রুপগঞ্জে এক মাসেই ধসে গেল রাস্তা, ৫০ লাখ টাকা জলে অবরুদ্ধ ৫ গ্রামের মানুষ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে উন্নয়নের নামে প্রহসন আর হরিলুটের এক জীবন্ত দলিল এখন নগরপাড়া বাজার থেকে খালের সেতু পর্যন্ত নির্মিত সড়কটি। সরকারি বরাদ্দের ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢালাই রাস্তা চালুর মোটে ৩০ দিন পার হতে না হতেই কয়েক স্থানে ধসে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বাজারের অংশে পানি নিষ্কাশনের কোনো পাইপলাইন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় প্রধান সড়ক থেকে ভেতরে ঢোকার প্রধান পথটি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতার ডোবায় পরিণত হয়েছে। এই অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজের মাশুল গুণছে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়াসহ ৫টি গ্রামের অন্তত ৭ হাজার অসহায় মানুষ। দিনের পর দিন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে হেঁটে যাতায়াত করতে গিয়ে শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকেই এখন মারাত্মক চর্মরোগে ভুগছেন। জনদুর্ভোগের এই চরম বাস্তবতায় ফুসে উঠেছে এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যোগাযোগের দুর্ভোগ ঘোচানোর নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও শুরু থেকেই এতে অনিয়মের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছিল। নামমাত্র ইটের খোয়া ও কার্পেটিং করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করেছে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ। সড়কের পানি নিষ্কাশনের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি এবং বাজারের ময়লা-আবর্জনা জমে একাকার হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও চাকরিজীবীদের দৈনন্দিন যাতায়াত প্রায় বন্ধ। নোংরা ও পচা পানিতে নিয়মিত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের পায়ে ও ত্বকে দেখা দিয়েছে তীব্র চুলকানি এবং ভয়াবহ চর্মরোগ। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো অ্যাম্বুলেন্স বা কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশের উপায় নেই। মুমূর্ষু রোগীদের বহন করতে হয় খাটিয়ায় বা কাঁধে করে। বিল্লাল হোসেন বলেন, পাইপ না দেওয়ায় এখন ভেতরের পুরা রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে। মানুষের সমস্যা হচ্ছে। ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদ বলে, আমাদের প্রতিদিন এই পানি দিয়ে যেতে হয়। পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে। আবুল হাশেম বলেন, আমার দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। ব্যবসা লাটে উঠেছে।

কাগুজে উন্নয়ন আর কর্তাব্যক্তিদের উদাসীনতায় ক্ষোভে এখন বারুদ হয়ে উঠেছে নগরপাড়ার সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। লুটপাটের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে সড়কটি পুনর্নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী পাইপলাইন স্থাপনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলার হুংকার দিয়েছেন তারা।

রুপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।

রুপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, আমি জেনেছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *