Category: এক্সক্লুসিভ

  • জাহাজ থাকা জিম্মির লোমহর্ষক বর্ণনা

    জাহাজ থাকা জিম্মির লোমহর্ষক বর্ণনা

    ভারত মহাসাগরে প্রায় ১০০ জলদস্যু বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি আবদুল্লাহ’ জিম্মি করে সোমালিয়া উপকূলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিকের সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে। ভয় দেখাতে ছুড়ছে একের পর এক গুলি। এরই মধ্যে জাহাজের চিফ অফিসার মো. আবদুল্লাহ গোপনে মালিকের কাছে একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছে। ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের সেই অডিও বার্তায় জিম্মিদশার পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন। দেশে পরিবারকে দেখেশুনে রাখার আকুতি জানিয়েছেন।

    মো. আবদুল্লাহ তার অডিও বার্তায় জানান,

    সোমালিয়ান জলদস্যুরা জাহাজে ওঠার পর কার সঙ্গে কী আচরণ করেছে সেই বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। অডিও বার্তার শুরুতেই সালাম দিয়ে তার নাম বলেন। জানান, সাড়ে ১০টার সময় একটা হাইস্পিড বোট জাহাজের দিকে আসতে দেখে এলার্ম বাজানো হয়। সহায়তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেনি। এর মধ্যে জলদস্যু চলে আসে।

    জাহাজে উঠেই দস্যুরা ক্যাপ্টেন ও সেকেন্ড অফিসারকে জিম্মি করে। এরপর সবাইকে একসঙ্গে করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেকেন্ড অফিসারকে হালকা মারধর করেছে তবে আর কারও গায়ে হাত তোলেনি তারা।

    এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিশিং বোট নিয়ে আরও জলদস্যু আসতে থাকে। সবার হাতেই প্রায় অস্ত্র ছিল। নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এ সময় তাদের বোটের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি জাহাজের পাম্প দিয়ে তেল নিয়ে নেয়। এরপর জাহাজের ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেয় তারা।

    অডিও বার্তায় জানানো হয়, এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কারও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জাহাজেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সবাই ভয়ে আছে। জাহাজে থাকা সবার জন্য দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে পরিবারকে দেখে রাখার আকুতি জানান ওই কর্মকর্তা। তাদের সান্ত্বনা জানানোর কথাও বলেন।

    তবে শোনা যাচ্ছে, জিম্মি দশায় থাকা নাবিকদের কাছে বিপুল অর্থ দাবি করা হচ্ছে। দ্রুত টাকা না দিলে মেরে ফেলার কথাও বলছে তারা।

    আরেকটি কোম্পানির জাহাজে কর্মরত চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকার আরমান হোসেন বাবু নামের একজনের কাছে অডিওবার্তায় এক নাবিক (নাম জানা সম্ভব হয়নি) বলেছেন, ‘আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ডাকাতরা (জলদস্যু)। আমি ওয়াশরুম থেকে ভয়েস দিচ্ছি। ওরা সাত-আটজন আছে। আমাদের ওদের ডেরায় নিয়ে যাবে। ওদের সবার কাছে গান (অস্ত্র) আছে।’

    অডিওবার্তায় আরও বলা হয়, ‘আমরা মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে দুবাইয়ের পথে যাচ্ছিলাম। ওরা (জলদস্যু) দুই মাস আগে ইরানি একটি ফিশিং বোট আটক করেছিল। ওটা আমাদের জাহাজের সঙ্গে বর্তমানে বাঁধা আছে। ওটা থেকেই মূলত জলদস্যুরা আমাদের আক্রমণ করে। ওই ফিশিং বোটটা ওরা হয়তো ছেড়ে দেবে। ওই বোটের জন্য আমরা ডিজেল দিলাম। আমাদের নিয়ে ওরা হয়তো ওদের আস্তানায় চলে যাবে।’

     

  • সন্ধান পাওয়া গেলো হেঁটে বেড়ানো নতুন মাছ

    সন্ধান পাওয়া গেলো হেঁটে বেড়ানো নতুন মাছ

    মাছও হাঁটে! শুনতে অবাক লাগলেও গভীর সাগরে এই নতুন এক প্রজাতির মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু মাছই নয়, অনুসন্ধানে এমন শতাধিক অদ্ভুত জীবের সন্ধান মিলেছে, যেগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আগে জানতেন না।

    মাছটির গায়ের রং টকটকে লাল। আকারেও খুব বড় নয়। মাথা থেকে পেট পর্যন্ত গোলাকার বস্তুর মতো ফাঁপা। দেহের এই অংশটি অনেকটাই হাতে বোনা চাদরের মতো ও সুইয়ের মতো অসংখ্য কাঁটাযুক্ত।

    বিজ্ঞানীদের সাগরতলের এই অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয় এ বছরের শুরুতে।

  • ইতিহাসে মাত্র একবারই এসেছিল ‘৩০ ফেব্রুয়ারি’

    ইতিহাসে মাত্র একবারই এসেছিল ‘৩০ ফেব্রুয়ারি’

    বহু বছর ধরে প্রতি চার বছর পর পর লিপ ইয়ারের মাধ্যমে বছর গণনাকে সমন্বয় করায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।সাধারণত এক বছর বলতে ৩৬৫ দিনের হিসাব করা হলেও এবারে ২০২৪ সালে বছরের গণনা করা হবে ৩৬৬ দিনে। কারণ চলতি বছর হলো লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ।

