Category: ফুটবল

  • অশ্রুসিক্ত চোখে ডি মারিয়ার বিদায়

    অশ্রুসিক্ত চোখে ডি মারিয়ার বিদায়

    আগেই জানিয়েছিলেন, এবারের কোপা শেষেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ফাইনালের আগেও সতীর্থদের থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় স্পেশাল জার্সিও। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রায় প্রতিটি ফাইনালের মতো নেমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন তিনি। চোটের কারণে মেসি মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে সামনে থেকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। গোল না পেলেও ফেরেননি খালি হাতি। জাতীয় দলের জাসিতে শেষটা রাঙালেন কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে। কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে আরও একবার কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা।

     

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে লম্বা সময় অবধি গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে গোল করে দলকে জেতান মার্টিনেজ। এই ম্যাচ তাদের জন্য একদমই সহজ ছিল না বলে জানান ডি মারিয়া। একসময় টানা তিন ফাইনাল হারা এই ফুটবলারের আফসোস, আগের প্রজন্মের সঙ্গে কিছু জিততে না পারার।
    তিনি বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে এটা সহজ ছিল কিন্তু আসলে কঠিন। আমার অন্য প্রান্তেও থাকতে হয়েছে। আমি এই প্রজন্মের কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে সবকিছু এনে দিয়েছি। আমি যা চেয়েছি সবকিছু অর্জন করেছি। যদি আগের প্রজন্মের সঙ্গেও কিছু জিততে পারতাম, সেটাও প্রাপ্য ছিল। ’
    আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক স্মৃতি ডি মারিয়ার। আর্জেন্টিনার প্রতিটি শিরোপা জয়ের সঙ্গে যার ছিল অসামান্য অবদান। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫ টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। গোল করেছেন ৩১টি। এর মধ্যে হয়তো তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে তিনটি গোল—২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তার একমাত্র গোলে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা, এরপর ২০২২ সালে লা ফিনালিসিমা আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের গোল।
  • কোপায় গোল্ডেন বুট লাওতারোর, গ্লাভস মার্টিনেজের

    কোপায় গোল্ডেন বুট লাওতারোর, গ্লাভস মার্টিনেজের

    কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্টিনা। এতে উরুগুয়েকে ছাপিয়ে রেকর্ড ১৬ বার মহাদেশীয় এই শিরোপা জিতল আলবিসেলেস্তরা। এতে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা ও ২০২২ বিশ্বকাপের পর ফের কোপা আমেরিকা জিতে ত্রিমুকুট জেতা দ্বিতীয় দল হল আর্জেন্টিনা।

     

    কোপার এবারের আসরে পার্শ্বচরিত্র হয়েই কাটালেন লিওনেল মেসি। বরং এবারের শিরোপা জয়ের বড় অবদান লাওতারো মার্টিনেজ আর এমি মার্টিনেজের। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে দারুণ অবদান রেখেছেন লাওতারো মার্টিনেজ। ইন্টার মিলানের অধিনায়ক ৬ ম্যাচে ৫ গোল করে জিতে নিয়েছেন এবারের আসরের গোল্ডেন বুট।
    টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করেছেন লাওতারো। উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে ১ গোল করেছেন তিনি। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২-০ গোলে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন লাওতারো। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই করেন লাওতারো। আজ ফাইনালে তারই একমাত্র গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
    আর্জেন্টিনার ফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে দারুণ অবদান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজেরও। কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক এমি কোপা আমেরিকায়ও পেলেন সেরা গোলরক্ষকের গোল্ডেন গ্লাভস। আসরে আর্জেন্টিনার খেলা ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই গোল হজম করেননি মার্টিনেজ।
  • মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনার ইতিহাস গড়ল

    মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনার ইতিহাস গড়ল

    আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গ্যালারির গগণবিদারি চিৎকারে তখন আগুন ঝরছে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। এমন সময়ে অনেকটা মাঝমাঠ থেকে বল বাড়ালেন জিওভান্নি লো সেলসো। ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে কোনাকুনি শটে কলম্বিয়ার স্বপ্ন গুড়িয়ে দিলেন লাওতারো মার্তিনেস। স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে জিতে ইতিহাস গড়ল আর্জেন্টিনা।

     

    কোপা আমেরিকার ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসি চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও মনোবল হারায়নি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে কলম্বিয়ার ২৮ ম্যাচের অজেয় যাত্রা থামিয়ে ১-০ গোলে জিতেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
    কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসরে আর্জেন্টিনার এটি টানা দ্বিতীয় ও রেকর্ড ১৬তম শিরোপা। এতদিন ১৫টি শিরোপা নিয়ে উরুগুয়ের সাথে রেকর্ডটা ভাগাভাগি করে আসছিলেন মেসি-দি মারিয়ারা। লাতিন আমেরিকার প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি বৈশ্বিক বড় শিরোপাও জিতল তারা।
    ২০২১ কোপা আমেরিকার পর ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ। আর এবার ২০২৪ কোপা আমেরিকা- লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে টানা তিনটি বড় শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। ইউরোপে এই অর্জন আছে শুধু স্পেনের। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরো জয়ের মাঝে তারা ২০১০ সালে জিতেছিল বিশ্বকাপ।
    ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে তিন বছরে বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এবার তিন আসরের তিনটি ট্রফিই ঘরে তুলল তারা। মাঝে টানা ২৮ বছর কোনো শিরোপার স্বাদ না পাওয়া দলটি এবার চার বছরে পেল তিনটি সাফল্য।
    আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল দি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। ম্যাচের ৯৭তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে নিকোলাস অতামেন্দিরকে নামান কোচ। এসময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ৩৬ বছর বয়সী দি মারিয়া। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তার ১৪৫তম ম্যাচ। এমন দিনে ম্যা অব দা ফাইনালও হয়েছেন তিনি।
    ম্যাচের প্রথমার্ধে চোট পাওয়ার পরও অস্বস্তি নিয়েই খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মেসি। কিন্তু দ্বিতীর্য়ার্ধে কলম্বিয়ার শারীরিক ফুটবলের সঙ্গে লড়ে আর পেরে ওঠেননি। ৬৫তম মিনিটে অধিনায়ক বন্ধনী বিশ্বাস্ত সতীর্থ দি মারিয়ার হাতে তুলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন কান্নাভেজা চোখে। তার জায়গায় নামেন স্ট্রাইকার নিকোলাস গনসালেস।
    সাইডলাইনে বসে ছোট্ট বালকের মতো অশ্রু ঝরাতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহানায়ককে।
    ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলেছে কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনাকে চুল পরিমান ছাড় তিতে চায়নি তারা। প্রথমার্ধে তো আর্জেন্টিনাকে সেভাবে পাওয়াই যায়নি ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগ থেকে ম্যাচ জমে ওঠে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে। শেষ দিকে আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল আর্জেন্টিনাই।
    ম্যাচে ৫৬ শতাংশ বলের দখল ছিল কলম্বিয়ার অনুকূলে। ১৯টি শটের চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। তবে পোস্টের নিচে ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
    ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায়। কিন্তু কলম্বিয়ান উগ্র সমর্থকদের তোপের মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। কয়েক দফায় পিছিয়ে ম্যাচ শুরু হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে।
    আর্জেন্টিনা শুরুই করেছিল মানসিকভাবে পিছিয়ে থেকে। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তারের মা, আলেহান্দ্রো গার্নাচোর ভাইসহ একাধিক খেলোয়াড়ের স্বজনরা আটকে ছিলেন উগ্রপন্থী কলম্বিয়ান সমর্থকদের মাঝে। খেলা শুরুর আগে নিজের মাকে নিরাপদে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসতে লকাররুম ছেড়ে বেরিয়ে পর্যন্ত আসেন ম্যাক অ্যালিস্তার।
    সুযোগ যে আর্জেন্টিনাও পায়নি তেমন নয়। হুলিয়ান আলভারেজের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মেসির একটি শট আলভারেজের পায়ে বাধা পেয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। নিকোলাস তালিয়াফিগোর হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।
    ৩৪তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে ওঠে বল নিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে যান মেসি। কিন্তু শট নেওয়ার সময় ভয়ঙ্কর ট্যাকেলে আঘাত পান আর্জেন্টাইন দলপতি। লম্বা সময় মাঠে চলে শুশ্রুষা। উৎকণ্ঠা ভর করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে। পরে অস্বস্তি নিয়ে খেলা চালিয়ে যান অধিনায়ক।
    প্রথমার্ধ শেষে শুরু হয় কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরার স্টেজ শোয়। গানের মুগ্ধতায় মাতিয়ে রাখেন পুরো স্টোডিয়াম।
    ৫২তম মিনিটে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। খুব কাছ থেকে হেডে বল ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন দিয়াস। ৫ মিনিট পর বাম প্রান্ত দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল নিয়ে এগিয়ে কোনাকুনি শট নেন দি মারিয়া। ঝাপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কলম্বিয়া গোররক্ষক।
    ৬৫তম মিনিটে আবারও আঘাত পান মেসি। এবার আর চালিয়ে যেতে পারেননি। অধিনায়ক বন্ধনী বিশ্বাস্ত সতীর্থ দি মারিয়ার হাতে তুলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন কান্নাভেজা চোখে। তার জায়গায় নামেন স্ট্রাইকার নিকোলাস গনসালেস।
    ৭২তম মিনিটে গনসালো মন্তিয়েরে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন স্পট কিকে পারদর্শী নাহুয়েল মলিনা।
    ৭৪তম মিনিটে জালে বল পাঠায় আর্জেন্টিনা। উদযাপন শুরু করতেই অফসাইডের পতাকা তোলে রেফারি। হতাশ হতে হয় লা আলবাসিলেস্তে সমর্থকদের।
    চেষ্টা চালিয়েও নির্ধারিত সময়ে পরে আর কেউ জালের দেখা পায়নি। অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে আলভারেজের বদলি নামেন মার্তিনেজ। ৫ মিনিটের মাথায় আসরে নিজের ৫তম গোল করে দরকে এনে দেন কাঙ্খিত জয়। আসরে সর্বোচ্চ গোল তারই।
    বাকি সময়ে ব্যবধান ধরে রাখাই যেন ছিল আর্জেন্টিনার মূল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে কলম্বিয়ার ফুটবলারদের সঙ্গে লেগেও গিয়েছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের। রেফারি শান্ত করেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।
  • এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি খেলেছে ৯ ফাইনাল

    এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি খেলেছে ৯ ফাইনাল

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে ক্যারিয়ারের দশম ফাইনাল খেলার অপেক্ষায় লিওনেল মেসি। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় হার্ড রক স্টেডিয়ামে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবেন মেসিরা। লম্বা ক্যারিয়ারে মেসি আলবিসেলেস্তোদের হয়ে ৯টি ফাইনাল খেলেছেন। যেখানে ফাইনালে শিরোপা জিতেছেন ৫টি। আর হেরেছেন ৪টি। ফাইনালে মেসি গোল পেয়েছেন ৪টি আর অ্যাসিস্ট করেছেন আরও ৪টিতে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক… কেমন ছিল মেসির আগের ৯ ফাইনাল।

    ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির প্রথম ফাইনাল এটি। ২০০৫ সালে মেসি এটা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে। সেবার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল নাইজেরিয়া। সেই ম্যাচে মেসির জোড়া গোলেই শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। আলবিলেস্তেরা ম্যাচটি জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। ওই টুর্নামেন্টে মেসি সর্বোচ্চ ছয় গোল করেছিলেন এবং টুর্নামেন্ট সেরার খেতাবও জিতেছিলেন।

    ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা: আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে এটি মেসির প্রথম ফাইনাল। কোপা আমেরিকায় সেবার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল। ফাইনালের আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও মেসির দাপট ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এটিই আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির প্রথম ফাইনাল হারের স্বাদ।

    ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিক: ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেই টুর্নামেন্টে প্রথমে খেলারই কথা ছিল না মেসির। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে সেই মেসির অ্যাসিস্টেই গোল করে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয় এনে দেন ডি মারিয়া। ডি মারিয়ার গোলেই অলিম্পিকে স্বর্ণপদক ওঠে মেসির গলায়।

    ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ: ২০১৪ বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফাইনালে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ব্রাজিলের মারাকানায় জার্মানি কাছে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে স্বপ্নভঙ্গ হয় মেসি। টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হয়েও একরাশ হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন মেসি।

    ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকা: এবার চিলির বিপক্ষে মেসিদের ফাইনাল। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে হারাতে পারেনি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মেসি নিজের নেওয়া শট গোলে পরিণত করেন। কিন্তু গঞ্জালো হিগুয়েন ও এভার বানেগা গোল মিস করে চিলিকে উপহার দেন কোপার শিরোপা। মেসির হাত থেকে ছুটে যায় শিরোপা।

    ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা: টানা দ্বিতীয়বারের মতো ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেবারও মেসিদের প্রতিপক্ষ ছিল চিলি। এই ম্যাচও গড়ায় টাইব্রেকারে। মেসির পেনাল্টি মিসের রাতে এবারও হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টানা তিন ফাইনালে হারের শোকে কান্নাভেজা কণ্ঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে কোন বড় শিরোপা না জিতেই বিদায় নেন মেসি।

    ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা: অবসর ভেঙে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফেরেন মেসি। এসেই যেন মেসি হয়ে ওঠেন অন্য এক ফুটবলার। ২০২১ কোপা আমেরিকায় আবারও ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। সেবার ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে নিজের প্রথম বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পান মেসি। ২৮ বছর পর আবারও লাতিন আমেরিকার সেরা হয় আর্জেন্টিনা।

    ২০২২ সালের ফিনালিসামা: কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোর চ্যাম্পিয়নকে নিয়ে ২০২২ সালে আয়োজন করা হয় ফিনালিসামা। সেই ফাইনালে ইতালির মুখোমুখি হয় মেসির আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ইতালিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

    ২০২২ সালের বিশ্বকাপ: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির সব পাওয়া পেয়ে যায় পূর্ণতা। মেসি পেয়ে যান অমরত্বের স্বীকৃতি। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে অঘটনের শিকার হলেও মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের বিপক্ষে ঘটনাবহুল ফাইনালে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে এমি মার্টিনেজের অবিশ্বাস্য দুই সেভে শিরোপা ওঠে মেসির হাতে। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে মেসি। বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের খেতাবও জেতেন তিনি।

  • কোপার শেষ দৃশ্যে দেখা যাবে মেসি-ডি মারিয়াকে

    কোপার শেষ দৃশ্যে দেখা যাবে মেসি-ডি মারিয়াকে

    আরাধ্যের বিশ্বকাপ তিনি দু’বছর আগেই স্পর্শ করেছেন। তারও আগে কোপা জিতে আত্মদীপ জ্বালিয়েছেন। ক্লাবের হয়ে সব ধরনের ট্রফি, সারি সারি ব্যালন ডি’অর, আর্জেন্টিনার হয়ে গায়ে গায়ে দু-দুটি বৈশ্বিক শিরোপা– প্রতিটির আবেশে মেসির পূর্ণতা।

    নিজের জন্য ফুটবল ঈশ্বরের কাছে তাঁর চাওয়ার আর কিছু নেই, সে কথা তিনি দোহায় সেই রাতেই বলে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের সেই অমৃত সুধা পান করে একটি প্রজন্মের কাছে তিনি শান্তি-সুখের বাকি জীবন; আর নতুন প্রজন্ম, যারা তাঁর মুগ্ধতায় বশ হয়েছে মাত্র, তারা যে আরও ‘একবার’ চায় মেসির মাথায় ত্রিমুকুট দেখতে।

    উত্তর প্রজন্মের সেই দ্রোহে, কোলাহলে, লাস্যেই নিজের শেষ কোপার ফাইনালে (সোমবার সকাল ৬টা) কলম্বিয়ার বিপক্ষে নামছে আর্জেন্টিনা। শেষবারের মতো একসঙ্গে তারা দু’জন– সামনে মেসি, তাঁর একটু পিছে ডি মারিয়া। বেলা শেষের গান তাই কোপার ফাইনালে।

    সলিড ডিফেন্স, সেরা মিডফিল্ড, সেরা অ্যাটাকিং, গোলপোস্টের নিচে আস্থার গ্লাভস– সব কিছুতেই কলম্বিয়ার চেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোথায় গিয়ে যেন এই দলটির একটি তাড়না লাগে, সুখের মাঝেও কান্নার দরকার পড়ে! গত বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যেমন গোটা দল মেসির জন্য আবেগে আন্দোলিত ছিল, ফ্রান্সের বিপক্ষে মর্যাদার লড়াই তাদের ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল।

    হামেস রদ্রিগেজদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেই ঝাকুনিটা এবার বোধ হয় তারা নিজেরাই দিয়ে রেখেছে। ১৬টি বছর ধরে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে ১৪৪ ম্যাচ খেলে যাওয়া উইঙ্গার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার আজই শেষ ম্যাচ। বন্ধু ‘মারিয়ার জন্য আমাদের ফাইনালে উঠতেই হবে’– কিছুদিন আগে লকার রুমে মেসির এই স্পর্শী বার্তায় চোখের জল পড়েছিল মারিয়ার। কালও নিশ্চয় সেই মারিয়ার জন্যই টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা জিততে চাইবে আলবিসেলেস্তেরা।

    রোজারিওর কিছু মিডিয়ায় এমনও খবর বের হয়েছে, বন্ধু মারিয়ার মতো মেসিরও হতে পারে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ। খবরটি তিনি আগে জানাননি এই কারণে, তাহলে মারিয়ার শেষের মঞ্চটা মলিন হয়ে যেতে পারে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো মিডিয়ায় অবশ্য এ খবর আসেনি।

    তবে যে খবর এসেছে, তাতে মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে কলম্বিয়ার সমর্থকদের হলুদের আধিক্য থাকবে। প্যারিস থেকে মায়ামিতে থিতু হলেও ফাইনালে নাকি প্রবাসী কলম্বিয়ানদের উপস্থিতিই বেশি থাকবে। তা ছাড়া ২৩ বছর পর কোপার ফাইনাল খেলতে নামছে এসকোবারের দেশের ছেলেরা।

    এই আন্দ্রেজ এসকোবারের কথা মনে আছে কি? ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে আততায়ীদের বন্ধুক হামলায় মারা গিয়েছিলেন এসকোবার। ৩০ বছর আগের এই কষ্ট আর্জেন্টাইনদের হৃদয়েও গেথে আছে।

    সেবার এই যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। সেই মার্কিন মুল্লুক থেকেই এবার ১৬তম কোপার শিরোপা জয়ের সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। অন্যদিকে কলম্বিয়ার সামনে দ্বিতীয় কোপা শিরোপা জয়ের হাতছানি।

    ১২ নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা লাতিনের এই দলটি গত ২৮ ম্যাচ অপরাজিত। দলের আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেনজো কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতে পছন্দ করেন। আর এভাবেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কলম্বিয়া ২২ ম্যাচে জয় পেয়েছে।

    ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো দলকে হারিয়ে তারা ফাইনালে এসেছে। তবে কাল দলের অন্যতম ভরসা রাইট-ব্যাক ড্যারিয়েল মুনোজ কার্ড নিষেধাজ্ঞা থাকায় খেলতে পারছেন না।

    ৪-২-৩-১ ফরমেশনে করডোভা, দিয়াজ, রদ্রিগেজ রয়েছেন দারুণ ফর্মে। ২০২১ সালের কোপাতে এই কলম্বিয়াকে সেমিতে টাইব্রেকারে (নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র) হারিয়েছিল মেসির আর্জেন্টিনা। তার পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতেও কলম্বিয়ানরা হেরেছিল মেসিদের কাছে। রেকর্ড বলছে ৪২ বারের মুখোমুখিতে আর্জেন্টিনা ২৫ এবং কলম্বিয়া জিতেছে ৯ বার।

    তবে মায়ামির ফাইনালে কলম্বিয়া যে আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলবে, তা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন ইএসপিএনের সাংবাদিক লিজি বেকারানো। তাঁর যুক্তি– আর্জেন্টিনা এ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে কানাডা, চিলি, পেরুর মতো কমশক্তির দলগুলোর বিপক্ষে জিতেছে। একমাত্র ইকুয়েডরের সঙ্গে যা একটু পরীক্ষা দিতে হয়েছে মেসিদের।

    সেখানে কলম্বিয়ার সঙ্গেই তাদের হাডাহাড্ডি লড়াই দিতে হবে। যে দলগুলো আক্রমণাত্মক খেলে, তাদের সামনে শেষ দিকে আর্জেন্টিনা দলের কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে এই সাংবাদিকের। কাতার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের কাছে শেষ দিকে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স আলগা হয়ে পড়েছিল।

    সেটা ধরেই হয়তো সতর্ক আর্জেন্টিনার কোচ ৪-৪-২ ফরমেশনেই দলকে সাজাচ্ছেন। যেখানে শুরুর একাদশে মেসির পাশে আলভারেজকে রাখতে পারেন তিনি। মাঝ মাঠে ডি মারিয়া, ডি পল, ফার্নান্দেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টার থাকতে পারেন। ডিফেন্সে মন্টিয়েল, রোমেলো, তাগলিয়াফিকো ও লিসান্দ্রো।

    আর্জেন্টিনার এই ‘মেসি-মারিয়া’ ফাইনালে ছড়িয়ে পড়ুক মায়া, পড়ন্ত বেলার সূর্যের আলোয় ম্লান হয়ে যাক বাকিরা। আকাশি-সাদা প্রতিটি প্রজন্মের তো এটাই চাওয়া।

  • এবারের আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ফাইনালে ব্রাজিলের ৫ রেফারি

    এবারের আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ফাইনালে ব্রাজিলের ৫ রেফারি

    কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার জন্য ম্যাচ অফিসিয়ালদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে রেফারিদের নাম দেখে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নড়েচড়ে বসারই কথা। কেননা কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে যে রেফারির দায়িত্ব পেয়েছেন এক ব্রাজিলিয়ান! ম্যাচে মূল রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্রাজিলের রাফায়েল ক্লাউস।

     

    বৃহস্পতিবার ফাইনাল ম্যাচের রেফারিদের নাম জানিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল। সেখানে দেখা যায়, ক্লাউসের অ্যাসিসট্যান্ট, ভিএআর মিলিয়ে মোট ৭ জন রেফারির মধ্যে ৫ জনই থাকছেন ব্রাজিলের। তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্রুনো পিরেস ও রদ্রিগো কোরেয়া। ভিএআর পরিচালনা করবেন আরেক ব্রাজিলিয়ান হোদোলফো তস্কি। তাকে সহযোগিতা করার জন্য থাকছেন একই দেশের দানিলো মানিস ও দানিয়েল নব্রে। এর বাইরে চতুর্থ ও পঞ্চম অফিসিয়াল হিসেব থাকছেন প্যারাগুয়ের হুয়ান বেনিতেস ও এদুয়ার্দো কারদোসো। আগামী ১৫ জুলাই ভোর ৬টায় শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।

    এর আগে ২০২০ সালে কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে রেফারি রাফায়েল ক্লসের সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল আজেন্টিনার। প্যারাগুয়ের সঙ্গে একটি ম্যাচে মেসিদের পক্ষে একটি পেনাল্টি না দেওয়া, আবার বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি দেওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে আর্জেনটাইনদের। একই ম্যাচে ১৫ পাসের পর মেসির একটি গোল বাতিল করে দিয়েছিলেন তিনি। কারণ গোল বিল্ডআপের ২৭ সেকেন্ড আগে প্যারাগুয়ের একজন খেলোয়াড়কে ফাউল করেছিলেন, যা রাফায়েল ক্লস লো সেলসো-ভিএআরে দেখেছিলেন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ওই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়।

    চলতি টুর্নামেন্টে এর আগে মেক্সিকো-ভেনেজুয়েলা ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছেন ক্লাউস। সেই ম্যাচটির রেফারিং নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা যায়নি। যদিও চলতি কোপায় রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সমালোচনা।

     

  • এবারের কোপা আমেরিকা ডি মারিয়ার শেষে মঞ্চ

    এবারের কোপা আমেরিকা ডি মারিয়ার শেষে মঞ্চ

    দু’জনের পথচলা একটা রাস্তা ধরে। দু’জনের ভালো লাগা আর ভালোবাসার গল্পও অনেকটা এক রকম। মাঠের সহযোদ্ধা আর জীবনপথের দারুণ বন্ধু তারা। হ্যাঁ, বলছি লিওনেল মেসি এবং ডি মারিয়ার কথা।

     

    বুধবার কোপা আমেরিকার সেমিতে কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। যে ম্যাচে গোল করেন মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ। এর পরই ভিন্ন এক আবহ। চোখের জলে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় ডি মারিয়াকে। এর পর মেসি শোনান আবেগি কিছু কথা। যে কথামালায় ফুটে ওঠে ডি মারিয়ার জন্য শেষের মঞ্চ সাজানোর প্রস্তুতি।

    ডি মারিয়া আগেই নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বাঁশিটা শুনিয়েছিলেন। এটা যে তাঁর শেষ। সেটা আর নতুন করে না বললেও হতো। কিন্তু আবেগি বন্ধু আর এই দলটার লড়াই দেখে মেসি নিজেও গর্বিত। সেজন্যই জানিয়ে দেন ডি মারিয়া-নিকোলাস ওতামেন্ডিদের এটা শেষের যুদ্ধ। তাই তো সোমবারের ফাইনালটা রাঙিয়ে সেই শেষের যুদ্ধে জিততে মরিয়া মেসিও, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমরা যা কিছু পেলাম, এসব সত্যিই উপভোগ করার মতো। আবারও ফাইনালে যাওয়াটা মোটেও সহজ ছিল না। আমার মনে হয়, আরও একবার আমরা লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন হতে পারব। দেরিতে হলেও আমি সবকিছু পেয়েছি। সময়টাও দারুণভাবে উপভোগ করছি। হ্যাঁ, এটা ডি মারিয়া, ওতামেন্ডির শেষের যুদ্ধ।’

    মেসির এমন কথায় হয়তো অনেকের মনে হবে, তিনিও শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তো মেসি আর ডি মারিয়াকে আরও অনেক দিন রাখতে চান। তাদের ওপর এখনও কোচের অগাধ আস্থা। কিন্তু মেসি কবে ছাড়ছেন, সেটা নিশ্চিত না হলেও এটাই যে ডি মারিয়ার শেষ, সেটা নিশ্চিত। তাই তাঁর জন্য হলেও সবাই আরও একবার সেরাটা দিয়ে লড়তে প্রস্তুত। মেসির কথায় তেমন গন্ধও মিলছে।

    যদিও আর্জেন্টিনার শোকেসে কোপার ট্রফি কম নেই। কানাডাকে হারিয়ে ৩০তম বারের মতো কোপার ফাইনালে উঠেছে তারা। যার মধ্যে ১৫ বারই হয় চ্যাম্পিয়ন। বৃহস্পতিবার ভোরে দ্বিতীয় সেমিতে কলম্বিয়া খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে। যে ম্যাচের জয়ী দল সোমবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে মোকাবিলা করবে। তাছাড়া এবার কোপা আমেরিকায় এখন পর্যন্ত খুব একটা ধাক্কা খেতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে।

    গ্রুপসেরা হয়েই তারা নকআউটে নাম লেখায়। অবশ্য কোয়ার্টারে ইকুয়েডরের সঙ্গে দারুণ একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। যেখানে টাইব্রেকারের পাহাড় ডিঙিয়ে সেমি নিশ্চিত করতে হয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দলকে। সেই টাইব্রেকারে আবার দুই পেনাল্টি ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমি মার্টিনেজ। কোয়ার্টারের তুলনায় সেমির বাধাটা সহজই ছিল। কানাডাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই জয় তুলে নেয় দলটি। এবার ১৬ নম্বর শিরোপা জেতার পালা। হ্যাঁ, আর্জেন্টিনার কোপার শিরোপা নম্বর ১৬ হলেও দেশের জার্সিতে মেসি ও ডি মারিয়ার জন্য এটা হবে চতুর্থ ট্রফি।

  • কোপার ফাইনালে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা

    কোপার ফাইনালে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা

    আগামী ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচ। ফাইনালের মধ্যবিরতিতে মঞ্চ মাতাবেন পপতারকা শাকিরা। শাকিরার পারফর্মের বিষয়টি লাতিন আমেরিকার ফুটবলের মহাদেশীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল থেকে গত ৯ জুলাই নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রথম কোপার মঞ্চে গাইবেন শাকিরা।

     

    প্রথমবারের মতো কলম্বিয়ান গায়িকা ফুটবলের এই টুর্নামেন্টে পারফর্ম করবেন। রাত ৮টায় নির্ধারিত ম্যাচের হাফ টাইমে গান গাইবেন তিনি।

    গ্যালারি ভরা দর্শক ছাড়াও পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে টিভি পর্দায় ফাইনাল দেখার জন্য। এদিন শাকিরা তাঁর পারফরম্যান্স দিয়ে মাত করবেন দর্শকদের। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বসবে ফাইনালের আসর। ফাইনাল ম্যাচে প্রায় ৫৪ হাজার লোক উপস্থিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, চলতি বছরের মার্চ মাসে শাকিরা তার ১২তম স্টুডিও অ্যালবাম ‘লা মুজেরেস ইয়া নো লোরান’ মুক্তি দেন। তার অ্যালবামটি শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

     

  • সেই মেসির কোলে শিশুটিই আজকের ইয়ামাল

    সেই মেসির কোলে শিশুটিই আজকের ইয়ামাল

    কখনও প্লাস্টিকের বাথটবে এক বাচ্চাকে দেখে হাসছেন লিওনেল মেসি। কখনও সেই বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। এই সকল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। লিওনেল মেসি তখন ২০ বছরের তরুণ। আর ওই বাচ্চার বয়স মাত্র ছয় মাস। গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবি ভাইরাল হতেই খোঁজ পড়ে মেসির কোলের ওই বাচ্চাটি কে?

     

    বর্তমানে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকায় ব্যস্ত। আর সেই বাচ্চাটি? বড় হয়েছে সেও। এবং সে দিনের সেই বাচ্চা খেলছে এবারের ইউরো কাপে। কে তিনি? নেটদুনিয়া বলছে, ওই বাচ্চাটি হল লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের জার্সিতে যে ইউরো কাপে ফুল ফোটাচ্ছে। এবার প্রশ্ন, সত্যিই কি মেসির সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবির ওই বাচ্চা কি লামিনে ইয়ামাল?

    হ্যাঁ, মেসির সঙ্গে যে বাচ্চার ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেটি লামিনে ইয়ামালের। সেই সময় মেসির লম্বা চুল ছিল। ছবিটি ১৭ বছর আগের। মেসি এখনও লাজুক। কিন্তু তখন মেসি আরও লাজুক ছিলেন। জোয়ান মনফোর্ট ওই ছবি তুলেছিলেন। মেসি প্রথমে ওই ফটোশুটের জন্য অত্যন্ত ইতস্তত করেছিলেন। কারণ তিনি জানিয়েছিলেন, এত ছোট বাচ্চা কী ভাবে সামলাতে হয় তা তিনি জানেন না। কে জানত ২০০৭ সালের ওই ছবি নিয়ে এখন এত আলোচনা হবে!

    ছবিটি তখন যিনি তুলেছিলেন, সেই আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ‘মেসির তখন ২০ বছর বয়স। খুবই লাজুক ছিল। হঠাৎ ওকে লকার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখে একটা পানিভর্তি বাথটাব। তার মধ্যে একটি শিশু। ও থতমত খেয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাটাকে কী করে ধরবে প্রথমে বুঝতেই পারছিল না।’

    মনফোর্ট জানিয়েছেন, বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে একটি ফটোশুটের সময় প্রথম শিশু ইয়ামালকে দেখেছিলেন মেসি। সেসময় পুরো দল নিয়ে এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিল বার্সেলোনা। সঙ্গে ছিলেন মেসি। তখনই এই ছবিটি তোলা হয়।

    লামিনে ইয়ামালের বাবা গত সপ্তাহে ইন্সটাগ্রামে এই ছবিগুলো পোস্ট করেন, সঙ্গে লেখেন ‘দ্য বিগিনিং অব টু লেজেন্ডস’। অর্থাৎ, ‘দুই কিংবদন্তির যাত্রা শুরু।’

    কে এই লামিনে ইয়ামাল?

    কয়েক মাস আগেই বার্সেলোনা দলের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় খেলেছেন লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের বাসিন্দা হলেও তার সম্পর্ক রয়েছে আফ্রিকার সাথেও, ইয়ামালের বাবা মরোক্কান এবং মা ইকুয়েটরিয়াল গিনির নাগরিক।

    ২০২২ সালে স্পেনের কিংবদন্তি জাভির চোখে পড়ে যান এই ক্ষুদে ফুটবলার, এরপর সিনিয়র দলের সাথে তাকে অনুশীলন শুরু করান জাভি। লামিন ইয়ামাল নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন পজিটিভ স্ট্রাইকার, কিন্তু বর্তমানে ডানপ্রান্তিক মিডিও বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সলোনার জার্সিতে লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে মাঠে নেমে ক্লাবের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে সিনিয়র দলে খেলার নজির গড়েন তিনি।

    লিওনেল মেসির সঙ্গে লামিন ইয়ামালের তুলনা করেছিলেন এলএমটেনের এক সময়ের সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ। বাবা মরোক্কান হওয়ায় এবং নিজে স্পেনের নাগরিক হওয়ায় লামিন ইয়ামাল চাইলে দুই দেশের হয়েই প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, এছাড়াও ইকুয়েটরিয়াল গিনির হয়েও চাইলে খেলতে পারতেন তিনি। তবে তার বাবা এবং মায়ের দেশ, কোনোটিতেই তিনি খেলেননি। শেষ পর্যন্ত স্পেনের জার্সিতেই তিনি মাঠে নামেন। এরই মধ্যে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে লামিনে ইয়ামাল স্পেন এবং বার্সেলোনা উভয়ের জন্যই একজন তারকা হয়ে উঠেছেন।

    মেসির মতোই বার্সেলোনার অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায় ফুটবলে পায়ে খড়ি স্পেনের ১৬ বছরের উইঙ্গারের। স্পেনের অনূর্ধ্ব ১৫, ১৬, ১৭, ১৯ সব দলের হয়ে খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়েও খেলে ফেললেন ১৩টি ম্যাচ।

    শুধু ভাল ফুটবলার নয়, ফুটবলের জাদুকর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে ইয়ামালের মধ্যে। ইউরো সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার গোলই প্রমাণ। ম্যাচের বয়স তখন ২১ মিনিট। ফ্রান্সের বক্সের বাইরে বল পান ১৬ বছরের ফুটবলার। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে নাস্তানাবুদ করেই গোলের গন্ধ পেয়ে যান। তার বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট আটকাতে পারেননি ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইগানান। এই গোল করেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিলেন ইয়ামাল। ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ট ফুটবলারের রেকর্ড গড়লেন তিনি। শুধু তাই নয়, ইউরো এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে গোল করার পেলের রেকর্ড ভাঙেন তিনি।

  • ফাইনালে উরুগুয়েকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া

    ফাইনালে উরুগুয়েকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া

    শিরোপার লড়াইটা হতে পারত কোপার সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী দুই দলের মাঝে। তবে সেটা হতে দিলো না ‘দশ জনের’ কলম্বিয়া। বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে থামিয়ে দেয় কলম্বিয়া। এতে সেমিতেই শেষ হলো রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের কোপা অভিযান। আর এই জয়ে ২৩ বছর পর কোপার ফাইনালে রদ্রিগেজের দল। যেখানে তারা শিরোপার জন্য লড়াই করবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ফাইনাল। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রোববার নুনেজ-সুয়ারেজরা লড়বে কানাডার বিপক্ষে।

     

    ম্যাচের শুরুতে বল দখলে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ম্যাচের ৬ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় কলম্বিয়া। তবে জন অ্যারিসের নেয়া শট ঠিকানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। এরপর মিনিট দশেক পর আরও একটিই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জেফারসন লার্মা।

    ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়া গোলটা আসে প্রথমার্ধেই। ৩৯ মিনিটে কর্নার কিক পায় কলম্বিয়া। সেটা নেন জেমস রদ্রিগেজ। তার নেয়া শটে লাফিয়ে উঠে হেড করেন জেফারসন লারমা, বল ঢুকে যায় উরুগুয়ের জালে। উদযাপনের উপলক্ষ পায় কলম্বিয়া। গোল পেলেও কলম্বিয়ার জন্য প্রথমার্ধটা সুখকর হয়নি। ৩১ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখা ডানিয়েল মুনেজ প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দেখেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করলে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

    প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া কলম্বিয়া দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে দশজনের দল নিয়ে। তবে গোল শোধ করতে পারেননি সুয়ারেজরা। এক গোলের লিড পাওয়া কলম্বিয়া দশজনের দল নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণেই মনোযোগী থেকেছে বেশি। ফলে বারবার আক্রমণে গিয়েও জালের দেখা পায়নি উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।