ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসে।
এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি, ফিনটেক, শিক্ষা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। যৌথ প্রশিক্ষণ এবং ভারত থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় ভারতীয় শিল্প ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদি। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। সাত বছর পর তার ভারত সফর হওয়ায় এবারের শি-মোদি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনায় এসেছে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার ও সংলাপের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে ব্রিকসের মঞ্চে শি-মোদি বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা, বহুপক্ষীয়তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ভারত ২০২৬ সালের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে এবং সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’।
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি মোদির ধারাবাহিক এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার পরিধিকেও সামনে এনেছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোতেই এবারের বৈঠকগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply