‘নারীদের চরিত্র নিয়েই কটাক্ষ করা হয়’, তৃষার পাশে কঙ্গনা

অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় এবার তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। নারীদের চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ ও হেয় করার প্রবণতার সমালোচনা করে তৃষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হিমাচল প্রদেশের কুল্লুতে জেলা উন্নয়ন ও পর্যবেক্ষণ সমিতির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তৃষার প্রসঙ্গ তোলেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, তামিলনাড়ুতে সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন। একজন সম্মানিত শিল্পী ও অভিনেত্রীকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সেখানে নারীকেই গালিগালাজ ও চরিত্রহননের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

কঙ্গনার ভাষ্য, বিষয়টি শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বজুড়েই কর্মজীবী নারী, সফল নারী, অভিনেত্রী, রাজনীতিক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নারীদের হেয় করতে তাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নারীদের নিচে নামিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই অনেক সময় এ ধরনের আচরণ করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তৃষাকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের সূত্রপাত তামিলনাড়ুর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। গত ৩ আগস্ট কাবেরী নদীর পানি নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে তামিলনাড়ুর বিরোধীদলীয় নেতা ও ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন বক্তব্য দেওয়ার সময় দর্শকদের একটি অংশ তৃষার নাম ধরে স্লোগান দেয়। এরপর উদয়নিধি একটি দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) পুলিশের কাছে অভিযোগ করে।

এরপর ৪ আগস্ট চেন্নাইয়ের বাসভবন থেকে উদয়নিধিকে আটক করে তাঞ্জাভুর পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং থানা থেকেই জামিন দেওয়া হয়।

এদিকে তৃষা কৃষ্ণান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তলপতি বিজয়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা থাকলেও, তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এর আগে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজয়ের সঙ্গে তৃষার উপস্থিতি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল।

কঙ্গনা তার বক্তব্যে মূলত নারীদের চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন। তার মন্তব্যের পর তৃষাকে ঘিরে চলমান বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *