Tag: প্রধানমন্ত্রী

  • ডেঙ্গু ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করার পরামর্শ দেন। ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়—এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    এ ছাড়া মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে এবং কোনো প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা উচিত নয়। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ একটি মানবিক সমাজের পরিচয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে এদিন কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী সংসদ ভবনে আসে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্য। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।

  • আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকদের শুনতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকদের শুনতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    একদিনের সরকারি সফরে সিলেট পৌঁছে একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃষ্টির মধ্যে তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন এবং পরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশে অংশ নেন।

    এরপর শনিবার (২ মে) বেলা ১২টার দিকে তিনি কান্দিগাঁও ইউনিয়ন এলাকায় বাসিয়া নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনের আগে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা হাস্যরস করেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসির রোল তোলে। তিনি শ্বশুরবাড়ির এলাকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তার কথা যেন সেখানকার লোকজনকেও শুনতে হয়—এমন মন্তব্যে পরিবেশ হালকা হয়ে ওঠে।

    সমাবেশ চলাকালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যা পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

    সফর শেষে তিনি সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের

    প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে একটি আধুনিক ‘গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম।

    নগর ভবনে কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় ঢাকাকে বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চারটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে: ১. বৃক্ষরোপণ ও ব্যাপক সবুজায়ন ২. খালের প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও খনন ৩. আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
    ৪. কার্যকর মশক নিধন। উক্ত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘মনিটরিং টিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই কার্যক্রমে স্থানীয় সিভিল সোসাইটিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সভায় সতর্ক করে জানানো হয় যে, সচেতন করার পরেও কারো অবহেলায় মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বা পরিবেশ দূষিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “সিটি কর্পোরেশন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হবে প্রধান কাজ। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার নিশ্চিত করা হবে, তেমনি অবহেলার জন্য তিরস্কার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।” তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে ডিএসসিসি’র সকল নাগরিক সেবা সম্পূর্ণভাবে সচল ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

    এদিকে আজ সকালে এক পৃথক কর্মসূচিতে মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ধলপুরে ডিএসসিসি’র কেন্দ্রীয় মশার ঔষধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম তাঁর সাথে ছিলেন। মাননীয় মন্ত্রী সংরক্ষণাগারের সামগ্রিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখার তাগিদ দেন।

  • জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আবারও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

    এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুশৃঙ্খল চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং একটি পারিজাতের চারাও রোপণ করেন।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দপ্তরে প্রথমবারের মতো অফিস করবেন। সচিবালয়ে গিয়ে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং একটি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

    দুপুরের পর বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নেই; এটি মূলত পরিচিতিমূলক। এরপর বিকেল ৪টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

    এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

  • প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ

    প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ

    নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ গেজেট জারি হয়।

    ‘রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬’-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী দপ্তরসমূহ বণ্টন করেন এবং গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আদেশ কার্যকর হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

    গেজেট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব নিজের কাছে রেখেছেন।

    মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

    এ ছাড়া মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক; ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ; ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র; আব্দুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

    মিজানুর রহমান মিনু ভূমি; নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক এবং খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান; জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার; মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি; আফরোজা খানম (রিতা) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পানি সম্পদ এবং আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

    এছাড়াও মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক; জাকারিয়া তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্ত; দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক; আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ; ফকির মাহবুব আনাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

    প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও পৃথকভাবে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র, পররাষ্ট্র, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ভূমি, পানি সম্পদ, যুব ও ক্রীড়া, জনপ্রশাসন, শিক্ষা, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীরা দায়িত্ব পেয়েছেন।

    গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (তেজগাঁও) থেকে মুদ্রণ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ফরম ও প্রকাশনা অফিস এটি প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গেজেটের বিস্তারিত তথ্য বিজি প্রেসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

    দপ্তর বণ্টনের মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

    সুত্রঃ বাসস

  • ঢাকা-বেইজিং ২১ দলিল ও ৭ প্রকল্প ঘোষণা

    ঢাকা-বেইজিং ২১ দলিল ও ৭ প্রকল্প ঘোষণা

    বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশ বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশদারিত্বে’ উন্নীত হতে ২১টি দলিল সই করেছে। যার মধ্যে ২টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন এবং আরও ৭টি প্রকল্পের ঘোষণা রয়েছে।

    বেইজিং-এর গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর উপস্থিতিতে দলিলগুলো সই হয়।

    এর আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে এখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপল প্রাঙ্গণে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান।

    দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।

    দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার মধ্যে একটি চুক্তিতে সই করেন। অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, ৬ষ্ঠ ও ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে চুক্তি সই হয়।

    দলিলগুলো হচ্ছে:

    ১. ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই।
    ২. চায়না ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএফআরএ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকিং এবং বীমা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই।
    ৩. বাংলাদেশ থেকে চীনে তাজা আম রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত (ফাইটোস্যানিটারি) উপকরণ বিষয়ে একটি প্রটোকল সই করে দুই দেশ।
    ৪. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি সহায়তা ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ।
    ৫. বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহায়তা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
    ৬. বাংলাদেশে প্রকল্পে চায়না-এইড ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের ‘সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা’ বিষয়ে আলোচনার একটি সাইনিং অব মিনিটস (কার্যবিবরণী) সই হয়।
    ৭. চীনের সহায়তায় ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সেতু সংস্কার প্রকল্পের চিঠি বিনিময় হয়।
    ৮. নাটেশ্বর প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা পার্ক প্রকল্পে চায়না-এইড কনস্ট্রাকশনের সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা বিষয়ে চিঠি বিনিময় হয়।
    ৯. চীনের সহায়তায় নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প বিষয়ে চিঠি বিনিময় হয়।
    ১০. মেডিকেল সেবা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
    ১১. অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
    ১২. গ্রিন অ্যান্ড লো-কার্বন উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ।
    ১৩. বন্যার মৌসুমে ইয়ালুজাংবু (ব্রহ্মপুত্র) নদীর হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বাংলাদেশ দেওয়ার বিধি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হয়।
    ১৪. চীনের জাতীয় বেতার ও টেলিভিশন প্রশাসন এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর সই হয়।
    ১৫. চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মধ্যে পারষ্পরিক সমঝোতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়।
    বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এতে সই করেন।
    ১৬. চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বিটিভি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।
    ১৭. সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও বিটিভি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
    ১৮. চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং বাংলদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস’র মধ্যেও একটি স্মারক সই হয়।
    ১৯. অপর আরেকটি দলিল সই করে সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
    ২০. একটি সমঝাতা স্মারক নবায়ন করে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
    ২১. টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

    ৭টি ঘোষণা পত্র:

    ১. চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে যৌথ সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা সমাপ্তি ঘোষণা।
    ২. চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে আলোচনা শুরুর ঘোষণা।
    ৩. ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের সমাপ্তির ঘোষণা।
    ৪. ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্পের সাথে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এর ট্রায়াল রান সমাপ্তির ঘোষণা।
    ৫. রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর ঘোষণা।
    ৬. শানদং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়. গাজীপুর এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
    ৭. বাংলাদেশে লুবান ওয়ার্কশপ নির্মাণের ঘোষণা।

  • প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন

    প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন

    অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিক সেক্টরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

     

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়, আমরা এক সঙ্গে বড় কিছু অর্জন করতে পারি।

    মঙ্গলবার ( ৯ জুলাই) সকালে দ্বিপক্ষীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে বেইজিংয়ের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সুবিধা’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

    যৌথভাবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) সাংগ্রিলা হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

    এ সময় বিনিয়োগের জন্য চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের প্রধান সেক্টরগুলোকে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সেক্টর তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আসতেও বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

    তিনটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চীন এখানে রিয়েল স্টেট ও সেবা খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। এসব সেক্টরের বাইরেও নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ সম্ভবনা অনুসন্ধান করার আহ্বান জানান তিনি।

    বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল যুগে আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, তার সরকার সক্রিয়ভাবে তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। স্টার্টআপদের প্রণোদনা, টেক পার্কে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিকে উৎসাহিত করছে।

    তিনি বলেন, আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ভালো করছে। আপনাদেরকেও এই যাত্রার অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং গ্রিন টেকনোলজিতে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি।

    বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সকল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন রুটের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কানেকটিভিটি রয়েছে। এছাড়া, আমরা দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রে।

    বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অব্যাহতভাবে আমাদের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং স্থলপথগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করে যাচ্ছি। এ সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসা লাভজনক করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সারা দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৮ হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল ভালোভাবে প্রস্তুত।

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ ও সুন্দর করতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য করতে চাই বাংলাদেশকে।

    এ লক্ষ্য অর্জনে পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল চালুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট চালুসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    বাংলাদেশে সস্তা ও দক্ষ জনশক্তি, আইটি ফ্রিল্যান্সারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সুবিধা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের কয়েকশ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

    অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য বিষয়ক চীনা ভাইস মিনিস্টার লি ফেই, চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং টংজোউ, এইচএসবিসি চীনের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও মার্ক ওয়াং, হুয়াওয়ে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়নার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া।

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে একটি তথ্য চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

    বক্তারা দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

     

  • অনেক দেশের কুদৃষ্টি রয়েছে বাংলাদেশের ওপর : প্রধানমন্ত্রী

    অনেক দেশের কুদৃষ্টি রয়েছে বাংলাদেশের ওপর : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশের ওপর অনেক দেশের কুদৃষ্টি রয়েছে। বাংলাদেশে বসে অন্য কোনো দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে তিনি কাউকে অনুমতি দেবেন না

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার (গোপালগঞ্জ-৩) নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি, স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত। এক হচ্ছে খুনি বা অপরাধী, যুদ্ধাপরাধী; যাদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। আরেকটি আন্তর্জাতিক স্তরের।’ শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য কারণ ছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের ওপর অনেক দেশের কুদৃষ্টি রয়েছে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে বসে অন্য কোনো দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে তিনি কাউকে অনুমতি দেবেন না এবং মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ, আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করব, আমরা আকারে ছোট হতে পারি, কিন্তু আমাদের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে, তারাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

    আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাঁকে এবং আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আসতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু দেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এটাই স্বাভাবিক এবং সে কারণেই বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, আগামী দিনে নতুন সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে।

    দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনে বিলম্বের যৌক্তিকতা কী? তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করি না, আমরা জানতাম নির্বাচন করব, আমরা নির্বাচনে জিতলে বা নির্বাচনে হেরে গেলে আমরা কী করব।’

    শেখ হাসিনা বলেন, তিনি প্রতিটি দিন ব্যবহার করতে চান। কারণ, তিনি দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে সব ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাই হচ্ছে নতুন মেয়াদে তাঁর সরকারের মূল কাজ।

    বাজারে খাদ্যদ্রব্যের কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখি না, তবে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ এবং রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী মানুষ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।’ তিনি বলেন, মনে হচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনগণের ভোগান্তি বাড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যথাযথভাবে তদারকি বাড়াতে হবে।’

    দেশে নিজের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি আঘাত আসতে পারে। তিনি দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।

  • শেখ হাসিনা, এ বিজয় আমার নয়, এটা জনগণের বিজয়

    শেখ হাসিনা, এ বিজয় আমার নয়, এটা জনগণের বিজয়

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ বিজয় আমার নয়, এ বিজয় জনগণের বিজয়।’ গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ সোমবার (৮ জানুয়ারি) গণভবনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

    এই নির্বাচন যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচন যুগান্তরকারী ঘটনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এবার স্মাট বাংলাদেশ গড়ে তোলায় লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি মানুষও হতদরিদ্র থাকবে না।’

    সবার জন্য কর্মসংস্থানের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। মানুষের মৌলিক অধিকার আরও নিশ্চিত করা হবে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিবার সরকার গঠনের পর তিনটি ধাপে কর্মপরিকল্পনা করা হয়। বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সবসময় সহযোগিতা পাচ্ছি।পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের নীতি সবার সঙ্গে বন্ধত্ব কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়।

     

  • আপনারা (ভোটাররা) লাঙল কে একটু দেখবেন : শেখ হাসিনা

    আপনারা (ভোটাররা) লাঙল কে একটু দেখবেন : শেখ হাসিনা

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে জাতীয় পার্টির আসন ছাড় পাওয়ার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকায় এবার লাঙলও চড়ে বসেছে। তাই তাদেরও আপনারা (ভোটাররা) একটু দেখবেন।

    বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর এলাকায় শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠের জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

    এর আগে জনগণের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকা আজকে উন্নয়ন দিয়েছে। এই নৌকা-ই আগামী দিনে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করবেন।

    বিএনপির নির্বাচনে না আসার কারণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জ্বালাও-পোড়াও-মানুষ খুন এই তিনটি হলো বিএনপির গুণ। বিএনপি নির্বাচনে আসতে ভয় পায়। এ কারণে নির্বাচন বন্ধের জন্য তারা সন্ত্রাস করে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়েছে, আর বিএনপি পিছিয়েছে। বিএনপির দুঃশাসনে সবাই ভীত। বোমা হামলা, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ—এসবই বিএনপির কাজ।

    জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাতের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে বক্তব্য দেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম প্রমুখ।