Category: ফিচার

  • দেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি, সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন

    দেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি, সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন

    দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলটি সিঙ্গাপুর থেকে ৪৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে আকস্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কেবলের মাধ্যমে কুয়াকাটা-সিঙ্গাপুর অভিমুখী সব ট্রাফিক বর্তমানে বন্ধ আছে। কুয়াকাটায় সি-মি-উই-৫ সাবমেরিন কেবল পুনরায় মেরামত করে চালু না হওয়া পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেটের গতি ধীর থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

    শনিবার বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) সাইদুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সাবমেরিন কেবলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সি-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে কেবলটি মেরামত করে দ্রুত পুনঃসংযোগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    কক্সবাজারের সি-মি-উই-৪ সাবমেরিন এবং আইটিসি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া অব্যাহত আছে। সি-মি-উই-৫ এর বিচ্ছিন্নকৃত উলে­খযোগ্য পরিমাণ ব্যান্ডউইথ সি-মি-উই-৪ ক্যাবলে শিফটিং করা হচ্ছে। তবে সি-মি-উই-৫ সাবমেরিন কেবল পুনরায় মেরামত করে চালু না হওয়া পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি ধীর থাকতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসসিপিএলসি।

    বিএসসিপিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ বলেন, সিমিউই-৫ দিয়ে দেশে এক হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হয়। এর পুরোটাই এখন বন্ধ আছে। আমরা চেষ্টা করছি সিমিউই-৪ (প্রথম সাবমেরিন কেবল) দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে ফাইবার কেবল ব্রেক করায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশে একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকরা ইন্টারনেটের এ ধীরগতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

    ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, গ্রাহকরা আমাদের ফোন করে ইন্টারনেটে ধীরগতির অভিযোগ করছেন। আমরা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করছি।

     

  • একি হলো হিরো আলমের ফেসবুক পেজের

    একি হলো হিরো আলমের ফেসবুক পেজের

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। সিনেমার কাজে বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি কালবেলাকে জানালেন আবারও হ্যাকার কবলে পড়েছে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ।

    শনিবার রাত ২টা ৫০ এর দিকে তার ভেরিফায়েড পেজে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। সেখানে লেখা হয়, উগান্ডা সাইবার টিম দ্বারা পেজটি হ্যাক করা হয়েছে।

    এক অডিও বার্তায় আলম বলেন, ‘আমার পেজ আবারও হ্যাক করা হয়েছে। বিষয়টি ডিবিকে জানিয়েছি। আমার আইটি বিভাগও পেজটি উদ্ধারে কাজ করছে।’

    এদিকে হ্যাকাররা পেজের কাভারের ছবি পরিবর্তন করে একটি অশ্লীল ছবি শেয়ার করে। তবে কমিউনিটি গাইডলাইনের আওতায় ছবিটি ফেসবুক সরিয়ে দিয়েছে। তবে অনেকেই কাছেই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাঠানো হচ্ছে জানান আলম।

    এ ছাড়া ভারতের বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তি বুরহান ওয়ানিকে নিয়েও একটি পোস্টও দেওয়া হয়েছে।

    গত বছরও হ্যাকারদের কবলে পড়েছিল ফেসবুক পেজসহ হিরো আলমের দশটি অ্যাকাউন্ট। এবার আবারও একই ঘটনার শিকার হলেন তিনি। তবে ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজটি এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

  • জাকাত প্রদানে বেলায় কি করণীয় ও লক্ষণীয়

    জাকাত প্রদানে বেলায় কি করণীয় ও লক্ষণীয়

    সুস্থ মস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত ফরজ হয়ে যায়। শর্ত হলো—নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্র বছর (৩৫৪ দিন) মজুদ থাকা।

    জাকাতের নিসাব : ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা ৫২.৫ তোলা রুপা। টাকা ও ব্যাবসায়িক পণ্যের নিসাব নির্ধারণে স্বর্ণ-রুপা হলো পরিমাপক।

    গরিবদের জন্য যেটি বেশি লাভজনক হবে, সেটিকে পরিমাপক হিসেবে গ্রহণ করাই শরিয়তের নির্দেশ। তাই টাকা ও পণ্যের বেলায় বর্তমানে রুপার নিসাবই পরিমাপক হিসেবে গণ্য হবে। যার কাছে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্যের টাকা বা ব্যাবসায়িক পণ্য মজুদ থাকবে, তার ওপর জাকাত ফরজ হবে।
    জাকাত ও দান প্রতিপালন করা হয় : মহান আল্লাহ জাকাত ও দান প্রতিপালন করে পাহাড় সমান করেন।
    রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ দাতার কল্যাণার্থে দান প্রতিপালন করেন। যেমন—তোমাদের কেউ অশ্ব শাবক প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই দান পাহাড় বরাবর হয়ে যায়। (বুখারি, হাদিস : ১৪১০)

    জাকাত প্রদানে অনিষ্ট দূর হয় : নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত আদায় করে দেয়, তার কাছ থেকে তার অনিষ্ট দূর হয়ে যায়। (সহিহ আত তারগিব, হাদিস : ৭৪৩)

    যাদের জাকাত দেওয়া যাবে : নিসাবের মালিক নয়, এমন গরিব লোকদের জাকাত দেওয়া যাবে।

    (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

    শর্ত হলো—তাকে মালিক বানিয়ে
    দেওয়া, যাতে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে।

    যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না : মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা তাদের ওপরের স্তরের কাউকে। ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি বা তাদের নিম্ন স্তরের কাউকে। স্বামী স্ত্রীকে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে।

    নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের নাবালক সন্তানকে। মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে এবং পুল, রাস্তা, হাসপাতাল বানানোর কাজে। মৃতের দাফনের কাজে এবং অমুসলিমকে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে না।
    গোপনে দান করা বেশি ভালো : অন্যদের উৎসাহী করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে দান করা ভালো। তবে গোপনে দান করা বেশি ভালো। ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা কতই না ভালো। আর যদি গোপনে দান করো এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরো বেশি ভালো।’

    (সুরা : বারাকা, আয়াত : ২৭১)

    জাকাত গ্রহীতাকে প্রকাশ করা : যে জাকাত গ্রহীতা নিজেকে গোপন রাখতে চায়, প্রকাশিত হওয়াকে লজ্জাজনক মনে করে, তাকে সমাজের সামনে প্রকাশ করে তার মনে কষ্ট দেওয়া জায়েজ নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘নম্র কথা বলে দেওয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ওই দান-খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেওয়া হয়।’

    (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৩)

    গরিব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়ার লাভ : আত্মীয়-স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তাহলে তাদের জাকাত দেওয়া দিগুণ সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, গরিবদের দান করা শুধু দান বলেই গণ্য হয়। কিন্তু আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে তা দানও হয় এবং আত্মীয়তাও রক্ষা করা হয়। (তাই সওয়াবও দিগুণ)। (তিরমিজি, হাদিস : ৬৫৮)

    যাকে জাকাত দেওয়া উত্তম : যে ব্যক্তি গরিব, দ্বিনদার। যে সাহায্যের জন্য কারো দরজায় যায় না। তার অভাবের কথা কাউকে বলেও না। এমন ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মিসকিন সে নয়, যে মানুষের কাছে ভিক্ষার জন্য ঘুরে বেড়ায় এবং এক-দুই লুকমা অথবা এক-দুটি খেজুর পেলে ফিরে যায়, বরং প্রকৃত মিসকিন সেই ব্যক্তি, যার এতটুকু সম্পদ নেই, যাতে তার প্রয়োজন মিটতে পারে। এবং অবস্থা সেরূপ বোঝা যায় না যে তাকে দান-খয়রাত করা যাবে। আর সে মানুষের কাছে যাচনা করে বেড়ায় না। (বুখারি, হাদিস : ১৪৭৯)

    লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া কারওয়ান বাজার, ঢাকা

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপটিকে মারা হলো

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপটিকে মারা হলো

    গহিন বন আমাজনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপ গ্রিন অ্যানাকোন্ডা পাওয়ার খবর বের হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সাপটিকে গুলি করে মেরেছে শিকারিরা।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আমাজনের বনিতো গ্রামের ফরমোসো নদীতে ২৪ মার্চ গুলিবিদ্ধ মরা অ্যানাকোন্ডা পাওয়া যায়।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, সাপটি গাড়ির টায়ারের মতো মোটা ছিল। ২৬ ফুট লম্বা ও ৪৪০ পাউন্ড ওজনের সাপটির মাথা ছিল মানুষের মাথার সমান।

  • ১১ বছর আগে হারানো সন্তানকে হজ্বে গিয়ে ফিরে পেলেন !

    ১১ বছর আগে হারানো সন্তানকে হজ্বে গিয়ে ফিরে পেলেন !

     

    c গিয়ে ফিরে পেলেন ১১ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সন্তান। সিরিয়ার ভয়াবহ যুদ্ধে ৪ বছরের শিশু সন্তানকে হারিয়েছিলেন ওই মা। এরপর প্রায় এক যুগ বিভিন্ন জায়গা খুঁজে বেড়িয়েছেন সেই নাড়িছেঁড়া ধনকে। কিন্তু হতাশ হয়েছেন প্রতিবারই। সম্প্রতি দীর্ঘ অমানিশার শেষে, আলোর দেখা পান তিনি। ওমরাহ হজ্ব পালনে ইসলামের পূণ্যভূমি সৌদি আরবে গিয়ে দেখা পান হারিয়ে যাওয়া সন্তানের! মা-ছেলের মিলনের সেই স্বর্গীয় দৃশ্য ছাড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে।

    ১১ বছর পর মায়ের কোলে ফেরা কিশোরের নাম সাফওয়ান আনাসারী। সন্তানকে নিজের কোলে ফিরে পেয়ে বুকের উষ্ণতায় জাপ্টে ধরে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন মা।

    জানা যায়, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর কয়েক বছর পর ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হয় সাফওয়ানের পরিবার। নির্বিচার হামলা ধ্বংস হয়ে যায় তাদের গোটা গ্রাম। নিহত হয় শত শত মানুষ। আহত হয় তার পরিবারেরও বেশ কয়েকজন। যারা হাসপাতালে আবারও একত্রিত হন। তবে, আর পাওয়া যায়নি ছোট্ট সাফওয়ানকে।

    হারিয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজনের হাত ঘুরে সবশেষ একটি পরিবারে আশ্রয় পায় শিশু সাফওয়ান। তারা নিজেদের সন্তানের মতোই তাকে বড় করে। চলতি রমজানে ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যান ওই দম্পতি। ভাগ্যক্রমে একই সময়ে ওমরাহ করতে আসেন সাফওয়ানের মা। সেখানে নাটকীয়ভাবে দেখা হয় তাদের।

    মূলত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সাফওয়ানকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তার মা। অন্যদিকে যাদের কাছে সে বড় হচ্ছিল, তাদেরও চাওয়া ছিল শিশুটি পরিবার খুঁজে পাক। এ জন্য তার ছবি ও তথ্য বেশকিছু সংস্থার ওয়েবসাইটে দিয়েছিলেন তারা।

    সংস্থাগুলো যখন মা-ছেলের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, তখন উভয় পরিবারই মক্কায় ওমরাহ পালন করছিলেন। বিষয়টি তাদের জানোর পর আয়োজন করা হয় পুনর্মিলনের। অবশেষে দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা ঘোচে মা-ছেলের।

  • বিস্ময়কর যুবক নিজের গায়ের চামড়া কেটে মায়ের জন্য জুতা বানানো !

    বিস্ময়কর যুবক নিজের গায়ের চামড়া কেটে মায়ের জন্য জুতা বানানো !

    মাতৃভক্তির অনন্য নজির গড়লেন এক যুবক। নিজের শরীরের চামড়া কেটে মায়ের জন্য জুতা বানালেন। তারপর সেই জুতা নিজ হাতে মায়ের পায়ে পরিয়ে দিলেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বাসিন্দা রৌনক গুর্জর মাকে ভালোবেসে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

    জানা যায়, অতীতে অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রৌনক গুর্জর। একবার পুলিশের গুলিও খেয়েছিলেন। পায়ে গুলি লেগেছিল তার। সেই পায়ের ওপরের অংশ থেকেই কিছুটা চামড়া অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বের করে নেন। নিজের সেই চামড়া নিয়ে যান মুচির কাছে। গোটা প্রক্রিয়ার কথা বাড়িতে কাউকে জানতেও দেননি তিনি।

    নিজের চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা নিজ হাতে মায়ের পায়ে পরিয়ে দেওয়ার পর রৌনক গুর্জর খোলাসা করেন, কী দিয়ে আসলে জুতাটি তৈরি করা হয়েছে। সন্তানের মুখে সেই কথা শুনে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা। সেখানে মা এবং ছেলের মধ্যে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়।

    মূলত, রামায়ণ থেকে মাতৃভক্তির এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারতীয় এই যুবক। রৌনক গুর্জর বলেন, তিনি রামায়ণের ভক্ত। রোজ একবার করে রামায়ণ পাঠ করেন। রাম তার আদর্শ। সেই গ্রন্থ পাঠ করেই মায়ের জন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগে তার মনে। সেই মতো নিজের চামড়া দিয়ে মায়ের জুতা তৈরির পরিকল্পনা করেন।

  • বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের রিজার্ভের পরিমাণ জানাল

    বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের রিজার্ভের পরিমাণ জানাল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বর্তমানে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গণনায় তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    এতে বলা হয়, গত ১ সপ্তাহে সোয়াপ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডলার জমা দিয়ে টাকা নিয়েছে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক। সেই সঙ্গে রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে আমদানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তাতে বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন ছিল ২৫ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গণনায় যা স্থির হয় ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া দেশের আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সংস্থার নিট রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে। এটি শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়, প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই মেথডে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন প্রায় সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার। এ দিয়ে ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

     

  • গত তিন বছরে সর্বনিম্ন সূচক, শেয়ারবাজারে আতঙ্ক

    গত তিন বছরে সর্বনিম্ন সূচক, শেয়ারবাজারে আতঙ্ক

    টানা পতনে ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক। ডিএসইর সূচকের এ অবস্থান গত ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে সূচক প্রায় ২শ পয়েন্ট কমেছে। পতনের এই ধারা কোথায় গিয়ে থামবে, তা পরিষ্কার নয়। এ কারণে শেয়ারবাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এই মুহূর্তে ফোর্সড সেল (বাধ্যতামূলক) না করার অনুরোধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আস্থা সংকটে পুঁজিবাজার। এই সংকট কাটাতে কী উদ্যোগ নিতে হবে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি, এই বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় দুটি-সুশাসন এবং ভালো কোম্পানির শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো।

    তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কারসাজির শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার টাকা হাতিয়ে নিলে বিচার হবে। না হলে ঝুঁকি নিয়ে কেউ বিনিয়োগে আসবে না।
    ফ্লোর প্রাইস (নিম্নসীমা) উঠে যাওয়ার পর বাজারে টানা দরপতন চলছিল। এরপর রোববার বাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় আইটি বিপর্যয় হয়। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমেছে। এ অবস্থায় তারা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। ফলে গত এক সপ্তাহে সূচক প্রায় ২শ পয়েন্ট কমেছে। এছাড়াও সূচকে একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা ছিল ৬ হাজার পয়েন্ট। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে নামেনি। কিন্তু বুধবার তাতে ছন্দপতন হয়। ডিএসইর ব্রড সূচক এদিন আগের দিনের চেয়ে ৩২ কমে ৫ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর প্রধান সূচকের এই অবস্থা গত ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২১ সালের ৫ মে সূচক ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে নেমেছিল। তবে এর আগে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই সূচক ৫ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে নামলেও অবস্থান বুধবারের চেয়ে উপরে ছিল। অর্থাৎ ৩ বছরেও সূচক এত নিচে নামেনি। এ অবস্থায় বাজারে আতঙ্ক রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাচ্ছেন। এটি বাজারের জন্য আশঙ্কার কারণ। তবে বিএসইসি থেকে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে মার্জিন ঋণের বিপরীতে ফোর্সড সেল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কোনো কোনো হাউজকে শেয়ার কেনার অনুরোধ করা হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে বুধবার ডিএসইতে ৩৯৪টি কোম্পানির ১৫ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৮৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১২টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ২২২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। প্রধান সূচকের বাইরে ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক বুধবার আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩শ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে আরও কমে ৭ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

    শীর্ষ দশ কোম্পানি : বুধবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো- তৌফিকা ফুড, ফু-ওয়াং সিরামিক, গোল্ডেন সন, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এসএস স্টিল, ওরিয়ন ইনফিউশন, জিপি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো এবং মুন্নু ফেব্রিক্স। ডিএসইতে বুধবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন সন, মুন্নু ফেব্রিক্স, তৌফিকা ফুডস, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস এবং কাট্টালী টেক্সটাইল। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হলো-কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, রিজেন্ট টেক্সটাইল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, রূপালী ব্যাংক, তাল্লু স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাইন ফুডস এবং এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স।

