Category: ব্যাংক

  • ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও টাকা সাদা করার সুযোগ পাবে

    ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও টাকা সাদা করার সুযোগ পাবে

    আসছে বাজেটে ১৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে এই সুযোগ দেওয়া হলেও এবার প্রথম বারের মতো ব্যক্তির পাশাপাশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ পেতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, একটি অ্যামনেস্টি বা সাধারণ ক্ষমাসহ এ সুযোগ দেওয়ার ফলে অর্থের উৎস সম্পর্কে সরকারের কোনো সংস্থা প্রশ্নও করবে না। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার মাত্র ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করে এই সুযোগ দেয়।

     

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রগুলো জানায়, ঐ অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার ৮৩৯ জন ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈধ করে। এসব বিনিয়োগ থেকে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল এনবিআর। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫৫ জন এনবিআরের অস্থায়ী বিধানের আওতায় ব্যাংকে জমা বা নগদ ১৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বৈধ করেছেন। বাকি টাকা জমি, ফ্ল্যাট বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী, যে কোনো করদাতা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর দিয়ে এর সঙ্গে ঐ করের ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ পান। তবে এর বাইরে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে নির্দিষ্ট আয়তনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত কর পরিশোধ করেও টাকা বৈধ করার সুযোগ আছে। বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী অর্থের উৎস সম্পর্কে সরকারের অন্য সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে। বর্তমানে ব্যক্তি করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ, যা আগামী অর্থবছরে ৩০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। আর যদি সরকার সুযোগ দেয়, তাহলে মাত্র অর্ধেক কর দিয়ে অঘোষিত বা অপ্রদর্শিত টাকা সাদা করা বা প্রদর্শনের সুযোগ পেতে পারেন এ অর্থের মালিকরা।

    এছাড়া, অর্থনৈতিক অঞ্চল বা হাইটেক পার্কে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগে অ্যামনেস্টি পান বিনিয়োগকারীরা। ২০২০-২১ অর্থবছরে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তাতে পুঁজিবাজার, আবাসন, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র ও নগদে টাকা জমার প্রায় সবগুলো খাতে বিনিয়োগে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ছিল। এছাড়া, প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে নির্দিষ্ট আয়তনের ওপর ভিত্তি করে করের হার নির্ধারণ করে জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়ে অপ্রকাশিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এই সুযোগ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগানো হয়েছে জমাকৃত অর্থের ক্ষেত্রে। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ঐ সময়ে তাদের অপ্রদর্শিত টাকা বৈধ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সার্বিকভাবে আগামী বাজেট হবে কিছুটা সংকোচনমূলক। দুই বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানাই বাজেটে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য কমিয়ে আনা হবে বাজেট ঘাটতি।

     

  • ডলারের দর বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে রেমিট্যান্স

    ডলারের দর বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে রেমিট্যান্স

    ডলার সংকটের কারণে ধারাবাহিক ভাবে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। পরিস্থিতি সামলাতে গত মাসে ডলারের আনুষ্ঠানিক দর এক লাফে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে আমদানি খরচ আরও বেড়ে মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

     

    তবে ডলারের দর বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে রেমিট্যান্স। গত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ২২৫ কোটি ডলার দেশে এসেছে। গত ৪৬ মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। আর এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ২ হাজার ১৩৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৯৪১ কোটি ডলার। আর পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। এক মাস বাকি থাকতেই আগের অর্থবছরের প্রায় সমান রেমিট্যান্স এসেছে। আর গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ১৯৬ কোটি ডলার, যা ১০ শতাংশের বেশি। গত এপ্রিলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ২০৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ১৬৯ কোটি ডলার। সাধারণভাবে প্রতি বছর ঈদের আগে রেমিট্যান্স বেড়ে থাকে।

    জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের সঙ্গে ব্যাংকের দরে পার্থক্য অনেক কমেছে। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স বাড়াতে ব্যাংকগুলো অনেক চেষ্টা করছে। এতে করে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

    জানা গেছে, ব্যাংকগুলো এখন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ১১৮ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত দরে রেমিট্যান্স কিনছে। প্রবাসীর সুবিধাভোগী পাচ্ছেন ১১৭ টাকা। এর সঙ্গে আড়াই শতাংশ সরকারি প্রণোদনাসহ পাচ্ছেন ১২০ টাকার মতো। আগে ১১০ টাকা দর নির্ধারিত থাকলেও ব্যাংকগুলো ১১৩-১১৫ টাকায় কিনত। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে দর বৃদ্ধির ফলে আমদানিতে খরচ আরও বেড়েছে। এমনিতেই ১০ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতির এ সময়ে মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

    অর্থ পাচার ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কতদিন রেমিট্যান্স বাড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে ব্যাংকারদের মনে। বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, দুর্নীতি বা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা দেশের বাইরে অর্থ নেয়, তাদের কাছে দর কোনো বিষয় না। সুতরাং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে অর্থ পাচার ও হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। তা না করে শুধু দর বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। এ ছাড়া রপ্তানি আয় সময় মতো দেশে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণসহ বিভিন্নভাবে রিজার্ভ স্থিতিশীল করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গত ২৯ মে ১৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আগের মাস এপ্রিল শেষে রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ২১ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের রেকর্ড হয় ২০২১ সালের আগস্টে। নানা উপায়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে। মূলত বেসরকারি খাতে নতুন করে ঋণ না এসে, উল্টো আগের দায় শোধ করতে হচ্ছে। অনেকে আগের বিনিয়োগ ফেরত নিচ্ছে।

    এসব কারণে আর্থিক হিসাবে গত মার্চ পর্যন্ত ৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি হয়েছে। গত অর্থবছর যেখানে ঘাটতি ছিল ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। এর আগে সাধারণত সব সময় আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল।

     

  • ফিল্মি কায়দায় ১২ সেকেন্ডে ৩০০ কোটি টাকা চুরি

    ফিল্মি কায়দায় ১২ সেকেন্ডে ৩০০ কোটি টাকা চুরি

    যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ সেকেন্ডে ইথেরিয়াম থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা) মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আন্তন পেরেইর-বুয়েনো (২৪) ও জেমস পেরেইর-বুয়েনো (২৮)। তারা বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাদের চুরির ঘটনাটিকে একটি জলজ্যান্ত উপন্যাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।

    কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এমআইটির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিলে আন্তন ও জেমস তাদের চুরিটি সম্পন্ন করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তারা একটি মূলতবি লেনদেনে প্রবেশ করে ক্রিপটো মুদ্রার গতিবিধি পরিবর্তন করে মাত্র ১২ সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার লোপাট করেন।

    বর্তমানে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং অর্থ পাচার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আন্তনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বোস্টন থেকে এবং জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয় নিউইয়র্ক থেকে।

    সরকারি কৌঁসুলিরা বলেছেন, আন্তন এবং জেমস এমইভি-বুস্ট নামে একটি সফটওয়্যার কোডের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে চুরিটি সম্পন্ন করেন। ওই সফটওয়্যার কোডটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইথেরিয়াম নেটওয়ার্ক ‘ব্যালিডেটর’ দ্বারা ব্যবহৃত হয়। মূলত ব্লকচেইনে যুক্ত হওয়ার আগে মুলতবি লেনদেনে থাকা অবস্থায় নতুন লেনদেনগুলো বৈধ কি-না পরীক্ষা করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

     

  • ৩০ ব্যাংকের এমডি যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ প্রচারণা অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন

    ৩০ ব্যাংকের এমডি যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ প্রচারণা অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন

    যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩০টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। অফশোর ব্যাংকিং হিসাবের আওতায় প্রবাসীরা যাতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ডলার জমা রাখতে উদ্বুদ্ধ হন, সেজন্য আয়োজিত নানা প্রচারণায় অংশ নেবেন তারা। পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ-সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানেও তাদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

     

     

    সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমানও। জানা গেছে, আগামী ২৪ মে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে প্রবাসীদের জন্য অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট- সংক্রান্ত প্রচারণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান।

    বিশেষ অতিথি থাকবেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন, ডাচ্বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মো. শিরিন, ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মুরশেদুল কবীর ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন।

    জানা গেছে, এ অনুষ্ঠানের খরচও বহন করবে উল্লিখিত ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি একই সময়ে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের আয়োজনে আন্তর্জাতিক ব্যাংক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হবে।

    এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন আরও ২৫ জন এমডি। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এসব ব্যাংক এমডির বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত নথি অনুমোদন করেছে। তবে ডলার সংকটের মধ্যে একসঙ্গে প্রায় অর্ধেক ব্যাংক এমডির বিদেশে যাওয়া নিয়ে ব্যাংক খাতে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    এদিকে দেশের ডলার সংকটের এ সময়ে ব্যাংক খাতে ডলারের জোগান বাড়াতে বিভিন্ন ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিংকে বিশেষ জোর দিয়েছে। এ জন্য নানা ধরনের প্রচার প্রচারণাও চালাচ্ছে ব্যাংকগুলো। তারই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় ডলার জমায় উদ্বুব্ধ করতে দেশটিতে প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

  • বন্ডে বিনিয়োগ কী এবং কতটুকু লাভজনক

    বন্ডে বিনিয়োগ কী এবং কতটুকু লাভজনক

    উচ্চ মুনাফা লাভের সুযোগ থাকায় বন্ডে বিনিয়োগ এখন আগের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সরকারি বা ট্রেজারি বন্ডের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ড ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড ভালো বিকল্প। কেননা ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে আমানত সংগ্রহ করে, তার বেশির ভাগই স্বল্প ও মধ্য মেয়াদের। দীর্ঘ মেয়াদে বেশি ঋণ দিতে হলে তাদের দায় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এ কারণে বন্ড বাজার উন্নয়নের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বন্ড এক ধরনের ঋণ চুক্তিপত্র, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করে এবং চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে গ্রাহককে প্রতিশ্রুত সুদসহ বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত দেয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবাই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। ব্যাংকে আমানত রেখে যে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, সাধারণত বন্ডে তার চেয়ে বেশি দেওয়া হয়। এ কারণে বন্ড এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

    দেশে এরই মধ্যে বেশ কয়েক ধরনের বন্ড চালু হয়েছে। লভ্যাংশের বিচারে দুই ধরনের বন্ড রয়েছে। এগুলো হলো– কুপনযুক্ত ও জিরো কুপন। কুপন বন্ড সাধারণত মুনাফার বা সুদের হার নির্দিষ্ট করে ইস্যু করা হয়। জিরো কুপন বন্ড অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু থেকে কম মূল্যে বা ডিসকাউন্ট রেটে ইস্যু করা হয়। এই ডিসকাউন্ট রেট বা কম অভিহিত মূল্যই বন্ড হোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ বা সুদ হিসেবে গণ্য হয়।

    জামানত রেখে বা না রেখে দু’ভাবেই বন্ড ইস্যু করা যায়। জামানত ছাড়াই যে বন্ড ইস্যু করা হয়, তা আনসিকিউরড বা জামানতবিহীন বন্ড নামে পরিচিত। আনসিকিউরড বন্ড একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বন্ধক না রেখেই অর্থ ধার করতে, মূলধন সংগ্রহ বা ব্যবহার করতে অনুমতি দেয়। যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে ওই পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়, যা সংগৃহীত পরিমাণ ঋণ সুরক্ষিত করার জন্য অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা ব্র্যান্ডভ্যালুকে বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ করেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বা অগ্রগতির সঙ্গে সম্পদের পরিমাণ বাড়ে এবং তা বন্ডের ট্রাস্টির কাছে জমা রাখা হয় বিনিয়োগকারীর সম্পদের নিরাপত্তার জন্য।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ স্থিতি ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সরকারি বিল ও বন্ডের বড় গ্রাহক হলো ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর সরকারের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যে বন্ড ইস্যু করে, তার অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
    ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়।

    ১ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের জমার ওপর বিভিন্ন হারে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন চার্জ কেটে নেয়। এ কারণে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে এখন বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ থেকে আয় থাকবে আয়করমুক্ত।

  • শেয়ারবাজার আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা, এক ঘণ্টাতেই সূচক হারাল ৬৬ পয়েন্ট

    শেয়ারবাজার আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা, এক ঘণ্টাতেই সূচক হারাল ৬৬ পয়েন্ট

    ফের লাগাতার দরপতনের কবলে শেয়ারবাজার। লাগাতার বড় দরপতনের আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন বিনিয়োগকারীরা। ভালো বা মন্দ, সব ধরনের শেয়ার দরপতনের কবলে। আগের ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচদিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় আজ বুধবারও লেনদেন শুরু হয়েছে দরপতনে। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টা না পেরোতোই শতাধিক শেয়ার ক্রেতা শূন্য হয়েছিল। তবে ক্রেতা শূন্য শেয়ারগুলোর অধিকাংশই দুর্বল মৌলভিত্তির।

    দরপতনে প্রথম ঘণ্টাতেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ৬৬ পয়েন্ট হারিয়েছে, নেমেছে ৫৫১৯ পয়েন্টে। সূচক পতনের হার ১ দশমিক ১৯ শতাংশ।

    আজ সর্বশেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিনের দরপতনে সূচকটি ১৪৪ পয়েন্ট হারিয়েছিল। এর মধ্যে গতকালই হারিয়েছিল ৮১ পয়েন্ট। প্রথম ঘণ্টায় এ বাজারে ১৫৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গতকাল একই সময়ে ছিল ২৮১ কোটি টাকা।

    বেলা ১১টায় ডিএসইর লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ সময় পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৩৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে লেনদেনে আসা ৩৮০টির মধ্যে ৩১৬টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। যা লেনদেন আসা মোট শেয়ারের ৮৩ শতাংশ। বিপরীতে মাত্র ২৭ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৭টি শেয়ার।

    তবে দরপতন ঠেকাতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে দরপতন কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা গেছে।

    এই দরপতনের কোনো কারণ জানা নেই বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম।

    তবে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ১৩ বিলিয়নের ঘরে নেমেছে, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ কত, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না- গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের নেতিবাচক প্রভাব এটি।

    এর মধ্যে ফের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাক হয়েছে মর্মে- মঙ্গলবার ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। এ খবরেরও একটি নেতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়ছে বলে অনুমান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও। তিনি জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এই হ্যাকের ঘটা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। যদিও গতকালই বাংলাদেশ ব্যাংক এ খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    ব্রোকোরেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমলে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার প্রভাব পড়বে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয় ও মুনাফায়।

    এমন ভাবনা থেকে সর্তকতা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের একটা অংশ বিনিয়োগে সর্তকতা অবলম্বন করছেন বলে মনে হচ্ছে। অনেকে আবার দরপতন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করে আগাম শেয়ার বিক্রি করছেন। এতে দরপতন বাড়ছে বলে অনুমান ওই ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তার।

    এর মধ্যে যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণে শেয়ার কিনেছেন এবং দরপতনের পর আইন অনুযায়ী মার্জিন ঋণের হার সমন্বয়ে ঋণদাতা ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের অনুমোদনের পরও নগদ অর্থ জমা না দিয়ে তা সমন্বয় করেছেন না, সেসব বিনিয়োগকারীদের শেয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী ফোর্স সেল হচ্ছে। এতেও দরপতন বাড়ছে।

     

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ১৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ১৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের দায় মেটানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভ কমে ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলারে (২৩.৭৭ বিলিয়ন) নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ১ হাজার ৮৩২ কোটি ডলার (১৮.৩২ বিলিয়ন)। প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারের কিছুটা কম। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    সূত্র জানান, গত সপ্তাহে আকু বিল বাবদ রিজার্ভ থেকে ১৬৩ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়। এরপর রিজার্ভ কমে যায়। আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেয়া নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার। এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আইএমএফ ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলারে নামিয়েছে, যদিও এখন তা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের কম। প্রতি মাসে দেশের আমদানি দায় মেটাতে এখন প্রায় ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত দুই মাসে ১৬৩ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করেছে। ফলে রিজার্ভ কিছুটা কমেছে।

    সামনের মাসে আইএমএফের ঋণের কিস্তি আসবে। এ ছাড়া জুনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থছাড় হবে। প্রবাসী আয় চলতি মাসে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। অর্থাৎ ডলারের প্রবাহ বাড়বে। এতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির চাপও কমে আসবে।
    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে ৯০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ডলারের দাম বাড়িয়ে ১১৭ টাকা করা হয়েছে- এ বাস্তবতায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ডলারের দাম বাড়ায় রপ্তানি আয় আসাও বাড়বে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সরকারি আমদানি দায় মেটানোর জন্য প্রতি ডলার ১১৭ টাকা ৪৪ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে। আবার যেসব ব্যাংক বেশি দামে প্রবাসী আয় কিনছে, তাদের ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক ১১৭ টাকা ৪৪ পয়সা দরে কিনে নিচ্ছে। এরপরও রিজার্ভের ক্ষয় ঠেকানো যাচ্ছে না। যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করা হচ্ছে, কেনা হচ্ছে তার চেয়ে কম।

    অর্থনৈতিক সংকট ঠেকাতে আইএমএফের শর্ত মেনে গত সপ্তাহে ডলারের মধ্যবর্তী দাম ১১৭ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, আগে যা ছিল ১১০ টাকা। এদিকে ঋণের সুদহারও বাজারভিত্তিক করা হয়েছে।

     

  • আইএমএফ রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা কমালো

    আইএমএফ রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা কমালো

    চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ২০.১০ বিলিয়ন থেকে কমিয়ে ১৪.৭৬৯ বিলিয়ন ডলার করতে সম্মত হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর ফলে আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ পেতে বাংলাদেশের আর কোনো বাঁধা থাকলো না। ঋণের তৃতীয় কিস্তিতে ১.১৫২ বিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ। আইএমএফের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকৃত রিজার্ভ আছে ১৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে আইএমএফের নতুর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দেশে রিজার্ভ কিছুটা বেশি আছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কীভাবে তার রিজার্ভ বাড়াবে সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা দিয়েছে আইএমএফ।

    সূত্র জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে রিজার্ভ লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৮৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রা ১৫.৩০০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ১৬.৬০১ বিলিয়ন ডলার এবং জুন শেষে তা ১৯.৪৪০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে বাংলাদেশ আইএমএফ ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত দাতা সংস্থাটির ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোইকোমিক্স ডিভিশনের প্রধান ক্রিস পাপাগেওর্জিউ। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    আইএমএফ প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি পেতে কোনো সমস্যা হবে না। ঋণদাতা তাদের বোর্ড মিটিংয়ের পর তৃতীয় কিস্তি ছাড় করবে। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উপায় নিয়ে কাজ করবে সরকার।

    ক্রিস পাপাগেওর্জিউ বলেছেন, আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির ঋণ পেতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল।

    এখন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাতা সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
    আইএমএফ প্রতিনিধিদল প্রধান বলেন, আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার করেছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য ফর্মুলাভিত্তিক জ্বালানি মূল্য সমন্বয় নীতি তারা বাস্তবায়ন করেছেন। মূল্যস্ফীতিসহ নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিনিময় হার পুনর্বিন্যাসে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ।

    আমরা অনুমান করছি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯.৪ শতাংশ হবে। তবে কঠোর নীতির মিশ্রণ এবং বৈদেশিক খাদ্য ও দ্রব্যমূল্য কমার কারণে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমে ৭.২ শতাংশ হবে।

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে আইএমএফ গত বছরের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে। ঋণ অনুমোদনের পরপরই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সাত কিস্তিতে পুরো অর্থ দেয়ার কথা রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদন দেয় আইএমএফের বোর্ড।

     

  • ডলারের দামে রেকর্ড এতে কার লাভ কার ক্ষতি?

    ডলারের দামে রেকর্ড এতে কার লাভ কার ক্ষতি?

    দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ডলার সংকটের মধ্যেই দেশে একদিনেই মার্কিন মুদ্রাটির দাম রেকর্ড ৭ টাকা বেড়েছে। ডলারের ব্যাংক রেট এখন ১১৭ টাকা, যা খোলাবাজারে আরও বেশি। এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৬.৩ শতাংশ। আমদানির জন্য এলসি খুলতে গেলেও এ দামে ডলার মিলবে না বলে মনে করেন আমদানিকারকরা। এতে বাড়বে আমদানি খরচ। মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। আমদানিনির্ভর পণ্যগুলো কিনতে হবে আরও বেশি দামে। পণ্যের দাম বাড়লে চাপে পড়বেন সাধারণ মানুষ।

    আমদানিকারকরা বলেছেন, ডলারের দাম বাড়া ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। কারণ যেসব নিত্যপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর ঋণপত্র খুলতে অনেক ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি ডলার কিনতে হয়। যার প্রভাব পড়বে বর্তমান নিত্যপণ্যের বাজারে।

     

    আর আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়বে।
    বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে ‘ক্রলিং পেগ’ (দেশীয় মুদ্রার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সমন্বয়ের একটি পদ্ধতি) পদ্ধতিতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে। এখন ডলারের জন্য গুনতে হবে আগের চেয়েও বেশি দাম। এতে আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পণ্যের দামও বাড়াতে বাধ্য হবেন আমদানিকারকরা। চাপে পড়বেন সাধারণ মানুষ। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে, মানুষ কষ্ট পাবে।

    বেশ কয়েক মাস ধরেই ডলারের বাড়তি দামের কারণে খুচরা বাজারে বেড়েছে আমদানি করা নিত্যপণ্যের দাম। দেশে খাদ্যশস্য এবং অন্য পণ্য আমদানি করতে হয় পুরোপুরি জোগান মেটাতে। যে কারণে দেশের বাজারে পণ্যের দামে ডলারের সবচেয়ে বড় প্রভাব থাকে। বিশেষ করে চিনি, পাম তেল, সয়াবিন তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, আদা, মরিচ, গম, চাল, মসুর ডাল, পিয়াজ, আদা, রসুন, তেলবীজ রয়েছে শীর্ষ খাদ্যসামগ্রী আমদানির মধ্যে। এছাড়া সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সাবান, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবহনসহ খাদ্যবহির্ভূত খাতেও খরচ বাড়বে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর চাপ বাড়ায়। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি বাড়লে গরিব ও মধ্যবিত্তের সংসার চালাতে ভোগান্তি বাড়ে। এমনিতেই এখন বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশ চড়া। তার সঙ্গে পোশাক, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পরিবহন খাতেও খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।

    বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা আমদানিনির্ভর। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের অর্থনীতি চাপে আছে। এখন হঠাৎ করেই ডলারের দাম খুব বেশি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। বিশেষ করে আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যাবে। এতে পণ্যের দামও বাড়াতে বাধ্য হবেন আমদানিকারকরা। এতে চাপে পড়বে সাধারণ মানুষ। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে, মানুষ কষ্ট পাবে।

    ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ডলারের দাম বাড়লে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে আমদানিকারকরা। ডলারের অপ্রতুলতায় বেশির ভাগ ব্যাংকই এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করছে, এ প্রবণতা বাড়বে। আমদানি কমে পণ্যের দামও বাড়বে।

    আরেক আমদানিকারক বলেন, ডলারের দাম বাড়াটা আমাদের (আমদানিকারকদের) জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হবে। সবশেষ ডলারের আনুষ্ঠানিক দর ১১০ টাকা ছিল। তখন এলসি খোলার জন্য ১২০-১২২ টাকা দরে ডলার কিনেছি। এখন পরিস্থিতি কী হবে।’ এটা আমাদের এখন সমন্বয় করতে গেলে পণ্যের দাম বাড়বে। যে পদ্ধতিতে ডলারের দাম নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে, সে দামে ডলার মিলবে না। বরং এ দাম বাড়িয়ে নির্ধারণের জন্য এলসি খুলতে আরও ৭ টাকা হয়তো বেশি খরচ হবে।

    দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) এক বৈঠকেও সেটি স্বীকার করা হয়েছে। ওই বৈঠকে অর্থনীতির দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে মূল্যস্ফীতির অব্যাহত উচ্চহারের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের ক্রমাগত অবক্ষয়কে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ডলারের এ দরবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ আরও শক্তিশালী করছে।

    টাকার অবমূল্যায়নে কার লাভ?

    ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে মূলত রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হন। যেমন ডলারের বিপরীতে টাকার দর ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অর্থ হচ্ছে টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে ৭ টাকা। এর ফলে রপ্তানিকারকেরা প্রতি ডলার আয় থেকে বাড়তি ৭ টাকা বেশি হাতে পাবেন। এতে রপ্তানিকারকরা আরও বেশি উৎসাহী হন। একইভাবে প্রবাসীরাও রেমিট্যান্সের প্রতি ডলারের বিপরীতে ৭ টাকা বেশি পাবেন।

    কার ক্ষতি?

    আমদানি করতে হয় ডলার কিনে। ফলে আগের চেয়ে ৭ টাকা বেশি দিয়ে আমদানিকারকদের ডলার কিনতে হবে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এরফলে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। টাকার অবমূল্যায়নের আগে সাধারণ মানুষ যে পরিমাণ উপার্জন করতেন এখনো তাই করছেন। তারা চাইলেই আগের মতো একই পরিমাণ পণ্য বা পরিষেবা কিনতে পারবেন না। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ভ্রমণ ও বিদেশি শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যায়। টিউশন ফি ও ফ্লাইটের টিকিট ডলারে পরিশোধ করতে হয়। তাই এতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।

  • ব্যাংক ঋণের সুদহার আবারও বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে

    ব্যাংক ঋণের সুদহার আবারও বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে

     

    ব্যাংক ঋণের সুদহার আবার বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় চলে আসছে। এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে। সূত্র জানিয়েছে, চলতি বা আগামী মাস থেকেই তা কার্যকর হবে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ঋণের সুদহার দ্রুতই বাজারভিত্তিক হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যা আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    গভর্নর বলেছেন, বর্তমানে রেফারেন্স রেট অনুসারে ব্যাংকের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে। শিগগিরই এটি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সুদহার নির্ধারণের ব্যবস্থাটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণে ব্যাংকের স্বাধীনতা থাকবে। এখন যে সুদহার চলছে তা থেকে আর বেশি বাড়বে না।

    সুদহার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন একটি নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এর ফলে ঋণের সুদ এখন প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ছিল ১২.৪৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে হয় ১৩.১১ শতাংশ।

    এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আজ ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে কবে থেকে ঋণের সুদহার বাজারভিত্তিক করা হবে তার ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এতে করে স্মার্ট সুদহার আর থাকছে না। বাজারে সুদহার কমলে গ্রাহক কম সুদে ঋণ পাবে, আবার বাড়লে বেশি সুদে ঋণ নিতে হবে।

    এর আগে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারিত ছিল ৯ শতাংশে। গত জুলাই মাসে সুদের হার বেঁধে দেওয়ার ঐ পদ্ধতি থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বা স্মার্ট পদ্ধতিতে ঋণের সুদের ভিত্তি হার নির্ধারিত হয়। এই ভিত্তি হারের সঙ্গে এর আগে বাড়তি ৩.৫০ শতাংশ সুদ যুক্ত হলেও এবারে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ শতাংশ সুদ যোগ করার জন্য বলেছে। ভিত্তি হার ও বাড়তি সুদ এই দুইয়ে মিলে ঋণের চূড়ান্ত সুদহার নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলো। মার্চ মাস শেষে স্মার্ট হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৫৫ শতাংশে। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ যুক্ত করলে ঋণের সুদ দাঁড়ায় ১৩.০৫৫ শতাংশ।

    উদ্যোক্তারা বলেছেন, ঋণের সুদ হার যেভাবে বাড়ছে তাতে ব্যবসা খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ডলারের দামও চড়া। সব মিলে আমদানি পণ্যের দাম আরও বাড়বে। এতে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর সুফল কতটুকু মিলবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে সুদহার বাড়ানোর ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ কিছুটা কমেছে। তবে এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমে গেছে। নতুন শিল্প স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবার আইএমএফ মোটাদাগে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, রাজস্ব আহরণ আরেকটু বাড়ানো ও সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে আনা। সরকারও আইএমএফের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইএমএফের পরামর্শ মানা হলে সুদহার নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতি স্মার্ট বা সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বাতিল হয়ে যাবে। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ভিত্তিতে বর্তমানে ঋণের সুদহার নির্ধারণ হচ্ছে।

    এদিকে, নয়-ছয় সুদের সীমা তুলে দেওয়ার পর থেকে সব ধরনের ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। প্রতি মাসে বাড়ছে ঋণের সুদ। তবে যে গতিতে ঋণের সুদ বাড়ছে, সেই গতিতে আমানতের সুদ বাড়াচ্ছে না অধিকাংশ ব্যাংক। গত ৯ মাসে ঋণের গড় সুদহার যেখানে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে, সেখানে আমানতের সুদহার বেড়েছে ১ শতাংশেরও কম। এতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) ব্যাপক হারে বাড়ছে। ইতিমধ্যে গড় স্প্রেড ৫ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এই হার অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি।