Category: ব্যাংক

  • কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না বললেন গভর্নর

    কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না বললেন গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না। আমাদের গ্রোথ কমেনি। চার মাস পার করছি, মূল্যস্ফীতি কমাতে আমাকে আরও ৮ মাস সময় দিতে হবে।

    তিনি বলেন, বিগত সময়ে ব্যাংকখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দ্রুত সব সমাধান হবে না। কারণ এক ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকার এসেট এক পরিবার ২৩ হাজার নিয়েছে সেখানে আমার হাতে ম্যাজিক নেই। তবে কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না এটা বলতে পারি। দুর্বল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারছে না এ কারণে তাদের তারল্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সব সমাধানও হয়ে যাবে।

    সোমবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘তৃতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন: বৈষম্য, আর্থিক অপরাধ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির নিরাময়’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা শুধু মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করছি না। সব প্রয়োজনীয় পণ্য এলসি খোলা, শুল্ক শিথিল করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক মূল্য কমাতে শুল্ক হ্রাসসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, আশা করছি মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারব। গত তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে কোনো কিছু করেনি।

    বেক্সিমকোতে রিসিভার নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বেক্সিমকো সচল রাখতেই রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিসহ সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অগ্রগতিও হয়েছে।

  • পদ্মায় আটকে থাকা ৮৭৪ কোটি টাকা উদ্ধারে জোর চেষ্টা

    পদ্মায় আটকে থাকা ৮৭৪ কোটি টাকা উদ্ধারে জোর চেষ্টা

    পদ্মা ব্যাংকের কাছে আটকে থাকা জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের ৮৭৪ কোটি টাকা উদ্ধারে পথনকশা চেয়েছে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পদ্মা ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামীকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সভায় পদ্মা ব্যাংকে আটকে থাকা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিল উদ্ধারের বিষয়েও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। ২০১৫ সালে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) গুলশান, মতিঝিল ও গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখায় এক বছর মেয়াদে ৫০৮ কোটি টাকা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল থেকে স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হয়।

    মেয়াদ শেষে সুদাসল পরিশোধ না করায় ২০১৮ সাল পর্যন্ত এটি নবায়ন করা হয়। ওই সময় পর্যন্ত কয়েক দফায় পদ্মা ব্যাংক মাত্র ৮০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত সুদ-আসলে আটকে থাকা অর্থ দাঁড়ায় ৫৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ আমানতের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভিন্ন সময় ট্রাস্ট অর্থ উঠাতে চাইলে দেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদ-আসলসহ ব্যাংকটির কাছে সংস্থাটির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮৭৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

    ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর পদ্মা ব্যাংক উল্লেখযোগ্য অনিয়মের কারণে তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়।

    তারপরও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মতো সরকারি সংস্থাগুলো উচ্চ সুদের প্রলোভন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পদ্মা ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে।
    এ অর্থ উদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় এ অর্থ নগদায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আলোচনাপূর্বক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুনিদির্ষ্ট পথনকশা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় দেশের আর্থিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হলেও কোনো ব্যাংক থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রিসভা কিংবা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কখনও আলোচনা হয়নি।

    বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ বারবার ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করে এবং চিঠি দিয়েও টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। কিন্তু ব্যাংক সুদ বা আসল বাবদ কোনো টাকা দেয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও আলোচনা করে অর্থ ফেরত আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগের গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তারপরও পদ্মা ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
    ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ এ অবস্থায় কীভাবে এ টাকা ফেরত নেওয়া হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকটির অবস্থা যদিও ভালো না, তবু আমাদের পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে হবে। এ জন্য আমরা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।

    আরও যেসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল আটকে রয়েছে
    পদ্মা ব্যাংকে বছরের পর বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ আমানত আটকে থাকলেও ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান নাফিজ সারাফাত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে নবায়ন সুবিধা নিয়েছেন। তিনি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত চাওয়ার অনুরোধ আমলে না নিয়ে বছরের পর বছর অর্থ আটকে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    পদ্মা ব্যাংকে আটকে থাকা ১৭৯ কোটি টাকা ফেরত পেতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশন পদ্মা ব্যাংকে ১০৯ কোটি টাকা জমা করেছিল। ২০১৮ সালের মধ্যে সুদ বেড়ে সেই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৫ কোটি টাকা। তখন থেকে আমানত নগদায়নের জন্য পদ্মা ব্যাংককে ৩১টি চিঠি দিয়েও টাকা ফেরত পায়নি জীবন বীমা করপোরেশন।

    ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে পদ্মা ব্যাংকে ৫৩ কোটি টাকা এফডিআর রাখে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানটিও বাধ্য হয়ে পদ্মা ব্যাংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ধাপে ধাপে পরিশোধের শর্তে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এফডিআর নবায়ন করেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনেরও (বিটিআরসি) ২৫ কোটি টাকার এফডিআর আটকে আছে এ ব্যাংকে।

    পদ্মা ব্যাংক কেলেঙ্কারি

    যাত্রা শুরু করার তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আর্থিক অনিয়মের জন্য আলোচনায় আসে পদ্মা ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ব্যাংকটি থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়, যার বড় অংশ এখন খেলাপি।

    এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিস্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত দু’জন ২০১৭ সালের নভেম্বরে পদত্যাগে বাধ্য হন।

    ২০১৮ সালে ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারে তৎপর হয় সরকার। এর অংশ হিসেবে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ৭১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাংকটির ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়।
    তবে বিনিয়োগের পর থেকে ব্যাংকটি ক্রমাগত লোকসান করায় রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগের বিপরীতে কোনো লভ্যাংশ পায়নি। উল্টো এসব অর্থের বিপরীতে আমানতকারীদের সুদ পরিশোধ করছে বিনিয়োগকারী তিন ব্যাংক ও আইসিবি।

  • প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স এলো অক্টোবরে

    প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স এলো অক্টোবরে

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

    এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল মোট ২৪০ কোটি বা ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে এটি ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

    রোববার (৩ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা শিখা গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ৩০ অক্টোবর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ১৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

    আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাস মিলিয়ে দেশে ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল মোট ২৪০ কোটি বা ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে এটি ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

    রোববার (৩ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা শিখা গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ৩০ অক্টোবর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ১৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

    আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাস মিলিয়ে দেশে ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

    অক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা
    সাইবার হামলার আশঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা
    বেসরকারি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, সার ও পণ্য ইত্যাদি আমদানির জন্য দেশ যখন প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়ে, ঠিক তখনই রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়ে যায়।

    আর্থিক বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংকারদের মতে, আসলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে দুটি কারণে। প্রথমত, উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানি বিলের আন্ডার-ইনভয়েসিং হ্রাস পেয়েছে। আগে এ প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হলেও এখন এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থপাচার অনেকটা কমেছে। ফলে সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আগের চেয়ে বেশি ডলার আসা শুরু করেছে।

     

  • বঙ্গবন্ধুর ছবি টাকা থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে

    বঙ্গবন্ধুর ছবি টাকা থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে

    ২০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও এক হাজার টাকা মূল্যমানের নতুন নোট ছাপাবে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব নোট নতুন করে নকশা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আপাতত এই চার ধরনের নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব টাকার নোট থেকেই বঙ্গবন্ধুর ছবি তুলে দেওয়া হতে পারে। নতুন নোট বাজারে আসতে দেড় বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।

     

    অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান নকশা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে চারটি নোট পুনরায় নকশা করা হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য নোটগুলোতেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২৯ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে নতুন নোটের বিস্তারিত নকশার প্রস্তাব জমা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছে। নতুন নোট ছাপানোর বিষয়ে মূল সুপারিশ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা উপদেষ্টা কমিটি। কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-১। কমিটিতে চিত্রশিল্পীরাও রয়েছেন।

    বর্তমানে বাংলাদেশের ২ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত সব কাগুজে নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে। কোনো কোনো নোটের উভয় পাশেই রয়েছে তাঁর ছবি। ধাতব মুদ্রাগুলোতেও তাঁর ছবি রয়েছে। অর্থ বিভাগের চিঠিতে নতুন নোট প্রচলনে কী ধরনের নকশা করা যায় তা বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো বাজারে ১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট ছাড়া হয়। এসব নোটের প্রতিটিতেই শেখ মুজিবের ছবি ছিল। পরে বিভিন্ন সরকারের সময়ে নতুন নতুন নোট প্রচলনের পাশাপাশি পুরোনো নোটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি সংবলিত ১০ ও ৫০০ টাকার নোট ছাপে।

    সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এরপর থেকে সব কাগুজে নোটেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ছাপানোর রেওয়াজ শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ব্যাংক নোট বা ব্যাংক মুদ্রা হচ্ছে ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট। এগুলো বের করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ১, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সা; এক টাকা, দুই টাকা ও পাঁচ টাকার নোট ও ধাতব মুদ্রা হচ্ছে সরকারি মুদ্রা। এগুলো অর্থ বিভাগ বের করে।

  • শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত রাখতে এনবিআরের চিঠি

    শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত রাখতে এনবিআরের চিঠি

    দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, এস আলম, নাসা, সামিট, ওরিয়ন ও থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (নগদ লিমিটেড) মালিকানা হস্তান্তর স্থগিত রাখতে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

     

    চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ২২৩ ধারার আওতায় এনবিআর কর ফাঁকি রোধে সম্পত্তির অন্তবর্তীকালীন অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোকের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

    “চলমান তদন্ত অনুযায়ী, এই কোম্পানি সমূহের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগসহ আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।”

    এ কারণ দেখিয়ে ‘জনস্বার্থে’ এসব কোম্পানির শেয়ার স্থানান্তর (কেনা-বেচা ও দান) স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে।

    গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসন অবসানের পর সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি আর্থিক খাত এবং বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে তৎপর হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন। তখনই বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, সামিট, ওরিয়ন ও নাসার মালিকদের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে সিআইসি।

    বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তখন চিঠিও পাঠায় আর্থিক খাতের এ গোয়েন্দা সংস্থা।

    বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এনবিআরের তরফ থেকে প্রথম অনুসন্ধান শুরু হয় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে। এনবিআরের আয়কর বিভাগের কর অঞ্চল-১৫ এর কমিশনার তাদের ব্যাংক হিসাব তলব করে চিঠি পাঠায় সব ব্যাংকে। সাইফুল আলমের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ক্রেডিট কার্ডের তথ্যও চাওয়া হয় কর অঞ্চল থেকে।

    সে সময় ওই কর অঞ্চলের কমিশনার ছিলেন সিআইসির বর্তমান মহাপরিচালক আহসান হাবিব।

    এদিকে মোবাইলে আর্থিক সেবার কোম্পানি নগদ নিয়ে এনবিআরের কোনো দপ্তর থেকে এর আগে কোনো উদ্যোগ না থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে তৎপর হয়েছে।

    নানান অনিয়ম ও অভিযোগের ভিত্তিতে ২১ অগাস্ট নগদের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান দিদারকে। তাকে সহায়তা করতে ছয় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করতে ‘ম্যানেজমেন্ট বোর্ড’ নামের একটি পর্ষদ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচ সদস্যের এ পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয় বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করে দেওয়া প্রশাসক এবং তার সহায়ক দলকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিতে এ পর্ষদ গঠন করে দেওয়ার কথা বলা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে।

     

  • জয়-পুতুল-রাদওয়ানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    জয়-পুতুল-রাদওয়ানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এছাড়া শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

     

    সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকবে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার সময় বাড়ানো হবে।

    ইইউর চিঠিতে বলা হয়, তাদের লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে। ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে জয় ও পুতুলের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হলে তাদের হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

  • পাচার অর্থ ফেরাতে জন্য টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়েছে

    পাচার অর্থ ফেরাতে জন্য টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়েছে

    পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফেরত আনা ও ব্যবস্থাপনার লক্ষে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করেছে সরকার। গত বছরের জানুয়ারিতে গঠিত এ টাস্কফোর্স পুনর্গঠনে আজ রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

     

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে ৯ সদস্যের এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। গভর্নর ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বিএফআইইউ-এর একজন উপযুক্ত প্রতিনিধিকে টাস্কফোর্সের সদস্য করা হয়েছে।

    টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিতকরণ ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা প্রদান; পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে দায়েরকৃত মামলাসমূহের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও তা দূরীকরণে উদ্যোগ গ্রহণ; বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ; জব্দ বা উদ্ধারকৃত সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ, বিদেশী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য আহরণ; এবং পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সাধন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী টাস্কফোর্সের কার্যাবলি সমন্বয় করবেন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) টাস্কফোর্সকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

    টাস্কফোর্স প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারি কোনো সদস্য কৌ-অপ্ট করতে পারবে এবং কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞকে সভায় উপস্থিত হওয়াসহ বিশেষজ্ঞ মতামত/পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করতে পারবে।

  • হুসনে আরা শিখা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুখপাত্র

    হুসনে আরা শিখা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুখপাত্র

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা। একই সঙ্গে দুজন সহকারী মুখপাত্র করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

     

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. জবদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই নির্দেশে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী এবং ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনসের পরিচালক সাঈদা খানমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা মেজবাউল হকের স্থলাভিষিক্ত হলেন। মেজবাউল হকের আগে মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক জি এম আবুল কালাম আজাদ।

    মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত হুসনে আরা শিখা ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।

     

  • এই অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১২.৪ শতাংশ: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    এই অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১২.৪ শতাংশ: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এখন অবস্থার প্রেক্ষিতটা পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে এবার রপ্তানি আয় আগের থেকে কমবে না, বরং বেশি হবে। আমেরিকাও সবদিক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টি রাখবে।

     

    আজ রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ১৪৬তম বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনষ্টিটিউট’র ৫৯তম পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    আপনারা কি এই অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্র ঠিক করেছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, রপ্তানি নিয়ে কিছু কিছু তথ্যগত ইস্যু ছিলো। আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করেছি। যারা যারা তথ্য সংগ্রহ করে, আমরা সবগুলো চালু রাখবো। আমরা সবগুলো সমন্বয় করে সত্য চিত্র দেবো। একেকজন একেক রকম তথ্য দেবে, সেটা হবে না। কিছুটা পার্থক্য থাকে, এটা স্বীকার করতে হবে। বিরাট অসংগতি দূর করা হবে।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা হবে যুক্তিসংগত। বিভিন্ন কম্পোনেন্ট আছে রপ্তানির; এগুলো দেখবো। বিভিন্ন পণ্য আছে এগুলো দেখবো। আর রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে; রেগুলেটরি, ট্যাক্স-সংক্রান্ত সেগুলো আমরা রিভিউ করবো। রপ্তানি যেন ডাইভারসিফাইড (বহুমুখীকরণ) করা হয়, সেটা আমাদের লক্ষ্য।

    রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে আপনাদের প্রজেকশন কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা রিয়েলাইজড করেছি, এটা (রপ্তানি প্রবৃদ্ধি) মোটামুটি ভালো হবে। অবস্থার প্রেক্ষিতটা চেঞ্জ হয়েছে, অতএব আগের থেকে কমবে না, বেশি হবে।

    আপনারা কি আমেরিকায় জিএসপি সুবিধা পাবেন এবার? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, জিএসপি সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে তাদের বলা হয়েছে। আমরা আবার চেষ্টা করবো। আশা করি, আমেরিকা আমাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টি রাখবে সবদিক থেকে। অতএব জিএসপিটা পজেটিভ। আমরা অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছি রপ্তানির বিষয়ে।

    চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কতো হতে পারে? সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে সাহেলউদ্দিন আহমেদ বলেন, এবার রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।

  • টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে আর কোনো সীমা থাকছে না

    টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে আর কোনো সীমা থাকছে না

    ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো সীমা থাকছে না।আগামীকাল রবিবার থেকে ব্যাংকে যতো ইচ্ছা ততো টাকা উত্তোলন করা যাবে। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

     

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার থেকে ব্যাংক হিসাবের টাকা উত্তোলনে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। যে কেউ যেকোনো অ্যামাউন্টের টাকা নিজ নিজ হিসাব থেকে তুলতে পারবেন।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছিল, একজন গ্রাহক ব্যাংক থেকে দৈনিক ৫ লাখ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা থেকে সরে এল বাংলাদেশ ব্যাংক।

    উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। এসব অর্থ যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য নগদ টাকা উত্তোলন কিছুটা নিরুৎসাহিত কর‌তে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।