Category: ব্যাংক

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

     

    খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ আর ফেরত আসছে না। অন্যদিকে সরকার পতনের পর এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরানার বেশির ভাগ ব্যবসায়ী পালিয়েছেন। এতে আগামীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মোট ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ খেলাপি। তিন মাস আগে, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বিতরণের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

    সে হিসাবে জুন প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৯ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাসে বেড়েছিল ৩৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা।

     

  • ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা বাতিল

    ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা বাতিল

    অপ্রদর্শিত অর্থ হিসেবে বিবেচিত কালো টাকা বৈধ বা সাদা করার সুযোগ আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার চার দিনের মাথায় এবার প্রজ্ঞাপন করে তা বাতিল করা হয়েছে।

     

    ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে ঢালাওভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এর কারণ হিসেবে দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি বলছে, ’একটি ন্যায়নিষ্ঠ সমতাভিত্তিক কর ব্যবস্থার’ জন্য এমন সুযোগ ‘বৈষম্যমূলক’।

    এ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, “একজন নিয়মিত করদাতাকে তার আয়ের উপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর প্রদান করতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে প্রদেয় করের উপর আরও সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ প্রদান করতে হয় বিধায় মাত্র ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদান করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দেওয়া একটি ন্যায়নিষ্ঠ সমতাভিত্তিক কর ব্যবস্থার জন্য বৈষম্যমূলক।”

    আগের সরকার অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ করদাতাদের সমালোচনার পরও চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিনাপ্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ, নগদ টাকা এবং শেয়ারসহ যেকোন বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ দেয়।

    তবে সরকার পতনের পর দায়িত্বে আসা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সুযোগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    এর চার দিনের মাথায় তা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন করা হল; যাতে বলা হয়েছে, “১৫ শতাংশ আয়কর পরিশোধ করে নগদ অর্থসহ অপরিদর্শিত সমজাতীয় পরিসম্পদ প্রদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তি করা হল।”

    তবে চলতি বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগেরে জন্য দেওয়া আরেকটি সুযোগের বিষয়ে এ প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি।

    এতে করে স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেস ও ভূমি আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত থাকলে তা নির্ধারিত হারে আয়কর দিয়ে বৈধ করার বিধানটি বহাল থাকছে।

    অর্থ আইনের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্লোর স্পেসের ক্ষেত্রে মৌজাভেদে প্রতি বর্গমিটারে ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা আয়কর দিয়ে তা বৈধ করা যাবে।

    এছাড়া ভূমির ক্ষেত্রে মৌজাভেদে প্রতি বর্গমিটারে ৩০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা আয়কর দিলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এ পরিসম্পদ অর্জনের উৎস বিষয়ে আয়কর আইন ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। যদি সেই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেন।

    তবে কর ফাঁকির কার্যধারা চলমান থাকলে কিংবা যেকোনো আইনের অধীন ফৌজদারি মামলার কার্যধারা চলমান থাকলে এই নিয়মে কর পরিশোধ করা যাবে না।

    এদিন এনবিআর অপরিদর্শিত অর্থ ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বাতিলের বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি সত্যিকারের বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ানুগ ও প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

    অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বা অর্থ সাদা করার পরও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে কোনো বাধা না থাকার প্রভাব পড়ে কালো টাকা সাদা করায়। সবশেষ ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেউ কালো টাকা সাদা করেনি।

    তবে এর আগের বছর ২০২১-২২ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করেন দুই হাজার ৩১১ জন; অর্থের পরিমাণে তা এক হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

    এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    একইসঙ্গে বর্গমিটার প্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে প্লট-ফ্ল্যাট প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তখন ১১ হাজার ৮৫৯ জন করদাতা কালো টাকা সাদা করেন। এরমধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন ২৮৬ জন, জমিতে এক হাজার ৬৪৫ জন, ফ্ল্যাটে দুই হাজার ৮৭৩ জন এবং নগদ অর্থ প্রদর্শন করেছেন সাত হাজার ৫৫ জন।

  • অবশেষে এস আলমের রাহুমুক্ত হলো আরও দুই ব্যাংক

    অবশেষে এস আলমের রাহুমুক্ত হলো আরও দুই ব্যাংক

    দেশের আরও দুই বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

     

    মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক দুটিই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পর্ষদ পুনর্গঠন করায় এস আলমমুক্ত হলো এ দুই ব্যাংক।

    ইউনিয়ন ব্যাংকের নবগঠিত পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপনার পরিচালক মু. ফরীদ উদ্দীন আহমেদকে। এ ছাড়া আরও চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শেখ জাহিদুল ইসলাম।

    এ ছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের নবগঠিত পর্ষদের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচলক মোহাম্মদ নুরুল আমিন। আরও চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল মোল্লা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম খলিফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু হেনা রেজা হাসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মু. মাহমুদ হোসেন। এর আগে এস আলম গ্রুপের দখলে থাকা বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • এবার প্রভাবশালীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুললেই জানাতে হবে

    এবার প্রভাবশালীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুললেই জানাতে হবে

    রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ব্যাংক থেকে যে কোনো পরিমাণ টাকা তুললেই জানানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধমূলক কাজ সংঘটন ঠেকাতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব ব্যাংকের প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

     

    ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তারা নগদ টাকা উত্তোলন তদারকি করছেন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তারা লেনদেনের ক্ষেত্রে নানা নিয়ন্ত্রণ এনেছেন। এর অন্যতম কারণ, এটিএম বুথে টাকা ঢোকাতে রাজি হচ্ছে না সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো। আবার এক শাখা থেকে আরেক শাখায় টাকা নিতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় গ্রাহকরা সব এটিএম বুথে টাকা পাচ্ছেন না। আবার যেসব বুথে টাকা আছে, সেখানে লেনদেন সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়ির নিরাপত্তা বিবেচনায় অনেকেই শাখায় টাকা জমা দিচ্ছেন। অনেকেই বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য টেলিফোন করে জানতে চাচ্ছেন। অচিরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা করছেন।

    প্রভাবশালীদের টাকা উত্তোলন ঠেকানোর নির্দেশ

    জানা গেছে, বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এমন ব্যক্তিদের অনেকেই সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অন্যদের মাধ্যমে চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ টাকা তুলে ডলার করার চেষ্টা করছেন। লেনদেনের ধরন দেখে যা সন্দেহজনক মনে করছে ব্যাংক। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে ফোন করে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে দিকনির্দেশনা চাওয়া হচ্ছে। এরকম অবস্থায় সন্দেহজনক হলে চেক ফেরত দিতে বলা হয়। এসব বিষয়ে সামগ্রিকভাবে একটি নির্দেশনা দিতেই গতকাল ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বিএফআইইউ।

    বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের (পলিটিক্যালি এক্সপোসড পারসন) বড় অঙ্কের লেনদেন বিষয়ে আগে থেকেই কিছু নির্দেশনা রয়েছে। তবে বড় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা, আমলা, ব্যাংকের পরিচালক ইত্যাদি পর্যায়ের ব্যক্তিদের লেনদেনের তথ্য পাঠানোর প্রবণতা কম ছিল। গতকালের বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আপাতত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের যে কোনো ধরনের লেনদেনের তথ্য বিএফআইইউকে জানাতে হবে।

    চাওয়া হয়েছে বেনামি ঋণের তথ্য

    বৈঠকে বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান বেনামি ঋণ নিয়েছে। এই মুহূর্তে বেনামি কোনো ঋণের টাকা ছাড় করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে মঙ্গল ও বুধবার ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানের ৮৪৮ কোটি টাকার বেনামি ঋণ বের করে নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি আলোচনায় আসে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ঋণের অর্থ যেন ছাড় না করা হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে প্রতিটি ব্যাংকের বেনামি ঋণের আসল সুবিধাভোগীর তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে, এ সময়ে নগদ টাকা নিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে খাটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভেঙে ভেঙে একাধিক শাখা থেকে টাকা তুললে তা বোঝার উপায় থাকবে না। এ কারণে টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সন্দেহজনক প্রবণতার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার ১ লাখ টাকার বেশি তোলা যায়নি,দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকাল বৃহস্পতিবার একবারে কাউকে ১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন না করতে দেওয়ার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার গভীর রাতে সব ব্যাংকের এমডিকে এসএমএস দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর পর ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সব শাখায় তা জানিয়ে দেওয়া হয়। মূলত নিরাপত্তা এবং কেউ যেন অপরাধমূলক কাজের জন্য টাকা উত্তোলন না করে, সে জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে এখন একটি বিশেষ পরিস্থিতি চলছে। এ সময়ে কেউ একবারে বেশি টাকা তুললে নিরাপত্তার ইস্যু রয়েছে। আবার নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যাংকগুলো এক শাখা থেকে আরেক শাখায় টাকা নিতে সমস্যা হচ্ছে। এটিএম বুথেও টাকা রাখতে পারছে না। সব মিলিয়ে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যাংক যেহেতু ঠিক মতো টাকা আদান-প্রদান করতে পারছে না, যে কারণে অনেক এটিএম বুথে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব বুথে টাকা মিলছে সেখানেও টাকা উত্তোলনের সীমা অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী রোববার থেকে সমস্যা থাকবে না বলে তিনি আশা করেন।

    সূত্র : অনলাইন ডেস্ক

  • বাংলাদেশ ব্যাংক সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল

    বাংলাদেশ ব্যাংক সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল

    প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার অফিস করেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, গভর্নরের দেশ ছাড়ার চেষ্টার গুঞ্জনের মধ্যে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।

     

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ডেপুটি গভর্নর, কাজী ছাইদুর রহমান, নূরুন নাহার, মো. খুরশীদ আলম, ড. মো. হাবিবুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক উপস্থিত ছিলেন। ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান। সভায় আর্থিক খাতের বর্তমান দুরবস্থা কাটানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

    কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, গভর্নর একটু অসুস্থতা বোধ করায় অফিসে আসেননি। তবে টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। যার যার কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য বলেছেন। তারা সবাই আলোচনা করে সাংবাদিক প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে আগের মতোই খাতায় এন্ট্রি করে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্য আর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য অভিন্ন। সবাই মিলে আমরা দেশটাকে একটি ভালো অবস্থানে নিতে চাই। তবে যে কোনো কারণেই হোক মাঝে কিছুদিন সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারেননি।

  • গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স জুলাইয়ে

    গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স জুলাইয়ে

    জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১৯১ কোটি ডলার। তা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগের মাস জুনে এসেছিল ২৫৪ কোটি ডলার। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় কমেছে ৬৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৭ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

     

    বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাসী আয়সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের প্রথম ৩ সপ্তাহে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। এর মধ্যে ১ থেকে ২০ জুলাই এসেছে ১৪২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। আর ২১ থেকে ৩১ জুলাই আয় এসেছে ৪৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে গতকাল ৩১ জুলাই এক দিনেই এসেছে ১২ কোটি ডলার।

    জানা গেছে, গত জুনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৫৪ কোটি ডলার আয় দেশে পাঠিয়েছেন। জুনে দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল, তা ছিল একক মাস হিসেবে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সবশেষ ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে চলা সহিংসতার কারণে গত ১৯ থেকে ২৪ জুলাই ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়, এই সময়ের মধ্যে মাত্র এক দিন ব্যাংক খোলা ছিল। এরইমধ্যে দেশের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ১৯ জুলাই রাত থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। আবার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় অনলাইন লেনদেনও বন্ধ ছিল। ২৪ জুলাই সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য ব্যাংক খোলা হয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে। মার্চে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৯ কোটি ডলার। এর আগে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১১ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ডলার। এপ্রিলে ২০৪ কোটি ডলার এবং মে মাসে ২২৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। এরপর জুন মাসে রেকর্ড ২৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা গত ৪৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    এর আগে ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। তখন প্রতি মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ গড়ে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল।

    বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আসার কারণে একপর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পণ্য আমদানির খরচ বেড়ে যায়। দেখা দেয় ডলার-সংকট। এ সংকট এখনো কাটেনি।

    প্রসঙ্গত, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার।

     

  • ডলার বাজারে আবার অস্থিরতা

    ডলার বাজারে আবার অস্থিরতা

    আইএমএফের পরামর্শে ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি চালু করে গত ৮ মে ডলারের দর এক লাফে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা মধ্যবর্তী দর ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সিদ্ধান্তের পর স্থিতিশীল ছিল বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। তবে গত কয়েক দিনে ডলারের দরে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খোলাবাজারে বা মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানে দুই দিনে প্রতি ডলার চার টাকা বেড়ে ১২৪ টাকায় উঠেছে। ব্যাংকগুলোও বাড়তি দরে রেমিট্যান্স কিনছে। গতকাল কিনেছে ১১৯ টাকা ৬০ পয়সায়। এদিকে খোলাবাজার দর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল থেকে বিভিন্ন মানিচেঞ্জারে অভিযান শুরু করেছে।

     

    ব্যাংকাররা জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক অস্থিরতার প্রভাব ডলার বাজারে পড়েছে। অন্যদিকে সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে একটি পক্ষ বৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠাতে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় হুন্ডি বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে বাড়তি দরে রেমিট্যান্স কিনতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ১১৯ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত দরে রেমিট্যান্স কিনেছে। আগের দিন সোমবার সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১১৮ টাকা ৫০ পয়সা। ১৮ জুলাই দর ছিল ১১৭ থেকে ১১৮ টাকায়। দর বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত রেমিট্যান্স পাচ্ছে না অনেক ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ১৯ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দৈনিক গড়ে যার পরিমাণ মাত্র ২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অথচ মাসের প্রথম ১৮ দিনে এসেছিল ১৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং দৈনিক গড় ছিল ৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ডলারের দর বাড়ানোর পর গত মে মাসে ২২৫ কোটি এবং জুনে ২৫৪ কোটি ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছিল।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, রেমিট্যান্সে ডলারের দর বাড়লে আমদানির জন্য ব্যাংক আগের চেয়ে বেশি দর নেবে। কয়েকদিন ব্যাংক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় অনেকে হয়তো বিদেশ থেকে অর্থ পাঠাতে পারেননি। কেউ কেউ হয়তো এখনও পরিস্থিতি দেখছেন। কারফিউ আরও শিথিল করে বুধবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হচ্ছে। ফলে আগামী সপ্তাহ নাগাদ হয়তো পরিস্থিতি ঠিক হয়ে আসবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের অনেকেই ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর ডাক দিয়েছেন। এ প্রচারণা যেন কাজে না লাগে, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে দর বাড়িয়ে হলেও রেমিট্যান্স কিনতে বলা হয়েছে। এটি সাময়িক সময়ের জন্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে হুন্ডি কমানোর তৎপরতার অংশ হিসেবে মানিচেঞ্জারের ওপর পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ডলারের দর আরেক দফা বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হবে।

    মানিচেঞ্জার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন গতকাল জানান, হঠাৎ করে ডলার কেনার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক দিনে প্রতি ডলারে দর ২ টাকা বেড়ে ১২৪ টাকা হয়েছে। আগের দিন ১২১ টাকা ৬০ পয়সায় কিনে তারা বিক্রি করেন ১২২ টাকায়। এর আগে ১৮ জুলাই ১২০ থেকে ১২১ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হয়। দর আরও বাড়বে এমন আশায় অনেকেই ডলার ধরে রাখছেন। অনেকে নতুন

    করে খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে রাখছেন। যে কারণে ১২৪ টাকায়ও গতকাল অনেকে চাহিদা মতো ডলার পাননি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে ১০ জুলাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার পর জুন শেষে যা ২১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। একই সঙ্গে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে।

    প্রসঙ্গত, রেমিট্যান্স, আমদানি, রপ্তানিসহ ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলার লেনদেন হয় অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরভিত্তিক। আর চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণ, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য অনেকে বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ ডলার বা কার্ড সঙ্গে নিয়ে যান। তদবির ছাড়া এখন আর ব্যাংক থেকে নগদ ডলার পাওয়া যায় না। ফলে দেশের বাইরে যাওয়ার সময় ডলার কেনার জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানিচেঞ্জারের ওপর নির্ভর করতে হয়।

  • আবারো রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়নে

    আবারো রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়নে

    আকুর বিল পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার কমে ২০ বিলিয়নে নেমেছে। আইএমএফসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার পর গত সপ্তাহে যা ছিল ২১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে নিট রিজার্ভ ১৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন থেকে নেমেছে ১৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়নে।

     

    বুধবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, গতকাল বুধবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ এ পর্যায়ে নামলো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন গ্রস রিজার্ভ ২৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর শর্ত অনুযায়ী বিপিএম-৬ মেথডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন।

    এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেয়। প্রকাশ করে না। তবে জুনের শেষ দিকে আইএমএফের ঋণ সহায়তা পাওয়ার পর দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ওই সময় (৩০ জুন) শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ ছিল ১ হাজার ৬৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। এখন থেকে আকুর বিল পরিশোধের পর এনআইআর থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার কমে যাবে; অর্থাৎ দেশে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ কমে ১৫ বিলিয়নের ঘরে নেমে এসেছে। প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হল বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।

