Category: ফুটবল

  • অবশেষে চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি

    অবশেষে চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি

    চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হয় ম্যানচেস্টার সিটির। সেই হারের ক্ষত নিয়ে শনিবার রাতে এফএ কাপের সেমিফাইনালে চেলসির বিপক্ষে ম্যাঠে নামে পেপ গার্দিওলার দল। এখানে অবশ্য আর মন খারাপের গল্প লিখতে হয়নি সিটিজেনদের। চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল উঠেছে তারা।

    ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ৮৪ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি করেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বের্নারদো সিলভা।

    প্রথমার্ধে সিটি বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও লক্ষ্যে একটিও শট রাখতে পারেনি। এদিন অবশ্য আর্লিং হালান্ডকে ছাড়াই খেলতে নেমেছিল সিটি। কিন্তু ওই সময় চেলসির লক্ষ্যে শট ছিল ৩টি।

    তবে সেগুলো জাল খুঁজে পায়নি। যেখানে বড় সুযোগ আসে ২৯ মিনিটে। চেলসির সেনেগালের স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন সিটি গোলকিপার স্তেফান ওরতেগাকে একা পেলেও শট টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন। তাতে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

    দ্বিতীয়ার্ধে ব্লুদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু গোছালো আক্রমণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। অবশেষে ডেডলক ভাঙে ৮৪ মিনিটে। চেলসি গোলকিপার জোর্জে পেত্রোভিচ কেভিন ডি ব্রুইনার শট ফিরিয়ে দিলেও সিলভা বা পায়ের নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন। এই গোলই সিটিকে নিয়ে যায় ফাইনালের মঞ্চে।

    রোববার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব কভেন্ট্রি সিটি লড়বে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। শিরোপার লড়াই হবে আগামী ২৫ মে।

     

  • আগামীর সম্ভাবনা তাদের পায়ে : প্রধানমন্ত্রী

    আগামীর সম্ভাবনা তাদের পায়ে : প্রধানমন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে।

    ফুটবলে নতুন জাগরণ এনেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবলে এই আসর হয়েছে দেশের জন্য মাইলফলক। এই আসরেই খেলাটায় হাতেখড়ি হওয়া মারিয়া মান্দা, সানজিদা আক্তার, তহুরা খাতুন, কৃষ্ণা রানীদের হাত ধরেই পরে এসেছে মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। আগামীর মারিয়া, সানজিদাদের উঠে আসার সেই বঙ্গমাতা ফুটবল এবং ছেলেদের বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের আরেকটি আসরের পর্দা নেমেছে গতকাল শনিবার।

    ২০২৩ সালের এই আসরের ছেলেদের বিভাগে শিরোপা জিতেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জের চর গোলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গতকাল ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে হওয়া ফাইনালে চর গোলাবাড়ী স্কুল ২-১ গোলে হারিয়েছে রংপুরের মিঠাপুকুরের তালিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়েছে চর গোলাবাড়ী স্কুলের মোহাম্মদ আকাশ। একই স্কুলের সাজ্জাদ হোসেন হয়েছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    মেয়েদের বিভাগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে-২০২৩-এর সেরা দল হলো লালমনিরহাটের পাটগ্রামের টেপুরগাড়ি বি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই মাঠে হওয়া ফাইনালে টেপুরগাড়ি বিদ্যালয় ৩-১ গোলে হারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। মেয়েদের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছে টেপুরগাড়ি স্কুলের রিশা আক্তার। সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছে একই স্কুলের মাহমুদা আক্তার।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছেন। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দুই দলের খেলোয়াড়দের পুরস্কৃতও করেছেন তিনি। সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে খেলা শুরু হয় এই আসরের। ক্রমান্বয়ে উপজেলা সেরারা জেলায়, জেলার সেরারা বিভাগে এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত পর্বের খেলা হয় বিভাগীয় দলগুলোকে নিয়ে। বিশাল কলেবরের এই আসর দেশের ফুটবল অঙ্গনের এক বড় ঘটনা।

