রুমিনের বক্তব্যে হইচই, সংসদ সদস্যদের শান্ত করলেন ডেপুটি স্পিকার

ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা চলাকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যদের হইচই ও প্রতিবাদে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে তাঁর নির্ধারিত বক্তব্যের সময় শেষ হলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিলের ওপর আলোচনা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্যে বিএনপি সরকারের সময়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এসব সংকট থাকবে না—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি সংসদের পরিবেশ নিয়ে অসহিষ্ণুতার অভিযোগ তুলে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী দলের বক্তব্যের সময়ও একই ধরনের হট্টগোল হতো। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সংসদে সেই আচরণ আরও খারাপভাবে দেখা যাচ্ছে।

এরপর রুমিন ফারহানার নির্ধারিত বক্তব্যের সময় শেষ হলে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। হট্টগোলের একপর্যায়ে তিনি তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যও এ সময় তাঁর পক্ষে প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে; বক্তব্যে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা রুলিংয়ের মাধ্যমে বাদ দেওয়া যেতে পারে। তবে বক্তব্যে বাধা দেওয়া ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার বা সভাপতির আসন থেকে তা বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও বক্তব্যের জবাব দিতে পারেন। কিন্তু কোনো সদস্যের বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়।

এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও আলোচনার বিষয়বস্তু ও সংসদের কার্যক্রমের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

পরে হট্টগোলের মধ্যেই ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটির মাধ্যমে ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *