Category: স্বাস্থ্য

  • ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও সাত প্রাণ

    ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও সাত প্রাণ

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এ বছর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ২৫৭ জন। গত এক দিনে আরও ১ হাজার ১৩৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৫২ হাজার ৫৮ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।

    অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২৬২ জন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৩০ জন। এর বাইরে (সিটি করপোরেশন বাদে) ঢাকা বিভাগে ২১১, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৯, খুলনা বিভাগে ১০১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১, বরিশাল বিভাগে ৭৭, রংপুর বিভাগে ২৪, রাজশাহী বিভাগে ৫১ ও সিলেট বিভাগে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ডিএসসিসি এলাকায় সর্বোচ্চ ১২৪ জন মারা গেছেন। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ডিএনসিসি এলাকায়। এই সিটি করপোরেশনে ১০ হাজার ৮১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৩ হাজার ৮৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৮২৯ জন, বাকি ২ হাজার ৯ জন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে।

    ২০২৩ সালের জুন থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গেল বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

    এর আগে গত ১৯ অক্টোবর মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে জানা যায় বেশ কিছু ভয়ংকর তথ্য।

    চারটি সংস্থার যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় জানা যায়, চট্টগ্রামে আক্রান্তের ৮৮ শতাংশের বেশি রোগীর শরীরেই এ রোগের সবচেয়ে ক্ষতিকারক ধরন ডেন-২-এর অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের নমুনা নিয়ে এটি শনাক্ত করেছে একদল গবেষক। অত্যন্ত ক্ষতিকারক এ ধরনের মধ্যে আবার বিপজ্জনক কসমোপলিটন প্রকরণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্যও উঠে এসেছে গবেষণায়। এর কারণে চট্টগ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও। দেশে এবারই প্রথমবারের মতো কসমোপলিটন ধরন শনাক্তের দাবি করেছেন গবেষকরা।

     

     

  • এবার দেশে ডেঙ্গুর বিপজ্জনক ধরন

    এবার দেশে ডেঙ্গুর বিপজ্জনক ধরন

    চট্টগ্রামে প্রতিনিয়তই ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডেঙ্গু। যতই দিন যাচ্ছে, বাড়ছে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভয়ংকর নতুন বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে চার সংস্থার যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায়। চট্টগ্রামে আক্রান্তের ৮৮ ভাগের বেশিজনের শরীরেই ডেঙ্গুর সবচেয়ে ক্ষতিকারক ধরন ডেন-২-এর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন এক দল গবেষক।

     

    অত্যন্ত ক্ষতিকারক এই ধরনের মধ্যে আবার বিপজ্জনক কসমোপলিটন প্রকরণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্যও উঠে এসেছে গবেষণায়। এর কারণে চট্টগ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাতে বাড়ছে মৃত্যুও। দেশে এবারই প্রথমবারের মতো কসমোপলিটন ধরন শনাক্তের দাবি করেছেন গবেষকরা।

    গবেষকদের মতে, এর আগে এটি ভারত ও মিয়ানমারে শনাক্ত হয়েছে। পর্যটক ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে প্রকরণটি দেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারণা তাদের। এটিতে লক্ষণ বেশি প্রকাশ পায়, রোগীর আইসিইউর প্রয়োজন হয়, মৃত্যুর হারও বেশি। এর উপস্থিতির কারণে আগামীতে ডেঙ্গু মহামারি রূপ নেওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। গবেষণায় ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই শতাধিক রোগীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় পিলে চমকানোর মতো এমন তথ্য-প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন তারা। ডেঙ্গুর মহামারি থেকে রক্ষা পেতে গবেষণায় নানা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

    এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে আইসিডিডিআর’বি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ। আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা দলে রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ সাত্তার, ডা. আবুল ফয়সাল, মো. নুরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান এবং এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. মো. আবদুর রব। গত ৫ অক্টোবর জিনোমের উন্মুক্ত বৈশ্বিক তথ্যভান্ডার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসএআইডি) এই গবেষণাটি গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণাপত্রটি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনলজি এবং আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনেও গৃহীত হয়েছে। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরবেন গবেষকরা।

    গবেষণার তথ্য মতে, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ৬০ শতাংশই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচটি এলাকার বাসিন্দা। তাই নগরের বাকলিয়া, চকবাজার, কোতোয়ালি, ডবলমুরিং এবং বায়েজিদ বোস্তামীকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, পটিয়া, বোয়ালখালী এবং কর্ণফুলী এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিচালিত এই গবেষণায় আক্রান্ত ১১ ভাগ রোগীর মধ্যে ডেন-৩ ধরনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাদের জিনোম সিকোয়েন্স করে অর্ধেক রোগীর মাঝেই বিপজ্জনক কসমোপলিটন প্রকরণের উপস্থিতি মিলেছে, যা ডেঙ্গু রোগের তীব্রতা ও জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।

    গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রামের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আবদুর রব সমকালকে বলেন, গবেষণায় পাওয়া কসমোপলিটন প্রকরণটি অতীতে দেশের অন্য অঞ্চল থেকে পাওয়া প্রকরণগুলোর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। পর্যটক ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক প্রকরণটি দেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বলেন, মূলত ডেঙ্গুর কোন ধরনের কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করতেই এই গবেষণাটির উদ্যোগ নেওয়া হয়। চমেক হাসপাতালে ভর্তি দুই শতাধিক রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করে নতুন অনেক তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পেয়েছি আমরা।

    ডা. আবুল ফয়সাল বলেন, কসমোপলিটন ভেরিয়েন্টটি খুবই ক্ষতিকারক। ভেরিয়েন্টটি কম সময়ের মধ্যে আক্রান্ত রোগীর শরীরের নানা অঙ্গ অচল করে দেয়।
    গবেষকরা মনে করেন, ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান ও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য জিনোম সিকোয়েন্স অত্যন্ত জরুরি। প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পূর্বপ্রস্তুতি নিলে অনেকের প্রাণও রক্ষা করা যাবে।

    প্রতিনিয়ত ভয়ংকর হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি
    চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ভয়ংকর হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই সর্বোচ্চ ৮২৮ জনের শরীরে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৩৩ জন।

  • এ বছর ডেঙ্গুতে ২১৪ মৃত্যু, অক্টোবরেই ১৫১

    এ বছর ডেঙ্গুতে ২১৪ মৃত্যু, অক্টোবরেই ১৫১

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬০ রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০৭ ও দক্ষিণে ১২১ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২১৪ জন এবং এ মাসে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫১ জনের। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।

    অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৩২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১১ ও খুলনা বিভাগে ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০, রংপুর বিভাগে ১৭ এবং সিলেট বিভাগে ১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হন ৪২ হাজার ৪৭০ জন। এ বছর সবচেয়ে বেশি ১১৪ রোগীর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ নারী ও ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ।

    এ বছর ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আক্রান্ত বেশি হচ্ছেন ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা। তাদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬০২ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    ময়মনসিংহে প্রাণ গেল যুবকের

    ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নাজমুল হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নাজমুল হোসেন জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বিটিবাড়ি গ্রামের হিরা মিয়ার ছেলে।

    হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান বলেন, নাজমুল গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ফুসফুসের ইনফেকশন ও রক্তে লবণের ঘাটতি জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

    গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি শুরু হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ৬০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়।

     

  • ডায়াবেটিস থেকে হতে পারে ত্বকের সমস্যা

    ডায়াবেটিস থেকে হতে পারে ত্বকের সমস্যা

    ডায়াবেটিক রোগীদের এক-তৃতীয়াংশ ভোগেন বিভিন্ন চর্ম বা ত্বকের সমস্যায়। কিছু ত্বকের সমস্যা বারবার হওয়ায় অনেক সময় ডায়াবেটিসের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

    ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। এবার আসুন ডায়াবেটিক রোগীর ত্বকের সমস্যা জেনে নিই।

    ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের প্রদাহে ভোগেন। যেমন– ফোঁড়া, নখের ইনফেকশন, চোখের পাপড়ির প্রদাহ, সেলুলাইটিস ইত্যাদি। এগুলোর কোনো একটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া উত্তম।

    ডায়াবেটিক র‍্যাশ: ডায়াবেটিক রোগীদের ত্বক অনেক শুষ্ক থাকে। ধারণা করা হয়, তাদের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে ত্বক বেশি শুষ্ক থাকে। এ শুষ্ক ত্বকে লালচে র‍্যাশ উঠতে দেখা যায়।

    ডায়াবেটিক ব্লিস্টার: গরমকালে ডায়াবেটিক রোগীদের ত্বকে পানিমুখী ফুসকুড়ি বা ব্লিস্টার উঠতে দেখা যায়। অনেক সময় এসব ব্লিস্টারে পুঁজ জমে ক্ষত সৃষ্ট হতে পারে।

    ডায়াবেটিক ডার্মোপ্যাথি: অনেক ডায়াবেটিক রোগীর পায়ে কিছু কালো দাগ পড়তে দেখা যায়। আসলে ডায়াবেটিসের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ের ছোট ছোট রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে রক্তের জলীয় অংশ রক্তনালি থেকে বের হয়ে ত্বকের ঠিক নিচে জমা হয়। যার কারণে কিছু দাগ সৃষ্টি হয়। একেই বলা হয় ডায়াবেটিক ডার্মোপ্যাথি।

    ইরাপটিভ জান্থোম্যাটসিস: ইরাপটিভ জান্থোম্যাটসিস সাধারণত অনেকদিন ধরে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হয়ে থাকে। এটি এক ধরনের হলুদাভ শক্ত গোটা, যা হাত-পা, পিঠে হতে পারে। রোগীর কোলেস্টেরল বেশি থাকলেও এগুলো হতে দেখা যায়।

    ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণ: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়ই ছত্রাক বা দাউদে আক্রান্ত হতে পারেন। যেমন ক্যান্ডিডা, রিং ওয়ার্ম বা ইস্ট নামক ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।

    নেকরোবায়োসিস লাইপয়ডিকা: এটি ডায়াবেটিক রোগীদের একটি বিশেষ ধরনের ত্বকের ক্ষত। এটি সাধারণত নারীদের বেশি দেখা যায়। এগুলো পায়ে বেশি হয়। এসব সাধারণত লালচে বাদামি রঙের এবং ছোট ছোট গুটি আকারের হয়ে থাকে।

    ত্বকের চুলকানি: ধারণা করা হয়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সঞ্চালন অনেক শ্লথ হয়ে যায়। ফলে ত্বকের শুষ্কতা বাড়তে থাকে। এ শুষ্কতার কারণে ত্বকে চুলকানি বাড়তে পারে।

    ত্বকের শুষ্কতার কারণে বেশির ভাগ ডায়াবেটিক রোগীর সমস্যা হয়ে থাকে। এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

    লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  • ডব্লিউএইচও মাঙ্কিপক্স টিকার অনুমোদন দিল

    ডব্লিউএইচও মাঙ্কিপক্স টিকার অনুমোদন দিল

    বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম মাঙ্কিপক্সের টিকার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

     

    আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে চলতি বছর মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। দেশটিতে মাঙ্কিপক্সের প্রথম টিকা এমভিএ-বিএন পৌঁছানোর পর ডব্লিউএইচও এই টিকার অনুমোদন দিল। খবর এএফপির

    ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বিবৃতিতে বলেন, ‘মাঙ্কিপক্সের প্রথম টিকার প্রাথমিক অনুমোদন ভাইরাসজনিত রোগটি মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এখন আমাদের টিকা সংগ্রহ-বিতরণে গতি বাড়াতে হবে। এই রোগের সংক্রমণ, বিস্তার ও প্রাণহানি ঠেকানোর জন্য যেসব স্থানে টিকা এখন সবচেয়ে জরুরি, সেসব স্থানের মানুষ যাতে সবার আগে টিকা পান, আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    ডব্লিউএইচওর প্রাথমিক অনুমোদনের অর্থ এখন মাঙ্কিপক্সের এই টিকার মান, সুরক্ষা ও কার্যকারিতার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুমোদন থাকায় এই টিকা জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থা সংগ্রহ করতে পারবে। এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বল্প আয়ের দেশগুলো নিজেরা মান, সুরক্ষা ও কার্যকারিতার বিষয়টি যাচাই না করে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে পারবে।

