Category: ফুটবল

  • নর্থ লন্ডন ডার্বিতে দাপট, আর্তেতার বার্তা—‘আমরা কী দিয়ে তৈরি দেখিয়েছি’

    নর্থ লন্ডন ডার্বিতে দাপট, আর্তেতার বার্তা—‘আমরা কী দিয়ে তৈরি দেখিয়েছি’

    সমালোচনার জবাব মাঠেই দিল Arsenal F.C.। গত সপ্তাহে তলানির ক্লাব Wolverhampton Wanderers F.C.-এর বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে দুই পয়েন্ট হারানোর পর চাপে ছিল গানাররা। তবে রোববার নর্থ লন্ডন ডার্বিতে Tottenham Hotspur F.C.-এর মাঠে ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ে ঘুরে দাঁড়াল তারা।

    ম্যাচ শেষে কোচ Mikel Arteta বলেন, “আজ আমরা দেখিয়েছি আমরা আসলে কী দিয়ে তৈরি। তবে এটা আপনাকে বারবার করে দেখাতে হবে। প্রতিটি ম্যাচের পর আবেগে ভেসে গেলে সেটা রোলারকোস্টারের মতো হয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান নয়।”

    ৩৪তম মিনিটে Randal Kolo Muani সমতা ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় আর্সেনাল। এবেরেচি এজে ও ভিক্তর গিওকেরেস জোড়া গোল করেন। টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়ে ১৯৮৯ সালের পর সেরা কীর্তির স্বাদ পায় গানাররা।

    উলভস ম্যাচের হতাশা নিয়ে আর্তেতা বলেন, “শেষ মুহূর্তে যেভাবে দুই পয়েন্ট হারিয়েছি, তা খুব কঠিন ছিল। ম্যাচটি পুনরায় দেখেও ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না—কীভাবে আমরা ড্র করলাম! কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই। আপনাকে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে এমনটা আর না ঘটে।”

    দলের ঐক্য ধরে রাখার প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “রাগ, হতাশা, লজ্জা—সবই ছিল। আমাদের দলে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তার খেলোয়াড় আছে, সবার অনুভূতি আলাদা। সবাইকে এক সুতোয় বাঁধাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

    ২৮ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে Premier League-এর শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। এক ম্যাচ কম খেলে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে Manchester City F.C.। অন্যদিকে স্পাররা রেলিগেশন অঞ্চল থেকে চার পয়েন্ট দূরে অবস্থান করছে।

  • নটিংহ্যামে কষ্টার্জিত জয়, পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট স্লট

    নটিংহ্যামে কষ্টার্জিত জয়, পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট স্লট

    Liverpool F.C. নটিংহ্যামের মাঠে অন্তিম মুহূর্তের গোলে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন কোচ Arne Slot। তার মতে, চলতি মৌসুমে এটাই ছিল লিভারপুলের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ।

    Nottingham Forest F.C.-এর ঘরের মাঠ City Ground-এ ম্যাচের বড় অংশজুড়ে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল অলরেডরা। সাবেক অধিনায়ক Jamie Carragher প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সকে আখ্যা দেন ‘হরর শো’ হিসেবে।

    স্টপেজ টাইমে ভিএআরে একটি গোল বাতিল হওয়ার পর নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার Alexis Mac Allister জাল কাঁপালে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিভারপুল। এর আগে ৮৯তম মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি গোল বাতিল হয়েছিল।

    ম্যাচ শেষে স্লট বলেন, “প্রথমার্ধ ছিল খুব বাজে—এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বাজে। দ্বিতীয়ার্ধ তুলনামূলক ভালো ছিল, আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। তবে সত্যি বলতে, পারফরম্যান্সের দিক থেকে আমরা যে মানের ফুটবল এই মৌসুমে খেলেছি, আজ সেটা ছিল না।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “অনেক সময় ভালো খেলেও আমরা ফল পাইনি। আজ আমার মনে হয়, আমরা যা পাওয়ার যোগ্য ছিলাম তার চেয়ে বেশি পেয়েছি। জয়ের চেয়ে ড্র হয়তো বেশি ন্যায্য ফল হতো।”

    তবে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয়ে তিন পয়েন্ট ঘরে তুলেছে লিভারপুল—যা শিরোপা দৌড়ে তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।

  • বিশ্বকাপ অনিশ্চয়তার মাঝে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

    বিশ্বকাপ অনিশ্চয়তার মাঝে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

    চলতি বছরের শেষেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড Neymar। এতে আসন্ন বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

    ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব Santos FC-এ ফিরে আসেন। দলকে রেলিগেশন এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ পাঁচ ম্যাচে পাঁচটি গোল করে আবারও নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখান নেইমার।

    শুক্রবার ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেন তিনি। নেইমার বলেন,
    “এখন থেকে কী হবে জানি না, আগামী বছর সম্পর্কেও কিছু জানি না। ডিসেম্বর এলে হয়তো অবসর নিতে ইচ্ছা হতে পারে। একেকটি বছর ধরে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো।”

    সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে চোটে ভোগা নেইমার সম্প্রতি সফলভাবে হাঁটুর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। সামনে থাকা বছরটিকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

    তার ভাষায়,
    “এই বছরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোসের জন্য নয়, Brazil national football team-এর জন্যও, কারণ এটি বিশ্বকাপের বছর—আর আমার জন্যও।”

    ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের আন্তর্জাতিক গোল সংখ্যা ৭৯। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামেননি।

    ব্রাজিলের প্রধান কোচ Carlo Ancelotti ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ দলে কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য FIFA World Cup সামনে রেখে নেইমারের ফিটনেস এখনো প্রশ্নের মুখে। ফলে ব্রাজিলজুড়ে জল্পনা—তারকা এই ফরোয়ার্ড কি শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলবেন, নাকি টুর্নামেন্টের আগেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানাবেন?

  • ওসাসুনার বিপক্ষে স্টপেজ টাইমে গোল হজম, হার রিয়ালের

    ওসাসুনার বিপক্ষে স্টপেজ টাইমে গোল হজম, হার রিয়ালের

    লা লিগায় টানা নয় ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল Real Madrid CF। আগের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়ে শীর্ষস্থানও দখলে নেয় তারা। কিন্তু সেই জয়যাত্রা থামল নাটকীয়ভাবে। এস্তাদিও এল সাদারে স্বাগতিক CA Osasuna–র কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেল মাদ্রিদ ক্লাব।

    ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে ওসাসুনাকে এগিয়ে দেন Ante Budimir। ভিএআর রিভিউয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে, স্পট কিক থেকে ভুল করেননি তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরান Vinicius Junior। ফেদেরিকো ভালভার্দের কাটব্যাক থেকে সময়মতো পৌঁছে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর আগে কিলিয়ান এমবাপের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়।

    ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটক জমে ওঠে। রিয়ালের বক্সের বাঁ দিক থেকে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন Raul Garcia। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ওসাসুনা শিবির।

    রিয়ালের গোলরক্ষক Thibaut Courtois ম্যাচে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হারায় পাঁচ পয়েন্টে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ। ২৫ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও ব্যবধান এখন মাত্র দুই পয়েন্ট।

    শিরোপা লড়াইয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিল এই ফলাফল।

  • শিরোপা ধরে রাখার মিশনের শুরুতেই বিধ্বস্ত মেসিরা

    শিরোপা ধরে রাখার মিশনের শুরুতেই বিধ্বস্ত মেসিরা

    বিশ্বকাপের বছরে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ছাপ রাখতে পারলেন না Lionel Messi। এমএলএস কাপ ধরে রাখার মিশনে শুরুতেই হোঁচট খেল Inter Miami CF। শনিবার লস অ্যাঞ্জেলসের এলএ কলিসিয়ামে Los Angeles FC–এর কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে তারা।

    এমএলএসের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রের লড়াই দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ৭৫ হাজার ৬৭৩ দর্শক—যা লিগ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ম্যাচে মেসিকে ছাপিয়ে আলো কেড়ে নেন এলএএফসির তারকা Son Heung-min

    ৩৭তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলে ডেভিড মার্তিনেজকে সহায়তা করেন সন। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও মায়ামি বড় ধাক্কা খায় দ্বিতীয় গোল হজম করে। মাঝমাঠ থেকে লম্বা পাস দেন টিমোথি টিলমান। নতুন গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে থাকায় সুযোগ কাজে লাগান Denis Bouanga—ঘুরিয়ে বল পাঠান খালি জালে।

    সন উষ্ণ অভ্যর্থনায় মাঠ ছাড়ার পর তার বদলি নাথান ওরদাজ স্টপেজ টাইমে তৃতীয় গোল করেন, বোয়াঙ্গার ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

    মেসির সেরা সুযোগটি আসে প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে। বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার উঁচু শট লক্ষ্যচ্যুত হয়। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে এই ম্যাচেই মাঠে ফেরেন তিনি।

    নতুন চেহারার মায়ামি দলে আক্রমণভাগের নেতৃত্বে ছিলেন মেসি। দীর্ঘদিনের সতীর্থ জর্দি আলবা ও সার্জিও বুশকেটস অবসর নেওয়ায় দলটি পুনর্গঠনের পথে। কোচ Javier Mascherano শুরুর একাদশে তিন অভিষিক্তকে জায়গা দেন। মেক্সিকোর জার্মান বার্টারেম খেলেন মেসির পাশে, ব্রাজিলিয়ান মিকায়েল ছিলেন রক্ষণে এবং আর্জেন্টাইন ফুলব্যাক ফাকুন্দো মুরাও অভিষেক করেন।

    শিরোপা রক্ষার অভিযানে শুরুতেই এমন হার মায়ামির জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।

  • রোনালদোর জোড়া গোলে শীর্ষে আল নাসর

    রোনালদোর জোড়া গোলে শীর্ষে আল নাসর

    পর্তুগিজ তারকা Cristiano Ronaldo–এর জোড়া গোলে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে Al Nassr FC। সৌদি প্রো লিগে আল হাজেমকে ৪-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে দলটি।

    জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে দলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে লিগের দুটি ও এএফসি কাপে একটি ম্যাচে খেলেননি রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মাঠে ফিরেই জোড়া গোল করে নিজের গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করলেন।

    ম্যাচের ১৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় আল নাসর। পেনাল্টি এরিয়ায় ভিড়ের মধ্যে রোনালদোকে খুঁজে পান Kingsley Coman। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁ পায়ের শটে জাল কাঁপান তিনি। অফসাইড সন্দেহে ভিএআরে পরীক্ষা শেষে গোলটি বহাল থাকে। ৩০ বছর বয়সের পর এটি ছিল তার ৫০০তম গোল।

    আধঘণ্টার মাথায় ব্যবধান বাড়ান কোমান, Joao Felix–এর অ্যাসিস্টে গোল করেন তিনি। বিরতির আগে রোনালদো আরও একটি গোল পেলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    ৭৭তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান অ্যাঞ্জেলো একক প্রচেষ্টায় তৃতীয় গোল করেন। নিজ অর্ধ থেকে বল নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি।

    নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। কোমানের কাছ থেকে শর্ট পাস পেয়ে আড়াআড়ি ড্রাইভে বল জালে পাঠান তিনি। ভিএআরে যাচাইয়ের পর গোলটি বহাল থাকে।

    এই জয়ে টানা অষ্টম লিগ ম্যাচে জয় তুলে নিল আল নাসর। এতে করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী Al Hilal SFC–এর চেয়ে এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকল তারা। আগের ম্যাচে আল হিলাল ১০ জনের Al Ittihad Club–এর সঙ্গে ড্র করেছিল।

  • চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতালিয়ানদের ধস, নরওয়ের ক্লাবের ইতিহাস

    চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতালিয়ানদের ধস, নরওয়ের ক্লাবের ইতিহাস

    বোডো/গ্লিমট–এর রূপকথা: ম্যান সিটির পর ইন্টারও ধরাশায়ী

    উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ–এ ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর দুঃসময় যেন কাটছেই না। প্লে–অফ পর্বে একের পর এক অঘটনে হতবাক ইউরোপ। গতকাল রাতে গতবারের রানার্সআপ ইন্টার মিলান–কে ৩–১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিমট।

    এর আগে প্লে–অফের প্রথম লেগে হেরেছিল জুভেন্টাসআতালান্তা। জুভেন্টাসকে ৫–২ গোলে উড়িয়ে দেয় গালাতাসারাই, আর আতালান্তা ২–০ গোলে হারে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড–এর কাছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো ইন্টারও।

    একের পর এক চমক

    চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারই প্রথম খেলতে নেমে বোডো/গ্লিমট যেন রূপকথা লিখছে। লিগ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে তারা হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিআতলেতিকো মাদ্রিদ–কে। সিটিকে ৩–১ এবং আতলেতিকোর মাঠে ২–১ গোলে জয়ের পর এবার ইন্টারকেও হারাল তারা।

    ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে থাকা কোনো দলের এক আসরে টানা তিনটি ম্যাচ জয়ের নজির খুবই বিরল। বোডো/গ্লিমট সেই বিরল কাতারেই জায়গা করে নিয়েছে। ইতিহাসে শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচ জিতেছিল কেবল পানাথিনাইকোস (২০০১–০২), বেনফিকা (২০০৫–০৬) ও জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ (২০১৫–১৬)। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল নরওয়েজীয় ক্লাবটি।

    ইতালিয়ানদের দুর্দশা

    গত মৌসুমেও প্লে–অফে এসি মিলান, জুভেন্টাস ও আতালান্তা হেরেছিল যথাক্রমে ফেইনুর্দ, ক্লাব ব্রুগাপিএসভি আইন্দহফেন–এর কাছে। তখন কেবল ইন্টারই ফাইনালে উঠতে পেরেছিল। কিন্তু এবার তারাও বিদায়ের শঙ্কায়।

    ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ইতালিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন বা তার বেশি গোল করার কীর্তি এটি বোডো/গ্লিমটের তৃতীয়বার। ১৯৯৪ সালে তারা ৩–২ গোলে হারিয়েছিল সাম্পদোরিয়া–কে। ২০২১ সালে ইতালির আরেক ক্লাব রোমা–কে ৬ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।

    অন্য ম্যাচের ফল

    রাতের অন্য ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ৬–১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কারাবাগ–কে। প্রথমার্ধেই একা চার গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এক ম্যাচের প্রথমার্ধে চার গোলের নজির এর আগে ছিল কেবল লুইজ আদ্রিয়ানো–র, যিনি ২০১৪ সালে শাখতার দোনেৎস্ক–এর হয়ে বরিসভ–এর বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

    এ ছাড়া ক্লাব ব্রুগা ৩–৩ গোলে রুখে দিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদকে। নাটকীয় লড়াইয়ে ৮৯ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে বেলজিয়ান ক্লাবটি। অন্য ম্যাচে লেভারকুসেন ২–০ গোলে হারিয়েছে অলিম্পিয়াকোস–কে।

    সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর অবস্থা বেশ শোচনীয়। আর বোডো/গ্লিমট লিখে চলেছে

  • সিটির হাতেই লিগের লাগাম তুলে দিচ্ছে আর্সেনাল

    সিটির হাতেই লিগের লাগাম তুলে দিচ্ছে আর্সেনাল

    মলিনিউক্স স্টেডিয়ামে জয় প্রায় নিশ্চিত করেও শেষ পর্যন্ত দুই গোলের লিড ধরে রাখতে পারল না Arsenal। উলভারহ্যাম্পটনের মাঠে ৫৬ মিনিট পর্যন্ত ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ শেষ হয়েছে ২–২ সমতায়। ফলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে আবারও চাপে পড়েছে মিকেল আরতেতার দল।

    প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার তলানির দিকে থাকা Wolverhampton Wanderers–এর বিপক্ষে এমন হোঁচট আর্সেনালের মানসিক দৃঢ়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। ৬১ ও ৯৪ মিনিটে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করে তারা।

    বর্তমানে ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্সেনাল। এক ম্যাচ কম খেলে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে Manchester City। হাতে থাকা ম্যাচের হিসাব বলছে—সিটি যদি নিজেদের বাকি ১২টি ম্যাচ (এর মধ্যে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচও রয়েছে) জিতে নেয়, তবে শিরোপা যাবে তাদের ঘরেই। একইভাবে আর্সেনালও যদি বাকি ১১ ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তবে ২২ বছরের শিরোপাখরা কাটবে তাদেরই।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্রেন্টফোর্ড ও উলভসের বিপক্ষে টানা দুই ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি তাদের হাতে নেই। অতীতে লিগের শেষ ধাপে এসে শিরোপা হাতছাড়া করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে আর্সেনালের। টানা তিনবার রানার্সআপ হওয়ার তিক্ত স্মৃতির মধ্যে দুবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেপ গার্দিওলার সিটি।

    মলিনিউক্সে ৫ মিনিটে বুকায়ো সাকার গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। ৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিয়েরো হিনকাপি। কিন্তু এরপর হুগো বুয়েনো ও টম এডজয়ের গোলে সমতায় ফেরে উলভস।

    ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ Mikel Arteta হতাশা লুকাননি। তিনি বলেন, “যেকোনো সমালোচনা মেনে নিতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় পারফরম্যান্স দেখাতে পারিনি।”

    চলতি বছরের শুরু থেকে লিগে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না আর্সেনাল। শেষ সাত ম্যাচে জয় মাত্র দুটি। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি তাদের পরবর্তী ম্যাচ Tottenham Hotspur–এর বিপক্ষে। উত্তর লন্ডন ডার্বিকে সামনে রেখে আরতেতা শিষ্যদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

    শিরোপা লড়াই এখন সূক্ষ্ম সমীকরণের খেলায় পরিণত হয়েছে। আর একটিমাত্র ভুলই হয়তো লিগের লাগাম পুরোপুরি তুলে দেবে সিটির হাতে।

  • ভিনিসিয়ুসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলার অভিযোগ, কঠোর শাস্তি দাবি এমবাপের

    ভিনিসিয়ুসকে পাঁচবার ‘বানর’ বলার অভিযোগ, কঠোর শাস্তি দাবি এমবাপের

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফের নকআউট পর্বের প্রথম লেগে Real Madrid ১-০ গোলে জয় পেলেও ম্যাচটি ছাপিয়ে গেছে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ। লিসবনের Estádio da Luz-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে Vinícius Júnior-এর প্রতি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

    ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড Kylian Mbappé জানান, আর্জেন্টাইন তরুণ Gianluca Prestianni ভিনিসিয়ুসকে উদ্দেশ করে পাঁচবার ‘বানর’ বলে অপমান করেছেন। মিক্সড জোনে এমবাপে বলেন, “আমি পরিষ্কার দেখেছি, ২৫ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ভিনিকে পাঁচবার ‘তুমি বানর’ বলেছে। এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা দারুণ অভিজ্ঞতা, কিন্তু এই ধরনের দৃশ্য বিশ্ব ফুটবলের জন্য ভয়াবহ।”

    ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা আরও বলেন, “আমি তাকে বর্ণবাদী বলেছি, কারণ আমার কাছে সেটাই মনে হয়েছে। সে জার্সির আড়ালে মুখ লুকাতে চেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবতা লুকানো যায় না। এ ধরনের ব্যক্তি পেশাদার ফুটবলার হতে পারে না। ফুটবল মাঠে এমন কথার কোনো জায়গা নেই।”

    ঘটনার সময় মানসিকভাবে বিচলিত ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ম্যাচের আগেই তিনি চোখ ধাঁধানো এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তার প্রশংসা করে এমবাপে বলেন, “সে অসাধারণ একটি গোল করেছে, যা আমাদের জয় এনে দিয়েছে।”

    এ ঘটনায় ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা UEFA-র কাছে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এমবাপে। তিনি বলেন, “যে বাচ্চারা আমাদের খেলা দেখে, তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। এমন আচরণ অসহনীয়। বেনফিকা বা তাদের কোচের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই, কিন্তু এ ধরনের খেলোয়াড়ের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার অধিকার থাকা উচিত নয়। আমরা আশা করি উয়েফা ব্যবস্থা নেবে।”

    ঘটনাটি আবারও ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদের প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে উয়েফা কী সিদ্ধান্ত নেয়।

  • ৫ গোলের রোমাঞ্চে পিএসজির জয়, মোনাকোর এক লাল কার্ড

    ৫ গোলের রোমাঞ্চে পিএসজির জয়, মোনাকোর এক লাল কার্ড

    উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে পাঁচ গোল ও এক লাল কার্ডের ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে Paris Saint-Germain। স্বাগতিক AS Monacoকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার পথে এগিয়ে গেল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

    মঙ্গলবার মোনাকোর মাঠে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় পিএসজি। খেলা শুরুর ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে তারা। মাঝমাঠে ভুলের সুযোগ নিয়ে আলেকজান্ডার গোলোভিনের বাড়ানো বলে ফোলারিন বালোগুন হেডে গোল করেন। ১৮ মিনিটে আবারও বালোগুনের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।

    দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় পিএসজি। পেনাল্টি পেলেও ভিতিনিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন মোনাকোর গোলরক্ষক। ২৭ মিনিটে চোটে উসমান দেম্বেলে মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন দেজিরে দুয়ে। মাঠে নেমেই গোল করে ব্যবধান কমান তিনি। ৪১ মিনিটে তাঁর জোরালো শট ফিরিয়ে দিলে আশরাফ হাকিমি রিবাউন্ড থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

    বিরতির পর ৪৮ মিনিটে ভিতিনিয়াকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন গোলোভিন। ১০ জনের দলে পরিণত হয় মোনাকো। ৬৭ মিনিটে ওয়ারেন জাইরে এমেরির পাস থেকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন দুয়ে। এরপর আর কোনো গোল না হলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

    ম্যাচে ৭৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৯টি শট নেয় পিএসজি, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। মোনাকোর ৭ শটের ৪টি ছিল অন টার্গেট। আগামী সপ্তাহে নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগ খেলবে পিএসজি।