Category: এক্সক্লুসিভ

  • চলে গেলেন তাবলিগের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা এহসানুল হক

    চলে গেলেন তাবলিগের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা এহসানুল হক

    তাবলিগ জামাতের প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মৃত্যুতে পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাবলিগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ আলমি শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

    মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজসহ বিশ্বের তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি তাবলিগের প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘ সময় দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।

    পারিবারিকভাবেও মাওলানা এহসানুল হক তাবলিগ জামাতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের আমির বাবু বশিরের সন্তান ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা তাঁকে দ্বীনের কাজের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।

    শিক্ষাজীবনে তিনি ভারতের সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    পড়াশোনা শেষে তৎকালীন আলেমদের তাবলিগে সময় দেওয়ার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন। পরবর্তী সময়ে ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদরাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুনের সঙ্গেও শিক্ষকতা করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

    মাওলানা ইউসুফ (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে আসেন। এরপর ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি রায়বেন্ড মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তাবলিগের দাওয়াতি কার্যক্রম বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    এ ছাড়া মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ ও সুসম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ইলমি জীবন, প্রবীণ আলেম ও মুরব্বিদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি মেহনতে অবদানের কারণে তাবলিগের অঙ্গনে মাওলানা এহসানুল হক পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।

    তাঁর ইন্তেকালে দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতে একজন প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেমকে হারালেন তাঁর দ্বীনি সাথী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

    আল্লাহ তাআলা মাওলানা এহসানুল হকের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও দ্বীনি সাথীদের সবরে জামীল দান করুন। আমিন।

  • নারায়ণগঞ্জে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়বে স্থানীয় নির্বাচনেও!

    নারায়ণগঞ্জে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়বে স্থানীয় নির্বাচনেও!

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

    নারায়ণগঞ্জে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

    নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তুলনামূলকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সদর ও বন্দর উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় সংকট তীব্র। দিনের বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন বাসিন্দারা।

    গ্যাস বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে স্থানীয় এমপি এডভোকেট আবুল কালাম সরব থাকলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাস-বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবায় নিয়মিত ভোগান্তির পরও এর স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনপ্রতিনিধিরা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

    শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতেও। বিশেষ করে রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও উৎপাদন কমানো হচ্ছে, আবার কোথাও কারখানা চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    শিল্প মালিকদের ভাষ্য, গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা যাচ্ছে না। সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসার ওপর।

    এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ব্যাবসায়ীদের সাথে নিয়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে দিপু ভূঁইয়ার প্রচেষ্টায়।

    কারখানা মালিকেরা বলছেন কারখানায় উৎপাদন কমে গেলে বা কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শ্রমিকরা। কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া, উৎপাদন বন্ধ থাকা কিংবা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু শিল্প মালিকদের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিও জড়িয়ে পড়েছে।

    রূপগঞ্জের পাশাপাশি সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলার শিল্প এলাকাতেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ে উৎপাদন ব্যয়।

    সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিল্প ও আবাসিক দুই ক্ষেত্রেই গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় তাদের প্রতিও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

    গ্যাস সংকটের জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ নির্বাচন আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিতাসের অসৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে স্থানীয় ইস্যু ও নাগরিক সেবা নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, যানজটসহ দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা কতটা ছিল ভোটের সময় সেই হিসাবই সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

    বিশেষ করে সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারে শিল্প ও আবাসিক—দুই ধরনের ভোটারই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ভুক্তভোগী। শিল্প মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিক ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে তা নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে হলে শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানও স্থিতিশীল থাকবে।

    ফলে নারায়ণগঞ্জে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এখন কেবল জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে জনভোগান্তি, শিল্পের উৎপাদন, শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব বিষয় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা

    ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন—বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। সোমবার ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা।

    বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ৩ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা।

    তবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছেন ক্রেতারা।

  • সোনারগাঁওয়ে স্কুল ছাত্রীকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল :পুলিশ সমাজসেবার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দিল সেই কিশোরকে

    সোনারগাঁওয়ে স্কুল ছাত্রীকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল :পুলিশ সমাজসেবার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দিল সেই কিশোরকে

     

    সোনারগাঁও ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর দিলসাদ হোসেনকে রংপুরে তার গ্রামের বাড়ি থেকে এনে সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকতার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

    শনিবার বিকেলে তাকে সোনারগাঁও থানার থানার আনা হয়। পরে সেখানে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী ও অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এদিকে স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের। তবে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। তাদের পরিবারকে তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এমন করলে চিঠির মাধ্যমে টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ড্রেস পরা এক ছাত্রীকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে পেছন থেকে লাথি মারছে এক কিশোর। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করার পরও তাকে আবার লাথি মারা হয়। পরে ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।

    পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরকে ধরে নিয়ে সালিস করেন। সেখানে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায় অভিযুক্ত কিশোরকে।

    ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুল ড্রেস পড়া দুই ছাত্রী তানিসা আক্তার ও মিম আক্তার হেঁটে যাচ্ছিল। এসময় বখাটে এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে পেছন থেকে আবার উড়ন্ত লাথি মারে ছেলেটি। এসময় ওই কেউ একজন এটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম পেশায় রিকশা চালক ও মা মোছাম্মদ দুলালী গার্মেন্টস কর্মী।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায় , গত প্রায় এক মাস আগে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ছাত্রী তানিসা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মিম আক্তার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যায়। এসময় দিলশাদ হোসেন নামের এক কিশোর পেছন থেকে তানিসাকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে কেউ একজন সেটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে দিলে সেটি বৃহস্পতিবার থেকে ভাইরাল হয়ে যায়।

    সূত্র জানায়, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করনো হয়। ওই স্কুলে বর্তমানে এডহক কমিটিতে বিএনপি নেতা মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সদস্য সচিব স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার, অভিভাবক প্রতিনিধি মোঃ মমিনুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মনোয়ার হোসেন।
    তাদের দাবি, তারা ওই ছাত্রীদের টিসি দেননি। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে দুই শিক্ষার্থী বাইরে অবস্থান করার কারণে তাদের তাদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় ফোনে তাদের ডেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়।

    নির্যাতনের শিকার মেয়ে তানিসা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার শাহীন মিয়ার মেয়ে। সে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিন্ম মাধ্যমিকের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা শাহীন মিয়া কাঁচপুরে স্কয়ার গার্মেন্টসে কাজ করেন। তার মা হাজেরা বেগম অসুস্থ।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টিকটকে দেওয়ার জন্যই ঘটনাটি ভিডিও করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না।

    ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তানিসা জানান, স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এক বড় আপুর সঙ্গে ছুটির পর সে ওই ওয়াকওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। ওই আপু একজনের বাসায় যাবেন বলে তাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। ওয়াকওয়েতে যাওয়ার সময় দিলসাদসহ তিন-চারজন কিশোর বসে ছিল। তাঁরা হেঁটে যাওয়ার সময় দিলসাদ তাকে লাথি মারে। সঙ্গে থাকা বড় আপু লাথি মারার কারণ জানতে চাইলে দিলসাদ গালিগালাজ করে। পরে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় তাকে আবার লাথি মারা হয়। ঘটনাটি ভিডিও করা হলেও তাঁরা তখন কিছু বলেনি। তানিসা জানায়, পরে তাদের বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে এ ঘটনায় বিচার করা হয়। সে দিলসাদকে আগে থেকেই চিনত বলেও জানায়।

    তানিসার মা হাজেরা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, তাঁর মেয়ে ‘ভালো নয়’ এবং তাকে আর বিদ্যালয়ে রাখা হবে না। এমনকি বিদ্যালয়ে ঢুকতেও দেওয়া হবে না বলে তাদেরকে জানানো হয়েছে।
    তার মেয়েকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তানিসার বাবা শাহীন আলম। তিনি বলেন, স্কুলের স্যাররাসহ অন্যরা তার মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে বলেছেন।

    অভিযুক্ত কিশোরের মা মোছাম্মদ দুলালী দাবি করেন, বকা দেওয়ার কারণে তাঁর ছেলেকে ওই স্কুলছাত্রীকে মারধর করেছে। পরে এলাকার লোকজন তাঁর ছেলেকে মারধর করেছে এবং কান ধরে ওঠবস করিয়েছে। সে আর এমন কাজ করবে না বলে স্বীকার করেছে।

    ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা শাহীন আলম আরও জানান, তার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি এক মাস আগের। তিনি বলেন, স্কুল চলাকালীন সময় স্কুলের বাইরে ঘোরাফেরার করায় স্কুলের স্যারেরা বিচার করে তার মেয়ে তানিসাকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে।
    শাহীন মিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কাজ কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়তে পারবো না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।

    সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তার পরিবার এবং স্কুলছাত্রীর পরিবারকে থানায় বসা হয়েছিল। তিনি বলেন, স্কুলছাত্রীর পরিবার মামলা না করায় সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

    কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার জানান, বিভিন্ন সময়ে দুই শিক্ষার্থী স্কুলে না এসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। তবে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিক বার মৌখিক সতর্ক করা হলেও তারা শোনেনি। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভবিষ্যৎতে এমন করলে তাদের টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। তবে ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে শুনেছি।

    তিনি আরো বলেন, ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া ও উৎশৃঙ্খল আচরণের কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, এলাকাবাসী আমরা সবাই বসে ছাত্রীর পরিবারকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। টিসির দেওয়ার বিষয়ে পরিবারের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদেরকে চাপে রাখতে এটা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ, এলাকার লোকজন বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তারা যদি বলে ডেকে বলে সেটাই তো হবে। আমি তো একা কিছু করছি না। তিনি বলেন, বার বার একটি মেয়ে আমাদের স্কুলের বদনাম করতেছে-এজন্য কথা বলা, শাসন করা। সে ড্রেসটা পড়ে না গেলে আমাদের তো সমস্যা ছিল না। সবই তো বুঝতাছেন আপনারা সবাই থেকে একটা মিল মিশ করে দিয়েন। ইউএনও স্যার তাদেরকে ডেকেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাদের অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তাদের স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হবে।

    এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, স্কুল ছাত্রীকে লাথি মেরেছে একটি কিশোর। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দুই স্কুল ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি নিজে স্কুলে গিয়ে খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা জানান, স্কুল ছাত্রীকে লাথি দিয়ে ভাইরাল কিশোরকে তার জিম্মায় বাবা মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাস ওই কিশোরকে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রমেশন অফিসারের কাছে বাবা মাসহ প্রতি মাসে দু’তিন বার হাজিরা দেবেন। এ কিশোরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উক্তত্যর শিকার মেয়ের ও তার পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • রূপগঞ্জে খাবার পানির জন্য হাহাকার, চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

    রূপগঞ্জে খাবার পানির জন্য হাহাকার, চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

     

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
    ‎নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভায় দুই মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম দুর্ভোগে রয়েছে লাখো মানুষ। গোসল ও রান্না করাসহ নানা প্রয়োজনে পানি ব্যবহার করতে পারছে না স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকল কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরাও । বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে ক্রয় করে পানি খেতে হচ্ছে তাদের। যাত্রামুড়া পাম্প হাউসসহ পানি উত্তোলন পাম্প হাউস গুলো বন্ধ থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, তারাবো পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাস সংকট থাকায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারনে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আর দ্রুত এই পানির সমস্যা সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তারা ।

    জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভাটি একটি শিল্প নগরী এলাকা । এখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগত লাখো শ্রমিক কলকারখানায় চাকুরীর পাশাপাশি বিভিন্ন বাসাবাড়ীতে ভাড়া বসবাস করছেন। আর এসব লাখো মানুষের চিন্তা করে তারাবো পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় ১০টি পানির পাম্প বসিয়েছেন। আর এই পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে সার্ভিস লাইনের মাধ্যমে যাত্রামুড়া, মোগরাকুল, মৈকুলি, দিঘীবরাবো, মাসাবো, খাদুনসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে পানি সরবরাহ করছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে গত দুই মাস ধরে সাপ্লাই পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন তারাবো পৌর কর্তৃপক্ষ। অথচ ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টায় বিদ্যুৎ থাকছে। আর এ সময় পানির পাম্প চালু থাকলে পানির সংকট হওয়া প্রশ্নই উঠে না। এ সংকটের কারণে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে অনেককে দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে, কেউ কেউ আবার চড়া দামে পানি কিনে জীবন বাঁচাচ্ছেন। ‎সবচেয়ে কষ্টে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব পরিবারের পক্ষে প্রতিদিন পানি কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ পানি না পেলেও প্রতি মাসে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিল আদায় করছে নিয়মিত। পানি না পেয়ে অনেকেই পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরে পানিতে গোসল করতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। দৈনন্দিন কাজকর্ম ও গোসল তো দূরের কথা, খাওয়ার পানিটুকু না পেয়ে হাহাকার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর রহমানের কাছে গেলেও তিনি কোনো সমাধান দেননা। বরং “আজ আসেন, কাল আসেন” বলে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে ভুক্তভোগী মানুষদের সঙ্গে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত শ্রমিক অধ্যুষিত এই অঞ্চলগুলোতে দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। পানির বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া দামে খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সাত দিন ধরে পানি না থাকায় খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে প্রতিদিন পানি কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প চালানো যাচ্ছে না এবং পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে, কর্তৃপক্ষের এই অজুহাত মানতে নারাজ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের মতে, লোডশেডিংয়ের সমস্যা থাকলেও পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত নির্দিষ্ট কিছু সময়ে পানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব ছিল। তা না করে হঠাৎ করে পুরো সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

    পানির দাবিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ধরণা দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

    স্থানীয় নাবিল টেক্সটাইলে কর্মরত এক শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের দিনে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর প্রতিদিন পানি কিনে খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সাত দিন ধরে গোসল নাই, খাওয়ার পানি নাই। পৌরসভায় গিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। “সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এখন মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে রেশনিং পদ্ধতিতে হলেও দ্রুত পানি সরবরাহ চালু করার এবং সংকট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

    যাত্রামোড়া এলাকার বাসিন্দা সাজিদুর বলেন, দুই মাস ধরে পানি নাই, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিল ঠিকই নেয়, কিন্তু পানি দেয় না। পৌরসভায় গেলে শুধু ঘুরায়, কোনো সমাধান দেয় না। ভুক্তভোগীদের একটাই আবেদন সরকার যেন বিষয়টি দেখে।

    তবে, দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকটের ব্যাখ্যা মানতে নারাজ এলাকাবাসী। দ্রুত পানি সংকট দূর করার দাবি ভুক্তভোগীদের।

    এ বিষয়ে তারাবো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, দুর্ব্যবহারের বিষয়টি সঠিক নয়। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প চালানো যাচ্ছে না। আর এই সমস্যার কারণেই পানি উত্তোলন এবং সরবরাহ অনেকটা বন্ধ রয়েছে ।

    নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম নাজমুল হাসান বলেন, ‎বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে সারাদেশেই লোডশেডিং বেড়েছে। তবে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টা তারাবো পৌরসভায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি।

    এ ব্যাপারে তারাবো পৌরসভার প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, বিদ্যুতের স্বল্পতার কারণে সব পাম্প একসঙ্গে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পানি উত্তোলন করে তা সাপ্লাই নিয়মিত রাখার জন্য। পাশাপাশি পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

  • কাঁচামরিচের দাম কমলেও নারায়ণগঞ্জে চড়া সবজির বাজার

    কাঁচামরিচের দাম কমলেও নারায়ণগঞ্জে চড়া সবজির বাজার

     

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
    নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে কমেছে প্রায় দেড়শ টাকা। বিদেশ থেকে কাঁচামরিচ আমদানির প্রভাবে বাজারে এর দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে এলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে মিলছে না অনেক সবজি। একইসঙ্গে মুরগি ও মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৪৪০ টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় দেড়শ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বিদেশ থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামও কমতে শুরু করেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনে কাঁচামরিচের দাম আরও কমতে পারে।

    তবে কাঁচামরিচের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও অন্য সবজির দামে তেমন পরিবর্তন নেই। বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া পটল, ঢেঁড়শ, কাকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা ও আলু ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে নেমেছে।

    এদিকে কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বটবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    লেবু এক হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা এক হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লালশাকের আঁটি ২০ টাকা, লাউশাক ৫০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটাশাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও গত সপ্তাহের চড়া দামই রয়েছে। বাজারে সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ডিমের বাজারে লাল ডিম এক ডজন ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ডজন, দেশি মুরগির ডিম চারটি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম চারটি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নারায়ণগঞ্জের বাজারগুলোতে মাছের দামও ক্রেতাদের জন্য বেশ চড়া। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ইলিশের বাজারেও রয়েছে দামের পার্থক্য। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    অন্যদিকে বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে মরিচসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। ফলে কাঁচামরিচ আমদানির কারণে দাম কমলেও অন্যান্য সবজির বাজারে এখনো তার প্রভাব পড়েনি।

    বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এর দাম আরও কমতে পারে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ বাড়তে সময় লাগায় অন্যান্য সবজির দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম।

    বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সবজির বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে পছন্দের সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ক্রেতাদের ভাষ্য, কোনো পণ্যের দাম একবার বেড়ে গেলে সেটি কমতে অনেক সময় লাগে। ফলে কাঁচামরিচের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফিরছে না।

    ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার তদারকি করবে। একই সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের বাজার কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

  • সোনারগাঁওয়ে আষাঢ়িয়াচর সেতুতে বড় গর্ত, ওয়াকওয়ে রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ঘটনার শঙ্কা

    সোনারগাঁওয়ে আষাঢ়িয়াচর সেতুতে বড় গর্ত, ওয়াকওয়ে রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ঘটনার শঙ্কা

    সোনারগাঁও(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে  আষাঢ়িয়াচর ২ নং সেতুর ঢাকামুখী লেনে মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেন মরণ ফাঁদে তৈরি হয়েছে । প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। সেতুর ডেক স্ল্যাবের ওই গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই ।  দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এ সড়কের পথচারী ও স্থানীয়রা।
    এদিকে শুধু সেতুর অবস্থা নয়, এ সেতুর দু’পাশে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিনত হয়। এতে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় সেতুর রাস্তা দিয়ে ।
    সরেজমিনে দেখা যায়,  গত কয়েকদিন ধরে সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার বা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ঝুঁকি কমাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।
    এদিকে শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিনত হয়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপরে স্ল্যাব না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুর রাস্তা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা কোম্পানি, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হেটে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তাঁরা।
    ট্রাকচালক মহসিন মিয়া বলেন, আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
    স্থানীয় আষাঢ়িয়াচর গ্রামের সুমন আলম বলেন, কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
    উপজেলার পিরোজপুরের রতনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু বলেন, তিনি প্রতিদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায় এ সড়ক দিয়ে ।  আষারিয়ারচর ২য় সেতুর এ বেহাল অবস্থা মাঝখানে মরণ ফাদ যেন দেখার কেউ নেই। সেতুর সাইডে মানুষ যাতায়াত এর রাস্তার  স্লাব  কি হইছে তাও কর্তৃপক্ষ দেখে না। সেখানে  এখন ঘাস হয়ে গেছে । এই রাস্তাটি দিয়ে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো  ঝুকি নিয়ে চলাফেরা করে। একটু হোচট খেলেই গাড়ির তলে।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও পথচারীদের চলাচলের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
    সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রাথমিকভাবে গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।
  • হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের মাটির ঘর

    হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের মাটির ঘর

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

    একসময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই দেখা মিলত মাটির ঘরের। চারপাশে সবুজ গাছপালা আর মাঝখানে সারি সারি মাটির ঘর—এ দৃশ্যই ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। সময়ের পরিবর্তনে ইট, সিমেন্ট ও কংক্রিটের দালানের ভিড়ে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রাকৃতিকভাবে শীতল পরিবেশ, কম নির্মাণ ব্যয় এবং পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে একসময় গ্রামবাসী মাটির ঘরকে আদর করে ডাকতেন ‘গরিবের এসি’।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জে এখনো প্রায় দুই শতাধিক মাটির ঘর টিকে আছে। তবে নতুন করে আর খুব একটা নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে শত বছরের এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

    মাটির ঘর নির্মাণে সাধারণত এঁটেল বা দো-আঁশ মাটি ব্যবহার করা হয়। মাটির সঙ্গে খড়, ধানের তুষ কিংবা পাটের আঁশ মিশিয়ে তা আরও শক্ত করা হয়। এরপর স্তরে স্তরে দেয়াল গেঁথে নির্মাণ করা হয় পুরো ঘর। প্রতিটি স্তর শুকাতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। এভাবে ধাপে ধাপে একটি ঘর নির্মাণে ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে এমন ঘর ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    মাটির ঘরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। দিনের গরম ধীরে ধীরে শোষণ করে রাতের দিকে তা ছেড়ে দেয় মাটির দেয়াল। ফলে গ্রীষ্মে ঘরের ভেতর থাকে শীতল, আবার শীতকালে বাইরের ঠান্ডা সহজে প্রবেশ করতে পারে না। এই কারণেই গ্রামবাংলার মানুষ একে ‘গরিবের এসি’ হিসেবে চিনতেন।

    কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা, ইট-পাথরের দালানের প্রতি মানুষের ঝোঁক, দক্ষ কারিগরের সংকট এবং অতিবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কারণে মাটির ঘরের নির্মাণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “মাটি হচ্ছে খাঁটি। আগে আমাদের মাটির ঘর ছিল। গরমের দিনে পাখা ছাড়াই আরাম লাগত। এখন ছেলেরা দালান করেছে, কিন্তু ছাদে এত গরম লাগে যে সেই আরাম আর পাই না। এখনো কেউ বাড়িতে এলে আমি মাটির ঘরের গল্প করি।”

    তিনি জানান, নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে রূপগঞ্জের সি-শেল পার্কে দুটি মাটির ঘর সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আবাসন সম্পর্কে জানতে পারেন।

    মাটির ঘর নির্মাণের কারিগরদের একজন জানান, “আগে এই কাজ করেই সংসার চলত। এখন কাজ নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে মুদির দোকান করেছি। একটি মাটির ঘর করতে ছয়-সাত মাস সময় লাগে। লাল মাটি, তুষ আর কাদা মিশিয়ে ধাপে ধাপে দেয়াল তুলতে হয়। গরমে ঠান্ডা আর শীতে গরম থাকে বলে এই ঘর মানুষের শরীরের জন্যও ভালো।”

    পরিবেশবিদ মীর আব্দুল আলীম বলেন, “মাটির ঘরের কথা মনে হলেই শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে। একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই অসংখ্য মাটির ঘর ছিল। এগুলো শুধু বসতবাড়ি নয়, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। বিভিন্ন পার্ক ও উন্মুক্ত জাদুঘরে মাটির ঘর সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা উচিত।”

    রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিব জুবায়ের নাদিম বলেন, “মাটির ঘরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। এতে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে। গরমে ঠান্ডা এবং শীতে উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। মানুষের সুস্থ থাকার জন্য তাপমাত্রার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাস মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।”

    স্থানীয়দের মতে, মাটির ঘর কেবল একটি বসতবাড়ি নয়; এটি বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতীক। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর সংরক্ষণ, কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মাটির ঘরের প্রদর্শন বাড়ানো গেলে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

  • সোনারগাঁওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নানা স্থানে খানাখন্দ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

    সোনারগাঁওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নানা স্থানে খানাখন্দ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

     

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কটির এ অবস্থা। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ছোট-বড় খানাখন্দগুলো। মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়ে এ খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কটির পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়ে। সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দুর্ভোগে পড়ছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, তিন কারণে মহাসড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টি, ওভারলোড গাড়ি চলাচল ও অতিরিক্ত গাড়ির প্রবাহ। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।

    সরেজমিনে মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত পুরো ১৪ কিলোমিটার পথে অসংখ্য স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে। বিশেষ করে কাঁচপুর সেতুর ঢালু এলাকা, চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুরদী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, পিরোজপুর চেঙ্গাকান্দি মৃধাকান্দি, নয়াগাঁও, আষাঢ়িয়ারচর এবং মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় কোথাও ছোট আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারও এ সড়ক ব্যবহার করে। ফলে সামান্য একটি গর্তও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সরেজমিনে আরো দেখা যায়, অনেক চালক গর্ত এড়াতে হঠাৎ লেন পরিবর্তন করছেন। এতে পেছনে থাকা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়লে বিকট শব্দের সঙ্গে গাড়ি দুলে ওঠে। মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোথাও কোথাও বাস ও ট্রাককে ধীরগতিতে চলতে হওয়ায় দীর্ঘ যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। আগে যেসব স্থানে ছোট গর্ত ছিল, সেগুলো এখন বড় আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় গর্তগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

    পরিবহন চালক মতিন মিয়া বলেন, মহাসড়কে এখন গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে গর্ত বোঝা যায় না। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক করতে হয়। তিনি আরও বলেন, এই সড়কে শুধু দুর্ঘটনার ভয় নয়, গভীর রাতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও থাকে। মহাসড়কের কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ছিনতাই প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। গর্তের কারণে গাড়ির গতি কমে গেলে অপরাধীদের তৎপরতার সুযোগ তৈরি হয়।

    মতিন মিয়ার অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একইভাবে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সেই কার্পেটিং উঠে যায়। স্থায়ীভাবে উন্নতমানের নির্মাণকাজ না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না বলে তিনি মনে করেন।

    কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামীগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী আশরাফুল ইসলাম জাকির বলেন, দিনের বেলায় কিছুটা সতর্ক হয়ে চলা যায়। কিন্তু রাতে মহাসড়কে চলাচল সত্যিই ভয়ের। গাড়ি হঠাৎ গর্তে পড়লে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ যাত্রায় এটি বড় ভোগান্তি।

    প্রাইভেটকার চালক জামিল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে এখন গর্তগুলো অনেক গভীর হয়েছে। গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় গাড়ির সাসপেনশন ও চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের এই অবস্থা দ্রুত ঠিক করা প্রয়োজন।

    কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, ভারী যানবাহন নিয়ে গর্তের ওপর দিয়ে চলাচল করলে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যাতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

    স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। পানি দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর জমে থাকায় পিচ নরম হয়ে উঠে যাচ্ছে, এরপর ভারী যানবাহনের চাপে দ্রুত গর্ত তৈরি হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা এই তিন কারণে সড়কের ক্ষতি বেশি হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের ঘাস ও ঝোপঝাড়ও পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে, ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর থাকছে।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে সংস্কারকাজ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা টেকসই হয় না।সাময়িকভাবে গর্তে খোয়া ও বিটুমিন ফেলে কাজ শেষ করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সেই অংশ ভেঙে যায়।

    নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। পানি কার্পেটিংয়ের ফাঁক দিয়ে নিচের স্তরে প্রবেশ করলে রাস্তার ভিত্তি ( বেজ ও সাব-বেজ) দুর্বল হয়ে যায়। এরপর ভারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চাপের কারণে কার্পেটিং উঠে গিয়ে দ্রুত খানাখন্দ তৈরি হয়। যেসব স্থানে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে, সেখানে এ ধরনের ক্ষতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির সময় স্থায়ীভাবে কার্পেটিংয়ের কাজ করা কঠিন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্যাচিং করা হচ্ছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।

  • বিশ্ব বাবা দিবস আজ

    বিশ্ব বাবা দিবস আজ

    আজ বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে ভালোবাসা, সাহস, নিরাপত্তা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবাদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ এই দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে।

    প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নানা আয়োজন ও আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বার্তা এবং ভালোবাসার প্রকাশে মুখর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।

    ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, বাবার অবদান ও দায়িত্বের প্রতি সামাজিক স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে বাবা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরের একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। পরে ১৯১০ সালের ১৯ জুন সোনোরা স্মার্ট ডডের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস উদযাপন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

    এরপর ধীরে ধীরে দিবসটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করে। ১৯২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বাবা দিবস পালনের উদ্যোগকে সমর্থন জানান। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে বাবা দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। পরবর্তীতে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

    সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, একজন সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠন, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাবার ভূমিকা অপরিসীম। একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও আস্থার আশ্রয়স্থল।

    বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পাশাপাশি অনেক পরিবারে বাবাদের সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছে ছোট ছোট পারিবারিক অনুষ্ঠান।

    বিশেষ এই দিনে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।