    চলতি বছর কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। গত জানুয়ারি থেকে দেশটিতে প্রায় ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে মাঙ্কিপক্সে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১৬ জন।

    কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পর আফ্রিকার দেশগুলোতেও মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। পরে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর ভাইরাসটির নতুন ধরন ক্লেড-১-বি বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মাসে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিয়ে আন্তর্জাতিক জরুরি সতর্কতা জারি করে ডব্লিউএইচও। ভাইরাসটি মোকাবিলায় এবার সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে প্রথম মাঙ্কিপক্স টিকার অনুমোদন দিল।

  • আগামীকাল বুধবার থেকে সব হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা মিলবে

    আগামীকাল বুধবার থেকে সব হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা মিলবে

    আগামীকাল বুধবার থেকে দেশের সব হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক সূচিতে চলবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এ তথ্য জানান হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসক আব্দুল আহাদ।

    তিনি বলেন, আমাদের দাবি অনুযায়ী হাসপাতাল প্রশাসন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। তাই চিকিৎসকদের কর্মসূচি স্থাগিত করা হয়েছে। কাল থেকে হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন রোগীরা।

    এর আগে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার থেকে সীমিত পরিসরে দেশের সব হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। হাসপাতালের অন্যান্য সেবাও সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এ ছাড়া রোগীদের যাতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না।

    আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মুখপাত্র নিউরোসার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন (রেসিডেন্ট) আবদুল আহাদ বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আউটডোরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সব হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

     

  • জানুন কিডনি সুস্থ রাখার উপায়

    জানুন কিডনি সুস্থ রাখার উপায়

    দেশে কেউ না কেউ কিডনি রোগে ভুগছে, এমন মানুষের অনুমিত সংখ্যা ৩ কোটি ৮০ লাখ। প্রতিবছর এ রোগে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ সুস্থ জীবনধারার চর্চা ও কিডনি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।

     

    কিডনি মানুষের দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের দুটি কিডনির মাধ্যমে রক্ত পরিশোধিত হয়, অর্থাৎ শরীরের কোষ পর্যায়ের বিপাকীয় যে বর্জ্য তৈরি হয়, তার পরিশোধন কিডনির অন্যতম কাজ। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতা রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই উদাসীন। তার জন্য বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে আপনাকে। এবার তবে জেনে নিন কিডনি সুস্থ রাখার নিয়মগুলো। কিডনি যেভাবে সুস্থ রাখবেন–
    ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে যে কোনো সময় কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বা কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রেশারের ওষুধ সেবন না করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর আকস্মিক কিডনি রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে যায়।

    বিনা কারণে এনএসএআইডি গোত্রের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন না। বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    পরিমিত পরিমাণে (ছয়-আট গ্লাস বা দেড় থেকে দুই লিটার) পানি পান করুন। নজর রাখতে হবে, শরীরে পানির ঘাটতি যেন দেখা না দেয়। আবার বেশি বেশি পানি খেলে কিডনি ভালো থাকবে, এমন কথা ঠিক নয়। শীতকালে পানির প্রয়োজন কম হলেও গরমের সময় বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

    শিশুর গলাব্যথা (টনসিলাইটিস) খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিস হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এসব রোগের জটিলতায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কেননা সঠিকভাবে ডায়রিয়ার চিকিৎসা না হলে হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

    পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত।

    হাত-পা ফুলে গেলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কেননা এসব সমস্যা কিডনি রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে।

    ভেজাল খাবার (রঞ্জক পদার্থ, ফরমালিন), ভেজাল ওষুধ (ইথিলিন গ্লাইকল, অপরিশুদ্ধ হারবাল ওষুধ) আপনার কিডনিকে নীরবে বিকল করে দিতে পারে।

    ধূমপান পরিহার করুন। ধূমপানের কারণে দেহের অন্যান্য অঙ্গের মতো কিডনিও আক্রান্ত হতে পারে।

    লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

     

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাসেলস ভাইপার নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিলেন

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাসেলস ভাইপার নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিলেন

    হাসপাতালগুলোতে রাসেলস ভাইপারের এন্টিভেনম পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রাখার এবং কোন অবস্থাতেই এন্টিভেনমের স্টক খালি না থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। শনিবার দেশের সব স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

     

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে সারাদেশের সিভিল সার্জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ দেশের সমগ্র স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এতে মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে সাপের দংশন ও রাসেলস ভাইপার নিয়ে কথা বলেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেন।

    সামন্ত লাল সেন বলেন, রাসেলস ভাইপার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি জনগণকে বলব, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। রাসেলস ভাইপারের যে এন্টিভেনম সেটা আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। আমি পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছি, কোন অবস্থাতেই এন্টিভেনমের ঘাটতি থাকা যাবে না।

    বৈঠকে মন্ত্রী এবিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য প্রচার প্রচারণার উপর জোর দেন। এছাড়া বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার তাগিদ দেন।

    বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ডা. রুবেদ আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • হাঁটুব্যথায় করণীয়

    হাঁটুব্যথায় করণীয়

    হাঁটুব্যথা এমন একটি সাধারণ সমস্যা, যা সব বয়সী লোককে আক্রান্ত করে। হালকা হাঁটুব্যথা কিছু নিয়ম মেনে চললে ঠিক হয়ে যায়। নির্দিষ্ট ব্যায়াম করলে ও নি-ব্রেস পরলে হাঁটুব্যথা কমে। আবার অনেক ক্ষেত্রে হাঁটুতে অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে।

    উপসর্গ

    হাঁটুর বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হতে পারে এবং ব্যথা অল্প থেকে তীব্র হতে পারে। হাঁটুব্যথায় সাধারণত নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয়–
    -হাঁটু ফুলে যাওয়া ও শক্ত হয়ে যাওয়া;
    -হাঁটু লাল হয়ে যাওয়া এবং হাত দিলে গরম অনুভূত হওয়া;
    -হাঁটুতে দুর্বলতা অনুভব করা বা জোর না পাওয়া;
    -হাঁটু পুরোপুরি সোজা করতে না পারা।
    হাঁটুতে বাতের সমস্যা
    সচরাচর যে বাতগুলো হাঁটুকে আক্রান্ত করে তা হলো– -অস্টিওআর্থ্রাইটিস -রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস -গাউট-সিউডোগাউট-সেপটিস আর্থ্রাইটিস।
    কিছু বিষয় হাঁটুব্যথার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়, যেমন– অতিরিক্ত ওজন, হাঁটুর গঠনে অস্বাভাবিকতা, হাঁটুর মাংসপেশির দুর্বলতা ও কিছু খেলাধুলা, আগে হাঁটুতে আঘাত পাওয়া।

    পরীক্ষা-নিরীক্ষা

    -এক্স-রে -সিটি (কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি) স্ক্যান – আলট্রাসাউন্ড – এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং)। এ ছাড়া ইনফেকশন, গাউট বা সিউডোগাউট সন্দেহ করা হলে কিছু রক্তের পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়।

    চিকিৎসা

    হাঁটুব্যথার সঠিক কারণের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমন–
    ওষুধ : রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যথা কমানোর জন্য বেশ কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় সঠিক নিয়মে ওষুধ খেতে হবে।
    থেরাপি : হাঁটুর চারপাশের পেশিগুলো শক্তিশালী করলে হাঁটু স্থিতি হয়। এ ক্ষেত্রে ঊরুর সামনে ও পেছনের মাংসপেশির ব্যায়াম শেখানো হয়। হাঁটুর অস্থিসন্ধিতে বিভিন্ন ধরনের ব্রেস পরিয়ে দেওয়া হয়।
    ইনজেকশন: কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাঁটুর অস্থিসন্ধিতে সরাসরি ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়।
    সার্জারি : যদি আপনার হাঁটুতে আঘাত লাগে তাহলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই যে অপারেশন লাগবে, তা নয়। হাঁটুতে বিভিন্ন ধরনের সার্জারি করা হয়, যেমন– আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি, পার্শিয়াল নি-রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি, টোটাল নি-রিপ্লেসমেন্ট ইত্যাদি।
    লাইফস্টাইল ও ঘরোয়া চিকিৎসা
    আঘাতপ্রাপ্ত হাঁটুর ক্ষেত্রে আপনি নিচের ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করবেন–
    বিশ্রাম: স্বাভাবিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে আপনি হাঁটুকে যতদূর সম্ভব বিশ্রাম দিন।
    ঠান্ডা সেঁক: বরফ আপনার হাঁটুর ব্যথা ও প্রদাহ কমায়। যদিও বরফ সাধারণত নিরাপদ, তবুও ২০ মিনিটের বেশি ব্যবহার করবেন না।
    কমপ্রেশন: এতে হাঁটুতে পানি জমতে পারে না, হাঁটু স্থিতি থাকে।
    পা উঁচু করে রাখা: ফোলা কমাতে আপনার আঘাতপ্রাপ্ত পা বালিশের ওপর রেখে শোবেন।

    লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

     

  • শিশুর মাথাব্যথা হলে কি করণীয়

    শিশুর মাথাব্যথা হলে কি করণীয়

    বড়দের মতো শিশুরও মাথাব্যথা হতে পারে। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে শিশু ও বয়স্কদের মাথাব্যথায় কিছুটা পার্থক্য আছে। শিশুর মাথাব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয় না। কোনো কোনো সময় এক-আধঘণ্টার মধ্যেই সেরে যায়। শিশুর মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব বয়স্কদের তুলনায় বেশি পরিলক্ষিত হয়।

     

    সাধারণত গরম, বদহজমজনিত সমস্যা বা অস্বস্তি, ঘুম কম হলে, সারাক্ষণ ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকলে, এমনকি স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা থেকেও শিশু মাথাব্যথার শিকার হয়ে থাকে। অনেকে আবার স্কুল ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি হিসেবে মাথাব্যথার আশ্রয় নেয়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর অসুখের কারণে শিশুর মাথাব্যথা হয়ে থাকে।

    অনেক সময় শিশুর চোখে সমস্যাজনিত কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। মাথাব্যথার সঙ্গে যদি চোখে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, পড়ার সময় যদি চোখ দিয়ে পানি বের হয়, পড়ার সময় শিশু যদি বই চোখের কাছে টেনে নেয়, তাহলে এর সহজ সমাধান হচ্ছে চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

    বেশির ভাগ শিশু রোদ সহ্য করতে পারে না। কখনও কখনও এমনও হয়, স্কুলে পিটি বা অ্যাসেমব্লির সময় হঠাৎ করে শিশুর মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে শিশুকে ছাতা, ক্যাপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকদের স্কুলে গিয়ে শ্রেণিশিক্ষক বা পিটির শিক্ষকের সঙ্গে শিশুর রোদজনিত সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করতে হবে।

    শিশুর যদি মাইগ্রেন হয় এবং মাথাব্যথার কারণ যদি বংশগত হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর সাইনোসাইটিস, ব্রেইন টিউমারের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্রতর নাও হতে পারে। অনেক সময় মাথাব্যথা বমির পর হালকা হয়ে যায়। শিশুর মৃগী রোগ বা এপিলেপ্সি হলেও মাথাব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খিঁচুনির সমস্যা নাও থাকতে পারে।

    মাথাব্যথা হলে প্যারাসিটামল সেবনের জন্য কেউ আর আজকাল ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল বা ব্যথার ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। শিশুর মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন।

    লেখক : অধ্যাপক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট