Category: শিল্প ও সাহিত্য

  • সোনারগাঁওয়ের লিটল ম্যাগাজিন কিনতু’র এক যুগ, বর্ষা সংখ্যা প্রকাশ

    সোনারগাঁওয়ের লিটল ম্যাগাজিন কিনতু’র এক যুগ, বর্ষা সংখ্যা প্রকাশ

     

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় লিটল ম্যাগাজিন কিনতু এর প্রকাশনার এক যুগ হলো। এ বছরের জুলাই মাসে এর এক যুগ পূর্ন হয়েছে। গত ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কিনতু’র যাত্রা শুরু করে প্রথম সংখ্যা বের হয়। এক যুগ পূর্তীতে কিনতুর বিশেষ আয়োজন ‘বর্ষা সংখ্যা’ প্রকাশ হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) কিনতুর বর্ষা সংখ্যা প্রকাশ প্রায়।

    সোনারগাঁওয়ের লেখক ও সাংবাদিক হাসান মাহমুদ রিপন এর সম্পাদনায় কিনতু এক যুগ ধরে সুনামের সাথে প্রকাশ হচ্ছে। প্রতিটি সংখ্যাই যেন বিশেষ বিশেষ আয়োজন ছিল। কিনতু’র বর্ষা সংখ্যায় লিখেছেন সোনারগাঁওয়ে গুণীজন খ্যাতিমান, প্রবীন তরুণ লেখক, কবি, সাংবাদিকরা। লিখেছেন কাব্য গল্প, ছড়া কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ। এবারের বর্ষা সংখ্যাটি কিনতু’র ২৫ তম সংখ্যা।

    কবি রহমান মজিব বলেন, কিনতু দেখতে দেখতে এক যুগ হয়ে গেল। কিনতুর জন্য অনেক শুভ কামনা। কবি সাহিত্যিতদের পদচারনায় প্রতিটি কিনতু সমৃদ্ধ হয়ে উঠে। বরাবরের মতোই কিনতু লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মানসিক চাহিদা পূরন করছে এবং আগামীর দিনগুলোতে করবে-এই প্রত্যাশা করি। কিনতু’এর এ চলামান প্রকাশের ধারা অব্যাহত থেকে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক সাহিত্যাঙ্গনে ভূমিকা রাখবে।

    কিনতু’র সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক হাসান মাহমুদ রিপন জানান, সোনারগাঁওয়ে কবি সাহিত্যিকদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় কিনতু এ অগ্রযাত্রা। সাহিত্যের ইতিহাসের ক্রমবর্ধমান ধারায় ‘লিটল ম্যাগাজিনে’র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গত ২০১৪ সাল থেকে এ কিনতু প্রকাশ করে আসছি। লিটল ম্যাগাজিনকে সাধারণত সাহিত্যের এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ধরা হয় যেখানে ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তাধারা ও অকুতোভয় মতামতের ছোঁয়া পাওয়া যায়। আমি চেষ্টা করছি কিনতুর মাধ্যমে এ ধরনের কিছু কাজ করার। জানি না কতটুকু করতে পারছি। তবে এটা বলবো সোনারগাঁওয়ে প্রতিটি লেখক সাংবাদিক এবং বিজ্ঞাপনদাতারা কিনতুর অনুপ্রেরণা। কিনতুর জন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।

  • পানাম নগরীর প্রবেশদ্বারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতু পুননির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালী

    পানাম নগরীর প্রবেশদ্বারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতু পুননির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালী

     

    সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর প্রবেশ দ্বারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতু পুনরায় নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। সোনারগাঁওয়ের ‘ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’ শুক্রবার ( ১০ জুলাই ) সকালে পানাম নগরীতে এ মানববন্ধন ও র‌্যালি করে।

    মানববন্ধনে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমান মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক সোনারগাঁও পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক আরিফুর রহমান, সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কবি মোয়াজ্জেনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক মোফাখখার সাগর, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সোনারগাঁও শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন, সুমন আল হাসান, প্রকৌশলী বাবুল মোল্লা প্রমুখ।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পানাম নগরীর প্রধান প্রবেশদ্বারে একসময় একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত নান্দনিক ও ঐতিহাসিক প্রাচীন সেতু ছিল। এই সেতুটি শুধু যাতায়াতের অবকাঠামোই ছিল না, বরং পানাম নগরীর স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০০১ সালের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সেতুটি ভেঙে ফেলায় পানাম নগরী তার গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহ্য হারায়।
    বক্তারা আরও বলেন, সেতুটির ওপর দাঁড়ালে পানাম নগরীর সারিবদ্ধ প্রাচীন ভবন, চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের এক অনন্য দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যেত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সেতুটি ধ্বংস হওয়ার ফলে পানাম নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

    তাঁরা বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল পানাম নগরীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের স্বার্থে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে সেতুটি পুরোনো নকশা, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত পুনর্র্নিমাণ করা জরুরি। এতে পানাম নগরীর ঐতিহাসিক স্বকীয়তা যেমন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, তেমনি পর্যটন আকর্ষণও আরও বৃদ্ধি পাবে। বক্তারা হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সেতুটি আগের নকশা ও আদলে দ্রুত পুনর্র্নিমাণের জোর দাবি জানান।

  • একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে শোকের ছায়া

    একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে শোকের ছায়া

    বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী এবং পাপেট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় গত ১৪ জুন থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার সাময়িক উন্নতির পর ভেন্টিলেটর খুলে নেওয়া হলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন খ্যাতিমান কবি গোলাম মোস্তফার পুত্র। কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর জলরঙের চিত্রকর্মের প্রশংসা করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়।

    ভাষা আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে কার্টুন আঁকার কারণে নবম শ্রেণিতে পড়াকালেই তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আজীবন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলে।

    দেশে ফিরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রে যোগ দিয়ে বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টেলিভিশন মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

    বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় করার অন্যতম রূপকার ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর সৃষ্টি ‘পারুল’ চরিত্র থেকেই পরবর্তীতে অনুপ্রাণিত হয়ে ইউনিসেফের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন চরিত্র ‘মীনা’র ধারণা বিকশিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-রও তিনি ছিলেন অন্যতম রূপকার।

    চিত্রকলা, টেলিভিশন, নাটক, সংগীত ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক প্রদান করে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • সিডনি-মেলবোর্নে সুরের জাদু ছড়াবেন রুনা লায়লা

    সিডনি-মেলবোর্নে সুরের জাদু ছড়াবেন রুনা লায়লা

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী Runa Laila অস্ট্রেলিয়ায় কনসার্ট করতে যাচ্ছেন। দেশটির SydneyMelbourne শহরে পৃথক দুটি আয়োজনে গান শোনাবেন তিনি।

    আগামী ১ আগস্ট সিডনির Norwest Convention Centre-এ অনুষ্ঠিত হবে ‘রুনা লায়লা লাইভ ইন সিডনি’। এরপর ৮ আগস্ট মেলবোর্নের Melbourne Recital Centre-এ অনুষ্ঠিত হবে তার দ্বিতীয় কনসার্ট।

    কনসার্ট প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, “আয়োজন দুটি বড় পরিসরে হচ্ছে। ইতোমধ্যে টিকিট বিক্রিতে ভালো সাড়া মিলছে বলে আয়োজকদের কাছ থেকে জেনেছি।”

    জানা গেছে, সাতজন যন্ত্রশিল্পী নিয়ে আগামী ২৯ জুলাই সিডনির উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। দুটি কনসার্ট শেষে ১০ আগস্ট দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ কবে পারফর্ম করেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রায় এক দশক আগে দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে একটি আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন।

    ছয় দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে বাংলা, হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, উর্দু, সিন্ধি ও ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এই শিল্পী। সংগীতজীবনে তিনি অর্জন করেছেন অসংখ্য সম্মাননা, যার মধ্যে রয়েছে Bangladesh National Film Award-এ একাধিকবার সেরা গায়িকা ও সুরকার হিসেবে স্বীকৃতি।

    বলিউডের বিভিন্ন খ্যাতিমান সুরকার ও শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি Guinness World Records-এ নাম লিখিয়েছেন এবং গোল্ড ডিস্ক অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছেন। এছাড়া অভিনয়, মডেলিং ও রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

  • নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

    নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

    পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

    রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, শোভাযাত্রার নাম নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’— কোনোটিই নয়, বরং সব সংস্কৃতির অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন আয়োজন হিসেবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তিনি জানান, এই শোভাযাত্রায় দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পোশাক ও বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে একটি আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করা হবে। বৈশাখকে কেন্দ্র করেই সব আয়োজনকে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

    এর আগে শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হয়েছিল, যা নিয়ে সমালোচনা হয়।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার সমাজে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য চায়। বিভিন্ন মত ও আদর্শের সহাবস্থানই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।

    নামের পরিবর্তনে ইউনেসকো স্বীকৃতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ইউনেসকো শোভাযাত্রার নাম নয়, বরং বৈশাখী উৎসবের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • শুল্ক যুদ্ধের চেয়েও বড় ঝুঁকি চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    শুল্ক যুদ্ধের চেয়েও বড় ঝুঁকি চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের শুরুতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শুল্ক যুদ্ধ সত্ত্বেও দেশটির রপ্তানি কমার বদলে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০২৫ সালে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বৈশ্বিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    এই তথ্য প্রকাশের পরদিনই নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সতর্কবার্তা দেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি বলেন, মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে চীনের এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত।

    উন্নয়নশীল দেশগুলোও চাপে

    অধ্যাপক প্রসাদের মতে, চীনের স্বল্পমূল্যের পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্যও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    তিনি লেখেন,

    “বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়েও অন্য দেশগুলোর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল এই প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।”

    চীনের ভিন্ন ব্যাখ্যা

    তবে এই উদ্বৃত্তকে ভিন্নভাবে দেখছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন ১৬ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

    তার ভাষায়,

    “চীনের অর্থনীতি প্রমাণ করেছে—কোনো শুল্ক যুদ্ধ দিয়েই একে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, চীনের পণ্য রপ্তানি কোনো সামরিক শক্তির জোরে নয়; বরং সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ফল।

    কেন বাড়ছে উদ্বৃত্ত

    বিশ্লেষকদের মতে, রেকর্ড উদ্বৃত্তের পেছনে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ—
    একদিকে শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ, অন্যদিকে দুর্বল আমদানি।

    ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি প্রায় ২০ শতাংশ কমলেও, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর মধ্যে আফ্রিকায় রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    ইউয়ানের অবমূল্যায়ন, উৎপাদন খাতে মুদ্রাসঙ্কোচন এবং বৈশ্বিক বাজারে শক্তিশালী চাহিদা চীনা পণ্যকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

    আমদানিতে স্থবিরতা

    ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এই বড় ব্যবধানের মূল কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা।

    গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি নেমে আসে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৩ শতাংশে। পাশাপাশি আবাসন খাতের সংকটে স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম চীনে বার্ষিক বিনিয়োগে পতন ঘটতে যাচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    ২০২৫ সালের সাতটি মাসেই চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা আগের বছরের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এটি প্রমাণ করে যে বিষয়টি কোনো সাময়িক ঘটনা নয়।

    একদিকে এই উদ্বৃত্ত চীনের উৎপাদন সক্ষমতার শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরছে। কম দামে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখছে।

    অন্যদিকে অতিরিক্ত রপ্তানিনির্ভরতা চীনের অর্থনীতিতে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

    পাল্টা শুল্কের আশঙ্কা

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, চীন যদি রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেল থেকে সরে না আসে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়বে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারসাম্যহীনতা অব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে বাধ্য হতে পারে।

    ভারসাম্যের পথে বেইজিং

    চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং চলতি মাসে গুয়াংডং সফরে বলেন, আমদানি বাড়িয়ে রপ্তানি-আমদানির মধ্যে ভারসাম্য আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    এরই অংশ হিসেবে সরকার ঘোষণা দিয়েছে—

    • এপ্রিল থেকে সৌরবিদ্যুৎ পণ্যে রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল

    • ব্যাটারি খাতে কর ছাড় ধাপে ধাপে প্রত্যাহার

    • ইইউর সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি শুল্ক ইস্যুতে সমঝোতা

    আশীর্বাদ না অভিশাপ?

    চীনের এই রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ হয়ে উঠবে—তা নির্ভর করছে রপ্তানি আয়ের কতটা দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগ হয় এবং আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক ভারসাম্য কতটা ফিরিয়ে আনা যায় তার ওপর।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতা হু সিজিনের অতিরিক্ত আশাবাদ কিংবা অধ্যাপক প্রসাদের চরম আশঙ্কা—কোনোটির দিকেই পুরোপুরি ঝুঁকছে না। তবে একথা নিশ্চিত, এই উদ্বৃত্ত আগামী দিনে বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

    সূত্র: বিজনেস টাইমস

  • ভাস্কর নভেরা আহমেদের স্বামীর হাতে স্বাধীনতা পদক

    ভাস্কর নভেরা আহমেদের স্বামীর হাতে স্বাধীনতা পদক

    ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খোন্দকার এম. তালহা প্রয়াত ভাস্কর ও শিল্পী নভেরা আহমেদ-এর মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫ তার স্বামী গ্রেগোয়া দ্যু ব্রুন-এর হাতে তুলে দিয়েছেন। পদক হস্তান্তর করা হয় ১৯ অক্টোবর, নভেরা আহমেদ জাদুঘরে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে।

    বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার নভেরাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করেছে। যেহেতু স্বামী বাংলাদেশে যেতে পারেননি, তাই ফ্রান্সে হস্তান্তরের দায়িত্ব দূতাবাসকে দেওয়া হয়।

    রাষ্ট্রদূত খোন্দকার এম. তালহা বলেন, “নভেরা আহমেদ বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প ও ভাস্কর্যের পথিকৃৎ। তার শিল্পকর্ম মানুষের আবেগ, সামাজিক বাস্তবতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে গভীরভাবে ধারণ করে।”

    গ্রেগোয়া দ্যু ব্রুন পদক গ্রহণের পর বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ এই সম্মান নভেরার শিল্পকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি জানান, নভেরার কাজ ইউরোপের বিভিন্ন রাজকীয় সংগ্রাহকগোষ্ঠী ও টেট মডার্নে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    উল্লেখ্য, নভেরা আহমেদ বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের অগ্রদূত, ১৯৩৯ সালের ২৯ মার্চ সুন্দরবনে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কলকাতায় কেটেছে, তবে পরিবারের পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তর পাড়ে।

  • জাতীয় কবির আজ ১২৬তম জন্মবার্ষিকী

    জাতীয় কবির আজ ১২৬তম জন্মবার্ষিকী

    দ্রোহ, প্রেম ও চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সাম্য, সম্প্রীতি আর মানবতার কথা রয়েছে যার প্রতিটি লেখায়, তিনি আমাদের জাতীয় কবি। প্রিয়ার ভালোবাসায় বিভোর হয়ে কবি লিখেছিলেন, ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানী, দেবো খোঁপায় তারার ফুল’, ঠিক একইভাবে দ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠে বিদ্রোহী কবি লিখেছিলেনম ‘কারার ঐ লৌহ কপাট।’

     

    আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ দ্রোহ, প্রেম, মানবতার কবি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে তিনি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

     

    তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। সাহিত্যের সব শাখায় তার বিচরণ থাকলেও তিনি মূলত কবি হিসাবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। তিনি গ্রামের স্থানীয় মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করতেন। মক্তবে কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন এবং ইসলামি ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯০৮ সালে বাবার মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে জীবিকা অর্জনের জন্য তাকে কাজে নামতে হয়। নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেই মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। আর্থিক সমস্যায় ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাকে আবার কাজে ফিরে যেতে হয়। প্রথমে তিনি যোগ দেন বাসুদেবের কবিদলে। এর পর একজন খ্রিষ্টান রেলওয়ে গার্ডের খানসামা এবং সবশেষে আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটি বানানোর কাজ নেন। ১৯১৭ সালের শেষদিকে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসাবে যোগ দেন। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করেন। এই দুটি হচ্ছে বিদ্রোহী কবিতা ও ভাঙার গান সংগীত। একই সময় তিনি লিখেছিলেন আরেকটি বিখ্যাত কবিতা কামাল পাশা। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কবিতা-সংকলন অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়।

    নিজের লেখনীর মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য, সম্প্রতি ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবার বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তৎকালীন সরকার। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্রোহী কবি নজরুলকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাঙালির চেতনার কবি নজরুল। ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই, যেন গোর থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’ মৃত্যু চেতনার এমন গানে মসজিদের পাশে কবিকে সমাহিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

     

    কবির জন্মদিন উদযাপন করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে থাকছে নানা আয়োজন। জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় কুমিল্লা ও ঢাকাসহ দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান : কাজী নজরুলের উত্তরাধিকার।’ আজ বিকাল ৩টায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠানে ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৩ ও ২০২৪’-এর জন্য মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণীজন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করবেন। আলোচনা, নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটকসহ নানা আয়োজনে সাজানো থাকবে তিন দিনের এই আয়োজন।

     

    এ ছাড়া নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘ। আজ সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হবে দুই দিনব্যাপী নজরুল উৎসব। নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আজ থেকে দুই দিনের উৎসবের আয়োজন করেছে ছায়ানট। এই উৎসবে থাকছে একক ও সম্মিলিত গান, নৃত্য, পাঠ-আবৃত্তি।

  • পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা

    পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা

    ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে আগামী ১৪ এপ্রিল বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে কিছু ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

    গতকাল শনিবার (১২ এপ্রিল) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    এতে বলা হয়, ডাইভারশন/ব্যারিকেড পয়েন্টসমূহ: সোমবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা হতে রমনা পার্ক (রমনা বটমূল), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের নিম্নলিখিত এলাকাসমূহে সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে রাস্তা বন্ধ/রোড ডাইভারশন দেওয়া হবে:

    ১। বাংলামোটর ক্রসিং/নেভি গ্যাপ ২। পুলিশ ভবন ক্রসিং ৩। সুগন্ধা ক্রসিং ৪। কাকরাইল চার্চ ক্রসিং ৫। কদম ফোয়ারা ক্রসিং ৬। হাইকোর্ট ক্রসিং (পূর্ব ও দক্ষিণ) ৭। দোয়েল চত্বর ক্রসিং ৮। রোমানা ক্রসিং ৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ১০। জগন্নাথ হল ক্রসিং ১১। ভাস্কর্য ক্রসিং ১২। নীলক্ষেত ক্রসিং ও ১৩। কাঁটাবন ক্রসিং।

    গাড়ি চলাচলের দিকনির্দেশনা:

    রমনা পার্ক (রমনা বটমূল), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ডাইভারশন পয়েন্টসমূহ ব্যতীত নিম্নলিখিত রাস্তাসমূহে যানবাহন চলাচল করবে। যানবাহন চলাচলের রাস্তাসমূহ নিম্নরূপ :

    ১। মিরপুর-ফার্মগেট হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন বাংলামোটর ক্রসিং বামে মোড় নিয়ে মগবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

    ২। গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং-হাইকোর্ট ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন কদম ফোয়ারা ক্রসিং-ইউবিএল ক্রসিং- নাইটিংগেল ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

    ৩। সায়েন্সল্যাব ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন মিরপুর রোড দিয়ে আজিমপুর ক্রসিং-চাঁনখারপুল ক্রসিং-বকশীবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

    গাড়ি পার্কিং স্থানসমূহ:

    ১। নেভি গ্যাপ হতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত।

    ২। মৎস্যভবন ক্রসিং হতে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ)।

    ৩। শিল্পকলা একাডেমি গলি (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ)।

    ৪। কাঁটাবন ক্রসিং হতে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে পলাশী ক্রসিং পর্যন্ত।

    ৫। দোয়েল চত্বর ক্রসিং হতে শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং পর্যন্ত।

    ৬। আব্দুল গনি রোড।

    বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

     

  • ২৫ কোটি টাকা না দিলে শাকিব খান, প্রযোজকদের দেখে নেবেন

    ২৫ কোটি টাকা না দিলে শাকিব খান, প্রযোজকদের দেখে নেবেন

    দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আয়ের দিক থেকে সকল সিনেমাকে পেছনে ফেলতে চলেছে শাকিব খানের ‘তুফান’। গেল ঈদুল আজহায় মুক্তির পর পরবর্তী চার সপ্তাহেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানছে সিনেমাটি। সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সে এখনও তুফান জোয়ার বইছে। যে কারণে সিনেমাসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, তুফান অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলবে।

     

    ইতোমধ্যেই বিশ্বের আরও ১৬টি দেশে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের এই সিনেমা। যেখানেও দর্শকদের বেশ ভালো সাড়া পেয়েছে ছবিটি। সবকিছু মিলিয়ে কারো কারো দাবি, আয়ের দিক থেকে তুফান ১০০ কোটির মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

    ‘তুফান’ ১০০ কোটির ব্যবসা এনে দিবে, এমনটি মনে করছেন শাকিব খান নিজেও। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নায়ক বলেন, তুফানের আয় ১০০ কোটি হবে।

    শাকিব বলেন, ‘আমার হিসেবে, এই সিনেমাই ১০০ কোটি হবে। দেশ বাড়ছে, কালেকশন বাড়ছে। সান ফ্রান্সিসকো থেকে সিঙ্গাপুর, দুবাই থেকে আমেরিকা এই ছবিটা হাউজফুল। আমি ‘প্রিয়তমা’-র সময়েই ডাবলিন বা ফ্রান্সের ছবির রেজাল্ট দেখেছি।’

    তুফান যখন ভারতে মুক্তি পেয়েছে তখন সেখানে মুক্তি পেয়েছে প্রভাস ও দীপিকার বিগ বাজেটের সিনেমা ‘কাল্কি’। তাদের পোস্টারের পাশে নিজের সিনেমার পোস্টার দেখে আপ্লুত শাকিব।

    নায়ক বলেন, ‘এই ছবিটা প্রতিযোগিতা করছে প্রভাস-দীপিকা পাড়ুকোনের নতুন ছবির সঙ্গে। ওটার পাশে আমার ছবি দর্শক টানছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, স্পেনে। আমরা কিন্তু জিতেছি। মানুষের এত ভালোবাসা কেন আমার প্রতি, জানি না।’

    সিনেমা মুক্তির আগেই শাকিব বলেছিলেন, তুফান ১০০ কোটির ব্যবসা করলে তাকে ২৫ ভাগ দিতে হবে প্রযোজকদের। সেটাই আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    শাকিব বলেন, ক্রমাগত চেষ্টা করছি, ‘বড়’ সিনেমা করতে। ‘প্রিয়তমা’ করার পর ইধিকা (পাল) কিন্তু বাংলাদেশে স্টার হয়ে গেছে। মিমি (চক্রবর্তী) আগে থেকেই স্টার। তারা বাংলাদেশে ভীষণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আমরা সত্যিই বাংলা ছবিকে অনেক দূর নিয়ে যাব। আর ওই যে শত কোটির ব্যবসার কথা বলেছি, ওটা কিন্তু হবে। তখন আমাকে ২৫ কোটি না দিলে প্রযোজকদের আমি দেখে নেব (হাসি)!