নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চালনা এলাকার মৃত মোস্তফা কামালের ছেলে মো. সাখাওয়াত হোসেন সৈকত (৪০), নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কিল্লারপুল এলাকার মৃত মওলা বক্সের ছেলে মো. সেন্টু (৪০), সোনারগাঁও উপজেলার বরাবো কাজীপাড়া এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে মো. রবিন (৩৫) এবং বরগুনার আমতলী উপজেলার কালীবাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. ইউসুফ (২৬)।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে সকালে জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে ৭-৮ জনের একটি দল মোটরসাইকেল দিয়ে বাসের গতিরোধ করে। পরে তারা বাসের চালক ও হেলপারকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৯ হাজার ৫০০ টাকা, একটি স্পেয়ার চাকা, গাড়ির কাগজপত্র এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। কয়েকদিন পর বাসের কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, ডিবির একটি দল গত ২২ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ও মিজমিজি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সাখাওয়াত হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে জিএমপি, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও দস্যুতাসহ ৬টি মামলা রয়েছে। সেন্টুর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা, রবিনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ৬টি মামলা এবং ইউসুফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দ্রুত বিচার আইনের দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জসহ আশপাশের সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।