  • সন্ধান পাওয়া গেলো হেঁটে বেড়ানো নতুন মাছ

    সন্ধান পাওয়া গেলো হেঁটে বেড়ানো নতুন মাছ

    মাছও হাঁটে! শুনতে অবাক লাগলেও গভীর সাগরে এই নতুন এক প্রজাতির মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু মাছই নয়, অনুসন্ধানে এমন শতাধিক অদ্ভুত জীবের সন্ধান মিলেছে, যেগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আগে জানতেন না।

    মাছটির গায়ের রং টকটকে লাল। আকারেও খুব বড় নয়। মাথা থেকে পেট পর্যন্ত গোলাকার বস্তুর মতো ফাঁপা। দেহের এই অংশটি অনেকটাই হাতে বোনা চাদরের মতো ও সুইয়ের মতো অসংখ্য কাঁটাযুক্ত।

    বিজ্ঞানীদের সাগরতলের এই অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয় এ বছরের শুরুতে।

  • ইতিহাসে মাত্র একবারই এসেছিল ‘৩০ ফেব্রুয়ারি’

    ইতিহাসে মাত্র একবারই এসেছিল ‘৩০ ফেব্রুয়ারি’

    বহু বছর ধরে প্রতি চার বছর পর পর লিপ ইয়ারের মাধ্যমে বছর গণনাকে সমন্বয় করায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।সাধারণত এক বছর বলতে ৩৬৫ দিনের হিসাব করা হলেও এবারে ২০২৪ সালে বছরের গণনা করা হবে ৩৬৬ দিনে। কারণ চলতি বছর হলো লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ।

    লিপ ইয়ার হলো প্রতি চার বছর পর পর ৩৬৫ দিনের ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারির শেষে বাড়তি একটি দিন যোগ হওয়া। তাই ২৯ ফেব্রুয়ারি অবশ্যই বিশেষ একটি দিন।

    যারা এই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন তারা প্রতি চার বছরে পর পর তাদের প্রকৃত জন্মদিন পালন করতে পারেন।

    কিন্তু ইতিহাসে শুধুমাত্র একবার এমন সময় এসেছিল, যখন ক্যালেন্ডারে ৩০ ফেব্রুয়ারি যোগ করতে হয়েছিল।

    সুইডেন একটি ডাবল লিপ ইয়ারের অংশ হিসেবে ১৭১২ সালের ক্যালেন্ডারে ৩০ ফেব্রুয়ারি যুক্ত করেছিল।

    এই ৩০ ফেব্রুয়ারি কেন যুক্ত করতে হয়েছিল সেই ব্যাখ্যার আগে লিপ ইয়ার কেন আসে, কবে থেকে লিপ ইয়ার যুক্ত হয়েছে সেই ইতিহাস জানা প্রয়োজন।

    প্রতি চার বছর পর পর ক্যালেন্ডারে যে অসঙ্গতি থাকে, সেটিকে সমন্বয় করতে লিপ ইয়ারের আবির্ভাব।

    কখন থেকে এই লিপ ইয়ারের প্রচলন হয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য দুই সহস্রাব্দেরও বেশি আগে প্রাচীন রোমের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।

    কারণ সেই সময় প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল, তারা যে সৌর ক্যালেন্ডার ধরে বছর গণনা করছেন সেটি সৌর বছরের সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

    এই ক্যালেন্ডারের প্রাথমিক ধারণা এসেছিল রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের কাছ থেকে।

    তিনি সেসময় আলেকজান্দ্রিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে রোমান ক্যালেন্ডারের একটি বিকল্প তৈরি করতে সাহায্য করতে বলেছিলেন।

    যে ক্যালেন্ডার হবে সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর পরিভ্রমণের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    কারো কারো মতে, পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে কাঁটায় কাঁটায় ৩৬৫ দিন সময় নেয় না। এতে ৩৬৫ দিনের সাথে পাঁচ ঘণ্টা, ৪৮ মিনিট এবং ৫৬ সেকেন্ড বেশি সময় লাগে।

    এই বাড়তি সময়কে সমন্বয় করতে সোসিজেনেস একটি ক্যালেন্ডার তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন, যা মিসরীয়দের ক্যালেন্ডারের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়।

    সৌর বছরের সাথে সন্নিবেশ করতে প্রতি চার বছরে ৩৬৫ দিনের সাথে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।

    এভাবে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের জন্ম হয়, এর প্রবর্তক জুলিয়াস সিজারের সম্মানে এই নামকরণ করা হয়েছিল।

    কিন্তু এই জুলিয়ান ক্যালেন্ডারও বেশিদিন টেকেনি। ওই ক্যালেন্ডারে কিছু ফাঁক থাকার কারণে ১৫৮২ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের জায়গা প্রতিস্থাপন করে নেয় আজকের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।

    জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হতো মার্চ থেকে।

    যেহেতু প্রতি চার বছরে একটি অতিরিক্ত দিনের প্রয়োজন ছিল, তাই রোমানরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে এটি ফেব্রুয়ারিতে হবে, যা তখন বছরের শেষ মাস ছিল।

    লিপ নামটি ল্যাটিন বাক্য থেকে এসেছে। যার অর্থ মার্চ মাস শুরুর ছয় দিন আগে, অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেসময় ওই দিনটি লিপ ইয়ার হিসেবে পালন করা হত।

    বাক্যটি কিছুটা দীর্ঘ হওয়ায় একে সংক্ষেপে ‘বিস সেক্সটাস’ বলা হয়ে থাকে যার অর্থ লিপ ইয়ার বা বাংলায় অধিবর্ষ।

    কয়েক বছর পরে, ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরি এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্যালেন্ডারটিকে ‘নিখুঁত’ করার সিদ্ধান্ত নেন।

    তার আনা পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটি হবে ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডার দ্বারা নির্ধারিত ২৪ তারিখ নয়।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার ক্ল্যাভিয়াসের পরামর্শে, তখনকার জ্ঞানী ব্যক্তিরা বছরের হিসেবে এই সমন্বয় আনার জন্য সিদ্ধান্ত নেন যে, ১৫৮২ সালে ৪ অক্টোবরের পরের দিনটি হবে ১৫ অক্টোবর। অর্থাৎ মাঝে ১০ দিন গায়েব হয়ে যাবে।

    মূলত এই উপায়ে সৌর বছরের মাঝে সময়ের যে ব্যবধান হয়েছিল সেটা দূর করা হয় এবং পরে যেন এই ভারসাম্যহীনতা আবার না ঘটে, সেজন্য তখন লিপ ইয়ারের প্রবর্তন করা হয়।

    সময়কে মূলত গণনা করা হয়, দিন, মাস এবং বছরের হিসেবে। এই গণনা প্রক্রিয়া মানুষেরই আবিষ্কার।

    চন্দ্র আবর্তন অনুসরণ করে দেখা গেছে, দু’টি পূর্ণিমার মধ্যে কমবেশি সাড়ে ২৯ দিনের পার্থক্য থাকে।

    অন্যদিকে, সৌর পরিভ্রমণ অনুযায়ী, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরতে সময় নেয় কমবেশি ৩৬৫ দিন ছয় ঘণ্টার মতো।

    তবে এটি এমন এক গণনা পদ্ধতি যা হেরফের হতে পারে।

    ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন শাসক এক বছরকে কয়েক মাসে ভাগ করেছেন। অর্থাৎ সব সময়ে ১২ মাসে এক বছর ছিল না, মাসের সংখ্যায় হেরফের ছিল।

    ওই শাসকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা-প্রয়োজন বা তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুসারে সেই মাসগুলোয় বাড়তি দিন যোগ করা হতো নাহলে সরিয়ে নেয়া হতো।

    ফলে সৌর বছরের সাথে এই ক্যালেন্ডারগুলোকে সমন্বয় করা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে, যা উপেক্ষা করার উপায় ছিল না।

    সম্রাট জুলিয়াস সিজার, প্রায় দুই হাজার বছর আগে, আমরা বর্তমানে যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি তার অনুরূপ একটি ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেছিলেন।

    সেই তথাকথিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১২ মাসে এক বছর ছিল। এবং মাসগুলোর কিছু ৩০ দিন এবং কিছু ৩১ দিনে গণনা করা হতো।

    শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতো ২৮ বা ২৯ দিনে।

    বছর শুরু হতো মার্চ মাস থেকে। কারণ এটি বসন্তের শুরু। এজন্য বছরের শেষ মাস ফেব্রুয়ারিকে লিপ ইয়ারের জন্য বেছে নেয়া হয়।

    এক বছর যেহেতু ৩৬৫ দিন ছয় ঘণ্টায় হয়, তাই বাড়তি এই ছয় ঘণ্টাকে সমন্বয় করার জন্য সেই রোমান সময় থেকে লিপ ইয়ার চিহ্নিত করা হয়েছে।

    এই গণনা শতাব্দী ধরে চলে আসছে, কিন্তু এই গণনা পদ্ধতি সঠিক নয়। সৌর বছর আসলে একটু ছোট- সুনির্দিষ্টভাবে বললে ১১ মিনিট ১৪ দশমিক ৭৮৪ সেকেন্ড কম।

    আদতে মনে হতে পারে, এটি এমন কোন বড় পার্থক্য নয়, যা তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তবে বছরের পর বছর ধরে, এই বাড়তি মিনিট/ সেকেন্ড যোগ হয়ে সেটি বড় ব্যবধান তৈরি করে।

    এ কারণেই ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরি ১৫৮২ সালে তার ক্যালেন্ডারে থাকা অসঙ্গতিগুলো ঠিক করার জন্য কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন।

    এটি প্রধানত ধর্মীয় কারণে করা হয়েছিল, কেননা এই সময়ের ব্যবধানের কারণে কয়েক শ’ বছরে ইস্টারের সূচনা তিন দিন আগপিছ হয়ে যায়।

    তবে যাই হোক না কেন, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানসম্মত প্রতিষ্ঠিত ক্যালেন্ডার।

    যদিও সব দেশ একই সময়ে তা গ্রহণ করেনি।

    যারা ক্যাথলিক চার্চের সাথে যুক্ত ছিল, প্রথমে তারা এই ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে। পরবর্তী চার দশকে লিপ ইয়ার নির্মূল করার পরিবর্তে, তারা অক্টোবর মাস থেকে এক লাফে ১০ দিন কমিয়ে দেয়।

    ১৫৮২ সালে ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের পরের দিন ১৪ অক্টোবর শুক্রবার করা হয়।

    অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট জাতি এবং সাম্রাজ্যগুলো শুরুতে এই ক্যালেন্ডার গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিল। কিন্তু অবশেষে তারাও এই পরিবর্তিত ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।

    যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর আমেরিকান উপনিবেশগুলো এই পরিবর্তন সাদরে গ্রহণ করে। তবে নতুন ক্যালেন্ডারে সমন্বয় করতে গিয়ে ১৭৫২ সালে তাদেরও ১২ দিন কমাতে হয়েছিল।

    তারা ২ সেপ্টেম্বর থেকে এক লাফে ১৪ সেপ্টেম্বরে পদার্পণ করে।

    কিন্তু তার আগে, সুইডেন যখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা হঠাৎ করে ওই দিনগুলোকে একসঙ্গে বাদ দিতে চায়নি।

    তারা ধীরে ধীরে এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াকে উপযুক্ত বলে মনে করেছিল।

    এজন্য তারা টানা ৪০ বছরের জন্য ফেব্রুয়ারির লিপ দিনগুলো এড়িয়ে যায়, যতক্ষণ না সেগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে।

    তাদের এতদিনের অনুসরণ করা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৭০০ সালে একটি লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু তারা ফেব্রুয়ারি মাস শুধুমাত্র ২৮ দিনেই কাটায়।

    একইভাবে ১৭০৪, ১৭০৮ সাল লিপ ইয়ার হলেও তারা ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন।

    কিন্তু ওই সময়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজের মধ্যে এই লিপ ইয়ার না কাটানোর পরিবর্তনের কথা তারা ভুলে যায়।

    কয়েক বছর পরে, সম্রাট দ্বাদশ চার্লস বুঝতে পেরেছিলেন যে সুইডেনের ক্যালেন্ডারটি জুলিয়ান বা গ্রেগরিয়ান কোনটিই নয়।

    এরপর তিনি ক্যালেন্ডার প্রণয়নে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং আগের সব পরিবর্তন বাতিল করেন।

    যেহেতু তারা ইতোমধ্যেই ১৭০০ সালের অধিবর্ষ বাদ দিয়েছিল, তাই তিনি আদেশ দেন যেন ১৭১২ অর্থাৎ আরেকটি লিপ ইয়ারে ২৯ ফেব্রুয়ারির পাশাপাশি আরেকটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।

    এভাবে জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে ইতিহাসে প্রথম এবং একটিবারের জন্য ৩০ ফেব্রুয়ারি তারিখটি তৈরি করা হয়েছিল।

    ওই ৩০ ফেব্রুয়ারি যারা জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাদের জন্ম তারিখ বা জন্মদিন পালনের বিষয়ে কী হয়েছিল তা জানা যায়নি।

    তবে তারা যেকোনো দিনই সত্যিকারের জন্মদিন উদযাপন করতে পারেনি তাতনো সন্দেহ নেই।

    শেষ পর্যন্ত, সুইডেন উত্তর ইউরোপে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ অনুসরণ করে।

    দেশটি ১৭৫৩ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে এবং একই পদ্ধতিতে বছরে ১০ দিন এক সাথে ক্যালেন্ডার থেকে বাদ দিয়ে দেয়।

    তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে একটি বিপ্লবী ক্যালেন্ডার চালু করেছিল।

    যেখানে পাঁচ দিনে এক সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং সব মাস ধরা হয় ৩০ দিনে। এতে বছরের শেষে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন বাড়তি থেকে যায়, যা ‘ছুটি’ হিসাবে বিবেচিত হয়।

    সাত দিনের সপ্তাহ বাতিল করার উদ্দেশ্য ছিল সপ্তাহে ছুটির দিনের বাধা ছাড়াই শিল্প উৎপাদন উন্নত করা।

    কিন্তু শিগগিরই এটি উপলব্ধি করা হয় যে রোববারের প্রথাগত বিশ্রামের অভ্যাস দূর করা কঠিন হবে এবং ধারণাটি এক পর্যায়ে বাতিল হয়ে যায়।

    এদিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে ৩০ ফেব্রুয়ারি তারিখটি ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে।

    রে ব্র্যাডবিউরির ছোট গল্প ‘দ্য লাস্ট নাইট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ ৩০ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    ব্রিটিশ লেখক জন রোনাল্ড রিয়েল টলকিয়েন তার ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘দ্য হবিট এবং দ্য লর্ড অফ দ্য রিংসে’ ৩০ ফেব্রুয়ারির কথা উল্লেখ করেছেন।

    তার বই অনুযায়ী হবিটরা একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করে যেখানে ফেব্রুয়ারি মাস ছিল ৩০ দিনে। তবে বাস্তব জগতেও এই তারিখের ব্যবহার হতে দেখা গিয়েছে।

    যখন কোনো মানুষের মৃত্যুর তারিখ অজানা থাকে তখন তাদের সমাধি প্রস্তর বা এপিটাফে জন্ম তারিখ হিসেবে ৩০ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে রেকর্ড করা হয়।

    সংস্কারের এ ধারা আধুনিক ক্যালেন্ডারের পথ তৈরি করে দিয়েছে, যা আমরা বর্তমানে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসাবে জানি।

    সর্বশেষ সংস্কারের পর থেকে ক্যালেন্ডার ব্যবস্থায় কোনো নতুন পরিবর্তন হয়নি।

    যদিও ফ্রান্সের মতো কিছু দেশে নতুন এই ক্যালেন্ডার সংশোধনের জন্য আন্দোলন হয়েছিল।

    তবে ১৭৯২ সালে ফরাসি বিপ্লব চলাকালে দেশটি তাদের গণিতবিদ গিলবার্ট রোমের ডিজাইন করা একটি ‘প্রজাতন্ত্রী’ ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।

    এই ক্যালেন্ডারে ধর্মীয় রেফারেন্স বাদ দেয়া হয় এবং মাসগুলোর নতুন নাম দেয়ার চেষ্টা করা হয় – নতুন নামে প্রাকৃতিক ঘটনা এবং কৃষি খাতের নানা বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল।

    কিন্তু ক্যালেন্ডারের নতুন এ সংস্করণের স্থায়িত্ব ছিল খুব সংক্ষিপ্ত।

    এরপর ১৮১৪ সালে নেপোলিয়নের উৎখাতের পর, ফ্রান্স দ্রুতই ত্রয়োদশ গ্রেগরির তৈরি এবং জুলিয়াস সিজারের সংস্করণের ক্যালেন্ডারে ফিরে আসে।

    সূত্র : বিবিসি