সোনারগাঁওয়ে পাম্পগুলোতে গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে সিএনজি চালিত যানবাহনের চালক ও যাত্রী

 

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি চালিত যানবাহনের চালক, যাত্রী ও স্টেশন মালিকরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও অংশে ২০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৮টিতেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মাত্র দুটি স্টেশনে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ থাকায় সেখানে শত শত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়। এদিকে স্থানীয় তিতাস অফিস জানিয়েছে, মহেশখালি গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। সারা বাংলাদেশে এ সংকট। দ্রুত এর সমাধানে কাজ চলছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে চাপ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনভর সোনারগাঁওয়ে মহাসড়কের কয়েকটি পাম্পে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংক নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।

রতনদী এলাকায় মধুমতি ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও চাপ খুবই কম থাকায় দ্রুত গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
একাধিক সিএনজি চালিত গাড়ির চালক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনের বড় একটি সময় পাম্পেই কাটছে, যা তাদের স্বাভাবিক আয় ব্যাহত করছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকেরা। সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত পাঠাও রাইড-শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক চালক বলছেন, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না।

পিরোজপুরে শুকতারা পাম্পে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক সালাম, নজরুল জানান, লাইনে দিয়া দাঁড়াইতে গেলাম। দেখি বিশাল সিরিয়াল। কিছুৃক্ষণ পর পাম্প এমনিই বন্ধ হবে। বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংক নিয়াই এখন বাড়িতে চলে গেলাম। তাদের অভিযোগ এ পাম্পে আমাদের গ্যাস না দিয়ে বড় কাভার্ডভ্যানে গ্যাস দিচ্ছে।

রতনদী মধুমতি পাম্পে আসে হাইএক্স গাড়ির চালক কামাল হোসেন বলছেন, তার গাড়ির গ্যাসের সিলিন্ডারটি বড়। সেখানে সাধারণ সময়ে ১১ শ’ টাকার গ্যাস ঢোকে। কিন্তু গ্যাস না থাকায় তাকে ৩ শ’ টাকার গ্যাস দিয়েছে।
শাহদাত আলী রানা নামের এক চালক বলেন, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতেছে পাম্পেই। তাও যে গ্যাস ঢুকে, তাতে আধা বেলা গাড়ি চালান যাচ্ছে না। এজন্য ড্রাইভাররা গাড়িই বাইর করতেছে না।

সিএনজি পাম্পের কর্মী হামিদ মিয়া বলেন, পাম্পে সারাদিন কমপ্রেশর মেশিন চালাইয়াও প্রেশার উঠতাছে না। এছাড়া লাইনে গ্যাসই নাই। এ কারনেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না গাড়িরাও গ্যাস পাচ্ছে না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি মেঘনাঘাট শাখার ব্যাবস্থাপক প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা বলেন, সারা দেশে গ্যাস সংকট। আমাদের মহেশখালির একটি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ সংকট। কাজ চলছে, আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *