উচ্চ মুনাফা লাভের সুযোগ থাকায় বন্ডে বিনিয়োগ এখন আগের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সরকারি বা ট্রেজারি বন্ডের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ড ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড ভালো বিকল্প। কেননা ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে আমানত সংগ্রহ করে, তার বেশির ভাগই স্বল্প ও মধ্য মেয়াদের। দীর্ঘ মেয়াদে বেশি ঋণ দিতে হলে তাদের দায় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এ কারণে বন্ড বাজার উন্নয়নের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন্ড এক ধরনের ঋণ চুক্তিপত্র, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করে এবং চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে গ্রাহককে প্রতিশ্রুত সুদসহ বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত দেয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবাই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। ব্যাংকে আমানত রেখে যে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, সাধারণত বন্ডে তার চেয়ে বেশি দেওয়া হয়। এ কারণে বন্ড এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
দেশে এরই মধ্যে বেশ কয়েক ধরনের বন্ড চালু হয়েছে। লভ্যাংশের বিচারে দুই ধরনের বন্ড রয়েছে। এগুলো হলো– কুপনযুক্ত ও জিরো কুপন। কুপন বন্ড সাধারণত মুনাফার বা সুদের হার নির্দিষ্ট করে ইস্যু করা হয়। জিরো কুপন বন্ড অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু থেকে কম মূল্যে বা ডিসকাউন্ট রেটে ইস্যু করা হয়। এই ডিসকাউন্ট রেট বা কম অভিহিত মূল্যই বন্ড হোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ বা সুদ হিসেবে গণ্য হয়।
জামানত রেখে বা না রেখে দু’ভাবেই বন্ড ইস্যু করা যায়। জামানত ছাড়াই যে বন্ড ইস্যু করা হয়, তা আনসিকিউরড বা জামানতবিহীন বন্ড নামে পরিচিত। আনসিকিউরড বন্ড একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বন্ধক না রেখেই অর্থ ধার করতে, মূলধন সংগ্রহ বা ব্যবহার করতে অনুমতি দেয়। যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে ওই পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়, যা সংগৃহীত পরিমাণ ঋণ সুরক্ষিত করার জন্য অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা ব্র্যান্ডভ্যালুকে বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ করেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বা অগ্রগতির সঙ্গে সম্পদের পরিমাণ বাড়ে এবং তা বন্ডের ট্রাস্টির কাছে জমা রাখা হয় বিনিয়োগকারীর সম্পদের নিরাপত্তার জন্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ স্থিতি ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সরকারি বিল ও বন্ডের বড় গ্রাহক হলো ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর সরকারের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যে বন্ড ইস্যু করে, তার অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়।
১ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের জমার ওপর বিভিন্ন হারে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন চার্জ কেটে নেয়। এ কারণে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে এখন বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ থেকে আয় থাকবে আয়করমুক্ত।