ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড। আগুনে পুড়ে যাওয়া ফেরিটিতে ১১৭ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রুসহ মোট ১৩৪ জন ছিলেন। উদ্ধার করা হয়েছে ৪২ জনকে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র করোনের কাছে এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে আগুন লাগে। ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে করোনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে থাকাকালে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবায়াব জানান, উদ্ধার হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। পাঁচজনের মরদেহ তীরে নেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা এখনো প্রাথমিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চলায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
কোস্টগার্ডের প্রকাশ করা ভিডিওতে ফেরিটিকে আগুনে সম্পূর্ণভাবে আচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা গেছে। আগুন নেভানোর পাশাপাশি নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে সাগরে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি নৌকাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৪২ জনের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, আর কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জাহাজটির অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল কি না এবং ফেরিটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
করোন ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। দ্বীপাঞ্চলটি সমুদ্রসৈকত, ডাইভিং ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জাহাজডুবির স্থানগুলোর জন্য পরিচিত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তও চলছে।

Leave a Reply