Category: স্বাস্থ্য

  • কমেছে হার্টের রিং এর দাম, কমবে চিকিৎসার খরচও

    কমেছে হার্টের রিং এর দাম, কমবে চিকিৎসার খরচও

    স্টেন্ট বা রিং পরানোই বাংলাদেশে হার্টের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। কারো হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ব্লক বা বাধার সৃষ্টি হলে ডাক্তার তাকে এক বা একাধিক রিং পরানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই দেশে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট বা রিংয়ের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিন কম্পানির ১১ ধরনের স্টেন্টের দাম কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্টেন্ট আমদানি প্রতিষ্ঠানভেদে খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এতে স্টেন্টভেদে দাম কমানো হয়েছে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।

    বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশ, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যুক্তিসংগত মুনাফা এবং ভ্যাট-শুল্ক ইত্যাদি বিবেচনায় তিনটি আন্তর্জাতিক কম্পানি—অ্যাবট, বোস্টন সায়েন্টিফিক এবং মেডট্রনিকের আমদানি করা স্টেন্টগুলোর দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন তালিকা অনুযায়ী, মেডট্রনিক কম্পানির ‘রিজলিউট অনিক্স’ স্টেন্টের আগের দাম ছিল ১,৪০,৫০০ টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বোস্টন সায়েন্টিফিক কম্পানির ‘প্রোমাস এলিট’ স্টেন্টটি আগে ৭৯,০০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৭২,০০০ টাকা।

    একই কম্পানির ‘প্রোমাস প্রিমিয়ার’ স্টেন্টের দাম ৭৩,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৭০,০০০ টাকা করা হয়েছে।

    সিনার্জি সিরিজের তিনটি স্টেন্টের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ‘সিনার্জি এক্সডি’ স্টেন্টে, যার আগের দাম ছিল ১,৮৮,০০০ টাকা। নতুন দামে এটি এখন বিক্রি হবে ১,০০,০০০ টাকায়।

    অন্যদিকে ‘সিনার্জি’ ও ‘সিনার্জি শিল্ড’ স্টেন্ট দুটির দাম কমিয়ে যথাক্রমে ৯০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১,১৭,০০০ ও ১,২০,০০০ টাকা।

    অ্যাবট কম্পানির ‘জায়েন্স প্রাইম’ স্টেন্টের দাম ছিল ৬৬,৬০০ টাকা, যা কমিয়ে ৫০,০০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘জায়েন্স এক্সপেডিশন’ স্টেন্টের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এটি আগের মতোই ৭১,৫০০ টাকায় বিক্রি হবে।

    তবে ‘জায়েন্স আলপাইন’ এবং ‘জায়েন্স সিয়েরা’ স্টেন্ট দুটির দাম ছিল যথাক্রমে ১,৪০,৫০০ এবং ১,৪০,০০০ টাকা, যা কমিয়ে ৯০,০০০ টাকায় আনা হয়েছে।

    এ ছাড়া মেডট্রনিক কম্পানির আরেকটি স্টেন্ট ‘অনিক্স ট্রুকর’ আগে বিক্রি হতো ৭২,৫০০ টাকায়। এখন সেটি পাওয়া যাবে ৫০,০০০ টাকায়।

    প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, অনুমোদিত দাম সংক্রান্ত তালিকা হাসপাতালে দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখা এবং তা ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। স্টেন্টের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৫ শতাংশের বেশি আদায় না করতে এবং নির্ধারিত দামের বাইরে কোনো কার্ডিওভাসকুলার বা নিউরো ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইস কিনতে না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    হার্টে রিং পরানোর পদ্ধতিকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে একটি সরু ক্যাথেটার ব্যবহার করে ধমনিতে একটি ছোট, জাল আকৃতির নল (স্টেন্ট) স্থাপন করা হয়। এটি রক্তনালিকে খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং হৃৎপিণ্ডে রক্ত​সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

     

  • মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত: আগুনে কত শতাংশ পুড়লে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়? জানেন কি?

    মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত: আগুনে কত শতাংশ পুড়লে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়? জানেন কি?

    আগুনে পুড়ে যাওয়ার চিকিৎসায় একজন মানুষের শরীরের কত শতাংশ পুড়েছে, সেটি যেমন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, তেমনি কখনো কখনো শরীরের তুলনামূলক কম অংশ দগ্ধ হলেও বা দগ্ধ না হলেও মৃত্যু ডেকে আনতে পারে।

    কারণ শুধু বাহ্যিক জ্বালাই নয়, কখনো কখনো ধোঁয়ার বিষক্রিয়া, শ্বাসনালীর পুড়ে যাওয়া মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

    আগুনের সাথে মানুষের এই ভয়ঙ্কর লড়াইয়ে বেঁচে থাকার সাধারণ হিসেব যেমন আছে, তেমনি আছে অদৃশ্য ঝুঁকির হিসেবও।

    কত শতাংশ পুড়েছে কিভাবে বোঝা যায়?

     

    শরীরের কতটা অংশ দগ্ধ হয়েছে, তা নির্ধারণ করা দ্রুত চিকিৎসা শুরু ও রোগীর জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সেটা নির্ণয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু নিয়ম ও চার্ট চিকিৎসকেরা অনুসরণ করেন।

    দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শরমিন আক্তার সুমি বলেন, “কত শতাংশ পুড়েছে, তা ক্যালকুলেট করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো ‘রুল অব নাইন’ (Rule of Nine)। এই পদ্ধতিতে শরীরের বিভিন্ন অংশকে ৯% বা তার গুণিতক হিসেবে ভাগ করে মোট পুড়ে যাওয়া অংশের শতকরা হিসাব বের করা হয়।”

    উদাহরণস্বরূপ, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের একটি হাত (বাহু থেকে আঙুল পর্যন্ত) ধরা হয় ৯%, পায়ের সামনের অংশ ৯% এবং পেছনের অংশ ৯%। এভাবে যোগ করলে শরীরের সম্পূর্ণ অংশ ১০০% হিসেবে ধরা হয়।

    তবে তিনি জানান, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হলে এই ‘রুল অফ নাইন’ এর হিসাব উপকারী হলেও আরও নিখুঁত ও নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায় ‘লান্ড এন্ড ব্রাউডার’ (Lund and Browder Chart) ব্যবহার করলে।

    “বার্ন ইন্সটিটিউট বা বিশেষায়িত বার্ন সেন্টারগুলোতে আমরা এই চার্ট ফলো করি। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুর জন্য আলাদা চিত্র দেওয়া থাকে। রোগীর শরীরের কোথায় কতখানি দগ্ধ হয়েছে, তা এই ছবিতে নির্দিষ্ট করে আঁকা হয় এবং পাশের ছক অনুসারে তার শতকরা হিসাব নির্ধারণ করা হয়,” তিনি জানান।

    এই চার্ট ব্যবহার করলে বয়সভেদে শরীরের বিভিন্ন অংশের গঠনে যেসব তারতম্য থাকে, সেগুলোও নির্ভুলভাবে বোঝা যায়।

    যেমন, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পুরো মুখ পুড়লে সেটিকে ৪.৫% ধরা হয়, কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায় মুখ ও মাথা পুড়লে সেই অংশ ৯% পর্যন্ত হতে পারে।

    ডা. শরমিন আক্তার আরও বলেন, এছাড়াও ‘রুল অব থাম্ব’ (Rule of Thumb) নামে একটি পদ্ধতি আছে, যেখানে রোগীর হাতের তালুকে ১% ধরে পুড়ে যাওয়া অংশের আনুমানিক হিসাব করা হয়। যেসব পোড়ার অংশ ‘ইরেগুলার শেপড’ সেক্ষেত্রে এই নিয়ম ব্যবহার হয়। তবে সারা বিশ্বেই মূলত ‘রুল অফ নাইন’ ও ‘লান্ড ব্রাউডার চার্ট’—এই দুটি পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

    কত শতাংশ পুড়লে জীবনহানির শঙ্কা হয়?

     

    দগ্ধতার মাত্রা ও এর পরিণতি নির্ভর করে শুধু শরীরের কত অংশ পুড়েছে তার ওপর নয়, রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, বিদ্যমান রোগ এবং পোড়ার ধরন—সবকিছু মিলিয়ে নির্ধারিত হয় রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।

    ডা. শরমিন আক্তার সুমি জানান, কিছু বিষয়ে মোটা দাগে ধারণা দেওয়া গেলেও, সব ক্ষেত্রে একক রূপরেখা টানা যায় না।

    তার ভাষায়, “যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, যেমন রোগী তরুণ ও আগে থেকে কোনো জটিলতা না থাকে, তাহলে ১৫% পর্যন্ত বার্ন সাধারণত নিরাময়যোগ্য ধরা হয়।”

    ”১৫% থেকে ৩০% বার্ন হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এই সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। কিন্তু ৩০%-এর বেশি হলে পরিস্থিতি ক্রিটিক্যাল হয়ে ওঠে। ৩০% থেকে ৫০% বার্ন হওয়া রোগীদের বাঁচাতে যথেষ্ট প্রচেষ্টা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মনোযোগ লাগে,” তিনি বলেন।

    সূত্রঃ বিবিসি

     

  • ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ২০৪, অর্ধেকই বরিশাল বিভাগের

    ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ২০৪, অর্ধেকই বরিশাল বিভাগের

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৪ জন। এর মধ্যে অর্ধেকই আক্রান্ত হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। তবে এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    শুক্রবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২২ জন রয়েছেন।

    এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫ জন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন ডেঙ্গুরোগী রয়েছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মোট ছাড়পত্র পেলেন ১০ হাজার ৩৩৬ জন।

     

  • একদিনে রেকর্ড ডেঙ্গু শনাক্ত, হাসপাতালে ৪২৯ রোগী

    একদিনে রেকর্ড ডেঙ্গু শনাক্ত, হাসপাতালে ৪২৯ রোগী

    রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তের এই সংখ্যা চলতি বছরে একদিনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এসব রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪৯ জন আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে। তবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি।

    সোমবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬১, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪৫ জন, খুলনা বিভাগে ২১ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৫৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    এদিকে একদিনে সারাদেশে ৩৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৭ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ১০ হাজার ২৯৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের।

  • গাজায় অপুষ্টিতে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু

    গাজায় অপুষ্টিতে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু

    ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দুধ, পুষ্টিকর খাদ্য এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা না পাওয়ায় খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে ওই উপত্যকায় অপুষ্টিতে মারা গেছে অন্তত ৬৬ শিশু। গাজার সরকারি মিডিয়া দফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

    শনিবার এক বিবৃতিতে দফতরটি বলেছে, “ইসরায়েলের এই অবরোধ একটি যুদ্ধাপরাধ। এটি একপ্রকার ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত শিশু হত্যাকাণ্ড, যেখানে না খেতে দিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

    তারা আরও বলেছে, “গাজার শিশুদের ওপর চলমান এই অপরাধ এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের লজ্জাজনক নীরবতা— উভয়ই মানবতার প্রতি চরম অবহেলার পরিচয়।”

    গাজা কর্তৃপক্ষ এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য শুধু ইসরায়েলকেই নয়, বরং তার পশ্চিমা মিত্রদের— বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিকেও দায়ী করেছে। একইসঙ্গে, তারা জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে যেন অবিলম্বে গাজার সব সীমান্তপথ খুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করে জানায়, গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে। চলতি বছরের মে মাসেই ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অন্তত ৫ হাজার ১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যার কারণে ভর্তি করা হয়েছে।

    আর এটি গত এপ্রিল মাসের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি। মূলত ফেব্রুয়ারিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল এবং কিছু সহায়তা গাজায় প্রবেশ করেছিল।

    ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, “জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫০ দিনে ১৬ হাজার ৭৩৬ শিশু — অর্থাৎ দিনে গড়ে ১১২ জন শিশু — অপুষ্টির চিকিৎসা পেয়েছে। অথচ এদের প্রতিটি ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। খাদ্য, পানি, পুষ্টি — সবকিছুই সীমান্তে আটকে আছে। মানবসৃষ্ট সিদ্ধান্তের ফলেই এই মৃত্যু।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবিলম্বে সমস্ত সীমান্ত দিয়ে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

    এদিকে শনিবার ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ২০ জন গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় নিহত হন। ওই এলাকায় টানা দুটি বিমান হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে যায়। মৃতদের মধ্যে ৯ জন শিশুও রয়েছে।

    সূত্রআল-জাজিরা

     

  • ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৯ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত

    ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৯ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্তসংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ সময় ৪১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।

    গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। জানুয়ারি ২০২৫ হতে এ পর্যন্ত ১৯ জন এবং ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৮ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

  • গত চব্বিশ ঘণ্টায় ২১ জনের করোনা শনাক্ত

    গত চব্বিশ ঘণ্টায় ২১ জনের করোনা শনাক্ত

    ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে ২১ জন শনাক্ত হয়েছেন, শনাক্তের হার ৪.৭৬ শতাংশ। এই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২৪ জুন) জানানো হয়েছে, সোমবার (২৩ জুন) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৪৪১টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

    এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি।

    গতকাল সোমবার করোনা সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়।

  • গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন সালমান খান, জানিয়েছেন নিজেই

    গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন সালমান খান, জানিয়েছেন নিজেই

    বলিউড সুপারস্টার সালমান খান সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। জনসমক্ষে নিজের অসুস্থাতার কথা প্রকাশ করার পর ভক্তদের  মনে চিন্তার দাগ পড়ে গেছে।

    সালমান খান স্নায়ুতন্ত্র, ধমনী বিকৃতি সহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কাপল শো”-তে তার উপস্থিতির সময় এটি প্রকাশ হয়।, যেখানে খানকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

    তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তার দীর্ঘদিনের ব্যাচেলর স্ট্যাটাস সম্পর্কে তিনি বলেন, , “আমরা প্রতিদিন হাড় ভাঙছি, পাঁজর ভেঙে যাচ্ছে, আমরা ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ায় আক্রান্ত, আমাদের মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম আছে, আমরা তা সত্ত্বেও কাজ করছি, আমাদের AV ত্রুটিও আছে, আমরা এখনও হাঁটছি।”

    এই ঘটনা  শর্মা এবং দর্শক উভয়কেই হতবাক করে দিয়েছে। খানের এই প্রকাশ ভক্ত এবং সহ-সেলিব্রিটিদের মধ্যে উদ্বেগের ঝড় তুলেছে, অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার স্থিতিস্থাপকতা এবং কাজের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন।

    তবে, অভিনেতা নিশ্চিত করেননি যে তিনি এই অবস্থার জন্য কোনও চলমান চিকিৎসা নিচ্ছেন কিনা বা এটি তার আসন্ন প্রকল্পগুলিকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হল একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অবস্থা যা মুখের ট্রাইজেমিনাল স্নায়ুকে প্রভাবিত করে, যা প্রায়শই যন্ত্রণাদায়ক, বৈদ্যুতিক শকের মতো মুখের ব্যথা সৃষ্টি করে বলে বর্ণনা করা হয়। এটিকে সবচেয়ে বেদনাদায়ক চিকিৎসা অবস্থাগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

    মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম বলতে মস্তিষ্কের রক্তনালীর দেয়ালের একটি দুর্বল অংশকে বোঝায় যার ফলে এটি ফুলে ওঠে বা বেলুনে পরিণত হয়। যদি ফেটে যায়, তাহলে এটি হেমোরেজিক স্ট্রোকের কারণ হতে পারে, যার ফলে প্রায়শই স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি বা মৃত্যু হতে পারে।

    এভি ম্যালফর্মেশন (ধমনী বিকৃতি) একটি বিরল এবং সম্ভাব্য মারাত্মক অবস্থা যেখানে মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডের রক্তনালীগুলি অস্বাভাবিকভাবে গঠন করে, রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তপাত বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত এটি অলক্ষিত থাকে।

    তার স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের তীব্রতা সত্ত্বেও, সালমান খান বিনোদন জগতে সক্রিয় রয়েছেন। শোতে তার উপস্থিতি, যেখানে তাকে ভক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে এবং তার স্বাভাবিক ক্যারিশমা বজায় রাখতে দেখা গেছে, একজন স্থিতিস্থাপক অভিনেতা হিসেবে তার ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় করে তুলেছে।

    ভারত ও বিদেশের ভক্তরা খানের সাহস এবং পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তার খোলামেলা আচরণকে সাহসিকতার কাজ বলে অভিহিত করেছেন, বিশেষ করে এমন একটি শিল্পে যেখানে ব্যক্তিগত দুর্বলতাগুলি প্রায়শই গোপন রাখা হয়।

    উল্লেখ্য , সালমান খান বজরঙ্গি ভাইজান, সুলতান এবং দাবাংয়ের মতো ব্লকবাস্টার ছবিতে তার ভূমিকার জন্য পরিচিত, কয়েক দশক ধরে স্থায়ী জনপ্রিয়তা উপভোগ করেছেন। তিনি জনপ্রিয় রিয়েলিটি টিভি শো বিগ বসও হোস্ট করেন এবং বলিউডের সবচেয়ে ধনী তারকাদের একজন।

     

  • করোনায় আবারো দুইজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪

    করোনায় আবারো দুইজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪

    করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউয়ের মধ্যে দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ জুন) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে নতুন করে ৪ জনের শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে।

    শনিবার (২১ জুন) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিরা দুজনই নারী। তাদের একজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। অপরজনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। তাদের একজন বাসায় ও অপরজন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছেন।

    এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ জন। আর দেশে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫১০ জনের।

     

  • বায়ু দূষণের তালিকায় ঢাকা সপ্তম স্থানে

    বায়ু দূষণের তালিকায় ঢাকা সপ্তম স্থানে

    বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫ শহরের মধ্যে আজ সপ্তম স্থানে রয়েছে ঢাকা। বাতাসের মান সূচকে ঢাকার বায়ুর স্কোর ১২২। যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত।

    শনিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান নির্ধারণ সংস্থা আইকিউএয়ার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    আইকিউএয়ারের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিংশা শহর। সেখানের বায়ুর স্কোর ১৪৭। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বাটাম (১৩৯)। তৃতীয় অবস্থানে ভারতের দিল্লি (১৩৯)। তালিকায় চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম অবস্থানে আছে যথাক্রমে- উগান্ডার কাম্পালা (১৩৬), পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ১৩৪), আরব আমিরাতের দুবাই (১৩২), মিশরের কায়রো (১১৭)।

    আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা ‘সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠী’র (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়।

    আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।