁজলে হবে না। কারণ এ ধরনের সেতু সে সময় ইতালি ও ইউরোপে অহরহ পাওয়া যেত। সবাই সেতু নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু ভূতত্ত্বের দিকটা কেউ দেখেন না। শিল্প-ইতিহাসবিদেরা বলেছেন, লিওনার্দো সবসময় তার কল্পনা ব্যবহার করেছেন।

    কিন্তু বিশ্বের যে কোনো ভূতত্ত্ববিদকে ছবিটা দেখান, তারা লেকো সম্পর্কে আমার যে বক্তব্য সেটাই বলবেন।’
    তিনি উল্লেখ করেছেন যে লেকোর শিলাগুলি চুনাপাথর এবং লিওনার্দো তার শিলাগুলিকে একটি ধূসর-সাদা রঙে চিত্রিত করেছেন- যা নিখুঁত, কারণ এটি সেই ধরণের শিলা যা লেকোতে রয়েছে। ওয়াচডগ আর্টওয়াচ ইউকে-এর ডিরেক্টর মাইকেল ডেলি পিজ্জোরুসোর ফলাফল সম্পর্কে বলেছেন, ‘তিনি তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দিয়ে লিওনার্দোর জিনিসগুলি লক্ষ্য করেন। মোনালিসা কোথায় আঁকা হয়েছিল তা নিয়ে শিল্প ইতিহাসবিদরা সবাই অনুমান করেন। যে কেউ একটি সেতু দেখে মনে করে যে, এটি সেখানে ছিল। কিন্তু পিজ্জোরুসো এই এলাকায় লিওনার্দোর উপস্থিতি, এর ভূতত্ত্ব এবং অবশ্যই একটি সেতুর প্রমাণ সহ অবস্থানটি তুলে ধরেছেন।’

    জ্যাক ফ্রাঙ্ক, ল্যুভর একজন প্রাক্তন পরামর্শদাতা বলেছেন, ‘ পিজ্জোরুসোর তত্ত্ব নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই , ইতালীয় দেশের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে তার নিখুঁত জ্ঞান এবং আরও স্পষ্টভাবে যেখানে লিওনার্দো তার জীবদ্দশায় ভ্রমণ করেছিলেন সে সম্পর্কে তার আবিষ্কার নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। মোনালিসার পেছনের পাহাড়ি ল্যান্ডস্কেপের সাথে পিজ্জোরুসোর তত্ত্ব মিলে যায়’।

    এই সপ্তাহান্তে পিজ্জোরুসো লেকোতে একটি ভূতত্ত্ব সম্মেলনে তার প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।

    সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

  • তনি’র শোরুম সিলগালা, পোশাক বিক্রির নামে প্রতারণা

    তনি’র শোরুম সিলগালা, পোশাক বিক্রির নামে প্রতারণা

    অনলাইনে পাকিস্তানি পণ্য বিক্রির প্রচার করা হয়। তারপর ক্রেতারা সেই পণ্যের জন্য অর্ডার ও টাকা প্রেমেন্ট করার পর সরবরাহ করা হতো দেশীয় কম দাবি পোষাক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় ‘সানভীস বাই তনি’র শোরুমে। অভিযোগের সত্যতাও মিলে।

    জানা যায়, পাকিস্তানি বলে বেশি দামে দেশি পোশাক বিক্রি করার অভিযোগে রাজধানীর গুলশানে ‘সানভীস বাই তনি’র শোরুম সিলগালা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।গতকাল সোমবার (১৩ মে) গুলশান শুটিং ক্লাব এলাকায় পুলিশ প্লাজা মার্কেটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত মুখ রোবাইয়াত ফাতেমা তনি। রাজধানীতে কয়েকটি শোরুম আছে তার।

    অনলাইনেও বিক্রি করেন পোশাক এবং কসমেটিক্স। তবে এবার আলোচনায় আসলেন প্রতারণার অভিযোগে। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বলছে, তৈরি পোশাক বিক্রির লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে কসমেটিক্স বিক্রি করা হতো এই আউটলেটে।

    ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযোগের সফটওয়্যারে এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কিছু অভিযোগ আসার পর প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এবং এই দোকানে দেশি পোশাকগুলো বিদেশি বলে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল।

    আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, তারা অনলাইনে পাকিস্তানি ড্রেস বিক্রি করে। কিন্তু ডেলিভারি দেওয়ার সময় দেশি ড্রেস দেয়। শত শত কাস্টমার এভাবে প্রতারিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ এলে তাদের শুনানির জন্য নোটিশ করা হয়েছে। তারা সেটি দেখেও জবাব দেয়নি। তারা যেহেতু কোনো জবাব দেয়নি, উপস্থিত হয়নি, আমাদের কাছে মনে হয়েছে এসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এখানে এসে সেটার প্রমাণ পেয়েছি। তারা পাকিস্তানি ড্রেসের পক্ষে কোনো কাগজপত্র, প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তাদের শুধু ট্রেড লাইসেন্স আছে, সেটা সাধারণ পোশাক বিক্রেতা হিসেবে।’

    তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের শোরুম বন্ধ করে দিয়েছি। এখন তারা কাগজপত্র নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে হাজির হয়ে প্রমাণ দেবে। এ ছাড়া কতগুলো কাস্টমারকে এসব ড্রেস সরবরাহ করা হয়েছে সেসব তথ্য দেবে।

    অনলাইন ডেস্ক

     

  • ভোটের কালি কেন আঙুলে লেগে থেকে কয়েকদিন ?

    ভোটের কালি কেন আঙুলে লেগে থেকে কয়েকদিন ?

    ভোটের পর সবার হাতে এক ধরণের কলম ব্যবহার করে কালি লাগিয়ে দেয়া হয়। সে কালি সহজে উঠে না। কয়েকদিন হাতে থেকে যায়। এই কালিও উৎপত্তি ভারতে। কারণ এখন ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। তবে এই ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। কিভাবে ভারত এই কালি তৈরি করে তা সবার অজানা। সরকার আছে সরকার যায় কিন্তু এই কালির প্রস্তত প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আসে না।

    ভারতে এবারে সাত পর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আজ সোমবার চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৮৫টিতে ভোটের পালা সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যেই। এদিন ভোট নেয়া হবে আরো ৯৬টি আসনে। সারাদেশের ভোটগণনা হবে একইসাথে, আগামী ৪ জুন।

    ভারতে ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের জন্য চলছে ম্যারাথন ভোটগ্রহণ। গণতান্ত্রিক এই পরম্পরা শুরু হয়েছিল সাত দশকেরও বেশি আগে। দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচনের এই দীর্ঘ ইতিহাসে বহু জিনিসই কালের নিয়মে পাল্টে গেছে। কিন্তু একটা ছোট্ট অথচ গুরুত্বপূর্ণ রীতি গত ৬৩ বছরে এক চুলও বদলায়নি। আর সেটা হলো ‘ভোটের কালি’!

    ভারতে ভোট দেয়ার পর ভোটারদের আঙুলে যে ‘অমোচনীয়’ কালির দাগ লাগিয়ে দেয়া হয়, ১৯৬২তে দেশের তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবার চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেই পদ্ধতি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

    কোনো ব্যক্তি যাতে দু’বার ভোট না দিতে পারেন এবং ভোটগ্রহণে জালিয়াতি এড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যেই ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন অমোচনীয় বা ‘ইনডেলিবল’ কালি ব্যবহারের এই পদ্ধতি চালু করেছিল।

    ভারতে ভোট দেয়ার পদ্ধতি কিন্তু গত ২০-২৫ বছরে আমূল বদলে গেছে। আগে যেখানে ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে ছাপ দিয়ে ভোট দিতে হতো, এখন তার জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্র বা ইভিএমে বোতাম টিপে ভোট দিতে হয়।

    পুরো দেশের নির্বাচনী ফলাফল জানতেও আগে যেখানে তিন-চারদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে আজকাল মোটামুটি একবেলার মধ্যেই বেশিরভাগ ফলাফল জেনে যাওয়া যায়।

    কিন্তু ভোটগ্রহণের পদ্ধতিতে ভোটারের হাতে এই কালি দিয়ে দাগ টেনে দেয়ার রীতিটি বছরের পর বছর ধরে অবিকল একই রকম রয়ে গেছে!

