সৌদি আরব ইয়েমেনে নতুন করে হামলা চালালে দেশটির আরও গভীরে বিস্তৃত ও তীব্র হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারে দাবি করেন, সৌদি আরব গত ৪৮ ঘণ্টায় ইয়েমেনে প্রায় ১৩০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সারুরাহ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হুথি সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আরও গভীরে অবস্থিত অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর পাল্টা তৎপরতার মধ্যে দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর ও বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান এলাকায় হামলা হয়। কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্নের কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। দেশটির মারিব প্রদেশের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনীর সদস্যদের পুনর্গঠিত করা হচ্ছে এবং তারা শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি হুথিদের হাতে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হারানোকে ‘বেদনাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, হুথিরা শান্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে ইয়েমেনে আবারও যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ চলাচল করে।
ফলে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply