Category: এক্সক্লুসিভ

  • নিউইয়র্কের নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ড

    নিউইয়র্কের নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ড

    পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ডটি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক ভূতাত্ত্বিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে।

    উল্কাপিণ্ডটির নাম এনডব্লিউ ১৬৭৮৮, যার ওজন ২৫ কেজি (প্রায় ৫৪ পাউন্ড)। এটি বিক্রি হয়েছে ৫.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

    ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে উল্কাপিণ্ডটি আবিষ্কৃত হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে এটি মঙ্গলগ্রহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে এসে পড়ে।

    নিলাম আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান সোথেবি’স জানিয়েছে, নিলামে এর সর্বশেষ দর ছিল ৪.৩ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু কর ও অন্যান্য ফি-সহ মোট মূল্য দাঁড়ায় ৫.৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    সোথেবি’স উল্কাপিণ্ডটিকে বর্ণনা করেছে ‘অবিশ্বাস্য রকমের দুর্লভ’ হিসেবে। লালচে-বাদামি রঙের এই পাথরটি পৃথিবীতে পাওয়া প্রায় ৪০০টি মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ডের মধ্যে অন্যতম এবং আকারে সবচেয়ে বড়।

    এটি পৃথিবীতে পাওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম মঙ্গলীয় পাথরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বড় এবং বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলগ্রহ থেকে পাওয়া পৃথিবীর মোট উপাদানের প্রায় ৭ শতাংশই এই একটি পাথরের মধ্যে রয়েছে।

    বিজ্ঞান ও মহাকাশ অনুরাগীদের কাছে এ আবিষ্কার একদিকে যেমন গবেষণার একটি বিরল সুযোগ, তেমনি সংগ্রাহকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও মূল্যবান সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

     

  • মৃত্যু ঘোষণা করার পর কেঁদে ‍উঠল নবজাতক, বদলে গেল ঘটনা

    মৃত্যু ঘোষণা করার পর কেঁদে ‍উঠল নবজাতক, বদলে গেল ঘটনা

    ভারতে এক নবজাতক হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এরপর নিয়ম মেনে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতি নেন শেষকৃত্য এর জন্য, তবে হঠাৎ নবজাতকের চিৎকার বদলে দেয় সম্পূর্ণ ঘটনা।

    এ ঘটনায় প্রথমে কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি। কিন্তু শিশুটি আবার কেঁদে উঠতেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বর্তমানে সেখানে সে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রে। খবর আনন্দবাজারের।

    রাজ্যের বীড় জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে গত ৭ জুলাই এক নারী সন্তানের জন্ম দেন। ওই দিন রাত ৮টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পরে শিশুটিকে নিয়ে গ্রামে ফেরে তার পরিবার।

    গ্রামেই শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আগ মুহূর্তে শিশুটির দাদি নাতিকে কোলে নেওয়ার বায়না ধরেন। দাদি নবজাতককে কোলে তুলতেই কেঁদে ওঠে সে।

    স্বজনরা তাকে একই হাসপাতালে নিয়ে আসে। মৃত হিসেবে ঘোষণার ১২ ঘণ্টা পর শিশুটিকে সুস্থ ঘোষণা করে সেই একই হাসপাতাল।

    শিশুটির মা বালিকা ঘুগে বলেন, ‘এক নার্স এসে জানালেন আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শেষকৃত্য করতে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই আমার ছেলে কেঁদে ওঠে। তার পরই হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

    এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান। স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এমনটি ঘটেছে। সরকারি সেবার মান নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, শিশুটির নাড়ি এবং হৃৎস্পন্দন কোনো কিছুই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরীক্ষা করার পরই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

     

  • পাকিস্তানী অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, দুই সপ্তাহ পর লাশ উদ্ধার

    পাকিস্তানী অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, দুই সপ্তাহ পর লাশ উদ্ধার

    মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল পাকিস্তানের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী হুমাইরা আসগর আলীর (৩২) মরদেহ। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) করাচির ডিফেন্স ফেজ-৬ এর ইত্তেহাদ কমার্শিয়াল এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ।

    সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীরা জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মঙ্গলবার বিকালে ফ্ল্যাটটি খালি করার জন্য সেখানে যান তারা। ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দেয়ায় ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এ সময় মেঝেতে অভিনেত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত সাত বছর ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন হুমাইরা আসগর। তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, ফ্ল্যাটের মালিক বকেয়া ভাড়ার জন্য মামলা করেছিলেন অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। আদালত নিযুক্ত একজন বেলিফ উচ্ছেদের আদেশ কার্যকর করতে ফ্ল্যাটে আসলে তখন তারকার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের পর তবেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়,  লাশটি পচন অবস্থায় রয়েছে। সম্ভবত ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই হয়তো মারা গেছেন হুমাইরা আসগর।

    অভিনেত্রীর এক প্রতিবেশী জানান, ফ্ল্যাটের মালিক জানান হুমাইরা আসগর ভাড়া দিতে কালক্ষেপণ করছিলেন। পুলিশ মঙ্গলবার ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে তার লাশ দেখতে পান। ভবনের প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ করতেন না তিনি। তার কোনো গাড়িও ছিল না।

    মঞ্চ ও ছোট পর্দার চেনা মুখ ছিলেন হুমাইরা। তাছাড়াও সমাজমাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শরীরচর্চা নিয়ে কথা বলতেন তিনি। বিখ্যাত রিয়েলিটি শো ‘তামাশা ঘর’ এবং ‘জালাইবি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করেছিলেন অভিনেত্রী হুমাইরা আসগর।

     

  • এক ইলিশ ৭ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি

    এক ইলিশ ৭ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি

    পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়  জামাল মাতুব্বরের জালে হঠাৎ ২ কেজি ২২০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ  ধরা পড়ে। যেটি তিনি ৭ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেন।

    গতকাল রোববার বেলা দুইটার দিক কুয়াকাটা–সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে মাছটি জামাল মাতুব্বর বলেন, মাছ ধরার জন্য গত শনিবার তিনি সাগরের হাইর পয়েন্টে যান। এরপর জাল ফেলে তাঁরা অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে জাল টেনে তুললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে মাছটি উঠে আসে।

    পরে শেষ বিকেলে পাশের আশাখালী বাজারের বন্ধন ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে যান জামাল মাতুব্বর। সেখানে নিলাম ডাকের মাধ্যমে ৭ হাজার ৭০০ টাকায় ইলিশটি কেনেন স্থানীয় ব্যবসায়ী কবির হোসেন।

    বন্ধন ফিশ আড়তের ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এত বড় মাছ এই বাজারে খুব কম পাওয়া যায়।

    কলাপাড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার নদী-সাগরে একটা নির্দিষ্ট সময় ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে। জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন। এ কারণে এখন এ রকম বড় মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। এ ধরনের বড় আকারের মাছ মূলত গভীর সমুদ্রে থাকে। জালের প্রশস্ততা বাড়ালে এমন আকারের মাছ বেশি বেশি ধরা পড়বে।’

  • সালমানের বিগ বসে” দেখা যাবে ‘এআই পুতুল’

    সালমানের বিগ বসে” দেখা যাবে ‘এআই পুতুল’

    সালমান খানের “বিগ বস” শো দেখার জন্য দর্শকরা সব সময় মুখিয়ে থাকে। অপেক্ষা করতে থাকে পরবর্তীতে কি ধামাকা অপেক্ষা করছে সেটার জন্য। আসন্ন “বিগ বস ১৯” সিজনে তাই চমক হিসেবে রাখা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট পুতুলকে, যার নাম ‘হাবুবু’। যেটি বিগ বসে এইবারই প্রথম।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তৈরি এই পুতুলটি এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এবার সেই আলোচিত রোবটকে দেখা যাবে বিগ বসের ঘরে, প্রতিযোগী হিসেবে।

    ‘হাবুবু’ কোনো সাধারণ পুতুল নয়। এটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রোবট, যা সাতটি ভাষায় কথা বলতে পারে, যার মধ্যে হিন্দিও রয়েছে। মানুষের আবেগ-অনুভূতি অনুকরণ করতে পারার মতো ক্ষমতাও রয়েছে এর। এছাড়া, ঘরের নানা গৃহস্থালির কাজেও এটি পারদর্শী।

    উজ্জ্বল চোখ, আরবীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, ও প্রাণবন্ত মুখাবয়বের কারণে আরবে ‘হাবুবু’ অনেক আগেই আলোচিত হয়েছিল। এবার ভারতীয় দর্শকরাও বিগ বস ১৯-এ তার অনন্য উপস্থিতি দেখার সুযোগ পাবেন।

    অন্যদিকে, শোয়ের অন্যান্য প্রতিযোগীদের তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্র বলছে, সালমান খানের প্রাক্তন লুলিয়া ভান্তুর, টেলিভিশন অভিনেতা গৌরব খান্না এবং ইউটিউবার লক্ষ্য চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

    বিগ বস ১৯ এবার কতটা ভিন্ন এবং প্রযুক্তি-নির্ভর অভিজ্ঞতা দেবে, তা জানতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে আর কিছুদিন। তবে ‘হাবুবু’-কে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে।

  • শতবর্ষী কড়ই গাছের ভেতরে জ্বলছে আগুন, কৌতূহলে এলাকাবাসী   

    শতবর্ষী কড়ই গাছের ভেতরে জ্বলছে আগুন, কৌতূহলে এলাকাবাসী  

    কুড়িগ্রামের চিলমারীতে স্থানীয়রা হঠাৎ একটি কড়ই গাছের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আসলেও ঘটনাস্থলে এসে সেই গাছের আগুন নেভাতে পারেন নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের রমনা রেলস্টেশনে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে।

    রমনা মডেল ইউনিয়নে মাস্টারপাড়া এলাকার বাবু বলেন, আজ সকালে শুনি গাছ থেকে ধোয়া ও আগুন জ্বলছে। জানি না কেউ আগুন দিয়েছে কি না।

    উপস্থিত কয়েকজন জানান, গাছে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলছে, এটা আল্লাহ প্রদত্ত আগুন।

    স্থানীয়রা জানান, আমরা লোকমুখে খবর পাই যে রমনায় গাছে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই গাছে আগুন লেগেছে। তারপর শুনলাম ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে। আসলে এ আগুন কোথা থেকে আসলো আমরাও বুঝতে পারছি না।

    চিলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর সকালে এসে দেখি গাছে আগুন জ্বলছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি আমরা।

    চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, গাছটি রেলওয়ের জায়গায় আছে। আমরা সকালে গিয়েছিলাম পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর জন্য সব দিক থেকে চেষ্টা করেও আগুন নেভানো যায়নি। এরপর রেলওয়ে ও বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখন তারা গাছটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

     

     

  • গাজায় অপুষ্টিতে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু

    গাজায় অপুষ্টিতে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু

    ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দুধ, পুষ্টিকর খাদ্য এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা না পাওয়ায় খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে ওই উপত্যকায় অপুষ্টিতে মারা গেছে অন্তত ৬৬ শিশু। গাজার সরকারি মিডিয়া দফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

    শনিবার এক বিবৃতিতে দফতরটি বলেছে, “ইসরায়েলের এই অবরোধ একটি যুদ্ধাপরাধ। এটি একপ্রকার ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত শিশু হত্যাকাণ্ড, যেখানে না খেতে দিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

    তারা আরও বলেছে, “গাজার শিশুদের ওপর চলমান এই অপরাধ এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের লজ্জাজনক নীরবতা— উভয়ই মানবতার প্রতি চরম অবহেলার পরিচয়।”

    গাজা কর্তৃপক্ষ এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য শুধু ইসরায়েলকেই নয়, বরং তার পশ্চিমা মিত্রদের— বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিকেও দায়ী করেছে। একইসঙ্গে, তারা জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে যেন অবিলম্বে গাজার সব সীমান্তপথ খুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করে জানায়, গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে। চলতি বছরের মে মাসেই ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অন্তত ৫ হাজার ১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যার কারণে ভর্তি করা হয়েছে।

    আর এটি গত এপ্রিল মাসের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি। মূলত ফেব্রুয়ারিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল এবং কিছু সহায়তা গাজায় প্রবেশ করেছিল।

    ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, “জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫০ দিনে ১৬ হাজার ৭৩৬ শিশু — অর্থাৎ দিনে গড়ে ১১২ জন শিশু — অপুষ্টির চিকিৎসা পেয়েছে। অথচ এদের প্রতিটি ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। খাদ্য, পানি, পুষ্টি — সবকিছুই সীমান্তে আটকে আছে। মানবসৃষ্ট সিদ্ধান্তের ফলেই এই মৃত্যু।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবিলম্বে সমস্ত সীমান্ত দিয়ে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

    এদিকে শনিবার ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ২০ জন গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় নিহত হন। ওই এলাকায় টানা দুটি বিমান হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে যায়। মৃতদের মধ্যে ৯ জন শিশুও রয়েছে।

    সূত্রআল-জাজিরা

     

  • চলে গেলেন না ফেরার দেশে কারিগর সেই মনু মিয়া

    চলে গেলেন না ফেরার দেশে কারিগর সেই মনু মিয়া

    অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ‘শেষ ঠিকানার’ কারিগর হিসেবে পরিচিত মনু মিয়া। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা দীর্ঘ জীবনে তিন হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করেছিলেন।

    শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৬৭ বছর বয়সী মো. মনু মিয়া। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর।

    কবর খননের যাবতীয় সরঞ্জামাদি ভর্তি বস্তা নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে যেতেন সেই স্থানে। বিনা পারিশ্রমিকে মনের মতো করে কবর খনন করতেন। জানাজায়ও অংশগ্রহণ করতেন মনু। ইতোমধ্যেই সাড়ে তিন হাজার কবর খননের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। জীবনের প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের এই মহান কাজ করে আসছিলেন মনু মিয়া। আশপাশের গ্রাম ও জেলাজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে। একসময় তিনি এই কাজে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। সেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে পৌঁছে যেতেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে।

    স্থানীয়রা জানান, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে তাকে।

    ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আর আগের মতো হয়ে উঠেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিঃস্বার্থ, মহান মানুষকে হারালাম। মৃত্যুর পরও মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকবেন মনু মিয়া।’

  • পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

    পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

    নিখোঁজের দুই দিন পর রাজবাড়ীতে পুকুর থেকে ফরহাদ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে।

    ফরহাদ হোসেন সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের মৃত মজিবর মল্লিকের একমাত্র ছেলে। ছয় বোনের পর জন্ম নেওয়া ফরহাদ পরিবারের সবার আদরের ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় গিমটি বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ফরহাদ। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে গতকাল বিকেলে তার বড় বোন চায়না খাতুন রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ির কাছের একটি পুকুরে ফরহাদের মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

    চায়না খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার হত্যার বিচার চাই। যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

    রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, ফরহাদ মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

     

  • নোয়াখালীর হাতিয়ায় দেখা মিলছে বিশাল এক কুমিরের   

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় দেখা মিলছে বিশাল এক কুমিরের  

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পুকুরে পুকুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি কুমির। বিশাল আকৃতির এই কুমির কীভাবে এল, তা নিয়ে নানা কৌতূহল ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত কুমিরটিকে একাধিক পুকুরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। সর্বশেষ কুমিরটি দেখা যায় হাতিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদুল ইসলাম ওরফে শরীফের বাড়ির পুকুরে।

    মাসুদুল ইসলাম বলেন, তিন দিন আগে তাঁদের বাড়ির উত্তর পাশে গিরিওয়ালাদের বাড়ির লাকড়ি রাখার ঘরে প্রথম কুমিরটি দেখা যায়। তাঁরা লাঠিসোঁটা ও টেঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। এরপর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব রশিদের বাড়ির পুকুরে সেটি নেমে যায়। সেখান থেকে গতকাল সকালে তাঁদের পুকুরে আসে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত পুকুরের চারপাশে পানিতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় প্রাণীটিকে।

    কুমিরটি কীভাবে আসতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদুল ইসলাম ধারণা করেন, কিছুদিন আগে যে ঝড় ও জোয়ার হয়েছে, তখন হয়তো জোয়ারের পানির সঙ্গে কুমিরটি খাল হয়ে এখানে এসেছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা এসে কুমিরটি দেখে গেছেন। কুমিরটির পিঠের দিক কিছুটা হলদে এবং খাঁজকাটা। লম্বা চার থেকে পাঁচ হাত।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে মাসুদুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে অনেকে উৎসাহী হয়ে টর্চলাইট নিয়ে কুমিরটি দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু দেখা যায়নি। আজ সকালে তিনিও পুকুরের চারপাশে ঘুরে দেখেছেন অনেকক্ষণ, কিন্তু কুমিরটিকে দেখেননি। এ অবস্থায় পুকুরে এখনো কুমিরটি রয়েছে কি না, সেটি বোঝা যাচ্ছে না। বন বিভাগের লোকেরা এলে তাঁরা খুঁজে দেখতে পারেন।

    নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এ কে এম আরিফ-উজ-জামান প্রথম আলোকে বলেন, পুকুরে কুমিরের দেখা মেলার খবর শুনেছে। বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও নলচিরা রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমীন গাজীর সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কুমিরটির দেখা পেলে তাঁরা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।