    এ কালির বিশেষত্ব কী? আজও ভারতে লাখ লাখ ভোটার নিজের ভোট দেয়ার পর আঙুলের সেই দাগ দেখিয়ে গর্বভরে ছবি তোলেন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সেলফি আপলোড করেন। বস্তুত ওই কালির দাগ দিয়েই তারা প্রমাণ করতে চান, তারা ভারতে গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হয়েছেন।

    ভারতের নির্বাচনে যে বিশেষ কালিটি ব্যবহার করা হয়, তা আঙুলের উপরিভাগের ত্বকে কম করে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা এবং নখের কিউটিকলে কম করে দুই থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

    মজার ব্যাপার হলো, ভারতে অন্য সব ধরনের কালি বাজারে বা অনলাইনে কিনতে পাওয়া গেলেও এই ভোটের কালি মাথা কুটে মরলেও সাধারণ ক্রেতারা কেউই কিনতে পারেন না।

    সারাদেশে শুধু একটি সংস্থাই এই কালি বানায়, তাদের নাম ‘মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড’ বা এমপিভিএল।

    আর তাদের কাছ থেকে কালি কিনতে পারে কেবল একটিই প্রতিষ্ঠান, সেটি হলো দেশের নির্বাচন কমিশন।

    এই কালির যে গোপন ফর্মুলা, তা ভারতের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি (এনপিএল) উদ্ভাবন করেছিল আর এটি উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছিল এমপিভিএল।

    মহীশূরের রাজাদের প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানিটি স্বাধীনতার পর কর্নাটক সরকার অধিগ্রহণ করে এবং আজও এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি ভোটের কালি বানিয়েই কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে চলেছে।

    কালি বানানোর গোপন ফর্মুলা বছর পাঁচেক আগে এমপিভিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড: চন্দ্রশেখর ডোড্ডামনি ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, ওই কালি বানানোর গোপন ফর্মুলা এমন কী তারও জানা নেই!

    তিনি বলেন, ‘আসলে ওই ফর্মুলা আমারো জানার এক্তিয়ার নেই।’

    ‘নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানির শুধু দু’জন সিনিয়র কেমিস্ট এটা জানতে পারেন আর তারা কেউ অবসর নিলে তাদের বাছাই করা উত্তরসূরিকে এটা জানিয়ে যান’, বলেছিলেন তিনি।

    এমপিভিএল সংস্থা আরো জানিয়েছে, কোকা কোলা পানীয়র গোপন ফর্মুলার মতো তারা এটি লিখিত আকারে কোনো ভল্ট বা সেফে রাখে না। কিন্তু দু’জন সিনিয়র কেমিস্ট মুখে মুখে এটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রকাশ করে যান!

    তবে একটা জিনিস মোটামুটিভাবে জানা আছে, এই কালিতে থাকে সিলভার নাইট্রেট নামে একটি রাসায়নিক উপাদান, যা চামড়ার প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে এমন একটি অধ:ক্ষেপ ফেলে, যেটি আঙুলের ত্বকের সাথে পুরোপুরি সেঁটে বসে।

    আর যখনই কালি লাগানোর পর ভোটাররা বুথ থেকে বাইরে বেরোন, রোদের আলোতে আলট্রা ভায়োলেট রে তার ওপর পড়লেই বেগুনি কালির রঙ বদলে গিয়ে আরো গাঢ় কালচে-বাদামি চেহারা নেয়।

    কোনো সাবান বা ডিটারেজন্ট ঘষেই তোলা যায় না সেই ‘অমোচনীয়’ কালির দাগ।

    ভোটের কালি কিভাবে তোলা যায়, তা নিয়ে নানা ফিসফিসানির ‘টোটকা’ বাতাসে ভাসলেও আজ পর্যন্ত এর কোনো ‘আ্যান্টিডোট’ বা প্রতিষেধক বের করা যায়নি সেটাও কিন্তু ঠিক। আর এ কারণেই আজ ৬২ বছর ধরে ভারতের নির্বাচনে বহাল তবিয়তে টিঁকে রয়েছে এই কালি।

    কালি রফতানি বিদেশের ভোটেও

    শুধু ভারতেই নয়, থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়া কিংবা আফগানিস্তান থেকে নাইজেরিয়া, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে এই কালি সে সব দেশের নির্বাচনের জন্য রফতানিও করেছে এমপিভিএল ।
    পেরুর সশস্ত্র গেরিলা সংগঠন ‘শাইনিং পাথ’ তো একবার হুমকিও দিয়েছিল, সে দেশে তাদের ভোট বয়কটের ডাক উপেক্ষা করে কেউ যদি ভোট দেন এবং তাদের আঙুলে ওই কালির ছাপ দেখা যায় তাহলে তাদের প্রাণেই মেরে ফেলা হবে!

    ২০০৪ সালে আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অভিযোগ উঠেছিল ভারতের পাঠানো ওই কালি না কি আঙুল থেকে খুব সহজেই মুছে ফেলা যাচ্ছে আর সেই সুযোগে ভোটে অবাধে কারচুপি চলছে।

    আসলে ওই কালি লাগানোর জন্য আফগানিস্তানে তখন যে মার্কার পেন ব্যবহার করা হয়েছিল তাতেই ত্রুটি ছিল বলে পরে জানা যায়।

    ২০১০ সালে সেই আফগানিস্তানেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় ভোট বয়কটের ডাক দেয়া তালেবান বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কারো আঙুলে ওই কালির দাগ দেখা গেলে সেই আঙুলই কেটে ফেলা হবে।

    ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে এই কালি ব্যবহারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেলেও ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে কর্তৃপক্ষ কালি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। কারণ তারা শেষ মুহূর্তে আবিষ্কার করেছিল, কারো আঙুলে কালির দাগ থাকার পরেও তাকে যদি ভোট দিতে না দেয়া হয় তাহলে সেটা সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী ‘অসাংবিধানিক’ হবে।

    ওই একই বছরে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় আবার দেখা গিয়েছিল, সরকার-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী যাদেরই আঙুলে কালির দাগ দেখা যাচ্ছে না, তাদেরই ধরে ধরে পেটাচ্ছে।

    ফলে এই কালির ব্যবহার নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা রকম বিতর্কও কিন্তু কম হয়নি! সূত্র : বিবিসি

  • বারবার কেন সিন্ডিকেটের ফাঁদে ডিম-পেঁয়াজ

    বারবার কেন সিন্ডিকেটের ফাঁদে ডিম-পেঁয়াজ

    মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে দেড়শ’ ছাড়িয়েছে ডিমের ডজন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সরবরাহ সংকটে ডিমের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হিমাগারে ডিম অবৈধভাবে মজুদ করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানির সুযোগ সত্ত্বেও লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহের মধ্যে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির ঝুঁকি নিতে চায় না ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ডলারের বাড়তি দাম আমদানিকে অনুৎসাহী করছে।

    এদিকে গত সপ্তাহজুড়েই রাজধানীর বাজারে ঊর্ধŸমুখী ডিমের দাম। সর্বশেষ রোববার প্রতি ডজন বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা দরে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে প্রতি ১শ’ পিস ডিমে ২শ’ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকার ওপর, যা বাজারভেদে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১২.৫০ টাকা থেকে ১৩ টাকা দরে। অথচ চলতি মাসের শুরুতে খুচরা বাজারে প্রতিপিস ডিম বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা এবং গত সোমবার বিক্রি হয়েছে ১০.৫০ টাকা রেটে।

    খামারিরা জানান, গরমের প্রভাবে কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হলেও প্রান্তিক খামারিদের লোকসান বেড়েছে, মূলত ডিম নষ্ট হওয়ার কারণে গত মাসজুড়েই খামারিরা কম দামেই কোল্ডস্টোরেজ মালিকদের কাছে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বাজারে ডিমের সরবরাহ এবং দাম এখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। এতেই বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ খামারিদের।

    এদিকে খামারিরা প্রতি পিস ডিম ৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করলেও বাজারে ভোক্তার ব্যয় ১৩ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদা অনুযায়ী ডিমের সরবরাহ বাড়িয়ে-কমিয়ে সিন্ডিকেট চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিমাগারে অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি ভোক্তা অধিকার প্রায় অর্ধকোটি ডিমের অবৈধ মজুতের সন্ধান পেয়েছে। যার মধ্যে একটি হিমাগারে পাওয়া গেছে প্রায় ২৮ লাখ ডিম। এভাবে দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য হিমাগারে ডিমের মজুদ বাড়িয়ে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে অসাধু চক্র এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজার দর নির্ধারণ করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

    জানা গেছে, রাজধানীর বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় তেজগাঁওয়ের আড়তদারদেরে মাধ্যমে। মজুদদারদের সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করে বিভিন্ন বাজারে এসএমএস করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে কর্পোরেট খামারিরাও। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ কমিয়ে বাজার পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন। যদি তারা সরবরাহ বাড়াতেন তাহলে হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারতেন না। কিন্তু তারা না করে তারাও সুযোগ বুঝে বাজারে ডিম সরবরাহ করছে।

    এদিকে গত এক মাস ধরে তীব্র দাবদাহে পোল্ট্রি পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে প্রান্তিক খামারিরা। গরমে মুরগির মৃত্যু ও অসুস্থতার হার বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ ছাড়া ডিম নষ্ট হওয়ার ভয়ে দ্রুত বাজারে ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে ডিমের দাম কমে ডজন ১১৫ টাকায় নেমে আসে। চাহিদার তুলনায় বাজারে বেশি দাম থাকায় হিমাগার মালিকরা এই ডিম সংগ্রহ করলে বাজারে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়।

    বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার যায়যায়দিনকে বলেন, দিনে প্রায় ৪ কোটি ডিমের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন সাড়ে ৪ কোটি। তাই উৎপাদনে দেশে কোনো সংকট নেই। মূলত রাজধানীর একটি বাজার থেকেই সারাদেশের পাইকারি ও খামারিদের ডিমের বিক্রয় মূল্য নির্ধারিত হয়। যখন দাম বেশি থাকে তখন মজুদকারীরা ডিমের সংগ্রহ কমিয়ে দেন এবং নিজের মজুদ ডিম বাজারে ছাড়েন। একইভাবে সরবরাহ বাড়িয়ে ডিমের দাম কমিয়ে দিয়ে কম দামে খামারিদের কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করেন। এভাবে এই চক্র সারাবছর বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

    সুমন হাওলাদারের দাবি, সরকার যেন খামারিদের কাছ থেকে ডিমের ক্রয়ে মূল্য উৎপাদন খরচের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করে দেন। তাহলে এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে কিছুটা হলেও কমবে। দেখা গেছে, উৎপাদন খরচ প্রায় ১০ টাকা হলে এপ্রিলজুড়ে ৭ টাকা দরে খামারিরা ডিম বিক্রি করেছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিদপ্তরের যে পার্ট, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। হঠাৎ দাম কমিয়ে ডিম মজুত করায় নরসিংদীর এক হিমাগার থেকে ২০ লাখ পিস ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের এগারোসিন্ধুর হিমাগার থেকেও ২৮ লাখ ডিম উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া বাজারে ভুট্টার দাম কমেছে। তারপরও কেন পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়তি তা দেখা হচ্ছে’।

    এদিকে দেশের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না পেঁয়াজের দামে। প্রতিদিনই বেড়েছে চলছে অতি প্রয়োজনীয় এই মসলা পণ্যের দাম। সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ঘোষণা দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং গত দু-সপ্তাহে প্রায় ২৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

    রোববার রাজধানীর বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়ে ৭৫ টাকা দরে। অথচ দেশে এখন হালি পেঁয়াজের সরবরাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি অনুমতি পাওয়া গেলেও কি পরিমাণ পেঁয়াজ আনা হবে তা এখন অনিশ্চিত। দেখা গেছে, এখন দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো রয়েছে। তাই বর্তমান দামে পেঁয়াজ আমদানি করে সে অনুযায়ী বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ সরবরাহ আরও বাড়ালে দাম কমে যেতে পারে। তখন বেশি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রি করতে হতে পারে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে হারে ডলারের দাম বাড়ছে তাতে আগামীতে পেঁয়াজসহ যে কোনো আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের বাজারে সংকট আরও বাড়বে। এখন লোকসানের ভয়ে যদি পেঁয়াজ আমদানি না করা হয় তাহলে বিদ্যমান দাম আরও বাড়তে থাককে। হয়তো দাম ১শ’ ছাড়িয়ে গেলে তখন ব্যবসায়ীরা আমদানিতে উৎসাহী হতে পারেন।

     

  • জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী

    জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থী। আজ রোববার শিক্ষা বোর্ড সূত্র এ তথ্য জানায়।

    এর আগের বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন পরীক্ষার্থী। এবার গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৪৪৯ জন কম জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ।

    যশোর বোর্ডে সর্বোচ্চ পাসের হার ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    এছাড়া ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, কুমিল্লায় ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, বরিশালে ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ৮৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

    চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১২ মার্চ। এ বছর মোট ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সারা দেশের ৩ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।