Tag: ডেঙ্গু

  • ডেঙ্গু ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করার পরামর্শ দেন। ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়—এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    এ ছাড়া মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে এবং কোনো প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা উচিত নয়। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ একটি মানবিক সমাজের পরিচয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে এদিন কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী সংসদ ভবনে আসে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্য। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।

  • ভয়াবহ ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশঃ প্রকোপ বাড়ছেই

    ভয়াবহ ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশঃ প্রকোপ বাড়ছেই

    চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা। এদিকে, ডেঙ্গু সংক্রমণে সবচেয়ে শীর্ষে আছে বরিশাল বিভাগ, মৃত্যুতে ঢাকা।

    এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মোট ১৬৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গিয়েছে ১ জন। আক্রান্তদের মাঝে বেশিরভাগ-ই পুরুষ।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক জরিপের মাধ্যমে জানা যায়, “এবার এডিস মশার বংশবৃদ্ধির হার মারাত্বক। মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্বক হতে পারে। ঐ জরিপে, ঢাকার দুই সিটির ১৫টি বাড়ির মধ্যে সাত থেকে আটটিতে মিলেছে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি এডিশ মশার লার্ভা। ফলে এবার ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘এডিস মশা ডিম পাড়ে পাত্রে জমে থাকা পানির কানায়। এমনকি পাত্রটি যদি একদম শুষ্কও হয়, কিন্তু কিছুটা ভেজা থাকে—সেখানেও ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।’

    এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জরিপের তথ্য মানতে নারাজ দুই সিটি করপোরেশন। তারা দাবি করছেন এডিশের বংশ বিনাশে তাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করছে।

  • এবছরের ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু পাঁচ

    এবছরের ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু পাঁচ

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১৫৯ জন। এ সময়ে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। চলতি বছর এ পর্যন্ত এটি এক দিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

    ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ১২৪ জন বরিশালের, ৯ জন চট্টগ্রামের, ঢাকার ২২ জন, খুলনার ৩ ও সিলেটের এক জন।

    বৃহস্পতিবার ১০৮ রোগী শনাক্তের সংবাদ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এদিন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ ও ৭১ জন নারী।
    বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ১৩ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক হাজার ৮৪২ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৭২৮ জন।

    ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫৭৫ জনের। একইসময়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন।
    দেশের ইতিহাসে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ও মৃত্যুবরণ করেছেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
    ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

  • এ বছর ডেঙ্গুতে ২১৪ মৃত্যু, অক্টোবরেই ১৫১

    এ বছর ডেঙ্গুতে ২১৪ মৃত্যু, অক্টোবরেই ১৫১

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬০ রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০৭ ও দক্ষিণে ১২১ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২১৪ জন এবং এ মাসে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫১ জনের। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।

    অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৩২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১১ ও খুলনা বিভাগে ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০, রংপুর বিভাগে ১৭ এবং সিলেট বিভাগে ১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হন ৪২ হাজার ৪৭০ জন। এ বছর সবচেয়ে বেশি ১১৪ রোগীর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ নারী ও ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ।

    এ বছর ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আক্রান্ত বেশি হচ্ছেন ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা। তাদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬০২ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    ময়মনসিংহে প্রাণ গেল যুবকের

    ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নাজমুল হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নাজমুল হোসেন জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বিটিবাড়ি গ্রামের হিরা মিয়ার ছেলে।

    হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান বলেন, নাজমুল গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ফুসফুসের ইনফেকশন ও রক্তে লবণের ঘাটতি জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

    গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি শুরু হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ৬০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়।