Category: স্বাস্থ্য

  • ডায়াবেটিস নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

    ডায়াবেটিস নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

    ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়; কিন্তু সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা সম্ভব নয়। অথচ ডায়াবেটিস বিষয়ে আমাদের অনেকের মধ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিসহ অজ্ঞতার কারণে কুসংস্কার বিরাজ করছে। কেউ কেউ ভাবেন, ডায়াবেটিস একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি ঠিক নয়। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়।

     

     

    কেউবা মনে করেন, মিষ্টি খেলে বা টেনশন করলে ডায়াবেটিস হয়। এ ধারণাও সঠিক নয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর মিষ্টি বা গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবার খেলে ইনসুলিনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে শরীর আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

    অনেক সময় চিকিৎসক বলতে পারেন, ‘আপনার হালকা ডায়াবেটিস হয়েছে।’ অথচ ‘হালকা বা মাইল্ড’ ডায়াবেটিস বলে কোনো কথা নেই। বলতে হবে, ডায়াবেটিস আছে কি নেই।
    কেউ কেউ ডায়াবেটিস রোগীদের খেলাধুলা করতে বা গাড়ি চালাতে নিষেধ করেন। এটিও ভুল ধারণা; বরং ডায়াবেটিসে খেলাধুলা করাকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। এতে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা প্রতিরোধে সহায়ক হয়।

    দায়িত্বশীল হলে ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলে গাড়ি চালাতেও কোনো বাধা নেই। তবে বিশেষ কিছু সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

    অনেকে ভাবেন, ডায়াবেটিসে আস্তে আস্তে চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয়ের পর খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম মানলে, নিয়মিত হাঁটলে ও ডায়াবেটিসের প্রয়োজনীয় ওষুধ খেলে কিংবা ইনসুলিন নিলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শুধু চোখ কেন; হৃৎপিণ্ড, স্নায়ু বা নার্ভ, ত্বকসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষতিসাধন হতে পারে।

    কেউ কেউ বলেন, করলা, উচ্ছে, মেথি বা নিমপাতা খেলে ডায়াবেটিস সারে। এমন ধারণাও ভুল। কারণ, ডায়াবেটিস সারাজীবনের একটি রোগ। একবার হয়ে গেলে কোনোভাবেই এটি সারানো যায় না। সঠিক নিয়ম মেনে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় মাত্র। এ কথা সত্যি, করলা, উচ্ছে, মেথি বা নিমপাতা ডায়াটারি ফাইবারযুক্ত। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমে সহায়তা করতে, নানা প্রকার চর্মরোগ প্রতিরোধে বিভিন্নভাবে এসব খাবার উপকারী। তবে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়।

    কেউ কেউ দাবি করেন, স্পেশাল ডায়াবেটিক ডায়েট ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। এ কথাও সত্য নয়। বাজারে ‘ডায়াবেটিক’ সন্দেশ, বিস্কুট, জ্যাম, চকলেট ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। এসব খাবারের গায়ে চমকপ্রদ কিছু লেখা আর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে স্বাভাবিকভাবেই একজন ডায়াবেটিস রোগীর খেতে মন চায়। অথচ ব্রিটিশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ডায়াবেটিক খাবারে বাড়তি তেমন উপকার কিছু নেই। এমন খাবার পরিহার করা উচিত।

    লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

     

  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কি কি করণীয়

    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কি কি করণীয়

    উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়। কারণ এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ব্রেন স্ট্রোক অথবা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একটু নিয়ম মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

     

     

    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কী করবেন

    প্যাকেটজাত খাবার খাবেন না: শুধু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য বাইরের খাবার খাওয়া কমিয়ে ফেলা উচিত। খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, মাংস, লবণ বাদ দিন। হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য এবং শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য শাক, কলা, অ্যাভোকাডো খান। এই খাবারগুলি আপনাকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

    ভেষজ খাবার খান: বহু বছর ধরে আয়ুর্বেদিক ভেষজ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমলকী, রসুন, অশ্বগন্ধা এবং মধু রাখুন। এসব খাবার রক্ত সঞ্চালন ভালো করে। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।

    ধূমপান এবং মদপান ত্যাগ করুন: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অবশ্যই ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে। প্রতিদিন এক চা চামচ জোয়ান আপনাকে অ্যালকোহল বর্জন করতে সাহায্য করবে।

    যোগব্যায়াম এবং ধ্যান করুন: উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ। প্রতিদিন সকালে যোগ ব্যায়াম এবং ধ্যান করার মাধ্যমে আপনি মানসিক চাপ কমাতে পারেন। মানসিক চাপ কমে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়বে। তাহলে হার্টের সমস্যাও থাকবে না।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। ঘুম যত ভালো হবে আপনার রক্তচাপ তত নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্বোহাইড্রেট খাবার অর্থাৎ ময়দা, চিনি, কেক, ভাত, সাদা পাউরুটি এড়িয়ে চলুন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন অন্ততপক্ষে আধ ঘন্টা শরীর চর্চা করুন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • দাবদাহ নিয়ে কোনো সুসংবাদ নেই আবহাওয়া অফিসের

    দাবদাহ নিয়ে কোনো সুসংবাদ নেই আবহাওয়া অফিসের

    যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা যায়।

    আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    খুলনা বিভাগসহ দিনাজপুর, নীলফামারী, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলাসমূহের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ বরিশাল বিভাগ এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মংলায় ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    বৃহস্পতিবার যেমন থাকবে আবহাওয়া: অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান তাপ প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে।

    আগামী শুক্রবার যেমন থাকবে আবহাওয়া: চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান তাপ প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

     

  • হিট স্ট্রোক এড়াতে যেসব পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ

    হিট স্ট্রোক এড়াতে যেসব পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ

    সারা দেশে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সব বয়সি মানুষের। ঘরের বাইরে বের হলেই গরমে ঘেমে অস্থির হচ্ছেন অনেকে। এতে শরীরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হওয়ার শঙ্কা থাকে।

    পাশাপাশি দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ স্ট্রোক এড়াতে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া উচিত নয় এমন পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল­াহ।

    শনিবার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, যারা দীর্ঘসময় রোদে থাকেন, তারাই মূলত হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন। মানবদেহে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। দীর্ঘ সময় গরমে থাকায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। এ অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হিট স্ট্রোক হয়। শিশু, নারী ও বয়স্কদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, হƒদরোগ ও ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে।

    শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে ১০৫-এর উপর উঠলে ঘাম হয় না, মাথা ব্যথা হয়, বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে, লাল র্যাশের মতো দেখা দেয়, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করে, ক্লান্তি ও অবসাদ হয়। এক সময় অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হয়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন অনেকে। এটি বিপজ্জনক। এটি খুবই মারাÍক, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা না দিলে রোগী মারাও যেতে পারে।

    হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে করণীয় সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল­াহ বলেন, গরমে খুব প্রয়োজন না হলে রোদে যাওয়া যাবে না। শ্রমিক যারা কাজ করেন তাদের কিছু সময় পরপর ছায়ার মধ্যে আসতে হবে। বিশ্রাম নিয়ে তারপর আবারও কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে ছাতা মাথায় কাজ করতে হবে। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল­াহ আরও বলেন, কেউ যদি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে যত দ্রুত সম্ভব ছায়াযুক্ত স্থানে নিতে হবে। এসি থাকলে চালু করে শুইয়ে রাখতে হবে। অথবা ফ্যানের বাতাস দিতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। বেশি বেশি পানি, ফলের জুস ও ডাবের পানি পান করাতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্রস্রাব বন্ধ, পালস কমে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে গেলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

    গরমে সবচেয়ে বড় সমস্যা পানিশূন্যতা। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ওরাল স্যালাইন খাওয়া ভালো। এছাড়া পানিতে লবণ মিশিয়েও খাওয়া যাবে। তবে রাস্তায় বিক্রি হওয়া লেবু পানি, আখের জুস খাওয়া যাবে না। অস্বাস্থ্যকর, বাসি খাবারও পরিহার করতে হবে।

    শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রথিতযশা এই চিকিৎসকের পরামর্শ হচ্ছে গরমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। তারা যেন রোদের মধ্যে অনেক বেশি দৌড়ঝাঁপ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সব বয়সির ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরিধান করতে হবে।

  • স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, স্বাস্থ্যখাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমি এবং প্রতিমন্ত্রী দুজনেই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশাটা বুঝি ও জানি। আমরা সেভাবেই কাজ এগিয়ে নিতে চাই যাতে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা পূরণ হয়।’
    সামন্ত লাল সেন আজ সোমবার সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সদ্য যোগদানকৃত ডা. রোকেয়া সুলতানার সাথে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যতটা কনসার্ণ ততটা কনসার্ণ আর কেউ সম্ভবত নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করতে অনেক কিছুই চিন্তা করেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একজন ডাক্তার থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও একজন পেশাদার ডাক্তারকেই দিলেন তিনি। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর মেসেজ একদম পরিস্কার। তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান উন্নতি করতে চান।

    সভায় সদ্য যোগদানকৃত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজনীতি করেছি কোন পদ পদবী পাওয়ার আশায় নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাকে এত বড় সম্মান দিয়েছেন দেশের মানুষের সেবা করার জন্য। ৩৩ বছর আমি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছি। স্বাস্থ্য খাতের মাঠ পর্যায় থেকে উপর পর্যন্ত আমার জানা আছে। চাকরি জীবনে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে ১৯৮০ সাল থেকে একসাথে কাজ করেছি। আশা করছি, আমরা একসাথে মিলে এবার স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারবো।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা আগামী ৮ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত বিডিএস (বাংলাদেশ ডেন্টাল সার্জন) ভর্তি পরীক্ষা সুচারুরূপে অনুষ্ঠানের বিষয়ে একটি প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন।
    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ সভাপতি মো: জামাল উদ্দিন চৌধুরি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    সূত্র: বাসস

  • অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতাল বন্ধে অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতাল বন্ধে অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতাল বন্ধে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন।
    আজ শনিবার ঢাকায় রেডিসন ব্লু হোটলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আয়োজিত ২৩তম ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রস এবং সায়েন্টিফিক সেমিনার ২০২৪ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু সেসব হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে, যা যা ক্রাইটেরিয়া দরকার সেগুলো মেনে যদি হাসপাতাল চলে কোন আপত্তি নেই। আমরা একটা সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি, যেন সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাই।

    তিনি বলেন, যেখানে সেখানে আইসিইউ খোলা যায় না। আইসিইউ খুলতে গেলে হার্টের রোগী রাখতে হলে সাপোর্টিং জিনিস লাগে। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করি। জীবন একটাই। আমরা যে অভিযান চালাচ্ছি তা চলবে, বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে আমিও যাবো।
    সামন্ত লাল সেন বলেন, অগ্নিকান্ড রোধে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থাকে সজাগ হতে হবে। সামান্য একটা ভুলের জন্য ৪৫টা প্রাণ চলে গেল। এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। আমি আশা করি এর বিরুদ্ধে অভিযান চলা উচিত ও চলবে।

    বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি প্রফেসর ডা. টিটু মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমসহ দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বেইলি রোডে অগ্নিকান্ডে আহত চিকিৎসাধীন রোগীদের সর্বশেষ অবস্থা বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, ১৭ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন ১১ জন রোগীর মধ্যে ৬ জনকে রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবশিষ্ট ৫ জন শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় চিকিৎসাধীন থাকবে বলে এ লক্ষ্যে গঠিত মেডিকেল বোর্ড মতামত দিয়েছে।

    সূত্র: বাসস

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব নেবেন ১ ফেব্রুয়ারি, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব নেবেন ১ ফেব্রুয়ারি, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা, অটিজম বিশেষজ্ঞ ও সুচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

    আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। আগামী মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য বর্তমান পরিচালক ড. পুনাম ক্ষেত্রপাল সিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। ২২ জানুয়ারি সোমবার রাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিচালক ড. পুনাম ক্ষেত্রপাল সিং আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করবেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৫৪তম এক্সেকিউটিভ ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপরই সায়মা ওয়াজেদ দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

    এর আগে গত ১ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক সম্মেলনে এ পদে নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি ৮-২ ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হন। সে সময় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার খবর জানান সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করায় আমি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যে অবদানের জন্য আমি বিদায়ি পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

    সায়মা ওয়াজেদ ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। তিনি ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম বিষয়ক প্রথম দক্ষিণ এশীয় সম্মেলন আয়োজন করেন। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক ২০১৪ সালে ডব্লিউএইচ ও অ্যাক্সিলেন্স পুরস্কারে ভূষিত হন।

    সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের এই সম্মানজনক অর্জনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বর্তমানে জেনেভায় অবস্থানরত মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সায়মা ওয়াজেদের এই দায়িত্বপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো কোনো বাংলাদেশির বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে এরকম দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পদে দায়িত্বপ্রাপ্তি ঘটল। এই প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • সকল লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    সকল লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এ নির্দেশ দেন তিনি।

    এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, শিশু আয়ানের মৃত্যুতে ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত হচ্ছে, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি ওই হাসপাতালে খাতনা করতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়।

    এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করি, তবে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। পাঁচ থেকে পাঁচশ বেডে (বার্ন ইউনিট) উন্নীত করতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। প্রথম প্রথম আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। আমাকে অনেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, এমনকি আমার ফাইল ছুড়ে মেরেছে- এ রকম ঘটনাও আছে। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরেছি। সবার সহযোগিতা পেয়েই এ জায়গায় এসেছি।

    ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমি চেষ্টা করব। ওটা করতে পারলে ঢাকা শহরে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। আমি প্রত্যেকটা হাসপাতালে যাব। কী কী সমস্যা আছে, জানব। তার পর আমি একটা কর্মপরিকল্পনা করব।

  • কিডনির সুরক্ষা, ৮ উপায়ে মিলবে

    কিডনির সুরক্ষা, ৮ উপায়ে মিলবে

    মানবদেহে সাধারণত এক জোড়া কিডনি থাকে। বড় কলাই আকৃতির কিডনি দুটি দৈর্ঘ্য ৯-১২ সেন্টিমিটার; প্রস্থে ৫-৬ সেন্টিমিটার ও ৩-৪ সেন্টিমিটার মোটা হয়। মেরুদণ্ডের দুই পাশে কোমরের একটু ওপরে এদের অবস্থান।

    এ ব্যাপারে প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। লক্ষণ যখন দেখা যায়, তখন কিডনি শতকরা ৭০ ভাগ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

    তিনি বলেন, দুটি সহজ পরীক্ষায় কিডনি রোগ নির্ণয় করা যায়। ১. মূত্র পরীক্ষায় আমিষের উপস্থিতি দেখা ও ২. রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়োটিনিনের মাত্রা দেখা।

    দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের কিছু লক্ষণ হলো— শরীর ফুলে যাওয়া, ক্লান্তিবোধ করা, মনোযোগহীনতা, ক্ষুধামান্দ্য ও ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হওয়া।

    কিডনির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যিনি কিডনির মেডিসিনবিষয়ক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তাকে আমরা নেফ্রোলজিস্ট বলি। আর কিডনির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যিনি কিডনির সার্জিক্যাল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তাকে বলি ইউরোলজিস্ট।

    কাদের সতর্ক হতে হবে

    ১. আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

    ২. উচ্চ রক্তচাপ

    ৩. স্থূলতা

    ৪. ধূমপানের অভ্যাস

    ৫. অধিক বয়স (৫০ বা তদূর্ধ্ব)

    ৬. পরিবারে কারও কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সতর্ক হতে হবে।

    সুরক্ষায় মেনে চলুন ৮ নিয়ম

    ১. নিজেকে সবল ও কর্মব্যস্ত রাখুন

    ২. রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন

    ৩. রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করুন

    ৪. সুষম খাদ্য খান এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখুন

    ৫. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন

    ৬. ধূমপান পরিহার করুন

    ৭. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকুন

    ৮. আপনি যদি কিডনি ঝুঁকিতে থাকেন, তা হলে এক বা একাধিক কিডনি রোগ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করুন

    কে আক্রান্ত হবেন?

    ১. পৃথিবীতে শতকরা ১০ জন মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন

    ২. কিডনি রোগ সব বয়সের এবং সব জাতিকে আক্রান্ত করতে পারে

    ৩. ৭৫ বছর বয়সের ৫০ শতাংশ মানুষ কমবেশি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় ভোগেন

    ৪. ৬৫-৭৫ বয়সের প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন পুরুষ এবং প্রতি চার জনের মধ্যে একজন নারী কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

    ৫. উচ্চ রক্তচাপ এবং বহুমূত্র রোগ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রধান কারণ

    আপনি কি ঝুঁকিতে আছেন? তা হলে দেখুন, আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ আছে? আপনি কি বহুমূত্র রোগে ভুগছেন? আপনার পরিবারের কারও কি কিডনি রোগ আছে? আপনার দৈহিক ওজন কি বেশি? আপনার কি জাতিগতভাবে আফ্রিকান, হিসপানিক বা এশিয়ান বংশধর?

    আপনার উত্তর এক বা একাধিক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক, যা আপনার সুস্থ জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত করে। এখানে কিছু সহজ উপায় বলা আছে, যা আপনাকে কিডনি রোগ থেকে রক্ষা করবে।

    কিডনি রোগ প্রতিরোধে করণীয়

    কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকল হয়ে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হচ্ছে। কিডনি বিকল রোগীর চিকিৎসা এত ব্যয়বহুল যে, এ দেশে শতকরা ৫ ভাগ লোকেরও দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। সাধারণত ৭০ ভাগ কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে রোগীরা বুঝতেই পারে না যে সে ঘাতকব্যাধিতে আক্রান্ত। এই ঘাতকব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় অঙ্কুরেই কিডনি রোগ নির্ণয় ও কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা।

    কিডনি বিকল প্রতিরোধের ১০ উপায়

    ১. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিস কিডনি বিকলের প্রধান কারণ

    ২. ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখা (HBAIC ৭ (সাত) এর নিচে)

    ৩. উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্ত রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে (১৩০/৮০এর নিচে)।

    ৪. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা ও প্রস্রাবে মাইক্রো অ্যালবুমিন প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা

    ৫. শিশুদের গলাব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোসপাঁচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত

    ৬. ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত, পানি ও লবণ শূন্য হয়ে

    কিডনি বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে

    ৭. ধূমপান বর্জন করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন

    ৮. চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথার ওষুধ সেবন না করা

    ৯. প্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে

    ১০. পাঁচ রঙের সবজি খাবেন, বেশি করে ফল খাবেন, চর্বিজাতীয় খাবার ও লবণ কম খাবেন ও পরিমিত পানি পান করবেন।

    সূত্র: ডক্টর টিভি

  • হেপাটাইটিস ভাইরাসের নানা ধরন ও করণীয়

    হেপাটাইটিস ভাইরাসের নানা ধরন ও করণীয়

    প্রতিবছর সারা বিশ্বে অসংখ্য মানুষ হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই-এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনেক লোক মারা পর্যন্ত যায়। অথচ আমরা সচেতন হলে এই ভয়াল ভাইরাস হেপাটাইটিস থেকে মুক্ত থাকতে পারি। তাই যে হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো আপনাকে আক্রান্ত করতে পারে বা মনের অজান্তে আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে তা সম্পর্কে জানা খুবই প্রয়োজন।

    হেপাটাইটিস-‘এ’
    এই ভাইরাসটি সাধারণত পানি ও খাবারবাহিত ভাইরাস। এই ভাইরাসে শৈশবেই সাধারণত হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন খাবারে অরুচি, বমি, চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হওয়া ইত্যাদি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে হওয়া হেপাটাইটিস তেমন চিকিৎসা ছাড়াই এক-দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। এরপরও প্রয়োজনে মনে করলে চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া উচিত। হেপাটাইটিস এই ভাইরাসের টিকা আছে। শিশুদের টিকা দিলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

    হেপাটাইটিস-‘বি’
    এটি একটি মারাত্মক ভাইরাস। এটি সাধারণত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়।তা ছাড়া একই ইনজেকশন সিরিঞ্জ অনেকে ব্যবহার করলে বা অনিরাপদ যৌনমিলনে এটা ছড়াতে পারে। এটা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই রকম সংক্রমণ ও প্রদাহ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ থেকে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হতে পারে। এ রোগের সর্বাধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। এ সমস্যায় আপনাকে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতে হবে। কু-চিকিৎসা নিলে অবস্থা খারাপ হবে। আশার কথা হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কার্যকর টিকা আছে, যা এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।
    হেপাটাইটিস-‘সি’
    এটিও একটি একটি মারাত্মক ভাইরাস ও একটি রক্তবাহিত রোগ। অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ মূলত এ রোগের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এই ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের ফলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারও হতে পারে। এই ভাইরাসের কোনো টিকা নেই।

    হেপাটাইটিস-‘ডি’
    কারও কারও ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ‘ডি’ সাধারণত হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের সঙ্গে হয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ হলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার। এই ভাইরাসের আলাদা কোনো টিকা নেই।

    হেপাটাইটিস-‘ই’
    এই ভাইরাস দূষিত পানি ও খাদ্যবাহিত। এতে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি সংক্রমণ হয়। তীব্র মাত্রার জন্ডিস হয়। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হতে পারে। গর্ভকালে হেপাটাইটিস ‘ই’ সংক্রমণ হলে অনেক সময় মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়।

    প্রতিরোধ ও সচেতনতা
    হেপাটাইটিস রোগ প্রতিরোধে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। যেখানে সেখানে বা বাইরের খাবার বা পানি খাওয়া যাবে না।
    সব ধরনের মাদক থেকে মুক্ত থাকতে হবে। নিরাপদ রক্ত নিতে হবে। অনিরাপদ যৌনমিলন এড়িয়ে চলতে হবে। ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নিতে হবে। যদি জন্ডিস হয় কবিরাজ, ঝাড়ফুঁক বা কু-চিকিৎসা পরিহার করে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিতে হবে।

    লেখক: অধ্যাপক ও ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আঞ্চলিক পরামর্শক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    চেম্বার: ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মিরপুর রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

    ধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নিল