    লিপ ইয়ার হলো প্রতি চার বছর পর পর ৩৬৫ দিনের ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারির শেষে বাড়তি একটি দিন যোগ হওয়া। তাই ২৯ ফেব্রুয়ারি অবশ্যই বিশেষ একটি দিন।

    যারা এই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন তারা প্রতি চার বছরে পর পর তাদের প্রকৃত জন্মদিন পালন করতে পারেন।

    কিন্তু ইতিহাসে শুধুমাত্র একবার এমন সময় এসেছিল, যখন ক্যালেন্ডারে ৩০ ফেব্রুয়ারি যোগ করতে হয়েছিল।

    সুইডেন একটি ডাবল লিপ ইয়ারের অংশ হিসেবে ১৭১২ সালের ক্যালেন্ডারে ৩০ ফেব্রুয়ারি যুক্ত করেছিল।

    এই ৩০ ফেব্রুয়ারি কেন যুক্ত করতে হয়েছিল সেই ব্যাখ্যার আগে লিপ ইয়ার কেন আসে, কবে থেকে লিপ ইয়ার যুক্ত হয়েছে সেই ইতিহাস জানা প্রয়োজন।

    প্রতি চার বছর পর পর ক্যালেন্ডারে যে অসঙ্গতি থাকে, সেটিকে সমন্বয় করতে লিপ ইয়ারের আবির্ভাব।

    কখন থেকে এই লিপ ইয়ারের প্রচলন হয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য দুই সহস্রাব্দেরও বেশি আগে প্রাচীন রোমের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।

    কারণ সেই সময় প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল, তারা যে সৌর ক্যালেন্ডার ধরে বছর গণনা করছেন সেটি সৌর বছরের সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

    এই ক্যালেন্ডারের প্রাথমিক ধারণা এসেছিল রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের কাছ থেকে।

    তিনি সেসময় আলেকজান্দ্রিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে রোমান ক্যালেন্ডারের একটি বিকল্প তৈরি করতে সাহায্য করতে বলেছিলেন।

    যে ক্যালেন্ডার হবে সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর পরিভ্রমণের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    কারো কারো মতে, পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে কাঁটায় কাঁটায় ৩৬৫ দিন সময় নেয় না। এতে ৩৬৫ দিনের সাথে পাঁচ ঘণ্টা, ৪৮ মিনিট এবং ৫৬ সেকেন্ড বেশি সময় লাগে।

    এই বাড়তি সময়কে সমন্বয় করতে সোসিজেনেস একটি ক্যালেন্ডার তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন, যা মিসরীয়দের ক্যালেন্ডারের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়।

    সৌর বছরের সাথে সন্নিবেশ করতে প্রতি চার বছরে ৩৬৫ দিনের সাথে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।

    এভাবে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের জন্ম হয়, এর প্রবর্তক জুলিয়াস সিজারের সম্মানে এই নামকরণ করা হয়েছিল।

    কিন্তু এই জুলিয়ান ক্যালেন্ডারও বেশিদিন টেকেনি। ওই ক্যালেন্ডারে কিছু ফাঁক থাকার কারণে ১৫৮২ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের জায়গা প্রতিস্থাপন করে নেয় আজকের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।

    জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হতো মার্চ থেকে।

    যেহেতু প্রতি চার বছরে একটি অতিরিক্ত দিনের প্রয়োজন ছিল, তাই রোমানরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে এটি ফেব্রুয়ারিতে হবে, যা তখন বছরের শেষ মাস ছিল।

    লিপ নামটি ল্যাটিন বাক্য থেকে এসেছে। যার অর্থ মার্চ মাস শুরুর ছয় দিন আগে, অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেসময় ওই দিনটি লিপ ইয়ার হিসেবে পালন করা হত।

    বাক্যটি কিছুটা দীর্ঘ হওয়ায় একে সংক্ষেপে ‘বিস সেক্সটাস’ বলা হয়ে থাকে যার অর্থ লিপ ইয়ার বা বাংলায় অধিবর্ষ।

    কয়েক বছর পরে, ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরি এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্যালেন্ডারটিকে ‘নিখুঁত’ করার সিদ্ধান্ত নেন।

    তার আনা পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটি হবে ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডার দ্বারা নির্ধারিত ২৪ তারিখ নয়।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার ক্ল্যাভিয়াসের পরামর্শে, তখনকার জ্ঞানী ব্যক্তিরা বছরের হিসেবে এই সমন্বয় আনার জন্য সিদ্ধান্ত নেন যে, ১৫৮২ সালে ৪ অক্টোবরের পরের দিনটি হবে ১৫ অক্টোবর। অর্থাৎ মাঝে ১০ দিন গায়েব হয়ে যাবে।

    মূলত এই উপায়ে সৌর বছরের মাঝে সময়ের যে ব্যবধান হয়েছিল সেটা দূর করা হয় এবং পরে যেন এই ভারসাম্যহীনতা আবার না ঘটে, সেজন্য তখন লিপ ইয়ারের প্রবর্তন করা হয়।

    সময়কে মূলত গণনা করা হয়, দিন, মাস এবং বছরের হিসেবে। এই গণনা প্রক্রিয়া মানুষেরই আবিষ্কার।

    চন্দ্র আবর্তন অনুসরণ করে দেখা গেছে, দু’টি পূর্ণিমার মধ্যে কমবেশি সাড়ে ২৯ দিনের পার্থক্য থাকে।

    অন্যদিকে, সৌর পরিভ্রমণ অনুযায়ী, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরতে সময় নেয় কমবেশি ৩৬৫ দিন ছয় ঘণ্টার মতো।

    তবে এটি এমন এক গণনা পদ্ধতি যা হেরফের হতে পারে।

    ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন শাসক এক বছরকে কয়েক মাসে ভাগ করেছেন। অর্থাৎ সব সময়ে ১২ মাসে এক বছর ছিল না, মাসের সংখ্যায় হেরফের ছিল।

    ওই শাসকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা-প্রয়োজন বা তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুসারে সেই মাসগুলোয় বাড়তি দিন যোগ করা হতো নাহলে সরিয়ে নেয়া হতো।

    ফলে সৌর বছরের সাথে এই ক্যালেন্ডারগুলোকে সমন্বয় করা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে, যা উপেক্ষা করার উপায় ছিল না।

    সম্রাট জুলিয়াস সিজার, প্রায় দুই হাজার বছর আগে, আমরা বর্তমানে যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি তার অনুরূপ একটি ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেছিলেন।

    সেই তথাকথিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১২ মাসে এক বছর ছিল। এবং মাসগুলোর কিছু ৩০ দিন এবং কিছু ৩১ দিনে গণনা করা হতো।

    শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতো ২৮ বা ২৯ দিনে।

    বছর শুরু হতো মার্চ মাস থেকে। কারণ এটি বসন্তের শুরু। এজন্য বছরের শেষ মাস ফেব্রুয়ারিকে লিপ ইয়ারের জন্য বেছে নেয়া হয়।

    এক বছর যেহেতু ৩৬৫ দিন ছয় ঘণ্টায় হয়, তাই বাড়তি এই ছয় ঘণ্টাকে সমন্বয় করার জন্য সেই রোমান সময় থেকে লিপ ইয়ার চিহ্নিত করা হয়েছে।

    এই গণনা শতাব্দী ধরে চলে আসছে, কিন্তু এই গণনা পদ্ধতি সঠিক নয়। সৌর বছর আসলে একটু ছোট- সুনির্দিষ্টভাবে বললে ১১ মিনিট ১৪ দশমিক ৭৮৪ সেকেন্ড কম।

    আদতে মনে হতে পারে, এটি এমন কোন বড় পার্থক্য নয়, যা তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তবে বছরের পর বছর ধরে, এই বাড়তি মিনিট/ সেকেন্ড যোগ হয়ে সেটি বড় ব্যবধান তৈরি করে।

    এ কারণেই ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরি ১৫৮২ সালে তার ক্যালেন্ডারে থাকা অসঙ্গতিগুলো ঠিক করার জন্য কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন।

    এটি প্রধানত ধর্মীয় কারণে করা হয়েছিল, কেননা এই সময়ের ব্যবধানের কারণে কয়েক শ’ বছরে ইস্টারের সূচনা তিন দিন আগপিছ হয়ে যায়।

    তবে যাই হোক না কেন, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানসম্মত প্রতিষ্ঠিত ক্যালেন্ডার।

    যদিও সব দেশ একই সময়ে তা গ্রহণ করেনি।

    যারা ক্যাথলিক চার্চের সাথে যুক্ত ছিল, প্রথমে তারা এই ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে। পরবর্তী চার দশকে লিপ ইয়ার নির্মূল করার পরিবর্তে, তারা অক্টোবর মাস থেকে এক লাফে ১০ দিন কমিয়ে দেয়।

    ১৫৮২ সালে ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের পরের দিন ১৪ অক্টোবর শুক্রবার করা হয়।

    অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট জাতি এবং সাম্রাজ্যগুলো শুরুতে এই ক্যালেন্ডার গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিল। কিন্তু অবশেষে তারাও এই পরিবর্তিত ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।

    যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর আমেরিকান উপনিবেশগুলো এই পরিবর্তন সাদরে গ্রহণ করে। তবে নতুন ক্যালেন্ডারে সমন্বয় করতে গিয়ে ১৭৫২ সালে তাদেরও ১২ দিন কমাতে হয়েছিল।

    তারা ২ সেপ্টেম্বর থেকে এক লাফে ১৪ সেপ্টেম্বরে পদার্পণ করে।

    কিন্তু তার আগে, সুইডেন যখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা হঠাৎ করে ওই দিনগুলোকে একসঙ্গে বাদ দিতে চায়নি।

    তারা ধীরে ধীরে এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াকে উপযুক্ত বলে মনে করেছিল।

    এজন্য তারা টানা ৪০ বছরের জন্য ফেব্রুয়ারির লিপ দিনগুলো এড়িয়ে যায়, যতক্ষণ না সেগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে।

    তাদের এতদিনের অনুসরণ করা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৭০০ সালে একটি লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু তারা ফেব্রুয়ারি মাস শুধুমাত্র ২৮ দিনেই কাটায়।

