Category: ফিচার

  • যে সকল কারণে দুই হাতেই ব্লাড পেশার মাপা উচিত

    যে সকল কারণে দুই হাতেই ব্লাড পেশার মাপা উচিত

    চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ব্লাড প্রেশার বা শরীরে রক্তের চাপ মাপার মেশিনকে স্ফিগমোমেনমিটার বলে। বর্তমানে ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিন বহুল ব্যবহৃত হলেও গত একশ বছরের উপরে ব্লাড প্রেশার মেশিন ছিল মার্কারি বা পারদ দিয়ে তৈরি। ১৮৮১ সালে Von Basch সর্ব প্রথম স্ফিগমোমেনমিটার আবিষ্কার করলেও ১৯৮৬ সালে Scipione Riva-Rocci মার্কারি প্রথম সেটা আধুনিকায়ন করেন।

    ডাক্তারের কাছে গেলে রোগীর মুখে তার সমস্যা শোনার কিংবা জানার পর প্রতিটি ডাক্তার সার্বিকভাবে রোগী বা মানুষটি কেমন আছেন, তার শরীরের সার্বিক অবস্থা সেই মুহূর্তে কেমন, তা জানতে কয়েকটি মৌলিক পরীক্ষা করেন। হাতের কব্জিতে চেক করেন পালস, বাহুতে চেক করেন ব্লাড প্রেশার, কপালে হাত দিয়ে অথবা থার্মো যন্ত্র দিয়ে দেখেন শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা, বুকের দিকে তাকিয়ে গুনে নেন শ্বাস-প্রশ্বাসের হার। এমন করে একজন মানুষের শরীরে ওই মুহূর্তে কোনো সমস্যা আছে বা যাচ্ছে কিনা, তার প্রাথমিক একটা ধারণা নেন চিকিৎসক। এই প্রাথমিক কাজগুলোর একটি এবং অন্যতম হলো শরীরের রক্তচাপ মাপা।

    ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ হলো রক্তবাহী নালিতে রক্তের চাপ। শরীরে রক্তনালি দুই প্রকার। Artery বা ধমনি, Vein বা শিরা। শরীরের সব রক্ত নিয়ন্ত্রণ করে হার্ট। এই হার্ট পাম্প করে ধমনির মধ্যে দিয়ে সারা দেহের বিভিন্ন অংশে রক্ত পৌঁছে দেয় এবং শিরার মাধ্যমে সেই রক্তগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে আবার হার্টে এসে পৌঁছায়। হার্ট হলো রক্তের সাময়িক রিজার্ভার, আবার একই সঙ্গে পাম্প মেশিন।

    বিশেষ করে Artery বা ধমনির মধ্যে দিয়ে রক্ত যখন শরীরের বিভিন্ন অংশে যায়, রক্তগুলো তখন রক্তবাহী নালিতে চাপ দেয়। সেই চাপকে বলা হয় ব্লাড প্রেশার বা রক্তের চাপ। এ চাপটি মাপা হয় হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা মেপে। হার্ট যখন পাম্প করে সারা শরীরে রক্ত পৌঁছায়, তখন যে চাপ দেয়, সেটিকে বলে সিস্টোলিক প্রেশার। আর যখন কোনো চাপ না দিয়ে পরবর্তী চাপের আগে হার্ট বিশ্রামে থাকে, তখন হার্টের চাপ কমে আসে এবং যে চাপটি অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলে ডায়াস্টোলিক প্রেশার।

    এই দুটো চাপ একটা রেঞ্জের মধ্যে থাকলে ধরে নেওয়া হয় হার্ট ভালো আছে, আর রেঞ্জের বাড়তি কমতি হলে ভাবে হার্ট সমস্যাগ্রস্ত। এই রেঞ্জের বেশি হয়ে গেলে তাকে বলে হাই ব্লাড প্রেশার বা হাইপারটেনশন, রেঞ্জের থেকে কমে গেলে বলে লো ব্লাড প্রেশার বা হাইপোটেনশান। আর রেঞ্জের মধ্যে থাকলে তাকে বলে নরমাল ব্লাড প্রেশার বা নর্মটেনশন। ব্লাড প্রেশারের নরমাল রেঞ্জ ধরা হয় ১২০/৮০। ১২০ হলো তার সিস্টোলিক চাপ, ৮০ হলো তার ডায়াস্টোলিক চাপ। যদি প্রেশার বেড়ে গিয়ে ১৪০/৯০ হয়, তখন তাকে বলে হাই ব্লাড প্রেশার, আবার প্রেশার কমে গিয়ে ৯০/৬০-এর নিচে চলে গেলে তাকে বলে লো ব্লাড প্রেশার।

    ব্লাড প্রেশার সচরাচর মাপা হয় বাম হাতের বাহুতে। যদিও এতে বিশেষ কোনো সুবিধা বা পার্থক্য নেই। বেশিরভাগ মানুষ ডানহাতি বলেই বাম হাতে প্রেশার মাপা হয়। সঙ্গে প্রেশার মাপার সময় বাহু হার্টের লেভেলে থাকলে প্রেশার নির্ভুল হয়। অধিকাংশ ডাক্তার কিংবা চিকিৎসাসেবা দানকারীরা অনেকদিন থেকেই ডান হোক আর বাম হোক, এমন এক হাতে ব্লাড প্রেশার মেপে থাকেন।

    গবেষণায় দুটো রেজাল্ট পাওয়া গেছে-

    এক. যদি দুই হাতের ব্লাড প্রেশারের সিস্টোলিক বা বেশি সংখ্যাটি অথবা ডায়াস্টোলিক বা কম সংখ্যাটির যে কোনো একটির পার্থক্য ১৫-এর বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ হাতে, পায়ে অথবা শরীরের কোথাও হচ্ছে।

    দুই. যদি দুই হাতের ব্লাড প্রেশারের সিস্টোলিক বা বেশি সংখ্যাটি অথবা ডায়াস্টোলিক বা কম সংখ্যাটির যে কোনো একটির পার্থক্য ১০-এর বেশি হয় তাহলে কার্ডিওভাসকুলার কোনো সমস্যায় ভুগছেন।

    দুই হাতের এই পার্থক্যটি সংখ্যায় সামান্য কিংবা দশের কম হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সচরাচর কম বয়সীদের চেয়ে বেশি বয়সিদের মধ্যে এমন পার্থক্যের রেঞ্জ দেখা যায়। কারণ বয়স বাড়লে রক্তে কলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে রক্তনালিতে কলেস্টেরল ক্লগ তৈরি হয়ে রক্তনালির প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে।

    অনেকসময় হার্টের মূল রক্তনালি এওর্টাতে কোনো ক্ষতের সৃষ্টি হলে তখনও দুই হাতের ব্লাড প্রেশারে পার্থক্য দেখা দেয়।

    লেখক : চিকিৎসক, ইংল্যান্ডে কর্মরত

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১ হাজার ছাড়ালো

    গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১ হাজার ছাড়ালো

    অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে প্রতিদিনই শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে। রামাল্লাহ এবং পশ্চিম তীরে তীব্র অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। অপরদিকে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিশ্চিত করেছে।

    এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার গাজার মধ্যাঞ্চলে স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে গাজার মধ্যাঞ্চল ও খান ইউনিস থেকে পালাচ্ছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। কিন্তু গাজার কোনো স্থানই এখন নিরাপদ নয়। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাও ইসরায়েলি আগ্রাসনের কবলে পড়ছে।

    গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৫৫ হাজার ২৪৩ জন।

    সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরে দ্য প্যালেস্টিনিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদরদপ্তরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ মনে করা হলেও ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য থেকে বাদ পড়েনি।

    রেড ক্রিসেন্টের মূল ভবনের উপরের ফ্লোরে হামলা চালানো হয়। এতে পুরো ভবন এবং এর আশেপাশে স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার বাস্তূচ্যুত ফিলিস্তিনি ওই ভবনকে নিরাপদ ভেবে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়া সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে পালিয়ে আসা লোকজনও ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন।

    গত কয়েকদিনে সেখানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ বাস্তূচ্যুত ফিলিস্তিনিই খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চল থেকে এসেছে। এদিকে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সংস্থাটির উপরের ফ্লোরে ইসরায়েলি বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

  • কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

    কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

    কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

     ইউক্রেনের হামলায় কৃষ্ণ সাগরের একটি বন্দরে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ার ফিওদোসিয়ায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।  রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী ইউক্রেনীয় বিমানের আঘাতে নোভোচেরকাস্ক বিধ্বস্ত হয়। এর আগে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর প্রধান বলেছিলেন, তাদের যুদ্ধবিমান জাহাজটি ধ্বংস করে দিয়েছে। 
    ক্রিমিয়ার প্রধান সের্গেই আকসিওনভ জানায়, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হামলায় ছয়টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু সংখ্যক লোককে অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকাটিকে নিরাপত্তা কর্মীরা ঘিরে ফেলার এখন পর বন্দরের পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।  
  • ডায়েট করে বা জিমে গিয়েও কেন কমছে না ওজন ?

    ডায়েট করে বা জিমে গিয়েও কেন কমছে না ওজন ?

    যারা মোটা বা যাদের অতিরিক্ত ওজন তাদের অনেকেই একটা অভিযোগ করেন যে, ডায়েট করে আর ব্যায়াম করেও শুকাতে পারছেন না তারা, বা ওজন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। কিন্তু এমনটা হওয়ার কারণ কী?
    ‘মোটা’, ‘ওজন বেড়ে যাওয়া’, বা স্থূলতা এই শব্দগুলো শুনলে ঘুরেফিরে একটা বিষয় মাথায় আসে – আর সেটা হল অস্বাস্থ্যকর আর অপরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং আরাম আয়েশের জীবন যাপন।

    ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে এগুলো বড় কারণ অবশ্যই। তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা ডায়েট করেও ওজন কমাতে পারছেন না তাদের এই ওজন বাড়ার পেছনে রয়েছে ভিন্ন আরেকটি কারণ।

    আর সেটা হল ‘ওবিসোজিনস’। ওবিসোজিনস হল এমন এক ধরণের কেমিকেল যা আপনার পরিপাকতন্ত্রে আঘাত হানে এবং অনেক সময় সেক্স হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলে।
    কারো শরীরে ওবিসোজিনস বেশি পরিমাণে থাকলে তার শরীরে চর্বি জমার জন্য যে কোষগুলো দায়ী সেই কোষের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেয়। আবার যেসব ব্যাকটেরিয়া চর্বি শোষণ করে, সেগুলোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে চামড়ার নীচে চর্বির আবরণের ঘনত্ব বাড়তে থাকে।
    সেইসাথে টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং এই দুটির প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও দেখা দেয়।
    সেইসাথে লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমতে থাকায় হরমোনের কার্যকলাপেও পরিবর্তন আসে, হজমেও সমস্যা দেখা দেয়।
    তবে এই কেমিকেল সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যদি কেউ মাতৃগর্ভে বা ছোটবেলায় এই কেমিকেলের সংস্পর্শে আসেন।
    তখন সেটা ‘ডিএনএ’র গঠনকে পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এতে ওই ব্যক্তির জিনের বৈশিষ্ট্য, কোষের কার্যকলাপ বদলে যায়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করতে পারে।

    সহজ কথায় ওবিসোজিনসের কারণে মানুষের হজম শক্তি, প্রজনন ও বৃদ্ধি এই তিনটিই বেশি প্রভাবিত হয়।

    ওবিসোজিনস কেমিকেল কেন বাড়ে?

    আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি, এমন অনেক পণ্যে এই ওবিসোজেনিক কেমিকেল বা রাসায়নিক উপাদানগুলো রয়েছে।
    যেমন: ডিটারজেন্ট বা যেকোনো পরিষ্কারক উপাদান, প্রসাধনী বা ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বাসন, রান্নার সামগ্রী, পোশাক, খেলনা, চিকিৎসা সামগ্রী ইত্যাদি।
    এসব পণ্য আমাদের জীবনের সাথে এমনভাবে জুড়ে আছে যে চাইলেই এর প্রভাব এড়ানো যাবে না।
    কিন্তু নিয়মিত এসব পণ্য ব্যবহারের ফলে খাবার, পানি ও বাতাস আরো বেশি দূষিত হচ্ছে এবং মানুষের স্থূলতা ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
    মানুষের শরীরে এমন ৫০ ধরণের ওবিসোজেনিক কেমিকেল রয়েছে যার কোনো একটা বেড়ে গেলে ওজন বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে পাঁচ ধরণের ওবিসোজিনসে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে।

