Category: ফুটবল

  • অবশেষে ব্রাজিলকে হতাশায় ডুবিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর্জেন্টিনা

    দল হিসেবে কতটা পরিণত আর্জেন্টিনা। সুপার ক্লাসিকোতে তার প্রমাণটা বেশ ভালোভাবেই দিয়েছেন স্কালোনি শিষ্যরা। মেসি-মার্তিনেজের মতো তারকা ফুটবলারদের ছাড়াই ব্রাজিলকে রীতিমত ধরাশায়ী করে ছেড়েছে আলবিসেলেস্তারা। ৪-১ গোলের জয় নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ, পাওলো দিবালাসহ নিয়মিত একাদশের আরও কয়েকজনকে ছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এই পর্বের দুই ম্যাচ খেলতে হলো আর্জেন্টিনাকে। চার দিন আগে উরুগুয়ের বিপক্ষে জিততে কষ্ট হলেও, ঘরের মাঠে আরও বড় চ্যালেঞ্জে নেমে হেসেখেলেই জয় তুলে নিল স্কালোনির দল। পুরো ম্যাচে প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১২টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্জেন্টিনা। সেখানে ব্রাজিল নিতে পারে মোটে তিনটি শট, ওই একটিই ছিল লক্ষ্যে।

    ১৩ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দ্বারপ্রান্তে ছিল আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলের বিপক্ষে বুয়েনস আয়ার্সে মাঠে নামার আগেই খবর আসে, বলিভিয়া তাদের ম্যাচে জিততে পারেনি। বিশ্বকাপে তাই সবার আগেই পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। এই সুখবর শুনেই ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামে স্কালোনির দল। ২০ বছর পর লিওনেল মেসি ও নেইমারের কোনো একজনকে ছাড়া সুপার ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। দুই দলের দুই সেরা তারকা না থাকলেও এই ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের একটুও কমতি ছিল না। এর মধ্যে রাফিনিয়ার আর্জেন্টিনাকে গোল করে হারানোর ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জমজমাট করে তোলে।

    কথার লড়াই জমিয়ে তুললে মাঠে তার প্রতিফল ঘটাতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ব্রাজিলকে বড় ধাক্কা দেন হুলিয়ান আলভারেজ। থিয়াগো আলমাদার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে নিচু শটে জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন তারকা।শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে সফরকারী ব্রাজিল। ১২তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় গোল দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এনজো ফার্নান্দেজ। বলের যোগান দেন নাহুয়েল মলিনা। অবশ্য ম্যাচের ৩০ মিনিট পেরুবার আগেই এক গোল শোধ করে ব্রাজিল। স্কোরশিটে নাম তোলেন ম্যাথিয়াস কুনহা।

    ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ভুলে বল পেয়ে যান কুনহা, সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ফের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। তবে, আলমাদার জোরালো শট অসাধারণ নৈপুণ্যে ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক বেন্তো। সেই আক্ষেপ মেটাতে মাত্র এক মিনিট লাগে আর্জেন্টিনার। ৩৭তম মিনিটে এনজোর দারুণ ক্রস বক্সে পেয়ে চমৎকার ভলিতে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-১। ব্রাজিলকে পাহাড়সম চাপে রেখেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

    প্রথমার্ধের হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে তিন পরিবর্তন আনে ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র। রদ্রিগো, মুরিলো ও জোয়েলিংটনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এন্দ্রিক, ওর্তিজ ও গোমেজ। ৬৩তম মিনিটে এন্দ্রিককে ফাউল করে বসেন ওতামেন্দি, ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। জোরালো শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাফিনহা। উল্টো ৭১তম মিনিটে ব্রাজিলের হতাশা বাড়ান জিওভানি সিমেওনে। নিচু শটে ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক গোলটি পেয়ে যান নাপোলিতে খেলা এই ফুটবলার। শেষদিকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি ব্রাজিল।

    ৪-১ গোলের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এই জয়ে ১৪ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রইল তারা। আরেক ম্যাচে চিলির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা একুয়েডর ২৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। সমান ২১ পয়েন্ট নিয়ে পরের তিনটি স্থানে আছে যথাক্রমে উরুগুয়ে, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে।

     

  • তামিমের সুস্থতার জন্য দোয়া করলেন জামাল-হামজারা

    তামিমের সুস্থতার জন্য দোয়া করলেন জামাল-হামজারা

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকা ওপেনার তামিম ইকবালের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ককে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য ক্রীড়াঙ্গনের নানা মহল থেকে দোয়া করা হচ্ছে, বাদ যাননি জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রাও।

    ভারতের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে শিলংয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। তবে মাঠের অনুশীলনের ফাঁকেই জাতীয় দলের খেলোয়াড় জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীরা তামিমের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেছেন।

    বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালও তামিমের সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ওপেনার এবং সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাই যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।‘

    বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম ইকবাল। প্রথমে গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা মনে করে ওষুধ নিলেও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানোর, কিন্তু ডাক্তারদের পরামর্শে দ্রুত সাভারের কেপিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হার্টে ব্লক ধরা পড়ে এবং দ্রুত এনজিওগ্রাম করে রিং পরানো হয়। বর্তমানে তাকে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    তামিম ইকবালের এই কঠিন সময়ে তার ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি স্তর প্রার্থনায় মগ্ন। জাতীয় দলের ফুটবলারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তার দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তামিম কবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।

     

  • ডেনমার্ককে উড়িয়ে সেমিফাইনালে রোনালদোর পর্তুগাল

    ডেনমার্ককে উড়িয়ে সেমিফাইনালে রোনালদোর পর্তুগাল

    বয়স তার ৪০ পার হয়ে গেছে। এখনও জাতীয় দলে খেলছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স বেশি, ফলে জাতীয় দলে খেলা প্রতিটি ম্যাচই তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ, পারফরম্যান্স কম দেখালে তাকে বাদ দিতে হয়তো কোচ দ্বিতীয়বার ভাববেন না।

    ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ০-১ গোলে হেরে গিয়েছিলো পর্তুগিজরা। কোপেনহেগেনে রোনালদোকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তখনই তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। যে কারণে ফিরতি লেগের ম্যাচটি ছিল সিআর সেভেনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচেও খারাপ খেললে, হয়তো পরবর্তীতে পর্তুগাল দলে ‘বয়স্ক’ রোনালদোর অন্তর্ভূক্তি নিয়ে বড় একটা প্রশ্ন তৈরি হবে।

    লিসবনে রোববার রাতে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে গিয়েছিলেন সিআর সেভেন। নিজেই স্পট কিক নেন; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ডেনিস গোলরক্ষক ক্যাস্পার স্মেইসেলকে ফাঁকি দিতে পারেননি। পেনাল্টি মিস। তবে, পেনাল্টি মিস করাটাই যেন তাঁতিয়ে দিয়েছে রোনালদোকে।

    এরপর তিনি অসাধারণ ফুটবল খেললেন। নিজে একটি গোল করেছেন। দলের জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও’র জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ফিরতি লেগে ডেনমার্ককে ৫-২ গোলে এবং দুই লেগে মিলে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেলো পর্তুগিজরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগাল মুখোমুখি হবে জার্মানির।

     

  • এবার আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা

    এবার আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল দল। দলের প্রথম পছন্দের গোলকিপার আলিসন বেকার ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাথায় আঘাত পাওয়ায় আসন্ন হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে তাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল।

    আলিসনের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব পড়তে পারে পালমেইরাসের অভিজ্ঞ গোলকিপার ওয়েভেরতনের কাঁধে। জাতীয় দলের সঙ্গে অনেকদিন ধরে থাকলেও, আলিসন ও এডারসনের ছায়ায় থেকে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

    বর্তমানে ব্রাজিল স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আরও আছেন আল নাসরের বেন্তো ও লিঁওর লুকাস পেরিও। তবে জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় ওয়েভেরতনকেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মূল একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০১৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

    শুধু আলিসনই নয়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরও তিনটি পরিবর্তন করতে হয়েছে ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়রকে।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে হলুদ কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েস ও ব্রুনো গিমারেস।
    তাদের জায়গায় স্কোয়াডে ঢুকেছেন পিএসজির ডিফেন্ডার বেরালদো ও উলভারহ্যাম্পটনের মিডফিল্ডার হোয়াও গোমেজ।
    এছাড়া কলম্বিয়া ম্যাচে চোট পাওয়ায় মিডফিল্ডার গারসনও ছিটকে গেছেন, তার জায়গায় দলে ঢুকেছেন আতালান্তার এডারসন।
    কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এডারসন না থাকায় গোলবারের নিচে ছিলেন আলিসন, কিন্তু ৭৮তম মিনিটে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার জায়গায় বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আল নাসরের বেন্তো। কিন্তু আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিজ্ঞ গোলকিপারের গুরুত্ব অনেক বেশি, আর সে কারণেই ওয়েভেরতনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

    ইনজুরির কারণে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আলিসন ফিরছেন লিভারপুলে। সেখানে মেডিকেল টিম তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেবে। তবে লিভারপুলের হয়ে কবে মাঠে ফিরতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

     

  • আর্জেন্টিনা আলমাদার জাদুতে উরুগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পথে

    আর্জেন্টিনা আলমাদার জাদুতে উরুগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পথে

    আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট এক প্রকার নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। মন্টেভিডিওর সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে লিওনেল স্কালোনির দল কঠিন এক ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করল, যেখানে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন থিয়াগো আলমাদা। যদিও শেষ মুহূর্তে নিকো গঞ্জালেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, তবে তাতে জয়ের আনন্দে কোনো কমতি ছিল না।

    প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই একরকম ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবলই দেখা গেছে। মার্সেলো বিয়েলসার দল আগ্রাসী প্রেসিংয়ের মাধ্যমে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণদেয়ালে বারবার আটকে যায়।

    মাঝপথে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, এনজো ফার্নান্দেজের এক শট রুখে দেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক সের্হিও রোচেত। এরপর গিউলিয়ানো সিমিওনের একটি ক্রস গোলের দিকে যেতে থাকলে সেটিও ঠেকিয়ে দেন রোচেত।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নামে আর্জেন্টিনা। আলমাদা ও সিমিওনে পরপর দুটি সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক রোচেত অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেগুলো প্রতিহত করেন। কিন্তু ৬৮তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক মুহূর্ত—জুলিয়ান আলভারেজের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো শটে জাল কাঁপান আলমাদা। রোচেতের বাঁদিকে দুর্দান্তভাবে বল পাঠিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন তরুণ মিডফিল্ডার।

    গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আর্জেন্টাইন রক্ষণ ভাঙতে পারেনি উরুগুয়ে। বরং ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন বদলি হিসেবে নামা নিকো গঞ্জালেস নাহিতান নান্দেজের মুখে বুট লাগিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

    এই জয়ে ১৩ ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ২৮ পয়েন্ট, যা তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপের প্লে-অফ নিশ্চিত করে দিয়েছে। অন্যদিকে, হারের ফলে উরুগুয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে।

    মন্টেভিডিওর কঠিন লড়াইয়ে স্কালোনির শিষ্যরা প্রমাণ করল, কেন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আলমাদার জাদুকরী মুহূর্তেই জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

     

  • রোজা রেখে খেললে ‘একদমই কষ্ট হয় না’, বললেন ইয়ামাল

    রোজা রেখে খেললে ‘একদমই কষ্ট হয় না’, বললেন ইয়ামাল

    বয়সটা মাত্র ১৭। এই বয়সেই ইয়ামালের কাঁধে একরাশ দায়িত্বভার। বার্সেলোনা একাডেমি থেকে ওঠে আসা এই ফুটবলার খেলছেন বার্সার জার্সিতেই। জাদুকরী পায়ে এর মাঝেই গড়েছেন কতশত রেকর্ড। তাতে লামিনের মাঝেই লিওনেল মেসির ছায়া দেখছেন অনেকে, আবার কেউ মানছেন কিংবদন্তি হবেন এই স্প্যানিশ ফুটবলার।

    এত অল্প বয়সেই পরিণত খেলোয়াড় হয়ে ওঠায় ইয়ামালে মুগ্ধ স্বয়ং মেসি। ফুটবলের বরপুত্রও মনে করছেন, নিজেকে ফিট রাখতে পারলে লামিনেও একদিন সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে তার জন্য চাই বড় হওয়ার তাড়না আর অসম্ভব পরিশ্রম। মাঠের ফুটবল আর জীবনযাপনে সেটাই যেন করে দেখাচ্ছেন ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ।

    পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখেই মাঠ কাঁপাচ্ছেন লামিনে ইয়ামাল। বাবা মরক্কো আর মা গিনির- পারিবারিক সূত্রে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা ইয়ামাল ধর্ম পালনে কোনো রকম অজুহাত রাখতে চান না। বার্সার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে গত ম্যাচে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে রোজা রেখেই মাঠে নেমেছিলেন।

    রোজা রাখলেও মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি স্প্যানিশ উইঙ্গারের। প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট করার পর দ্বিতীয় গোলে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচের মাঝে পানি দিয়ে সারেন ইফতারও। চ্যাম্পিয়নস লিগের পর এবার জাতীয় দলেও রোজা রেখে খেলবেন ইয়ামাল। উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে স্পেন।

    ফুটবলের মতো খেলায় কিছু না খেয়ে কীভাবে কাটিয়ে দেন, ডিএজেএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইয়ামাল। তিনি বলেছেন, ‘রোজা রেখে খেলতে একদমই কষ্ট হয় না।’

     

  • স্বজনপ্রীতি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেবে সরকার: ক্রীড়া উপদেষ্টা

    স্বজনপ্রীতি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেবে সরকার: ক্রীড়া উপদেষ্টা

    যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের স্বার্থেই যোগ্য খেলোয়াড়দের বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্লেয়ার সিলেকশনে যেন স্বজনপ্রীতি বা সিন্ডিকেটের শিকার কেউ না হোন সে বিষয়ে বাফুফেকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, এ বিষয়ে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।

    আজ দুপুরে রাজধানীর নগর ভবনে বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন সম্ভাবনা হামজা চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন উপদেষ্টা। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত হয়ে ফুটবলে সৃষ্ট চলমান সঙ্কট নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

    ইতালি প্রবাসী ফুটবলার ফাহমিদুল ইসলাম বাংলাদেশ দল থেকে বাদ পড়ায় ফুটবলাঙ্গনে চলছে সমালোচনা। কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার নিরপেক্ষতার পাশাপাশি ফুটবল দলে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ এসেছে ফাহমিদুল বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে।

    সাক্ষাতে আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭ কোয়ালিফিকেশনে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণের আগে সৃষ্ট সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বাফুফে সভাপতি। সমর্থকদের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগসমূহ বিস্তারিত উল্লেখ করে সে সম্পর্কে বাফুফে সভাপতির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনে সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই যার যার জায়গা করে নেবে, এমন কোনো কিছুর আভাস মিললে ব্যবস্থা নেবে ফেডারেশন।’

    তাবিথ আউয়াল আরো বলেন, ‘সৃষ্ট সঙ্কট কোনো সঙ্কট নয়, ফাহমিদুলকে আমরা বাদ দিয়ে দেইনি, ও প্রতিভাবান তবে ওকে আমরা আরো সময় দিতে চেয়েছি। আগামী জুনেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশের ম্যাচ রয়েছে, খুব শিগগিরই হয়তো তাকে আমরা মাঠে দেখতে পারি। সমর্থকদের এতটুকু বলবো, হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’

    আলোচনায় সিন্ডিকেট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনিত অভিযোগ এবং ফাহমিদুলের বাদ পড়া প্রসঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যেকোনো সঙ্কট মোকাবেলায় বাফুফেকে আরো সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে দেশের ফুটবলকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’

    ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের জন্য শুভ কামনা জানিয়ে হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি দলকে আরো আত্মবিশ্বাসী করবে এবং ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি আধুনিক ধারার দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসার প্রয়াসকে প্রশংসিত করে ক্রীড়া উপদেষ্টাকে সাধুবাদ জানান ইংলিশ ফুটবলার হামজা। বাংলাদেশ ফুটবলকে নিয়ে নতুন সম্ভাবনার কথা শুনিয়ে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত, দেশের ফুটবলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।’

    হামজার অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবলের জন্য আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘হামজার মতো খেলোয়াড়ের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য চাপের কারণ হবে।

    সূত্র : বাসস

  • এবার ইনজুরিতে মেসি, নেই ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে

    এবার ইনজুরিতে মেসি, নেই ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে

    বিশ্বকাপ ফুটবলের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে উরুগুয়ে এবং ব্রাজিলের বিপক্ষের ম্যাচের জন্য মেসিকে ছাড়াই দল ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    ইনজুরির কারণেই দল থেকে ছিটকে গেছেন মেসি।

    যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া লিগের ম্যাচে আটালান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষের খেলায় মেসি ইনজুরিতে পরলে বিষয়টি নিশ্চিত করে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি কর্তৃপক্ষ।

    মেসি ছাড়াও আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দলে থাকা পাওলো দিবালা, জিওভানি লো সেলসোসহ আরো ৪ ফুটবলারও থাকছেন না স্কোয়াডে।

    আগামী ২২ মার্চ উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। পরের ম্যাচে ২৬ মার্চ প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।

  • দেশের মাটিতে পা রেখেই ভারতকে হারানোর হুংকার দিলেন হামজা

    দেশের মাটিতে পা রেখেই ভারতকে হারানোর হুংকার দিলেন হামজা

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরীর পরিচয়টা এখন সবার মুখে মুখে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার। আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে তার। এর আগেই আজ দেশের মাটিতে পা রাখলেন তিনি। সকাল পৌনে এগারোটায় সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন তিনি।

    এরপরই শুরু হলো জাতীয় দলের প্রসঙ্গ। নিজের অভিষেক ম্যাচ নিয়ে পরিপূর্ণ ধারণা নিয়েই তবে দেশে পা রেখেছেন হামজা। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচকে ডার্বি বলে আখ্যায়িত করেছেন এই ফুটবলার। হামজা বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা ডার্বি জেতার আশা রাখি এবং জিতে আমরা উন্নতি করতে চাই।’

    ভারত ম্যাচ নিয়ে তিনি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় আরও বলেন, ‘আমরা উইন করমু। আমরার বিগ ড্রেম আছে, আমি কোচ হ্যাভিয়েরের সঙ্গে মাতসি (কথা বলেছি)। ইনশাআল্লাহ আমরা উইন করে প্রোগ্রেস করতে পারমু।’

    সিলেট বিমানবন্দরে হামজাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমানের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমেদ। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে গণমাধ্যমের সামনে হামজাকে নিয়ে আসতে বাফুফের ঘণ্টা খানেক সময় লেগেছে। ৯ ঘণ্টা বিমানে ভ্রমণের পরও সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের এমন উন্মাদনা বেশ অভিভূত করেছে হামজাকে। তাই তিনি প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই বলেছেন,‘এমিজিং, এমিজিং। দীর্ঘদিন (১১ বছর) পর এখানে আসতে পেরে আমি এক্সাইটেড।’

     

  • হামজায় ভর করে দিনবদলের স্বপ্ন কতটা বাস্তব, কতটা কঠিন

    হামজায় ভর করে দিনবদলের স্বপ্ন কতটা বাস্তব, কতটা কঠিন

    শেষবার বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে এতটা উন্মাদনা কবে দেখেছেন আপনি? উত্তরটা সবারই জানা। ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। সর্বকালের সেরাদের তালিকায় থাকা লিওনেল মেসি তার আর্জেন্টাইন সতীর্থদের নিয়ে যেদিন পা রেখেছিলেন ঢাকায়। এরপর নারী দল সাফ জিতেছে, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এসেছে সাফল্য। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাংবাদিক দুনিয়া। কিংবা পাড়ার চায়ের টং দোকান থেকে ঘরের বসে থাকা দুই কিশোর ভাইয়ের আলাপচারিতা… সবখানে নাম একটাই হামজা চৌধুরী।

    বাংলাদেশ ফুটবলে অন্তত পুরুষ ফুটবলে আনন্দের উপলক্ষ্য খুব একটা নিয়মিত দৃশ্য নয়। এখানে লেবাননের সঙ্গে ড্র করতে পারলেই টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া গর্জন করে। কিংস অ্যারেনার ৬ হাজার দর্শকই হয়ে উঠতে পারেন প্রতিপক্ষের অস্বস্তির কারণ। সাফল্য নেই, প্রাপ্তির খাতায় বড় কিছু নেই। তবু ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়া যায় প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ ফুটবলের চিত্রটা আসলে এমনই।

    এমন এক দেশে, র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইশ এর আশেপাশে যাদের অবস্থান, সেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলে আসা একজন ফুটবলার। সেটা দেশের ফুটবলে উৎসবের আমেজ এনে দেবে তা নিয়ে কোনো সংশয় প্রকাশ করা চলে না। লোন ডিলে আপাতত প্রিমিয়ার লিগের লেস্টার ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সিতে খেলছেন তবে আদতে হামজা তো লেস্টারেরই ঘরের ছেলে।

    শুধু লেস্টার সিটি না, হামজা এখন বাংলাদেশের ঘরের ছেলে। ভারতের সঙ্গে ম্যাচ মানেই বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছু। সেটা ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট। কিন্তু শিলংয়ে ২৫ মার্চের বাংলাদেশ-ভারত ফুটবলে আলাদা একটা টান থাকবে ওই হামজার কারণেই।

    হামজা চৌধুরীকে নিয়ে একটা দিনবদলের প্রত্যাশা ছিল শুরু থেকেই। সেটার শুরু প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর আগে। আরও স্পষ্ট করে বললে লেস্টার সিটি এফএ কাপ জয়ের পর থেকে। ফুটবলে হামজার যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে। খেলেছেন বয়সভিত্তিক ইউরোটাও। কিন্তু দিনে দিনে ইংল্যান্ডের ফুটবলে নিজের যাত্রার পথ গিয়েছে থেমে। ডেক্লান রাইস, কোবি মাইনু, জ্যুড বেলিংহ্যাম, কনর গ্যালাগারদের সঙ্গে হামজা চৌধুরীকে বিবেচনা করতে চাননি সাবেক ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট।

    একপর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে যোগাযোগ করা হয়। একটা লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত হামজা হয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবলের অংশ। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার হয়েছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। লেস্টার সিটি থেকে অবশ্য এই মুহূর্তে ধারে খেলছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে।

    বেলেমি যখন ওয়েলসের ফুটবলার তখন, দেশটির ফিফা র‍্যাঙ্কিং ছিল ৮০ থেকে ১০০ এর কাছাকাছি। ২০১০ সালেও ইউরোপের দেশটি নিজেদের অবস্থান পেয়েছিল ১১২তম স্থানে। কিন্তু একজন বেলেমি প্রেরণা হয়েছেন ওয়েলসের তরুণ প্রজন্মের জন্য। বাংলাদেশের সাপেক্ষে হামজা রাতারাতি ওয়েলসের মতো ফুটবল কাঠামো দাঁড় করিয়ে দেবেন, এমন ভাবনা দুঃস্বপ্ন। তবে একটা প্রজন্মকে হয়ত ঠিকই অনুপ্রেরণা জোগাবেন হামজা।
    এরইমাঝে আজ বাংলাদেশে এসেছেন হামজা। লক্ষ্য এএফসি এশিয়ান কাপ। সেখানে বাছাইয়ের ম্যাচে শিলংয়ে স্বাগতিক ভারতের স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। হামজার অভিষেক হবে সেই ম্যাচে। কিন্তু হামজা কী পারবেন দেশের ফুটবলের চিত্রটা রাতারাতি বদলে দিতে?

     

    এর উত্তর এখনই দেয়া বেশ কঠিন। মাঠের খেলায় ফুটবল ১১ জনের খেলা। একা হাতে ম্যাচ জেতানো যায় বটে, তবে সেজন্য দরকার হয় সতীর্থদের পর্যাপ্ত সহায়তা। নিজের কাজটা হামজা ঠিকঠাক করলেও জামাল ভূঁইয়া, মোরসালিন, সাদ কিংবা রহমত-ইসা ফয়সালরা হামজাকে কতটা সাহায্য করতে পারছেন সেটা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    হামজাকে বলা যেতে পারে অর্কাস্ট্রেটর ঘরানার ফুটবলার। মাঝমাঠ থেকে বল ডিস্ট্রিবিউশন, মাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখা, ফাইনাল থার্ডে কার্যকরী বল পাস করা কিংবা ডিফেন্সচেরা থ্রু পাসিং হামজার খেলার ধরণে সবচেয়ে বড় শক্তি। মিডফিল্ডে হামজার পজিশনকে মূলত বলা হয় ‘রেজিস্তা’ নামে। ফুটবলে এই পজিশনের উদ্ভব ইতালি থেকে। এর মূল কাজ ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করা।

    কিন্তু হামজা যা কিছু করতে চান মাঠে সেটা বোঝার বা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের ফুটবলকেও হতে হবে আরও পরিপক্ব।

    হামজার আগমনের আরও একটা প্রভাব বাংলাদেশ ফুটবলে এরইমাঝে পড়েছে। দেশের ফুটবলে দীর্ঘদিনের স্পন্সরের খরা দূর হয়েছে সম্প্রতি। বেসকারি ব্যাংক ইউসিবি দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ফুটবলের পাশে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান দৌড় হয়েছে জার্সির স্পন্সর। প্রায় এক যুগ কোনো স্পন্সর না পাওয়া বাংলাদেশ ফুটবলের আকস্মিক এই উত্থানের গল্পে হামজা মিশে আছেন খুব ভালোভাবে। হামজা এবং স্পন্সরদের একইসঙ্গে আগমন একেবারেই কাকতালীয়– এমনটা মেনে নেয়াও কিছুটা কষ্টকর।

    হামজাকে ভর করে বাংলাদেশের ফুটবলের দিনবদলের পর্বটা হতে পারে দীর্ঘমেয়াদীও। বৈশ্বিক অঙ্গনে একজন হামজা চৌধুরী অনুপ্রেরণা হতে পারেন আগামী প্রজন্মের জন্য। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে আসতে পারে ক্রেইগ বেলেমির নামটা। ২০০৪ সালে নিউক্যাসেলের হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু হয়েছিল ওয়েলসের এই ফুটবলারের। এরপর ব্ল্যাকবার্ন, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, বার্মিংহ্যামের মতো ক্লাবে খেলেছেন।

    বেলেমি যখন ওয়েলসের ফুটবলার তখন, দেশটির ফিফা র‍্যাঙ্কিং ছিল ৮০ থেকে ১০০ এর কাছাকাছি। ২০১০ সালেও ইউরোপের দেশটি নিজেদের অবস্থান পেয়েছিল ১১২তম স্থানে। কিন্তু একজন বেলেমি প্রেরণা হয়েছেন ওয়েলসের তরুণ প্রজন্মের জন্য। গ্যারেথ বেল, অ্যারন রামসি, ড্যানি ওয়ার্ডরা এরপর ওয়েলসের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়েছেন।

    বাংলাদেশের সাপেক্ষে হামজা রাতারাতি ওয়েলসের মতো ফুটবল কাঠামো দাঁড় করিয়ে দেবেন, এমন ভাবনা দুঃস্বপ্ন। তবে একটা প্রজন্মকে হয়ত ঠিকই অনুপ্রেরণা জোগাবেন হামজা। ক্রিকেটে অনেকেই স্বপ্ন দেখে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান হয়ে ওঠার। এক কিংবা দেড় দশক পরের কোনো এক দিনে বাংলাদেশের তরুণ কেউ হামজা চৌধুরী হতে চাইবে, এশিয়ান পর্যায়েও হয়ত বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চাইবে।

    বাংলাদেশের ফুটবলে হামজাকে নিয়ে দিনবদলের স্বপ্নটা সত্য হোক সেভাবে। একটা নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠুক বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবলকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। হামজাকে নিয়ে এতটা উৎসবের স্বার্থকতা হয়ত মিলবে তখনই।