    একইভাবে ১৭০৪, ১৭০৮ সাল লিপ ইয়ার হলেও তারা ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন।

    কিন্তু ওই সময়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজের মধ্যে এই লিপ ইয়ার না কাটানোর পরিবর্তনের কথা তারা ভুলে যায়।

    কয়েক বছর পরে, সম্রাট দ্বাদশ চার্লস বুঝতে পেরেছিলেন যে সুইডেনের ক্যালেন্ডারটি জুলিয়ান বা গ্রেগরিয়ান কোনটিই নয়।

    এরপর তিনি ক্যালেন্ডার প্রণয়নে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং আগের সব পরিবর্তন বাতিল করেন।

    যেহেতু তারা ইতোমধ্যেই ১৭০০ সালের অধিবর্ষ বাদ দিয়েছিল, তাই তিনি আদেশ দেন যেন ১৭১২ অর্থাৎ আরেকটি লিপ ইয়ারে ২৯ ফেব্রুয়ারির পাশাপাশি আরেকটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।

    এভাবে জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে ইতিহাসে প্রথম এবং একটিবারের জন্য ৩০ ফেব্রুয়ারি তারিখটি তৈরি করা হয়েছিল।

    ওই ৩০ ফেব্রুয়ারি যারা জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাদের জন্ম তারিখ বা জন্মদিন পালনের বিষয়ে কী হয়েছিল তা জানা যায়নি।

    তবে তারা যেকোনো দিনই সত্যিকারের জন্মদিন উদযাপন করতে পারেনি তাতনো সন্দেহ নেই।

    শেষ পর্যন্ত, সুইডেন উত্তর ইউরোপে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ অনুসরণ করে।

    দেশটি ১৭৫৩ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে এবং একই পদ্ধতিতে বছরে ১০ দিন এক সাথে ক্যালেন্ডার থেকে বাদ দিয়ে দেয়।

    তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে একটি বিপ্লবী ক্যালেন্ডার চালু করেছিল।

    যেখানে পাঁচ দিনে এক সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং সব মাস ধরা হয় ৩০ দিনে। এতে বছরের শেষে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন বাড়তি থেকে যায়, যা ‘ছুটি’ হিসাবে বিবেচিত হয়।

    সাত দিনের সপ্তাহ বাতিল করার উদ্দেশ্য ছিল সপ্তাহে ছুটির দিনের বাধা ছাড়াই শিল্প উৎপাদন উন্নত করা।

    কিন্তু শিগগিরই এটি উপলব্ধি করা হয় যে রোববারের প্রথাগত বিশ্রামের অভ্যাস দূর করা কঠিন হবে এবং ধারণাটি এক পর্যায়ে বাতিল হয়ে যায়।

    এদিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে ৩০ ফেব্রুয়ারি তারিখটি ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে।

    রে ব্র্যাডবিউরির ছোট গল্প ‘দ্য লাস্ট নাইট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ ৩০ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    ব্রিটিশ লেখক জন রোনাল্ড রিয়েল টলকিয়েন তার ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘দ্য হবিট এবং দ্য লর্ড অফ দ্য রিংসে’ ৩০ ফেব্রুয়ারির কথা উল্লেখ করেছেন।

    তার বই অনুযায়ী হবিটরা একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করে যেখানে ফেব্রুয়ারি মাস ছিল ৩০ দিনে। তবে বাস্তব জগতেও এই তারিখের ব্যবহার হতে দেখা গিয়েছে।

    যখন কোনো মানুষের মৃত্যুর তারিখ অজানা থাকে তখন তাদের সমাধি প্রস্তর বা এপিটাফে জন্ম তারিখ হিসেবে ৩০ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে রেকর্ড করা হয়।

    সংস্কারের এ ধারা আধুনিক ক্যালেন্ডারের পথ তৈরি করে দিয়েছে, যা আমরা বর্তমানে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসাবে জানি।

    সর্বশেষ সংস্কারের পর থেকে ক্যালেন্ডার ব্যবস্থায় কোনো নতুন পরিবর্তন হয়নি।

    যদিও ফ্রান্সের মতো কিছু দেশে নতুন এই ক্যালেন্ডার সংশোধনের জন্য আন্দোলন হয়েছিল।

    তবে ১৭৯২ সালে ফরাসি বিপ্লব চলাকালে দেশটি তাদের গণিতবিদ গিলবার্ট রোমের ডিজাইন করা একটি ‘প্রজাতন্ত্রী’ ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।

    এই ক্যালেন্ডারে ধর্মীয় রেফারেন্স বাদ দেয়া হয় এবং মাসগুলোর নতুন নাম দেয়ার চেষ্টা করা হয় – নতুন নামে প্রাকৃতিক ঘটনা এবং কৃষি খাতের নানা বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল।

    কিন্তু ক্যালেন্ডারের নতুন এ সংস্করণের স্থায়িত্ব ছিল খুব সংক্ষিপ্ত।

    এরপর ১৮১৪ সালে নেপোলিয়নের উৎখাতের পর, ফ্রান্স দ্রুতই ত্রয়োদশ গ্রেগরির তৈরি এবং জুলিয়াস সিজারের সংস্করণের ক্যালেন্ডারে ফিরে আসে।

    সূত্র : বিবিসি

  • জিম্মি হওয়া সেই জাহাজের নাবিক জাহাজ থেকে মাকে যা বললেন

    জিম্মি হওয়া সেই জাহাজের নাবিক জাহাজ থেকে মাকে যা বললেন

    ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এবং ২৩ নাবিক ও ক্রুদের মধ্যে রয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জয় মাহমুদ।

    মঙ্গলবার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর জয় মাহমুদ তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ ঘটনা শোনার পর থেকেই উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তার পরিবার ও স্বজনরা।

    জিম্মি জয় মাহমুদ জেলার বাগাতিপাড়ার সালাইনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে। তিনি ওই জাহাজের সাধারণ নাবিক (ওএস) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

    জানা গেছে, বাংলাদেশের এমভি আবদুল্লাহ নামে একটি পণ্যবাহী জাহাজ কয়লা নিয়ে ভারত মহাসাগর হয়ে মোজাম্বিকের মাফতো বন্দর থেকে আরব আমিরাতের (শারজাহ হামারিয়া) বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। পরে মঙ্গলবার দুপুরে জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। সেখানে হামলা চালিয়ে দখলে নিয়ে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এবং ২৩ নাবিক ও ক্রুদের জিম্মি করে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। তাদের অনেকের হাতে অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে।

    জয়ের চাচাতো ভাই মো. মারুফ আলী বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ভাই ফোন দিয়ে বলে ‘তাদের জাহাজ জলদস্যুরা আক্রমণ করেছে। আমার সঙ্গে আর কথা নাও হতে পারে। বাড়িতে কাউকে কিছু বলিস না’। ফোন নিয়ে নিতে পারে বলে ফোন কেটে দেয়।

    পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মেসেজ করে বলে ‘ফোন জমা নিল। দোয়া করো। আব্বু আম্মুকে সান্ত্বনা দিও। আর কথা হবে না।’ এরপর থেকে ফোনে তাকে আর পাচ্ছি না।

    জয়ের মা রোজিনা বেগম বলেন, ছেলে জয় তাকে ফোনে শুধু বলেছে ‘মা আমার ফোনে এমবি থাকবে না, কথা নাও হতে পারে। আমার সঙ্গে হয়তো এক-দুই মাস কথা নাও হতে পারে। ঈদে শপিংসহ যা কেনা লাগে তোমরা কিনে নিও।’

    বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, আমার ছেলেসহ জিম্মি সব নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • পর্দা উঠছে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার

    পর্দা উঠছে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার

    মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৪’ প্রতিযোগিতার ৭১তম আসরের পর্দা উঠছে আজ শনিবার। চলতি বছরের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে ভারতে। দীর্ঘ ২৮ বছর বিরতির পর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা।

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, জাপান এশিয়ার এই চারটি দেশের চারজন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন শাম্মী ইসলাম নীলা। খুব ছোট বেলা থেকেই মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের নীলা।

    এ প্রসঙ্গে নীলা বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন জন্মদিনে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার মুকুট কিনতাম। তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতাম এই দেখ আমি মিস ওয়ার্ল্ড। তারপর নিজে নিজেই সেখানে নাচতাম। সেটা বাবাকে দেখাতাম। এখন আমার সেই জার্নি যেন বাস্তবের কাছাকাছি। কিন্তু আমার বাবা আর বেঁচে নেই। তবে আমি নিশ্চিত আমার ওপর বাবার আশীর্বাদ আছে।

    এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন সিনি শেঠি। তিনি বলেন, প্রিয়াংকা চোপড়া ও ঐশ্বরিয়া রাইকে দেখেছি। তাদের মতো করে নিজে নিজে বাড়িতে র‌্যাম্পে হেঁটেছি। স্বপ্ন দেখি মিস ওয়ার্ল্ড মুকুট পড়ার।

    নেপাল থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রিয়াংকা রানি যোশি। তিনি বলেন, সবকিছুই কল্পনা থেকে শুরু হয়। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতাও তেমনই একটি মঞ্চ। এখানে আসতে পেরেছি। পুরো জার্নিটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। আরও মজাদার আরও সহজ লাগছে। অন্য সবার মতো আমিও চাই সেরার মুকুট জিততে।

  • সিলেটে চা বাগান গুলোতে বৃষ্টি ছোঁয়া পেতেই ফিরে পাচ্ছে সবুজ প্রকৃতি সুন্দর্য

    সিলেটে চা বাগান গুলোতে বৃষ্টি ছোঁয়া পেতেই ফিরে পাচ্ছে সবুজ প্রকৃতি সুন্দর্য

    আবুল কাশেম রুমন,সিলেট: দীর্ঘ কয়েক মাস শীতের আবহাওয়া ও শুকন আদ্রতায় সিলেটের চা বাগানগুলোতে দেখা দিয়ে ছিলো পাতা শুন ও হলদে বাগান। কিন্তু বসন্তের আগমনে চা বাগান গুলোতে বৃষ্টি ছোঁয়া পেতেই ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি সবুজ সুন্দর্য। সিলেট মানেই চা বাগান, সবুজের সমারোহ। এই সবুজের টানে পর্যটকরা ছুঁটে আসেন সারাদেশ থেকে। শীতের শেষে এসেছে বসন্ত। পাতাঝরা মৌসুম শেষে প্রকৃতিতে এসেছে প্রাণের সঞ্চার। চা বাগনে এসেছে নতুন কুঁড়ি। সুবজে ছেয়ে গেছে সব দিক। এই সৌন্দর্য্যরে টানে কয়েক দিন থেকে ছুঁটে আসছেন পর্যটকরা। যারা আসছেন তারা সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে সবশেষে প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন চা বাগানে।

    সিলেট শহরের থেকে লাক্কাতুরা ও মালিনীছড়া চা বাগানের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। শহরের উত্তর প্রান্তে এ দুটি বাগানের অবস্থান। এ বাগান দুটি ও তার চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শকদের মনে নতুন প্রাণের স্পন্দন জোগায়। যা দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন এসব চা বাগানে। সপ্তাহের শেষে বৃহস্পতিবার এই দুটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায় ইতিমধ্যে নতুন পাতার কুঁড়ি দিতে শুরু করেছে।

    বিকেলের দিকে দেখা যায়, এই সবুজ গালিচার ছবি ফ্রেম বন্দি হতে ব্যস্ত চা বাগানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। চা বাগানের ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় নতুন গজানো চা গাছের এই সৌন্দর্যের লীলা ভূমি দেখতে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু বান্ধব নিয়ে বাগানে ঘুরতে এসেছেন। আর কেউ বা চা বাগানের মধ্যে বসে ছোট ছোট টং দোকানে বসে চা পান করছেন আর বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

    উঁচু নিচু টিলা সমতল যে দিকেই তাকানো যায়, শুধু সবুজ আর সবুজ দেখতে যেন শিল্পীর আল্পনায় আঁকা ছবির মতো। সিলেটের এই চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুঁটে আসেন পর্যটকরা। শুধু বাংলাদেশ নয় বাংলাদেশের বাইরে থেকে ছুঁটে আসেন পর্যটকরা এসব চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। যে দিকেই তাকানো যায় শুধু সবুজ আর সবুজ আর কচি পাতার হলুদ বরণ আবরণের স্নিগ্ধতা।

    এছাড়াও সিলেট বিভাগের মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সদর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক চা বাগান। কয়েক লাখ একর জায়গার এ চা-বাগান গুলোতে দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ চা উৎপন্ন হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে চা বিদেশে রপ্তানি হয়, আয় হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। এ চা-পাতা উৎপাদিত হয় দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি থেকে। সাধারণত নিচু জায়গা হতে তুলনামূলক উঁচু সমতল ভূমি এবং ছোট আঁকারের টিলা ও তার পাদদেশে চা গাছ জন্মায় বেশি। চা গাছের চারা রোপণ করার প্রায় পাঁচ বছর পর থেকে উৎপাদন শুরু হয়।

    দর্শনার্থীরা জানান, অনেক সময় এসব চা বাগানের ভিতরে নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তারা উধ্বর্তন প্রশাসনের প্রতি পর্যটকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প করার দাবি জানান।

    টং দোকানির সাথে কথা বলে জানা যায়, চা বাগানে সারা বছর পর্যটক আসেন তবে সব থেকে বেশি সময় পর্যটক আসেন যখন নতুন চা পাতা গজায় তখন। আর এমনিতে আমাদের শহরের আশপাশের মানুষ প্রতি সপ্তাহেই আসেন। আর পর্যটক আসলে আমাদের বেচাকেনা ভালো হয়।

     

  • জিরাতে রয়েছে আশ্চর্য উপকারিতা

    জিরাতে রয়েছে আশ্চর্য উপকারিতা

    মানব শরীরে এক-এক সময় দেখা দিতে পারে অনেক সমস্যা। এসব থেকে বাঁচতে আমাদের সবসময় সজাগ থাকা জরুরি। যেমন তেল, মসলাযুক্ত খাবার কিংবা তেলে ভাজা খাবার খেলে বেশ অস্বস্তিবোধ হয়। গ্যাসের মতো সমস্যাও দেখা যায়। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য কাজে লাগাতে পারেন হাতের কাছে থাকা ছোট একটি উপাদানকে। পরিপাক স্বাস্থ্যে সহায়তা করে এমন উপাদানে ভরপুর মসলা হচ্ছে জিরা। পেট সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে এটি বেশ কার্যকর- বলছে গবেষণা। পেট পরিষ্কার রাখতে জিরা খাওয়ার তিনটি পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন।

    জিরা ভেজানো পানি
    এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা মিশিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে ছেঁকে এই পানি পান করুন। পেট পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি বদহজম থেকেও মুক্তি মিলবে।

    জিরা চা
    অসংখ্য উপকার পেতে এক কাপ জিরা চা পান করে দিন শুরু করুন। এক কাপ পানি ফুটিয়ে আধা চা চামচ জিরা মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে হালকা গরম থাকা অবস্থায় পান করুন। এই চা পেট সংক্রান্ত সমস্যা কমাতে এবং সামগ্রিক পরিপাক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

    ভাজা জিরা গুঁড়া
    ভাজা জিরা গুঁড়া পেট পরিষ্কার করার আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা চামচ ভাজা জিরার গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন। এটি শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করে না, পাশাপাশি পাচনতন্ত্রকেও শক্তিশালী করে। ডাল বা শাকসবজিতে ভাজা জিরার গুঁড়া যোগ করেও খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারেন।

    জিরা খাওয়ার যত উপকারিতা
    জিরাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হজমশক্তি বাড়ায়, গ্যাস ও অ্যাসিডিটি কমায়।
    পেট পরিষ্কার এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করে জিরাতে থাকা ফাইবার।
    জিরার ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
    জিরাতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য বাতজনিত রোগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

     

  • প্রথমবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নারকেল আমদানি শুরু

    প্রথমবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নারকেল আমদানি শুরু

    মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর) : প্রথমবারের মতো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নারকেল আমদানি শুরু । দিনাজপুর ও দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় প্রথমবারের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নারিকেল আমদানি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ভারতের মহারাষ্ট্রের তামিলনাড়ু থেকে ৫০ মেট্রিক টন নারকেল নিয়ে ভারতীয় দুটি ট্রাক বাংলাদেশে আসে।

    হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের মেসার্স নাশাত ট্রেডার্স এসব নারকেল আমদানি করেছে। আর তামিলনাড়ুর এনায়েতপুর এলাকার আনান্দান অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব নারকেল রপ্তানি করেছে। ভারত থেকে প্রতি মেট্রিক টন নারকেল আমদানিতে খরচ পড়েছে ২৫০ ডলার।

    হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক নাশাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নুর ইসলাম জানান, বাংলাদেশে নারকেলের চাহিদা থাকায় ভারতের তামিলনাড়ু থেকে দুই ট্রাকে ৫০ মেট্রিক টন নারকেল আমদানি করা হয়েছে। আরও ছয় ট্রাক নারকেল আসা বাকি রয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম শেষে করে এসব দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে।

    হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী নারকেল আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • আসছে নতুন ফিচার, স্মার্টফোন কেনার সময় যেসব দিকে খেয়াল রাখবেন

    আসছে নতুন ফিচার, স্মার্টফোন কেনার সময় যেসব দিকে খেয়াল রাখবেন

    নিত্যনতুন স্মার্টফোনের সঙ্গে আসছে নতুন ফিচার। এখন মোবাইল কোম্পানিগুলো শক্তিশালী র‌্যাম ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির পাশাপাশি উন্নত ক্যামেরার দিকে নজর দিচ্ছে।

    ফোন কেনার সময় স্টোরেজ, ডিসপ্লে, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন কিছু দেখে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেশিরভাগ মানুষই স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরার খুঁটিনাটি দেখে নেন। আবার অনেকেই জানেন না ভালো ক্যামেরার জন্য ক্যামেরার কোন ফিচারগুলো দেখে কেনা উচিত।

    সাধারণত দেখা যায়, ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাতেও ছবির কোয়ালিটি ভালো আসছে না। আবার আইফোনের মতো একটি প্রিমিয়াম ফোনে, মাত্র ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দেওয়া হয়। অথচ তার ছবির মান অনেক ভালো। এর কারণ হল ক্যামেরার অন্য উপাদান। জেনে নিন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরার কোন দিকগুলো খেয়াল রাখবেন:

    সেন্সরের আকার
    সেন্সর হল ক্যামেরার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ সেন্সর আকারে বড় হলে আলো অনেক বেশি হয়। বড় সেন্সর বেশি আলো ধরে রাখে। ফলে কম আলোতেও ভালো ছবি তোলা যায়। সামগ্রিক ভাবেই ছবি ভালো ওঠে। তাই সেন্সর বড় কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। ভাল সেন্সর হলে ছবির রঙ ও চিত্রের তীক্ষ্ণতা সবই উন্নত হয়। শাওমির বের হওয়া নতুন স্মার্টফোনে সবথেকে বড় সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে মেগাপিক্সেল কতো তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেন্সর এর সাইজ বড় নাকি ছোট।

    পিক্সেলের আকার
    ক্যামেরায় যে আলো প্রবেশ করে তা পিক্সেল আটকে রাখে। বড় পিক্সেলও বেশি আলো ধরে পারে। ফলে কম-আলোয় ভালো ছবি তোলা যায়। এমনকি কম আলোর স্পষ্ট ছবি তুলতে হলে পিক্সেল গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইলে বড় পিক্সেল ব্যবহার করে হুয়াওয়ে, স্যামসাং এর মতো নির্মাতা।

    অ্যাপারচার
    অ্যাপারচারের আকার (এফ-স্টপ) নির্ধারণ করে লেন্সটি কতটা আলো দেবে। লোয়ার এফ-স্টপ এপ অর্থই হলও, বৃহত্তর অ্যাপারচার এবং এর ফলে কম আলোয় ছবি ভালো হয়।

    ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসর
    এই আইএসপি বা ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসর ক্যামেরা সেন্সর থেকে ডাটা প্রসেস করতে কাজে লাগে। এটি ছবির গুণমানকেও অনেক প্রভাবিত করে।

    অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন
    ছবি তোলার সময় হাত কেঁপে গেলে ছবি খারাপ হতে বাধ্য। ওআইএস ফোটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রাফির সময় হ্যান্ডশেকের কারণে যে অস্পষ্টতা, তা হ্রাস করে। ফলে যে ক্যামেরায় ওআইএস রয়েছে তা ভালো ছবি তুলবে।

    এইচডিআর
    এইচডিআর (হাই ডাইনামিক রেঞ্জ) প্রযুক্তি একাধিক এক্সপোজারকে একত্রিত করে উজ্জ্বল এবং অন্ধকার উভয় ক্ষেত্রেই ছবিতে আরও ডিটেল ক্যাপচার করতে পারে।

    লেন্সের গুণমান
    একটি ভালো ক্যামেরার জন্য লেন্সের গুণমান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রিপল-ক্যামেরা স্টাইল এর স্মার্টফোন গত বছর মার্কেটে অনেক জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে সাধ্যের মধ্যে কোয়াড-ক্যামেরার স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। আল্ট্রা-ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ও ল্যান্ডস্কেপ স্টাইলে ছবি ক্যাপচার করার জন্য লেন্স গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: মেক ইউজ অব

  • মিয়ানমারের যুদ্ধে কাঁপছে এপারের বাংলাদেশ

    মিয়ানমারের যুদ্ধে কাঁপছে এপারের বাংলাদেশ

    মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গুলিবর্ষণ, মর্টারশেল নিক্ষেপসহ প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা বারবার কেঁপে উঠছে। দেশটি থেকে ছোড়া গুলি, মর্টারশেল এপারে এসে পড়ছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্তের দুটি বসতঘরে মর্টারশেল এবং আরও পাঁচটি ঘরে গুলি লাগে। মঙ্গলবার মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশের এক নাগরিক আহত হয়েছেন। সীমান্তের আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। এদিকে, সোমবার মিয়ানমারের মর্টারশেলে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে দুজনের মৃত্যু ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

    রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) প্রচণ্ড লড়াই চলছে। দুপক্ষের গুলিবর্ষণ, মর্টারশেল নিক্ষেপসহ বিস্ফোরণের শব্দে বান্দরবানসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা বারবার কেঁপে উঠছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন, কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন থেকে শুরু করে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় এমন শব্দ শোনা যাচ্ছে। থেকে থেকে কেঁপে উঠছে সীমান্তবর্তী এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবার নিয়ে সীমান্ত এলাকার বসতভিটাও ছেড়েছেন অনেকে।

    এদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া মর্টারশেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে সোমবার দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মিয়া মুহাম্মদ মাইনুল কবির কড়া প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সীমান্তের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।

    নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশি সৈয়দ আলম (৩৫) আহত হন। তিনি তুমব্রু পশ্চিমকুল পাহাড়পাড়ার বাসিন্দা কাদের হোসেনের ছেলে। তিনি আরও বলেন, সৈয়দ আলম উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথে মিয়ানমার থেকে আসা একটি গুলি একটি গাছে লেগে তার কপাল ঘেঁষে চলে যায়। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘুমধুম বেতবুনিয়া বাজারসংলগ্ন ছৈয়দ নুরের বসতঘরে একটি মর্টার শেল এসে পড়ে। এতে ভেঙে গেছে জানালা। ফাটল ধরেছে ঘরের দেওয়ালে। একই সময় ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের বাড়িতে এসে পড়ে আরেকটি মর্টার শেল। তিনি আরও জানান, গুলি এসে পড়ছে এপারে। এতে ঘুমধুমের নজরুল ইসলামের বাড়ি, রহমতবিল সংলগ্ন অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের বাড়িসহ পাঁচটি বাড়িতে গুলির আঘাত লেগেছে।

    উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সোমবার রাত থেকে দুই পক্ষের লড়াইয়ের ভয়াবহতা বেড়েছে। এলাকায় এত কম্পন আমরা আর দেখিনি।

    সীমান্ত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানীয়রা : সীমান্তের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ সীমান্ত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাইশপারি তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া থেকে ২০টি পরিবার, ভাজাবনিয়া তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া থেকে ৩০টি পরিবার, তুমব্রু কোনারপাড়া থেকে ৩০টি পরিবার, ঘুমধুম পূর্বপাড়া থেকে ২০টি পরিবার, তুমব্রু হিন্দুপাড়া থেকে ১০টি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে পাশের বিভিন্ন এলাকার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

    সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। মঙ্গলবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন এ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান পরিস্থিতির কারণে সীমান্তে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সজাগ থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী স্কুলগুলো বন্ধ থাকবে।

    বিজিবির কাছে আশ্রয় নিচ্ছেন মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা : রাখাইনে সংঘাতের কারণে শুরুতে শুধু মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বিজিপি সদস্যরা পালিয়ে আসলেও দেশটির সেনাসদস্যরাও তাতে যোগ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে ২৬৪ জন আশ্রয় নিয়েছে। এরমধ্যে বিজিপি সদস্যের পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য, কাস্টমসকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরাও রয়েছেন। কারা কতজন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শুধু বিজিপির সদস্য সংখ্যা ১১৪ জন। তিনি বলেন, পালিয়ে আসা বিজিপি সদস্যদের নিরস্ত্র করে বিজিবি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে এবং বাকিদেরও বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    বিজিপির চার সদস্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিজিপির চার সদস্যকে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্যদের প্রহরায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতরা হলো-উও পাউ, লা নি মং, কেউ থিন সিং ও কিন মং ঝুঁ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মানবিক কারণে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।