উন্নত বিশ্বের মতো দেশেও নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগ চিহ্নিত করতে পারলে নিরাময় সম্ভব।
স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে যারা–
বয়স পঁয়ত্রিশের ঊর্ধ্বে। কম বয়সে ঋতুবতী হওয়া অথবা দেরিতে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া। -স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে।
৩০ বছরের পর প্রথম সন্তান লাভ অথবা নিঃসন্তান নারী। -স্থূলতা। চর্বিজাতীয় খাদ্য বেশি বেশি গ্রহণ ও শাকসবজি কম খেলে। -শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ালে। -মদ্যপায়ী।
রোগ নির্ণয়
নিজের স্তন পরীক্ষা করা। প্রত্যেক নারীর উচিত প্রতি মাসে এক দিন স্তন নিজ হাতে পরীক্ষা করে দেখা। স্তনের ডাক্তারি পরীক্ষা।
স্তনে চাকা বা গোটা হওয়া, স্তনের চামড়া মোটা হওয়া, স্তন ফুলে যাওয়া, স্তনের আকারে বিকৃতি দেখা দেওয়া, স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে সেঁধিয়ে যাওয়া, স্তনে ব্যথা, স্তনবৃন্ত স্পর্শে ব্যথা, স্তনের বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক রস নিঃসরণ বিশেষ করে রক্তযুক্ত নিঃসরণ। এ রকম একটি অথবা একাধিক লক্ষণ যদি দিনের পর দিন দেখা যেতে থাকে, তাহলে স্তন ক্যান্সার হয়েছে বলে সন্দেহ করা উচিত।
ম্যামোগ্রাফি
স্তনের এক ধরনের এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে চাকা বা পিণ্ড আছে কিনা, তা দেখার ব্যবস্থা আছে।
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা
-শল্যচিকিৎসা : স্তন অপারেশন করে বাদ দেওয়া অথবা স্তন এবং আরও কিছু অংশবিশেষ, যেখানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা অপারেশন করা। -বিকিরণ চিকিৎসা বা রেডিওথেরাপি। -কেমোথেরাপি-ক্যান্সার বিধ্বংসী ওষুধ।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
নিচের কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা কিছু স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারব। -বিয়ে এবং প্রথম সন্তান গ্রহণের বয়স ৩০ বছরের আগেই হওয়া উচিত। -পরিমিত আহার ও হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে হালকা-পাতলা রাখতে হবে। -স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন– শাকসবজি, ফলমূল বেশি পরিমাণে খেতে হবে এবং অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য কম গ্রহণ করতে হবে। মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
স্তন ক্যান্সার যদি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা যায়, তবে বাকি জীবন সুস্থ থাকা সম্ভব এবং এভাবেই আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্তন ক্যান্সার প্রতিহত করতে পারি।
লেখক : ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।