মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ব্রিকসকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন অন্যান্য ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
শি বলেন, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর উচিত অভিন্ন, সামগ্রিক, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তার ধারণা সমুন্নত রাখা। একই সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ও জোটভিত্তিক সংঘাতের বিরোধিতা করে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান তিনি। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর সমস্যা সমাধানে ব্রিকসকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।
ব্রিকসকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর একটি অগ্রণী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা এবং উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়নে এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
এবারের সম্মেলনে ব্রিকস সহযোগিতার ২০ বছর পূর্তির কথাও তুলে ধরেন শি। তিনি বলেন, দুই দশকে এই জোটের পরিধি ও কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
এদিকে শি জিনপিং ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালে চীন ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে এবং একই বছর ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। চীন সব সদস্যের সঙ্গে ঐকমত্য গড়ে তুলে ব্রিকস সহযোগিতার নতুন পর্যায় শুরু করতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শি জিনপিং। সাত বছর পর চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর হওয়ায় বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দুই নেতা ভারত-চীন সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা কমানোর কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শি-মোদি বৈঠককে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলমান প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য, বহুপক্ষীয়তা, প্রযুক্তি ও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থ নিয়েও এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। তবে সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে জোটটি কতটা কার্যকরভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।











