মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, আমি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা প্রস্তুত এবং পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে আছি। এখন আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক এর পরিণতি কী হয়। আমার মনে হয়, ইরান বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং নেওয়াটাই স্বাভাবিক।”
ট্রাম্পের দাবি, টানা দুই সপ্তাহের সামরিক অভিযানের পর ইরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একটি হলো আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো, অন্যটি আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বর্তমান হামলার গতি অব্যাহত রাখতে পারে কিংবা আরও তীব্র করতে পারে। তবে তাঁর মতে, কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে বুদ্ধিমান পথ। ট্রাম্পের বিশ্বাস, ইরান শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, যদিও এখনো তারা পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে দুটি পথই খোলা রেখেছে—প্রয়োজনে সামরিক চাপ বৃদ্ধি এবং পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাতের অবসান হবে বলে ধারণা করা হলেও তা এখন প্রায় পাঁচ মাসে গড়িয়েছে। দীর্ঘায়িত এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তাঁর মতে, ইরানকে অবশ্যই এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে, যা দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যাতে ওই জলপথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা হামলায় ইরান ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এপি