Category: ফিচার

  • জয়-পুতুল-রাদওয়ানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    জয়-পুতুল-রাদওয়ানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এছাড়া শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

     

    সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকবে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার সময় বাড়ানো হবে।

    ইইউর চিঠিতে বলা হয়, তাদের লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে। ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে জয় ও পুতুলের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হলে তাদের হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

  • এই অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১২.৪ শতাংশ: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    এই অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১২.৪ শতাংশ: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এখন অবস্থার প্রেক্ষিতটা পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে এবার রপ্তানি আয় আগের থেকে কমবে না, বরং বেশি হবে। আমেরিকাও সবদিক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টি রাখবে।

     

    আজ রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ১৪৬তম বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনষ্টিটিউট’র ৫৯তম পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    আপনারা কি এই অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্র ঠিক করেছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, রপ্তানি নিয়ে কিছু কিছু তথ্যগত ইস্যু ছিলো। আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করেছি। যারা যারা তথ্য সংগ্রহ করে, আমরা সবগুলো চালু রাখবো। আমরা সবগুলো সমন্বয় করে সত্য চিত্র দেবো। একেকজন একেক রকম তথ্য দেবে, সেটা হবে না। কিছুটা পার্থক্য থাকে, এটা স্বীকার করতে হবে। বিরাট অসংগতি দূর করা হবে।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা হবে যুক্তিসংগত। বিভিন্ন কম্পোনেন্ট আছে রপ্তানির; এগুলো দেখবো। বিভিন্ন পণ্য আছে এগুলো দেখবো। আর রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে; রেগুলেটরি, ট্যাক্স-সংক্রান্ত সেগুলো আমরা রিভিউ করবো। রপ্তানি যেন ডাইভারসিফাইড (বহুমুখীকরণ) করা হয়, সেটা আমাদের লক্ষ্য।

    রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে আপনাদের প্রজেকশন কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা রিয়েলাইজড করেছি, এটা (রপ্তানি প্রবৃদ্ধি) মোটামুটি ভালো হবে। অবস্থার প্রেক্ষিতটা চেঞ্জ হয়েছে, অতএব আগের থেকে কমবে না, বেশি হবে।

    আপনারা কি আমেরিকায় জিএসপি সুবিধা পাবেন এবার? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, জিএসপি সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে তাদের বলা হয়েছে। আমরা আবার চেষ্টা করবো। আশা করি, আমেরিকা আমাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টি রাখবে সবদিক থেকে। অতএব জিএসপিটা পজেটিভ। আমরা অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছি রপ্তানির বিষয়ে।

    চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কতো হতে পারে? সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে সাহেলউদ্দিন আহমেদ বলেন, এবার রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।

  • ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা বাতিল

    ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা বাতিল

    অপ্রদর্শিত অর্থ হিসেবে বিবেচিত কালো টাকা বৈধ বা সাদা করার সুযোগ আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার চার দিনের মাথায় এবার প্রজ্ঞাপন করে তা বাতিল করা হয়েছে।

     

    ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে ঢালাওভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এর কারণ হিসেবে দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি বলছে, ’একটি ন্যায়নিষ্ঠ সমতাভিত্তিক কর ব্যবস্থার’ জন্য এমন সুযোগ ‘বৈষম্যমূলক’।

    এ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, “একজন নিয়মিত করদাতাকে তার আয়ের উপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর প্রদান করতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে প্রদেয় করের উপর আরও সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ প্রদান করতে হয় বিধায় মাত্র ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদান করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দেওয়া একটি ন্যায়নিষ্ঠ সমতাভিত্তিক কর ব্যবস্থার জন্য বৈষম্যমূলক।”

    আগের সরকার অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ করদাতাদের সমালোচনার পরও চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিনাপ্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ, নগদ টাকা এবং শেয়ারসহ যেকোন বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ দেয়।

    তবে সরকার পতনের পর দায়িত্বে আসা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সুযোগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    এর চার দিনের মাথায় তা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন করা হল; যাতে বলা হয়েছে, “১৫ শতাংশ আয়কর পরিশোধ করে নগদ অর্থসহ অপরিদর্শিত সমজাতীয় পরিসম্পদ প্রদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তি করা হল।”

    তবে চলতি বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগেরে জন্য দেওয়া আরেকটি সুযোগের বিষয়ে এ প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি।

    এতে করে স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেস ও ভূমি আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত থাকলে তা নির্ধারিত হারে আয়কর দিয়ে বৈধ করার বিধানটি বহাল থাকছে।

    অর্থ আইনের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেসের ক্ষেত্রে মৌজাভেদে প্রতি বর্গমিটারে ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা আয়কর দিয়ে তা বৈধ করা যাবে।

    এছাড়া ভূমির ক্ষেত্রে মৌজাভেদে প্রতি বর্গমিটারে ৩০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা আয়কর দিলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এ পরিসম্পদ অর্জনের উৎস বিষয়ে আয়কর আইন ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। যদি সেই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেন।

    তবে কর ফাঁকির কার্যধারা চলমান থাকলে কিংবা যেকোনো আইনের অধীন ফৌজদারি মামলার কার্যধারা চলমান থাকলে এই নিয়মে কর পরিশোধ করা যাবে না।

    এদিন এনবিআর অপরিদর্শিত অর্থ ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বাতিলের বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি সত্যিকারের বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ানুগ ও প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

    অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বা অর্থ সাদা করার পরও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে কোনো বাধা না থাকার প্রভাব পড়ে কালো টাকা সাদা করায়। সবশেষ ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেউ কালো টাকা সাদা করেনি।

    তবে এর আগের বছর ২০২১-২২ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করেন দুই হাজার ৩১১ জন; অর্থের পরিমাণে তা এক হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

    এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    একইসঙ্গে বর্গমিটার প্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে প্লট-ফ্ল্যাট প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তখন ১১ হাজার ৮৫৯ জন করদাতা কালো টাকা সাদা করেন। এরমধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন ২৮৬ জন, জমিতে এক হাজার ৬৪৫ জন, ফ্ল্যাটে দুই হাজার ৮৭৩ জন এবং নগদ অর্থ প্রদর্শন করেছেন সাত হাজার ৫৫ জন।

  • স্মার্টফোনে গরম অনুভূত হলে কি করবেন

    স্মার্টফোনে গরম অনুভূত হলে কি করবেন

    সারাবিশ্বেই তাপদাহের প্রভাব অনুভূত। বাইরে চলাফেরায় বাড়ছে যন্ত্রের উত্তাপ। কমবেশি সবাই পকেটে স্মার্টফোন বহন করেন। কিছুটা সময় পকেটে থাকলেই স্মার্টফোনের গরম অনুভূত হয়। বাড়ে ঝুঁকি। সার্কিট গলে জটিল হতে পারে ফোনের ভেতরের যন্ত্রচক্র।

     

    উচ্চমাত্রার তাপে গরম হয়ে বিকল হতে পারে ব্যাটারি। গরমকালে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে প্রয়োজন কিছুটা বাড়তি যত্ন। তাই কয়েকটা বিষয়ে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। তা না হলে ঘটতে পারে চরম অঘটন। বিপদ এড়াতে মেনে চলতে হবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

    চারদিকে বাড়ছে গরম। ঠিক এমন সময়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বিশেষ খেয়াল না রাখার অর্থ ঝুঁকির হাতছানি। চারপাশে তাপমাত্রা যখন বেশি থাকে, তখন ডিজিটাল গ্যাজেটের তাপমাত্রা হয় স্পর্শকাতর। বাইরের আবহে দীর্ঘক্ষণ স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করলে বা সচল রাখলে তা খুব দ্রুতই গরম হয়ে যায়। গবেষণা বলছে, চার্জযোগ্য ডিভাইসের মধ্যে স্মার্টফোনে ঝুঁকির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। কারণ স্মার্টফোন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকে। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ একে আরও বেশি বিশ্রামহীন করে। ফলে নানামুখী ঝুঁকির উৎপত্তি হয়। নিজে থেকে বাড়তি সচেতন না হলে ঘটতে পারে বিপত্তি। বাড়তি গরমে ফেটে যেতে পারে ব্যাটারি। তাই স্মার্টফোন গরমের বিষয়ে সব সময় যত্নশীল হওয়া জরুরি।

    ডিভাইস গরমে কী করবেন

    সারাদিনে বেশিক্ষণ বা অযথা ফোন চার্জে রাখবেন না। প্রতিটি ব্র্যান্ড ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে তা কতক্ষণ চার্জে দিতে হয়। তাই হ্যান্ডসেট বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময় দুই থেকে চার ঘণ্টার বেশি চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। চার্জ দিয়ে ফোনে কথা বলবেন না। চারদিকে এখন তাপমাত্রা এমনিতেই উতপ্ত। চার্জে থাকা অবস্থায় ডিভাইস এমনিতেই গরম হয়। ওই সময়ে যদি ফোনে কথা বলা হয়, তাতে ব্যাটারির ওপর নিশ্চিতভাবেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
    ভুলে কাজের ব্যস্ততায় রোদের স্পর্শে ফোনকে না রাখাই শ্রেয়। কিংবা এমন কোথাও আছেন, যেখানে রোদ, হয়তো ভুলে হাতের মধ্যে ফোনটা রেখে দিলেন। এমন পরিস্থিতি থেকেও সচেতন থাকতে হবে। স্মার্ট ডিভাইসে ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারি রোদের স্পর্শে বাড়তি উত্তপ্ত ছড়ায়।

    ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন মনে হলে দ্রুতই এর পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অবহেলা করা যাবে না কোনোভাবেই। যথাযথ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে তখন দ্রুত ব্যাটারি বদলে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, ফোনের পেছনে কিছু অংশে তরলসদৃশ (ফ্লুইড) কিছু পদার্থ বেরিয়ে আসে। সচেতন হয়ে দেরি না করে ডিভাইসের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করবেন।
    টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে বহু সমস্যা থেকে ভোগান্তি না বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। ডিভাইস পুরোপুরি বন্ধ করে বা ইন্টারনেট সংযোগমুক্ত করে বিশ্রাম দিতে হবে।

    গরম ডিভাইস দ্রুত ঠান্ডা আবহে নিতে হবে। উল্লিখিত পরামর্শ মেনে চললে গরমে ডিভাইস ঝুঁকি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • তাহলে কি এটা সত্য, মাহিকে দুটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট দিয়েছিলেন আজিজ

    তাহলে কি এটা সত্য, মাহিকে দুটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট দিয়েছিলেন আজিজ

    জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। তার প্রযোজনায় নির্মিত বেশকিছু সিনেমা দেশ ও দেশের বাইরে হয়েছে প্রশংসিত। ইন্ডাস্ট্রিকে তিনি উপহার দিয়েছেন মাহিয়া মাহি ও পূজা চেরির মতো দর্শকপ্রিয় চিত্রনায়িকা। নায়িকাদের সঙ্গেও রয়েছে তার প্রেমের গুঞ্জন।

    সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন দেশের প্রভাবশালী এই প্রযোজক। জানিয়েছেন অভিনেত্রী মাহিকে তিনি কিনে দিয়েছিলেন দুটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট।

    আজিজ এদিন বেশকিছু বিষয়ে কথা বলেন। এর মধ্যে অভিনেত্রী মাহির সঙ্গে তার প্রেমের বিষয়, তাকে দুটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার কথা স্বীকার করে আজিজ বলেন, ‘জাজে থাকা অবস্থায় আমি মাহিকে দুটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনে দিই।’

    এ সময় উপস্থাপক তার কাছে জানতে চান মাহির সঙ্গে তার প্রেমের বিষয়টি। উত্তরে আজিজ বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে এখন আর কথা বলা ঠিক নয়। সবার ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমারও সংসার রয়েছে। প্রেমের বিষয়টি সামনে এলে দুজনেরই ব্যক্তিজীবনে বিব্রত হতে হয়। তাই এ বিষয়ে এখন কেউ প্রশ্ন না করলেই ভালো।’

    ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। বিয়ে-বিচ্ছেদ ও রাজনীতি নিয়ে রুপালি পর্দা থেকে অনেকটাই আছেন দূরে। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার হাত ধরেই এ জগতে নাম লিখিয়েছিলেন মাহি। উপহার দিয়েছিলেন ‘ভালোবাসার রঙ’ ‘অগ্নি’ ও ‘অগ্নি টু’র মতো ব্যবসা সফল সিনেমা। সেসময়ই মাহির সঙ্গে আজিজের সম্পর্ক উঠে আসে গণমাধ্যমের শিরোনামে। সেই সম্পর্কের কথাই তারাবেলায় এসে স্বীকার করলেন এই প্রযোজক।

  • ১১ বছর পর এভারেস্টের চূড়া ছুঁলেন বাংলাদেশি বাবর আলী

    ১১ বছর পর এভারেস্টের চূড়া ছুঁলেন বাংলাদেশি বাবর আলী

    ১১ বছর পর পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করলেন বাবর আলী। রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮টা ৪৫মিনিট) এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন তিনি।

     

    বেসক্যাম্প টিমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান। হিমালয়ের শীতিধার চূড়া জয়ের জন্য বাবর আলী রওনা দিয়েছিলেন ১ এপ্রিল। চূড়াটি পর্বতের ১৫ হাজার ৫০০ ফুট ওপরে। সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।

    তবে অভিযান কিন্তু এখনও শেষ নয়, শুধু এভারেস্ট নয়, বাবরের লক্ষ্য সঙ্গে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। রোববার ক্যাম্প-৪ এ নেমে মাঝরাতে আবারও শুরু করবেন দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রা। সব অনুকূলে থাকলে ভোরে পৌঁছতে পারেন এর চূড়ায়।

  • শেয়ারবাজার আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা, এক ঘণ্টাতেই সূচক হারাল ৬৬ পয়েন্ট

    শেয়ারবাজার আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা, এক ঘণ্টাতেই সূচক হারাল ৬৬ পয়েন্ট

    ফের লাগাতার দরপতনের কবলে শেয়ারবাজার। লাগাতার বড় দরপতনের আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন বিনিয়োগকারীরা। ভালো বা মন্দ, সব ধরনের শেয়ার দরপতনের কবলে। আগের ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচদিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় আজ বুধবারও লেনদেন শুরু হয়েছে দরপতনে। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টা না পেরোতোই শতাধিক শেয়ার ক্রেতা শূন্য হয়েছিল। তবে ক্রেতা শূন্য শেয়ারগুলোর অধিকাংশই দুর্বল মৌলভিত্তির।

    দরপতনে প্রথম ঘণ্টাতেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ৬৬ পয়েন্ট হারিয়েছে, নেমেছে ৫৫১৯ পয়েন্টে। সূচক পতনের হার ১ দশমিক ১৯ শতাংশ।

    আজ সর্বশেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিনের দরপতনে সূচকটি ১৪৪ পয়েন্ট হারিয়েছিল। এর মধ্যে গতকালই হারিয়েছিল ৮১ পয়েন্ট। প্রথম ঘণ্টায় এ বাজারে ১৫৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গতকাল একই সময়ে ছিল ২৮১ কোটি টাকা।

    বেলা ১১টায় ডিএসইর লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ সময় পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৩৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে লেনদেনে আসা ৩৮০টির মধ্যে ৩১৬টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। যা লেনদেন আসা মোট শেয়ারের ৮৩ শতাংশ। বিপরীতে মাত্র ২৭ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৭টি শেয়ার।

    তবে দরপতন ঠেকাতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে দরপতন কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা গেছে।

    এই দরপতনের কোনো কারণ জানা নেই বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম।

    তবে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ১৩ বিলিয়নের ঘরে নেমেছে, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ কত, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না- গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের নেতিবাচক প্রভাব এটি।

    এর মধ্যে ফের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাক হয়েছে মর্মে- মঙ্গলবার ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। এ খবরেরও একটি নেতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়ছে বলে অনুমান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও। তিনি জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এই হ্যাকের ঘটা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। যদিও গতকালই বাংলাদেশ ব্যাংক এ খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    ব্রোকোরেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমলে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার প্রভাব পড়বে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয় ও মুনাফায়।

    এমন ভাবনা থেকে সর্তকতা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের একটা অংশ বিনিয়োগে সর্তকতা অবলম্বন করছেন বলে মনে হচ্ছে। অনেকে আবার দরপতন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করে আগাম শেয়ার বিক্রি করছেন। এতে দরপতন বাড়ছে বলে অনুমান ওই ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তার।

    এর মধ্যে যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণে শেয়ার কিনেছেন এবং দরপতনের পর আইন অনুযায়ী মার্জিন ঋণের হার সমন্বয়ে ঋণদাতা ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের অনুমোদনের পরও নগদ অর্থ জমা না দিয়ে তা সমন্বয় করেছেন না, সেসব বিনিয়োগকারীদের শেয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী ফোর্স সেল হচ্ছে। এতেও দরপতন বাড়ছে।

     

  • অবশেষে জানা গেলো মোনালিসা কোথায় আঁকা হয়েছিল ?

    অবশেষে জানা গেলো মোনালিসা কোথায় আঁকা হয়েছিল ?

    লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অনবদ্য সৃষ্টি মোনালিসার পিছনের দৃশ্যপট নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন যে, দৃশ্যটি কাল্পনিক, আবার অন্যরা ওই দৃশ্যপটের সঙ্গে বিভিন্ন ইতালীয় জায়গার সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন। অবশেষে বিতর্কে ইতি টানলেন একজন ভূতত্ত্ববিদ ও রেঁনেসা শিল্পবিদ অ্যান পিজ্জোরুসো। দুটি বিষয়ে নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অ্যান পিজ্জোরুসো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, লিওনার্দো উত্তর ইতালির লম্ব্যার্ডি অঞ্চলের কোমো হ্রদের পাড়ের লেকো শহরের বেশকিছু স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য তার ছবিতে এঁকেছেন।

    মোনালিসার পেছনের সেতু, পর্বতমালা আর হ্রদের সঙ্গে পিজ্জোরুসো লেকোর ১৪ শতকের অ্যাজোন ভিসকন্তি সেতু, দক্ষিণ-পশ্চিম আল্পস ও লেক গার্লেতের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ৫০০ বছর আগে ওই হৃদে লিওনার্দো ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায়। রহস্যের সমাধান করতে পেরে বেশ উত্তেজিত এই ইতিহাসবিদ বলছেন, ‘এ মিল অস্বীকার করার উপায় নেই। মনে হচ্ছে এটা একটা দুর্দান্ত ফলাফল।’

    পূর্ববর্তী তত্ত্বগুলি ২০১১ সালের একটি দাবিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে মোনালিসার একটি সেতু এবং একটি রাস্তা উত্তর ইতালির একটি ছোট শহর ববিওর অন্তর্গত এবং ২০২৩ সালে পাওয়া যায় যে লিওনার্দো আরেজো প্রদেশে বসে একটি সেতু এঁকেছিলেন।তবে পিজ্জোরুসোর মতে, ‘কেবল সেতুর সঙ্গে মিল খুঁজলে হবে না। কারণ এ ধরনের সেতু সে সময় ইতালি ও ইউরোপে অহরহ পাওয়া যেত। সবাই সেতু নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু ভূতত্ত্বের দিকটা কেউ দেখেন না। শিল্প-ইতিহাসবিদেরা বলেছেন, লিওনার্দো সবসময় তার কল্পনা ব্যবহার করেছেন।

    কিন্তু বিশ্বের যে কোনো ভূতত্ত্ববিদকে ছবিটা দেখান, তারা লেকো সম্পর্কে আমার যে বক্তব্য সেটাই বলবেন।’
    তিনি উল্লেখ করেছেন যে লেকোর শিলাগুলি চুনাপাথর এবং লিওনার্দো তার শিলাগুলিকে একটি ধূসর-সাদা রঙে চিত্রিত করেছেন- যা নিখুঁত, কারণ এটি সেই ধরণের শিলা যা লেকোতে রয়েছে। ওয়াচডগ আর্টওয়াচ ইউকে-এর ডিরেক্টর মাইকেল ডেলি পিজ্জোরুসোর ফলাফল সম্পর্কে বলেছেন, ‘তিনি তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দিয়ে লিওনার্দোর জিনিসগুলি লক্ষ্য করেন। মোনালিসা কোথায় আঁকা হয়েছিল তা নিয়ে শিল্প ইতিহাসবিদরা সবাই অনুমান করেন। যে কেউ একটি সেতু দেখে মনে করে যে, এটি সেখানে ছিল। কিন্তু পিজ্জোরুসো এই এলাকায় লিওনার্দোর উপস্থিতি, এর ভূতত্ত্ব এবং অবশ্যই একটি সেতুর প্রমাণ সহ অবস্থানটি তুলে ধরেছেন।’

    জ্যাক ফ্রাঙ্ক, ল্যুভর একজন প্রাক্তন পরামর্শদাতা বলেছেন, ‘ পিজ্জোরুসোর তত্ত্ব নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই , ইতালীয় দেশের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে তার নিখুঁত জ্ঞান এবং আরও স্পষ্টভাবে যেখানে লিওনার্দো তার জীবদ্দশায় ভ্রমণ করেছিলেন সে সম্পর্কে তার আবিষ্কার নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। মোনালিসার পেছনের পাহাড়ি ল্যান্ডস্কেপের সাথে পিজ্জোরুসোর তত্ত্ব মিলে যায়’।

    এই সপ্তাহান্তে পিজ্জোরুসো লেকোতে একটি ভূতত্ত্ব সম্মেলনে তার প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।

    সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

  • ভোটের কালি কেন আঙুলে লেগে থেকে কয়েকদিন ?

    ভোটের কালি কেন আঙুলে লেগে থেকে কয়েকদিন ?

    ভোটের পর সবার হাতে এক ধরণের কলম ব্যবহার করে কালি লাগিয়ে দেয়া হয়। সে কালি সহজে উঠে না। কয়েকদিন হাতে থেকে যায়। এই কালিও উৎপত্তি ভারতে। কারণ এখন ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। তবে এই ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। কিভাবে ভারত এই কালি তৈরি করে তা সবার অজানা। সরকার আছে সরকার যায় কিন্তু এই কালির প্রস্তত প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আসে না।

    ভারতে এবারে সাত পর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আজ সোমবার চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৮৫টিতে ভোটের পালা সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যেই। এদিন ভোট নেয়া হবে আরো ৯৬টি আসনে। সারাদেশের ভোটগণনা হবে একইসাথে, আগামী ৪ জুন।

    ভারতে ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের জন্য চলছে ম্যারাথন ভোটগ্রহণ। গণতান্ত্রিক এই পরম্পরা শুরু হয়েছিল সাত দশকেরও বেশি আগে। দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচনের এই দীর্ঘ ইতিহাসে বহু জিনিসই কালের নিয়মে পাল্টে গেছে। কিন্তু একটা ছোট্ট অথচ গুরুত্বপূর্ণ রীতি গত ৬৩ বছরে এক চুলও বদলায়নি। আর সেটা হলো ‘ভোটের কালি’!

    ভারতে ভোট দেয়ার পর ভোটারদের আঙুলে যে ‘অমোচনীয়’ কালির দাগ লাগিয়ে দেয়া হয়, ১৯৬২তে দেশের তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবার চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেই পদ্ধতি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

    কোনো ব্যক্তি যাতে দু’বার ভোট না দিতে পারেন এবং ভোটগ্রহণে জালিয়াতি এড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যেই ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন অমোচনীয় বা ‘ইনডেলিবল’ কালি ব্যবহারের এই পদ্ধতি চালু করেছিল।

    ভারতে ভোট দেয়ার পদ্ধতি কিন্তু গত ২০-২৫ বছরে আমূল বদলে গেছে। আগে যেখানে ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে ছাপ দিয়ে ভোট দিতে হতো, এখন তার জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্র বা ইভিএমে বোতাম টিপে ভোট দিতে হয়।

    পুরো দেশের নির্বাচনী ফলাফল জানতেও আগে যেখানে তিন-চারদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে আজকাল মোটামুটি একবেলার মধ্যেই বেশিরভাগ ফলাফল জেনে যাওয়া যায়।

    কিন্তু ভোটগ্রহণের পদ্ধতিতে ভোটারের হাতে এই কালি দিয়ে দাগ টেনে দেয়ার রীতিটি বছরের পর বছর ধরে অবিকল একই রকম রয়ে গেছে!

    এ কালির বিশেষত্ব কী? আজও ভারতে লাখ লাখ ভোটার নিজের ভোট দেয়ার পর আঙুলের সেই দাগ দেখিয়ে গর্বভরে ছবি তোলেন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সেলফি আপলোড করেন। বস্তুত ওই কালির দাগ দিয়েই তারা প্রমাণ করতে চান, তারা ভারতে গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হয়েছেন।

    ভারতের নির্বাচনে যে বিশেষ কালিটি ব্যবহার করা হয়, তা আঙুলের উপরিভাগের ত্বকে কম করে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা এবং নখের কিউটিকলে কম করে দুই থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

    মজার ব্যাপার হলো, ভারতে অন্য সব ধরনের কালি বাজারে বা অনলাইনে কিনতে পাওয়া গেলেও এই ভোটের কালি মাথা কুটে মরলেও সাধারণ ক্রেতারা কেউই কিনতে পারেন না।

    সারাদেশে শুধু একটি সংস্থাই এই কালি বানায়, তাদের নাম ‘মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড’ বা এমপিভিএল।

    আর তাদের কাছ থেকে কালি কিনতে পারে কেবল একটিই প্রতিষ্ঠান, সেটি হলো দেশের নির্বাচন কমিশন।

    এই কালির যে গোপন ফর্মুলা, তা ভারতের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি (এনপিএল) উদ্ভাবন করেছিল আর এটি উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছিল এমপিভিএল।

    মহীশূরের রাজাদের প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানিটি স্বাধীনতার পর কর্নাটক সরকার অধিগ্রহণ করে এবং আজও এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি ভোটের কালি বানিয়েই কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে চলেছে।

    কালি বানানোর গোপন ফর্মুলা বছর পাঁচেক আগে এমপিভিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড: চন্দ্রশেখর ডোড্ডামনি ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, ওই কালি বানানোর গোপন ফর্মুলা এমন কী তারও জানা নেই!

    তিনি বলেন, ‘আসলে ওই ফর্মুলা আমারো জানার এক্তিয়ার নেই।’

    ‘নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানির শুধু দু’জন সিনিয়র কেমিস্ট এটা জানতে পারেন আর তারা কেউ অবসর নিলে তাদের বাছাই করা উত্তরসূরিকে এটা জানিয়ে যান’, বলেছিলেন তিনি।

    এমপিভিএল সংস্থা আরো জানিয়েছে, কোকা কোলা পানীয়র গোপন ফর্মুলার মতো তারা এটি লিখিত আকারে কোনো ভল্ট বা সেফে রাখে না। কিন্তু দু’জন সিনিয়র কেমিস্ট মুখে মুখে এটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রকাশ করে যান!

    তবে একটা জিনিস মোটামুটিভাবে জানা আছে, এই কালিতে থাকে সিলভার নাইট্রেট নামে একটি রাসায়নিক উপাদান, যা চামড়ার প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে এমন একটি অধ:ক্ষেপ ফেলে, যেটি আঙুলের ত্বকের সাথে পুরোপুরি সেঁটে বসে।

    আর যখনই কালি লাগানোর পর ভোটাররা বুথ থেকে বাইরে বেরোন, রোদের আলোতে আলট্রা ভায়োলেট রে তার ওপর পড়লেই বেগুনি কালির রঙ বদলে গিয়ে আরো গাঢ় কালচে-বাদামি চেহারা নেয়।

    কোনো সাবান বা ডিটারেজন্ট ঘষেই তোলা যায় না সেই ‘অমোচনীয়’ কালির দাগ।

    ভোটের কালি কিভাবে তোলা যায়, তা নিয়ে নানা ফিসফিসানির ‘টোটকা’ বাতাসে ভাসলেও আজ পর্যন্ত এর কোনো ‘আ্যান্টিডোট’ বা প্রতিষেধক বের করা যায়নি সেটাও কিন্তু ঠিক। আর এ কারণেই আজ ৬২ বছর ধরে ভারতের নির্বাচনে বহাল তবিয়তে টিঁকে রয়েছে এই কালি।

    কালি রফতানি বিদেশের ভোটেও

    শুধু ভারতেই নয়, থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়া কিংবা আফগানিস্তান থেকে নাইজেরিয়া, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে এই কালি সে সব দেশের নির্বাচনের জন্য রফতানিও করেছে এমপিভিএল ।
    পেরুর সশস্ত্র গেরিলা সংগঠন ‘শাইনিং পাথ’ তো একবার হুমকিও দিয়েছিল, সে দেশে তাদের ভোট বয়কটের ডাক উপেক্ষা করে কেউ যদি ভোট দেন এবং তাদের আঙুলে ওই কালির ছাপ দেখা যায় তাহলে তাদের প্রাণেই মেরে ফেলা হবে!

    ২০০৪ সালে আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অভিযোগ উঠেছিল ভারতের পাঠানো ওই কালি না কি আঙুল থেকে খুব সহজেই মুছে ফেলা যাচ্ছে আর সেই সুযোগে ভোটে অবাধে কারচুপি চলছে।

    আসলে ওই কালি লাগানোর জন্য আফগানিস্তানে তখন যে মার্কার পেন ব্যবহার করা হয়েছিল তাতেই ত্রুটি ছিল বলে পরে জানা যায়।

    ২০১০ সালে সেই আফগানিস্তানেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় ভোট বয়কটের ডাক দেয়া তালেবান বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কারো আঙুলে ওই কালির দাগ দেখা গেলে সেই আঙুলই কেটে ফেলা হবে।

    ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে এই কালি ব্যবহারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেলেও ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে কর্তৃপক্ষ কালি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। কারণ তারা শেষ মুহূর্তে আবিষ্কার করেছিল, কারো আঙুলে কালির দাগ থাকার পরেও তাকে যদি ভোট দিতে না দেয়া হয় তাহলে সেটা সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী ‘অসাংবিধানিক’ হবে।

    ওই একই বছরে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় আবার দেখা গিয়েছিল, সরকার-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী যাদেরই আঙুলে কালির দাগ দেখা যাচ্ছে না, তাদেরই ধরে ধরে পেটাচ্ছে।

    ফলে এই কালির ব্যবহার নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা রকম বিতর্কও কিন্তু কম হয়নি! সূত্র : বিবিসি

  • জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী

    জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থী। আজ রোববার শিক্ষা বোর্ড সূত্র এ তথ্য জানায়।

    এর আগের বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন পরীক্ষার্থী। এবার গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৪৪৯ জন কম জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ।

    যশোর বোর্ডে সর্বোচ্চ পাসের হার ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    এছাড়া ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, কুমিল্লায় ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, বরিশালে ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ৮৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

    চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১২ মার্চ। এ বছর মোট ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সারা দেশের ৩ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।