Tag: ইরান

  • জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ২০ ক্ষেপণাস্ত্রের ১৮টি প্রতিহতের দাবি

    জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ২০ ক্ষেপণাস্ত্রের ১৮টি প্রতিহতের দাবি

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হামলায় ঘাঁটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধবিমান রাখার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের পক্ষ থেকে ইরানের দাবির পুরোটা নিশ্চিত করা হয়নি।

    মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ঘাঁটিটিতে মার্কিন সামরিক সদস্য ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। প্রাথমিকভাবে জর্ডান কোনো হতাহতের খবর জানায়নি।

    তবে মার্কিন ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের জন্য ব্যবহৃত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রস্তুতি ও মোতায়েন এলাকার পাশাপাশি বিমান রাখার স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা হামলাটিকে কার্যকর নয় বলে বর্ণনা করেছেন। ফলে কতগুলো মার্কিন বিমান বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কত—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এই হামলা আসে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এর আগে দুই দফায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। ওই হামলা এড়িয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি ট্যাঙ্কারগুলোতে হামলা চালায় বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অন্তত ১০টি নৌযান লক্ষ্য করার দাবি করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী জাহাজ ছিল। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত লাগেনি এবং ইরানের সব হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সমুদ্রপথে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথগুলোর একটি এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। নতুন করে হামলা ও নৌ চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

    এদিকে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

    জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌযান ঘিরে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলেছে। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় এর প্রভাব বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে জনগণের অধিকারে আপস নয়: পেজেশকিয়ান

    ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে জনগণের অধিকারে আপস নয়: পেজেশকিয়ান

    মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ করতে কূটনৈতিক পথে হাঁটতে ইরান প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এসব কথা বলেন বলে ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

    পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, আলোচনার মধ্যেই ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তিনি ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

    এদিকে অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক পৃষ্ঠার একটি প্রাথমিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও উভয় পক্ষ রাজি হতে পারে বলে জানা গেছে।

    তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে।

  • ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ১-২ বছর পিছিয়েছে: পেন্টাগন

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ১-২ বছর পিছিয়েছে: পেন্টাগন

    ইরানে প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় গত মাসে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার ফলে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। খবর আল জাজিরা সিএনএনের। 

    বুধবার (২ জুলাই) এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

    তবে পেন্টাগনের এই তথ্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির বিপরীত। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে।

    স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ‘ধ্বংস’ হয়েছে। মার্কিন এই কর্মকর্তা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে চালানো হামলাকে ‘সাহসী অভিযান’ উল্লেখ করে প্রশংসা করেছেন।

    সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক থেকে দুই বছর পেছাতে সক্ষম হয়েছি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও এমনটাই বলা হয়েছে।

    গত ২১ জুন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান থেকে বাংকার বাস্টার বোমা হামলা চালায়। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে, যা এর আগে কেউ দেখেনি।

    তবে গত মাসে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদানগুলোকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে, কেবল কয়েক মাসের জন্য কর্মসূচি পিছিয়েছে মাত্র। ইরান নিজেও এ নিয়ে খুব বেশি কিছু জানায়নি।

    ইরানের দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত সপ্তাহে বলেন, ট্রাম্প এই হামলার প্রভাব ‘বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন।’

     

     

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি  ইসরায়েল

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি ইসরায়েল

    ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি, দেশটি জানায়—ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তারা ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ পাল্টা জবাব দেবে। আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি ও জেরুজালেম পোস্ট।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করে ঘোষণা দেন, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযান “রাইজিং লায়ন” প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে এবং সব লক্ষ্য পূরণ করেছে”।

    ‘পারমাণবিক ও ব্যালিসটিক হুমকি নির্মূল করা হয়েছে, যা (ইসরায়েলের) জন্য তাৎক্ষণিক অস্তিত্ব সংকট ও হুমকির উৎস ছিল’, বিবৃতিতে আরও বলা হয়।

    ‘সুরক্ষা সহায়তা দেওয়া ও ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানায় ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘন হলে “সর্বশক্তি দিয়ে” পাল্টা জবাব ইসরায়েল।’

     

  • ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশের সব ফ্লাইট বাতিল

    ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশের সব ফ্লাইট বাতিল

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আশঙ্কায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে ঢাকা থেকে এসব গন্তব্যে পরিচালিত সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    সোমবার (২৩ জুন)  মধ্যরাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ ঘোষণায় এই কথা জানান।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “নাগরিক, অধিবাসী ও ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশগুলোতে আগমন ও বহির্গমন—দুই ধরনের ফ্লাইটই স্থগিত থাকবে।“

    এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও বাহরাইনগামী যাত্রীদের ওপর। ঢাকা থেকে পরিচালিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস- বাংলা এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ারসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

    সোমবার রাতে কাতারের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এরপর একে একে দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

  • হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের

    হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রস্তাব পাস করেছে ইরানের পার্লামেন্ট। এই প্রস্তাবের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক সংসদীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ইসমাইল কোসারি জানিয়েছেন, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা কৌশল হিসেবে পার্লামেন্টের সদস্যরা হরমুজ প্রণালি বন্ধের পক্ষে একমত হয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।

    কোসারি বলেন, ‘আমরা এই প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। তবে বাস্তবায়নের ক্ষমতা নিরাপত্তা পরিষদের হাতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি প্রয়োজনীয় ও কৌশলগত জবাব।’

    পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। এই পথেই কাতারসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানি হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি বন্ধ হলে তেলের দামে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে—এক সপ্তাহের মধ্যেই মূল্য ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বিকল্প পরিবহনপথ ব্যয়বহুল হওয়ায় বিশ্বব্যাপী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়বে, অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এজন্য বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরপরই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে

  • রাশিয়ার সাথে বৈঠকে বসবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাশিয়ার সাথে বৈঠকে বসবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাত্র পর এবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

    রবিবার (২২ জুন) দিন শেষে তিনি মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “ রাশিয়ার সাথে আমাদের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। আমাদের পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কথা হয় এবং আমাদের অবস্থান নিয়ে আমরা সমন্বয় করি।”

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে তিনি বলেন, “এখন কোনো চূড়ান্ত সীমা নেই, যেটা যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেনি। সর্বশেষ তারা যেটা করেছে, সেটা খুবই বিপজ্জনক। আমাদের পরমাণু স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে তারা আরেকটি বড় চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।”

    এদিকে ইরানে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের হামলা চালানোর পর ইসরায়েলে প্রায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ সময় ইসরায়েলজুড়ে ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিব, হাইফাসহ ইসরায়েলের অন্তত ১০টি এলাকায় আঘাত হেনেছে। আর এতে ৮৬ জন আহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, রবিবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে তারা।

     

     

     

     

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে লাতিন আমেরিকার ৫ দেশ কি বলছেন?

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে লাতিন আমেরিকার ৫ দেশ কি বলছেন?

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ। কোনো কোনো দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

    কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল শনিবার রাতে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এটি ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তার করতে পারে।

    কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল শনিবার রাতে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

    তিনি আরও বলেন,  এই হামলা মানবতাকে এক অপরিবর্তনীয় সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সংঘাত আরও বিস্তার করতে পারে।

    আবার ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হামলাটি সামরিক আগ্রাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।”

    অন্যদিকে চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিচ এক্স-এ লেখেন, “আমরা শান্তি চাই এবং সেটাই প্রয়োজন।“

    এবং মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “শান্তিপূর্ণ অবস্থাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”

    এদিকে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এই সংঘাত কমাতে আলোচনা শুরু করা উচিত।”

     

  • কড়া হুঁশিয়ারি ‘ইরান বড় ভুল করেছে’: নেতানিয়াহু

    কড়া হুঁশিয়ারি ‘ইরান বড় ভুল করেছে’: নেতানিয়াহু

    ‘ইরান আজ রাতে একটি বড় ভুল করেছে- এর জন্য তারা মাশুল দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক নিরাপত্তা বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

    তিনি বলেছেন, ইরান সরকার নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের সংকল্প এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের সংকল্প বুঝতে পারেনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, হামাস, হিজবুল্লাহ সংগঠনের প্রধান এবং ইরানের এক কমান্ডারকে হত্যার দায়ে ইসরাইলে এ হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। হামলার পর তেহরানকে কড়া সতর্ক বার্তা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেছেন, ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া তিনি ইরানের হামলার প্রতিশোধ নেয়ারও অঙ্গীকার করেছেন। নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান আজ রাতে একটি বড় ভুল করেছে- তাদের এর মাশুল দিতে হবে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতজুড়ে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ১৮১টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের সেনাবাহিনীর এলিট শাখা ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই অবশ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

  • ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইরানের মিসাইল হামলার পর মুখ খুললেন

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইরানের মিসাইল হামলার পর মুখ খুললেন

    ইরানের মিসাইল হামলার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়ে ইরান ভুল করেছে। তারা এর মূল্য দেবে।

     

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।

    ইরানের হামলার পর নিজস্ব নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু। বৈঠক শুরুর আগে ইরানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বাক্য উচ্চারণ করেন তিনি। এছাড়া নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের হামলা ব্যর্থ হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

    তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে ইরানের হামলা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত।

    দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ইরানের প্রক্সি বাহিনী ব্যর্থ হচ্ছে। তারা জয়ী হচ্ছেন। আর তারাই জয়ী হয়ে যাবেন এবং যুদ্ধের যতো লক্ষ্য আছে তার সবই অর্জন করবেন।