Category: ফুটবল

  • মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ

    মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ

    একটি যুগের শেষ মানেই শুধু একজন কিংবদন্তির বিদায় নয়; অনেক সময় সেটি একটি দলের পরিচয় বদলে যাওয়ার মুহূর্তও। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা তাই আর্জেন্টিনার জন্য নিছক আবেগের খবর নয়, বরং তাদের ফুটবলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

    ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পরই সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি। অবশেষে ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

    মেসির বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কে নেবেন তার জায়গা? কে সামলাবেন তার গোল, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব কিংবা কঠিন মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সেই অসাধারণ ক্ষমতা?

    তবে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হবে একজন ‘নতুন মেসি’ খোঁজা। মেসির মতো একজন ফুটবলার তৈরি হয় না পরিকল্পনা করে, আর তার সরাসরি বিকল্পও তৈরি করা সম্ভব নয়। বরং মেসির সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হতে পারে এমন একটি দল, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের ওপর পুরো দায়িত্ব নির্ভর করবে না।

    এই জায়গাতেই বড় পরীক্ষা কোচ লিওনেল স্কালোনির। দীর্ঘদিন মেসিকে ঘিরে যে আর্জেন্টিনা নিজেদের শক্তি তৈরি করেছে, এখন সেই দলকে ধীরে ধীরে মেসি-নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে। পরিবর্তনটা শুধু একাদশে নয়, দলের চিন্তাভাবনাতেও আনতে হবে।

    আক্রমণে জুলিয়ান আলভারেজ হতে পারেন নতুন কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার ওপর মেসির মতো খেলা নিয়ন্ত্রণ করার প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং তার গতি, পজিশনিং ও গোল করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন আক্রমণভাগ গড়ে তুলতে পারে আর্জেন্টিনা।

    মাঝমাঠেও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে ঘিরে এমন একটি মিডফিল্ড গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে দলের সৃজনশীলতা কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করবে না। ভবিষ্যতের জন্য নিকো পাজ ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর মতো তরুণদেরও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।

    রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অভিজ্ঞতা দলকে স্থিরতা দিতে পারে। অন্যদিকে গারনাচো, সোল ও এচেভেরির মতো আক্রমণাত্মক প্রতিভাদের সামনে থাকবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করার বড় সুযোগ।

    মেসির বিদায়কে তাই আর্জেন্টিনার দুর্বলতার শুরু হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা দেখা হবে না। বরং এটি হতে পারে নতুন একটি আর্জেন্টিনা তৈরির সবচেয়ে বড় সুযোগ। এমন একটি দল, যেখানে মেসির অনুপস্থিতি পূরণ করার চেষ্টা না করে তার রেখে যাওয়া মানদণ্ডকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। দীর্ঘ ২১ বছরের যাত্রায় তিনি দেশের হয়ে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১২৫ গোল। তার সবচেয়ে বড় সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি।

    মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য সবসময় সাফল্যে মোড়া ছিল না। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর সাময়িক অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তখন জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জেতায় তাকে ঘিরে ছিল তীব্র সমালোচনা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই গল্প পুরোপুরি বদলে যায়।

    তাই মেসির বিদায়ের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু ম্যাচ জেতা নয়, প্রত্যাশার সেই পাহাড় সামলানো। মেসির যুগে আর্জেন্টিনার জয় অনেক সময় নির্ভর করেছে তার ব্যক্তিগত জাদুর ওপর। মেসি-পরবর্তী সময়ে জয়কে হতে হবে পুরো দলের কৃতিত্ব।

    সম্ভবত এটাই মেসির পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—একজন কিংবদন্তির জায়গা আরেকজন নিতে পারেন না, কিন্তু একটি দল মিলে সেই শূন্যতার ভার বহন করতে পারে।

    মেসি চলে যাচ্ছেন। এখন আর্জেন্টিনার সামনে প্রশ্নটা তাই ‘পরের মেসি কে?’ নয়। আসল প্রশ্ন—মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা নিজেদের নতুন করে কতটা আবিষ্কার করতে পারে?

    সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে, মেসির পরের আর্জেন্টিনা শুধু একটি কিংবদন্তির উত্তরাধিকার বহন করবে, নাকি নিজের নতুন ইতিহাস লিখবে।

  • ম্যারাডোনা-মেসির পর নতুন অধ্যায়, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বরের অপেক্ষা

    ম্যারাডোনা-মেসির পর নতুন অধ্যায়, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বরের অপেক্ষা

    আর্জেন্টিনার ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি মানেই ইতিহাস, গৌরব ও কোটি সমর্থকের আবেগ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই জার্সির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য হয়ে ছিলেন Lionel Messi। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে শেষ হয়েছে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। এখন সামনে নতুন প্রশ্ন—মেসির পর ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি উঠবে কার গায়ে?

    ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরেন মেসি। ওই ম্যাচেই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন আরেক কিংবদন্তি Diego Maradona। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মেসিই হয়ে ওঠেন এই জার্সির প্রধান প্রতীক।

    জাতীয় দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে মেসি মাঠে নেমেছেন ১৭২ ম্যাচে। তার আগে ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, অরিয়েল ওর্তেগা ও মারিও কেম্পেসের মতো তারকারাও এই নম্বরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।

    মেসির বিদায়ের পর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে লিভারপুলের ১০ নম্বর জার্সিধারী অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অন্যতম। মাঝমাঠে তার সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে।

    তরুণদের মধ্যে নিকোলাস পাজও আলোচনায় রয়েছেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজেকে সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা পাজ ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনা দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া ইন্টার মিলানের ১০ নম্বর ও আর্জেন্টিনার নিয়মিত গোলদাতা লাওতারো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, থিয়াগো আলমাদা, জিওভানি লো সেলসো ও রদ্রিগো দি পলের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

    তবে মেসির উত্তরসূরি হওয়া সহজ হবে না। কারণ ১০ নম্বর জার্সি পরা নতুন খেলোয়াড়ের প্রতিটি পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই মেসির সঙ্গে তুলনা করা হবে। ফলে নতুন ১০ নম্বরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজের পরিচয় তৈরি করা।

    আর্জেন্টিনার সামনে তাই শুধু একজন খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বরং মেসি-পরবর্তী যুগে ১০ নম্বর জার্সির নতুন পরিচয় নির্ধারণের প্রশ্নও রয়েছে। মেসির জায়গা কেউ পূরণ করতে পারবেন না। তবে নতুন কোনো তারকা এই ঐতিহাসিক জার্সি পরে নিজের গল্প লিখতে পারেন।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তার খেলার সময় শেষের দিকে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মেসি গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোল—দুই রেকর্ডই এখন তার দখলে।

    তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সবসময় সাফল্যে ভরা ছিল না। একাধিক ফাইনালে হারের পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। এমনকি একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে আবারও ফিরে এসে আর্জেন্টিনার হয়ে ইতিহাস গড়েন।

    ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেন মেসি। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে তার আন্তর্জাতিক সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হয় আরও একটি বড় অর্জন।

    ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের পর মেসি হয়ে উঠেছেন দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অনন্য। রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, দুইবার কোপা আমেরিকা ও ২০০৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি।

    মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায়ের গল্প নয়। এটি দীর্ঘ অপেক্ষা, ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন, শিরোপা আর কোটি সমর্থকের আবেগে গড়া এক মহাকাব্যিক যাত্রার সমাপ্তির ইঙ্গিত।

    আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে ভবিষ্যতে হয়তো আর দেখা যাবে না মেসির সেই বাঁ পায়ের জাদু। তবে তার গোল, ট্রফি, রেকর্ড এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

  • বাবার মৃত্যুতে ফুটবল থেকে বিরতি, পরিবারের সঙ্গে মেসি

    বাবার মৃত্যুতে ফুটবল থেকে বিরতি, পরিবারের সঙ্গে মেসি

    বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। জীবনের কঠিন এই সময়ে ফুটবল থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রেখে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    রোজারিওর কাছের ফুনেসের কেন্টাকি গেটেড কমিউনিটিতে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের সঙ্গে অবস্থান করছেন মেসি। বাবাকে হারানোর শোক সামলে পরিবারের পাশে থাকাকেই আপাতত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ইন্টার মায়ামির এই তারকা।

    শনিবার রাতে আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পর মেসি সরাসরি যান রোজারিওর কাছের পেরেজ শহরের এল প্রাদো কবরস্থানে। সেখানেই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হোর্হে মেসির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয়। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

    ফোর্ট লডারডেল থেকে চার্টার বিমানে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় মেসির সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা ও তাদের সন্তানরা। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারা সরাসরি কবরস্থানে যান। রাতভর সেখানে থাকার পর রোববার দুপুরের পর কবরস্থান ত্যাগ করেন মেসি।

    মেসির বাবার শেষকৃত্যে পরিবারের পক্ষ থেকে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হওয়া সত্ত্বেও তার আগমন ও শেষকৃত্যের বিস্তারিত খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি।

    কবরস্থানের বাইরে তেমন কোনো ভিড়ও ছিল না। তবে মেসির গাড়ি কবরস্থানে প্রবেশের সময় এক সমর্থক চিৎকার করে বলেন, ‘শক্ত থাকুন, লিও!’ কবরস্থানের পাশের ফটকেও একই বার্তা লেখা একটি ব্যানার দেখা যায়।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকেও হোর্হে মেসির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    রোববার বিকেলে মেসি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুনেসের কেন্টাকি এলাকায় ফিরে যান। সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা মেসি পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তকে সম্মান দেখিয়ে তাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেননি।

    হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খুব সীমিত তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সবসময় ব্যক্তিগত রাখা হয়েছে।

    লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে হোর্হে মেসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল প্রতিভা বিকাশে তিনি পাশে ছিলেন।

    মেসির শৈশবের ক্লাব আবানদেরাদো গ্রান্দোলিতে তার ফুটবলজীবনের শুরুর সময় থেকে হোর্হে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির বেড়ে ওঠার সময়ও তিনি ছেলের পাশে ছিলেন। এরপর বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির উত্থানের পুরো পথেই বাবাকে অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে পেয়েছেন তিনি।

    বাবার সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা মেসি বিভিন্ন সময় প্রকাশ করেছেন। ২০০৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করার পর বাবাকে উৎসর্গ করে ‘আই লাভ ইউ, ড্যাড’ লেখা জার্সি পরেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করেছে ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন। আর্জেন্টিনার একাধিক ক্লাবের পাশাপাশি বিদেশের ক্লাবগুলোও মেসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

    রিয়াল মাদ্রিদসহ বিভিন্ন ক্লাব শোকবার্তা পাঠিয়েছে। হোর্হে মেসির প্রিয় দল নিউয়েলস ওল্ড বয়েজও ম্যাচের আগে তার স্মরণে ব্যানার প্রদর্শন করে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

    মেসির জাতীয় দলের সতীর্থরাও তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং রোজারিওতে গিয়ে তাকে সমর্থন জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবারের গোপনীয়তার কারণে সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    বাবার মৃত্যুর কারণে মেসির মাঠে ফেরার সময়ও এখনো নিশ্চিত নয়। বুধবার লিগস কাপে মেক্সিকোর ক্লাব লেওনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচ রয়েছে। ওই ম্যাচে তার খেলার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    এ ছাড়া শনিবার ন্যাশভিলের বিপক্ষে এমএলএস ম্যাচেও মেসি খেলবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    বাবাকে হারানোর পর আপাতত ফুটবলের চেয়ে পরিবারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মেসি। যে মানুষটি ছোটবেলা থেকে তার ফুটবলস্বপ্নের পাশে ছিলেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলোতে পথ দেখিয়েছেন—সেই বাবাকে হারানোর শোক সামলাতে মাঠ থেকে দূরে থাকাটাই এখন মেসির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে একাট্টা তিন মহাদেশ!

    ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে একাট্টা তিন মহাদেশ!

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিশ্ব ফুটবলে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। ফিফা বিশ্বকাপসহ প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ চালুর বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘোষণা এবং পরে তা প্রত্যাহারের পর থেকেই তোপের মুখে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী এই ক্রীড়া প্রশাসক।

    সোমবার ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন—এএফসি—একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে। এতে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়েছে।

    যৌথ চিঠিতে তিন কনফেডারেশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফুটবল কারও একক সম্পত্তি নয় এবং ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জায়গাও নয়। ইনফান্তিনোর সমর্থক গোষ্ঠী সমর্থন প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে পাল্টা বিবৃতি দিলেও তাঁর সমালোচকরা অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

    উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা নয়। এটি ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা বা ক্ষমতার দাবি জানানোর বিষয়ও নয়। তাদের দাবি, বিশ্বাস ভঙ্গ হলে এবং কোনো ব্যক্তি তাকে যারা ক্ষমতা দিয়েছে সেই সমষ্টির ঊর্ধ্বে নিজেকে স্থান দিলে সে তার দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়।

    তিন কনফেডারেশন ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাবের পুরো প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফুটবলের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তারা এমন নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়েছে, যা ফুটবলকে সেবা করবে, শাসন করার চেষ্টা করবে না।

    সম্প্রতি মরক্কোতে অনুষ্ঠিত ফিফার একটি জরুরি বৈঠক নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছে তিন কনফেডারেশন। বৈঠকে নির্বাচিত মাত্র একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন দাবি করে তারা জানতে চেয়েছে, কীভাবে এমন গুরুতর বিচারবুদ্ধির ব্যর্থতা ঘটল। এ বিষয়ে ফিফার কোনো ভূমিকা থাকবে না—এমন একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

    এর আগে গত শুক্রবার নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভনেস সরাসরি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে অবিলম্বে ফিফা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন ধরেই ইনফান্তিনোর সোচ্চার সমালোচক হিসেবে পরিচিত ক্লাভনেসকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

    এর আগে গত শনিবার ফিফার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ফিফা ও সভাপতি ইনফান্তিনোকে দুর্বল করার জন্য একটি সংগঠিত ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চলছে। নিজের সমর্থন ধরে রাখতে ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

    আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর, বলিভিয়া এবং কনকাকাফের সদস্য মেক্সিকোর মতো দেশগুলোও ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে।

    ফিফা আরও অভিযোগ করেছে, উয়েফায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইনফান্তিনোর দায়িত্ব পালনের সময় এক সাবেক কর্মচারীকে অর্থ প্রদান সংক্রান্ত কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ফিফা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    বর্তমানে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে প্রায় ৭০টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর পক্ষেই ভোট দেবে। অন্যদিকে, ডজনখানেক দেশ আগে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করেছে অথবা জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না।

    তবে উয়েফাসহ ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারানোর কথা বলা কনফেডারেশনগুলোর অবস্থানও পুরোপুরি এক নয়। এশিয়ার একাধিক দেশ এবং কনকাকাফভুক্ত মেক্সিকো এখনো ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছে।

    সব মিলিয়ে, বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিভাজন ফিফার ইতিহাসে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন মূল প্রশ্ন—বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে ইনফান্তিনোই থাকবেন, নাকি তাঁর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই চাপ শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে?

    তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স

  • বাবার মৃত্যুতে শোকে মেসি, শেষ বিদায় জানাতে ফিরলেন আর্জেন্টিনায়

    বাবার মৃত্যুতে শোকে মেসি, শেষ বিদায় জানাতে ফিরলেন আর্জেন্টিনায়

    আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি তার বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানাতে শৈশবের শহর রোজারিওতে ফিরেছেন। শুক্রবার ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা। পরিবারের পাশে থাকতে ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনায় ফেরেন তিনি।

    স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ফোর্ট লডারডেল ছাড়েন মেসি। রাত ৮টার কিছু পর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাশে থাকবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

    হোর্হে মেসির শেষকৃত্য পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত থাকবেন। মেসির বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমাধিস্থলের বাইরে সমর্থকদের ভিড়ও দেখা গেছে।

    বাবার মৃত্যুর কারণে ইন্টার মায়ামির হয়ে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে খেলতে পারেননি মেসি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ক্লাব তাকে ছুটি দিয়েছে। শেষকৃত্য শেষে মায়ামিতে ফেরার বিষয়ে মেসির ওপর কোনো তাড়া দিচ্ছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

    হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে মেসির সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন।

    মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের নেপথ্যে তার বাবা হোর্হের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকে ছেলের ফুটবলস্বপ্নকে সমর্থন করা এবং ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাশে থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মেসির অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

    বাবাকে হারানোর শোক নিয়ে মেসি এবার ফিরেছেন সেই রোজারিওতেই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল তার ফুটবলজীবনের পথচলা। সেখানেই জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে শেষ বিদায় জানাবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

  • আপনারা যদি সহযোগিতা করেন আগামী বিশ্বকাপ খেলা লাভজনক ইভেন্টে নিয়ে যাওয়া হবে- তথ্যমন্ত্রী

    আপনারা যদি সহযোগিতা করেন আগামী বিশ্বকাপ খেলা লাভজনক ইভেন্টে নিয়ে যাওয়া হবে- তথ্যমন্ত্রী

     

    আগামী বিশ্বকাপ শুধু বিনা মূল্যে দেখানোই নয়, শূন্য ব্যয়ের সীমা ছাড়িয়ে বিটিভির জন্য এটিকে একটি লাভজনক ইভেন্টে  পরিণত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    তিনি বলেন, বিনোদন জগতের বিজ্ঞাপনের বিশাল বাজার থেকে সরকার যাতে আয় করতে পারে, সেই লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে যুব ও ক্রীড়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি সহযোগিতা করেন এবং এবারের এই উদ্যোগকে ধারাবাহিকভাবে উৎসাহিত করেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, আগামী বিশ্বকাপের সময় আমরা এটিকে শুধু শূন্য ব্যয়ের জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখব না; বরং এটিকে একটি লাভজনক ইভেন্টে পরিণত করতে পারব।

    এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর খেলা সুন্দরভাবে সম্প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি করায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদপত্র দেওয়া হয়।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব থেকে কোনো অর্থ ব্যয় না করেই এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার করতে পেরেছি। এ কাজে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়েছে। দেশে এ ধরনের সব সৃজনশীল উদ্যোগ ও অর্জন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে ভবিষ্যতেও আরও সচেষ্ট থাকব।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে কোনো সরকারই ক্রীড়া ক্ষেত্রকে স্পষ্টভাবে পেশা হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি। এই সরকার দিচ্ছে। ক্রীড়াকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ইয়ামালকে কী বললেন মেসি? জানালেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ইয়ামালকে কী বললেন মেসি? জানালেন ইয়ামাল

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জয়ের পর মাঠে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল নিজেই এগিয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান তার শৈশবের আইডল লিওনেল মেসিকে। পরাজয়ের হতাশার মধ্যেও মেসি তরুণ এই ফুটবলারকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মারকা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল জানান, মেসি তাকে বলেছেন, “নিজের পথ ধরে এগিয়ে যাও। ফুটবল এবং এই খেলাটার ভবিষ্যৎ এখন তোমাদের প্রজন্মের হাতে।” ইয়ামালের ভাষায়, এই কথাগুলো তার গলায় ঝুলতে থাকা বিশ্বকাপের স্বর্ণপদকের মতোই মূল্যবান।

    মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, কয়েক বছর আগেও কেউ যদি বলতেন যে তিনি লিওনেল মেসির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন এবং ট্রফি জিতবেন, তাহলে তিনি সেটিকে বিশ্বাসই করতেন না।

    ফাইনালের পর মেসির বিনয় ও ইয়ামালের কৃতজ্ঞতা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই মুহূর্তটি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অনেকের মতে, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রতীকী দৃশ্য। বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি মেসির দেওয়া এই উপদেশই ইয়ামালের ক্যারিয়ারের অন্যতম মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।

  • শিরোপার সঙ্গে বিশাল আর্থিক পুরস্কার, উৎসবে মাতোয়ারা স্পেন

    শিরোপার সঙ্গে বিশাল আর্থিক পুরস্কার, উৎসবে মাতোয়ারা স্পেন

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর শুধু ট্রফিই নয়, বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও পাচ্ছেন স্পেনের ফুটবলাররা। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সামনে খুলে গেছে কোটি কোটি টাকার পুরস্কারের দুয়ার।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ফলে স্পন্সরশিপ, সম্প্রচার স্বত্ব এবং জার্সি বিক্রি থেকে ফেডারেশনের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্প্যানিশ জাতীয় দলের সঙ্গে বর্তমানে ভ্রমণ, টেলিকম, ক্রীড়া সরঞ্জাম, জ্বালানি ও পানীয়সহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। বিশ্বজয়ের পর এই বাণিজ্যিক মূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    এদিকে বিশ্বজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই স্বর্ণপদক ও স্মারক রিংয়ের পাশাপাশি প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি টাকা) বোনাস পাচ্ছেন। শিরোপা, সম্মান এবং বিপুল অর্থপ্রাপ্তির আনন্দে এখন উৎসবে মেতেছে পুরো স্পেন।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ১০ হাজার ডলার!

    বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ১০ হাজার ডলার!

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালকে ঘিরে টিকিটের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের টিকিট কালোবাজার ও রিসেলিং প্ল্যাটফর্মে ১০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

    ফিফার অফিসিয়াল টিকিট রিসেলিং প্ল্যাটফর্মে গোলপোস্টের পেছনের মাঝারি সারির সবচেয়ে কম দামের টিকিট ছিল ৬ হাজার ৪১১ ডলার, যা অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। বর্তমানে গ্যালারির ওপরের সারির টিকিটের মূল্যও প্রায় ১০ হাজার ডলার। মাঠের আরও কাছাকাছি আসনের জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার, আর ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের দাম পৌঁছেছে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত।

    স্টাবহাব ও সিটগিকের মতো আন্তর্জাতিক টিকিট প্ল্যাটফর্মেও নিচের সারির আসনের মূল্য ৩৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় ও মোট চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে লড়বে। লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের সম্ভাব্য দ্বৈরথ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে পৌঁছেছে।