Category: ব্যাংক

  • নতুন নোট দেখতে কেমন, থাকছে যেসব বৈশিষ্ট্য

    নতুন নোট দেখতে কেমন, থাকছে যেসব বৈশিষ্ট্য

    অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়ার কিছু দিন পর থেকেই শোনা যেতে থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছাড়া নতুন নোট চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়ও শোনা গিয়েছিলো যে, নতুন নোট ছাড়া হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠেনি। অবশেষ অপেক্ষার পালা শেষে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নতুন নোটের নকশার ছবি প্রকাশ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ১ জুন থেকেই বাজারে এ নতুন নোটগুলো ছাড়া হবে। এসব নোটের সঙ্গে বর্তমানে বাজারে ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার যেসব নোট আছে তা আগের মতোই চালু থাকবে।

    এসব নোট প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য কার্যালয় থেকে ছাড়া হবে। এসব নোটের ডিজাইন ও প্রতীকে আসছে পরিবর্তন। এসব নোটে থাকছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যের ছবি।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’- শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের সব মূল্যমানের (১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা) নতুন নোট মুদ্রণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকা ব্যাংক নোট আগামী ১ জুন থেকে প্রথমবারের মতো বাজারে প্রচলন করা হবে।

    ১০০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত ১০০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ মিমি x ৭০ মিমি। নোটটি ১০০ শতাংশ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর মুখ’, ‘1000’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে বেগুনি রঙের আধিক্য রয়েছে।

    নোটের সম্মুখভাগে বামপাশে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার এর ছবি ও মাঝখানে ‘প্রতিশ্রুত বাক্য’ (Guarantee clause) ও মূল্যমান (এক হাজার টাকা) মুদ্রিত রয়েছে। নোটের মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি মুদ্রিত রয়েছে।

    এছাড়া, নোটের উপরে বামদিকে নোটের মূল্যমান ‘১০০০’, ডানকোণে ‘1000′ ও নিচে ডানকোণে ‘৳১০০০’ মুদ্রিত রয়েছে। নোটের পেছনভাগের ডিজাইন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা এর ছবি মুদ্রিত রয়েছে। নোটের উপরে বামকোণে মূল্যমান ‘১০০০’ ও ডানকোণে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং নিচে ডানকোণ এবং বামকোণে মূল্যমান ‘1000′ মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া, নোটের ডানপাশে উলম্বভাবে 1000′ মুদ্রিত রয়েছে।

    নোটটিতে মোট ১৩ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। নোটটির সম্মুখভাগে বামপাশে ৫ মিমি চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে যাতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ এবং ‘১০০০ টাকা খচিত রয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া (Tilt) করলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম অংশের নিরাপত্তা সুতার রং লাল হতে সবুজ রংয়ে পরিবর্তিত হয় এবং ‘১০০০ টাকা’ অংশে একটি উজ্জ্বল রংধনু বার (Bar) উপর থেকে নিচে ওঠানামা করে।

    এছাড়া নোটের ডানদিকে কোণায় মুদ্রিত মূল্যমান ‘1000’ রং পরিবর্তনশীল উন্নতমানের নিরাপত্তা কালি (OVMI) দ্বারা মুদ্রিত; যাতে নোটটি নাড়াচাড়া করলে এর রং ম্যাজেন্টা থেকে সবুজ রংয়ে পরিবর্তিত হয় এবং মূল্যমানের ভেতরে কোনাকুনিভাবে মুদ্রিত ‘১০০০’ লেখাটি দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি, নোটের সম্মুখভাগের পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলা UV fluorescence (Magenta) ink দ্বারা মুদ্রিত যা UV detector মেশিন দ্বারা দৃষ্টিগোচর হয়।

    নোটটিতে গভর্নর স্বাক্ষরের ডানপাশে See Through image হিসেবে একটি প্যাটার্ন মুদ্রিত রয়েছে; যা আলোর বিপরীতে ধরলে ‘১০০০’ লেখা দৃশ্যমান হবে। এছাড়া, নোটের সম্মুখভাগের বামদিকে ‘BANGLADESH BANK’ লেখার নিচে Microprint হিসেবে উলম্বভাবে ‘BANGLADESH BANK’ মুদ্রিত রয়েছে। পাশাপাশি নোটের পেছনভাগে বামদিকের উপরে ‘১০০০’ এবং নিচে ‘1000′ লেখার ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘BANGLADESH BANK এবং এর নিচে ‘ONE THOUSAND TAKA’ পুনঃপুন মুদ্রিত রয়েছে; যা শুধু Magnifying Glass দ্বারা দেখা যাবে।

    ব্যাংক নোটটিতে অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে অসমতল ছাপা (সম্মুখভাগে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখা, গ্যারান্টি ক্লজ, বাংলা ও ইংরেজি মূল্যমান, আড়াআড়িভাবে ৬টি সমান্তরাল লাইন, পেছনভাগে জাতীয় সংসদ ভবন এর ছবি, “BANGLADESH BANK’, ‘ONE THOUSAND TAKA’ লেখা ইত্যাদি ইন্টাগ্লিও কালিতে মুদ্রিত), লুকানো ছাপা (সম্মুখভাগের নিচে মূল্যমান 1000), Iridescent Stripe (পেছনভাগে উলম্বভাবে হালকা সোনালি রংয়ে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা) দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে ৬টি বৃত্ত রয়েছে।

    ৫০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত ৫০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ মিমি x ৬০ মিমি। নোটটি ১০০ শতাংশ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর মুখ, ‘50′ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। নোটটিতে গাঢ় বাদামি রঙের আধিক্য রয়েছে।

    ব্যাংক নোটটির সম্মুখভাগের বামপাশে আহসান মঞ্জিল, ঢাকা এর ছবি এবং মাঝখানে ‘প্রতিশ্রুত বাক্য’ (Guarantee clause) ও মূল্যমান (পঞ্চাশ টাকা) মুদ্রিত রয়েছে। নোটের মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলা’র ছবি মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া, নোটের উপরে বামদিকে মূল্যমান ‘৫, ডানকোণে ‘50’ও নিচে ডানকোণে ‘৳৫০’ মুদ্রিত রয়েছে।

    নোটের পেছনভাগে জলছাপ এলাকার ডানপাশে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’ মুদ্রিত রয়েছে। নোটের উপরে বামকোণে মূল্যমান ‘৫০’ ও ডানকোণে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং নিচে ডানকোণ এবং বামকোণে মূল্যমান ‘50′ মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া, নোটের ডানপাশে উলম্বভাবে ‘50′ মুদ্রিত রয়েছে।

    নোটটিতে মোট ৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। নোটটির সম্মুখভাগে বামপাশে ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে যাতে ‘৫০ পঞ্চাশ টাকা’ খচিত রয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া (Tilt) করলে নিরাপত্তা সুতার রং লাল হতে সবুজ রংয়ে পরিবর্তিত হয়।

    নোটটিতে গভর্নর স্বাক্ষরের ডানপাশে See Through image হিসেবে একটি প্যাটার্ন মুদ্রিত রয়েছে; যা আলোর বিপরীতে ধরলে ‘৫’ লেখা দৃশ্যমান হবে।
    এছাড়া নোটের সম্মুখভাগে আহসান মঞ্জিল, ঢাকা-লেখাটির উভয়পাশে Microprint হিসেবে ‘BANGLADESH BANK এবং পেছনভাগের বামদিকের উপরে ‘৫০’ ও নিচে ‘50′ লেখার ব্যাকগ্রাউন্ডে Microprint হিসেবে যথাক্রমে ‘50 TAKA’ এবং ‘BANGLADESH BANK’ মুদ্রিত রয়েছে।

    ব্যাংক নোটটিতে অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে অসমতল ছাপা (সম্মুখভাগের আহসান মঞ্জিল এর ছবি, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্যারান্টি ক্লজ, বাংলা ও ইংরেজিতে মূল্যমান, আড়াআড়িভাবে ৬টি সমান্তরাল লাইন ইত্যাদি ইন্টাগ্লিও কালিতে মুদ্রিত), লুকানো ছাপা (সম্মুখভাগের নিচে মূল্যমান 50), দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে ২টি বৃত্ত রয়েছে।

    ২০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত ২০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ মিমি x ৬০ মিমি। নোটটি ১০০ শতাংশ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর মুখ’, ’20’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে সবুজ রঙের আধিক্য রয়েছে।

    ব্যাংক নোটটির সম্মুখভাগের বামপাশে ঐতিহাসিক স্থাপনা কান্তজিউ মন্দির, দিনাজপুর এর ছবি এবং নোটের মাঝখানে ‘প্রতিশ্রুত বাক্য (Guarantee clause) ও মূল্যমান (বিশ টাকা) মুদ্রিত রয়েছে। নোটের মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলা’র ছবি মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া, নোটের উপরে বামদিকে মূল্যমান ‘২০’, ডানকোণে ‘20’ ও নিচে ডানকোণে ‘৳২০’ মুদ্রিত রয়েছে।

    জাতীয় বাজেট ঘোষণা ২ জুনজাতীয় বাজেট ঘোষণা ২ জুন
    নোটের পেছন ভাগে জলছাপ এলাকার ডানপাশে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, নওগাঁ এর ছবি মুদ্রিত রয়েছে। নোটের উপরে বামকোণে মূল্যমান ‘২০’ ও ডানকোণে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ এবং নিচে ডানকোণে মূল্যমান ‘20’ মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া, নোটের ডানপাশে উলম্বভাবে ‘20’ মুদ্রিত রয়েছে।

    নোটটিতে মোট ৫ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। নোটটির সম্মুখভাগে বামপাশে ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে যাতে ‘৳২০ বিশ টাকা’ খচিত রয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া (Tilt) করলে নিরাপত্তা সুতার রং লাল হতে সবুজ রংয়ে পরিবর্তিত হয়।

    নোটটিতে গভর্নর স্বাক্ষরের ডানপাশে See Through image হিসেবে একটি প্যাটার্ন মুদ্রিত রয়েছে; যা আলোর বিপরীতে ধরলে ‘২০’ লেখা দৃশ্যমান হবে। এছাড়া, নোটের সম্মুখভাগের ডানদিকে এবং পেছন ভাগের বামদিকের গ্লিউইশ প্যাটার্নের ভিতরের অংশে Microprint হিসেবে উলম্বভাবে ‘BANGLADESH BANK’ মুদ্রিত রয়েছে।

  • নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা হচ্ছে আজ

    নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা হচ্ছে আজ

    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় ব্যাংকের প্রধান ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউয়ের প্রধান, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্ররা।

    রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ এমপিএস ঘোষণা করবেন।

    এতে আরো বলা হয়, গভর্নর মুদ্রাস্ফীতি ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করার ক্ষেত্রে বর্তমান এমপিএসর ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন। ডেপুটি গভর্নররা, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটর (বিএফআইইউ) প্রধান, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    জানা গেছে, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায়ও বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। মূলত মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে আসা এবং রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল থাকায় এমন নীতি ঘোষণা হচ্ছে।

    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল করা এবং রিজার্ভ বাড়ানোকে প্রধান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় গত বছরের ১৮ জুলাই চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংবাদ সম্মেলন না করে কেবল ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্র দেয়া হয়।

    নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ধারে ব্যবহৃত রোপোর সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। তিন দফায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট করে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে করে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার বেড়ে এখন ১৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এরপরও মূল্যস্ফীতি না কমায় আরেক দফা নীতি সুদহার বাড়ানোর আলোচনা ছিল।

    তবে সর্বশেষ হিসাবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। এ কারণে আপাতত নীতি সুদহার বাড়ানো হবে না। অবশ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিবেচনায় সুদহার না বাড়িয়ে বরং কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতিতে বড় কোনো স্বস্তি ফেরানো গেছে, তেমন নয়। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক যে অবনতি হচ্ছিল, তা ঠেকানো গেছে। বিশেষ করে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির কারণে আগের মতো আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে না। বরং দীর্ঘদিন ধরে তা ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল আছে। বর্তমানে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে।

    বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার আগে গত জুলাই শেষে যা ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছিল; ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে যা ওই পর্যায়ে নেমেছিল। এর মধ্যে ৩৩০ কোটি ডলারের আগের বকেয়া পরিশোধের পরও রিজার্ভ একই জায়গায় থাকাকে আপাতত স্বস্তি বিবেচনা করা হচ্ছে। আবার ডলারের দর ১২২ থেকে ১২৪ টাকায় স্থিতিশীল আছে। এর মধ্যে বছরের প্রথম মাস গত জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে নেমেছে। আগের মাস শেষে যা ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

  • এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সব লকার ফ্রিজ

    এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সব লকার ফ্রিজ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মহানিরাপত্তা এলাকার কয়েন ভল্টে অর্থ-সম্পদ জমা রাখার ব্যক্তিগত সব লকার ফ্রিজ করা হয়েছে। ওই সব বিশেষ লকারে গোপনে অপ্রদর্শিত বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ জমা রয়েছে বলে মনে করছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এ লকারগুলো। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ লকারে রেখেছেন, যা দুদক আইন পরিপন্থি।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনোভাবেই যাতে লকার থেকে অর্থ-সম্পদ সরিয়ে নিতে না পারেন, সে জন্য সব লকার ফ্রিজ করার অনুরোধ জানিয়ে গত রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদক পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান।
    ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুদকের কার্যক্রম ও সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থ উপদেষ্টা ভল্টে রক্ষিত লকারের সম্পদ ফ্রিজের সম্মতি দিয়েছেন।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গভর্নরকে দেওয়া দুদকের চিঠি ও অর্থ উপদেষ্টার সম্মতি থাকায় ভল্টের সব লকারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে এর মালিকরা তাদের লকার থেকে কোনো ধরনের অর্থ-সম্পদ সরিয়ে নিতে পারবেন না।
    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সব লকার খোলা ও লকারে থাকা অর্থ-সম্পদের তালিকা তৈরির অনুমতির জন্য গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে দুদক। বিকেলে আবেদনটি জমা দেওয়ায় গতকালই এ-সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
    আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ওই সব লকার খোলা, অর্থ-সম্পদ গণনা ও তালিকা তৈরির জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করার জন্য দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জমা দেবে দুদক।
    জানা গেছে, দুদক পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওই সব বিশেষ লকারের সম্পদ অনুসন্ধান করছে। ওই দল গত ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর (এস কে সুর) ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে আলমারির নিচে বিশেষ কায়দায় রাখা নগদ ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে। ওই অভিযান থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা লকারগুলোর সন্ধান মেলে। পরে এস কে সুরের লকার খুলে দেশি-বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়, যা তাঁর নিয়মিত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি।
    দুদকের চিঠিতে আরও বলা হয়, তল্লাশিকালে লকার-সংক্রান্ত রেজিস্টার পরীক্ষা করে দেখা যায় সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সিলগালা লকার পাওয়া যায়। ওই সব লকারের ভেতর সিলগালা কোটায় অপ্রদর্শিত সম্পদ থাকার অবকাশ রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভল্টে রক্ষিত কর্মকর্তাদের বিশেষ লকার খুলে রক্ষিত মালামাল যাতে কেউ নিতে না পারে, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। সুত্র: সমকাল
  • ১১ দিনে এলো ৮৯৮৬ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

    ১১ দিনে এলো ৮৯৮৬ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

    নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ১১ দিনে ৭৩ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ৮ হাজার ৯৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন আসছে ৮১৬ কোটি টাকার বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারি মাসের প্রথম ১১ দিনে এসেছে ৭৩ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। এভাবে রেমিট্যান্স আসার গতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাসেও দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আলোচিত সময়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২০ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৫০ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৫ লাখ ডলারের বেশি।

    তথ্য বলছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বরে) এক হাজার ৩৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি ।
    গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৮০ কোটি ডলার।

  • এবার রিজার্ভ বাড়াতে গিয়ে চাপে ডলার বাজার

    এবার রিজার্ভ বাড়াতে গিয়ে চাপে ডলার বাজার

    আইএমএফের শর্ত পরিপালনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কিনছে ডলার। এর প্রভাবে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা ডলারের দর বাড়ছে। বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে এখন ১২৫ টাকা ৪০ পয়সা দরে ডলার কিনছে কোনো কোনো ব্যাংক।

    অবশ্য বাজার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেনার পাশাপাশি রমজান সামনে রেখে আমদানি বৃদ্ধিও ডলারের দর বৃদ্ধির একটি কারণ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে ডলারের বাড়তি দর মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।

    ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, আইএমএফের শর্ত মেনে চলতি ডিসেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে উদ্বৃত্ত ডলার কেনা হচ্ছে।

    আবার রমজান সামনে রেখে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলসি খোলায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে। এ সময় ডলারের দর আরও বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে চাপ বাড়তে পারে। যে কারণে ডলারের দরে খুব একটা ওঠানামা হোক, তা চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ডলার দরে ওঠানামা না থাকায় প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বেচাকেনায় নিলাম পদ্ধতি চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে নানা কঠোরতা আরোপের কারণে হুন্ডি অনেক কমেছে। যে কারণে চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্সে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আবার রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনার পাশাপাশি আগের অনেক দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ ডিসেম্বর আইএমএফের বিপিএম৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। গত ১১ ডিসেম্বর যা ছিল ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) দেড় বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর গত ১১ নভেম্বর রিজার্ভ নেমেছিল ১৮ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে। বিগত সরকারের শেষ দিকে প্রতি মাসে গড়ে ১৩০ কোটি ডলার করে রিজার্ভ কমছিল।

    বিপিএম৬ থেকে আগামী একবছরের দায় বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভের হিসাব হয়। বর্তমানে নিট রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলারের কম রয়েছে। ফলে আইএমএফ নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রস রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক দিন ধরে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি হচ্ছে না। উল্টো বাজার থেকে কেনা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে চাপে ফেলে ডলার কিনছে, তেমন নয়। যেসব ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত ডলার রয়েছে, তারাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন সবচেয়ে নিরাপদ। যে কারণে কোনো কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি না করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে করছে। আবার এখন রিজার্ভ বাড়ানো দরকার বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা সমকালকে বলেন, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ডলারের দর সামান্য বেড়ে থাকতে পারে।

    বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, রমজানকে সামনে রেখে এখন বড় অনেক এলসি হচ্ছে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইছে আগের বকেয়া যেন না থাকে। এসব কারণে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

    এর বাইরে এখন বড় এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রবাসীদের সব ডলার কিনে ফেলছে। তারা বাড়তি দর চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু করার থাকছে না। আগে ছোট ছোট এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে দর কষাকষি করা সহজ ছিল। চাহিদা বাড়লেই ডলারের দর বৃদ্ধিওর এটিও এখন একটি কারণ।

    আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্তের অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি টিম এখন ঢাকা সফর করছে। আজ বুধবার এই টিমের বৈঠক শেষ হচ্ছে। জানা গেছে, সংস্থার প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ডলারের দর ১২০ টাকায় স্থিতিশীল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ডলার দর আরও কীভাবে বাজারভিত্তিক করা যায়, সে পরামর্শ দিয়েছে।

    তারা চায় এমন একটি ব্যবস্থা করা হোক যেন ডলারের দর ওঠানামা করে। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে এখন ডলারের দর স্থিতিশীল আছে। এর পরও আরও বাজারভিত্তিক করার জন্য নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ডলার বেচাকেনায় নিলাম পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি।

    জানা গেছে, বেসরকারি একটি ব্যাংক গত ১৫ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের লুলু ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ১২৫ টাকা ৪০ পয়সা দরে ডলার কিনেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশির ভাগ এক্সচেঞ্জ হাউসের দর ছিল এ রকমই। অন্য দেশের এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো এখন ডলার কিনছে ১২৪ টাকায়। যদিও ‘ক্রলিং পেগ’র বিদ্যমান নিয়মে একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় ডলার বেচাকেনা করতে পারে।

    এদিকে খোলাবাজারেও ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকায় উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে যা ১২৩ থেকে ১২৪ টাকা ছিল। অবশ্য বাড়তি দর প্রবাসীরা পাচ্ছেন না। চাহিদা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো এভাবে দর বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার সংকটে থাকা অনেক ব্যাংক ডলার পেতে বাড়তি দর অফার করছে।

    দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ উঠেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। তখন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে করোনা-পরবর্তী অর্থনীতিতে বাড়তি চাহিদা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় ডলার বিক্রি করলেও দর ঠেকানো যায়নি।

    আবার অনেক ধরনের বকেয়া পরিশোধ না করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে ওই সময়ে ডলার বিক্রি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে রিজার্ভ থেকে আপাতত কোনো ডলার বিক্রি করছে না। যে কারণে রিজার্ভ বাড়ছে।

  • এবার ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়ল

    এবার ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়ল

    ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়িয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুদ ২৫ শতাংশ নিতে পারবে। এতদিন এ সর্বোচ্চ সুদের সীমা ছিল ২০ শতাংশ।

    রোববার (০১ ডিসেম্বর) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। নতুন এই নির্দেশনা ২০২৫ সালের ০১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    নির্দেশনায় বলা হয়, ক্রেডিট কার্ড সীমার বিপরীতে ঋণ সুবিধা প্রদানসহ সুদহার যৌক্তিক এবং গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণে ক্রেডিট কার্ডের ওপর সুদহার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নির্ধারণের নির্দেশনা আছে। তবে সুষ্ঠু ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এবং নীতি সুদহার ও ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান তহবিল ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ডের ওপর সুদহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। ব্যাংকগুলোর ঋণের চাহিদা ও ঋণযোগ্য তহবিলের জোগানসাপেক্ষে এ সীমার মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণ করবে।

    এতে আরও বলা হয়, ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো তাদের প্রদত্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করত মুনাফার হার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ২৯(২)(চ) ও ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হলো, যা আগামী ১ জানুয়ারি হতে কার্যকর হবে।

    জানা গেছে, সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদহার সীমা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করল।

  • ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে পড়েছে’ বলেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি

    ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে পড়েছে’ বলেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি

    শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বলেছ, আগের সরকারের আমলে কিছু প্রবৃদ্ধি হলেও, তা যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, আসলে পুরো বিষয়টি তেমন ছিল না। খসড়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কৌশলগুলোরও সমালোচনা করা হয়েছে।

    রোববার (০১ নভেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বেতপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    অর্থনীতির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, পুঁজি-নিবিড় ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি) এবং ভারী শিল্প (যেমন ইস্পাত, সিমেন্ট) উন্নয়নের নীতি এবং ‘উন্নয়নের মানদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত বড় বড় প্রকল্পগুলোর (যেমন : জ্বালানি ও পরিবহন খাতে মেগা প্রকল্প) নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং কৃষক অথবা শহরগুলোকে বাসযোগ্য করে তোলার বা সাধারণভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর বিনিয়োগের গুরুত্বকে পাশ কাটিয়ে গেছে।

    এতে বলা হয়েছে, কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার দৃঢ় সংকল্পের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার এসব উন্নয়ন কৌশলের ভবিষ্যৎ পরিণাম সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেনি। তাই আগের সরকার, সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীমহল ও শীর্ষ আমলারা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে পরোক্ষভাবে উপেক্ষা করেছে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার কথা বলেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এসবকে উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ দেশে বৈষম্য বেড়েছে। ৪ থেকে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে এই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশে যে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে সেখানেও শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা কমে গেছে।

    রেমিট্যান্স আর গার্মেন্টস দিয়ে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়, মজুরি কাঠামো নিম্ন আয়ের আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। উচ্চ আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার জন্য যে হাইটেক শিল্প প্রয়োজন সেগুলোর কিছুই হয়নি। তাছাড়া বাংলাদেশের যে কর কাঠামো সেটিও আফ্রিকার দুর্বল দেশগুলোর ন্যায়।

  • এবার লেনদেনে আস্থা ফেরাতে দুর্বল ব্যাংকগুলো যে পদক্ষেপ নিল

    এবার লেনদেনে আস্থা ফেরাতে দুর্বল ব্যাংকগুলো যে পদক্ষেপ নিল

    দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এটিএম বুথ, অনলাইন লেনদেন আবার সচল করেছে সংকটে পড়া কয়েকটি ব্যাংক। কাউন্টার থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ইতিবাচক বার্তা দিতে কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে টাকা দিচ্ছে। এভাবে লেনদেনের মাধ্যমে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে দুর্বল ব্যাংকগুলো। এর সুফল পেতে শুরু করেছে কোনো কোনো ব্যাংক। তবে পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। কয়েকটি ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে। এরই মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এক্সিম ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি, সোশ্যাল ইসলামীকে ৪ হাজার কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংককে ৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক সোমবার ২ হাজার কোটি টাকা করে পাবে। ১০ শতাংশ সুদে অর্থ পাচ্ছে এসব ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ছাড়া বাকি ব্যাংকগুলো বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এগুলোসহ মোট ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণের নামে ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নেওয়া হয়।

    ন্যাশনাল ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সমকালকে বলেন, আগের গভর্নর পুরো ব্যাংক খাতকে এক ধরনের আস্থাহীনতায় ফেলে দিয়ে গেছেন। গত বছরের শেষ দিকে লাল, হলুদ তালিকা করার পর থেকে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন তারল্য সহায়তা দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করা যায়, ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ব্যাংকেও যদি সব আমানতকারী একবারে টাকা তুলতে যায় দিতে পারবে না।

    ব্যাংকাররা জানান, আমানতকারীদের অনেকেই মনে করছিলেন এসব ব্যাংক আর টাকা দিতে পারবে না। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়াও অনেকেই টাকা তুলতে আসছিলেন। অনেকেই মেয়াদপূর্তির আগেই আমানত ভাঙিয়ে ফেলেছেন। তুলতে না পারলেও তারা এফডিআর ভাঙাচ্ছিলেন। তবে এখন আমানতকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের পক্ষ থেকে সব আমানতকারীর পাশে থাকার কঠোর বার্তা দেওয়ার পর পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হয়েছে।

    ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সমকালকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তাদের সব ধরনের লেনদেন সচল করা হয়েছে। এটিএম বুথ, বিইএফটিএন, আরটিজিএসসহ সব ধরনের সেবা চালু হয়েছে। সব ধরনের বিল কালেকশন করা হচ্ছে। এতে আগের মতো আর চেক নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ার অবস্থা নেই। তিনি বলেন, লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শিগগির আর কোনো সীমা থাকবে না।

    সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সায়াদাত সমকালকে বলেন, তাদের অনলাইন ব্যাংকিংসহ সব ধরনের সেবা চালু। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি আদায় এবং নতুন আমানত সংগ্রহে জোর দেওয়া হয়েছে। আস্থা ফেরানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। ইতিবাচক বিষয় হলো– রোববার তাদের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন হয়েছে, জমা হয়েছে তার চেয়ে বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক গত সপ্তাহে চারটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা দিলেও ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এখনও টাকা পায়নি। আজ রোববার সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় ব্যাংক দুটিকে আজ ২ হাজার কোটি টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরীদ উদ্দীন আহমদ সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তার টাকা দু-এক দিনের মধ্যে তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এরপর লেনদেন আরও স্বাভাবিক হবে বলে তাদের আশা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাংক বড় ধরনের কোনো ঝামেলায় পড়েনি। দরজা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আর টাকা না ছাপানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ব্যাপকভাবে যেন আস্থাহীনতা তৈরি না হয় সেজন্য ডিপি নোটের বিপরীতে এসব ব্যাংকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা ইস্যুর বিষয়টি ‘মানি প্রিন্টিং’ বা ‘টাকা ছাপানো’র মতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত পরিমাণের টাকা স্থানান্তর করেছে। এখন সমপরিমাণ টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিতে পারবে। প্রয়োজনে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি টাকা দিলে মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়ে। তবে ব্যাপক মাত্রায় যেন প্রভাব না পড়ে সে জন্য একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে বাজার থেকে উদ্বৃত্ত টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

     

  • আওয়ামী লীগ শাসনামলে বছরে দুই লাখ কোটি টাকা পাচার প্রতিবেদন প্রকাশ

    আওয়ামী লীগ শাসনামলে বছরে দুই লাখ কোটি টাকা পাচার প্রতিবেদন প্রকাশ

    আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে এ প্রাক্কলন করা হয়েছে।

    আজ রোববার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির প্রধান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক দলিল। আর্থিকখাতে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা ছিল একটা আতঙ্কিত বিষয়। আমাদের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেউ এটা নিয়ে কথা বলেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সমকালকে বলেন, কমিটির প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিষয়ে তারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। প্রতিবেদন জমার সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তিনি অর্থনীতি সংস্কারে সব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনের সুপারিশ করেছেন।

    জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, সরকারি নথি ও বৈশ্বিক প্রতিবেদন ব্যবহার করে অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। এর আগে গত ২ নভেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানায়, গত ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর দেশ থেকে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, আমদানি–রপ্তানির আড়ালে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

    অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানাতে প্রতিবেদন তৈরিতে গত ২৮ আগস্ট গঠিত হয় ১২ সদস্যের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়।

    শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির বাকি ১১ সদস্য হলেন- বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো কাজী ইকবাল,বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম আরিফা সিদ্দিকী।

    ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্র’ শিরোনামের প্রতিবেদনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ভারসাম্য, ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, সরকারের ঋণ, পরিসংখ্যানের মান, বাণিজ্য, রাজস্ব, ব্যয়, মেগা প্রকল্প, ব্যবসার পরিবেশ, দারিদ্র্য ও সমতা, পুঁজিবাজার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও জলবায়ু ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। কমিটি পদ্মা সেতু, রেল সংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

     

  • এবার চিন্ময় কৃষ্ণসহ ইসকনের ১৭ সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    এবার চিন্ময় কৃষ্ণসহ ইসকনের ১৭ সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীসহ ইসকন বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    এ নির্দেশনার ফলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৭ জনের ব্যাংক হিসাবে সব ধরনের লেনদেন ৩০ দিন স্থগিত থাকছে। যাদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে তারা হলেন- চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ, কার্ত্তিক চন্দ্র দে, অনিক পাল, সরোজ রায়, সুশান্ত দাস, বিশ্ব কুমার সিংহ, চন্দ্রীদাস বালা, জয়দেব কর্মকার, লিপি রানী কর্মকার, সুধামা গৌর দাস, লক্ষণ কান্তি দাশ, প্রিয়তোষ দাশ, রূপন কুমার ধর, আশীষ পুরোহিত, জগদীশ চন্দ্র অধিকারী ও সজল দাস।
    বিএফআইইউ’র চিঠিতে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ২৩(১)(গ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ইসকন ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত হিসাবের (আমদানি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যতীত) লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেয়া হলো।

    একইসঙ্গে তাদের মালিকানাধীন সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত সব হিসাবের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য, যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ফরম, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী প্রভৃতি আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলেছে বিএফআইইউ।