    এদিকে, আকু হলো, একটি অন্তর্দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। তবে এখন আকুর সদস্য পদ নেই শ্রীলঙ্কার। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবত আমদানি ব্যয় পরিশোধের বিভিন্ন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আকু সদস্য পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য আকুর সদস্য পদ উন্মুক্ত।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন বাংলাদেশের জন্য ঋণের তৃতীয় কিস্তি অনুমোদন করে আইএমএফ। আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ মোট ঋণ নিচ্ছে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার এসেছে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে প্রায় ৬৮১ মিলিয়ন ডলার আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। মোট সাত কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ ছাড় করা হবে।

    বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় (রিজার্ভ)। বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ে ক্রমাগত চলতি হিসাবের ঘাটতিও বেড়ে গিয়েছিল। ডলারের বিপরীতে টাকার দরের অবনমন হতে থাকলে প্রভাব পড়ে জ্বালানির দর ও আমদানিতে।

    এই অবস্থায়, দ্রুত ক্ষয় হতে থাকা রিজার্ভ বাড়াতে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার সহায়তা নিতে আইএমএফের কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়ে আবেদন করে ২০২২ সালের জুলাইতে। বিভিন্ন ধাপের আলোচনার পর ওই বছরের নভেম্বরে ঋণ চুক্তির অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। ২০২৩ সা‌লের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট সাতটি কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে।

  • রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে ঋণের ২.০৫ বিলিয়ন ডলার

    রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে ঋণের ২.০৫ বিলিয়ন ডলার

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে ঋণের ২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এ অর্থ যোগ হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার।

     

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আইএমএফের ঋণের কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হয়েছে। এছাড়া, কোরিয়া, আইডিবিসহ অন্যান্য দেশ থেকে আরও ৯০ কোটি ডলারের ঋণও রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ বিলিয়নের কিছু বেশি।

    এর আগে, গত সোমবার বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির আওতায় তৃতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুমোদন দেয় আইএমএফ।

    এদিকে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর গত ডিসেম্বরে পেয়েছিল দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। এখন তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের ফলে বাংলাদেশ সব মিলিয়ে তিন কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের বাকি প্রায় ২৩৯ কোটি ডলার আর চার কিস্তিতে পাওয়া যাবে।

    বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফের কাছে ঋণের আবেদন করে। ওই আবেদনের ছয় মাস পর গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ৩৮টি শর্তে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)—এই তিন আলাদা কর্মসূচির আওতায় ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ।

    ঋণ অনুমোদনের সময় আইএমএফ জানায়, শর্তপূরণ সাপেক্ষে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট সাত কিস্তিতে ঋণের এ অর্থ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে তিনটি কিস্তি পাওয়া গেছে।

  • ১৯ জুন থেকে নতুন সূচিতে ব্যাংক লেনদেনও অফিস কার্যক্রম চলবে

    ১৯ জুন থেকে নতুন সূচিতে ব্যাংক লেনদেনও অফিস কার্যক্রম চলবে

    ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঈদুল আজহার পর ১৯ জুন থেকে নতুন সময়সূচিতে ব্যাংকে লেনদেন ও অফিস কার্যক্রম চলবে। রোববার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন (ডিওএস) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

     

    ডিওএস পরিচালক মাসুমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সার্কুলারে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত অফিস সময়সূচির অনুবর্তনে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আগামী ১৯ জুন থেকে ব্যাংকগুলোতে সকাল ১০টা থেকে লেনদেন শুরু হবে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    আর অফিস কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ১০টায়। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে আগের মতোই শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

    বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন হয় সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। ব্যাংকগুলোর অফিস চলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়, সমুদ্র/স্থল/বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা/উপশাখা/বুথসমূহ সার্বক্ষণিক চালু রাখার বিষয়ে ২০১৯ সালের ৫ জুলাই জারিকৃত ডিওএস সার্কুলার লেটার নম্বর ২৪ এর নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে ঈদুল আজহার ছুটির পর ১৯ জুন থেকে সরকারি অফিসও নতুন সময়সূচিতে চলবে। ওইদিন থেকে আগের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    গত ৩ জুন মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের পর ৬ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    এতে বলা হয়, আগামী ১৯ জুন (পবিত্র ঈদুল আজহার পরবর্তী প্রথম কর্মদিবস) থেকে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময়সূচি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারণ করলো।