    সাম্প্রতিক কালে তা হয়ে উঠেছে ফুটবলে উদীয়মান প্রতিভা খোঁজার অন্যতম মাধ্যম। এবার দেশের ৬৫ হাজার ৩৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অংশ নিয়েছে এই প্রতিযোগিতায়। এমন একটি আসর নিয়ে গর্ব করতেই পারে বাংলাদেশ।

    গতকাল ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথির বত্তৃদ্ধতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠেও ছিল তার অনুরণন, ‘আমরা যখনই সরকার গঠন করেছি, চেষ্টা করেছি ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় অনুরাগী করে তুলতে। কেননা খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটায়। এখন শুধু ছেলেরা নয়, বাংলাদেশের মেয়েরাও দেশের বাইরে গিয়ে পারদর্শিতা দেখাচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে এ কথা উল্লেখ করতেও ভোলেননি যে বাংলাদেশের নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী দলের পাঁচজন সদস্য এ প্রতিযোগিতা থেকেই উঠে এসেছিলেন।

    ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনের জন্য তাদেরও উৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজকে এখান থেকে যাদের শুরু, একটা পর্যায়ে তারাই আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।’

    শুধু ফুটবল নয়, সারা দেশে সব ধরনের খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় সব খেলার প্রতিও জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘শুধু ফুটবল নয়, আমাদের দেশীয় অনেক খেলা আছে এবং অন্যান্য খেলাও রয়েছে। তাতে আমাদের খুদে খেলোয়াড়রা যেন সুযোগ পেতে পারে। কারণ খেলাধুলার মধ্য দিয়েই আমাদের ছেলেমেয়েদের আরো মেধা বিকাশের সুযোগ হবে।’

     

  • সেমিতে লেভারকুসেন, লিভারপুলের বিদা

    সেমিতে লেভারকুসেন, লিভারপুলের বিদা

    শঙ্কাটাই সত্যি হলো। উয়েফা ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর সেমিফাইনালে খেলতে হলে ফিরতি লেগে অবিশ্বস্য কিছু করতে হতো দ্য রেডসদের। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে শেষ আটের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মাত্র ১-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে কোচ জার্গেন ক্লপের দল। আর সেমিতে উঠেছে আটালান্টা।

    অন্যদিকে ইতিহাস গড়ে সেমির টিকিট কেটেছে সদ্যই জার্মান বুন্দেসলিগায় নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রফি জয় করা বেয়ার লেভারকুসেন। ফিরতি লেগ ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। প্রথম লেগে জার্মান ক্লাবটির জয় ছিল ২-০ গোলে। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে লেভারকুসেনের জয় ৩-১ গোলে।

    ইউরোপা লিগ থেকে লিভারপুলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ইংলিশ ক্লাবটির সঙ্গে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় কোচ জার্গেন ক্লপের অধ্যায়ও শেষ হয়েছে। কেননা, মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণাটা গত জানুয়ারিতেই দিয়ে রেখেছেন জার্মান কোচ। এবার ক্লপের বিদায়টা রাঙিয়ে দিতে মোট চারটি ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ছিল লিভারপুলের। এগুলো হলোÑ ইংলিশ লিগ কাপ, ইংলিশ এফএ কাপ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা ইউরোপা লিগ। এর মধ্যে লিগ কাপটা শুধু জিতেছে। কিন্তু এফএ কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে। প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ২ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় অবস্থানে লিভারপুল। হাতে আছে ৬টি ম্যাচ। এবার বিদায় নিতে হয়েছে ইউরোপা থেকে। লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো ক্লপের এই ক্লাবে ৯ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে এটা ছিল ৯১তম ইউরোপিয়ান ম্যাচ।

    ম্যাচের সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে মোহাম্মদ সালাহর গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। এরপর আর গোল পায়নি লিভারপুল। যার খেসারত দিতে হয়েছে তল্পিতল্পা গোছানোর মধ্য দিয়ে। বিদায়ের পর লিভারপুল কোচ ক্লপ বলেন, মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। আমরা বাদ পড়েছি। তবে ম্যাচ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমাদের সামনে লক্ষ্যটা কঠিন ছিল। ডাবলিনে (ফইনালে ভেন্যু) যাওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু সেটা হলো না। এখন আমাদের সামনে শুধু একটি প্রতিযোগিতাই (প্রিমিয়ার লিগ) আছে। সেখানে নিজেদের আমরা নিংড়ে দেব। লিভারপুল না পারলেও স্বপ্নের মতো মৌসুম অতিবাহিত করছে জার্মান ক্লাব বেয়ার লেভারকুসেন।

    এবার ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্ন জোরালো হয়েছে তাদের। ইউরোপা লিগ সেমিফাইনালে ওঠার পথে একটি রেকর্ডও গড়েছে লেভারকুসেন। ওয়েস্টহ্যামের সঙ্গে সমতায় শেষ হওয়া খেলাটি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লেভারকুসেনের টানা ৪৪তম অপরাজিত ম্যাচ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে এত বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি আর কারও নেই।
    লন্ডন স্টেডিয়ামে লেভারকুসেনকে বেশ কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল ওয়েস্টহ্যাম। ১৩ মিনিটে মিখায়েল অ্যান্টনিওর গোলে এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। এই লিড তারা ধরে রাখে একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ১-০ ব্যবধানে হারলেও ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে উঠে যেত লেভারকুসেন। কিন্তু অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়তে দরকার ছিল ড্র। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে লেভারকুসেনের দরকারি গোলটা এনে দেন ডাচ ডিফেন্ডার জেরেমি ফ্রিমপং।

     

  • টাইব্রেকারে ম্যানসিটির হৃদয় ভেঙে সেমিফাইনালে রিয়াল

    টাইব্রেকারে ম্যানসিটির হৃদয় ভেঙে সেমিফাইনালে রিয়াল

    টাইব্রেকারে আন্তোনি রুডিগার শেষ শট জালে জড়িয়েই দিলেন ভোঁ-দৌড়। তাকে ছুতে ছুটতে থাকল রিয়াল মাদ্রিদের অন্য খেলোয়াড়রাও। এরপরই ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হল রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমিফাইনালে যাওয়ার উৎসব। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে পা দিয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফলতম দল। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ।

    টাইব্রেকার ভাগ্যে ম্যানসিটির প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। তবে রিয়ালের লুকা মডরিচের শট আটকে যায় এদেরসনের গ্লাভসে। সিটির পরের শটে বের্নারদো সিলভা বল তুলে দেন আন্দ্রে লুনিনের হাতে।

    বেলিংহাম অবশ্য জাল খুঁজে নিয়ে রিয়াল শিবিরে স্বস্তি ফেরান। সেই স্বস্তি আরো বাড়ান লুনিন। মাতেও কোভাচিচের গতির শট ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। এরপর লুকাস ভাস্কুয়েজ, নাচো ফার্নান্দেসের পর রুডিগার লক্ষ্যভেদ করলে জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয় রিয়াল।

    টাইব্রেকারের মতো পুরো ম্যাচেই রিয়ালের তেকাঠির নিচে বিশ্বস্তের হাত হয়ে ছিলেন আন্দ্রে লুনিন। ম্যানসিটির একের পর এক আক্রমণের সামনে এই ইউক্রেনিয়ান গোলরক্ষক ছিলেন অকুতোভয়। নিশ্চিত কয়েকটি আক্রমণ ফেরানোর পর টাইব্রেকারে দুটি শট ফিরিয়ে রিয়ালের জয়ের নায়ক তিনিই। এবারই প্রথম ম্যানসিটির মাঠে জয়ের স্বাদ পেল রিয়াল।

    প্রথম লেগ ৩-৩ সমতায় থাকায় এদিন জয়ের লক্ষ্যে নেমেছিল দুই দলই।

    সেই লক্ষ্যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ১২ মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। মধ্যমাঠে বেলিংহামের পা ঘুরে ভালভার্দের বাড়ানো বল ডান প্রান্তে পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস, তার বাড়ানো বল অন্য প্রান্তে পেয়ে গোলের জন্যে শট নেন রদ্রিগো কিন্তু তা এদেরসন ফেরালেও ক্লিয়ার করতে।পারেননি। দ্বিতীয় দফায় বল পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
    পিছিয়ে পড়া ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায়। ১৮ মিনিটে আর্লিং হালান্ডের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরলে ম্যাচে ফেরা হয়নি সিটির। এরপর আক্রমণে ঝড় তুলে রিয়ালকে কোণঠাসা করে রাখেন ডি ব্রুইন-ফোডেনরা। কিন্তু কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। রিয়ালের রক্ষণভাগ ছিল জমাট। নিজের পরিকল্পনা দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছিলেন নাচো-কারভাহালরা।

    রিয়ালের রক্ষণ ভাঙতে না পেরে দ্বিতীয়ার্ধে জ্যাক গ্রিয়েলিশকে তুলে জেরেমি ডোকুকে নামান গার্দিওলা। তাতে মেলে ফল। ৭৬ মিনিটে পায় ম্যাচে ফেরার গোল। ডোকুর শট কামাভিঙ্গা ঠিকঠাক ফেরাতে না পারলে ফিরতি বল গতির শটে জালে পাঠান কেভিন ডি ব্রুইন।

    একটু পরেই আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন ডি ব্রুইন। বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও তা জালে পাঠাতে পারেননি বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। দুই লেগ মিলিয়ে নির্ধারিত নব্বই মিনিট সমতায় থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই সময়ে পরিবর্তন আনে ম্যানসিটি। আর্লিং হালান্ডকে তুলে হুলিয়ান আলভারেজকে মাঠে নামান গার্দিওলা। এরপরও অতিরিক্ত সময়ে গোল আসেনি। রিয়ালও পারেনি ম্যানসিটির রক্ষণ ভাঙতে। তাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে টাইব্রেকারে। যেখানে শেষ হাসি রিয়াল মাদ্রিদের।

  • বার্সার ঘরের মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায়

    বার্সার ঘরের মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায়

    বার্সেলোনার জন্য কাজটি কঠিন ছিল না। ঘরের মাঠে পিএসজির বিপক্ষে শুধু হার এড়োলেই চলত জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যদের। তাহলেই ২০১৮/১৯ মৌসুমের পর আবারও ইউরোপের ক্লাবগুলোর এলিট প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতো স্প্যানিশ জায়ান্টদের। তবে শেষ পর্যন্ত তা করে দেখাতে পারল না জাভির শিষ্যরা। ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়ে এই মৌসুমের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

    মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বার্সেলোনার হোম গ্রাউন্ড অলিম্পিক স্টেডিয়ামে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের খেলায় বার্সেলোনাকে ৪-১ (৬-৪) গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পিএসজি। ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন। বাকি গোল দুটি এসেছে ডেম্বেলে ও ভিতিনহার কাছ থেকে। বার্সার হয়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা একটি গোল করেন।

    ৩-২ গোলের লিড নিয়ে ম্যাচ শুরু করা বার্সেলোনা ম্যাচের ১২ মিনিটেই লিড পেয়ে যায়। আগের লেগের জয়ের নায়ক রাফিনহা এই ম্যাচেও গোল করে বার্সা সমর্থকদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন তিনি। তবে তার গোলের তিন মিনিট পর থেকেই বার্সার বিপদের শুরু।

    দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে এগিয়ে থাকা লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের ১৫ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। বক্সের বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় পিএসজির বারকোলাকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আরাউহো। লাল কার্ডের পর রক্ষণের শক্তি বাড়াতে ইয়ামালকে তুলে ডিফেন্ডার ইনিগো মার্তিনেজকে মাঠে নামান জাভি।

    ১০ জন নিয়ে খেলতে থাকা বার্সার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে পিএসজি। ২৮ মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারত ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। তবে দারুণ সেভে ব্যবধান ধরে রাখেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। বক্সের ভেতর থেকে এমবাপ্পের ডান পায়ের নিচু শট ফিরিয়ে দেন বার্সা অধিনায়ক।

    ম্যাচের ৪০ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখা পায় পিএসজি। বার্সার সাবেক খেলোয়াড় ডেম্বেলের গোলে সমতায় ফেরে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। তবে তখনও দুই লেগ মিলে পিছিয়ে তারা।

    বিরতির পর চাপ ধরে রেখে ৫৪তম মিনিটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ গোলে সমতা আনে পিএসজি। গোল করেন ভিতিনহা।

    অবশ্য পরের মিনিটে অল্পের জন্য গোল খায়নি পিএসজি। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া গুনদোয়ানের শট বাইরের পোস্টে লাগে।

    একটু পরই বার্সার বিপদ আরও বাড়িয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন বার্সা কোচ জাভি।

    ৬১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন এমবাপ্পে। বার্সারও ম্যাচে ফেরার আশা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে থাকে।

    দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৫-৪ গোলে এগিয়ে থাকা পিএসজি ম্যাচের ৮৯ মিনিটে বার্সার কফিনে শেষ পেরেক ঢুকায়। ৮৯তম মিনিটে ডাবল সেভ করেন টের স্টেগেন। মার্কো আসেনসিওর শট ঠেকানোর পর এমবাপ্পের প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। তবে বল ক্লিয়ার করতে পারেননি বার্সেলোনার ডিফেন্ডাররা। কাছ থেকে শটে ম্যাচের শেষ গোল করেন এমবাপ্পে।

    বার্সাকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা পিএসজির সামনের প্রতিপক্ষ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের অপর ম্যাচে দুই লেগ মিলিয়ে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকেট পেয়েছে জার্মান দলটি।

     

  • এমবাপ্পেদের বার্সার ঘাঁটিতে বাঁচা-মরার লড়াই

    এমবাপ্পেদের বার্সার ঘাঁটিতে বাঁচা-মরার লড়াই

    হাজার হাজার আল্ট্রাস সমর্থকের সামনে ঘরের মাটিতে নৌকা ডুবিয়েছে পিএসজি। ফুটবল মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে যেখানে ছিলেন নিরুত্তাপ, গোলহীন। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকার জন্য আজকের দিনটি ফরাসি তারকা ও তার দেশীয় ক্লাবের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। সেই লড়াইটি হবে বার্সেলোনার মাটিতে। তাতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে লুইস এনরিকের শিষ্যদের।

    অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-২ গোলে জিতে এগিয়ে রয়েছেন কাতালানরা। তাতে আজ রাত ১টায় দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে বেশ ফুরফুরে থাকবে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাটিতে ড্র নয়, বরং জয় দিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করতে চাইছে জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা। শেষ আটের লড়াইয়ে বার্সা-পিএসজির পাশাপাশি আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড-অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।

    এই ম্যাচে ২-১ লিডে এগিয়ে রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেটিকো। তবে ঘরের মাটিতে বরুসিয়া নামলেও স্ট্রাইকার সেবাস্তিয়ান হ্যালার ছিটকে যাওয়ায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে ক্লাবটি। আগের লেগে ক্লাবটির হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন ফরাসি এই তারকা। কোচ এডিন টেরজিক জানিয়েছেন, গোড়ালির ইনজুরির কারণে সেবাস্তিয়ানের খেলা হচ্ছে না। তার বদলে জ্যাডন সানচো মাঠে নামতে পারেন।

    মাঠে নামার আগে অ্যাতলেটিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইউরোপের মধ্যে নিজের ক্লাবকে সেরা প্রমাণ করতে তিনি বদ্ধপরিকর। তার পরিকল্পনাতেই ঘরের মাটিতে সফল হয়েছেন অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানরা। এই ম্যাচে নামার আগে ডর্টমুন্ডের কোচ বলছেন, ‘আমরা আগের ম্যাচে কিছু ভুল করেছিলাম। সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়েছে ছেলেরা। গত ম্যাচটা ড্র করলেও হতো। তবে আমরা হতাশ নই, এখনও রাস্তা খোলা আছে। দ্বিতীয় লেগে সেরাটা দিয়ে আমরা সফল হতে চাই।’ এই জায়গা থেকে আগের ম্যাচে গোল করা রদ্রিগো ডি পল ও স্যামুয়েল লিনোরা চাইবেন দলের হয়ে জয় তুলে নিতে।

    এ দিকে পিএসজির জার্সিতে এবারই শেষ বারের মতো চ্যাম্পিয়রন্স লিগ খেলতে যাচ্ছেন এমবাপ্পে। গুঞ্জন বলছে, নতুন মৌসুমে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হয়ে দেখা যাবে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকাকে। তবে তার আগে এবার কঠিন পরীক্ষায় তার বর্তমান ক্লাব। আজকের ম্যাচে জয় ছাড়া কোনো রাস্তা খোলা নেই তার সামনে, সেটিও আবার ন্যূনতম ২ গোলের ব্যবধান হতে হবে। বার্সার মাটিতে সেটি আকাশ-কুসুম কল্পনা বললে হয়তো অত্যুক্তি করা হবে না। তবে পরপর দুবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা এমবাপ্পে জানেন কীভাবে ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে হয়। পিএসজি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই লিগ ওয়ানের খেলায় লুইস এনরিকে এই ফুটবল সুপারস্টারকে ঠিকভাবে ব্যবহার না করলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার ভরসার নাম এমবাপ্পে। ৩৭ ম্যাচ থেকে ৩৮টি গোল করা এমবাপ্পেই এখন হতে পারেন ট্রাম্পকার্ড। আগের ম্যাচে আল্ট্রাস সমর্থকেরা বার্সাকে হুমকি দিয়েও দমিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই ম্যাচে কাতালানদের রোষানলে পড়তে হবে ফরাসি ক্লাবটিকে।

    মাঠে নামার আগে এনরিকে বলেছেন, ‘প্রথম লেগে হারায় আমরা খুশি হতে পারিনি। পরাজয়ের কষ্ট ও হতাশা রয়েছে। তবে খুবই শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে আমরা দারুণ ফুটবল খেলেছিলাম। ম্যাচটি আমরা জিততে পারতাম। তবে ছোট-ছোট কিছু ব্যাপার থাকে ফুটবল ম্যাচে, যেগুলোতে বিশেষ নজর দিতে হয়। দ্বিতীয় লেগে সেসব আমাদের পক্ষে আসবে। এই ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতো। আমরা সেভাবেই খেলব। জয়ের আশা নিয়েই মাঠে নামব।’ বার্সা বসের আবার ভিন্ন অনুভূতি এই লড়াইয়ে। তার মতে, ক্লাবটি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পরেই পুরোপুরি জ্বলে উঠেছে শিষ্যরা। সেটিরই নমুনা পাওয়া গেছে প্রথম লেগে। দ্বিতীয় লেগেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয় তার কণ্ঠে। এই ম্যাচে কাতালনদের কোচ মিডফিল্ডার পেদ্রিকে রেখেই শুরুর একাদশ সাজাতে পারেন বলে মার্কা জানিয়েছে।

    প্রথম লেগে ম্যাচের ৬১ মিনিটে পেদ্রি নেমে বেশ ভালোই প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এ দিকে জোয়াও ফেলিক্স লা লিগায় কাদিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফর্ম দেখালেও প্রথম লেগের জোড়া গোল করা ব্রাজিলিয়ান র্যা পিনহাকেই দেখা যাবে শুরুর একাদশে, এমনটাই জানিয়েছে বার্সা ইউনিভার্সাল। তাতে লামিনে ইয়ামাল, র্যাপিনহা ও রবার্ট লেভানদোভস্কিকে নিয়েই জাভির আক্রমণভাগ তৈরি হবে।

  • মেসি মাঠে ঢুকে সেলফি নেওয়া সেই তরুণীকে কী বলেছিলেন ?

    মেসি মাঠে ঢুকে সেলফি নেওয়া সেই তরুণীকে কী বলেছিলেন ?

    চোট কাটিয়ে প্রায় এক মাস পর মাঠে ফিরেই গোল করলেন লিওনেল মেসি। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে ইন্টার মায়ামির সর্বশেষ চার ম্যাচ খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন তারকা। দীর্ঘদিন পর এমএলএসে কলোরাডোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইন্টার মায়ামি হয়ে মাঠে নামেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বদলি হিসেবে নেমেই গোল করলেন তিনি। তবু জিততে পারেনি মায়ামি।

    তবে এই ম্যাচে ঘটেছে এক অন্যরকম ঘটনা। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে এক তরুণী গ্যালারি থেকে দৌড়ে যান মাঠে। আর বরাবরের মতোই ফুটবলের মহাতারকা ছবি তুলে খুশি করে দেন তার ভক্তকে। ওই তরুণীর নাম আন্তোনেলা সিগার্ট। আন্তোনেলা নিজের অ্যাকাউন্টে এই মুহূর্তের জন্য মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ লিও মেসি এতটা বিনয় প্রদর্শনের জন্য, আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটুকু উপহার দিতে সম্মত হওয়ার জন্য।’

    এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন কীভাবে মেসির মহানুভবতায় আপ্লুত হয়েছেন। নিরাপত্তারক্ষীদের থেকে বাঁচানোর জন্য মেসি তাকে পরামর্শও দেন। অ্যান্তোনেলা নিজেও ফুটবল খেলে থাকেন। তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের নাম আন্তোনেলা.সকার। ম্যাচশেষে তিনি জানান, ‘আমি ভীষণ খুশি। নিরাপত্তারক্ষীরা যখন আমাকে ধরে ফেলে তখন পুরো স্টেডিয়াম আমার জন্য তালি দিচ্ছিল, কেননা আমি অনেক জোরে দৌড়েছিলাম।’

    মেসির সঙ্গে নিজের কথপোকথন কি হয়েছিল জানান আন্তোনেলা। তিনি বলেন, ‘তিনি (মেসি) ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তোলেন এবং আমাকে উপদেশ দেন দৌড়ে নিরাপদে যেতে।’

     

  • কোচ মেসিকে ‘শয়তান’ বলার পর ক্ষমা চাইলেন

    কোচ মেসিকে ‘শয়তান’ বলার পর ক্ষমা চাইলেন

     

    গত ৫ এপ্রিল কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ আটের ম্যাচে মন্টেরেরকে আতিথেয়তা দিয়েছিল ইন্টার মায়ামি।

    সেদিন লিওনেল মেসিদের ইন্টার মিয়ামিকে ২-১ গোলে হারায় মন্টেরে। সেই ম্যাচে খেলেননি মেসি। অথচ মেসিকে ‘বামনটি ছিল, শয়তানের মুখ’ নিয়ে বলে সম্বোধন করেছিলেন মন্টেরের সহকারী কোচ নিকো সানচেজ।

    এ জন্য মেক্সিকোর ক্লাব মন্টেরের ড্রেসিংরুমে গিয়ে চিৎকার করেছেন ইন্টার মিয়ামির তারকা জর্দি আলবা, লুইস সুয়ারেজ এবং কোচ জেরার্দো মার্তিনো।

    মেসিকে ‘বামন’ বলার অডিও ফাঁস হওয়ায় গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন মন্টেরের সহকারী কোচ সানচেজ। অবশ্য ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওতে একবারের জন্যও মেসির নাম উচ্চারণ করেননি তিনি।

    তিনি বলেছেন, ‘বামনটি ছিল, শয়তানের মুখ নিয়ে। সে আমার মুখের পাশে মুষ্টিবদ্ধ হাত রেখে বলে, আপনি নিজেকে কী মনে করেন? তবে আমি তার দিকে তাকাইনি, আমার দৃষ্টি ছিল দূরে। আমি কখনো উত্তর দিইনি। পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গিয়েছিল।’

    সানচেজের ভিডিওটি ফাঁস করে ফক্স স্পোর্টস এমএক্স। ভিডিওতে মন্টেরের সহকারী কোচ বলেছেন, ‘টাটা মার্তিনো, কী দরিদ্র এক পুতুল। তাকে সামনে পেয়ে বলেছিলাম, বোকা, তুমি কাঁদবে? বোকা, তুমি কাঁদবে? কী দারুণ এক পুতুল!’

    সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে মেসির কাছে ক্ষমা না চাইলেও মার্তিনোর কাছে চেয়েছেন সানচেজ। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু আমি জেরার্দো মার্তিনেজকে চিনি না তাই অসম্মানজনক আচরণ করেছি। এর জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আমিও তাদের মতোই একজন আর্জেন্টাইন। আর সব সময় চাইব ক্লাবের পাশে থাকতে। কারণ এখানে আমি দায়িত্ব নিতে এসেছি।’

     

  • মেসিকে নিয়ে মায়ামির সুখবর

    মেসিকে নিয়ে মায়ামির সুখবর

    বেশ কিছুদিন ধরেই ইনজুরি বেশ ভোগাচ্ছে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে। চোটে পড়ে দেশ ও ক্লাবের হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই আর্জেন্টাইন। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে এই কারণেই এল সালভাদর ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ছিলেন না এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর ক্লাবের হয়েও মাঠে নামেননি তিনি। তবে অবশেষে মায়ামির অপেক্ষা শেষ হচ্ছে। মাঠে ফিরছেন মেসি।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় মন্টেরির বিপক্ষে মাঠে নামছে ইন্টার মায়ামি। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি মায়ামির ঘরের মাঠ চেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফিরছেন আর্জেন্টাইন এই বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস তার মাঠে ফেরার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের সর্বশেষ ম্যাচে মেসিকে ছাড়া খেলতে নেমে সময়টা ভালো যায়নি ডেভিড বেকহ্যামের মালিকাধীন ক্লাবটি। নিউ ইয়র্ক সিটি এফসির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বসে ইন্টার মায়ামি। এই ড্রয়ের পর ১১ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে আছে মেসির দল। তার আগে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের শেষ ষোলোয় ন্যাশভিলে এসসিকে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ‘দ্য হেরন’রা।

    অন্যদিকে মেক্সিকোর ক্লাব মন্টেরি শেষ ষোলোয় সিনসিনাটিকে ৩-১ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে। তবে লিগা এমএক্সে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা গুয়াডারলজারার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে। এই হারের পর ২৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।

    ইন্টার মায়ামির সম্ভাব্য একাদশ: ড্রেক ক্যালেন্ডার, জুলিয়ান গ্রেসেল, টমাস আভিলেস, এস. কৃভটসভ, নিকোলাস ফ্রেইরি, জর্দি আলবা, সার্জিও বুস্কেটস, দিয়েগো গোমেজ, ডাভিড রুইজ, লিওনেল মেসি এবং লুইস সুয়ারেজ।

     

     

  • মেসি ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে যাদেরকে এগিয়ে রাখলেন

    মেসি ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে যাদেরকে এগিয়ে রাখলেন

    ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় ইউরোপে ছড়ি ঘুরিয়ে এখন ক্যারিয়ারের শেষ বেলা পার করছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি। শেষলগ্নে ইউরোপ ছেড়ে নিজের ক্লাব হিসেবে বেছে নিয়েছেন এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামিকে। মার্কিন মুলুকে এসেও নিজের স্কিল দিয়ে মুগ্ধ করছেন সবাইকে। অবশ্য এখনও যে গতিতে খেলছেন মেসিকে বিশ্বসেরার কাতারে চোখ বন্ধ করে রাখা যায়। তবে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ আট বার ব্যালন ডি’অর জেতা মেসি নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে আর দেখছেন না।

    সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন মেসি। ভবিষ্যতে কারা ব্যালন ডি’অর জিততে পারে এমন চার ফুটবলারের নাম জানিয়েছেন তিনি। মেসির মতে আগামী দিনগুলোতে ফুটবলে তারাই দেখাবে দাপট।

    ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপজয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে পূর্ণতা পান মেসি। জিতেছেন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অরও। টানা চার মৌসুম ব্যালন ডি’অর জয়ী একমাত্র ফুটবলার তিনি। ২০০৯ থেকে ১২ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এই প্রেস্টিজিয়াস অ্যাওয়ার্ড নিজের করে নেন মেসি।

    আগামী দিনগুলোত ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং লামিন ইয়ামাল ফুটবলের বড় তারকা হবে বলেও মন্তব্য করেন মেসি। এক্ষেত্রে সতেরো বছরের লামিন ইয়ামালকে আলাদাভাবেই রেট করেন মেসি।

    বর্তমানের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার বেলিংহামকে সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর জয়ীর তালিকায় রাখেননি মেসি। বেলিংহ্যাম রিয়ালের সাবেক তারকা রোনালদোকে নিজের আইডল মানায় মেসি তাকে রাখেননি বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।