Tag: এমবাপে

  • এমবাপে-ওলিসের ঝড়ে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

    এমবাপে-ওলিসের ঝড়ে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দারুণ ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়ে সুইডেনকে হারিয়ে নিজেদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল এবং মাইকেল ওলিসের অসাধারণ সৃজনশীলতায় সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে দিদিয়ের দেশাম্পের দল।

    বুধবার (১ জুলাই) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে সুইডেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় ফ্রান্স। ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে সুইডিশ রক্ষণভাগ।

    ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের চমৎকার সমন্বয়ে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। গোলটি উদযাপন করতে পুরো দল কোচ দিদিয়ের দেশাম্পকে ঘিরে ধরে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৫তম মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপে।

    এই জোড়া গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির সমকক্ষে পৌঁছেছেন এমবাপে। অন্যদিকে দুটি অ্যাসিস্ট ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মাইকেল ওলিস।

    ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন, দলের ঐক্য ও পারস্পরিক সমর্থনই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার ফরাসি দলের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য ও পাসিং ফুটবলের প্রশংসা করে বলেন, এমন দলের বিপক্ষে রক্ষণ সামলানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন।

    তবে বড় জয়ের পরও সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশাম্প। তিনি বলেন, সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে এবং শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে।

  • বেনফিকা ম্যাচের আগে রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ: হাঁটুর চোটে এমবাপে অনিশ্চিত

    বেনফিকা ম্যাচের আগে রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ: হাঁটুর চোটে এমবাপে অনিশ্চিত

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নকআউট প্লে অফের দ্বিতীয় লেগে বেনফিকার বিপক্ষে খেলতে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ এসেছে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে সম্পর্কে।

    ফরাসি দৈনিক লেকিপ জানিয়েছে, এমবাপে গতকাল (মঙ্গলবার) ট্রেনিং শেষ করতে পারেননি। বাঁ পায়ে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে তিনি অনুশীলন থেকে সরে দাঁড়ান এবং বিকেলে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বেনফিকার ম্যাচে তাকে মাঠে দেখা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।

    গত ডিসেম্বরে হাঁটুর চোটে আহত হওয়া এমবাপে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া আসার পর থেকে তিনি ব্যথা নিয়েই খেলে যাচ্ছেন। লেকিপ জানিয়েছে, শুধু বেনফিকা ম্যাচ নয়, আগামী লা লিগার ম্যাচগুলো—গেতাফে এবং সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে—তেও এমবাপে অনুপস্থিত থাকবেন। শেষ ষোলোতে রিয়াল উঠলেও তার খেলা অনিশ্চিত।

    এমবাপে ট্রেনিং থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও কোচ আরবেলোয়া সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ জয়ী এই ফরোয়ার্ডকে দলে রাখতে চায় ক্লাব। তবে বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় শরীরের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে বিশ্রামে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অন্তত আগামী ১০ দিন বিশ্রামে থাকবেন এবং তিনটি ম্যাচ খেলবেন না।

  • ভিনিসিয়ুসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলার অভিযোগ, কঠোর শাস্তি দাবি এমবাপের

    ভিনিসিয়ুসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলার অভিযোগ, কঠোর শাস্তি দাবি এমবাপের

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফের নকআউট পর্বের প্রথম লেগে Real Madrid ১-০ গোলে জয় পেলেও ম্যাচটি ছাপিয়ে গেছে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ। লিসবনের Estádio da Luz-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে Vinícius Júnior-এর প্রতি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

    ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড Kylian Mbappé জানান, আর্জেন্টাইন তরুণ Gianluca Prestianni ভিনিসিয়ুসকে উদ্দেশ করে পাঁচবার ‘বানর’ বলে অপমান করেছেন। মিক্সড জোনে এমবাপে বলেন, “আমি পরিষ্কার দেখেছি, ২৫ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ভিনিকে পাঁচবার ‘তুমি বানর’ বলেছে। এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা দারুণ অভিজ্ঞতা, কিন্তু এই ধরনের দৃশ্য বিশ্ব ফুটবলের জন্য ভয়াবহ।”

    ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা আরও বলেন, “আমি তাকে বর্ণবাদী বলেছি, কারণ আমার কাছে সেটাই মনে হয়েছে। সে জার্সির আড়ালে মুখ লুকাতে চেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবতা লুকানো যায় না। এ ধরনের ব্যক্তি পেশাদার ফুটবলার হতে পারে না। ফুটবল মাঠে এমন কথার কোনো জায়গা নেই।”

    ঘটনার সময় মানসিকভাবে বিচলিত ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ম্যাচের আগেই তিনি চোখ ধাঁধানো এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তার প্রশংসা করে এমবাপে বলেন, “সে অসাধারণ একটি গোল করেছে, যা আমাদের জয় এনে দিয়েছে।”

    এ ঘটনায় ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা UEFA-র কাছে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এমবাপে। তিনি বলেন, “যে বাচ্চারা আমাদের খেলা দেখে, তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। এমন আচরণ অসহনীয়। বেনফিকা বা তাদের কোচের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই, কিন্তু এ ধরনের খেলোয়াড়ের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার অধিকার থাকা উচিত নয়। আমরা আশা করি উয়েফা ব্যবস্থা নেবে।”

    ঘটনাটি আবারও ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদের প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে উয়েফা কী সিদ্ধান্ত নেয়।