Category: ব্যাংক

  • বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অফশোর ব্যাংকিংয়ে তোড়জোড়

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অফশোর ব্যাংকিংয়ে তোড়জোড়

    দেশে ডলারের জোগান বাড়াতে ‘অফশোর ব্যাংকিং’ কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজস্ব ছাড় দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। এদিকে, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে এ খাতে ডলারের জোগান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

    জানা গেছে, পাঁচটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্থাৎ ডলার, পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং চীনা ইউয়ানে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। তবে পাঁচটি মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ থাকলেও ডলার বেশি ব্যবহৃত হবে। কারণ ডলার সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আর এতে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    এ প্রেক্ষাপটে গত ২৮ এপ্রিল বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২২ এপ্রিল অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের অর্জিত মুনাফার (সুদ) ওপর কোনো কর দিতে হবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অফশোর ব্যাংকিং আইন ২০২৪-এর খসড়াও প্রস্তুত করে। খসড়া বিধানে স্টেকহোল্ডার হিসেবে এনবিআরের মতামত অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। খসড়া আইনের দফা ১৩(ক) অনুযায়ী অফশোর ব্যাংকিং ব্যবসায় অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট কর্তৃক অর্জিত সুদ বা মুনাফার ওপর আয়কর বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর আরোপ করা যাবে না।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি অফশোর ব্যাংকিং আইন ২০২৪-এর খসড়ার নীতিগত ও চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। ডলার সংকটের বিষয়টি অনেক ভুগিয়েছে দেশের আমদানি বাণিজ্যকে। এক্ষেত্রে কাজে আসেনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া কোনো উদ্যোগই, যার প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে, রিজার্ভ নেমেছে তলানিতে।

    জানা গেছে, দেশে ১৯৮৫ সালে অফশোর ব্যাংকিং অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৮ ফেব্রæয়ারি অফশোর ব্যাংকিং আইন ২০২৪-এর খসড়ার নীতিগত ও চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। ফলে বিনিয়োগকারী অনাবাসী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো অফশোর অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।

    পাঁচ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ডলার, পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চীনা ইউয়ানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। বর্তমানে যে অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা রয়েছে তাতে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) না থাকলে আমানতের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। আর টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। নতুন আইনে কোনো প্রকার করই দিতে হবে না। সেইসঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং লেনদেনে যে সুদ আসবে তার ওপরও কোনো কর আরোপ করা হবে না। এমনকি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য কোনো সুদ বা চার্জ দিতে হবে না।

    বর্তমানে অনাবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের থেকে আমানত নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এ আইনটি পাস হলে তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ইউনিটগুলো বিদেশিদের পাশাপাশি অনাবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের থেকেও আমানত নিতে পারবে। অনুমোদিত নতুন আইনে কোনো ঋণসীমা রাখা হয়নি। এতে যেকোনো পরিমাণ লেনদেন করা যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইপিজেডে যে অফশোর অ্যাকাউন্ট রয়েছে তা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। এসব অ্যাকাউন্টে কোনো লাভ দেওয়া হয় না। তবে নতুন আইনে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে লাভ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    এই খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী ব্যাংকগুলোতে অফশোর অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। যাদের লাইসেন্স আছে তাদের নতুন করে নিতে হবে না।

    বর্তমানে ৩৯টি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যারা বিনিয়োগ করবে তারা বিদেশি বা অনাবাসী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে হবে।

    অনুমোদিত এই আইনের অধীনে ব্যাংকগুলো বিদেশি বা অনাবাসী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় যে আমানত গ্রহণ করবে তা স্বাভাবিক ব্যাংকিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারবে।

    বিদেশে যে বাংলাদেশি বসবাস করছেন তার পক্ষে দেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সহায়তাকারী হিসেবে তারা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।

    ব্যাংকাররা বলছেন, এই ব্যাংকিং পদ্ধতিতে অসুবিধার চাইতে সুবিধাই বেশি। এই ব্যাংকিংয়ে যেকোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি দেশ-বিদেশে সহজ শর্তে ব্যবসা করতে পারবে।

    অনুমোদিত নতুন আইনের আওতায় সরকার এই ব্যাংকিং কার্যক্রমে আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো এতে বিধিনিষেধ একেবারেই কম। গ্রাহকের তথ্য সংক্রান্ত চ‚ড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা হলো ব্যাংকের ভেতরে পৃথক ব্যাংকিং সেবা। অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে আমানত গ্রহণ ও ঋণ বৈদেশিক উৎস থেকে আসে ও বিদেশি গ্রাহকদের দেওয়া হয়। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ এবং বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসা হয় এ ব্যাংকিংয়ে।

    তিনি আরও বলেন, ‘এটা ভালো উদ্যোগ। বাংলাদেশি যারা বিদেশে আছেন তারা যেন তাদের ফরেন কারেন্সি বাংলাদেশে এনে রাখেন। ভারত বিগত ৫-৭ বছরে এটাতে খুব সফল হয়েছে। ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ভালো করেছে। আমরা শুরু করছি। আমাদের এখন প্রয়োজন সব ব্যাংককে এটা ভালোমতো বুঝিয়ে এর প্রোডাক্ট তৈরি, মার্কেটিং এবং বিভিন্নভাবে এটাকে প্রমোশন করা। সেটা কীভাবে কী হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

    মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন বলেন, অতীতে এমন উদাহরণও রয়েছে, অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে লোন নিয়ে দেশে ব্যবসা করছে। দেশে লোন শোধ করছে। এক্ষেত্রে তার এক্সপোর্ট সেভাবে না থাকলে ওই লোন শোধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তার মানে তাকে উল্টা করে লোকাল টাকা দিয়ে লোন শোধ করার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত এক্সপোর্টের মাধ্যমে কাভার না করলে ওই লোন পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে।

    এ সমস্যা রোধে তদারকি করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কারণে লোন দেওয়া হচ্ছে সেটা পালন হচ্ছে কিনা সেটা মনিটরিং জরুরি। এই কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা এখন সর্বাধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। পৃথিবীর বহু দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের বৈদেশিক রিজার্ভ ও আর্থিক কাঠামোকে সমৃদ্ধ করেছে। এতে করে তারা শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। এছাড়া আমরা এটিকে একটি অপশন হিসেবে ব্যবহার করছি, যাতে বিদেশিরা এসে টাকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হয়। অফশোর এই আইনে স্বাধীনভাবে অপারেট করা যাবে।’

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, ‘বাংলাদেশে যেসব বিদেশি বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ নিয়ে যান, তখন তারা বাইরের অফশোর কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা রাখেন। আবার আমাদের এখানে যখন আনেন তখন তারা আমাদের কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যাংকে ঢোকান না। কারণ যখন তারা নিয়ে যাবেন তখন নানান বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এখানে একটা সুবিধা হবে বিদেশিরা ব্যবসা করে যে লভ্যাংশ পাবেন সেটা এখন ব্যাংকে রাখবেন। কারণ এখন ব্যাংকে টাকা রাখলেই লাভ দেওয়া হচ্ছে। যেটা আন্তর্জাতিকমানের। সুতরাং এখানে বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই এটি করা হচ্ছে।’

    বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। অনাবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে যখন দেশে থাকা অফশোর ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবে তখন সেই মুদ্রাতেই লেনদেন করবে। এছাড়া এ ধরনের অ্যাকাউন্টধারীদের সরকার প্রচুর ট্যাক্স বেনিফিট দিয়ে থাকে।

  • আপাদত ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমে আসছে

    আপাদত ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমে আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও সতর্ক অবস্থানে থাকায় দেশে মার্কিন ডলারের সংকট কিছুটা কমেছে। রেমিট্যান্সে ডলার এখন ১১৪-১১৫ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ১২০ টাকায় উঠেছিল। অবশ্য ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম ১১০ টাকা।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ডলার- সংকট কমে আসার পেছনে কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপাচাপির কারণে আমদানি কমে এসেছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ডলারের দাম নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের অবস্থান থেকে সরে আসায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, একদিকে আমদানি কমে এসেছে, অন্যদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে। এ কারণে ডলারের দাম কমেছে। সামনে বোঝা যাবে বাজার কোন দিকে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় টাকার জোগান দিচ্ছে। এতে টাকার সরবরাহ বেড়েছে। এটা বাজারের উত্তাপ কমাতে ভূমিকা রেখেছে।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে মার্কিন ডলারের সংকট শুরু হয়। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়। যে কারণে ঐ বছরের জুনে ৮৩৭ কোটি ডলারের আমদানি দায় শোধ করতে হয় বাংলাদেশকে। এরপর ঋণপত্র খোলায় কড়াকড়ি ও ঋণপত্র খোলার বিপরীতে শতভাগ পর্যন্ত নগদ টাকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এতে আমদানি দায় কমতে থাকে।

    এর মধ্যে গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আমদানি দায় পরিশোধ হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এ মাসে আমদানি দায় পরিশোধ হয় ৪৬৭ কোটি ডলারের। আমদানি দায় পরিশোধ হলো সংশ্লিষ্ট মাসের প্রকৃত ডলার খরচ। এর আগে জানুয়ারিতে আমদানি দায় পরিশোধ হয়েছিল ৫৯৬ কোটি ডলারের। অর্থাৎ ডলারের ওপর চাপ কমে আসছে।

    গত জানুয়ারিতে দেশে ২১১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আয় আসে, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ২১৬ কোটি ডলারে। এদিকে চলতি মার্চের প্রথম ২৬ দিনে রেমিট্যান্স আয় এসেছে ১৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ডলার নিজেদের কাছে রাখতে পারে, সে ক্ষেত্রে গত বছরে ঘাটতি ছিল ৪০ কোটি ডলার। এখন ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত আছে ৪০ কোটি ডলার।

    এদিকে রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট বা আবাসিক বৈদেশিক মুদ্রা আমানতের (আরএফসিডি) ওপর ৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। এই হিসাবের ডলার কোনো বাছবিচার ছাড়াই দেশে ও বিদেশে গিয়ে খরচ করা যাচ্ছে। এতে ঘরে রাখা ডলার ও অন্যান্য বিদেশি মুদ্রা ব্যাংকে জমা হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ ডলারের মজুত বাড়ছে। এক মাস আগে ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ ডলারের মজুত ছিল ৩ কোটি ২০ লাখ, যা বেড়ে ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার হয়েছে। খোলাবাজারেও ডলারের দাম কমেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ডলার-টাকা অদলবদল (সোয়াপ) সুবিধা চালু করে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা অতিরিক্ত ডলার বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে শুরু করে। এভাবে দেড় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার জমা হয়। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারের জন্য ১১০ টাকা হিসাবে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা পায়। এর ফলে বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়ে এবং টাকার সংকট কমে আসে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এখন চাহিদামতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্যসুবিধা পাচ্ছে।

     

  • ৩১ মার্চ থেকে মিলবে নতুন টাকার নোট

    ৩১ মার্চ থেকে মিলবে নতুন টাকার নোট

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবারের মত এবারও বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি জানিয়েছে, আগ্রহী জনসাধারণ ৩১ মার্চ থেকে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত টাকার নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (২০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোয় এসব নতুন নোট বিনিময় করা হবে। তবে একই ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট গ্রহণ করতে পারবেন না।

    আরও জানানো হয়, জনসাধারণ বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের ঢাকা অঞ্চলের নির্ধারিত শাখাগুলো থেকে ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো শাখায় থেকে নতুন নোট দেওয়া হবে না।

    সাধারণত ঈদের সময়ে দেশে নতুন নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকে। কারণ, অনেকেই নতুন নোটে কেনাকাটা করার পাশাপাশি ছোটদের ও প্রিয় মানুষদের বখশিশ অথবা ঈদ সেলামি দিতে চান। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর ঈ

  • লাখো বিনিয়োগকারী পথে বসেছেন

    লাখো বিনিয়োগকারী পথে বসেছেন

    শেয়ারবাজারে দুর্যোগ চলছে। একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে বাজার। সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন লাখো বিনিয়োগকারী। গত ৭ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৩০০ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর মঙ্গলবার একদিনেই সূচক কমেছে ৮৪ পয়েন্ট। সূচকের বর্তমান অবস্থা ৩ বছরের সর্বনিম্ন। তবে আলোচ্য সময়ে বাজারে নতুন কিছু কোম্পানি যোগ হয়েছে। এগুলো বাদ দিলে সূচকের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ফলে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিষ্ঠানগুলো ফোসর্ড সেল (বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি) করছে। এতে শেয়ার বিক্রির চাপ আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি উন্নয়নের কোনো লক্ষণ নেই। তবে মন্দার মধ্যেও দুর্বল কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে।

     

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতের আমানতের সুদের হার বাড়ানো, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের ফোর্সড সেল এবং লভ্যাংশ বিতরণের পর বড় কোম্পানিগুলোর দাম সমন্বয়ের কারণে বাজারে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক খাতে সুদের হার বেড়েছে। বর্তমানে আমানতের সুদের হার সাড়ে ১১ শতাংশ। এটা আবার ঝুঁকিমুক্ত। এ কারণে শেয়ারবাজার থেকে টাকা ব্যাংকে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফোর্সড সেল করছে। অন্যদিকে বাজারে বড় অংশীজন সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা এনে আগে বিনিয়োগ করেছিল। বর্তমানে এসব টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। ফলে তারা শেয়ার বিক্রি করে টাকা ফেরত দিচ্ছে। এসব কিছুর চাপ পড়েছে বাজারে। এতে বাজারের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    গত ৭ কার্যদিবসে ডিএসইর মূল্যসূচক ৩০০ পয়েন্ট কমেছে। এ সময়ে বাজার মূলধন হারিয়েছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে গত দুদিনে সূচক কমেছে ১৫৩ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একক দিন হিসাবে ডিএসইতে মঙ্গলবার ৩৯৬টি কোম্পানির ১৬ কোটি ১৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৬৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ৪১টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ৩১৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮৪ কমে ৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সূচকের এ অবস্থা ৩ বছরের সর্বনিম্ন। তবে এর মধ্যে নতুন কিছু কোম্পানি যোগ হয়েছে। সেগুলো বাদ দিলে সূচক ৫ বছরের সর্বনিম্নে চলে আসবে। এদিকে ডিএস-৩০ মূল্যসূচক মঙ্গলবার ২২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৬ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

    বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ বাজারে বড় সমস্যা হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম। সবাই স্বল্প মেয়াদে লাভ করতে চান। এজন্য বাজার একটু বাড়লেই শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে সূচক যেভাবে কমছে, তা মোটামুটি প্রত্যাশা ছিল। সবারই ধারণা ছিল ফ্লোর প্রাইস (নিম্নসীমা) তুলে নিলে একটা ধাক্কা আসবে। তবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে না এসে একটু পরে এসেছে। এছাড়া যেসব কোম্পানি সূচকে বড় ভূমিকা রাখে, লভ্যাংশ বিতরণের পর ওই কোম্পানির দাম সমন্বয় হচ্ছে। এতে বাজারে প্রভাব পড়ছে। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে বাজার আপন গতিতে ঠিক হয়ে যাবে।

    শীর্ষ দশ কোম্পানি : মঙ্গলবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হলো-এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ফু-ওয়াং সিরামিক, গোল্ডেন সন, সেন্ট্রাল ফার্মা, রেনেটা, বেস্ট হোল্ডিংস, এসএস স্টিল, লাফার্জ হোলসিম, ব্রিটিশ-আমেরিকান ট্যোবাকো এবং তৌফিকা ফুড। এদিন যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো-সেন্ট্রাল ফার্মা, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফু-ওয়াং সিরামিক, আনলিমা ইয়ার্ন, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হলো-পিপলস লিজিং, রবি আজিয়াটা, খুলনা প্রিন্টিং, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, গোল্ডেন সন, উসমানিয়া গ্লাস, বিবিএস ক্যাবল, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং গোল্ডেন হারভেস্ট।

     

     

  • পদ্মার চেকধারীরা যেভাবে টাকা তুলতে পারবেন

    পদ্মার চেকধারীরা যেভাবে টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত হয়েছে বেসরকারি খাতে পরিচালিত পদ্মা-এক্সিম ব্যাংক। সোমবার (১৮ মার্চ) সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চুক্তির মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফলে এখন থেকে পদ্মা ব্যাংকের আমানতকারীরা এক্সিম ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

    সোমবার (১৮ মার্চ) মাতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

    ২০১৩ সালে ফারমার্স নামে অনুমোদন পেয়েছিল পদ্মা ব্যাংক। ওই সময় এর চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর। অল্প সময়ের মধ্যে অনিয়মে ডুবতে থাকায় ম খা আলমগীরকে সরিয়ে দিয়ে মালিকানায় আসেন ব্যবসায়ী নাফিজ সরাফাত।

     

    ২০১৯ সালে নাম পরিবর্তন করে ফারমার্স ব্যাংক হয়ে যায় পদ্মা ব্যাংক। ব্যাংকটি ৭১৫ কোটি টাকা তহবিল পায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। তবু দাঁড় করানো যায়নি পদ্মা ব্যাংককে।

    সমঝোতা স্মারক সই শেষে সংবাদ সম্মেলনে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ব্যাংক দুটি আজকে একীভূত হয়েছে। পদ্মা ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের ভয়ের কিছু নেই। কারও চাকরি হারাবে না।

    নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, পদ্মায় জাল ফেলেছে এক্সিম ব্যাংক। এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরার পালা। এক বছরের মধ্যে পদ্মা ব্যাংক ভালো হয়ে যাবে। চাইলে পদ্মা ব্যাংকের যে কোনো ব্যক্তিগত আমানতকারী তার টাকা এক্সিম ব্যাংক থেকেই তুলে নিতে পারবেন। আগের ব্যাংকের সব দায়ভার এখন থেকে গ্রহণ করল এক্সিম ব্যাংক।

    এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, আগামীকাল থেকে আর পদ্মা ব্যাংক থাকছে না। ব্যাংকটিকে একীভূত করার কারণে নতুন কার্যক্রম চলবে এক্সিম ব্যাংকের নামে। একীভূত করা হলেও কোনো এমপ্লয়ি চাকরি হারাবেন না। তবে পদ্মা ব্যাংকের পরিচালকরা এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন না। সিদ্ধান্ত হয়নি দুই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়েও।

    নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, পদ্মা ব্যাংকে একীভূত করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো চাপ ছিল না, তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ ছিল। আমরা এটা করেছি দেশের স্বার্থে, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে। পদ্মাকে একীভূত করা হলেও আমানতকারীদের কোনো সমস্যা হবে না, সবাই নিরাপদে থাকবেন।

    তিনি বলেন, বিশ্বে দুই পদ্ধতিতে একীভূত করা হয়। আমরা অ্যাকুইজিশন করিনি, মার্জ করেছি। একটা সবল ব্যাংক এবং তুলনামূলক একটু দুর্বল ব্যাংকের মধ্যে মার্জ হয়েছে। পদ্মা ব্যাংকের মানবসম্পদ যেটা রয়েছে প্রায় ১২০০ কর্মী তাদের কারও চাকরি যাবে না। সবাই কর্মরত থাকবেন এক্সিম ব্যাংকের হয়ে। আমাদের আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ক্ষতি হবে না। আগের মতোই চলবে।

    পরিচালক নিয়ে তিনি বলেন, যে ব্যাংকটি দুর্বল (পদ্মা) তারা সবল ব্যাংকের (এক্সিম) সঙ্গে আর বসবেন না। যেহেতু এক্সিম পদ্মাকে মার্জ করেছে। এটা আজকে থেকে বা কাল থেকে পদ্মা ব্যাংক পুরোটা এক্সিম ব্যাংক হয়ে গেল। তবে এমডি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তারা দুজনই ডায়নামিক- আমরা চেষ্টা করব একটা ভালো সম্মাননীয় অবস্থানে তাদের রাখতে।

    পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পৌনে চার হাজার কোটি টাকা ও সরকারি ব্যাংকের দায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা রয়েছে পদ্মার কাছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন যেহেতু পদ্মাকে মার্জার করা হলো এর ফলে পদ্মা ব্যাংকের সব দায়-দেনা এখন এক্সিম ব্যাংক নিয়ে নিয়েছে। তাছাড়া দুই ব্যাংকের এসেটও আছে। এক্সিম যেহেতু পদ্মার জাল ফেলেছে আশা করছি আরও সবল হবে অর্থনীতি।

    শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক নিয়ে তিনি বলেন, এক্সিম ব্যাংক শরিয়াভিত্তিক। পদ্মা ব্যাংক সাধারণ হলেও আমরা (এক্সিম) যেহেতু তাদের মার্জ করেছি তাই তারাও শরিয়াভিত্তিক হবে। এক্সিম ব্যাংকের প্রতিটি সূচক ভালো অবস্থানে আছে আশা করবো ভালো হবে।

    চলতি মাসের শুরুতে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি জানান, চলতি বছর ৭ থেকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে সবল বা ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছায় একীভূত হতে পারে। এটা না হলে আগামী বছর থেকে একীভূত করা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায়। গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক আলোচনাতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুর্বল-সবল একীভূত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ভালো ও দুর্বল ব্যাংকের এমডিদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

     

  • ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: বড় ঋণ জালিয়াতরা কি ইচ্ছাকৃত খেলাপি

    ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: বড় ঋণ জালিয়াতরা কি ইচ্ছাকৃত খেলাপি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেসব গ্রাহক আগে জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এ তালিকায় আলোচিত ঋণ জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলও কোনো খেলাপিকে যথোপযুক্ত কারণ দেখিয়ে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা রাখে। ব্যাংক যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা চূড়ান্ত করবে।

    এরপরই প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত খেলাপির দায়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে বিমানে চড়া বন্ধ, ট্রেড লাইসেন্স, কোনো কোম্পানির নিবন্ধন, শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন না নেওয়া এবং বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট কিনে নিবন্ধন করা আটকে দিতে পারেন। অর্থাৎ কোনো সম্পদ বা কোম্পানি গড়ে করা যাবে না নতুন ব্যবসা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়া যাবে না। কোনো ব্যাংক বিধি ভঙ্গ করে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ছাড় দিলে তাদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানাসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

    ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি শনাক্ত করা এবং তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ জালিয়াত বা প্রতারণা করে যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেন। এ কাজ শুরু করার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দুই স্তর নিচের কর্মকর্তাদের দিয়ে ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণ ইউনিট’ নামে একটি পৃথক ইউনিট ৯ এপ্রিলের মধ্যে গঠন করতে হবে। ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণখেলাপিদের তথ্যের ভিত্তিতে ১ জুলাই থেকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্ত করার কাজ শুরু করতে হবে।

    ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় কোনো গ্রাহক ঋণ জালিয়াতি করলেই তিনি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হবেন। একই সঙ্গে ঋণের টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর করলে, বন্ধকি জামানত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়া অন্যত্র স্থানান্তর করলে বা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ না করলেও ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হবেন।

    এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক সভাপতি ও এনসিসি ব্যাংকের সাবেক এমডি এম. নূরুল আমিন বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্ত করাটা নির্ভর করবে ব্যাংকের ইউনিটের ওপর। এ বিষয়ে ইউনিটকেও ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিট কীভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করে, এটি এখন দেখার বিষয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে ওই ইউনিট ও ব্যাংকের ওপর নজর রাখা। যাতে তারা কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে না পারে।

    তিনি আরও বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংজ্ঞা অনুযায়ী এখন ঋণ জালিয়াতি বা প্রতারণা করে যারা ঋণ নিয়েছেন, তারা ইচ্ছাকৃত খেলাপির তালিকায় পড়বেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওই আইনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনটি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে সম্পদশালী কোনো ঋণখেলাপি থাকবে না। যাদের একেবারেই কিছুই নেই, তারা কেবল খেলাপির তালিকায় থাকতে পারেন। ফলে খেলাপি ঋণ অনেক কমে যাওয়ার কথা।

    সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ব্যাংক খাতে ওই সময়ে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। হলমার্ক গ্র“প সোনালী ব্যাংকসহ ২৬টি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে প্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আÍসাৎ করে। ওই ঋণের সবই এখন খেলাপি। কিছু ঋণ সোনালী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক অবলোপন করেছে। গ্রাহকের জামানতের বেশির ভাগই ছিল ভুয়া। ফলে সম্পদ বিক্রি করে ঋণ আদায় করা সম্ভব নয়। জালিয়াতির কারণে ওই গ্র“পের এমডি, চেয়ারম্যানসহ তিনজনে জেলে রয়েছেন। অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাও জেলে। আইন অনুযায়ী হলমার্ক গ্র“পকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।

    এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংক সূত্র জানায়, তারা আইন অনুযায়ী ওই গ্র“পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তবে গ্র“পের কর্ণধার সবাই জেলে বলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কারণ, তাদের প্রায় সব ব্যবসাই বন্ধ।

    সরকারি খাতের একটি ব্যাংকসহ ৫টি ব্যাংকে ঘটেছে বিসমিল্লাহ গ্র“পের জালিয়াতি। এ গ্র“পের জালিয়াতি করা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণের পুরোটাই এখন খেলাপি। এর সঙ্গে সুদ যোগ হয়ে খেলাপির পরিমাণ আরও বেড়েছে। পুরো অর্থই তারা বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। মামলা হলেও মালিক পক্ষের কেউ জেলে নেই। তারা সবাই পালিয়েছেন। আইন অনুযায়ী তারাও ইচ্ছাকৃত খেলাপি। এখন তাদেরকে দেশে আনতে পারলে অন্য ব্যবস্থাগুলো নেওয়া যায়।

    সরকারি খাতের একটি ব্যাংকে দুটি বড় গ্র“প ৫ হাজার কোটি টাকা করে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি করেছে। তাদের বেশকিছু ঋণ নবায়ন করা হলেও এ গ্র“পের ৫০ শতাংশের বেশি এবং অপর একটি গ্র“পের ৩০ শতাংশের বেশি এখনো খেলাপি। তারা এখনো ব্যবসা করছে। মালিকপক্ষ কেউ জেলে নেই। বিমানেও চড়ছেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের ইচ্ছাকৃত খেলাপি করার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের বিমান ভ্রমণ, নতুন কোম্পানি খোলা, বাড়ি-গাড়ি কিনে তা নিবন্ধ করা বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে।

    বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে যাদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, তাদের প্রত্যেকেরই সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা রয়েছে। এদেরও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।

    চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় বড় বড় এক ডজন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের খেলাপি। এর মধ্যে এক গ্র“পের কাছেই খেলাপি ঋণ আড়াই হাজার কোটি টাকা। আরও কয়েকটি গ্র“পের কাছে দেড় হাজার কোটি টাকা করে খেলাপি ঋণ রয়েছে। জালিয়াতি করে ৮০০ কোটি টাকা আÍসাৎ করে দুই ভাই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদেরও ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে।

    সরকারি একটি ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে ঢাকার একটি ব্যবসায়িক গ্র“প প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপি। ওই গ্র“পের বিভিন্ন সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। তাদেরকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    একটি টেক্সটাইল ও একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সরকারি দুটি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা জালিয়াতি করে ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি। একটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে সাবেক একজন সংসদ-সদস্য এখন খেলাপি। ওই কোম্পানির পরিচালকরা এখন সব সুবিধা ভোগ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত খেলাপি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    বেসরকারি খাতের নতুন প্রজšে§র একটি ব্যাংক জালিয়াতির কারণে প্রায় দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ প্যাকেজের আওতায় একে উদ্ধার করেছে। ওই ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা এখন সব ধরনের সুবিধাই ভোগ করছেন। তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    সরকারি একটি ব্যাংকের রমনা শাখা থেকে জালিয়াতি করে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আÍসাৎ করা হয়েছে। এর সুবিধাভোগীরা এখনো ব্যবসা করছেন। একটি সরকারি ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখা ও মহিলা শাখায় জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া ঋণের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর সুবিধাভোগীরাও এখন ব্যবসা করছেন। এসব জালিয়াতদের বিরুদ্ধেও ইচ্ছাকৃত খেলাপি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    এছাড়া আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণ জালিয়াতি করেছে। তারা বেনামে বা বিভিন্ন নামে এখনো ব্যবসা করছে। বিমানে চড়ছেন। তাদের বিরুদ্ধেও ওই আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

     

  • কোটিপতিরা ব্যাংক আমানতের ৫০% মালিক

    কোটিপতিরা ব্যাংক আমানতের ৫০% মালিক

    দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ। এসব অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ অর্থ জমা আছে, তার অর্ধেকের মালিক ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ জন অ্যাকাউন্টধারী। সে হিসাবে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় অর্ধেকের মালিকই কোটিপতিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের আয়ের সুযোগ কম তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কম আয়ের মানুষ জমানোর বদলে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে আমানত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫০ লাখের মতো। এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের পরিমাণ ১৭ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ জনের হিসাবে জমা আছে ৭ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। যা মোট আমানতের ৪৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ১ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি অর্থ আছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ ৯০৮টি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ৫৮৬টি। তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৩ হাজার ৩২২টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১ থেকে ৫ কোটি টাকা আছে, এমন আমানতের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৯২ হাজার ৫১৬টি। ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা আছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৫২টি। ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা আছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৫টি। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানতকারী অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৮১২টি। এই ১ হাজার ৮১২ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭ কোটি টাকা। যা ব্যাংক খাতের মোট আমানতের সাড়ে ১৪ শতাংশের মতো। বিপরীতে ৫ হাজার টাকার কম আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১১ কোটি ১৬ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫৬টি। ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫১ লাখ ৫ হাজার ৭৩১টি। তিন মাস আগেও এই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৫১ লাখের মতো। ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা আছে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫টি হিসাবে।

    এ বিষয়ে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, যাদের আয়ের সুযোগ কম তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের আয় অনেক কমে যাচ্ছে। যেহেতু মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি, যে সঞ্চয় ছিল, সে সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে যা হচ্ছে এটাই স্বাভাবিক।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল পাঁচজন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালে ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। দেশে প্রকৃত কোটিপতির সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। ফলে কত মানুষের কোটি টাকা রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান মেলে না। তবে ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায়। কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা করোনা মহামারির পর থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

     

  • একীভূতকরণে আজ চুক্তি স্বাক্ষর এক্সিম-পদ্মা

    একীভূতকরণে আজ চুক্তি স্বাক্ষর এক্সিম-পদ্মা

    সংকটে থাকা পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে নিজ উদ্যোগে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের এই ব্যাংক দুটির মধ্যে আজ সোমবার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হবে। দুর্বল ব্যাংক একীভূত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক উদ্যোগের পর দুটি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার এটিই প্রথম সিদ্ধান্ত।

    জানা গেছে, আজ সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের উপস্থিতিতে দুই ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হবে। এতে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দুই ব্যাংকের উদ্যোক্তারাও উপস্থিত থাকবেন।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ প্রসঙ্গে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার কালবেলাকে বলেন, এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেসরকারি পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তির পর একীভূত কার্যক্রমের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

    তিনি বলেন, পদ্মা ব্যাংকের সম্পদ ও দায় যা আছে সব এখন এক্সিম ব্যাংকে চলে আসবে। পদ্মা ব্যাংক বলে কোনো ব্যাংক থাকবে না। তবে পদ্মা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো সমস্যা হবে না। আর ওই ব্যাংকের আমানতকারীরা একীভূত হওয়ার পর থেকে এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। সব মিলিয়ে কারও কোনো ক্ষতি হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ভালো ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই নীতিমালার আওতায় একীভূত হওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

    জানা গেছে, পদ্মা ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা কিনে নেবে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি। ফলে যে কারণে ব্যাংকটির সম্পদের (ঋণ ও বিনিয়োগ) মান খারাপ হয়ে পড়েছে, তা আর থাকবে না। এরপর ভালো সম্পদগুলো নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে এক্সিম ব্যাংক। এর ফলে এক্সিম ব্যাংকের সূচক খারাপ হয়ে পড়ার কোনো শঙ্কা নেই।

    ২০১৩ সালের ফারমার্স ব্যাংক নামে অনুমোদন পায় বর্তমান পদ্মা ব্যাংক। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ ব্যাংকেই বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। এরপর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ফারমার্স ব্যাংকের নাম বদলে রাখা হয় পদ্মা ব্যাংক। ২০১৭ সালে এ ব্যাংকটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হয় সরকারি একাধিক ব্যাংক ও সংস্থা। ব্যাংকটির ৬০ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি।

    এদিকে, এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে পদ্মা ব্যাংক—এই ঘোষণা দিয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেছে এক্সিম ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চ এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ১৮৭তম বৈঠকে পদ্মা ব্যাংককে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

     

  • ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক বিশেষ তারল্য সহায়তায় ঘাটতি কাটিয়ে উঠছে

    ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক বিশেষ তারল্য সহায়তায় ঘাটতি কাটিয়ে উঠছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তারল্যসহায়তায় ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক ঘাটতি কাটিয়ে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত অবস্থায় ফিরে আসছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তারল্য উদ্বৃত্ত হলেও শরিয়াহভিত্তিক এসব ব্যাংক আমানতে পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে যে হারে আমানত বেড়েছে, ইসলামি ব্যাংকগুলোতে সে হারে বাড়েনি।

    দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে সংকট থেকে উদ্বৃত্ত অবস্থায় আসা পাঁচ ব্যাংকের বাইরের অন্য ব্যাংকগুলো হচ্ছে আইসিবি ইসলামিক, এক্সিম, শাহ্জালাল ইসলামী, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

    গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে সার্বিক আমানত বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শরিয়াহি্ভত্তিক ১০টি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের ইসলামি সেবাকেন্দ্রিক আমানত হচ্ছে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ছিল ইসলামি ধারার ব্যাংকে।

    গত বছরের মার্চে মোট আমানতে ইসলামি ধারার হিস্যা ছিল ২৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। তখন ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ২৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ধারার আমানত ছিল ৪ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা।

    এদিকে আমানতে পিছিয়ে পড়লেও ঋণ বা বিনিয়োগে থেমে নেই শরিয়াহভিত্তিক কিছু ব্যাংক। গত বছরের মার্চে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ২৮ দশমিক ১৫ শতাংশ ছিল ইসলামি ধারার, যা গত ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৬৫৮ কোটি টাকার তারল্যঘাটতি ছিল। তবে গত ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। একই সময়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অথচ গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটিতে তারল্যঘাটতি ছিল প্রায় ৮২৬ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরের শেষে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বরে তারল্যঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর শেষে ইউনিয়ন ব্যাংকের তারল্যঘাটতি ছিল ৪৮৩ কোটি টাকা, তবে ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়ায় ২০০ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে তারল্য উদ্বৃত্ত হয় ৪০০ কোটি টাকা, এর আগে সেপ্টেম্বরে ঘাটতি ছিল ৪৬৫ কোটি টাকা।

    জানা যায়, বার্ষিক আর্থিক অবস্থা ভালো দেখাতে ২০২৩ সালের শেষ কার্যদিবসে এই পাঁচ ব্যাংকসহ মোট ৭টি বেসরকারি ব্যাংককে কোনো জামানত ছাড়াই প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতেই তারল্য উদ্বৃত্ত হয় পাঁচ ইসলামি ব্যাংকে।

     

  • বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের রিজার্ভের পরিমাণ জানাল

    বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের রিজার্ভের পরিমাণ জানাল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বর্তমানে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গণনায় তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    এতে বলা হয়, গত ১ সপ্তাহে সোয়াপ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডলার জমা দিয়ে টাকা নিয়েছে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক। সেই সঙ্গে রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে আমদানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তাতে বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন ছিল ২৫ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গণনায় যা স্থির হয় ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া দেশের আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সংস্থার নিট রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে। এটি শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়, প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই মেথডে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন প্রায় সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার। এ দিয়ে ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।