Category: ফুটবল

  • অবশেষে মায়ামির ড্র, এবার পিএসজির বিরুদ্ধে লড়বে মেসি

    অবশেষে মায়ামির ড্র, এবার পিএসজির বিরুদ্ধে লড়বে মেসি

    মাঠে নেমে শুরুটা ছিল দারুণ। মনে হচ্ছিল, সহজেই জয় নিয়ে ফিরবে ইন্টার মায়ামি। নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১০ মিনিট আগে পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাস। মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লিওনেল মেসির দল ইন্টার মায়ামিকে।

    ম্যাচের আগে হিসেবটাও ঠিক এমনই ছিল। পালমেইরাসকে কোনোভাবে আটকে দিতে পারলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত ছিল দলটার। ৮০ আর ৮৭ মিনিটে দুই গোল হজম করে বসায় তাই খুব একটা সমস্যা হয়নি তাদের। শেষ ষোলোর পথে কাঁটা পড়েনি। তবে গতিপথটা বদলে গেছে।

    মায়ামি ম্যাচটা জিতে গেলে আরেক ব্রাজিলীয় দল বোতাফোগোর বিপক্ষে খেলতে পারত, শেষ আটে যাওয়ার তুলনামূলক সহজ পথ হতে পারত তা। তবে ম্যাচটা ড্র করে বসায় দলটা এ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে চলে গেছে শেষ ষোলোয়। তাতে বি গ্রুপের সেরা দল ও মেসির সাবেক দল ইউরোপসেরা পিএসজির সামনে পড়তে হচ্ছে তাদের।

    নিজেদের মাঠ হার্ডরক স্টেডিয়ামে আজ শুরুটা বেশ ভালো হয়েছিল মিয়ামির। লুইস সুয়ারেজ শুরু থেকেই আলো কেড়েছেন এদিন। শুরুতে তার পাস থেকে তাদেও আলেন্দের গোল মায়ামিকে এগিয়ে দেয়। সেই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দলটা।

    বিরতি থেকে ফিরে দলটা পেয়ে যায় আরেক গোল। এবার সুয়ারেজ পালমেইরাসের ৩ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করেন দৃষ্টিনন্দন এক গোল। তাতে মনে হচ্ছিল জয়টা বুঝি নিশ্চিতই হয়ে গেছে তাদের।

    তবে ৮০ মিনিটে জবাবটা দেন বদলি খেলোয়াড় পাওলিনিও। তার গোলে পালমেইরাস ম্যাচে ফেরার রাস্তা খুঁজে পায়। ৮৭ মিনিটে আরেক বদলি মরিসিওর জোরালো শটে বল আছড়ে পড়ে মিয়ামির জালে, তাতেই ড্র নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের।

    ম্যাচের বাকি সময় হারের শঙ্কায় আক্রমণের চেয়ে বেশি রক্ষণে বেশি মনোযোগী ছিল মায়ামি। শেষমেশ সে শঙ্কা সত্যি হয়নি তাদের। ২-২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটা। শেষ ষোলোয় পায় পিএসজিকে। আগামী রোববার নকআউটের তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল।

     

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকেই সেরা ফুটবলাররা উঠে আসে : গার্দিওলা

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকেই সেরা ফুটবলাররা উঠে আসে : গার্দিওলা

    ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের প্রভাব-প্রতিপত্তিই যেন হয়ে উঠেছে আধুনিক ফুটবলের অনিবার্য বাস্তবতা। গতি, কৌশল, তারকাখ্যাতি এবং প্রচারণা—সব দিক থেকেই ইউরোপীয় ক্লাবগুলোকেই ক্লাব বিশ্বকাপের ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তবে এবারের আসরে সেই ‘স্বাভাবিক’ ধারণাটিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দুটি ক্লাব।

    টানা দুই দিন ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবদের হারিয়ে চমক দিয়েছে ব্রাজিলের বোটাফোগো ও ফ্ল্যামেঙ্গো। টেকনিক, ঐতিহ্য এবং ফুটবলীয় জেদের এক অনন্য নিদর্শন গড়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে—লাতিন ফুটবল এখনও বেঁচে আছে, এবং বেশ ভালোভাবেই। সদ্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজিকে হারিয়েছে কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন বোটাফোগো (১-০)। পরদিনই ইংলিশ জায়ান্ট চেলসিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চমক আরও বাড়িয়েছে ফ্ল্যামেঙ্গো।

    চলমান ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চারটি এবং আর্জেন্টিনার দুটি ক্লাব অংশ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের সব ক্লাবই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে এবং অপরাজিত। পালমেইরাস, বোটাফোগো, ফ্ল্যামেঙ্গো ও ফ্লুমিনেন্স—চারটি দলই দেখিয়ে দিচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের ধার। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার রিভারপ্লেট ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে, যদিও বোকা জুনিয়র্স রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

    ইউরোপীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে এই লাতিন জাগরণ নজরে এনেছে ম্যানসিটির কোচ পেপ গার্দিওলা ও বায়ার্নের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইনের মতো তারকাদের। গার্দিওলা বলেন, ‘মানুষ যখন বলে ইউরোপীয় দল হেরেছে, আমি বলি—স্বাগত আসল ফুটবলের জগতে। এই দলগুলো যেভাবে লড়াই করে, তা অসাধারণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক সেরা ফুটবলারের উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকা থেকেই। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে—সব দেশই ফুটবলকে অনেক কিছু দিয়েছে।’

    একই সুর হ্যারি কেইনের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘এই ক্লাব বিশ্বকাপ অন্য রকম অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। প্রতিযোগিতার গুরুত্ব বেড়েছে। এটা উপভোগ করছি এবং আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই।’

    সবমিলিয়ে এবারের ক্লাব বিশ্বকাপ যেন কেবল এক টুর্নামেন্ট নয়—এটা বিশ্ব ফুটবলে লাতিন আমেরিকার পুনর্জাগরণের ঘোষণা। ইউরোপীয় আধিপত্যের ভিড়ে ফুটবলের পুরোনো প্রাণশক্তি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লাতিন ছন্দে।

     

  • জানাগেলো যে কৌশলে ফ্রি–কিকে গোল করেন মেসি

    জানাগেলো যে কৌশলে ফ্রি–কিকে গোল করেন মেসি

    বয়স তখন মাত্র ১৮। বার্সেলোনার জার্সিতে মাঠে নেমেছেন তরুণ লিওনেল মেসি। তবে তখনো তিনি দলের তারকা নন, ছিলেন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। ফ্রি–কিক পেলে বলের পেছনে ছুটতেন ডেকো, রোনালদিনিও কিংবা জাভি হার্নান্দেজ। মেসি শুধু পাশে দাঁড়িয়ে দেখতেন, শিখতেন—তখনো অনুমতি পাননি সরাসরি বলের সামনে দাঁড়ানোর। আজ যে মেসির বাঁ পায়ের জাদুতে ভেসে যায় প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট, একসময় সেই পায়ে ছিল ধৈর্য, অপেক্ষা আর নিজেকে প্রমাণ করার জেদ।

    তবে মেসি একটু পরিণত হওয়ার পর খুব বেশি সময় লাগেনি দৃশ্যপট বদলাতে। তত দিনে অনুশীলনে ফ্রি–কিক নেওয়ার কৌশলও শিখে ফেলেছেন। ড্রিবলিং ও গোল করাটা ছিল মেসির সহজাত গুণ, কিন্তু ফ্রি–কিক ঠিক ততটা সহজ ছিল না। এই দক্ষতা অর্জনের পেছনে রয়েছে নিয়মিত অনুশীলন ও অধ্যবসায়।

    আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক কোচ আলফিও বাসিলে ২০০৭ কোপা আমেরিকা চলাকালীন মেসিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ফ্রি–কিক নেওয়ার সময় বলের ওপর ভালো নিয়ন্ত্রণ ও গতি আনতে বাঁ পা আরও সামনের দিকে এগিয়ে আনতে হবে। এই ছোট টেকনিকই পরে মেসির নিখুঁত ফ্রি–কিকের পেছনে অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

    ফ্রি–কিক নিয়ে শুরুতে মেসির কৌতূহল ছিল। সে কৌতূহল মেটাতে অনুশীলনে নেমে ফ্রি–কিকের প্রেমে পড়ে যান। এ নিয়ে মেসি নিজে একবার বলেছিলেন, ‘ফ্রি–কিকের জন্য কখনো অনুশীলন করতে অভ্যস্ত ছিলাম না। একদিন একটু চেষ্টা করে দেখার পর বুঝতে পারলাম, এই জায়গায় অনেক উন্নতি করা সম্ভব, যেটা আমি করেছি।’

    বার্সার সে সময়ের ফিটনেস কোচ হুয়াঞ্জো ব্রাউ ফ্রি–কিক শিখতে মেসির অনুশীলন প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন, ‘শেষ ফ্রি–কিকটি জালে না পৌঁছানো পর্যন্ত সে অনুশীলন ছেড়ে যেত না।’ এই চেষ্টার ফলেই ধীরে ধীরে মেসি এখন ফ্রি–কিক থেকে শট নেওয়ায় বিশ্বসেরাদের একজন। ২০০৮ সালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফ্রি–কিকে প্রথম গোল পাওয়ার পর এখন সেই সংখ্যাটা ৬৮, যার মধ্যে শেষ গোলটি দেখা গেছে পরশু ক্লাব বিশ্বকাপে পোর্তোর বিপক্ষে। চোখধাঁধানো এক গোল!

    পোর্তোর বিপক্ষে তখন ১-১ গোলের সমতায় মায়ামি। ৫৪ মিনিটে পাওয়া ফ্রি–কিক থেকে গোল করেন মেসি, আর সে গোলেই ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে মায়ামি। পোর্তো গোলকিপারের থেকে পোস্টের দূরত্ব যেদিকে একটু কম, সেদিক দিয়েই বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। বলটা বেশ বাঁক নিয়ে বাতাসে ভাসতে ভাসতে আশ্রয় নেয় জালে। শটটি দেখে মনে হতেই পারে, মেসি বুঝি জোরে কিক নেওয়ার চেয়ে বলের গতিপথ নিয়ন্ত্রণেই বেশি জোর দেন। কারণ, বাঁ পায়ের ভেতরের অংশ দিয়ে নেওয়া কিকে বল একদম কম্পাসের মাপে বাঁক নিয়ে জালে ঢুকেছে।

    জয়ের পর সরাসরি ফ্রি–কিক থেকে করা গোল নিয়ে ডিস্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলেন মেসি। জানান, কিক নেওয়ার আগে কল্পনায় বলটির গতিপথ ঠিক করে নিয়েছিলেন। তখন মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের তৈরি মানবদেয়ালের ওপর দিয়ে না মেরে গোলকিপার যেদিকে দাঁড়িয়ে, সেদিকে মারলেন কেন? মেসির উত্তর, ‘দেয়াল একটু লম্বাদের (খেলোয়াড়) নিয়ে বানানো হয়েছিল।’

    বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মেসি বলেন, ‘খেয়াল করলাম, গোলকিপার মাঝে একটু দাঁড়িয়েছিল। তার কাছের পোস্টে জায়গা ফাঁকা। সে একটু কাছাকাছি দাঁড়িয়েছিল। মানবদেয়ালের ওপর দিয়ে বল পাঠানো কঠিন ছিল, কারণ, লম্বা খেলোয়াড়েরা দাঁড়িয়েছিল। (গোলকিপারের পাশ দিয়ে) বলটা গেছেও জোরে, একদম ঠিক জায়গা দিয়ে যাওয়ায় আমি ভাগ্যবান।’

    ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মেসি ফ্রি–কিক নিতেন না। ক্লারিন জানিয়েছে, ফ্রি–কিকে ভালো করতে ডিয়েগো ম্যারাডোনাসহ অন্যান্যদের পরামর্শ নিয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পোর্তোর বিপক্ষে ফ্রি–কিকে গোল করে ফুটবলের আরেক কিংবদন্তির পাশে বসেছেন মেসি। ব্রাজিলের ‘সাদা পেলে’–খ্যাত জিকো, তাঁরও ফ্রি-কিক থেকে গোলসংখ্যা ৬৮।

    বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্রি–কিক থেকে গোল করার দৌড়ে লিওনেল মেসির সামনে রয়েছেন কেবল দুজন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি—জুনিনিও পেরনামবুকানো (৭৭ গোল) ও পেলে (৭০ গোল)। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ক্লারিন আরও একজনের নাম উল্লেখ করেছে, যিনি একইভাবে ব্রাজিলিয়ান এবং করিন্থিয়ানসের কিংবদন্তি—মার্সেলিনিও ক্যারিওকা।

    উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ১৯৯৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল জাতীয় দলে মাত্র চারটি ম্যাচ খেলা এই সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সরাসরি ফ্রি–কিক থেকে করেছেন ৮০টি গোল। যদিও ক্লারিন জানিয়েছে তার গোলসংখ্যা ৭৮। সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য থাকলেও, মার্সেলিনিওর নাম যে এই তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত, সে বিষয়ে অনেকেরই একমত।

     

  • অবশেষে ১০ জনের দল নিয়েও ম্যাজিক দেখালো রিয়াল

    অবশেষে ১০ জনের দল নিয়েও ম্যাজিক দেখালো রিয়াল

    রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের শুরুতেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সেই সুযোগে লস ব্লাঙ্কোসদের ওপর একের পর এক আক্রমণ করে পাচুকা। যদিও মেক্সিকান ক্লাবটির সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান রিয়ালের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। শেষদিকে সেই দেয়াল ভাঙলেও কোনো বিপদ হয়নি।

    দুর্দান্ত জয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে জাবি আলোনসোর দল। আজ রোববার (২২ জুন) নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচটিতে পাচুকাকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। জুড বেলিংহ্যাম ও আর্দা গিলের রিয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। আর ম্যাচের শেষদিকে পাচুকার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন এলিয়াস মন্তিয়েল।

    সবশেষ মৌসুমে ব্যর্থ মিশন শেষে রিয়ালের ডাগআউট ছাড়েন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার জায়গায় ক্লাব বিশ্বকাপের আগেই জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন ছেড়ে ক্লাবটির দায়িত্ব নেন আলোনসো। স্প্যানিশ এই কোচ এবার রিয়ালের কোচ হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিলো রিয়াল।

    গত ডিসেম্বরে এই পাচুকাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছিলো স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এবারের লড়াইয়ে ম্যাচের ফলে অবশ্য ফুটে উঠছে না, আক্রমণে কতটা দাপট দেখিয়েছে পাচুকা। গোলের জন্য মোট ২৫টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। যার ১০টিই সেভ করেন কোর্তোয়া। আর রিয়ালের ৮ শটের ৩টি লক্ষ্যে ছিলো এবং সবকটিই সফল।

    অসুস্থতার কারণে এই ম্যাচেও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পায়নি রিয়াল। তার ওপর ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বড় এক ধাক্কা খায় তারা। বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের সালোমন রন্দনকে পেছনে থেকে টেনে ফেলে দিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সেন্টার-ব্যাক রাউল আসেন্সিও। প্রতিপক্ষে একজন কম থাকার সুযোগে চাপ বাড়ায় পাচুকা। করতে থাকে একের পর এক আক্রমণ।

    অষ্টাদশ মিনিটে দুর্দান্ত ডাবল সেভে রিয়ালকে রক্ষা করেন কোর্তোয়া। কেনেদির শট ঠেকানোর পর কাছ থেকে বাতিস্তার প্রচেষ্টা এক হাতে আটকে দেন বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক। শুরুর চাপ সামলে একটু একটু করে গুছিয়ে ওঠে রিয়াল। ৩৫তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস ধরে বক্সের ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান ইংলিশ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম।

    সেই রেশ থাকতেই মিনিট সাতের পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইউরোপের সফলতম দলটি। ডান দিক থেকে ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের পাস বক্সে পেয়ে প্রথম স্পর্শে গন্সালো গার্সিয়া বল দেন গিলেরকে। নিচু শটে গোলটি করেন তুরস্কের তরুণ মিডফিল্ডার। তাতে এক জন কম নিয়ে খেলেও ২-০ গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

    এদিকে জোড়া গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া পাচুকা ম্যাচে ফিরতে একের পর এক আক্রমণ চালায়। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনটি দারুণ সুযোগও আসে তাদের সামনে। যদিও চমৎকার সেভ করে দলের ব্যবধান ধরে রাখেন রিয়াল গোলকিপার কোর্তোয়া। বিশেষ করে, কেনেদির একটি শট এক হাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠানোর পর আরেকটি ঝাঁপিয়ে ঠেকান তিনি।

    ৭০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে রিয়ালকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করা ভালভের্দে। ভিনিসিয়ুসের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াসকে বল দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। ছুটে গিয়ে সতীর্থের ক্রসে দারুণ ভলিতে বল জালে পাঠান উরুগুয়ের তারকা। ৮০তম মিনিটে পাচুকার হয়ে স্বান্তনাসূচক গোলটি করেন মন্তিয়েল।

    ঘাম ঝরানোর এই জয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২ ম্যাচে একটি করে জয় ও ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রেড বুল সালসবুর্গ দুইয়ে, ২ পয়েন্ট নিয়ে আল হিলাল তিনে আছে। আর দুটিই হেরে বিদায় নিশ্চিত পাচুকার। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে শেষ ষোলোয়।

  • আরও একবার ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের আধিপত্য, এবার থেমে গেল চেলসি

    আরও একবার ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের আধিপত্য, এবার থেমে গেল চেলসি

    উরোপ বনাম লাতিন ফুটবল ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ যেন রূপ নিয়েছে দুই মহাদেশীয় ঘরানার এক জমজমাট দ্বৈরথে। একদিন আগে পিএসজিকে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বোটাফোগো। এবার ইংলিশ ক্লাব চেলসির গর্বে ধাক্কা দিল আরেক ব্রাজিলিয়ান দল ফ্ল্যামেঙ্গো।

    ব্রাজিলের সাওপাওলো শহরের কোনো ক্লাব ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে হারানোর আনন্দে ভেসেছিল সর্বশেষ ৩৩ বছর আগে। ১৯৯২ সালের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল সাওপাওলো এফসি। তারপর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষায় ছিল শহরটি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল ফ্ল্যামেঙ্গো। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ইংলিশ ক্লাব চেলসিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল ব্রাজিলিয়ান জায়ান্টরা।

    ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে অবশ্য শুরুতে লিড নিয়েছিল চেলসি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি ১৩ মিনিটে পেদ্রো নেতোর করা সেই গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধও শেষ করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিতে হলো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের। একে একে গোল করেছেন ব্রুনো হেনরিক, দানিলো ও ওয়ালেস ইয়ান। ম্যাচজুড়ে সেলেসাও এই ক্লাবটি গ্যালারি থেকেও বড় সমর্থন পেয়েছে।

    ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল দখলে রেখে ফ্ল্যামেঙ্গো ১৩টি শট নেয়, যার ৯টিই ছিল গোলের লক্ষ্যে। অন্যদিকে প্রায় সমান পজেশন নিয়ে চেলসি ১১টি শট নিয়ে কেবল ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল নিকোলাস জ্যাকসনের লাল কার্ড। ফলে ৬৮ মিনিটের পর থেকে ইংলিশ ক্লাবটিকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়েছে। ফ্ল্যামেঙ্গোর আয়ারটন লুকাসকে কড়া ট্যাকেল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে মাঠ ছাড়তে হয় জ্যাকসনকে।

     

  • সিনসিনাটির মাঠে তাণ্ডব চালালো বায়ার্ন

    সিনসিনাটির মাঠে তাণ্ডব চালালো বায়ার্ন

    ক্লাব বিশ্বকাপে শুরুতেই দারুণ এক বার্তা দিয়ে রাখলো জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভয়ঙ্কর রূপে দেখা দিলো ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সেরা দলটি।

    রোববার (১৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটির টিকিউএল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ক্লাব অকল্যান্ড সিটিকে ১০-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

    প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বায়ার্ন। মাত্র ৪৫ মিনিটেই অকল্যান্ডের জালে ছয়বার বল পাঠায় তারা। প্রথম গোলটি আসে কিংসলি কোম্যানের পা থেকে। এরপর গোলের উৎসব চালিয়ে যান মাটিস টেল, মালিক থিয়াও, থমাস মুলার এবং মিশেল ওলিসে। কোম্যান এবং ওলিসে করেন জোড়া গোল। মুলারও রাখেন নিজের নাম স্কোরশিটে।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন তরুণ জার্মান তারকা জামাল মুসিয়ালা। ম্যাচের ৬৭ থেকে ৮৪ মিনিটের মধ্যে টানা তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এই হ্যাট্রিকের মাধ্যমে এক ম্যাচেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। ম্যাচের শেষ দিকে মুলার আরও একটি গোল যোগ করে বায়ার্নের গোলসংখ্যা দ্বিঅঙ্কে পৌঁছে দেন।

    এই জয়ের মাধ্যমে বায়ার্ন মিউনিখ নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ড। তাদের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২১ জুন, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্স।

  • এবার রেকর্ড দামে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে দলে ভিড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ

    এবার রেকর্ড দামে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে দলে ভিড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ

    স্প্যানিশ ফুটবলের জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার উদীয়মান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এই তরুণের সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি করেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।

    রিয়াল মাদ্রিদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেট থেকে মাস্তানতুয়োনোকে দলে ভেড়ানো হয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে রিলিজ ক্লজ বাবদ ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো রিভার প্লেটকে পরিশোধ করবে ইউরোপের সফলতম এই ক্লাবটি। আর্জেন্টাইন ক্লাবের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ট্রান্সফার ফি।

    এদিকে, মাস্তানতুয়োনোর জন্য সময়টা শুধু ক্লাব ফুটবলে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চিলির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছে এই তরুণের।

    ক্লাব পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬১ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন মাস্তানতুয়োনো। তবে রিয়ালে এখনই যোগ দিচ্ছেন না তিনি। রিভার প্লেটের হয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ খেলে আগামী আগস্টে, যখন তার বয়স ১৮ হবে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডে।

     

  • ফ্রি-কিকে মেসির দারুণ গোল, তবুও জয়হীন মায়ামি

    ফ্রি-কিকে মেসির দারুণ গোল, তবুও জয়হীন মায়ামি

    ফুটবল দুনিয়ায় প্রথমবারের মতো ৩২ দলের অংশগ্রহণে পর্দা উঠেছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের। মঞ্চ যুক্তরাষ্ট্র, আলোয় ভাসছে স্টেডিয়াম, আর সেই মঞ্চেই নজর কাড়লেন লিওনেল মেসি। আজ রোববার ( ১৫ জুন) উদ্বোধনী ম্যাচে তার ইন্টার মায়ামির মুখোমুখি হয় মিশরীয় শ্রেষ্ঠ ক্লাব আল-আহলি। ম্যাচজুড়ে ছিল উত্তেজনা, মেসির পায়ের জাদুও ছড়িয়েছিল আলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আটকে যায় গোলের খাতা গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দলই।

    ফ্লোরিডার হার্ডরক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় মাঠে গড়ানোর কথা ছিল ইন্টার মায়ামি ও আল-আহলির মধ্যকার ম্যাচটি। তবে আসরের উদ্বোধনী পর্ব ও জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে কিছুটা বিলম্ব হয়। শুরু থেকেই দুই দলই নামে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল আল-আহলি। কিন্তু মাহমুদ ট্রেজেগুয়েটের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মায়ামির আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক অস্কার উস্তারি। দুর্দান্ত সব সেভের কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতেই। অবশ্য গোলবারের অন্যপ্রান্তে আহলির গোলরক্ষক মোহামেদ আল এলশেনাওয়িও ছিলেন সমান নৈপুণ্যে—মেসিদের একের পর এক আক্রমণ ফিরিয়ে দিয়েছেন কৃতিত্বের সঙ্গে।

    ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম ভালো সুযোগ তৈরি করেন আল-আহলির ফরোয়ার্ড আবু আলি। বক্সে ঢুকে শট নিতে দেরি করলে বল জমা পড়ে মায়ামির গোলরক্ষক উস্তারির হাতে। পরে অবশ্য দেখা যায়, তিনি অফসাইডে ছিলেন। এরপর মিনিট কয়েকের মাথায় আবারও মায়ামির রক্ষণে হানা দেন তিনি। এবার ইমাম আশুরের শট ঠেকিয়ে দেন দ্রুত এগিয়ে আসা উস্তারি, যিনি হয়ে ওঠেন আহলির সামনে এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল। একদম সামনে পেয়েও গোলের দেখা পায়নি আফ্রিকান জায়ান্টরা।

    ১৫ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক পায় ইন্টার মায়ামি, তবে ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য শটটি মেসি মেরে বসান পোস্টের অনেক বাইরে। ম্যাচজুড়ে দুই দলই আক্রমণে শানিত থাকলেও, বলের দখল ও খেলার নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল আল-আহলি।

    ৩২ মিনিটে এক ফাঁকা হেডার থেকেও অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মায়ামিকে বাঁচিয়ে দেন। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই উভয় দল বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিল। তবে নিজেদের বক্সে আহলি ফুটবলারকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেয় মায়ামি। স্পট কিকে ট্রেজেগুয়েট মায়ামি গোলরক্ষককে বিচলিত করতে পারেননি। বরং বল মেরেছেন তার হাতে। সেই স্বস্তি নিয়ে ফেরার পর মায়ামির ছন্দ ফেরে দ্বিতীয়ার্ধে। মেসিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে তারা বেশ গোছালো ফুটবল খেলতে থাকে। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়। ৬৪ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক একটুর জন্য জালের পাশে গিয়ে লাগে।

    শেষ পর্যন্ত উভয় দল একের পর এক আক্রমণ শাণায়। গোলের সুযোগ থাকলেও প্রতিবারই দুই গোলরক্ষক দারুণ মুনসিয়ানা দেখিয়েছেন। শেষদিকে মায়ামির কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ফাফা ফিকোল্ট দারুণ হেডে প্রায় আহলির জালে ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন আহলি গোলরক্ষক। এরপর তিনি আরও দুটি কর্নার থেকে আসা বল আটকান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল ডেডলক ভাঙতে পারেনি। ফলে স্কোরলাইন ০-০।

    ক্লাব বিশ্বকাপে এর আগে তিনবার অংশ নিয়ে তিনবারই শিরোপা জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে তখন তিনি ছিলেন বার্সেলোনার হয়ে মাঠে, আর প্রতিযোগিতার পরিসরও ছিল মাত্র সাত দলের সীমিত গণ্ডিতে। এবার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। প্রথমবারের মতো ৩২ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত হচ্ছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, যার পরিধি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুটোই বেড়েছে অনেকগুণ। এই প্রেক্ষাপটে মেসির দল ইন্টার মায়ামির সাম্প্রতিক ফর্মও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ফলে এবারের টুর্নামেন্টে মেসির মূল লক্ষ্য ছিল নিজের সেরাটা তুলে ধরা। দল কতদূর যেতে পারবে, সেই আলোচনা আপাতত দূরে সরিয়ে রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

     

  • অবশেষে ভিনির গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল

    অবশেষে ভিনির গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল

    গোল করে ছুটে গিয়ে আনচেলোত্তির সঙ্গে সেলিব্রেশনে মাতলেন ভিনিশিয়াস জুনিয়র, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ওই এক গোলেই ২০২৬ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো ব্রাজিল, নয়া কোচ পেলেন পয়লা জয়ের স্বাদ।

    কয়দিন আগেই পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানো গৌরব ফেরানোর দায়িত্ব ওঠে ফুটবল ময়দানের অভিজ্ঞ জেনারেল কার্লো আনচেলোত্তির কাঁধে। তার ট্যাক্টিক্সে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে সেলেসাওরা করলো ড্র। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সমীকরণের মারপ্যাঁচ তখন চোখ রাঙাচ্ছে দলটাকে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা গুরুত্বের দিক দিয়ে তাই উঠে গিয়েছিল ওপরের দিকে।

    সাও পাওলোতে এদিন ব্রাজিল দলের একাদশে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি গেমপ্ল্যানে এনেছেন বদল। ইকুয়েরডরের বিপক্ষে সেলেসাওদের স্লো করে দেওয়া রিচার্লিসন ছিলেন না শুরুর একাদশে। সাসপেনশন কাটিয়ে রাফিনিয়া যে ফিরবেন তা ছিল প্রত্যাশিত আর কুনহার অন্তর্ভুক্তিতে মেসেজটা ছিল ক্লিয়ার। গতির ঝড়ে মাঠজুড়ে নড়েচড়ে খেলা কুনহা গোলের চান্স ক্রিয়েট করে দেবেন ভিনিসিয়াস আর রাফিনিয়ার জন্য।

    ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করে ডন কার্লোর শিষ্যরা। বল পজেশন ধরে রেখে প্রেস করে একের পর এক আক্রমণে প্যারাগুইয়ান ডিফেন্সের দম বন্ধ করে দিচ্ছিল ভিনি-রাফিনিয়ারা। ফার্স্ট হাফে যেন জোগো বোনিতোর ঝলক দেখাতে নেমেছিল আনচেলোত্তির ব্রাজিল। ফল পেতে দেরি হয়নি। ৪৪ মিনিটে স্লাইড করে গোল করেছেন ভিনি জুনিয়র। গুরুর আস্থার প্রতিদান স্বরূপ অ্যাসিস্টটা করেছেন সেই কুনহাই।

    এক গোলে এগিয়ে বিরতিতে যাওয়া ব্রাজিল সেকেন্ড হাফে আরো দুর্দান্ত। একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা করেছে প্যারাগুয়েকে। ব্রাজিলিয়ানদের দাপটে কালেভদ্রে বল পাচ্ছিল আলফারোর শিষ্যরা। যদিও এদিন ফিনিশিং ভুগিয়েছে সেলেসাওদের। সেকেন্ড হাফের বাকি সময়টায় একের পর এক শট নিলেও গোল যেন অমাবশ্যার চাদ, পাওয়া যায়নি তার দেখা। শেষমেশ গুরু আনচেলত্তির জন্মদিনের রাতে জয় নিয়েই মাঠে ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ জয়টা নতুন কোচের জন্য যেন ছিল বার্থডে গিফট।

    কিন্তু নয়া কোচের অধীনে ব্রাজিল যে তাদের নিজেদের ব্র্যান্ড অফ ফুটবল খেলতে শুরু করেছে সেটা এ ম্যাচের পরিসংখ্যানে বেশ পরিষ্কার। ম্যাচের পুরো সময়টায় ৭৩ শতাংশ বল পজেশন ছিল সেলেসাওদের কাছে, প্যারাগুয়ের গোলমুখে ভিনি-মার্তইনেল্লি-রাফিনিয়ারা শট নিয়েছেন ১১ টি।

    তবে পরিসংখ্যানের একটা জায়গায় হয়তো আলাদা করে নজর দেবেন নয়া কোচ আনচেলত্তি। ম্যাচজুড়ে ১১ টি কর্নার পেলেও একটিতেও গোল আদায় করতে পারেনি সেলেসাওরা। সেট পিসে গোল মিসের পিএইচডি করতেই যেন এদিন নেমেছিল ব্রাজিল
    এত কিছুর পরেও খানিকটা স্বস্তি পেতেই পারে ভিনি-ক্যাসেমিরোরা।

    একদিকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার তৃপ্তি, অন্যদিকে আঞ্চেলোত্তির অধীনে ছন্দময় ফুটবলের ট্রেলার, ব্রাজিল ফ্যানরা হয়তো আজ নিশ্চিন্তে বলতেই পারেন ‘ইট ইজ আ গুড ডে ইনডিড’

  • এবার কোনোমতে প্রাণ আর মান বাঁচালো আর্জেন্টিনা

    এবার কোনোমতে প্রাণ আর মান বাঁচালো আর্জেন্টিনা

    প্রতিশোধ নেয়া হলো না, কোনোমতে প্রাণ আর মান বাঁচালো আর্জেন্টিনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়ে আলমাদার গোলে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তারা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

    কেভিন কাস্তানোর মাথাটাকেই বল ভেবে বসেছিলেন কিনা এনজো কে জানে? হাই ফুটের এমন শট, লাল কার্ডটা পকেট থেকে বের করতে এক মুহুর্তও দেরি করলেন না প্যারাগুইয়ান রেফারি। যদিও রিভার প্লেটের ফুটবলার কাস্তানোর কাছে ক্ষমা চান ওই একই ক্লাবের সাবেক ফুটবলার এনজো ফার্নাদেজ। তবে লাভ হয়নি কোনো। সোজা মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডারকে। আর্জেন্টিনা ভার্সেস কলম্বিয়া…ম্যাচ জুড়ে টইটুম্বর উত্তেজনা আর নাটকীয়তা।

    প্রতিশোধের ম্যাচে ঘরের মাঠে স্টার্টি লাইনআপে ফিরলেন লিওনেল মেসি। শুরু থেকেই মেসিকে চেপে ধরে কলম্বিয়ানরা।

    তবে খানিকবাদেই মেসি নন, পুরো ম্যাচের আলো কেড়ে নেন লুইস দিয়াজ। লেফট ফ্ল্যাঙ্ক থেকে ফাইনাল থার্ডে ঢুকে পড়েন লিভারপুলের লেফট উইঙ্গার। তিন ডিফেন্ডারকে ঘোল খাই্য়ে এমি মার্তিনেসকে হারিয়ে করে বসেন চোখ ধাধানো সলো গোল। এগিয়ে যায় কলম্বিয়া।

    বিরতির পর একাধিক পরিবরতন এনে আক্রমণের ধার বাড়ায় আরএজন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সব আক্রমণে থমকে যায় কলম্বিয়ার ডিফেন্সে এ্সে। এরপরই এনজোর ভুলে ১০ জনে পরিণত হয় আকাশী আলবিসেলেস্তেরা। মিনিটি আট বাদে তুলে নেয়া হয় লিওনেল মেসিকেও। শঙ্কা বাড়তে থাকে, ঘরের মাটিতে যে গেল এ্ক দশকে হার নেই দলটার। তবে এবার কলম্বিয়ার কাছেই ধরা।

    অবশেষে থ্রো থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে যান রেড হট ফর্মে থাকা আলমাদা। ওকে আ্র আটকানো যায়নি। সমতায় ফেরে হোস্টরা। ম্যাচ জুড়ে বিগ চান্স ক্রিয়েটে এগিয়ে কলম্বিয়ানরা। আর্জেন্টিনা শট নিয়েছে ১০ যার একটা গোলে পরিণত হয়েছে, এদিকে, কলম্বিয়া শট নিয়েছে ১১ তারাও গোল করেছে ১টা। তবে আর্জেন্টিনাকে আরো একবার বাঁচিয়ে দিয়েন এমি মার্তিনেস সেব করেছেন নিশ্চিত চারটি গোল। ম্যাচে আর গোল না হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে স্কালোনির শিষ্যরা। আসছে মাসের ১৬ই জুলাই, আবারো বিশ্বকাপের বাছাই খেরতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।