Category: এক্সক্লুসিভ

  • দুদেশের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার

    দুদেশের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার

    একে অপরকে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে চীন ও থাইল্যান্ড। পর্যটন বৃদ্ধির জন্য একটি যুগান্তকারী চুক্তি ঘোষণা করেছে দেশ দুটি। দুদেশের নাগরিকের ভিসার প্রয়োজনীয়তা স্থায়ীভাবে মওকুফ করা হয়েছে।

    নতুন বছরে মার্চ থেকে পদক্ষেপটি কার্যকর হবে। থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, এ বিষয়টি উভয় দেশের জন্যে পারস্পরিক সুবিধা নিয়ে আসবে।

    সেপ্টেম্বরে চীনা নাগরিকদের থাইল্যান্ডে প্রবেশে ভিসার বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছিল থাই কর্তৃপক্ষ। মওকুফের মাত্র প্রথম দুদিনের মধ্যে, ২২ হাজারেরও বেশি চীনা দর্শক থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন।

  • চুল পড়া বন্ধে যেসব খাবার খাবেন

    চুল পড়া বন্ধে যেসব খাবার খাবেন

    চুল পড়া বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবার আছে। বিশেষ করে শীতকালে এ বিড়ম্বনায় বেশি পড়তে হয়। এ ছাড়া চুলের বৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো সমস্যাতেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা, ঋতু পরিবর্তন, সঠিক পুষ্টির অভাবে পড়তে পারে চুল।

    চুল পড়ারোধী শ্যাম্পু বা প্রসাধনী সাময়িক সমাধান দিতে পারলেও চুলের বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করার বিকল্প নেই।

    আরও পড়ুন: যে ৮ ঘরোয়া চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে থাকবে গ্যাস্ট্রিক

    চুলের বৃদ্ধির জন্য জিঙ্ক কেন অপরিহার্য?

    জিংক একটি অপরিহার্য খনিজ, যা কোষ বিভাজন, ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং চুলের ফলিকলসহ টিস্যুগুলোর মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষ করে অ্যান্ড্রোজেন, যা চুলের বৃদ্ধির ধরন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

    তা ছাড়া, জিঙ্ক খাওয়ার ফলে সেবাম তৈরি হয়। এটি প্রাকৃতিক তেল যা মাথার ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে এবং চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। এ ছাড়া জিঙ্ক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো কাজ করে এবং চুলের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, অকাল বার্ধক্য এবং সম্ভাব্য চুল পড়া রোধ করে।

    জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খেলে যেমন সুস্থ থাকবেন, তেমনি সম্ভব হবে চুল পড়া রোধ করাও। জিঙ্কের সঙ্গে যুক্ত পুষ্টির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন। কারণ জিঙ্ক সাধারণত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারে পাওয়া যায়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট বি ভিটামিন (বি৬ ও বি১২) চুলের সর্বোত্তম বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় জিঙ্কের সঙ্গে কাজ করে।
    চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জিংক সমৃদ্ধ যেসব খাবার খাবেন?

    পালং শাক এবং অন্যান্য গাঢ় পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজিতে জিঙ্কের সঙ্গে বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। চুলের বৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি আপনাকে সুস্থ রাখবে এগুলো।

    ডিমে প্রচুর জিঙ্ক, প্রোটিন ও বায়োটিন থাকে। বায়োটিন একটি বি-ভিটামিন যা চুল, ত্বক এবং নখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বায়োটিনের অভাব চুল পড়া বাড়াতে পারে। ডিমের মতো জিঙ্ক এবং বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের যত্নে দারুণ কার্যকরী।

    কুমড়োর বীজ জিঙ্ক সমৃদ্ধ। এগুলো সালাদ, দই বা স্ন্যাক হিসেবে যোগ করে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

    মসুর ডাল জিঙ্কের উদ্ভিদভিত্তিক উৎস। এগুলো প্রোটিন, আয়রন এবং অন্যান্য পুষ্টিতে সমৃদ্ধ, যা চুলের পাশাপাশি ভালো রাখে শরীরও।

    ছোলা জিঙ্কের আরেকটি উদ্ভিদভিত্তিক উৎস। এগুলো সালাদ, স্যুপে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া সাইড ডিশ হিসেবেও পরিবেশন করতে পারেন ছোলা।

    কাজু হলো এক ধরনের বাদাম, যা জিঙ্ক সমৃদ্ধ। এগুলো আয়রন ও বায়োটিনের মতো অন্যান্য পুষ্টিরও একটি ভালো উৎস।

    দইসহ দুগ্ধজাত পণ্যে জিঙ্ক থাকে। দই প্রোবায়োটিকও সরবরাহ করে, যা মাথার ত্বক ভালো রাখে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • জাপানের পর এবার কাঁপল আফগানিস্তান, আধঘণ্টার মধ্যে দুবার ভূমিকম্প

    জাপানের পর এবার কাঁপল আফগানিস্তান, আধঘণ্টার মধ্যে দুবার ভূমিকম্প

    নতুন বছরে ফের ভূমিকম্পের কবলে আফগানিস্তান। বুধবার মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে দুবার কেঁপে উঠল ভারতের প্রতিবেশী দেশটি। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ প্রথমবার কম্পন শুরু হয়। একটার সময়ে আবারও কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান। উল্লেখ্য, বছরের প্রথম দিনেই ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল জাপান। দুদিনের মধ্যেই ফের বিপর্যয়।
    আফগানিস্তানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমিলজি সূত্রে খবর, ফয়জাবাদ থেকে ১০০ মিটার দূরে কম্পনের উৎসস্থল। বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ ৪.৪ রিখটার স্কেলে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় কম্পন। এবার ৪.৮ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প হয় ওই এলাকাতেই। তবে এখনও আফগানিস্তান থেকে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
    উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই লাগাতার ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে আফগানিস্তান। ডিসেম্বর মাসে ৫.২ রিখটার স্কেলে কেঁপেছিল আফগানিস্তান। তার আগে অক্টোবর মাসেও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশটি। ৬.২ রিখটার স্কেলে কম্পনের পর অসংখ্য আফটার শকে কেঁপে ওঠে গোটা আফগানিস্তান। দেশজুড়ে প্রায় দুহাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেবারে। তবে বুধবারের ভূমিকম্পে এখনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
    উল্লেখ্য, বছরের প্রথম দিনেই ভয়াবহ ভূমিকম্প হয় জাপানে। ৭.৬ রিখটার স্কেলে কম্পনের পর আছড়ে পড়ে সুনামিও। ইতিমধ্যেই সেদেশে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। দুদিন পরেও আফটার শক চলছে সেদেশে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার লা রিওজায় ৫.৬ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প হয়েছে বলে খবর।
  • কাল প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন

    কাল প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার দুপুরে দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    দলের এ শীর্ষ নেতা বলেন, কাল (বৃহস্পতিবার) আমাদের শেষ জনসভা। কাল জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন।

    নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের আসা নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ১১ দেশের ৮০ পর্যবেক্ষক আসবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ৫০ জন বিদেশি সংবাদকর্মী এসেছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, এবার নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে। যেখানে তারা আচারণবিধি লঙ্ঘন দেখছে সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বিষয়ে তাদের অবস্থান দৃশ্যমান।

    এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ ছিলেন।

  • প্রযোজক বলেন ‘শাকিবকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে ছবি বানাবো?’

    প্রযোজক বলেন ‘শাকিবকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে ছবি বানাবো?’

    ২০২৩ এর সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ছিল ‘প্রিয়তমা’। শাকিব খানের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের বিতর্কের ভেতরে হিমেল আশরাফের পরিচালনায় এই ছবিটির সাফল্য শাকিবের ক্যারিয়ারটি একেবারেই ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেয়।

    এই সাফল্য নিয়ে ছবিটির প্রযোজক আরশাদ আদনান বললেন, ‘আমি ছবিটি নিয়ে গবেষণা করেছি। প্রতিনিয়ত পেপারওয়ার্ক করেছি। সে কারণেই ছবিটি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। আর শাকিব খান পুরো ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করেছে। ওকে অনেকে হ্যান্ডল করতে পারে না। আমি করতে পেরেছি।’

    প্রিয়তমা’র সাফল্যের পরপরই আরশাদ আদনান ও নির্মাতা হিমেল আশরাফ জুটির ‘রাজকুমার’ ছবিটির কাজ শুরু হয়েছে। এই ছবিটির একাংশের শুটিং শেষ হলো সম্প্রতি বাংলাদেশের পাবনায়। ছবিটি ভারতের বিভিন্ন লোকেশনে, দুবাই ও আমেরিকার একাধিক স্টেটে শুটিং করা হবে বলে জানান প্রযোজক।

    তবে বর্তমান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে কেউ কেউ। এই প্রসঙ্গে প্রযোজক আরশাদ আদনান বলেন, ‘আমাদের এই অভ্যেস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের ভেতরে সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। কেউ কেউ রয়েছেন এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিদিন একে অপরকে নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছেন। এটা পরিহার করতে হবে।’

    আরশাদ আদনানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল মিডিয়া গত প্রায় ২০ বছর ধরে একাধিক নাটক, টেলিফিল্ম ও সিনেমা নির্মাণ করে চলেছে। গেল ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘প্রিয়তমা’ বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রেকর্ড সাফল্যের ছবি বলে আখ্যা দিলে এ নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অনেকেই ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবির রেকর্ড ভেঙেছে এমন কথা উল্লেখ করে। এ প্রসঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন একটি ইন্টারভিউতে এর প্রতিবাদ করেন। এবং এই পরিসংখ্যান গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রমাণ দেন।

    এ প্রসঙ্গ নিয়ে প্রযোজক আরশাদ আদনানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব যা বলেছেন তা পুরোপুরি সত্য। তখনকার হল সংখ্যা আর এখনকার হল সংখ্যা কিন্তু এক নয়। কিংবা অর্থের মানও এক নেই আর। সেই হিসেবে যদি আমরা যে লাভের হিসেবটা দিয়েছি সেটি স্পষ্ট করলেই হয়ে যায়। আর আমরা কিন্তু কখনোই ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিটির সাথে তুলনা দিইনি। এটা বাইরে থেকে ছড়ানো হয়েছে।’

    রাজকুমার ছবিটি এ বছরের কুরবানী ঈদে মুক্তি পাবে। তাই বাংলাদেশি ছবি শাকিববিহীন সফল হয় না। অন্যদিকে দুই ঈদ ছাড়া ভালো বাজেটের ছবি কেউ দেখতে চায় না। এমন বাস্তবতা প্রসঙ্গে আরশাদ আদনান বলেন, ‘প্রথমত আমাদের ভালো ভালো গল্পের ছবি করতে হবে। আমি নিজেও খুব শিগগিরই নতুন দুজনকে নিয়ে ছবি নির্মাণের ঘোষণা দেব। কারণ এটা তো ধ্রুব বাস্তবতা যে, শাকিব ছাড়া এখন কারো ছবিই চলে না। শাকিবকে ছাড়া আমি কাকে নিয়ে ছবি বানাবো? আপনারাই বলেন!

    তবে আশার খবর হলো ‘মনীষ’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন আরশাদ আদনান। যে ছবিটিতে হিমেল আশরাফের বাইরে নতুন একজন পরিচালক ও নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকবেন।’

  • নামছে সশস্ত্র বাহিনীসহ সাত লাখ পুলিশ বিজিবি আনসার মাঠে

    নামছে সশস্ত্র বাহিনীসহ সাত লাখ পুলিশ বিজিবি আনসার মাঠে

    নামছে সশস্ত্র বাহিনীসহ সাত লাখ পুলিশ বিজিবি আনসার মাঠে

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে আজ থেকে সারা দেশে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে। এছাড়া ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১৪৯টি। ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

    জানা যায়, এবারের নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রায় সাড়ে সাত লাখ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে পুলিশ ১ লাখ ৮৯ হাজার, বিজিবি ৩৫ হাজার, এপিবিএন ৬ হাজার এবং আনসার-ভিডিপির ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৬৭ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে বুধবার (আজ) থেকে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী)। এ বাহিনীর সদস্যরা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীগুলো এলাকাভিত্তিক মোতায়েন হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

    আইএসপিআর জানায়, ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনী নিয়োজিত হয়েছে। সমতলে সীমান্তবর্তী ৪৫ উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ৪৭টি উপজেলায় সেনাবাহিনী বিজিবির সঙ্গে এবং উপকূলীয় ৪টি উপজেলায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

    উপকূলীয় দুটি জেলাসহ (ভোলোা ও বরগুনা) ১৯টি উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোয় প্রয়োজনীয় হেলিকপ্টার সহায়তা দেবে।

    এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে নির্বাচনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে। এই সেল ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের মাঠে আমাদের ৫ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী ২ হাজার ৮৫৫, ব্যাটালিয়ন আনসার ৮৫০০ এবং অঙ্গীভূত আনসার ও ভিডিপি সদস্য থাকবেন ৫ লাখ ৫ হাজার ৮১২ জন। আনসার বাহিনীর মোট প্লাটুন থাকবে ২৫০টি। প্রতিটি প্লাটুনে ৩০ থেকে ৩৫ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে তাদের ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন সদস্য মেতায়েন থাকছে। এপিবিএনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশে তাদের ২০০ প্লাটুন সদস্য নির্বাচনি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন।

    পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) আনোয়ার হোসেন জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে ১ লাখ ৮৯ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। নির্বাচনের সময় টহল দেওয়া থেকে শুরু করে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং টিম এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গেও ডিউটিতে থাকবেন তারা।
    মাঠে থাকবে বিজিবির ডগ স্কোয়াডও। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন থাকবে। কোনো কোনো দুর্গম এলাকার কেন্দ্রও ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলোর বিষয়েও বাড়তি ফোর্স নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, কেউ নির্বাচন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে বা নির্বাচনি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কোস্টগার্ড : নির্বাচনকালীন শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার নিমিত্তে উপকূলীয় ৪৩টি ইউনিয়নে কোস্টগার্ড মোতায়ন থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ কোস্টগার্ড নির্বাচন-পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য গত ২০ ডিসেম্বর থেকে মাঠে আছে। কোস্টগার্ড সদস্যরা উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।

  • ওমরাহ হজ পালনে মক্কায় গেলেন শাকিব খান

    ওমরাহ হজ পালনে মক্কায় গেলেন শাকিব খান

    কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই ওমরাহ হজ পালনে সৌদি আরব গেলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) দুপুরের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মক্কা নগরীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

    জানা যায়, ওমরাহ থেকে ফিরেই শাকিব তার অভিনীত প্রথম সর্ব ভারতীয় সিনেমা ‘দরদ’র ডাবিংয়ে অংশ নিতে ভারত যাবেন। সেখান থেকে ফিরে ‘রাজকুমার’র শুটিং করবেন। ইতোমধ্যে সিনেমাটির বাংলাদেশের অংশের শুটিং অনেকটাই শেষ। জানুয়ারির শেষে বাকি অংশের শুটিং হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

    আগামী রোজার ঈদে সিনেমাটি মুক্তির কথা আছে। আর অনন্য মামুনের পরিচালনায় ‘দরদ’ মুক্তির কথা আছে ফেব্রুয়ারিতে।

    এছাড়া শাকিবের অ্যাকশন ধাঁচের আরেক সিনেমা ‘তুফান’র কাজ শুরু হবে মার্চ থেকে। রায়হান রাফীর পরিচালনায় এ সিনেমাটি আগামী কোরবানির ঈদে মুক্তি পাবে।

  • স্থগিত ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা কবে, জানাল পিএসসি

    স্থগিত ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা কবে, জানাল পিএসসি

    ৪৫তম বিসিএসের স্থগিত হওয়া লিখিত পরীক্ষা কবে নেওয়া হতে পারে, সেই রূপরেখা ঠিক করে দিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান মনে করছে, নির্বাচনের শেষে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির একজন নীতিনির্ধারক জানান, ‘লিখিত পরীক্ষা নির্বাচনের পর নেওয়া হবে। আমরা ধরে রেখেছি, জানুয়ারির শেষ দিকে। সেটা হতে পারে ২০ থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে পিএসসি।

    ২৪ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে পিএসসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠেয় ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময় যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

    ২৭ নভেম্বর পরীক্ষা শুরুর সূচি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। তবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী দলগুলোর চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে এ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেছিলেন একদল পরীক্ষার্থী। সেই আলো কমিশন পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়।

    ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১ হাজার ২২ জন।

    গত বছরের ১৯ মে অনুষ্ঠিত ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৭৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। ৩ লাখ ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জন। এর মধ্যে গতকাল প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, পাস করেছেন ১২ হাজার ৭৮৯ জন। শতাংশের হিসাবে তা দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৭৭।

  • রপ্তানি খাতে বৈদেশিক এলসির বকেয়া দায় ৯৪০০ কোটি টাকা

    রপ্তানি খাতে বৈদেশিক এলসির বকেয়া দায় ৯৪০০ কোটি টাকা

    আগে রপ্তানি খাতের কাঁচামাল আমদানির জন্য বৈদেশিক ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসি’র কোনো দায় বকেয়া থাকত না। করোনার সময় থেকে এ খাতে সময় মতো দায় পরিশোধ করতে না পারায় বকেয়া থাকছে। গত জুন পর্যন্ত এ খাতে বকেয়া স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে গত বছরের জুনের তুলনায় এ খাতে দায়ের স্থিতি কমেছে ৩২ কোটি ডলার। যা স্থানীয় মুদ্রায় তিন হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

    এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ‘ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র দায় কমেছে ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। রপ্তানি খাতের সার্বিক চিত্র নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয় ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসির বিপরীতে কাঁচামালের মূল্যের পুরোটাই রপ্তানিকারকদের নামে ঋণ হিসাবে ইস্যু করে পরিশোধ করে ব্যাংক। রপ্তানির মূল্য দেশে আসার পর ব্যাংক ঋণ বাবদ দেওয়া অর্থ সমন্বয় করে বাকি অর্থ রপ্তানিকারকের হিসাবে স্থানান্তর করে। এ কারণে এ ধরনের ঋণকে নিরাপদ মনে করে ব্যাংক অর্থায়ন করে।

    আগে এসব খাতের এলসির কোনো দায়দেনা বকেয়া থাকত না। করোনার সময় বৈশ্বিক লকডাউনের কারণে নিয়মিত রপ্তানি আয় দেশে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ব্যাংক রপ্তানি আয় থেকে ঋণ সমন্বয় করতে পারছিল না। এ কারণে এ খাতে বকেয়া বাড়তে থাকে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, করোনার কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বৈদেশিক ‘ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র দায় বকেয়া হয়েছিল ৯৪ কোটি ১৩ লাখ ডলারের। যা মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণের ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ওই সময়ে বেসরকারি খাতে মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল এক হাজার ১৮৩ কোটি ডলার। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্যে করোনার নেতিবাচক প্রভাব শেষ না হতেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স কমার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও কমে যায়। এতে ডলারের সংকট প্রকট হয়। লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে ডলারের দাম। ডলারের সংকট প্রকট হলে বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক এলসির বকেয়া দায় বাড়তে থাকে।

    ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ১১৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলারে। যা মোট স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ওই সময়ে বেসরকারি খাতে মোট স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ছিল এক হাজার ৭৭৬ কোটি ডলার।

    ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক এলসির বকেয়া দায় বেড়েছিল ২৩ কোটি ডলার। বৃদ্ধির হার ছিল ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ডলার সংকট মোকাবিলায় আমদানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে আমদানি কমতে থাকে। বৈশ্বিক মন্দায় পণ্য রপ্তানিও কমতে থাকে। এর প্রভাবে রপ্তানির অর্ডার আসা যেমন কমে, তেমনি কাঁচামাল আমদানিও কমে যায়। ফলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতের বৈদেশিক এলসির বকেয়া দায়ও কমতে থাকে। গত বছরের জুনে তা কমে দাঁড়ায় ৮৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে। যা বেসরকারি খাতে মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণের ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের চেয়ে কমেছে ৩২ কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় তিন হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। কমার হার ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ওই বছরে মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল এক হাজার ৩৬৬ কোটি ডলার।

    গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা হয়েছিল ৮৩৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৩ কোটি ডলার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় এলসি খোলা ৩১ শতাংশ এবং আমদানি ১৯ শতাংশ কমেছিল। গত অর্থবছরের জুলাই অক্টোবরে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা হয়েছিল ৩১৫ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে খোলা হয় ৩০৮ কোটি ডলার। ওই সময়ে এলসি খোলা কমেছে ২ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে ওই সময়ে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় আমদানি হয়েছিল ৩৭৩ কোটি ডলার।

    চলতি অর্থবছরের আমদানি হয়েছে ২৭৫ কোটি ডলার। যা ২৬ দশমিক ১৮ শতাংশ কম। গত নভেম্বরে মোট ৮০ কোটি ডলার ও চলতি ডিসেম্বরে ৭৫ কোটি ডলারের ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। অর্থাৎ ব্যাক টু ব্যাক এলসি কমছে। এটি কমার কারণে আগামীতে রপ্তানি আয়ও কমতে পারে। গত জুন পর্যন্ত অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। বৈশ্বিক মন্দায় বিদেশি ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে পণ্যমূল্য পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণে রপ্তানি আয় দেশে আসছে কম।

    ডলার সংকট মোকাবিলা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ে গত পৌনে দুই বছর ধরে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈশ্বিক মন্দা ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামালের আমদানিও কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে রপ্তানি খাতে পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে নতুন আতঙ্ক হিসাবে দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমনীতিতে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি।

  • তীব্র সংকটের মধ্যেও কমল ডলারের দাম, রোববার থেকে কার্যকর

    তীব্র সংকটের মধ্যেও কমল ডলারের দাম, রোববার থেকে কার্যকর

    তীব্র সংকটের মধ্যেও ডলারের দাম আরও ২৫ পয়সা কমানো হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডলারের নতুন দর আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

    বুধবার রাত ১০টায় অনলাইনে সংগঠন দুটির এক যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাফেদার সভাপতি ও সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    ফলে এখন থেকে প্রতি ডলার ব্যাংকগুলো ক্রয় করবে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে, যা আগে ক্রয় করত ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। একই সঙ্গে প্রতি ডলার বিক্রি করবে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা করে, যা আগে ছিল ১১০ টাকা ২৫ পয়সা।

    এবার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন দফায় ডলারের দাম ১ টাকা কমানো হলো। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর প্রতি ডলারে ৫০ পয়সা ও ২৯ নভেম্বর প্রতি ডলারে ২৫ পয়সা কমানো হয়েছিল।

    নতুন সিন্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী রোববার থেকে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স রপ্তানি আয়ের ডলার কিনবে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে। অন্যান্য খাতে আসা ডলারও ব্যাংকগুলো কিনবে একই দরে। আমদানি দায় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ সব খাতেই ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করবে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা করে। এ ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য খাতেও একই দামে ডলার বিক্রি করবে। তবে নগদ ডলারের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। ব্যাংকগুলো নিজস্ব দরে নগদ ডলার বেচাকেনা করবে। বর্তমানে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা দরে। এর আগে নগদ ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১১৭ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

    তবে ব্যাংকগুলো ডলারের দাম কমালেও বাস্তবে এই দামে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগই ডলার কিনছে এর চেয়ে বেশি দামে। যেমন রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সরকার প্রতি ডলারে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোও নিজস্ব তহবিল থেকে আরও সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিতে পারবে। এ হিসাবে বর্তমানে প্রতি ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১১৫ টাকা ৪৮ পয়সা। ২৫ পয়সা দাম কমানোর ফলে ৫ শতাংশ প্রণোদনাসহ প্রতি ডলারের দাম পড়বে ১১৪ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের চেয়ে প্রতি ডলারে ৫০ পয়সা কম পাবেন প্রবাসীরা।

    ডলারের দাম কমানো হলে নির্ধারিত দামে কেনাবেচা হচ্ছে একেবারেই কম। বুধবার ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স কিনেছে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকার বেশি দামে। এসব ডলার তারা আমদানিতে বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা করে।

    বাফেদা ও এবিবি মনে করে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ডলারের প্রবাহ বেড়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে গিয়ে এখন উদ্বৃত্ত হয়েছে। আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের ফলে রিজার্ভ আরও বাড়বে। এতে ডলারের প্রবাহও বাড়বে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সংস্থা থেকে অচিরেই ঋণ পাওয়া যাবে। সব মিলে ডিসেম্বরের মধ্যেই পাওয়া যাবে ১৩১ কোটি ডলার।