Category: ফুটবল

  • অবশেষে নেইমার শিকড়ে ফিরে যাচ্ছেন

    অবশেষে নেইমার শিকড়ে ফিরে যাচ্ছেন

    ছিপছিপে গড়নের সেই যে ছেলেটি, মাথায় রং করা চুলের ঝুটি! বছর ১৫ আগে সেই ছবি দেখিয়ে লাতিন মিডিয়াগুলো প্রথম খবর প্রকাশ করতে থাকে। তারা বলতে থাকে, এক বিস্ময় বালকের আবির্ভাব হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলে। সান্তোসে খেলা সেই ছেলেটিকে পরে বিশ্ব চিনে নিয়েছিল বার্সেলোনা, পিএসজি ও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে।

    সে দিনের সেই কিশোর নেইমার এখন বছর বত্রিশের পরিণত একজন। ক্যারিয়ারে চোটাঘাত তাঁকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। গত দুই মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে তাঁর নাম নথিভুক্ত থাকলেও আদতে তাদের কিছুই দিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। সাকল্যে মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি আল হিলালের হয়ে এবং গোল মাত্র একটি। যিনি বিরল ফুটবলারের একজন, যিনি কিনা ভিন্ন ভিন্ন তিনটি ক্লাবের হয়ে ১০০-এর বেশি গোল করেছেন, সেই নেইমার আদতে রিয়াদের ক্লাবটিকে কিছুই দিতে পারেননি।

    বরং বাঁ-পায়ে অস্ত্রোপচার করার পর প্রায় এক বছর ক্লাবটি তাঁর সব চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছে। এখন তিনি অনেকটাই ফিট। এই জুন পর্যন্তই চুক্তি ছিল তাঁর আল হিলালের সঙ্গে। তার আগেই নেইমার আল হিলাল ছেড়ে তাঁর শৈশবের ক্লাব ব্রাজিলের সান্তোস এএফসিতে ফিরে যাচ্ছেন। গতকাল সৌদি ক্লাবের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে সেই খবর নিশ্চিতও করেছে। ‘নেইমার তাঁর ক্যারিয়ারে আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁর আগামীর জন্য শুভকামনা।’

    ইএসপিএনের খবর, দু’পক্ষের সমঝোতার মধ্য দিয়েই চুক্তি ভাঙা হয়েছে। ২০২৩ সালে পিএসজি থেকে আল হিলালে এসেছিলেন নেইমার। বছরে প্রায় ১১০ মিলিয়ন পাউন্ড পেতেন নেইমার আল হিলালের কাছ থেকে। ক্লাবটির হয়ে মোট ৪২৮ মিনিট খেলেছেন। তবে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবা জানাচ্ছে, চোটের কারণে এত বেশি আয় করতে পারেননি তিনি। ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের মতো পেয়েছেন তিনি আল হিলাল থেকে। আর্থিক এই ক্ষতি মেনে নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

    সৌদিতে সপ্তাহে যেখানে তাঁর বেতন ছিল ১.৫ মিলিয়ন ইউরো, সেখানে সান্তোসে ৫০ হাজার ইউরোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ব্রাজিলের এই ক্লাবটিতে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ইউরো পেয়ে থাকেন বাকিরা, সেই হিসাবে নেইমারের বেতন দ্বিগুণ। যদিও সৌদি থেকে বেতনের প্রায় ৯৭ শতাংশ ছাড় দিয়েই আসছেন তিনি। কেননা তিনি ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরতে চান এবং এ জন্য তাঁকে নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লিগে খেলতে হবে। সে কারণেই নাকি সৌদি লিগের বাইরে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    আপাতত সান্তোসের সঙ্গে ৬ মাসের চুক্তিতে যাচ্ছেন তিনি, সঙ্গে এক বছরের বর্ধিত সময়ও রয়েছে। যেখানে দু’পক্ষ চাইলে আরও এক বছর সান্তোসে খেলতে পারবেন নেইমার। প্রিয় ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার জন্য নেইমার নাকি এতটাই মুখিয়ে, এরই মধ্যে মেডিকেল টেস্ট দিতে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি সান্তোসের পরের ম্যাচেই মাঠে নামতে চাইছেন। লাতিন মিডিয়াগুলোর খবর, সান্তোসের মালিকানার কিছু অংশ নিতে চলেছেন নেইমার।

     

  • বার্সেলোনার ৭ গোল এবার ভ্যালেন্সিয়ার জালে

    বার্সেলোনার ৭ গোল এবার ভ্যালেন্সিয়ার জালে

    লা লিগায় টানা ব্যর্থতার পর হতাশা কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ভ্যালেন্সিয়াকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। এই বিশাল জয়ে বার্সা লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভ্যালেন্সিয়া। মাত্র ৩ মিনিটে ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং-এর গোলে গোলবন্যার সূচনা হয়। লামিন ইয়ামালের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে বার্সাকে এগিয়ে দেন ডি ইয়ং। ৮ মিনিটে ফেরান তোরেসের বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান হয় ২-০।

    ১৪ মিনিটে রাফিনহা স্কোরলাইন বাড়ান ৩-০-তে। ২৪ মিনিটে ফেরমিন লোপেজ গোল করলে প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা। ভ্যালেন্সিয়ার পক্ষে একবার পেনাল্টি দাবি উঠলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বার্সাকে ৫-০ ব্যবধানে নিয়ে যান লোপেজ।

    দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভ্যালেন্সিয়া। ৫৯ মিনিটে হুগো ডুরো একমাত্র গোলটি করেন তাদের হয়ে। তবে ৬৬ মিনিটে বার্সার ষষ্ঠ গোল করেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। আর ৭৫ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে সিজার তারেগা বার্সার সাত নম্বর গোলটি উপহার দেন।

    এই জয়ের পর ২১ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে বার্সা তৃতীয় স্থানেই রয়ে গেল। সমান ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, আর ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

  • সালাহর মাইলফলকের রাতে লিভারপুলের জয়

    সালাহর মাইলফলকের রাতে লিভারপুলের জয়

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসির বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ইপসউইচ টাউন লিভারপুলের মাঠে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শনিবার অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছে অলরেডসরা।

    এই জয়ে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে তারা।

    লিভারপুলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন কডি গ্যাকপো, যিনি একটি গোল বানিয়ে দিতেও ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া মোহাম্মদ সালাহ তার অ্যানফিল্ড ক্যারিয়ারের ১০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে লিভারপুল। ১১ মিনিটে গোলের সূচনা করেন ডমিনিক সোবোসলাই। ইব্রাহিমা কোনাটের কাট ব্যাক থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠান হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার।

    ৩৫ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এটি ছিল অ্যানফিল্ডে তার ১০০তম গোল, যা তার জন্য একটি বিশেষ মাইলফলক। চলতি মৌসুমে লিগে এটি তার ১৯তম এবং সব মিলিয়ে ২৩তম গোল।

    প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৪৪ মিনিটে কডি গ্যাকপো তৃতীয় গোল করে লিভারপুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন। ইপসউইচ টাউন প্রথমার্ধে ২৭ শতাংশ বলের দখল রাখলেও কোনো শট নিতে পারেনি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইপসউইচ কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলতে চেষ্টা করে। তাদের স্ট্রাইকার লিয়াম ডেলাপ পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। ওমারি হাচিনসন ইপসউইচের হয়ে প্রথম শট নেন, কিন্তু লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন সহজেই তা রুখে দেন। ৬৬ মিনিটে কডি গ্যাকপো তার দ্বিতীয় গোল করেন।

    ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের ক্রসে হেড থেকে গোলটি করেন তিনি। পরে আর্নল্ডের আরেকটি শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়, নাহলে স্কোর আরও বাড়তে পারত। ৯০ মিনিটে ইপসউইচ টাউন সান্ত্বনার গোল পায়। ডিফেন্ডার জ্যাকব গ্রিভস হেড থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন।

    এই জয়ের ফলে লিভারপুল এক ম্যাচ কম খেলে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে আর্সেনালের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

  • রিয়ালের বড় জয়,এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক

    রিয়ালের বড় জয়,এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক

    রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগের ম্যাচে জোড়া গোলের পর এবার লা লিগায় করেছেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক। তার এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সে রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে ৩-০ গোলে জয় পায় কার্লো আনচেলত্তির দল।

    খেলার শুরুতেই সুযোগ পায় ভায়াদোলিদ। দ্বিতীয় মিনিটে সেলিম আমাল্লাহর কর্নারে দাভিদ তোরেসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ২৪ মিনিটে মামাদু সিলারের শটও দারুণভাবে রুখে দেন তিনি।

    এরপর ম্যাচে নিজেদের ছন্দে ফেরে রিয়াল। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত পাস থেকে বুলেট গতির শটে গোল করেন এমবাপ্পে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেয় লস ব্লাঙ্কোজ।

    দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে রদ্রিগোর পাসে সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপ্পে। তবে ৬৭ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সহজ সুযোগ মিস করেন তিনি। যদিও যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। বেলিংহ্যামকে বক্সে ফাউল করার জন্য ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। তা থেকে গোল করে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক স্মরণীয় করে রাখেন ফরাসি তারকা।

    এই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২১ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট। দুই নম্বরে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে তারা এগিয়ে রয়েছে ৪ পয়েন্টে।

     

  • মেসির ছেলেরা কোন জার্সিতে খেলবেন?

    মেসির ছেলেরা কোন জার্সিতে খেলবেন?

    লিওনেল মেসির ছেলে কি একদিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন? এই প্রশ্নটি হয়তো অবাস্তব শোনায়, তবে সম্প্রতি এটি আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র বনাম ভেনেজুয়েলার প্রীতি ম্যাচের আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইউএসএমএনটি কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনোর কাছে এমন একটি অদ্ভুত প্রশ্ন করা হয়।

    সাংবাদিক জানতে চান, ‘আমরা মিয়ামিতে আছি, আপনি কি যাওয়ার আগে মেসির ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে খেলতে রাজি করাবেন?’

    পচেত্তিনো প্রথমে এই প্রশ্নকে হালকা মেজাজে নেন। তিনি হেসে বলেন, ‘না, না। একেবারেই না। মেসিকে দলে নেওয়া তো সবার স্বপ্ন। কিন্তু আপনি যদি তার ছেলেদের কথা বলেন, তাহলে হয়তো আলাপ করা যেতে পারে। তবে সত্যি বলতে, আমি তখন অনেক বুড়ো হয়ে যাবো। তাই হয়তো সেই সময় আমি কোচ থাকব না।’

    সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন মজার ছলে করা হলেও পচেত্তিনোর উত্তর বাস্তবসম্মত ছিল। মেসির বড় ছেলে থিয়াগো মেসি বর্তমানে ১২ বছর বয়সী এবং ইতোমধ্যেই ইন্টার মিয়ামির যুব দলে খেলছেন। দ্বিতীয় সন্তান মাতেও ৯ বছর বয়সী, আর ছোট ছেলে সিরো মাত্র ৬ বছর বয়সী। সুতরাং, তাদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি এখনো অনেক দূরের ব্যাপার।

    তবে জাতীয় দলের বিষয়টি এলে মেসির ছেলেদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মেসি ও তার স্ত্রী দুজনই আর্জেন্টাইন, যার ফলে তাদের আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার যোগ্যতা রয়েছে। তবে তারা জন্মসূত্রে স্প্যানিশ নাগরিক হওয়ায় স্পেনের হয়ে খেলাও তাদের জন্য সম্ভব। আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় তারা চাইলে ইউএসএমএনটির জার্সিও পরতে পারবেন।

    পচেত্তিনো ও মেসির মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষ সংযোগ। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) কোচ থাকার সময় পচেত্তিনো মেসিকে কোচিং করিয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বে পিএসজি ২০২১-২২ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছিল। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থতার কারণে সে সময় পচেত্তিনোকে ক্লাব ছাড়তে হয়।

    মেসির ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে মজার ছলে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—তারা একদিন কোন দেশের হয়ে মাঠে নামবেন? যদিও এখনো অনেক সময় বাকি, তবে এ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আগ্রহ থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

     

  • এমবাপ্পে কি জ্বলতেন মেসি-নেইমার বন্ধুত্বে ?

    এমবাপ্পে কি জ্বলতেন মেসি-নেইমার বন্ধুত্বে ?

    অবশেষে পিএসজি অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন নেইমার। বেরিয়ে এলো অনেক তেতো সত্য! প্যারিসের ক্লাবটিতে নাকি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কটা ভালোই ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের আগস্টে লিওনেল মেসি সেখানে যেতেই বাধে গণ্ডগোল। মেসি ও নেইমারের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখে নাকি হিংসায় জ্বলতেন ফরাসি তারকা।

    তাঁর মধ্যে একটা অহংকার কাজ করত বলেও জানান নেইমার। এই অহংবোধের কারণে পিএসজির পারফরম্যান্সে ব্যাঘাত ঘটত বলেও মনে করছেন নেইমার। ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার রোমারিওর সঙ্গে এক পডকাস্টে পিএসজির ওই দিনগুলোসহ অনেক কিছুই বলেছেন নেইমার।

    পডকাস্টে রোমারিও জিজ্ঞেস করেন, পিএসজিতে এমবাপ্পে বিরক্তিকর ছিল কিনা! নেইমার জবাব দেন, “না, সে ওই রকম ছিল না। তার সঙ্গে আমার নিজস্ব কিছু বিষয় ছিল। আমাদের সামান্য মনোমালিন্য হতো। তবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আমরা সবাই জানতাম সে হলো ক্লাবের মূল ভিত্তি। আমি তাকে ‘গোল্ডেন বয়’ বলে ডাকতাম।

    আমি সব সময় তার সঙ্গে খেলতাম। তাকে বলতাম, সে সেরাদের একজন হবে। আমি সব সময় তাকে সহায়তা করতাম, অনেক কথা বলতাম, সে আমার বাসায় আসত, আমরা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতাম।”

    তবে মেসির আগমনেই সে সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানান নেইমার, ‘তার সঙ্গে আমার জুটিটা কয়েক বছর ভালোই ছিল। কিন্তু মেসি আসার পরই সে কিছুটা হিংসা করতে শুরু করল। আমার সঙ্গে আর কারও ভালো সম্পর্ক হোক, এটা সে চায়নি। এর পরই মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো, তার আচরণ পাল্টে গেল।’

    ২০১৭ সালে মোনাকো থেকে পিএসজিতে যোগ দেন এমবাপ্পে। একই বছর বার্সেলোনা থেকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে প্যারিসের ক্লাবটিতে আসেন নেইমার। কাতারি মালিকরা দু’জনকেই এনেছিলেন মূলত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্যে।

    যেটা এখনও পূরণ করতে পারেনি। ২০২১ সালের আগস্টে সেখানে যান মেসি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ত্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেটা হয়নি। এর পেছনে ছিল নাকি অংহবোধ। এই অংহবোধের কারণে দল ভুগত বলে জানান নেইমার।

    যদিও কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি, ‘অংহকার থাকা ভালো। কিন্তু আপনার মনে রাখা উচিত, আপনি একা খেলতে পারবেন না। আপনার পাশে আরেকজনকে লাগবেই। সর্বত্রই এই অহংবোধ ছিল, যার ফলাফল মোটেও ভালো ছিল না। আপনি যদি একা দৌড়ান এবং কেউ যদি সহায়তা না করে, তাহলে কোনো কিছু জেতা অসম্ভব।’

    তিনজনই এখন পিএসজি ছেড়ে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায়। তিনজনের মাঝে তৈরি হওয়া তিক্ততা নিয়ে ২০২৩ সালে মেসি ইন্টার মায়ামিতে পাড়ি জমান। ওই বছরই নেইমার চলে যান সৌদি লিগের দল আল হিলালে। আর এ বছর রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন এমবাপ্পে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সৌদি ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে নেইমারের। এর পর ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

  • সব জল্পনা-কল্পনা শেষে বার্সায় ফিরছেন মেসি!

    সব জল্পনা-কল্পনা শেষে বার্সায় ফিরছেন মেসি!

    লিওনেল মেসির প্রাণের ক্লাব বার্সেলোনা। এমনকি বার্সাও বহুবার জানিয়েছে, ক্যাম্প ন্যুর দরজা মেসির জন্য সব সময় খোলা। চলতি বছরের শেষ দিকে ওই খোলা দরজায় পা রাখতে পারেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। সেটাও যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য ধরেই। সংবাদমাধ্যম এল ন্যাশিওনাল দিয়েছে এমনই খবর।

     
    ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মেসির চুক্তি আছে ২০২৫ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবে যোগ দেওয়ার সময় এক বছর চুক্তি নবায়নের শর্তও রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু মেজর লিগের মৌসুম ছোট হওয়ায় আসন্ন মৌসুম শেষে ফিট ও ফর্মে থাকতে বার্সায় যোগ দিতে পারেন কাতার বিশ্বকাপ ও পর পর দুই কোপা আমেরিকাজয়ী মেসি।
     
     
    বিষয়টি আরেকটু খুলে বললে, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে অক্টোবরের শেষদিকে শেষ হয়। আগামী অক্টোবরে লিগ মৌসুম শেষে তাই ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে মেসির। এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে জুনে। মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করলেও বিশ্বকাপের বছর চার মাস বসে কাটাতে হতে পারে মেসির। এতে করে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললেও সেরাটা দিতে সমস্যা হতে পারে সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকার।
     
    যে কারণে আগামী অক্টোবরে ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাওয়া মেসি ধারে বার্সার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত চুক্তি করতে পারেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় চুক্তি করতে পারেন ডেভিড বেকহামের ক্লাবে। যদিও বিষয়টি বলার মতো সহজ নয়।
     
    তবে আগে ফ্রান্স কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ও আয়ারল্যান্ড স্ট্রাইকার রব কি’ এমনটা করেছিলেন। তারা এমএসএলে খেললেও অঁরি আর্সেনালে ও রব কি’ অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত চুক্তি করেছিলেন। বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে মেসিও নিতে পারেন এমন কোনো সুযোগ। এমনকি সেটা বার্সেলোনা না হয়ে অন্য কোনো ক্লাবও হতে পারে।
  • অবশেষে রিয়ালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বার্সা

    অবশেষে রিয়ালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বার্সা

    মৌসুমের প্রথম লা লিগার মতে এবারও কী ৪ গোল হবে। জবাবে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার পেদ্রি বলেছিলেন-সহজ নয়, ওরাও প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে আছে। প্রতিশোধ নিতে পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে লস ব্লাঙ্কোসদের ৫-২ গোলে নির্মমভাবে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে বার্সেলোনা।

    সোমবার সৌদির কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়াসের পাস ধরে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু মুহূর্তে রিয়ালের কর্তৃত্ব করায়ত্ত করে কাতালানরা।

    ম্যাচের ২২ মিনিটে লেভানডভস্কির পাস ধরে নিখুঁত কারিকুরিতে গোল করে ম্যাচে সমতা করেন লামিনে ইয়ামাল। আর ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লেভার গোলে লিড নেয় বার্সা।

    প্রথমার্ধে আরও দুই গোল করে ম্যাচের লাগাম পুরোটা হাতে নেয় জার্মান কোচ হানসি ফ্লিকের বার্সা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে রাফিনিয়া লিড ৩-১ করেন। যোগ করা সময়ে বাল্ডেকে গোল করিয়ে ম্যাচ একপ্রকার শেষ করে দেন।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া।

    তবে ৫৬ মিনিটে রং বদলায় ম্যাচ। এমবাপ্পেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বার্সার পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেস সেজনি। ফ্রি কিক থেকে গোলও করেন রদ্রিগো। রিয়ালের সামনে ১০ জনের বার্সার বিরুদ্ধে চড়াও হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। আক্রমণের চেষ্টাও করে কার্লো আনচেলত্তির দল। কিন্তু কামব্যাকসূচক গোল আর পায়নি তারা। দশ জনের দল নিয়েই রেকর্ড ১৫তম স্প্যানিশ সুপার কাপ ঘরে তুলেছে বার্সা।

  • এবার মেসির নতুন চুক্তিতে মায়ামির সাথে ইউরোপে ফেরার সুযোগ থাকছে

    এবার মেসির নতুন চুক্তিতে মায়ামির সাথে ইউরোপে ফেরার সুযোগ থাকছে

    আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি আবারও ইউরোপে ফুটবল খেলার সুযোগ পেতে পারেন। ইন্টার মায়ামি তাকে নিয়ে নতুন চুক্তির পরিকল্পনা করছে, যেখানে মেসির ইউরোপে খেলার বিশেষ সুযোগ রাখা হতে পারে।

    এসবি নেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির বর্তমান চুক্তি ২০২৫ সালে শেষ হলেও নতুন চুক্তিতে একটি বিশেষ ধারা যোগ করা হবে। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) মৌসুম ডিসেম্বরে শেষ হলে, মেসি ইউরোপের কোনো ক্লাবে ধারে খেলার সুযোগ পাবেন। এতে তিনি ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে ফিটনেস ধরে রাখতে পারবেন। তবে এখনো মেসি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি বা কোনো ইউরোপীয় ক্লাবের নাম চূড়ান্ত হয়নি।

    ইউরোপে ধারে খেলার এই পদ্ধতি নতুন কিছু নয়। এর আগে থিয়েরি অঁরি নিউ ইয়র্ক রেড বুলস থেকে আর্সেনালে, ডেভিড বেকহাম এবং জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ এলএ গ্যালাক্সি থেকে এসি মিলানে ধারে খেলেছেন।

    ইন্টার মায়ামি তাদের ২০২৫ মৌসুমের আগে পাঁচটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে। এশিয়ায় ২০২৪ সালের ট্যুর শেষে এবার তারা উত্তর, দক্ষিণ এবং মধ্য আমেরিকায় প্রীতি ম্যাচ খেলবে।

    মেসি যদি নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং ইউরোপে খেলতে যান, তবে তা হবে ফুটবলবিশ্বে একটি আলোচিত ঘটনা। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তার ফিটনেস ধরে রাখার এই উদ্যোগ ভক্তদের জন্য হবে বিশেষ আকর্ষণ।

     

  • এবার মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে পুনর্মিলনের হতে পারে নেইমারের

    এবার মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে পুনর্মিলনের হতে পারে নেইমারের

    ব্রাজিলিয়ান ‍ফুটবল তারকা নেইমার তার সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে ইন্টার মায়ামিতে আবারও একসঙ্গে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। যদিও এখনই কোনো নিশ্চয়তা নেই, তবে তিনি বলেছেন, ‘ফুটবল সারপ্রাইজে ভরা।’

    ৩২ বছর বয়সী নেইমার বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল হিলালে খেলছেন এবং তার চুক্তি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে চোটের কারণে তিনি নিয়মিত মাঠে নামতে পারছেন না, যা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি করেছে।

    সিএনএন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘আবারও মেসি ও সুয়ারেজের সঙ্গে খেলা দারুণ হবে। তারা আমার ভালো বন্ধু, আমরা এখনও যোগাযোগ রাখি। আমাদের সেই পুরোনো ত্রয়ীকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ হলে মজাই হতো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি আল হিলালে এবং সৌদি আরবে সুখে আছি, তবে ফুটবল যে কোনো মুহূর্তে চমক দেখাতে পারে।’

    ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেসি ও সুয়ারেজ ইন্টার মায়ামিতে একসঙ্গে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালে তারা মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সাপোর্টারস শিল্ড জিতেছেন। এছাড়া, তারা এক মৌসুমে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনের রেকর্ড গড়েছেন।

    নেইমার যদি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, তবে ফুটবল বিশ্ব আবারও বার্সেলোনার বিখ্যাত “এমএসএন” (মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার) ত্রয়ীকে দেখতে পারে, যা একসময় ইউরোপিয়ান ফুটবলে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। তবে মায়ামি কোচ আগেই বলেছেন, এমএলএসের বেতন কাঠামো অনুযায়ী নেইমারকে দলে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

    সাক্ষাৎকারে নেইমার তার জাতীয় দল নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানান। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করব—আমি সেখানে থাকতে চাই। এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ, আমার শেষ সুযোগ, তাই আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব সেখানে খেলার জন্য।’

    ২০২২ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কিছুদিন দূরে থাকলেও নেইমার আবারও ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামতে চান। তবে সেটা নির্ভর করছে তার ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ওপর।

    বর্তমানে চোটের সঙ্গে লড়াই করা নেইমার কবে মাঠে ফিরবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তিনি ফিট হয়ে উঠলে ভবিষ্যতে তাকে মেসি ও সুয়ারেজের সঙ্গে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে দেখা যাবে কি না, তা দেখার বিষয়। ফুটবলপ্রেমীরা অবশ্যই এই পুনর্মিলনের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে থাকবেন।