    ১.বিপিএ

    ২.প্যাথালেট

    ৩.অ্যাট্রাজিন

    ৪.অর্গানোটিন্স

    ৫.পিএফওএ

    বিপিএ

    বিভিন্ন ফুডক্যান, খাবার ও পানীয় পাত্র, পলিকার্বোনেট প্লাস্টিকের সামগ্রী ও ইপোক্সি রেজিনে বিপিএ থাকে। এটা নারীদের সেক্স হরমোন এস্ট্রোজেন, শরীরের চিনির ভারসাম্য রাখা ইনসুলিনের উৎপাদন এবং চর্বির গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।
    কেউ যদি বিপিএযুক্ত প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করেন বা গরম খাবার সংরক্ষণ করেন তাহলে মানুষ সেই খাবারের মাধ্যমে বিপিএ’র সংস্পর্শে আসে।

    সব বয়সী মানুষ এমনকি নবজাতকের শরীরেও বিপিএ পাওয়া গিয়েছে। সাধারণত রক্ত, প্রস্রাব, বুকের দুধ ও চর্বি পরীক্ষা করে বিপিএ আছে কিনা জানা যায়।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএ’র মতে, খাবারের প্যাকেটে যে পরিমাণ বিপিএ থাকে তা খুবই সামান্য এবং এতে মানবদেহে ক্ষতির ঝুঁকি নেই।

    প্যাথালেটস

    প্লাস্টিককে টেকসই ও নমনীয় করতে প্যাথালেটস ব্যবহৃত হয়। সাধারণত খেলনা, চিকিৎসা সামগ্রী, খাদ্যের প্যাকেজিং, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, নেইল পলিশ, লোশন ও পারফিউমে প্যাথালেটস পাওয়া যায়।
    এই কেমিকেলটি পুরুষদের যৌন হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের ওপর প্রভাব ফেলে, হজমে সমস্যা তৈরি করে; যার কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিসসহ ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    সাধারণত প্যাথালেটযুক্ত পাত্র ও প্যাকেজিং এর খাবার খেলে বা এই কেমিকেলযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে এমনকি ধুলোবালি থেকেও মানুষের শরীরে এই কেমিকেল প্রবেশ করতে পারে।
    তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে যে খাবার প্যাকেটে বা প্রসাধনীতে যে পরিমাণে প্যাথালেট থাকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

    অ্যাট্রাজিন

    অ্যাট্রাজিন কেমিকেলটি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে মাটি ও পানিতে এই কেমিকেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
    এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌন হরমোনের ওপরে প্রভাব ফেলে। সেইসাথে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, জন্মগত ত্রুটি এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

    অর্গানোটিন্স

    এই কেমিকেলটি বেশি পাওয়া গিয়েছে পিভিসি পণ্য যেমন পাইপ, নৌকা বা জাহাজে ব্যবহার করা অ্যান্টিফাঙ্গাল পেইন্ট ও কীটনাশকে।
    এ কারণে পানিতে ও সামুদ্রিক শামুকে এই কেমিকেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
    সেইসাথে প্লাস্টিক র‍্যাপ, প্লাস্টিকের খেলনা, স্টেশনারি, কাপড়েও এই কেমিকেল পাওয়া গিয়েছে। যার প্রভাব সেক্স হরমোনের ওপর পড়ে এবং শরীরে চর্বি বাড়তে থাকে।

    পিএফওএ

    যেকোনো পানিরোধী কাপড় যেমন: রেইনকোট/ছাতা/তাঁবু, ননস্টিক রান্নার সামগ্রী, প্রসাধনী, পরিষ্কারক পণ্য, দাগ প্রতিরোধক, মাইক্রোওয়েভের খাবার এমনকি পানিতেও পিএফওএ পাওয়া গিয়েছে। এর প্রভাবে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

    এই কেমিকেল কিভাবে এড়ানো যায়?

    ওবিসোজিনস কেমিকেলের সংস্পর্শ এড়াতে কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    # সবার আগে ধূমপান ছাড়তে হবে
    # প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় খাওয়া যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে
    # প্লাস্টিকের বাসনপত্রের পরিবর্তে কাঁচ, স্টিল বা মাটির পণ্য ব্যবহার
    # প্লাস্টিকের পাত্র যদি ব্যবহার করতেই হয় সেটা এসব কেমিকেলমুক্ত কিনা পরীক্ষা করা, তবে যে প্লাস্টিকই হোক সেটায় খাবার গরম করা যাবে না বা গরম খাবার পরিবেশন করা যাবে না
    # কীটনাশক দেয়া খাবার খাওয়া কমানো
    ক্ষতিকর কেমিকেলমুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা