Category: ব্যাংক

  • একীভূত প্রক্রিয়ায় পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

    একীভূত প্রক্রিয়ায় পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

    একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর আগেই দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগকারীদের এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।

    এর আগে, গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রতিটি ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে তাদের শেয়ারের মূল্য এখন শূন্য এবং শেয়ারধারীরা কোনো অর্থ পাবেন না।

    এই ঘোষণার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। আজ সকালে বিএসইসির লেনদেন স্থগিতের ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও অনেকেই মনে করছেন, সিদ্ধান্তটি অনেক দেরিতে এসেছে।

    বাজার–সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলো একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ই যদি বিএসইসি দ্রুত লেনদেন স্থগিত করত, তাহলে নতুন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়তেন না।

  • দ্বিতীয়বারের মতো হ্যাকড ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ

    দ্বিতীয়বারের মতো হ্যাকড ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ

    ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ দ্বিতীয়বারের মতো ফের হ্যাকড হয়েছে। এর আগে, গতকাল (৩ অক্টোবর)ভোরে ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ প্রথমবার হ্যাকড করে একটি পোস্ট দেয় হ্যাকার গ্রুপ। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে পেজের প্রোফাইল পরিবর্তন করে  পেজ হ্যাকডের বার্তা দেয় হ্যাকার গ্রুপ।

    এরপর হ্যাকার গ্রুপটি একটি পোস্টে লিখেছে, ‘হ্যালো, ডিয়ার ইসলামী ব্যাংক, সো কল্ড এক্সপার্ট।’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে একটি ইমোজি।

    আরেকটি পোস্টে লিখেছে, ‘পেজ হ্যাকড?’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে চিন্তার একটি ইমোজি।

    আরেকটি পোস্টে লিখেছে—

    picture-

    ‘হ্যালো, প্রিয় ম্যাংগো পিপল,
    আমরা আবারও প্রবেশাধিকার পেয়েছি, কারণ অনেক তথাকথিত বিশেষজ্ঞ দাবি করে যে, যদি তারা আপনার বিজনেস ম্যানেজার ভেরিফাই করে দেয়, তাহলে আপনার সিস্টেম কখনোই হ্যাক হবে না।
    তাদের আমরা বলি: যেসব বিজনেস ম্যানেজার আমরা নিয়ন্ত্রণে নিই, সেগুলো আগেই ভেরিফাই করা থাকে। আমরা সিস্টেম ভাঙি না, আমরা সিস্টেম তৈরি করি। আর সবাই এটা মনে রাখবেন।
    অনলাইনে কেউই আসলে নিরাপদ নয়। যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিজনেস ম্যানেজার ভেরিফাই করানোর পরামর্শ দিচ্ছে, তারাই নিজেরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।
    তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের কাছে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন না। নিজের সিস্টেম নিজেরাই সুরক্ষিত করুন।
    আর আমাদের নাম মনে রাখুন—MS 470X। আমরা কাউকে ক্ষতি করতে আসিনি; আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ও মানুষকে সুরক্ষা দিতে এসেছি।
    আমরা সবকিছু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি। কখনোই নিজেকে ১০০% নিরাপদ মনে করবেন না। কারণ, সবসময় আপনার চেয়ে বুদ্ধিমান কেউ না কেউ থাকে।
    যদি কখনও বিশেষ কিছুতে প্রবেশাধিকার পান, সেটির অপব্যবহার করবেন না।
    লল, মাই ফ্রেন্ড জুকার।’

    এর আগে, শুক্রবার ভোরে ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ প্রথমবার হ্যাকড করলেও ১২ ঘণ্টা পর নিজেদের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ইসলামী ব্যাংক। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে পেজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় ব্যাংকটির জনসংযোগ বিভাগ। এর কয়েক ঘণ্টা পার না হতেই আবার হ্যাকারদের কবলে পড়লো ব্যাংকটির ফেসবুক পেজ।

     

  • প্রাইম ব্যাংকে চালু হলো প্রথমবারের মতো ফি ছাড়া ক্রেডিট কার্ড

    প্রাইম ব্যাংকে চালু হলো প্রথমবারের মতো ফি ছাড়া ক্রেডিট কার্ড

    বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক দেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ফি ছাড়া ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত প্রাইম টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ নামের এই ক্রেডিট কার্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাইম ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, প্রাইম ব্যাংকের কনজিউমার ব্যাংকিং বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এম নাজিম এ চৌধুরী এবং ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার সব্বির আহমেদ কার্ডটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ ক্রেডিট কার্ডটি হলো একটি ভিসা সিগনেচার কার্ড, যা কোনো রকম ইস্যু ফি, বার্ষিক ফি, রিনিউয়াল বা নবায়ন ফি, ইএমআই প্রসেসিং ফি, এমএফএস ট্রান্সফার ফি কিংবা গোপন কোনো চার্জ ছাড়াই গ্রাহকদের জন্য প্রিমিয়াম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। দেশের ক্রেডিট কার্ডের বাজারে এটি এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। এই কার্ডে কোনো ধরনের ফি থাকছে না।

    এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে কার্ডটিতে একটি খাঁজ তথা ব্লাইন্ড নোচ রাখা হয়েছে, যা এটিকে সবার জন্য সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, গ্রাহকবান্ধব সুবিধা ও স্বচ্ছ ফি কাঠামোর সমন্বয়ে ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ দেশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের নতুন এক অভিজ্ঞতা দেবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রাহকেরা ওয়েবসাইটে অথবা নিকটস্থ যেকোনো প্রাইম ব্যাংক শাখায় গিয়ে সহজেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভিসার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং প্রাইম ব্যাংকের বিশ্বস্ত সেবার সমন্বয়ে ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ড শিল্পে এক নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছে।

    প্রাইম ব্যাংক দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। গতকাল সোমবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই ব্যাংকের ১০ টাকা ফেস ভ্যালু বা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ২৯ টাকায় কেনাবেচা হয়।

     

    সুত্রঃ প্রথম আলো

     

  • কাল চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা

    কাল চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা

    রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নিম্ন প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

     

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় ‘জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫’ সময়ের মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট (এমপিএস) প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অনুষ্ঠানে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

     

    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য রাখতে প্রতি বছর দুই দফায় মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক সম্পদের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

     

    তবে এবারের মুদ্রানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‌‌‌নিয়মরক্ষার মুদ্রানীতি ঘোষণা করছে। এতে নীতি সুদহার ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের হার আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।

     

    রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের মাঝে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত সুদের হার কমানোর সুযোগ নেই।

     

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.৪ শতাংশে— যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯.৮ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে ঋণপ্রবাহে আগের ধারা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বাড়বে ৪.৯ শতাংশ এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরে পৌঁছাবে ৫.৭ শতাংশে।

     

    মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৮.৪৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯.০৫ শতাংশ।

     

    অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করছে।

     

    চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার কোটি টাকা।

     

  • পোশাক সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    পোশাক সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    কর্মক্ষেত্রে পোশাক পরিধান নিয়ে আলোচনা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং কোনও সার্কুলারও জারি করেনি বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি একটি অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি খসড়া নির্দেশনাকে ‘পরামর্শমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়সের তারতম্যের কারণে পোশাকের রুচি ও বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়, যা নারী-নারী ও পুরুষ-পুরুষ সহকর্মীদের মাঝে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পেশাদার পরিবেশ গড়ে তুলতেই একটি পরামর্শমূলক সার্কুলার খসড়া আকারে তৈরি হয়েছিল, যাতে কারুকার্যপূর্ণ পোশাক নিরুৎসাহিত করা হয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী সহকর্মীদের বোরকা বা হিজাব পরিধানে কোনও বাধ্যবাধকতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। সার্কুলারটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল যাতে কারও পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিষয়টি এখনও নীতিগতভাবে অনুমোদিত নয় এবং এই সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত সার্কুলার জারি হয়নি। শুধুমাত্র বিভাগীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং তা থেকে সাময়িকভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নির্দেশ দেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করতে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী এই পোশাকবিধি সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ (বেনিফিটস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইং) থেকে অনুষ্ঠিত একটি মাসিক বিভাগীয় সভার কার্যবিবরণীতে পোশাকসহ আচরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং দাফতরিক শিষ্টাচার বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শমূলক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় নারী কর্মীদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না এবং পুরুষদের জন্য ফরমাল শার্ট-প্যান্ট নির্ধারণ, লেগিংস, শর্ট স্লিভ ড্রেস, জিনস ও গ্যাবার্ডিন পরিহার সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দাফতরিক শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি অনুসরণ, সময়ানুবর্তিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে, সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে পেশাদার ও মার্জিত পোশাক পরার বিষয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

     

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংক

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বর্তমানে ৩১.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) পদ্ধতি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২৬.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্র বাসস

     

  • ব্যাংক হলিডে মঙ্গলবার, বন্ধ থাকবে লেনদেন

    ব্যাংক হলিডে মঙ্গলবার, বন্ধ থাকবে লেনদেন

    আগামীকাল মঙ্গলবার (১ জুলাই) ব্যাংক হলিডে উপলক্ষ্যে কাল ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাক‌বে। এ দিন বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর ১ জুলাই দেশের ব্যাংকখাতে ‘অর্ধবার্ষিক সমাপনী’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় ব্যাংকগুলো ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এই কাজের সুবিধার্থে দিনটি ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়।

    ব্যাংক হলিডে কেন হয়?

    বছরের মাঝপথে অর্থাৎ ১ জুলাই ব্যাংকগুলো তাদের বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা যেন নির্বিঘ্নে অভ্যন্তরীণ হিসাব ও প্রশাসনিক কাজ করতে পারেন, তাই এদিন গ্রাহকদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকে।

    এদিন ব্যাংকের কোনো শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। বন্ধ থাকবে চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে অর্ডার, এটিএম ট্রানজেকশন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক লেনদেনসহ যাবতীয় কার্যক্রম।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব অফিসে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কার্যক্রম চলবে।

    এদিকে, ব্যাংক হলিডের কারণে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এও লেনদেন হবে না। কেননা শেয়ারবাজারের প্রায় সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাজারের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।

     

  • এনবিআর কর্মকর্তারা শাটডাউন কর্মসূচি করতে চাইলে করুক: অর্থ উপদেষ্টা

    এনবিআর কর্মকর্তারা শাটডাউন কর্মসূচি করতে চাইলে করুক: অর্থ উপদেষ্টা

    এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আন্দোলনকারী এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক না করার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    পহেলা জুলাই বিকেল ৪টায় তাদের সাথে যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেটাও হবে কি না তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।

    রোববার (২৯ জুন) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষ করে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, এনবিআর কর্মকর্তারা শাটডাউন কর্মসূচি করতে চাইলে করুক।

    তিনি বলেন, এনবিআর-এর কর্মকর্তাদের আন্দোলনের বিষয় নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেস রিলেজ দিয়ে পরে জানানো হবে।

    আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার আজ কোনো বৈঠক হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

     

  • বিনিয়োগকারীবান্ধব নতুন ওয়েবসাইট চালু করলো বিডা

    বিনিয়োগকারীবান্ধব নতুন ওয়েবসাইট চালু করলো বিডা

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নতুন ডিজাইনের ওয়েবসাইট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এ প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিকাঠামোকে আরো সুগম করতে এবং বিনিয়োগকারীদের এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
    নতুন প্ল্যাটফর্মে বিডা’র ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) হিটম্যাপে চিহ্নিত বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্ধারিত ফোকাল পয়েন্টদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। বিডা’র লোগোটিও নতুনভাবে রূপায়ণ করা হয়েছে।
    বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন,  বিডা’র পুরোনো  ওয়েবসাইটটি সাধারণ সরকারি পোর্টালের মতো ছিল। এটি সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ সহায়তা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিল না। নতুন প্ল্যাটফর্ম স্পষ্টতা এবং কৌশলগত সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে নির্মিত একটি বিনিয়োগকারীবান্ধব সেবা মডেলের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের অবহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনের অঙ্গীকার সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পান।
    বিডা’র হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নাহিয়ান রহমান রচি বলেন,  আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কোনো দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই দেশের বিনিয়োগ সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাত মুল্যায়ন ও শর্টলিস্ট করে থাকেন। তাই এ প্ল্যাটফর্মগুলো বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য প্রদান, বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং দেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাসমূহ তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারী একটি দেশ নিয়ে আগ্রহ দেখাবেন, নাকি অন্য বিকল্প বিবেচনা করবেন তা নির্ভর করে সেদেশের ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর।
    এ কারণেই বিডার নতুন ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করা হয়েছে বিনিয়োগকারীদের যাত্রার বিভিন্ন স্তরকে বিবেচনায় রেখে-যেখানে একজন বিনিয়োগকারী সুযোগ খোঁজা, বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা এবং সর্বশেষে সফল বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত দেশের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।
  • তাহলে কি থেমে গেছে ব্যাংকারদের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ?

    তাহলে কি থেমে গেছে ব্যাংকারদের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ?

    ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারী, পরিচালক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কোন কারণে বন্ধ হয়েছে এই উদ্যোগ?

    ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারী, পরিচালক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য এই হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ব্যাংকার্স ফাউন্ডেশনে ৬৮ কোটি টাকা জমা হলেও গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকারদের জন্য হাসপাতাল তৈরির বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা অর্থায়নে সম্মতিও দিয়েছিলেন। এ জন্য গঠন করা হয় ব্যাংকার্স ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

    তবে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা একরকম জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবার ব্যাংক উদ্যোক্তারা এটার বিরোধিতা করেছিলেন। মনে হয় না, এই হাসপাতাল হবে। যারা টাকা জমা দিয়েছে, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। ব্যাংকারদের হাসপাতাল ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয়।”