Category: এক্সক্লুসিভ

  • ৭ মাসে নিজের ১১ অস্ত্রোপচার পর অবশেষে মঞ্চে বেজবাবা সুমন

    ৭ মাসে নিজের ১১ অস্ত্রোপচার পর অবশেষে মঞ্চে বেজবাবা সুমন

    দীর্ঘ এক বছর পর স্টেজে উঠলেন অর্থহীন ব্যান্ডের দলনেতা ও বেজিস্ট বেজবাবা সুমন। সাত মাসের চিকিৎসা শেষে মঞ্চে উঠেছিলেন এ গায়ক-গিটারিস্ট। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘লিজেন্ডস অব দ্য ডিকেড’ শিরোনামের কনসার্টে অংশ নেন এ তারকা। জানান, গত সাত মাসের বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে কেন ছিলেন তিনি!

     

    মাইক্রোফোন হাতে এ বেজিস্ট বলেন, ‘গত ৭ মাসের বেশিরভাগ সময় আমি দেশে ছিলাম না। এ সময় অনেক কিছু ঘটে গেছে। বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। নতুন এক বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। তবে এ সময়গুলোতে আমার হাসপাতালে শুয়ে কাটাতে হয়েছে। কারণ গত ৭ মাসে আমার শরীরে ১১টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এখন বলা যায়, আপাতত সুস্থ। তাই ফেরা।’

    নিজের দল অর্থহীন প্রসঙ্গে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, সুমন অসুস্থ থাকার কারণেই এ কয়েক মাসে কোনো কনসার্টে অংশ নেয়নি দলটি।

    অন্যদিকে, কনসার্টে অর্থহীন ভক্তরা যেমন উচ্ছ্বসিত ছিলেন, তেমনি আরও একটি খবর তাঁদেরকে মন খারাপ করে দেয়। মঞ্চে একফাঁকে সুমন জানান যে, অসুস্থতার কারণে ব্যান্ডে থাকছেন না তাঁদের দীর্ঘদিনের গিটারিস্ট মহান ফাহিম।

    প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর আগে বেজবাবা সুমনের শরীরে চিকিৎসকেরা দুটি টিউমারের অস্তিত্ব পান। পরে জানা যায়, সুমন ক্যানসারে আক্রান্ত। তখন ক্যানসারটি প্রথম ধাপে থাকায় চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালে চিকিৎসার পর ব্যাংককের একটি হাসপাতাল থেকে ফিরছিলেন তিনি। এমন সময় হঠাৎ তাঁকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ব্যাংককের ওই দুর্ঘটনায় সুমনের স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতি হয়। পরে তাঁকে আবার চিকিৎসা নিতে হয়।

    ক্যানসার ও স্পাইনাল কর্ডের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২০২১ সালে দেশে ফেরেন সুমন। পরিবর্তন করতে হয়েছে তার মেরুদণ্ডের ডিস্ক। আর সার্জারির জন্য গত জুন মাসের ২৫ তারিখে ব্যাংককে গিয়েছিলেন এই গায়ক। সেখানে ৩ জুলাই এই গায়কের পায়ে দুটি সার্জারি হয়েছিল। এখন অবধি তার শরীরের ৩০টির বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

     

  • প্রিন্স মাহমুদ ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে মন্তব্য করলেন

    প্রিন্স মাহমুদ ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে মন্তব্য করলেন

    প্রতিবছর দুর্গাপূজায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ উপহার পাঠানো হলেও এবার ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। প্রথমে রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ সময়ে এসে পূজার আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

     

    আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৩ হাজার মেট্রিক্স টন ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাংলাদেশের বহু মানুষ কথা বলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী থেকে গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ, সকলেই এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। মত প্রকাশ করে জানান, দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ পাঠিয়ে বড় মনের পরিচয় দিলে তিনি খুশী হতেন ।

    ভারতের ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়ার নিয়ে জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ বললেন, ‘ভারতে ৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল সরকার। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর বলেছিলাম। ভুলে না যাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতার শিক্ষার্থী বন্ধুরা কী ভাবে ফুঁসে উঠেছিল। বন্ধুদের পুজো দুর্দান্ত হোক…।’

    ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে বলায় সমালোচিত হয়েছেন অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে প্রিন্স মাহমুদকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে শুনতে হয়েছে কটু কথা।

    একই পোস্টের এক মন্তেব্যে প্রিন্স তাকে নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন। তিনি লিখেন, “যারা রাগ হচ্ছ, হও। আমাকে নিয়ে দুইজনের লেখা দেখছি। ইবাদত আমি কম করিনা। নামাজ খুব একটা কাজা হয় না। সোম বৃহস্পতি রোজা রাখি। আজকেও রোজা রাখছি। রাগ বেশি কিন্তু মন পরিস্কার।

    আমার দোয়া কবুল হয়। নিশ্চিৎ হয়। জন্ম থেকে বুখারি শরিফের প্রতিটি খণ্ড আমার বাসায় আব্বার রেখে যাওয়া। অতএব নব্য মুস্লিম হয়ে আমাকে কেউ হিন্দু বানায় দিতে এস না। লাভ নাই। কিসসু কেয়ার করি না। কারো কাছে ভাল হওয়ারও দরকার নাই। মন্দ হওয়ারও দরকার নাই। কাউকে ভয় পাই না। মন যেটা বলে সেটাই বলবো।”

  • বাংলাদেশিদের উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দিলেন অমিত শাহ

    বাংলাদেশিদের উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দিলেন অমিত শাহ

    বাংলাদেশিদের হুমকি দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ভারতে যেসব বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরা পড়বে, তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করবেন। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঝাড়খণ্ডে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি নির্বাচনী সমাবেশে এ হুমকি দেন অমিত।

     

    তিনি বলেন, ‘ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হবে।’

    ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আদালত বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্র শিগগিরই ঝাড়খণ্ড সরকারের সহায়তায় তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করবে।’

    অমিত শাহ বলেন, ‘এ জমি আদিবাসীদের। কিন্তু এখানে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। আদিবাসীদের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ২৮ শতাংশ হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা জেএমএম, কংগ্রেস এবং আরজেডির ভোট ব্যাংক হওয়ায় এখানকার সরকার জনকল্যাণের পরিবর্তে অনুপ্রবেশকারীদের কল্যাণে নিযুক্ত রয়েছে।’

    বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘সাঁওতাল পরগনার জনসংখ্যার শতকরা ৪৪ ভাগই ছিল উপজাতি। কিন্তু এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২৮ ভাগে। ৫ বছরের জন্য ঝাড়খন্ডে আপনাদের উচিত বিজেপির সরকার গঠন করা। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সাঁওতাল পরগনায় যেসব বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ হয়েছে তাদেরকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখবে আমাদের সরকার।’

    সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।

  • অবশেষে ঢাবিতে সব ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত

    অবশেষে ঢাবিতে সব ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

     

    বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সভা শেষ হওয়ার পর এক সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ওই সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, আজ জরুরি সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্র-শিক্ষক- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে

    জার্মানির বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করকে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের বুধবারের (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে তথ্যটি জানা গেছে।

     

    গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারত চলে যান শেখ হাসিনা। তখন থেকে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এদিকে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। চলছে তদন্ত।

    এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে সোপর্দের দাবি উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি টেনে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট তথ্য না দিয়ে সাংবাদিককে থামিয়ে দেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ করি। কোন মিডিয়ায় কী রিপোর্ট ছাপা হলো তার ভিত্তিতে কাজ করা জরুরি নয়।

    প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া সরকারে এবং সরকারের বাইরে থাকা বিভিন্ন জন শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।

    চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, সম্ভাব্য প্রধান অপরাধী দেশ থেকে পালিয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া আমরা শুরু করব। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ২০১৩ সালে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে এ চুক্তিটি হয়েছিল। তিনি যেহেতু বাংলাদেশে গণহত্যার প্রধান আসামি হবেন মনে করি। অধিকাংশ মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। সুতরাং এ প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে তাকে আইনগতভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করব।

  • আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

    আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

    বাংলাদেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে। হিজরি ক্যালেন্ডারের ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হযরত মুহাম্মদের (স.) পৃথিবীতে আগমণ ও তিরোধানের দিন।

     

    এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

    তাই বৃহস্পতিবার থেকে ১৪৪৬ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে ১২ রবিউল আউয়াল হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। সেইদিন ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। হিজরি ক্যালেন্ডারের ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদের (স.) পৃথিবীতে আগমণ ও তিরোধানের দিন। এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশে এ দিনটি সরকারি ছুটি।

    বুধবারের সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মহা. বশিরুল আলম, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুন্সী জালাল উদ্দিন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আ. রহমান খান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. রুহুল আমিন, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

     

  • এবার ফারাক্কার পানি ছাড়া নিয়ে ভারতের ব্যাখ্যা

    এবার ফারাক্কার পানি ছাড়া নিয়ে ভারতের ব্যাখ্যা

    ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার (২৬ আগস্ট) এ গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এতে করে একদিনে বাংলাদেশে ঢুকবে ১১ লাখ কিউসেক পানি। এবার পানি ছাড়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারত।

     

    ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে নয়াদিল্লির সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তারা ফারাক্কা ব্যারেজের সবকটি জলকপাট (স্লুইচগেট) খোলার খবর গণমাধ্যমে দেখেছেন যা গঙ্গা/পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথে ১১ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত করবে।

    তিনি বলেন, এই বর্ষা মৌসুমে এটি একটি স্বাভাবিক কার্যক্রম। উজানে (ভারতীয় অংশে) গঙ্গা নদীর অববাহিকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ঘটনা সামাল দিতে এটি খুলে দেওয়া হয়। বুঝতে হবে ফারাক্কা হচ্ছে একটি ব্যারেজ, এটি শুধুমাত্র বাঁধ নয়। যখনই পানির স্তর বিপৎসীমার কাছে পৌঁছে যায় তখনই তা ছেড়ে দেওয়া হয়। ফারাক্কা খালে ৪০ হাজার কিউসেক পানি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি কাঠামো যা মূল গঙ্গা/পদ্মা নদীর উপর স্থাপিত। যখন অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশের প্রধান নদীতে প্রবাহিত হয়।

    জয়সওয়াল আরও বলেন, প্রোটোকল অনুযায়ী এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত এবং সময়মত বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা হয়। এবারও তাই করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির জন্য ভুয়া ভিডিও, গুজব এবং ভয়ভীতি দেখাতে দেখেছি আমরা। এটিকে দৃঢ়ভাবে সত্যের মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত।

    ফারাক্কার পানি ছাড়া নিয়ে ভারতের ব্যাখ্যা

    এর আগে সোমবার (২৬ আগস্ট) ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাটই (স্লুইচগেট) খুলে দেয় ভারত। একদিনেই এই বাঁধ থেকে (ডাউন স্ট্রিম) ছাড়া হয়েছে ১১ লাখ কিউসেক পানি। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিপৎসীমার উপরে থাকা পানি না ছাড়লে বাঁধের মারাত্মক ক্ষতি হতো। এ কারণে বাধ্য হয়েই বাঁধের মুখ খুলে দিতে হয়েছে।

    ফারাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার আর দেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় এলার্ট রয়েছে। প্রতিমুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে যেভাবে পানির চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে ১০৯ গেটের সবকটি খুলে না দিল ব্যারাজের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছিল। এর ফলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। আপাতত ফিডার ক্যানেলে ৪০ হাজার কিউসেক ও ডাউন স্ট্রিমে ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

    কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুদিন ধরে এক নাগাড়ে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। তাতে বেড়ে গেছে গঙ্গা নদীর পানি স্তর এবং চাপ বেড়েছে ফারাক্কা ব্যারেজে। এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গে পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও বিহারে বন্যার কারণে ফারাক্কার পানি বিপৎসীমার ওপর উঠে গেছে। এ কারণে বাঁধের ১০৯টি গেটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব গেট দিয়ে সোমবার ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

  • গতকালকে সচিবালয় এলাকায় কী ঘটেছিল

    গতকালকে সচিবালয় এলাকায় কী ঘটেছিল

    রাজধানীর সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল কাদেরসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। তাদের অধিকাংশ ছাত্র।

     

    রোববার (২৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

    এদিন রাত ১০টার পর শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার মুখে সচিবালয়ের সামনে থেকে পিছু হটেন আনসার সদস্যরা। তারা পোশাক খুলে জিপিও এলাকা দিয়ে পালিয়ে যান। আনসার সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের ফেলে যাওয়া পোশাকে আগুন ধরিয়ে দেন। এর পর তারা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ছাত্রদের ধাওয়ার মুখে সচিবালয়ের ভেতরে আটকে পড়া দেড় শতাধিক আনসার সদস্যকে রাত সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে দেয় সেনাবাহিনী।

    রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মাইনুল হাসান এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আজ সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সচিবলায় ও প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনের (যমুনা) আশপাশ এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হলো।

    এর আগে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দিনভর সচিবালয় ঘেরাও করে রাখেন কয়েক হাজার আনসার সদস্য। সচিবালয়ে আনসারের এক দল সদস্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেককে আটকে রাখেন।

    এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। ‘স্বৈরাচারের দালাল’ স্লোগান দিয়ে আনসার সদস্যদের প্রতিহত করতে তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয় এলাকায় যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে আনসার সদস্যরা ছাত্রদের ওপর হামলা চালান। তারা ছাত্রদের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।

    রাত ১০টায় সচিবালয়ের সামনের সড়ক দখলে নেন ছাত্ররা। এ সময় আনসার সদস্যরা পিছু হটেন। কিছু আনসার সদস্য জিপিও বক্সের দিকে পালিয়ে যান। আর কিছু সদস্য সচিবালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা চান। ভয়ে অনেক আনসার সদস্য তাদের পোশাক খুলে ফেলেন। এ সময় এসব পোশাকে আগুন ধরিয়ে দেন ছাত্ররা। প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর গেট খুলে দেওয়া হয়। এরপর বের হতে থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    পরে রাতে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচিতে সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার তিন দফা দাবি জানান। এক. আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ সরকারকে বহন করতে হবে। দুই. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তিন. সরকারের সব পর্যায়ে ক্লিন অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিতাড়িত করতে হবে।

    এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ ফেসবুক পোস্টে লেখেন– ‘উপদেষ্টা নাহিদ এবং হাসনাত ও সারজিস ভাইকে সচিবালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিপথগামী কিছু আনসার সদস্য ও ছাত্রলীগের প্রেতাত্মারা। আমরা সবাই মিলে সচিবালয়ে মার্চ করে তাদের মুক্ত করে নিয়ে আসব। সবাই যোগ দিন, বিষয়টি সবাইকে অবগত করুন, অতীব জরুরি।’

    প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, রাতে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার সময় আনসার সদস্যরা ধাওয়া দেন। এ সময় অনেকের হাতে লাঠিসোটা দেখা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা আনসারদের প্রেস ক্লাবের দিক থেকে তাড়া দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটা করেন আনসার সদস্যরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আনসার সদস্যরা পিছু হটেন।

    শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে গেলে আনসার সদস্যরা তাদের ওপর ইটপাটকেল মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আনসার সদস্যরা গুলিও করেন। শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস মারারও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। সংঘর্ষে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যান। তারপর তারা আনসার সদস্যদের ধাওয়া দেন। এক পর্যায়ে আনসার সদস্যরা সচিবালয়ের সামনে থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সচিবালয়ের চারপাশ নিয়ন্ত্রণে নেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আবার কিছু আনসার সদস্যকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পার করে দেন।

    এদিকে আনসারের কয়েকজন আহত সদস্যকে কিছু শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে নিতে চাইলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাদের মারধর করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিছু শিক্ষার্থীও উত্তেজিতদের থামানোর চেষ্টা করেন।

    রাত পৌনে ১১টার দিকে সচিবালয় থেকে আনসারের এক কর্মকর্তা গাড়ি নিয়ে বের হন। এ সময় ছাত্ররা হামলার চেষ্টা চালায়। তখন সেনাবাহিনী ও বিজিবি ওই কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়ে ফের সচিবালয়ে নিয়ে যান।

    রাতে সচিবালয়ের গেটে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা আনসারদের সব দাবি-দাওয়া মেনে নেব বলে আশ্বাস দিয়েছিলাম। এর জন্য সময় চেয়েছিলাম। এর পরও তারা সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে ছাত্ররা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সচিবালয় অবরুদ্ধ রাখা একটা বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সমন্বয়কারী সারজিস আলম বলেন, সচিবালয় ঘেরাও করে কাউকে আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না।

    আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন অঙ্গীভূত সাধারণ আনসার সদস্যরা।

    রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েক হাজার আনসার সদস্য। বিকেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের ‘রেস্ট প্রথা’ বাতিল করে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। তবে আরেকটি অংশ জাতীয়করণ না নিয়ে বাসায় ফিরবে না জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

    বিক্ষোভের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুপুর থেকেই সচিবালয়ে কেউ ঢুকতে বা বের হতে পারেননি। সন্ধ্যায় অফিস ছুটি হলেও বাসায় ফিরতে পারেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে আন্দোলনের নামে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখার কোনো মানেই হয় না। তাদের দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। তাহলে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেন অবরুদ্ধ করে রাখল? এমন চিত্র আগে কখনও দেখিনি।

    আনসারের বিক্ষোভের মধ্যে রাত পৌনে ৮টার দিকে সচিবালয়ে পাঁচ উপদেষ্টার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সেখানে যোগ দেন আনসার বাহিনীর ১০ জন প্রতিনিধিও। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে যোগ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার; তথ্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম; যুব, ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অপর উপদেষ্টার পরিচয় জানা যায়নি।

    বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সাধারণ আনসারদের যে রেস্ট প্রথা বা ছয় মাসের বিরতি রয়েছে, সেটা থাকবে না। এটা তাদের মূল সমস্যা। নিয়োগবিধি থেকে সেটা কীভাবে বাতিল করা হবে, তা কমিটির সুপারিশের পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

    তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আনসারদের অন্যান্য দাবির বিষয়ে একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি পর্যালোচনা করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তার পর আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেব। আনসার সদস্যরা যেসব বৈষম্যের শিকার, তারা যেসব সমস্যার মুখে পড়েন, সেগুলোর যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

    এরপর সাধারণ আনসারদের পক্ষ থেকে নাসিম মিয়া বলেন, বৈঠকে রেস্ট প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আপাতত আন্দোলন স্থগিত থাকবে।

    সর্বশেষ গতকাল মহাসমাবেশের ডাক দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন আন্দোলনকারী আনসার সদস্যরা। তারা সকাল ৮টার পর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে ৯টার দিকে প্রেস ক্লাব ও কদম ফোয়ারা এলাকায় রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে পথচারীরা কথা বললে তাদের ওপর চড়াও হন আনসার সদস্যরা।

    সকাল ১০টা থেকে গুলিস্তান শিশু পার্ক, মতিঝিল শাপলা চত্বর, কাকরাইল, মালিবাগ, মৎস্য ভবন ও শাহবাগ মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা যায়। সপ্তাহের প্রথম অফিস ডে হওয়ায় রাস্তায় গাড়ির চাপও বেশি। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সামলাতে হিমশিম অবস্থা পুলিশের। এ ছাড়া চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন পথচারীরা।

    গতকাল দুপুর ১টার দিকে আনসার সদস্যরা প্রেস ক্লাব ও কদম ফোয়ারার রাস্তা ছেড়ে দিয়ে জিরো পয়েন্ট ও সচিবালয়ের রাস্তা অবরোধ করেন। পরে সচিবালয়ের মধ্যে প্রবেশ করে আন্দোলন শুরু করেন।

    ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে জানা যায়, আহত ৪০ জন টিকিট নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই আনসার সদস্য রয়েছেন। একজন নারী, অন্যরা ছাত্র। তাদের মধ্যে ২১ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন– সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, রিয়াজ, শফিকুল, রাসেল, রায়হান, তন্ময়, আবদুল কাদের, উজ্জ্বল তাজিলুর রহমান, তুহিন, বিক্রম, তাসিন, জাকির, আসিফ, শফিক শাহরিয়ার, রাকিব, রবিন, বকুল, মিনারুল, শাকিল, সাইম ও শান্ত। দু’জন আনসার সদস্য খলিলুর রহমান (২৫) ও শিউলী (২৪) আহত হন। আহতদের কারও মাথায়, কারও হাতে, কারও পায়ে আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আহতদের অবস্থা গুরুতর নয়। ইট ও লাঠির আঘাতেই আহত বেশি। কাউকে ভর্তি রাখা হয়নি।

    এদিকে চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে চট্টগ্রামে দিনভর বিক্ষোভ করেন আনসার সদস্যরা। গতকাল সকালে নগরের জামালখান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে নগরের চেরাগী পাহাড় ও আন্দরকিল্লা মোড় প্রদক্ষিণ করেন। দুপুর ২টার পর তারা চট্টগ্রাম আদালত ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

  • মেঘনা ষ্টার ক্যাবলস এর ২.১৮(দুই কোটি আঠার লক্ষ) টাকা আত্মসাতের দায়ে হাসিবুল হাসান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার।

    মেঘনা ষ্টার ক্যাবলস এর ২.১৮(দুই কোটি আঠার লক্ষ) টাকা আত্মসাতের দায়ে হাসিবুল হাসান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার।

    গত ০৩/০৪/২০২৪ তারিখে হাসিবুল হাসান এর বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানা, কুমিল্লা একটি ফৌজদারী মামলা নং- ১২ ধারা ৪০৮/৪২০ রজু করাছিল । দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ প্রোটাল নিউজ ২৪ বিডি ডট নেট এ গত ২৭ মে ২০২৪ তারিখে ধরিয়ে দিন বিজ্ঞপ্তি নিউজ প্রচারিত হয়। সেই নিউজ প্রচারের পর বুধবার (৩১ জুলাই) কোতয়ালি মডেল থানা কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাকে গ্রেপ্তার করে ।

     

    হাসিবুল হাসান মেঘনা ষ্টার ক্যাবলস এন্ড ইলেক্ট্রিকাল এ্যাপলায়েন্স লিঃ এর চকবাজার সাকিনে, কুমিল্লা ক্যাবলস পণ্য শোরুমের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। উক্ত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র না নিয়ে এবং কোনো প্রকার অবহিত না করে গত ০১ /০১ /২০২৩ তারিখ হতে অদ্যাবধি কোম্পানির বহু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রাদি সহ প্রায় ২,১৮,৯২,৯০৯ (দুই কোটি আঠার লক্ষ বিরানব্বই হাজার নয়শত নয়) মূল্যের পণ্য বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছিলো। কোম্পানি যথাসাধ্য চেষ্টা করেও তাকে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়েছিলো। এ বিষয়ে মোঃ হাসিবুল হাসান এর বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানা, কুমিল্লা একটি ফৌজদারী মামলা নং- ১২ তাং ০৩/০৪/২০২৪ ধারা ৪০৮/৪২০ রজু করাছিল ।

    তাকে বর্তমানে কোতয়ালি মডেল থানা, কুমিল্লা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনা হয়েছে।

  • স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

    স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

    উন্নত বিশ্বের মতো দেশেও নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগ চিহ্নিত করতে পারলে নিরাময় সম্ভব।

    স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে যারা–

    বয়স পঁয়ত্রিশের ঊর্ধ্বে। কম বয়সে ঋতুবতী হওয়া অথবা দেরিতে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া। -স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে।

    ৩০ বছরের পর প্রথম সন্তান লাভ অথবা নিঃসন্তান নারী। -স্থূলতা। চর্বিজাতীয় খাদ্য বেশি বেশি গ্রহণ ও শাকসবজি কম খেলে। -শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ালে। -মদ্যপায়ী।

    রোগ নির্ণয়

    নিজের স্তন পরীক্ষা করা। প্রত্যেক নারীর উচিত প্রতি মাসে এক দিন স্তন নিজ হাতে পরীক্ষা করে দেখা। স্তনের ডাক্তারি পরীক্ষা।

    স্তনে চাকা বা গোটা হওয়া, স্তনের চামড়া মোটা হওয়া, স্তন ফুলে যাওয়া, স্তনের আকারে বিকৃতি দেখা দেওয়া, স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে সেঁধিয়ে যাওয়া, স্তনে ব্যথা, স্তনবৃন্ত স্পর্শে ব্যথা, স্তনের বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক রস নিঃসরণ বিশেষ করে রক্তযুক্ত নিঃসরণ। এ রকম একটি অথবা একাধিক লক্ষণ যদি দিনের পর দিন দেখা যেতে থাকে, তাহলে স্তন ক্যান্সার হয়েছে বলে সন্দেহ করা উচিত।

    ম্যামোগ্রাফি

    স্তনের এক ধরনের এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে চাকা বা পিণ্ড আছে কিনা, তা দেখার ব্যবস্থা আছে।
    স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা
    -শল্যচিকিৎসা : স্তন অপারেশন করে বাদ দেওয়া অথবা স্তন এবং আরও কিছু অংশবিশেষ, যেখানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা অপারেশন করা। -বিকিরণ চিকিৎসা বা রেডিওথেরাপি। -কেমোথেরাপি-ক্যান্সার বিধ্বংসী ওষুধ।

    স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

    নিচের কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা কিছু স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারব। -বিয়ে এবং প্রথম সন্তান গ্রহণের বয়স ৩০ বছরের আগেই হওয়া উচিত। -পরিমিত আহার ও হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে হালকা-পাতলা রাখতে হবে। -স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন– শাকসবজি, ফলমূল বেশি পরিমাণে খেতে হবে এবং অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য কম গ্রহণ করতে হবে। মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

    স্তন ক্যান্সার যদি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা যায়, তবে বাকি জীবন সুস্থ থাকা সম্ভব এবং এভাবেই আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্তন ক্যান্সার প্রতিহত করতে পারি।
    লেখক : ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।