Category: এক্সক্লুসিভ

  • আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ৩ আসামির যাবজ্জীবন, ৬ জন খালাস

    আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ৩ আসামির যাবজ্জীবন, ৬ জন খালাস

    ২৫ বছর আগে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুর ১২টায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আরুণাভ চক্রবর্ত্তী এ রায় ঘোষণা করেন।

    এর আগে গত ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এ মামলায় রায় ঘোষণার আজ দিন ধার্য করেন আদালত।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজ ও আদনান সিদ্দিকী।

    কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বাকি ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

    ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। সোহেল চৌধুরী নিহত হওয়ার পরপরই এই হত্যাকাণ্ডে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সোহেল চৌধুরীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে সোহেল চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে সোহেল তার বন্ধুদের নিয়ে ট্রাম্পস ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে আবারও তিনি ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন সোহেলকে লক্ষ্য করে ইমন, মামুন, লিটন, ফারুক ও আদনান গুলি চালান।

    মামলাটির তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর দুই বছর পর মামলাটির বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দুই নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

    মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন। বিচারপতি মো. রূহুল কুদ্দুস এবং বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর তৎকালীন ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রায় দেন। রায়ে রুলটি খারিজ করে দেওয়া হয়। এবং হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

    সবশেষ ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলার নথি বিচারিক আদালতে ফেরত আসলে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেন বিচারিক আদালত। বিচার চলাকালে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

  • আইএমএফ রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা কমালো

    আইএমএফ রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা কমালো

    চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ২০.১০ বিলিয়ন থেকে কমিয়ে ১৪.৭৬৯ বিলিয়ন ডলার করতে সম্মত হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর ফলে আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ পেতে বাংলাদেশের আর কোনো বাঁধা থাকলো না। ঋণের তৃতীয় কিস্তিতে ১.১৫২ বিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ। আইএমএফের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকৃত রিজার্ভ আছে ১৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে আইএমএফের নতুর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দেশে রিজার্ভ কিছুটা বেশি আছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কীভাবে তার রিজার্ভ বাড়াবে সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা দিয়েছে আইএমএফ।

    সূত্র জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে রিজার্ভ লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৮৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রা ১৫.৩০০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ১৬.৬০১ বিলিয়ন ডলার এবং জুন শেষে তা ১৯.৪৪০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে বাংলাদেশ আইএমএফ ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত দাতা সংস্থাটির ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোইকোমিক্স ডিভিশনের প্রধান ক্রিস পাপাগেওর্জিউ। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    আইএমএফ প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি পেতে কোনো সমস্যা হবে না। ঋণদাতা তাদের বোর্ড মিটিংয়ের পর তৃতীয় কিস্তি ছাড় করবে। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উপায় নিয়ে কাজ করবে সরকার।

    ক্রিস পাপাগেওর্জিউ বলেছেন, আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির ঋণ পেতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল।

    এখন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাতা সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
    আইএমএফ প্রতিনিধিদল প্রধান বলেন, আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার করেছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য ফর্মুলাভিত্তিক জ্বালানি মূল্য সমন্বয় নীতি তারা বাস্তবায়ন করেছেন। মূল্যস্ফীতিসহ নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিনিময় হার পুনর্বিন্যাসে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ।

    আমরা অনুমান করছি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯.৪ শতাংশ হবে। তবে কঠোর নীতির মিশ্রণ এবং বৈদেশিক খাদ্য ও দ্রব্যমূল্য কমার কারণে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমে ৭.২ শতাংশ হবে।

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে আইএমএফ গত বছরের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে। ঋণ অনুমোদনের পরপরই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সাত কিস্তিতে পুরো অর্থ দেয়ার কথা রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদন দেয় আইএমএফের বোর্ড।

     

  • ব্যাংক ঋণের সুদহার আবারও বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে

    ব্যাংক ঋণের সুদহার আবারও বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে

     

    ব্যাংক ঋণের সুদহার আবার বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় চলে আসছে। এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে। সূত্র জানিয়েছে, চলতি বা আগামী মাস থেকেই তা কার্যকর হবে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ঋণের সুদহার দ্রুতই বাজারভিত্তিক হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যা আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    গভর্নর বলেছেন, বর্তমানে রেফারেন্স রেট অনুসারে ব্যাংকের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে। শিগগিরই এটি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সুদহার নির্ধারণের ব্যবস্থাটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণে ব্যাংকের স্বাধীনতা থাকবে। এখন যে সুদহার চলছে তা থেকে আর বেশি বাড়বে না।

    সুদহার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন একটি নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এর ফলে ঋণের সুদ এখন প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ছিল ১২.৪৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে হয় ১৩.১১ শতাংশ।

    এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আজ ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে কবে থেকে ঋণের সুদহার বাজারভিত্তিক করা হবে তার ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এতে করে স্মার্ট সুদহার আর থাকছে না। বাজারে সুদহার কমলে গ্রাহক কম সুদে ঋণ পাবে, আবার বাড়লে বেশি সুদে ঋণ নিতে হবে।

    এর আগে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারিত ছিল ৯ শতাংশে। গত জুলাই মাসে সুদের হার বেঁধে দেওয়ার ঐ পদ্ধতি থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বা স্মার্ট পদ্ধতিতে ঋণের সুদের ভিত্তি হার নির্ধারিত হয়। এই ভিত্তি হারের সঙ্গে এর আগে বাড়তি ৩.৫০ শতাংশ সুদ যুক্ত হলেও এবারে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ শতাংশ সুদ যোগ করার জন্য বলেছে। ভিত্তি হার ও বাড়তি সুদ এই দুইয়ে মিলে ঋণের চূড়ান্ত সুদহার নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলো। মার্চ মাস শেষে স্মার্ট হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৫৫ শতাংশে। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ যুক্ত করলে ঋণের সুদ দাঁড়ায় ১৩.০৫৫ শতাংশ।

    উদ্যোক্তারা বলেছেন, ঋণের সুদ হার যেভাবে বাড়ছে তাতে ব্যবসা খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ডলারের দামও চড়া। সব মিলে আমদানি পণ্যের দাম আরও বাড়বে। এতে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর সুফল কতটুকু মিলবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে সুদহার বাড়ানোর ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ কিছুটা কমেছে। তবে এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমে গেছে। নতুন শিল্প স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবার আইএমএফ মোটাদাগে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, রাজস্ব আহরণ আরেকটু বাড়ানো ও সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে আনা। সরকারও আইএমএফের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইএমএফের পরামর্শ মানা হলে সুদহার নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতি স্মার্ট বা সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বাতিল হয়ে যাবে। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ভিত্তিতে বর্তমানে ঋণের সুদহার নির্ধারণ হচ্ছে।

    এদিকে, নয়-ছয় সুদের সীমা তুলে দেওয়ার পর থেকে সব ধরনের ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। প্রতি মাসে বাড়ছে ঋণের সুদ। তবে যে গতিতে ঋণের সুদ বাড়ছে, সেই গতিতে আমানতের সুদ বাড়াচ্ছে না অধিকাংশ ব্যাংক। গত ৯ মাসে ঋণের গড় সুদহার যেখানে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে, সেখানে আমানতের সুদহার বেড়েছে ১ শতাংশেরও কম। এতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) ব্যাপক হারে বাড়ছে। ইতিমধ্যে গড় স্প্রেড ৫ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এই হার অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি।

  • বিরল ঘটনা, ইমামের রাজকীয় বিদায়

    বিরল ঘটনা, ইমামের রাজকীয় বিদায়

    দীর্ঘ ৩৭ বছর পর অবসরে যাওয়া ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা। মঙ্গলবার (৭ মে) বাদ এশা মসজিদে অনাড়াম্বর এক বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা শেষে হাফেজ আব্দুল মজিদকে ফুল দিয়ে সাজানো মাইক্রোবাসে করে বাড়িতে পৌঁছে দেয় কমিটি।

    মসজিদ কমিটি জানায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেলগাছি এলাকার বাসিন্দা হাফেজ আব্দুল মজিদ দীর্ঘ ৩৭ বছর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডে অবস্থিত বায়তুল আমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন। এমন অবস্থায় হাফেজ আব্দুল মজিদ বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় মসজিদ কমিটি তাকে সম্মানের সঙ্গে রাজকীয় বিদায় জানায়।

    কমিটি জানায়, ইমামকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ওমরা হজ পালন করানোর খরচ বহনসহ নগদ ৩ লাখ টাকা দিয়ে ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে বিদায় জানানো হয়।

    এ সময় উপস্থিত মসজিদ কমিটির লোকজনসহ সাধারণ মুসল্লিরা তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে হাফেজ আব্দুল মজিদকে ফুল দিয়ে সাজানো মাইক্রোবাসে করে বাড়িতে পৌঁছে দেয় কমিটি। হাফেজ আব্দুল মজিদের এই রাজকীয় বিদায়ে তার পরিবারসহ সাধারণ মানুষ বায়তুল আমান জামে মসজিদের কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    বিদায় অনুষ্ঠানে মুফতি রুহুল আমীনসহ মসজিদ কমিটির সদস্যরাসহ সাধারণ মুসল্লিরা ও অত্র এলাকার হাফেজ ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    হাফেজ আব্দুল মজিদ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আল্লাহ পাক আমাকে এ সম্মান দিলেন। তার দরবারে হাজারো শুকরিয়া। আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি।’

  • জানলে অবাক হবেন বৃষ্টির সময় কই মাছ মাটিতে উঠে আসে কেন?

    জানলে অবাক হবেন বৃষ্টির সময় কই মাছ মাটিতে উঠে আসে কেন?

    বর্ষাকালে অর্থাৎ আষাঢ়-শ্রাবণের সময় অনেকেই হয়তো একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন যে, যখন প্রচন্ড বৃষ্টি বা বজ্রপাত হয়, তখন আশেপাশের পুকুর, খাল-বিল থেকে কই মাছ মাটিতে উঠে আসে।

    জীবন্ত কই মাছ মাটির ওপর লাফালাফি করে। এই ঘটনাকে গ্রামের মানুষ বলে ‘মাছ উজানো’। উজান হলো স্রোতের বিপরীত দিকে যাওয়া। কেন এমন হয়? নিশ্চয়ই প্রশ্নটা আপনার মনেও এসেছে। ইন্টারনেট কিংবা খুব বেশি বইতে এই বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই। এই বিষয়ে জানতে হলে প্রথমে ট্যাক্সিস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

    ট্যাক্সিস একটা টার্ম; যার অর্থ প্রাণীর দিকমুখিতা। সহজভাবে বললে, বিভিন্ন পরিবেশে (যেমন তাপ, চাপ, আলো, শব্দ) প্রাণীর ছুটে চলা। যখন বিভিন্ন পরিবেশের দিকে প্রাণী ছুটে চলে, তখন তাকে পজেটিভ ট্যাক্সিস বলা হয়। কই মাছের ট্যাক্সিস হলো পজিটিভ ট্যাক্সিস।

    কোনো প্রাণী স্রোতের দিকে চললে তাকে রিওট্যাক্সিস বলে। যা এক প্রকার পজিটিভ ট্যাক্সিস। বৃষ্টি হলে পুকুর বা নদীতে পানি বেড়ে যায়। তখন স্রোতের দিকে কই মাছ চলতে শুরু করে; বিষয়টিকে অনেকেই নতুন পানিতে যাওয়া বলে থাকেন। আর কই মাছের পাখনা বেশ শক্ত. তাই তারা মাটির উপরেও নড়াচড়া করতে পারে।

    আরেকটি কারণও আছে অবশ্য। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে অক্সিজেন এবং খাবারের ঘাটতি তৈরি হয়। কই মাছ বৃষ্টির পানি পাওয়ায় সে অক্সিজেন ও খাবারের জন্য স্রোতের সঙ্গে রিওট্যাক্সিসে সাড়া দেয়। শুধু কই-ই নয়; শিং, মাগুর, গুতুম মাছও বৃষ্টির সময় স্রোতের দিকে এবং পুকুর পাড়ে উঠে আসে।

     

  • উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। মঙ্গলবার সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম ধাপে ৪১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রথম ধাপে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

    ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এসব বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে সাইবার নজরদারি শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। ৫৯ জেলার ১৪০ উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হতে যাচ্ছে।

    সোমবার রাতে পুলিশের ৮৩ হাজার সদস্য মাঠে নেমেছে। শুক্রবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে তারা দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৪ সদস্য কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে ২ হাজার ৮২০ জন সশস্ত্র আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ২ হাজার ২৮৮ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে র‍্যাব ও বিজিবির পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এর মধ্যে নির্বাচন প্রস্তুতি, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনপরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন তারা। এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে পুরো নির্বাচনে মোতায়েন আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন তদারকির জন্য আলাদা টিম গঠন করেছে সদরদপ্তর। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আরও দুই হাজার সদস্য মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। তারা সবাই শুক্রবার পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করায় ঝুঁকি কিছুটা বাড়ছে। তবে গোয়েন্দা জালে পুরো নির্বাচনী এলাকা। আলাদা টিমে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো স্পর্শকাতর তথ্য পেলেই কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে। নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সরকারদলীয় একাধিক প্রার্থী অংশ নেওয়ায় কিছুটা আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। একই দলের একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রশাসনকে খুবই নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে মোবাইল টিম টহলে থাকবে। এ ছাড়া প্রতিটি থানায় পুলিশ ও সশস্ত্র আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি) সদস্যদের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা হচ্ছে। থানা এলাকায় র‍্যাব ও বিজিবি টহল দেবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা অপারেশনে যাবে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র পুলিশ সুপার এনামুল হক সাগর সমকালকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনামতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে।
    র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করবেন। টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত র‍্যাব।

    আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) ফখরুল আলম বলেন, উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

     

  • বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অফশোর ব্যাংকিংয়ে তোড়জোড়

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অফশোর ব্যাংকিংয়ে তোড়জোড়

    দেশে ডলারের জোগান বাড়াতে ‘অফশোর ব্যাংকিং’ কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজস্ব ছাড় দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। এদিকে, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে এ খাতে ডলারের জোগান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

    জানা গেছে, পাঁচটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্থাৎ ডলার, পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং চীনা ইউয়ানে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। তবে পাঁচটি মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ থাকলেও ডলার বেশি ব্যবহৃত হবে। কারণ ডলার সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আর এতে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    এ প্রেক্ষাপটে গত ২৮ এপ্রিল বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২২ এপ্রিল অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের অর্জিত মুনাফার (সুদ) ওপর কোনো কর দিতে হবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অফশোর ব্যাংকিং আইন ২০২৪-এর খসড়াও প্রস্তুত করে। খসড়া বিধানে স্টেকহোল্ডার হিসেবে এনবিআরের মতামত অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। খসড়া আইনের দফা ১৩(ক) অনুযায়ী অফশোর ব্যাংকিং ব্যবসায় অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট কর্তৃক অর্জিত সুদ বা মুনাফার ওপর আয়কর বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর আরোপ করা যাবে না।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি অফশোর ব্যাংকিং আইন ২০২৪-এর খসড়ার নীতিগত ও চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। ডলার সংকটের বিষয়টি অনেক ভুগিয়েছে দেশের আমদানি বাণিজ্যকে। এক্ষেত্রে কাজে আসেনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া কোনো উদ্যোগই, যার প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে, রিজার্ভ নেমেছে তলানিতে।

    জানা গেছে, দেশে ১৯৮৫ সালে অফশোর ব্যাংকিং অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৮ ফেব্রæয়ারি অফশোর ব্যাংকিং আইন ২০২৪-এর খসড়ার নীতিগত ও চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। ফলে বিনিয়োগকারী অনাবাসী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো অফশোর অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।

    পাঁচ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ডলার, পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চীনা ইউয়ানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। বর্তমানে যে অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা রয়েছে তাতে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) না থাকলে আমানতের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। আর টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। নতুন আইনে কোনো প্রকার করই দিতে হবে না। সেইসঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং লেনদেনে যে সুদ আসবে তার ওপরও কোনো কর আরোপ করা হবে না। এমনকি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য কোনো সুদ বা চার্জ দিতে হবে না।

    বর্তমানে অনাবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের থেকে আমানত নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এ আইনটি পাস হলে তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ইউনিটগুলো বিদেশিদের পাশাপাশি অনাবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের থেকেও আমানত নিতে পারবে। অনুমোদিত নতুন আইনে কোনো ঋণসীমা রাখা হয়নি। এতে যেকোনো পরিমাণ লেনদেন করা যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইপিজেডে যে অফশোর অ্যাকাউন্ট রয়েছে তা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। এসব অ্যাকাউন্টে কোনো লাভ দেওয়া হয় না। তবে নতুন আইনে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে লাভ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    এই খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী ব্যাংকগুলোতে অফশোর অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। যাদের লাইসেন্স আছে তাদের নতুন করে নিতে হবে না।

    বর্তমানে ৩৯টি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যারা বিনিয়োগ করবে তারা বিদেশি বা অনাবাসী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে হবে।

    অনুমোদিত এই আইনের অধীনে ব্যাংকগুলো বিদেশি বা অনাবাসী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় যে আমানত গ্রহণ করবে তা স্বাভাবিক ব্যাংকিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারবে।

    বিদেশে যে বাংলাদেশি বসবাস করছেন তার পক্ষে দেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সহায়তাকারী হিসেবে তারা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।

    ব্যাংকাররা বলছেন, এই ব্যাংকিং পদ্ধতিতে অসুবিধার চাইতে সুবিধাই বেশি। এই ব্যাংকিংয়ে যেকোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি দেশ-বিদেশে সহজ শর্তে ব্যবসা করতে পারবে।

    অনুমোদিত নতুন আইনের আওতায় সরকার এই ব্যাংকিং কার্যক্রমে আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো এতে বিধিনিষেধ একেবারেই কম। গ্রাহকের তথ্য সংক্রান্ত চ‚ড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা হলো ব্যাংকের ভেতরে পৃথক ব্যাংকিং সেবা। অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে আমানত গ্রহণ ও ঋণ বৈদেশিক উৎস থেকে আসে ও বিদেশি গ্রাহকদের দেওয়া হয়। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ এবং বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসা হয় এ ব্যাংকিংয়ে।

    তিনি আরও বলেন, ‘এটা ভালো উদ্যোগ। বাংলাদেশি যারা বিদেশে আছেন তারা যেন তাদের ফরেন কারেন্সি বাংলাদেশে এনে রাখেন। ভারত বিগত ৫-৭ বছরে এটাতে খুব সফল হয়েছে। ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ভালো করেছে। আমরা শুরু করছি। আমাদের এখন প্রয়োজন সব ব্যাংককে এটা ভালোমতো বুঝিয়ে এর প্রোডাক্ট তৈরি, মার্কেটিং এবং বিভিন্নভাবে এটাকে প্রমোশন করা। সেটা কীভাবে কী হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

    মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন বলেন, অতীতে এমন উদাহরণও রয়েছে, অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে লোন নিয়ে দেশে ব্যবসা করছে। দেশে লোন শোধ করছে। এক্ষেত্রে তার এক্সপোর্ট সেভাবে না থাকলে ওই লোন শোধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তার মানে তাকে উল্টা করে লোকাল টাকা দিয়ে লোন শোধ করার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত এক্সপোর্টের মাধ্যমে কাভার না করলে ওই লোন পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে।

    এ সমস্যা রোধে তদারকি করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কারণে লোন দেওয়া হচ্ছে সেটা পালন হচ্ছে কিনা সেটা মনিটরিং জরুরি। এই কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা এখন সর্বাধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। পৃথিবীর বহু দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের বৈদেশিক রিজার্ভ ও আর্থিক কাঠামোকে সমৃদ্ধ করেছে। এতে করে তারা শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। এছাড়া আমরা এটিকে একটি অপশন হিসেবে ব্যবহার করছি, যাতে বিদেশিরা এসে টাকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হয়। অফশোর এই আইনে স্বাধীনভাবে অপারেট করা যাবে।’

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, ‘বাংলাদেশে যেসব বিদেশি বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ নিয়ে যান, তখন তারা বাইরের অফশোর কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা রাখেন। আবার আমাদের এখানে যখন আনেন তখন তারা আমাদের কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যাংকে ঢোকান না। কারণ যখন তারা নিয়ে যাবেন তখন নানান বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এখানে একটা সুবিধা হবে বিদেশিরা ব্যবসা করে যে লভ্যাংশ পাবেন সেটা এখন ব্যাংকে রাখবেন। কারণ এখন ব্যাংকে টাকা রাখলেই লাভ দেওয়া হচ্ছে। যেটা আন্তর্জাতিকমানের। সুতরাং এখানে বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই এটি করা হচ্ছে।’

    বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। অনাবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে যখন দেশে থাকা অফশোর ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবে তখন সেই মুদ্রাতেই লেনদেন করবে। এছাড়া এ ধরনের অ্যাকাউন্টধারীদের সরকার প্রচুর ট্যাক্স বেনিফিট দিয়ে থাকে।

  • সাকিব কেন ফোন ফেলে দিল জায়েদ খানের

    সাকিব কেন ফোন ফেলে দিল জায়েদ খানের

    বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সুইমিংপুলের পাশে দাঁড়িয়ে সম্ভবত ছবি তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর ঠিক পাশেই দাঁড়ানো চিত্রনায়ক জায়েদ খান। হঠাৎ দেখা যায়, সাকিব তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি সুইমিংপুলের পানিতে ছুঁড়ে ফেলেন। তারপর বিরক্তি নিয়ে হেঁটে চলে যান।

    জনকণ্ঠের ডিজিটালে প্রচার হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জায়েদ খানের সঙ্গে সেলফি তুলছেন সাকিব। এরপর মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে তুলে মুঠোফোন ছুড়ে মারেন সুইমিং পুলের পানিতে। এরপর হেঁটে যান সামনের দিকে।

    কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাকিবের এমন আচরণে হতভম্ব জায়েদ খান। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। জনকণ্ঠের এই ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ভিউ হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ। কমেন্টে করেছে শতশত।

    ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাকিবের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি হঠাৎ যখন তিনি পানিতে ছুঁড়ে ফেলেন। তখন একেবারে হতভম্ব হয়ে যান জায়েদ খান। ভিডিওটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ছুঁড়ে ফেলা ফোনটি জায়েদ খানের।

    এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন জায়েদ। নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, নাম্বার ওয়ান বলেই কি ফোন ফেলে দেবে? শিগগিরই সব জানাবো, তারপর আপনারাই বিচার কইরেন।

    আরও ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সে কারণেই হয়তো জায়েদ খানের ওপর চটেছেন সাকিব আল হাসান। অবশেষে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে হাতে থাকা ফোনটি পানিতে ছুঁড়ে মারেন।

    ভিডিওটি ঠিক কোন জায়গায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ভিডিওটির বিশ্লেষণে অনুমান করা যায়, সেটি কোনো রিসোর্ট কিংবা হোটেলের সুইমিংপুল হতে পারে। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে সেখানে সাকিবের সঙ্গে জায়েদ খানের দেখা হয়। তখন একে ওপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাঝেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

    ভিডিওটির পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি শুটিংয়ের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ নাকি অন্য কোনো ধরনের শুটিং তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

    যদিও এই ঘটনার রেশ ধরে এখনো তাদের কেউই প্রকাশ্যে কথা বলেননি। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

  • টাইটানিকের সোনার ঘড়ি নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি

    টাইটানিকের সোনার ঘড়ি নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি

    টাইটানিক জাহাজে সবচেয়ে ধনী যাত্রী ছিলেন মার্কিন ধনকুবের জ্যাকব অ্যাস্টর। তিনি একটি সোনার ঘড়ি পরতেন। তাঁর ব্যবহৃত সেই ঘড়ি যুক্তরাজ্যে নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে।

    গত শনিবার (২৭ এপ্রিল) ইংল্যান্ডে ঘড়িটি নিলামে তুলেছিল হেনরি অ্যালড্রিজ অ্যান্ড সন নামের একটি সংস্থা। সেখানে এটি বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (১৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

    এক মার্কিন ক্রেতা নিলামে বিপুল এই অর্থের বিনিময়ে ঘড়িটি কিনে নিয়েছেন। নিলাম পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, টাইটানিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বস্তুর বিক্রয়মূল্যের ক্ষেত্রে এটি একটি রেকর্ড।

    ১৯১২ সালের এপ্রিলে বরফের চূড়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে টাইটানিক যখন ডুবে যায়, তখন বহু যাত্রীর সঙ্গে প্রাণ হারান জন জ্যাকব অ্যাস্টরও। কিন্তু ওই জাহাজ থেকে বেঁচে যান তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ম্যাডেলিন।

    নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু অ্যালড্রিজ বলেন, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর থেকে ঘড়িটি বিক্রির জন্য নিলাম শুরু হয়। হেনরি অ্যালড্রিজ অ্যান্ড সনের ধারণা ছিল, নিলামে হয়তো এক থেকে দেড় লাখ পাউন্ড দাম উঠবে সোনার ঘড়িটির। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে রীতিমতো ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ঐতিহাসিক এই বস্তু।

    টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর জ্যাকব অ্যাস্টরের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। সে সময় সেখান থেকে ঘড়ি ছাড়াও সোনার বোতাম, হীরার আংটি, অর্থ ও পকেটে রাখার ছোট বই উদ্ধার করা হয়। এগুলো পরে অ্যাস্টরের ছেলে ভিনসেন্ট উত্তরাধিকার সূত্রে পান। তিনি ঘড়িটি ঠিক করান, যাতে তা ঠিকমতো চলতে পারে। ১৯৩৫ সালে ভিনসেন্ট ঘড়িটি জন জ্যাকব অ্যাস্টরের নির্বাহী সচিব চতুর্থ উইলিয়াম ডবিনের ছেলের নামকরণে উপহার হিসেবে দেন। ঘড়িটি ১৯৯০–এর দশক পর্যন্ত অ্যাস্টর পরিবারের কাছেই ছিল। পরে এটি নিলামে উঠলে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তা কিনে নেন। পরে এটি বিভিন্ন জাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়। তিনিই এর বর্তমান মালিক হিসেবে ঘড়িটি নিলামে তোলেন।

    অ্যালড্রিজ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় লাখ লাখ মানুষ ঘড়িটি দেখেছেন, যা সত্যিই অসাধারণ। শনিবারের এই নিলামে জ্যাকব অ্যাস্টরের সোনার বোতাম ও পকেট বুকটিও ছিল।

     

  • ব্যারিস্টার সুমনের পিছনে কে এই নারী ? তার সম্পর্কে জানা গেল !

    ব্যারিস্টার সুমনের পিছনে কে এই নারী ? তার সম্পর্কে জানা গেল !

    সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে সংসদ ব্যারিস্টার সুমনের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া একটি সংবাদের প্রতিবাদে তিনি বক্তব্য রাখছেন। তবে এই ভিডিওটি যতটা না ভাইরাল হয়েছে তাঁর থেকেও বেশি ভাইরাল হয়েছে পিছনে থাকা এক নারী।

    ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে ওই নারী সুমনের বক্তব্যে হাসছেন। এর পর থেকেই এই ভিডিওটি কয়েকলক্ষ বার শেয়ার হয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে ট্রল, অনেকেই আবার মেয়েটিকে বলছে জাতীয় ক্রাশ।

    তবে এই মেয়েটির পরিচয় জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। পিছনে থাকা এই নারীর নাম পিয়া জান্নাতুল। তিনি একাধারে একজন আইনজীবী, বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য মডেল ও অভিনেত্রী।

    তাঁর পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। জন্ম ১৪ অক্টোবর, ১৯৯১। তিনি ২০০৭ সালে মিস বাংলাদেশ খেতাব অর্জন করেন। অভিনয় জগতে পদার্পণের পূর্বে তিনি মডেল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

    তবে তিনি তার পেশা জীবন নিয়ে প্রায় সময়ই সমালোচিত হয়েছেন এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছেন। ২০১২ সালে চোরাবালি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে।

    পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। খুলনায় জন্মগ্রহণ করা ভাইরাল এই মডেলকে পরিবারের মানুষ পিউ বলে ডাকেন। তিনি লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিস থেকে আইন বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেছেন।

    ২০০৭ সালে মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন পিয়া। এরপর কর্মজীবন শুরু করেন র‍্যাম্প মডেলিংয়ের মাধ্যমে ২০০৮ সালে। ফ্যাশন মডেল হিসেবে পাশাপাশি একাধিক ব্র্যান্ডের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানসমূহে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে।

    ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি শিরোপা অর্জন করেন। এছাড়াও মিশরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড টপ মডেল প্রতিযোগিতায় শীর্ষ মডেল হওয়ার সাফল্য অর্জন করেন পিয়া।

    ২০১২ সালে চোরাবালি চলচ্চিত্রে সুজানা চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৩ সালে বাহরাইনে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্সেস’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একইবছর শিরোনামহীনের আবার হাসিমুখ গানের মিউজিক ভিডিওতে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি একই সাথে বেশকটি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, গ্যাংস্টার রিটার্নস, দ্য স্টোরি অফ সামারা এবং প্রবাসীর প্রেম।