দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গ্লোবাল বারিস্তা ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগ

তরুণদের হাতে সনদ তুলে দিয়ে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরলেন অতিথিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে এমইউএস গ্লোবাল গ্রুপ কোম্পানি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির সিস্টার কনসার্ন ‘গ্লোবাল বারিস্তা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ গত ১ আগস্ট যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একঝাঁক তরুণ-তরুণীকে বারিস্তা পেশার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দিতে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট শাখায় সার্টিফিকেট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশে-বিদেশে পেশাগত ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা জনাব মোঃ আবু তাহের, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক এম এস দোহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম সারোয়ার কাউসার, ব্যবসায়ী সাইদুল হক রিগান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গবেষক নজরুল ইসলাম হ্রদয় এবং প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনার রাসেল।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা জনাব মোঃ আবু তাহের বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনেক। বাস্তব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক এম এস দোহা বলেন, বেকারত্ব নিরসনে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম সারোয়ার কাউসার বলেন, একজন তরুণ দক্ষতা অর্জন করতে পারলে চাকরির পাশাপাশি নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। বারিস্তা পেশার ক্ষেত্রেও দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তরুণদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

ব্যবসায়ী সাইদুল হক রিগান বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মদক্ষতার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিতে পারলে তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গবেষক নজরুল ইসলাম হ্রদয় বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তরুণদের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে তরুণরা দেশ-বিদেশের কর্মবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনার রাসেল বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। শুধু সনদ অর্জন নয়, প্রশিক্ষণ শেষে একজন শিক্ষার্থী যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করতে পারেন—সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখা বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়া উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া হলে তারা আরও বড় পরিসরে দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মহিন উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, দক্ষ পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।

মহিন উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দেশের বেকারত্ব নিরসনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়া হলে তারা আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে সনদ প্রদানই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নয়; প্রশিক্ষণার্থীরা যেন অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে পারেন এবং ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সার্টিফিকেট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রশিক্ষণ শেষে সনদ হাতে পেয়ে তারা নিজেদের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, ‘গ্লোবাল বারিস্তা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ আধুনিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বারিস্তা পেশায় দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে কাজ করবে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন পেশাগত সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *