Category: ব্যাংক

  • নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এক্সিম ব্যাংকে ব্যবস্থা: মাসুদ কামাল

    নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এক্সিম ব্যাংকে ব্যবস্থা: মাসুদ কামাল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে পাঁচটি ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক গঠন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

    একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    মাসুদ কামাল বলেন, আহসান এইচ মনসুর ব্র্যাক ব্যাংকে থাকার সময় এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে তার একটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের প্রতিশোধ নিতেই এক্সিম ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আহসান এইচ মনসুর যখন ব্র্যাক ব্যাংকে ছিলেন তখন নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে একটা ঝামেলা ছিল। ওই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এক্সিম ব্যাংককে তিনি দমাইছেন।’

    মাসুদ কামালের দাবি, এক্সিম ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক ছিল। পরে সেটিকে দুর্বল করে পাঁচটি ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই পাঁচটা ব্যাংকের ৭৫ লাখ গ্রাহক এখন ফে ফে করে রাস্তায় ঘুরছে।’ এসব গ্রাহকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর আস্থা রেখেই অর্থ রেখেছেন।

    মাসুদ কামাল বলেন, এক্সিম ব্যাংকে টাকা রাখা গ্রাহকদের অধিকাংশই নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তাদের কাছে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রের অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত ছিল।

    তবে টক শোতে মাসুদ কামালের উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে আহসান এইচ মনসুরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, গ্রেপ্তার কর্মকর্তা

    ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, গ্রেপ্তার কর্মকর্তা

    চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড়ে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতির ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)। গত ১০ আগস্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় ভল্টের টাকার সঙ্গে হিসাবের গরমিল ধরা পড়ে। পরে নথিপত্র ও বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়।

    ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ কয়েকজনের সহায়তায় ভল্টের টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ১ হাজার টাকার বান্ডিলের মধ্যে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানোর মাধ্যমে বাইরে থেকে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে এমনটি দেখানো হতো। পরে সরানো অর্থ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার ছেলে ব্যাংকের কর্মকর্তা বা ওই শাখার গ্রাহক নন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানান, দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপের যোগাযোগের তথ্য এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। অর্থের ঘাটতির প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্ত শেষে তা জানা যাবে।

  • মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির পদত্যাগ

    মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির পদত্যাগ

    ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে তিনি ব্যাংকের কার্যালয়ে যাচ্ছেন না। গত বছরের ৭ জুলাই তিন বছরের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন আদিল চৌধুরী। এর আগে তিনি ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক উচ্চ খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপে রয়েছে। ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসান প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এদিকে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ ভবন ইজারা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

  • আইন-কড়াকড়িতে লভ্যাংশ সংকটে শেয়ারবাজার

    আইন-কড়াকড়িতে লভ্যাংশ সংকটে শেয়ারবাজার

    দেশের শেয়ারবাজারে দুর্বল কোম্পানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং নতুন কর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ির কারণে চলতি বছর লভ্যাংশ ঘোষণায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতিমালা কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে এবং বিনিয়োগকারীরাও প্রত্যাশিত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

    বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৭টি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি কোম্পানির কারখানা বন্ধ এবং সেগুলোকে ‘রেড অ্যালার্ট’ তালিকায় রাখা হয়েছে। উৎপাদন ও আর্থিক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানই চলতি বছর লভ্যাংশ দিতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় দুই হাজার কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো ব্যাংক ২০২৬ হিসাব বছর থেকে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। ফলে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ব্র্যাক ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা রাখছে। অন্য ব্যাংকগুলো স্টক লভ্যাংশ দিলে তার ওপরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো স্টক লভ্যাংশের ওপর কর আরোপের প্রস্তাবও এসেছে। পাশাপাশি বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হারের কম নগদ লভ্যাংশ দিলেও অতিরিক্ত কর দিতে হবে কোম্পানিগুলোকে। এতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) বলছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও করের চাপ ভালো কোম্পানিকে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করবে। তাদের মতে, রেগুলেশন বাড়ানোর পরিবর্তে কোম্পানিগুলোকে তারল্য সহায়তা এবং নীতিগত প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের মতামত বিভক্ত। কেউ স্টক লভ্যাংশে কর আরোপকে শেয়ারবাজারের জন্য নেতিবাচক বললেও, কেউ এটিকে স্টক লভ্যাংশ নিরুৎসাহিত করার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে সবাই একমত যে বাজারে নতুন ও ভালো কোম্পানি আনা এবং বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।

  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িক বাতিলের প্রস্তাব সরকারদলীয় এমপির

    ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িক বাতিলের প্রস্তাব সরকারদলীয় এমপির

    দেশে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার মতে, এ উদ্যোগ নিলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ আবারও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

    রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অনেকেই ব্যাংকে অর্থ জমা না রেখে বাসায় নগদ টাকা সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে। তাই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে এসব অর্থ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

    তিনি আরও বলেন, যাদের অর্থের বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তাদের নির্দিষ্ট হারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর দিয়ে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে ব্যাংকে আমানত বাড়বে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহও বাড়বে।

    ব্যাংক খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে বর্তমান সংখ্যক ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে জনগণের অর্থ দিয়েই অনেক সময় ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। তাই এ খাতে কঠোর সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, দায়িত্বে নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন

    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, দায়িত্বে নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন

    দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন-কে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    চেয়ারম্যান নিয়োগ ঘিরে অস্থিরতা

    সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। এ নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রাহক ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে।

    ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং পরিচালনাগত অনিশ্চয়তার কারণে অনেক গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিতে শুরু করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকরা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত প্রত্যাহার করেছেন।

    তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার ইসলামী ব্যাংককে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তদারকি ব্যাংকটির কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • চট্টগ্রামে একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের বিক্ষোভ

    চট্টগ্রামে একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের বিক্ষোভ

    একীভূতকরণের আওতায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা জমাকৃত অর্থ ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

    বুধবার সকাল ১১টা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোতে তাদের আমানত আটকে রয়েছে। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে না পেরে পরিবার ও ব্যবসা পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির প্রস্তুতিও অনিশ্চয়তায় রয়েছে অনেকের।

    প্রবাসফেরত এক আমানতকারী জানান, বিদেশে পরিশ্রম করে সঞ্চিত অর্থও এখন তুলতে পারছেন না। এ সময় ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

    আন্দোলনকারীরা আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা, উত্তোলনের সীমা প্রত্যাহার এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, তারল্য সংকট ও অনিয়মের কারণে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকইউনিয়ন ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

    বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ বাধা দিলে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান।

  • ওয়ান ব্যাংকের ডিএমডি হলেন ইফতেখার আহমেদ জাফর

    ওয়ান ব্যাংকের ডিএমডি হলেন ইফতেখার আহমেদ জাফর

    ওয়ান ব্যাংক পিএলসি-তে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ও ট্রানজ্যাকশন এবং ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন ইফতেখার আহমেদ জাফর।

    করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং, আর্থিক বাজার এবং অর্থায়ন খাতে তার ২৩ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়ান ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক-এর বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবায় পণ্যের উদ্ভাবন, ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি এবং মাল্টি-কারেন্সি সলিউশন প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    স্ট্রাকচার্ড প্রডাক্ট, ডেরিভেটিভস, ক্যাশ ও ট্রেড সার্ভিসেস এবং আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও তিনি সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন।

    শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, ইনসীঅ্যাড এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

  • এসবিএসি ব্যাংকের নতুন এএমডি হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

    এসবিএসি ব্যাংকের নতুন এএমডি হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

    এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগদান করেছেন বিশিষ্ট ব্যাংকার আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এসবিএসি ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিন দশকেরও বেশি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতায় তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোতে সফলভাবে কাজ করে নেতৃত্ব ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    সোমবার (৪ মে, ২০২৬) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৯৪ সালে আইএফআইসি ব্যাংকে প্রবেশনরি অফিসার হিসেবে তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং সেখানে দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে দীর্ঘ ২০ বছরের কর্মজীবনে প্রিন্সিপাল ও ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক এবং ফরেন ট্রেড সার্ভিসেস ডিভিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দেন এবং সফলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

  • আমানত ব্যয় বেড়ে ১১০০ কোটি, সংকটে ইউসিবি ব্যাংক

    আমানত ব্যয় বেড়ে ১১০০ কোটি, সংকটে ইউসিবি ব্যাংক

    দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) বর্তমানে গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকটির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, যা ব্যাংকিং খাতে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির আমানত ব্যয় বা সুদ বাবদ খরচ ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা বেড়েছে। এই অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকের নিট মুনাফায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ২২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায়।

    ঋণের পরিমাণ বাড়লেও আয় বাড়েনি—এমন অস্বাভাবিক প্রবণতাও দেখা গেছে ইউসিবির ক্ষেত্রে। গত এক বছরে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বেড়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হলেও পরিচালন মুনাফা কমেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিতরণকৃত ঋণের বড় অংশ থেকেই প্রত্যাশিত আয় আসছে না কিংবা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা রয়েছে।

    অন্যদিকে, প্রশাসনিক ব্যয়ে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়নি। গত দেড় বছরে প্রায় ৩,০০০ নতুন জনবল নিয়োগের ফলে বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এমনকি সাধারণ কর্মীদের ইনসেনটিভ বন্ধ রেখে সাশ্রয় হওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন ও সুবিধা বৃদ্ধিতে ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অপারেটিং খরচ কম দেখাতে অবচয় ব্যয় কমানো, ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন না রাখা, পরিচালক সংখ্যা কমলেও ফি অপরিবর্তিত রাখা এবং আইনি ও বিজ্ঞাপন ব্যয় না কমানো—এসব বিষয় ব্যাংকের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    সামগ্রিকভাবে, ইউসিবির বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাংকটির সুশাসনের ঘাটতি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।