ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত এই তরুণকে ঘিরে এখন দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা অভিজিতের বাবা ভগবান শঙ্কর দীপকে ও মা অনিতা দীপকে ছেলের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবরে তাঁদের পরিবারে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
অভিজিতের মা অনিতা দীপকে বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছে। সেই দাবির বাস্তবায়ন আন্দোলনকারীদের বিজয়। তিনি বলেন, নানা বাধা, হামলা ও অপমানের মুখেও ধৈর্য ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁর ছেলে।
অভিজিতের পরিবারে আগে কখনও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভগবান শঙ্কর দীপকের ইচ্ছা ছিল ছেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবেন। তবে অভিজিতের আগ্রহ ছিল সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে।
পুণের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পরে তিনি সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং চলতি বছর পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর ব্যঙ্গাত্মক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন অভিজিৎ দীপকে। পরবর্তীতে নিটসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে সেই ডিজিটাল উদ্যোগ দ্রুত ছাত্র আন্দোলনের রূপ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে যুক্ত হয় এবং অভিজিৎ আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আন্দোলনের সময় অভিজিতের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। আন্দোলনের কারণে বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন থাকায় অনেক সময় গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
প্রথমদিকে ছেলে রাজনীতিতে যুক্ত হোক, তা চাননি মা অনিতা। তবে পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেখে তিনি ছেলেকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে বাবা ভগবান শঙ্কর দীপকে বলেন, তিনি কখনও ভাবেননি তাঁর ছেলে এত অল্প বয়সে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, অভিজিৎ সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন না।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস