Category: ব্যাংক

  • গত তিন বছরে সর্বনিম্ন সূচক, শেয়ারবাজারে আতঙ্ক

    গত তিন বছরে সর্বনিম্ন সূচক, শেয়ারবাজারে আতঙ্ক

    টানা পতনে ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক। ডিএসইর সূচকের এ অবস্থান গত ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে সূচক প্রায় ২শ পয়েন্ট কমেছে। পতনের এই ধারা কোথায় গিয়ে থামবে, তা পরিষ্কার নয়। এ কারণে শেয়ারবাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এই মুহূর্তে ফোর্সড সেল (বাধ্যতামূলক) না করার অনুরোধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আস্থা সংকটে পুঁজিবাজার। এই সংকট কাটাতে কী উদ্যোগ নিতে হবে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি, এই বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় দুটি-সুশাসন এবং ভালো কোম্পানির শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো।

    তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কারসাজির শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার টাকা হাতিয়ে নিলে বিচার হবে। না হলে ঝুঁকি নিয়ে কেউ বিনিয়োগে আসবে না।
    ফ্লোর প্রাইস (নিম্নসীমা) উঠে যাওয়ার পর বাজারে টানা দরপতন চলছিল। এরপর রোববার বাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় আইটি বিপর্যয় হয়। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমেছে। এ অবস্থায় তারা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। ফলে গত এক সপ্তাহে সূচক প্রায় ২শ পয়েন্ট কমেছে। এছাড়াও সূচকে একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা ছিল ৬ হাজার পয়েন্ট। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে নামেনি। কিন্তু বুধবার তাতে ছন্দপতন হয়। ডিএসইর ব্রড সূচক এদিন আগের দিনের চেয়ে ৩২ কমে ৫ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর প্রধান সূচকের এই অবস্থা গত ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২১ সালের ৫ মে সূচক ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে নেমেছিল। তবে এর আগে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই সূচক ৫ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে নামলেও অবস্থান বুধবারের চেয়ে উপরে ছিল। অর্থাৎ ৩ বছরেও সূচক এত নিচে নামেনি। এ অবস্থায় বাজারে আতঙ্ক রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাচ্ছেন। এটি বাজারের জন্য আশঙ্কার কারণ। তবে বিএসইসি থেকে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে মার্জিন ঋণের বিপরীতে ফোর্সড সেল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কোনো কোনো হাউজকে শেয়ার কেনার অনুরোধ করা হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে বুধবার ডিএসইতে ৩৯৪টি কোম্পানির ১৫ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৮৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১২টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ২২২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। প্রধান সূচকের বাইরে ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক বুধবার আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩শ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে আরও কমে ৭ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

    শীর্ষ দশ কোম্পানি : বুধবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো- তৌফিকা ফুড, ফু-ওয়াং সিরামিক, গোল্ডেন সন, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এসএস স্টিল, ওরিয়ন ইনফিউশন, জিপি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো এবং মুন্নু ফেব্রিক্স। ডিএসইতে বুধবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন সন, মুন্নু ফেব্রিক্স, তৌফিকা ফুডস, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস এবং কাট্টালী টেক্সটাইল। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হলো-কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, রিজেন্ট টেক্সটাইল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, রূপালী ব্যাংক, তাল্লু স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাইন ফুডস এবং এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স।

  • জেনেনিন কোন ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা কেমন।

    জেনেনিন কোন ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা কেমন।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সেই চর্চায় নতুন রসদ জুগিয়েছে ‘নয়টি ব্যাংক রেড জোনে অবস্থান করছে’, এই মর্মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদন।

    আদতে কোন ব্যাংকের কী হাল তা বোঝার মাপকাঠি কী? ব্যাংক বাছাইয়ের জন্য কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পারেন একজন গ্রাহক?

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয় যে বাংলাদেশে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ মোট নয়টি ব্যাংক ‘রেড জোনে’ আছে।

    ‘ব্যাংকস হেলথ ইনডেক্স (বিএইচআই) অ্যান্ড হিট ম্যাপ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইয়েলো জোনে’ আছে ২৯টি ব্যাংক এবং ‘গ্রিন জোনে’ আছে ১৬টি ব্যাংক।

    প্রতিবেদন থেকে ধারণা পাওয়া যায়, রেড জোনে থাকা ব্যাংকগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক।

    যদিও মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টুল (ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা) হিসেবে এ ধরনের গবেষণা নিয়মিতই করা হয়।

    এই গবেষণাকে ব্যাংকের হেলথ ইন্ডিকেটর (উৎকর্ষের সূচক) বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক।

    তিনি বলেন, ব্যাংক ভালো আছে কি নেই তা জানা যায় ব্যালেন্স শিট এবং ইনকাম স্টেটমেন্ট থেকে। সেগুলোই সত্যিকারের আর্থিক প্রতিবেদন। তবে, অর্থনীতিবিদরা আরও কয়েকটি বিষয়কেও মানদণ্ড হিসেবে দেখার কথা বলছেন।

    তারল্য

    ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার যে সরবরাহ তাকেই তারল্য বলা হয়। কোনো কারণে ব্যাংকে নগদ টাকার সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে গেলে তাকে বলে তারল্য সংকট।

    তারল্য সংকট ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা দেয় বলে জানান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

    তিনি বলেন, এটা সামগ্রিক অর্থনীতিরই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেখতে হবে কোনো ব্যাংক বারবার কেন্দ্রীয় বা অন্য কোনো ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছে কি না। যদি বারে বারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যায়, তার মানে তাদের হাতে কিন্তু টাকা নেই।

    কোনো ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিলে তারা তখন নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে শুরু করে। এই সুদের হারকে বলে কলমানি রেট।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদের মন্তব্য, লিকুইডিটি না থাকলে আগ্রাসী হয়ে ডিপোজিট বাড়ানোর চেষ্টা করে অনেক ব্যাংক।

    মূলধনের পর্যাপ্ততা ও ব্যাংকের আয়

    মূলধন ব্যাংকের মূল শক্তির জায়গা। মূলধন কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত সক্ষমতা বেশি হওয়া জরুরি বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    কোন ব্যাংক কতটা লাভজনক অবস্থায় আছে তা থেকেও ওই ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকের প্রফিটেবলিটি কেমন, রিটার্ন কেমন, প্রফিট কী হচ্ছে এসব জানা জরুরি। তাহলে অর্থ জমা রাখা বা ব্যাংকিং সংক্রান্ত অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়।

    সঞ্চয়ের পরিমাণের দিকেও দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য তার।

    প্রভিশন

    প্রভিশন হলো, ঋণের মান অনুযায়ী সঞ্চিতি রাখা। যাতে ঋণ দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া না গেলেও ওই টাকাটা ব্যাংক তার মুনাফা থেকে রাখা অর্থ দিয়ে আমানতকারীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়।

    এর ফলে যে ঋণগুলো খেলাপিগ্রস্ত হওয়ার কারণে শ্রেণীকরণ করা হয়েছে সেগুলো আর ফেরত পাওয়া যাবে না ধরে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ পরিমাণ ব্যাংকের মুনাফা থেকে কমিয়ে দেখাতে হয়।

    সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যদি এই প্রভিশন ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ করা না হয়, তবে ব্যাংকের মূলধনে সংকট দেখা দিতে পারে।

    এরকম ক্ষেত্রে ওই ব্যাংকে আমানত করা অর্থ ফেরত পেতে গ্রাহককে বেগ পেতে হতে পারে।

    বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং নতুন কিছু ব্যাংকের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণগুলোকে ভুলভাবে প্রভিশন করে অতিরিক্ত মুনাফা দেখানো হয়।

    ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসন

    ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট অন্যদের পাশাপাশি গ্রাহককেও সে ব্যাপারে ধারণা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

    মনসুর বলেন, কোনো ব্যাংকের স্ক্যাম (কেলেঙ্কারি) যদি গণমাধ্যমে আসে, তার মানে তাদের গভর্ন্যান্স (সুশাসন) নেই।

    বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের অসঙ্গতি প্রায়ই স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে উঠে আসে। ছোট-বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির খবরও দেখা যায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এগুলোর ভিত্তিতে কোন ব্যাংক কেমন, সে ধারণা পাওয়া যায়।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিচালনা পর্ষদে কারা আছেন, ঋণ অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকছে কিনা, এগুলোও মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

    যে ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ সেগুলোকে একীভূত না করে বরং অবসায়ন (লিকুইডেশন) করা ভালো বলে মনে করেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্টেবিলিটি (আর্থিক স্থিতিশীলতা) বিভাগের যে পর্যালোচনা গণমাধ্যমে উদ্ধৃত করা হয়েছে তাতে জানা যাচ্ছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ৩৮টি ব্যাংকের অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং ১৬টি ব্যাংকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

    এই ব্যাংকগুলোকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

    রেড জোনে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক।

    এই জোনের বাকি পাঁচটি ব্যাংক হলো বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এবি ব্যাংক।

    ইয়েলো জোনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক আছে দুটি। একটি সোনালী ব্যাংক এবং অপরটি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।

    এছাড়া ১৭ টি বেসরকারি ব্যাংক আছে এই তালিকায়।

    সেগুলো হলো আইএফআইসি, মেঘনা, ওয়ান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, এনআরবি, এনআরবি কমার্শিয়াল, মার্কেন্টাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ডাচ-বাংলা, প্রিমিয়ার, ব্র্যাক, সাউথইস্ট, সিটি, ট্রাস্ট, এসবিএসি, মধুমতি, ঢাকা, উত্তরা ও পূবালী ব্যাংক।

    শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, আল আরাফাহ, স্ট্যান্ডার্ড, ইউনিয়ন, এক্সিম ও গ্লোবাল ইসলামী।

    গ্রিন জোনে থাকা ১৬টি ব্যাংক হলো প্রাইম, ইস্টার্ন, হাবিব, এনসিসি, মিডল্যান্ড, ব্যাংক আলফালাহ, ব্যাংক এশিয়া, সীমান্ত, যমুনা, শাহজালাল ইসলামী, উরি, এইচএসবিসি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, সিটি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    উপাত্তগত পার্থক্য থাকায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে এই বিশ্লেষণের বাইরে রাখা হয়েছে।

    বেঙ্গল কমার্শিয়াল, সিটিজেন, কমিউনিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত না পাওয়ায় সেগুলোকেও তালিকার বাইরে রাখতে হয়েছে।

  • দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংকের অবস্থা খুবই নাজুক

    দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংকের অবস্থা খুবই নাজুক

    দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংকের অবস্থা দুর্বল এবং অতি দুর্বল। এর মধ্যে ১২টির অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে ৯টি রেড জোনে চলে গেছে। অপর ৩টি রেড জোনের খুব কাছাকাছি থাকলেও তাদের অবস্থান ইয়েলো জোনে। এর বাইরে আরও ২৬টি ইয়েলো জোনে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মাত্র ১৬টি ব্যাংক গ্রিন জোনে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৮টিই বিদেশি ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রিন জোনে দেশীয় ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৮টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিচারে রেড জোনের ব্যাংকগুলো সবচেয়ে খারাপ (পুওর) এবং ইয়েলো জোনের ব্যাংকগুলো দুর্বল (উইক)। আর গ্রিন জোনের ব্যাংকগুলো ভালো মানের (গুড)। অর্থাৎ দেশে এখন সবলের চেয়ে দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যাই বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক হেলথ ইনডেস্ক অ্যান্ড হিট ম্যাপ’ শীর্ষক এক গোপন প্রতিবেদনে এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

    সম্প্রতি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদন নিয়ে ওই প্রতিবেদন অফসাইট সুপারভিশন, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি এবং পরিদর্শন বিভাগগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। দেশে সবল ব্যাংকের সঙ্গে যখন দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার আলোচনা জোরালো হচ্ছে, তখনই সামনে এলো এমন ভয়াবহ তথ্য।

    জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তদারকি করেও দুর্বল ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি করা যাচ্ছে না। সংকট উত্তরণে সর্বশেষ গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের বৈঠকে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এটা আগামী বছর থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে ২০২২ সালের ১২ জুলাই আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নর হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগ দিয়েই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পৃথকভাবে তদারকির উদ্যোগ নেন। ওই বছরের ৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১০টি দুর্বল ব্যাংককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেন তিনি। কিন্তু গত দেড় বছরে এই ১০ ব্যাংকের অবস্থারও উন্নতি হয়নি। এসব ব্যাংকের অধিকাংশের অবস্থানই রেড জোনে।

    নিয়মনীতি পরিপালনে ঘাটতি, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বহীনতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শক্ত অবস্থান না নেওয়ার কারণে দেশে দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। তবে আলোচ্য প্রতিবেদনে ৫৪টি ব্যাংকের তথ্য নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এই ৫৪টি ব্যাংকের ছয়টি ষান্মাষিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য ছয়টি ষান্মাষিকে এই ৫৪ ব্যাংকের মধ্যে ৩৮টির অবস্থার অবনতি হয়েছে। আর ১৬টির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বাকি ৭টির মধ্যে তিনটির আর্থিক অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্টাবিলিটি বিভাগ নিয়মিত ব্যাংকগুলোর এই স্বাস্থ্য সূচক ও হিটম্যাপ প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে। এই প্রতিবেদন তৈরিতে ক্যামেলস রেটিং ও ব্যাসেল-৩ আওতায় প্রস্তাবিত লিভারেজ অনুপাত বিবেচনায় নেওয়া হয়। ক্যামেলস রেটিং হচ্ছে ব্যাংকের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিমাপের মানদণ্ড ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের মান, ব্যবস্থাপনা, উপার্জন ক্ষমতা, তারল্য প্রবাহ ও বাজার ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীলতা- এই ৬ সূচকের অবস্থার ভিত্তিতে এই রেটিং নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে ব্যাংকের টায়ার-১ মূলধন ও মোট সম্পদের অনুপাতকে লিভারেজ অনুপাত বলা হয়।

    আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানকল্পে ব্যাংকগুলোকে বিদ্যমান লিভারেজ অনুপাত ৩ শতাংশের সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে বার্ষিক শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ২০২৬ সালে মধ্যে এক শতাংশে উন্নতি করার নির্দেশনা রয়েছে।
    তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গবেষণার জন্য দুর্বল ও সবল ব্যাংকের এই তালিকা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট ব্যাংকগুলোর ছয়টি কম্পোনেন্ট নিয়ে এ তালিকা করে।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ছয়টি কম্পোনেন্ট নিয়ে দুর্বল-সবল ব্যাংকের তালিকা করেছে। এটা আমাদের নিজস্ব গবেষণার জন্য করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য এ রেটিং করা হয়নি। এছাড়া কোন ব্যাংক দুর্বল এটাতো জানা। মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব প্রতিবেদন জনগণের জন্য করা হয় না। বেশ কিছু প্রতিবেদন জাতীয় স্বার্থে গোপন রাখতে হয়। ব্যাংকগুলোর ওপর ক্যামেলস রেটিং কখনো পাবলিক হওয়ার জন্য নয়, এটা গোপনীয়; বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট বিভিন্ন কম্পোনেন্ট নিয়ে এসেসমেন্ট করে।

    ফাইন্যান্সিয়াল রিক্স ম্যানেজমেন্টের জন্য করা হয়, এটা প্রকৃত হেলথ ইনডিকেটর নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোকে শ্রেণিকরণ করতে একটা পিসিএ ফ্রেমওয়ার্ক করেছি। যেখানে চারটি ক্যাটাগরিতে ব্যাংকগুলোকে মূল্যায়ন করা হবে। চলতি বছরের ব্যালেন্স শিটের ওপর ভিত্তি করে এটা করা হবে। যেটা কার্যকর হবে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে।

    একীভূত নিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যাংক চাইলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিজস্ব পছন্দের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। কিন্তু ডিসেম্বরের পর কোনো ব্যাংকের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো দুর্বল ব্যাংককে অপর সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করে দেবে। এতে দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংক হতে পারে, আবার সবল ব্যাংক আরও সবল ব্যাংক হতে পারে। এছাড়া আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমানতকারীদের সুরক্ষা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

     

  • কাউন্টার ট্রেডের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির অনুমতি

    কাউন্টার ট্রেডের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির অনুমতি

    এখন থেকে যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমদানি বিলের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার না করেই রপ্তানির মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশি রপ্তানিকারক, আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্যের আয়ের বিপরীতে আমদানি বিল নিষ্পত্তির জন্য তাদের বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে ‘কাউন্টার ট্রেড’ বা পালটা বাণিজ্য ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষয় কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কাউন্টার-ট্রেড এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পণ্য বা পরিষেবা বেচাকেনার ক্ষেত্রে নগদের ব্যবহার না করে অন্য পণ্য বা পরিষেবার মাধ্যমে তা বিনিময় করা হয়। ব্যবসায়ের দুই পক্ষের (ক্রেতা-বিক্রেতা) মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে এটি সম্পাদন হয়ে থাকে। মূলত যেসব দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সীমিত, সেসব দেশকেই এ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে দেখা যায় বেশি।

    এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের নতুন এক্সপোর্ট নীতিমালায় কাউন্টার ট্রেডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানিকে আরও সম্প্রসারিত করতে এবং নতুন নতুন দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে এই প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাউন্টার-ট্রেড সুবিধায় যাওয়ার অন্যতম লক্ষ্য হলো কম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হলেও উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো।

    তাদের সঙ্গে যদি আমরা এই চুক্তি করতে পারি তাহলে আমাদের দেশের রপ্তানি বাজারকে আরও উৎসাহিত করা যাবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে আমাদের নতুন বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির যে নিট গ্যাপ, তা পেমেন্ট করতে হয়। তেমনি নতুন এই কাউন্টার ট্রেডের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা চুক্তি করে বিনিময় পদ্ধতিতে আমদানি-রপ্তানি করতে পারবেন।

    ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, যেহেতু নতুন রপ্তানি নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাউন্টার-ট্রেডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তার মানে হচ্ছে এর ফলে আমাদের আমদানি-রপ্তানির জন্য ভালো কিছু হবে।

    তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাত্র গাইডলাইন করেছে। আমরা দেখি এটা আমাদের জন্য কী সুবিধা দেয়। যদি কোনো অসুবিধা হয়, তাহলে পরবর্তীতে এর পরিবর্তনও আনা সম্ভব।

    তবে দেশের পোশাক খাতের এক জন রপ্তানিকারক বলেন, কাউন্ট্রার-ট্রেডের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যাও থাকে। এখানে দুই দেশের চুক্তির ফলে নির্দিষ্ট পরিমাণে আমদানি করতে হয় যার কারণে পণ্যের গুণমান ও দামের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা দেখা যায়। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনে কাউন্টার-ট্রেড ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।

    কাউন্টার-ট্রেডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো বিদেশি প্রতিপক্ষের নামে বা বাংলাদেশি পক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে এসক্রো অ্যাকাউন্ট খুলতে ও পরিচালনা করতে পারবে।

    এসক্রো অ্যাকাউন্টগুলো বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আমদানি বিলের অর্থ ক্রেডিট এবং রপ্তানিকারকদের তাদের রপ্তানির বিপরীতে এক্সপোর্ট পেমেন্ট ডেবিট করার মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি করবে।

    সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নিয়ে এসক্রো অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। তবে কাউন্টার-ট্রেডের এই ব্যবস্থা আকুর বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে সার্কুলারে।

     

  • ইউনিয়ন ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলন ২০২৪

    ইউনিয়ন ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলন ২০২৪

    শরীয়াহ্ ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি. এর বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলন ২০২৪ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন এফসিএ এফসিএমএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান মোল্লা ফজলে আকবর, পিএইচডি, এনডিসি, পিএসসি, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউদ্দিন আহমেদ এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
     
    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানগণ এবং সকল শাখার শাখা ব্যবস্থাপকবৃন্দ। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরী সমবেত সকলকে ব্যবসায়িক সাফল্য তুলে ধরে অভিনন্দন জানান এবং কাঙ্খিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণের পরামর্শ দেন।
     
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন এফসিএ এফসিএমএ বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংক দেশে-বিদেশে সেবা এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে দেশের সেরা ব্যাংকে পরিণত করতে হবে।
     
    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চেয়ারম্যান মোল্লা ফজলে আকবর, পিএইচডি, এনডিসি, পিএসসি বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংক চতুর্থ প্রজন্মের সেরা ব্যাংক হিসেবে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে আরো অধিকতর সেবা প্রদানের মাধ্যমে এ অর্জনকে এগিয়ে নিতে হবে।
  • নতুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেবেন

    নতুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেবেন

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। আজ শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। তাই পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নতুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোববার আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যাব। এরপর সবার সঙ্গে কথা বলে অগ্রাধিকার ঠিক করা হবে। ইনশাআল্লাহ—একটা বিষয় নিশ্চিত করতে পারি, দ্রব্যমূল্যের কোনো সংকট থাকবে না। কেউ যেন কারসাজি করতে না পারে—সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকব।’

    দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। কারণ, একটি কোম্পানি যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যদিয়ে কাজ করে, তখন তার কারসাজি করার কোনো সুযোগই থাকবে না। বিশেষ করে, তেল ও চিনির বড় বড় সরবরাহকারী হিসেবে যারা আছেন—তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে আমার মনে হয়, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে।’

  • অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে

    অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সরকারকে নানা রকম আর্থিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আমি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের দিকে যাব না। কারণ আমি রাজনীতিবিদ নই। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয় রাজনীতিবিদরাই ভাববেন। আমি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কিছু কথা বলব। নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তা তাত্ক্ষণিকভাবে সৃৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়। এসব সমস্যা আগে থেকেই বিদ্যমান রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে সরকার গত কিছুদিন ধরে এসব সমস্যার ব্যাপারে হয়তো তেমন একটা দৃষ্টি দিতে পারেননি। এখন নতুনভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারকে বিদ্যমান সেই সব সমস্যা সমাধানের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে সরকারকে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। কারণ ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকেই অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব মোতাবেক, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এটা এ যাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ খেলাপি ঋণ। কিন্তু এটা খেলাপি ঋণের প্রকৃত অবস্থার নির্দেশক নয়। কারণ এর সঙ্গে ঋণ হিসাব অবলোপনকৃত ঋণাঙ্ক যোগ করা হয়নি। একই ভাবে মামলাধীন প্রকল্পের নিকট দাবিকৃত অর্থ এবং ঋণ হিসাব পুনঃ তপশিলিকৃত ঋণাঙ্ক যোগ করা হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত শুধু বাড়ছেই। কোনোভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো যাচ্ছে না।

    খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিচালন-ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে খুব বেশি আগ্রহী হচ্ছে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার মতো পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অধিকাংশ ব্যাংকই কমবেশি তারল্য-সংকটে পতিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ব্যাংকের তারল্য-পরিস্থিতি নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তারা মাঝে মাঝেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ধার নিয়ে তাদের সমস্যা মেটাচ্ছে। ব্যাংকগুলো যদি আমানত সংগ্রহ করতে না পারে তাহলে তাদের তারল্য-সংকট দেখা দেবেই। তারল্য-সংকটের কারণ ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণদান করতে পারছে না। ব্যক্তি খাতে ঋণ দানের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। উদ্যোক্তাগণ ঋণের জন্য ব্যাংকে ধর্ণা দিলেও ব্যাংকগুলো তাদের আবেদিত ঋণ দিতে পারছে না। এজন্য তারল্য-সংকটই দায়ী। তারল্য-সংকট ব্যাংকের স্বাভাবিক চলার পথকে রুদ্ধ করতে পারে। এর থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো এই সংকট থেকে উত্তরণ লাভ করে স্বাভাবিক গতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

    বাংলাদেশের মতো একটি বিকাশমান অর্থনীতির জন্য সুস্থ ধারার ব্যাংকিং সেক্টর বিদ্যমান থাকা খুবই জরুরি। আমাদের দেশে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা পুঁজির জন্য মূলত ব্যাংকিং সেক্টরের ওপরই নির্ভর করে থাকেন। ব্যাংকিং সেক্টরই তাদের জন্য একমাত্র ভরসার ক্ষেত্র। সেই ব্যাংকিং সেক্টর যদি তাদের ঠিকমতো সাপোর্ট দিতে না পারে, তাহলে তারা কোথায় যাবেন? ব্যাংকিং সেক্টরে বিদ্যমান পর্বত-প্রমাণ খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে আইনি সংস্কার করা যেতে পারে। যেভাবেই হোক ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধানে কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতি অনেক দিন ধরেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে আমাদের অর্থনীতির যে গতিধারা, তাতে মনে হচ্ছে ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এখানে আমি অর্থনীতির কয়েকটি সূচকের কথা উল্লেখ করব। এখনো আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত হচ্ছে পণ্য রপ্তানি সেক্টর। ২০২৩ সালে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে দুই শতাংশেরও কম। জনশক্তি রপ্তানি খাত হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত। সেখানেও প্রবৃদ্ধির হার তিন শতাংশের কম, যদিও ২০২৩ সালে প্রায় ১৩ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে গমন করেছে কর্মসংস্থান উপলক্ষ্যে। কিন্তু রেমিট্যান্সের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩-এ ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব। আইএমএফের হিসাব মোতাবেক এর পরিমাণ আরো কম হবে। আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ১৬ শতাংশ। শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ এবং মধ্যবর্তী পণ্য এগুলোও তো আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আগের অর্থবছরের (২০২২-২০২৩) একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার হার কমেছে ১৪.০৬ শতাংশ। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্যের ঋণপত্র খোলা কমেছে ২৭.৪৭ শতাংশ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ৩৬৪ কোটি মার্কিন ডলারের। গত বছর এই খাতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ২৬৪ কোটি মার্কিন ডলারের। একই ভাবে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ১১৬ কোটি মার্কিন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের বা ১৬.৯৮ শতাংশ কম। শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল আমদানির জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ১ হাজার ৪১ কোটি মার্কিন ডলারের। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৯২০ কোটি মার্কিন ডলারের বা ১১.৬২ শতাংশ কম। মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৪৪ কোটি মার্কিন ডলারের। গত বছর একই সময়ে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৪০৭ কোটি মার্কিন ডলারের বা ৭.৫২ শতাংশ কম। শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমে যাওয়া কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ হতে পারে না। এসব পণ্যের আমদানি কমে যাবার অর্থই হচ্ছে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যক্তি খাতে শিল্প বিনিয়োগে কমে যাবার অর্থই হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে মন্থরতা তৈরি হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। তাই সব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়াটা ভালো লক্ষণ হতে পারে না।

    মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার ক্রমশ অবমূল্যায়ন হচ্ছে। ২৭ ডিসেম্বর আন্তঃব্যাংক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকায় চলে গেছে। স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে তা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। গত এক বছর ধরেই আমাদের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিরাজ করছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপর রয়ে গেছে। এর ফলে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করা মানুুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

    আর একটি পুরোনো সমস্যা রয়েছে অনেক দিন ধরেই, যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। সেটা হলো আয়বৈষম্য। বর্তমানে দেশে তীব্র আয়বৈষম্য বিরাজ করছে। আয়বৈষম্যসূচক নির্ণয়ের জন্য একটি পদ্ধতি আছে, যাকে গিনি সহগ বলা হয়। গিনি সহগ মোতাবেক আয়বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। এখন আয়বৈষম্য জিরো পয়েন্ট ৪৯৯-এ উন্নীত হয়েছে। আয়বৈষম্য জিরো পয়েন্ট ৪৫-তে উন্নীত হলে তাকে ভয়াবহ অবস্থা বলা হয়ে থাকে। জাতীয়ভাবে আয়বৈষম্য বৃদ্ধি পাশাপাশি আঞ্চলিক আয়বৈষম্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    মূল্যস্ফীতি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। কোনোভাবেই এই সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। অনেকেই বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। আমি তা মনে করি না। সুদের হার বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমে আসবে, এটা না-ও হতে পারে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ালে ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে উত্পাদন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। মূল্যস্ফীতি কমনোর একটি উপায় আছে তা হলো, আমদানি পণ্যের শুল্ক কমানো। আমদানি পণ্যের শুল্ক হার কমালে অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের মূল্য কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে; এবং মনোপলি প্রাইসিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আমি যখন অর্থউপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলাম, তখন ভোজ্য তেলের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিলাম। পরের দিন দেখা গেল বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেল। এরপর আমি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে বললাম, তোমাদের ঋণ দান বন্ধ করে দেবো। তখন দেখা গেল বাজারে ভোজ্য তেলের মূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা

    অনুলিখন :এম এ খালেক

  • ‘ব্যাংক হলিডে’ কি ? রোববার ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ

    ‘ব্যাংক হলিডে’ কি ? রোববার ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ

    আগামীকাল রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ‘ব্যাংক হলিডে’। এদিন ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। যার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। তবে নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে।

    জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিন বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। যে কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। ওইদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না। তবে এ সময় গ্রাহকেরা কার্ডের মাধ্যমে সীমার মধ্যে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

    নীতি অনুযায়ী ‘ব্যাংক হলিডে’ তে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।

    শেয়ারবাজারের শেয়ারের অর্থ লেনদেন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক বন্ধ থাকলে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না। তবে রোববার শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

  • বিবিএসের জরিপ,দেশে পরিবার প্রতি ঋণ ৭৩ হাজার ৯৮০ টাকা

    বিবিএসের জরিপ,দেশে পরিবার প্রতি ঋণ ৭৩ হাজার ৯৮০ টাকা

    বর্তমানে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে। আর জাতীয় পর্যায়ে পরিবার প্রতি এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮০ টাকা। আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভের’ (এইচআইইএস- ২০২২) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এ পরিসংখ্যান প্রস্তুতে গত ১২ মাসে পরিবারপ্রতি গড় ঋণের হিসাব স্থান পেয়েছে।

    বিবিএসের জরিপ বলছে, গ্রামাঞ্চলের মানুষের চেয়ে শহরাঞ্চলের মানুষের ঋণ অনেক বেশি। শহর এলাকায় প্রতি পরিবার গড়ে ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৬ টাকা। ২০১৬ সালে তা ছিল ৫৯ হাজার ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ ছয় বছরে শহরের পরিবারগুলোর ঋণ বেড়েছে ১৩০ দশমিক ১০ শতাংশ।

    অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে প্রতি পরিবার ঋণ নিয়েছে ৪৪ হাজার ৪১১ টাকা। ২০১৬ সালে তা ছিল ৩১ হাজার ৩৩২ টাকা। অর্থাৎ ছয় বছরে গ্রামের পরিবারগুলোর ঋণ বেড়েছে ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সেই হিসাবে শহরের পরিবারগুলোর ঋণ গ্রামের পরিবারগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি।

    জরিপ অনুসারে, ঢাকা বিভাগের পরিবারগুলোর ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিভাগের পরিবারগুলোর গড় ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৫০ টাকা। আর সবচেয়ে কম ঋণ ময়মনসিংহ বিভাগের পরিবারগুলোর। এ বিভাগের প্রত্যেক প্রতি পরিবারের ঋণ ৩৪ হাজার ৩৫৭ টাকা।

    আর শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ ঢাকা শহরের পরিবারগুলোর। ঢাকা শহরের প্রত্যেক পরিবারের গড় ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ১০ হাজার ৬৭৭ টাকা। আর রাজশাহী শহরের পরিবারগুলোর ঋণ সবচেয়ে কম। রাজশাহী শহরের পরিবারগুলোর গড় ঋণের পরিমাণ ৪৮ হাজার ৮১৬ টাকা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের একটি পরিবার মাসে গড় আয় করে সাড়ে ৩২ হাজার টাকা। আয়ের বিপরীতে একটি পরিবারের ব্যয় সাড়ে ৩১ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটি পরিবার মাসে এক হাজার টাকার মতো সঞ্চয় করে।

    বিবিএস জানায়, দেশের প্রতিটি খানার গড় আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এইচআইইএসের ২০২২ জরিপের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, খানার মাসিক গড় আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা, যা ২০১০ ও ২০১৬ সালের জরিপে ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৯ এবং ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। আর বর্তমানে একটি খানার মাসিক ব্যয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা, যা ২০১০ ও ২০১৬ সালে ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ২০০ এবং ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা।

    বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য কাউছার আহমেদ। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ।